27/05/2026
ধনীর সন্তানদের খুব কমই দেখবেন দেশ নিয়ে কথা বলতে। কেন বলেনা? কারণ রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের সিস্টেম তার যাবতীয় সুযোগ সুবিধা নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। কয়টা ধনীর এলাকায় শুনেছেন সারাবছর গন্ডগোল হয়? গুলশান আর মোহাম্মদপুর দুইটা এলাকার দিকে তাকান। পার্থক্য দেখেন। আর তো উদাহরণ দেয়ার দরকার নেই।
গরীব নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্তরাই একমাত্র দেশ নিয়ে কথা বলে। কেন বলে? কারণ তারা বঞ্চিত। কি কি থেকে বঞ্চিত এসব বললাল না এখন।
আপনি বিপদে পড়ে মনে করেন রাত তিনটায় ৯৯৯ কল দিলেন। আপনি যদি বলেন আপনার বাসা কড়াইল বস্তিতে। পুলিশ আসবে পরেরদিন সকালে নাস্তা টাস্তা সেরে। আর যদি বলেন আপনার বাসা গুলশানে এবং অমুক তমুক শের খাঁ' র নাতি, পুলিশ দেখবেন সাথে সাথে সিভিল ড্রেসে জাইঙ্গা পরে হলেও দৌড়ে ছুটে আসছে।
এখানে পুলিশের দোষ দিচ্ছি না। পুলিশ তো রাষ্ট্রের একটা অরগান। সেই অরগানে যেভাবে সিস্টেম করে রাখা হয়েছে পুলিশ সেভাবেই চলছে।
সরকারের সবখানে এমন একটা সিস্টেম করে রাখা হয়েছে যেখানে ধনীরা এক ধরনের সেবা পাবে আর গরীবরা আরেক ধরনের। কারণ, রাষ্ট্র চালায় ই এই শিল্পপতি শ্রেণী। এরাই মন্ত্রী, এমপি হয় এবং এরাই আবার শিল্পপতি, ব্যাবসায়ী।
আমাদের মুল সমস্যা সিস্টেমে। এই সিস্টেমে বলা আছে ধনীর ছেলে ধনী হবে। রাজার ছেলে রাজা হবে। গরীবের ছেলে কামার কুমার হবে খুব বেশি হলে ধনীদের চাকর বাকর হবে। সেটা বাসায় হোক, ধনীদের অফিসে হোক, কিংবা মন্ত্রী এমপিদের পেছনে ঘুরা কর্মী হোক। তারা সবাই চাকর শ্রেণী। আর ওরা ধনী শ্রেণী।
আর এই সিস্টেম ভাঙ্গনের কথাই বলেছিল হাদি। অন্যায় শোষন নিপিড়ন এগুলো শুরুই হয় এই শ্রেণী বৈষম্য থেকেই। যখন "ইনসাফ" মানে "ন্যায়" প্রতিষ্ঠা হবে তখন এগুলো আর থাকবে না।
হাদি প্রচন্ড মেধাবী একটা ছেলে ছিল। তার জীবনে উদ্দেশ্য ছিল দেশ নিয়েই। সে আর দশটা ছেলের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে একটা ভালো চাকুরী বাকুরি নিয়ে সবার মতো নির্ভেজাল একটা জীবন কাটাতে পারতো। কিন্তু কিছু মানুষ জাতির পাঞ্জেরী হয়ে আসে। যারা নিজের জন্য নয় পুরো জাতির জন্য জীবনকে উৎসর্গ করে দেন।
হাদির রাজনৈতিক ভিশন, দর্শন, তার কথাবার্তা, তার পোশাক আশাক, সাধারন চাল চলন দেখলে আপনার মনে হবে সে সম্ভবত ব্রিটিশ আমলের অবিভক্ত ভারত বর্ষের কোন মুসলিম ছাত্র নেতা। আমি তাকে ঠিক এভাবেই কল্পনা করি এখনো।
তার রাজনৈতিক দুরদর্শিতার পরিচয় আপনি তার ভিডিওগুলো দেখলেই পাবেন। তাকে যুক্তিতে পরাস্ত করার মতো বাংলাদেশের একটা রাজনীতিবিদও নেই। তার কথায় মানুষ জেগে উঠছিলো নতুন করে। মানুষের বিবেকে, চিন্তায় ধাক্কা দিচ্ছিল সে। আর এতেই ভয় পেয়ে যায় তারা। শেষ করে দেয় অংকুরেই। এই হাদি ই হয়তো এই জাতির সত্যিকার মুক্তির নেতা হতো।
মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা হলে এই ধনী শ্রেণী তারা বিপাকে পড়তো। এই দেশের সকল সমস্যার একদম গোড়ায় হাত দিয়ে ফেলেছিল ছেলেটা। একটা নতুন বিপ্লবের সুচনা করেছিল। ন্যায় প্রতিষ্ঠার। তাকে আমরা না চিনলেও শত্রুরা ঠিকই চিনেছিল।
আজ হাদি আপনার আমার মতোই কুরবানী গরু কিনে ফেসবুকে পোস্ট দিত। আজাইরা কতগুলো পোস্ট দিয়ে ঈদ নিয়ে লাফালাফি করে ঘুমিয়ে যেত।
কিন্তু ছেলেটা দেশের মানুষের অধিকার আর ন্যায়ের জন্য কথা বলতে গিয়ে নিজের জীবনটা দিয়ে দিল। সবাই যখন আজ উৎসবে, তখন সে কবরে শুয়ে আছে। তার ছোট্ট সন্তানটা বাবার সংস্পর্শ ই পেল না। তার পুরো সংসারটা শেষ হয়ে গেল। কোন যুদ্ধ ছাড়াই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য একটা ছেলে জীবন দিয়ে দিল। অথচ কি বেইমান বিবেকহীন নর/ প/শু আল্লাহ এদের বানিয়েছে, এরা হাদিকে গা* দেয়।