30/12/2025
অত্যাচারী স্বামীর ইহকালীন ও পরকালীন পরিণতি
ইসলামে পরিবার হলো সমাজের মূল ভিত্তি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের নিকট উত্তম।" (তিরমিজি)। এর বিপরীতে, যারা স্ত্রীর ওপর জুলুম করে এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তাদের জন্য রয়েছে কঠোর হুঁশিয়ারি।
১. ইহকালীন শাস্তি ও পরিণতি
অত্যাচারী স্বামী দুনিয়াতে বিভিন্নভাবে লাঞ্ছিত ও সমস্যার সম্মুখীন হন:
বরকত ও শান্তি হরণ: যে ঘরে স্ত্রীর ওপর জুলুম করা হয়, সে ঘর থেকে আল্লাহর রহমত ও বরকত উঠে যায়। অভাব-অনটন এবং অশান্তি সেই পরিবারকে ঘিরে ধরে।
প্রার্থনা কবুল না হওয়া: মজলুমের (যার ওপর জুলুম করা হয়েছে) দোয়া এবং আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা থাকে না। স্ত্রীর চোখের পানি ও দীর্ঘশ্বাস স্বামীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।
সামাজিক লাঞ্ছনা: আল্লাহ তায়ালা অত্যাচারীকে শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে ঘৃণিত করে দেন। তার সম্মান ও মর্যাদা ধুলোয় মিশে যায়।
সন্তানদের অবাধ্যতা: যে বাবা তার মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করে, সাধারণত সেই বাবার সন্তানরা বড় হয়ে বাবার অবাধ্য হয়। অর্থাৎ দুনিয়াতেই সে তার কৃতকর্মের ফল দেখতে পায়।
২. পরকালীন শাস্তি
পরকালে জুলুমের বিচার হবে অত্যন্ত কঠোরভাবে। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আর তোমরা মনে করো না যে, আল্লাহ জালিমদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গাফেল।" (সূরা ইব্রাহিম: ৪২)।
জুলুম অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমরা জুলুম থেকে বেঁচে থাকো। কেননা জুলুম কিয়ামতের দিন ঘন অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে।" (মুসলিম)।
হক আদায়ের কাঠগড়া: কিয়ামতের দিন মানুষের পাওনা পরিশোধ না করা পর্যন্ত কেউ জান্নাতে যেতে পারবে না। স্বামী যদি স্ত্রীর মোহরানা, ভরণ-পোষণ বা সম্মানের ওপর আঘাত করে থাকে, তবে স্ত্রীকে তার নেকি দিয়ে দিতে হবে অথবা স্ত্রীর গুনাহ নিজের ঘাড়ে নিতে হবে।
কবর ও হাশরের আজাব: স্ত্রীর ওপর শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনকারী ব্যক্তি মহান আল্লাহর ক্রোধের সম্মুখীন হবেন। রাসুল (সা.) তাঁর বিদায় হজের ভাষণেও নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করার বিশেষ নির্দেশ দিয়েছিলেন। যারা এই নির্দেশ অমান্য করবে, তাদের জন্য পরকাল হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
৩. ইসলামের দৃষ্টিতে সংশোধন
ইসলাম কেবল শাস্তির কথাই বলে না, বরং সংশোধনের পথও দেখায়। কোনো স্বামী যদি অতীতে জুলুম করে থাকেন, তবে তার উচিত:
অবিলম্বে স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তার পাওনা মিটিয়ে দেওয়া।
ভবিষ্যতে আর কখনো জুলুম না করার সংকল্প করা।
আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা করা।
স্ত্রী কোনো দাসী বা কেনা গোলাম নন, বরং তিনি অর্ধাঙ্গিনী এবং জীবনের সঙ্গী। স্ত্রীর ওপর জুলুম করা মানে আল্লাহর দেওয়া আমানতের খেয়ানত করা। একজন মুমিন বান্দার বৈশিষ্ট্য হলো স্ত্রীর সাথে নম্র আচরণ করা এবং তাকে সম্মানের আসনে বসানো। অন্যথায় দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় জগতেই তাকে কঠিন জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে।