31/05/2026
বিয়ে বাড়িতে খেতে বসে অনেকের মনেই হয়তো একটা অদ্ভুত হিসাব চলে—
“গিফট দিলাম ১০০০ টাকা, যাতায়াতে গেল আরও ১০০ টাকা। মোট ১১০০ টাকা খরচ! আজ খাওয়ার টেবিলে এর কিছুটা হলেও উসুল করতে হবে!”
তারপর শুরু হয় এক নীরব প্রতিযোগিতা।
পোলাও কম, মাংস বেশি। একটা রোস্টের জায়গায় দুইটা। প্লেটে যতটা ধরে, তার চেয়েও একটু বেশি।
খাওয়ার সময় মনে হয় আমরা জিতছি। কিন্তু খাওয়া শেষে টেবিলে ফেলে যাওয়া অর্ধেক খাবারগুলো অন্য একটা গল্প বলে।
সেই গল্পটা একজন বাবার।
যিনি হয়তো মেয়ের বিয়ের জন্য বছরের পর বছর টাকা জমিয়েছেন। হয়তো ধার করেছেন, হয়তো ঋণ নিয়েছেন, হয়তো নিজের কোনো স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছেন শুধু একটা সুন্দর আয়োজন করার জন্য।
আমরা যখন প্লেটভর্তি খাবার ফেলে দিয়ে চলে আসি, তখন সেই অপচয় শুধু খাবারের হয় না— অপচয় হয় একজন বাবার কষ্টের, একজন মায়ের ত্যাগের, একটি পরিবারের ঘামঝরা পরিশ্রমের।
সবচেয়ে বড় কথা, পৃথিবীর কোথাও না কোথাও ঠিক সেই মুহূর্তেই কেউ একমুঠো খাবারের জন্য অপেক্ষা করছে।
অথচ আমরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি নিয়ে, অর্ধেক ফেলে দিয়ে চলে আসছি।
উপহার কত দামি দিলেন সেটা বড় বিষয় নয়। কিন্তু খাবারের প্রতি সম্মান দেখানোটা বড় বিষয়।
তাই আসুন, যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই নিই। প্লেট ভরি না, পেট ভরি। অপচয় নয়, সচেতনতা ছড়াই।
কারণ পরিবর্তন সমাজ থেকে শুরু হয় না, শুরু হয় নিজের প্লেট থেকে।