Fun T20

Fun T20 Fun T20 provide viral shot, reels,video, news. Please Like Follow & Share un T20 is an entertainment page that uploads all types of viral videos.

Here you can find funny, interesting, and creative videos to watch and share with your friends. Whether it's a funny prank video or a heartfelt music video, there's something for everyone on Fun T20

চিনির পরিবর্তে আমরা খাচ্ছি মেগনেসিয়াম সালফেট???"এমন কোনো রোগ নাই যা আমাদের হবে না"শুনুন তাহলে বিষ+বিষ এর ভয়াবহ কাহিনী যা...
29/03/2025

চিনির পরিবর্তে আমরা খাচ্ছি মেগনেসিয়াম সালফেট???
"এমন কোনো রোগ নাই যা আমাদের হবে না"

শুনুন তাহলে বিষ+বিষ এর ভয়াবহ কাহিনী যা আমদের খাওয়ানো হচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘন চিনি (সোডিয়াম সাইক্লামেট) হাজার হাজার টন আমদানি হয়ে দেশে ঢুকছে কিভাবে? অনেক দিনের চেষ্টায় ক্লু পেয়ে গেলাম বণিক বার্তা পত্রিকার এক সংবাদে। সাইট্রিক এসিড নামে আমদানি হচ্ছে এই বিষ। দেয়া হচ্ছে, মিষ্টি, বেকারি আইটেম, আইসক্রিম, বেভারেজ, জুস, চকোলেট, কন্ডেন্সড মিল্ক প্রভৃতি মিষ্টি
জাতীয় খাদ্য দ্রব্যে।

চিনির চেয়ে প্রায় পঞ্চাশ গুণ বেশি মিষ্টি এই ঘন চিনি পৃথিবীর অনেক দেশেই নিষিদ্ধ। ক্যান্সার, কিডনি বিকল, হজম শক্তি হ্রাস সহ নানাবিধ জটিল রোগের সৃষ্টি করতে পারে এই চিনি।
সাইট্রিক এসিড এর মত দেখতে হুবহু এক রকম বলে অসাধু ব্যবসায়ীরা অতি সহজেই সাইট্রিক এসিড নামে ও কোডে ঘন চিনি আমদানি করছে।

ঢাকার মিটফোর্ড থেকে বের করলাম আরও এক নামে ঘন চিনি আমদানি হচ্ছে। সোডিয়াম সাইট্রেট দেখতেও ঘন চিনির মত দেখতে। সাইট্রিক এসিড এবং সোডিয়াম সাইট্রেট নামে আসছে নিষিদ্ধ বিষ ঘন চিনি। বণিক বার্তার সাংবাদিক ভাই খবর দিলেন মিটফোর্ডে দুই রকম
ঘন চিনি বিক্রি হয়। একটা পিউর অন্যটা ভেজাল মিশ্রিত। পিউর ঘন চিনি কেজি ২২০ টাকা হলে ভেজাল ঘন চিনি ১৪০ টাকা কেজি। মাথাটা ঘুরে গেল!! বিষের সাথে বিষ! সেখানে সংবাদ নিলাম কম দাম বিধায় এই ভেজাল ঘন চিনির বিক্রি সর্বাধিক। সবাই গাড়ি ভর্তি করে এই ভেজাল ঘন চিনি নিয়ে যায় বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যে দেয়ার জন্য।
ভেজাল মিশাতে হলে তো ঘন চিনির মতই অন্য কোন একটি দ্রব্য মেশাতে হবে, যার দাম হবে খুব কম এবং মিষ্টি অথবা টেস্টলেস হতে হবে। কি হতে পারে তা?? দুই দিন ঘুমাতে পারিনি। সমানে পারমুটেশন কম্বিনেশন করতে লাগলাম। কি সেই আইটেম? কেউ বলে না। গুগলে ঘন চিনির ছবি
বের করে তার সাথে মিল রেখে খুঁজতে লাগলাম আইটেম।
হটাত মাথার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকে উঠল। প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিল না, কি করে সম্ভব!! আমার এক ভাই সার (ফার্টিলাইজার) বিক্রি করে। তাকে বললাম, “চিনির মত দানাদার সার কি আছে
রে?” ইউরিয়া? না ইউরিয়া গোলাকার এবং খুব খারাপ স্বাদ। আর কি আছে? আচ্ছা ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার? ভাই আমার
লাফ দিয়ে উঠল!! হ্যাঁ ভাই, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার দেখতে চিনির মত দানাদার, দাম কম ১৫/২০ টাকা কেজি এবং স্বাদহীন।
এবার আমি লাফ দিয়ে উঠে গুগলে ছবি দেখলাম। ঘন চিনি এবং ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার দেখতে একই রকম। বিশ্বাস হচ্ছিল
না, যে আমাদের সার খাওয়াচ্ছে আর একটি বিষের সাথে। সেই সাংবাদিক ভাইয়ের দ্বারা মিটফোর্ড থেকে ভেজাল এক কেজি সার কিনে আমি সরকারীভাবে চিঠি দিয়ে ১০০ গ্রাম নমুনা
পরীক্ষার জন্য পাঠালাম সরকারী ল্যাব (সারের জন্য) খামার বাড়ির মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউটে। ঘুম হারাম হয়ে গেল আমার টেনশনে। রিপোর্ট পেলাম সেই ঘন চিনির নমুনায়
ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার পাওয়া গেছে।
যা সন্দেহ করেছি তাই। সেই সার মিশ্রিত ঘন চিনির প্যাকেট বা নমুনা না দেখেই এত হাজার লাখ আইটেমের মধ্যে ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার কিভাবে নির্বাচিত করলাম, তা সত্যিই হবাক হবার বিষয়!!

কয়েকজন বিজ্ঞানী রসায়নবীদকে জিজ্ঞাস করলাম, সার খেলে কি হয়? তাঁরা হতবাক হয়ে গেলেন। কেন সার খাবেন কেন? আমি
বললাম, যদি খাই। ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সার সাথে ঘন চিনি!! হেসে তাঁরা উত্তর দিলেন, "ভাই আপনার শখ লাগলে আপনি খান। তবে দুনিয়ার কোন অসুখ থেকে বাদ যাবেন না এবং প্রথম
শেষ হবে বাচ্চারা"।
নানা ধরণের মিষ্টি জাতীয় খাদ্যে দীর্ঘদিন ধরে এক বিষ ঘন চিনির সাথে আর এক বিষ রাসায়নিক সার ম্যাগনেসিয়াম সালফেট খেয়ে আমাদের পরিণতি কি হচ্ছে?? পৃথিবীর কোথাও আছে মানুষকে সার খাওয়ানোর উদাহরণ??
কোথায় আছি আমরা? কোথায় আমাদের গন্তব্য? কে আমাদের বাঁচাবে, বাঁচাবে আমাদের সন্তানদের?

Dr Asim Dutta

আমি নিশ্চিত আমার স্ত্রীর সাথে অন্য পুরুষের সম্পর্ক আছে। এটা কী করে বুঝতে পারলাম জানেন? স্ত্রীর সাথে শারীরিক মিলন করতে গে...
23/03/2025

আমি নিশ্চিত আমার স্ত্রীর সাথে অন্য পুরুষের সম্পর্ক আছে। এটা কী করে বুঝতে পারলাম জানেন? স্ত্রীর সাথে শারীরিক মিলন করতে গেলে সে খুবই অনাগ্রহ প্রকাশ করে। চুমু দিতে গেলে সে শক্ত করে মুখ বন্ধ করে রাখে এবং মুখ সরিয়ে ফেলে। শারীরিক মিলনের সময় তার দিক থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। বরঞ্চ সে খুবই বিরক্ত হয়ে থাকে।🥲

আমার স্ত্রীর কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। ওর স্বাস্থ্য ভালো। স্বাস্থ্য ভালো থাকলে শারীরিক মিলনে অনাগ্রহী থাকার কথা নয়। তার মানে হলো, সে অন্য পুরুষের সাথে সম্পর্কে জড়িত। এর জন্যই আমার সাথে শারীরিক মিলনে সে অনাগ্রহী থাকে।😭

বিয়ের প্রথম দিক থেকেই স্ত্রীর মধ্যে এই ব্যাপারটা ছিলো। কিন্তু তখন সেটা বুঝতে পারি নি। বোঝার চেষ্টাও করি নি। কারণ তখন আচ্ছন্নের মতো নিজের শরীরের প্রয়োজন মিটিয়ে যেতাম। স্ত্রীর অনাগ্রহ, বিরক্তি এগুলোকে মনে করতাম মেয়েদের স্বাভাবিক আচরণ। কারণ যৌ-ন ব্যাপারে মেয়েদের অনেক লজ্জা, দ্বিধা, ভয় থাকে।

তখন মনে হতো, সময়ের সাথে সাথে স্ত্রীর এই লজ্জা, দ্বিধা, ভয় কেটে যাবে। এর মধ্যে আমাদের একটা ছেলেও হলো। কিন্তু আশ্চর্য হয়ে দেখলাম, অনাগ্রহ কমার বদলে বাড়তে থাকলো। বাড়তে বাড়তে সেটা এমন পর্যায়ে গেলো যে, সে তখন শারীরিক মিলনে বাধা দিতে লাগলো। অবশ্য ওর বাধা শুনতাম না। আমার প্রয়োজন ঠিকই মিটিয়ে নিতাম।

সারাদিনে স্ত্রীর সাথে খুব একটা কথা হয় না। চাকরি এবং আরো সব কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আর সংসারে যা লাগে তার ব্যবস্থা করে দিই।

স্ত্রীকে খাওয়া পরার অভাবে রাখি নি। ওর সাথে ঝগড়াও করতাম না। ঝগড়া করতাম না কারণ, মেয়ে মানুষ বোঝে কম। আর কম বোঝা মানুষের সাথে ঝগড়া করা অর্থহীন।

সংসারের অন্যান্য ব্যাপারে ওর সাথে কথা না বললেও চলতো। এবং আমি সেটা বলতামও না।

কিন্তু শারীরিক সম্পর্কের ব্যাপারটা এমন পর্যায়ে গেলো যে, সেটাকে অগ্রাহ্য করার আর উপায় রইলো না। কারণ আমি এই ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে গেলাম যে, ওর সাথে অন্য পুরুষের সম্পর্ক আছে। আমার খাবে, আমার পরবে, আর শারীরিক মিলন করবে আরেক পুরুষের সাথে, তা তো হতে পারে না।

তাই একদিন ওকে ডেকে সরাসরি জিজ্ঞেস করলাম,"সম্পর্ক কতোদিন থেকে? বিয়ের আগে থেকে?"

সে বললো,"কীসের সম্পর্ক?"

"অভিনয় করার দরকার নেই। সব বুঝি আমি। যদি আরেকজনের সাথে সম্পর্কই থেকে থাকে, তাহলে আমাকে বিয়ে করেছিলে কেনো?"

আশ্চর্য হয়ে বললো,"তোমার কথা কিছুই বুঝতে পারছি না। বিয়ের আগে কিংবা বিয়ের পরে কারো সাথেই আমার সম্পর্ক ছিলো না।"

"যদি সম্পর্ক না থাকে তাহলে আমার সাথে এমন বাজে আচরণ কেনো করছো? কেনো আমার সাথে শারীরিক মিলনে তোমার অনীহা?"

সে চুপ হয়ে থাকলো। কিছু বললো না।

বললাম,"কিছু বলছো না কেনো? বিয়ের পর থেকে লক্ষ্য করে আসছি তোমার এই ব্যাপারটা। তোমাকে তো আমি অভাবে রাখি নি। তোমার সাথে ঝগড়াও করি না। তাহলে কেনো আমার সাথে এমন আচরণ করছো?"

আরো কিছু সময় চুপ থেকে স্ত্রী বললো,"শারীরিক ব্যাপারটা শুধুমাত্র শারীরিক নয়, এটা মানসিকও। শারীরিক এবং মানসিক দুটো দিক ঠিক থাকলে তখন শারীরিক মিলনে আগ্রহ থাকে। কিন্তু তোমার দুটো দিকেই সমস্যা রয়েছে। যে জন্য তোমার সাথে শারীরিক মিলনে আগ্রহ বোধ করি না।"

স্ত্রীর কথা মানতে পারলাম না। কারণ আমার শারীরিক কোনো সমস্যা নেই। দ্রুত পতন জাতীয় সমস্যাও নেই। তাহলে স্ত্রী কেনো বললো আমার শারীরিক সমস্যা আছে? আর মানসিক সমস্যা মানে কী? আমি কি পাগল?

ক্ষেপে গিয়ে বললাম,"মিথ্যা কেনো বলছো? তুমি ভালো করেই জানো, আমার কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। আর মানসিক সমস্যা বলতে কী বোঝাচ্ছো?"

"তোমার শারীরিক সমস্যা আছে। কী কী সমস্যা আছে শোনো, তোমার মুখ দিয়ে বিশ্রী গন্ধ আসে, আর তোমার শরীর থেকে ঘামের উটকো গন্ধ আসে। যে কারণে তুমি কাছে এলে শারীরিক আকর্ষণের বদলে বমি আসে। আর তোমার মানসিক সমস্যা হলো, তুমি আমাকে মানুষই মনে করো না। আমাকে ভাবো শারীরিক প্রয়োজন মেটানো এবং সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র মাত্র। সেই সাথে ঘরের কাজ করবো, সন্তান পালবো, এবং তোমার আর তোমার বাবা মা'র সেবা করবো। এছাড়া আমার আর প্রয়োজন নেই। যে কারণে তুমি সংসারের কোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় আমার সাথে কথা বলার প্রয়োজনই বোধ করো না। তোমার এই ভুল মানসিকতার জন্য তোমার প্রতি কোনো প্রকার শারীরিক টান বোধ করি না। শারীরিক এবং মানসিক উভয় দিকে যদি নিজেকে শোধরাতে পারো, তাহলে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে তোমার প্রতি শারীরিক আকর্ষণ জেগে উঠবে। নইলে, আমাকে মেরে ফেললেও তোমার প্রতি শারীরিক আকর্ষণ জেগে উঠবে না।"

ধাক্কার মতো খেলাম স্ত্রীর কথাগুলো শুনে। শারীরিক মিলনের সাথে যে এতো কিছু জড়িত কল্পনা করি নি!

পরদিন দাঁতের ডাক্তারের কাছে গেলাম। কারণ আমি নিয়মিত দাঁত মাজি, তাহলে মুখে গন্ধ কেনো থাকবে? ডাক্তার দেখে বললেন, পানি কম খাওয়ার কারণে এই সমস্যা হয়েছে। পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি তিনি আরো কিছু পরামর্শ দিলেন। সেগুলো নিয়ম মেনে পালন করতে লাগলাম।

আর শরীর থেকে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে লাগলাম। বডি স্প্রে ব্যবহার করতে লাগলাম। এতোকাল শরীরের পরিচ্ছন্নতাকে গুরুত্ব দিই নি। ভেবেছি এগুলো মেয়েদের ব্যাপার। কিন্তু এখন জানলাম, পরিচ্ছন্ন থাকা ছেলেদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

শারীরিক সমস্যা দূর করার পাশাপাশি মনোযোগ দিলাম মানসিক সমস্যা দূর করার জন্য। মানসিক সমস্যা দূর করার জন্য প্রথম যে কাজটা করলাম তা হলো, 'মেয়েরা কম বোঝে' এই চিন্তা মাথা থেকে বের করে দিলাম। এবং সংসারের সব বিষয়ে স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করতে লাগলাম। মাঝে মাঝে স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে যেতাম। ওর সাথে সিনেমা দেখতাম, হাসতাম।

স্ত্রীর সাথে সম্পর্কটা সহজ এবং আনন্দময় হয়ে উঠলে এক রাতে আবিষ্কার করলাম, স্ত্রীর চোখে নেমে এলো কামনার গোধূলির মেঘ। কী যে সুন্দর লাগছিলো তাকে তখন! সেদিন সে আমাকে এতো শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলো যে, অবাক হয়ে গেলাম। নারীর কামনার তীব্রতা দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ওর তীব্র আলিঙ্গনে ডুবে যেতে যেতে হঠাৎ দেখি আমার চোখের কোণে পানি জমে উঠলো। অলৌকিক আনন্দময় পানি।

ব্যাপারটা হয়ে যাওয়ার পরই পাশ ফিরে ঘুমিয়ে পড়ি নি। যা আমি আগে করতাম। এবার স্ত্রীর কানের কাছে মুখ এনে গভীর আবেগে বললাম,"ভালোবাসি ভালোবাসি।"

স্ত্রী চোখ বুজে শুয়ে থাকলো। মুখে তার গোধূলির হাসি।

"গোধূলির হাসি"
- রুদ্র আজাদ

পরিচয় গোপন রাখা এক ডিভোর্সি বোনের খোলাচিঠি:জানিনা, আমি কেন লিখছি। হয়তো এজন্য কারণ আমি চাই আর কেউ আমার মতো ভুল না করুক। হ...
22/03/2025

পরিচয় গোপন রাখা এক ডিভোর্সি বোনের খোলাচিঠি:

জানিনা, আমি কেন লিখছি। হয়তো এজন্য কারণ আমি চাই আর কেউ আমার মতো ভুল না করুক। হয়তো এজন্য কারণ আমি চাই ঠুনকো কারণে সংসারগুলো ভেঙে না পড়ুক।

আমি ঊনিশ বছর বয়সী একজন নারী। আমাদের বিয়ে হয়েছিল আমার পছন্দে। সংসারও টিকে ছিল দের বছর। আমাদের একটা ছেলেও আছে, ওর বয়স এক বছর।

আমার স্বামীর স্বভাব-চরিত্র সবই বেশ ভালোই ছিল। শুধু একটু জেদি । অবশ্য তাও সবসময় না, মাঝেমধ্যে। মানুষ ভাবে ওর বদ জেদের জন্যই বুঝি আজ এই অবস্থা, কিন্তু আমি জানি, আমাদের সমস্যার শুরুটা ওর দিক থেকে হয় নি।

সব সংসারেই তো টুকটাক কিছু সমস্যা থাকে। ওরকম আমাদের মধ্যেও মাঝেসাঝে ঝগড়া-ঝাটি হতো। কিন্তু ঝগড়া বাধলেই আমি তল্পিতল্পা গুছিয়ে বাপের বাড়ির দিকে হাঁটা দিতাম। বাপের বাড়িতে বোনরাও আসতো, আর ভাইরা তো ছিলই। ওদের কাছে কেদেকেটে সব বলতাম। তখন সবাই ওকে ফোন করে কথা শোনাত। আমার ছোট বোন তো রীতিমত অপমান করত!

আমার কাছেও মনে হতো, ঠিকই আছে। কত বড় সাহস, আমার সাথে লাগতে আসে। আমাকে নিজের মতো চালাতে চায়। আমার মধ্যে কেমন একটা জেদ কাজ করতো। ওর কাছে ছোট হব, ওর কাছে নিজের ভুল স্বীকার করব, মাফ চাইব, এটা ভাবতেই পারতাম না। উল্টো বড় গলা করে বলতাম, “ডিভোর্স দাও! তোমার মতো লোকের সাথে কে সংসার করে?”

নাহ, ডিভোর্স আমি কখনোই মন থেকে চাই নি। ওটা ছিল মুখের কথা।

ওর সামনে ছোট হওয়ার চাইতে ডিভোর্স চাওয়াই আমার কাছে সঠিক মনে হতো।

একদিনের কথা এখনও মনে পড়ে। সেদিন ছোট একটা ব্যাপার নিয়ে তর্ক করতে করতে দুজনেই খুব উত্তেজিত হয়ে পড়েছি। রাগে আমার শরীর কাঁপছে। যা মুখে আসছে তাই বলছি। তুই-তোকারি, গালিগালাজ, অপমান কিচ্ছু বাদ যায় নি। এক পর্যায়ে সহ্যের বাধ ভেঙে ও আমার গায়ে হাত তুললো!

এর আগে কিংবা পরে কখনোই ও আমার গায়ে হাত তুলে নি। কিন্তু ঐ একটা থাপ্পড়, ওটাই যথেষ্ট ছিল।

আমি বাপের বাড়ি চলে গেলাম। আর হ্যাঁ বরাবরের মতো এবারও নিজের দিকটা না বলে খালি ওর দিকটাই বলে গেলাম। মানুষের দোষ দিয়ে আর কী লাভ! সবাইকে যা বলেছি, সেটার উপর ভিত্তি করেই তারা বিচার করেছে। পরিবারের সবাই বললো, এমন ছেলের সাথে সংসার করার কোনো দরকার নাই। মামলা ঠুকে দাও।

আমি সবার পরামর্শে মামলা করলাম।

ওর নামে নারী নির্যাতনের কেইস করা হল। খুব দ্রুতই ওকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেল। ওর পরিবার থেকে মুরুব্বিরা এসে বার বার অনুরোধ করল, আমি যেন এই কেইস তুলে নিই।

ভেতরে ভেতরে আমিও চিন্তা করতাম, আচ্ছা, আমার স্বামী কি আসলেই জালেম? ও কি কোনদিন নিজে থেকে আমার গায়ে হাত তুলেছে? আমি যদি ওকে এত কথা না শোনাতাম, তাহলে কি ও আমার গায়ে সেদিন হাত তুলতো?

আমার বাবা মা আমাকে বুঝিয়েছিল, আমি যদি এতকিছুর পর ফিরে যাই, তাহলে ও ভাববে, আমি বুঝি অসহায়। আমাকে আরো পেয়ে বসবে। আমার উপর ইচ্ছামত ছড়ি ঘুরাবে। একবার গায়ে হাত তুলেছে মানে বার বার একই কাজ করবে। কাজেই নিজে থেকে ফিরে যাওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।

কিন্তু আমার মনের ভেতর কে যেন চিৎকার করে বলতো, ও তো এমন লোক না। ও যেদিন আমার গায়ে হাত তুলেছিল, সেদিনই হাটু জোর হয়ে আমার কাছে মাফ চেয়েছে। এসব ভেবে ভেবে আমি মামলা তুলে নিলাম। তবে ওর কাছে ফেরত গেলাম না।

কিছুদিন পর দুই পরিবার থেকে বিচার-সালিশ হল। সবার কাছে ও দোষী প্রমাণিত হল। সবাই ওকে নানা কথা বোঝাল, উপদেশ দিল। তারপর আবার সংসার শুরু করলাম।

এর পরের কয়েক মাস ভালোই চলছিল, কিন্তু হুট করে আবার কী একটা নিয়ে আমাদের ঝগড়া বেধে গেল। ব্যস, কাপড়চোপড় গুছিয়ে আবার আমি বাপের বাড়ি গিয়ে উঠলাম। এর মধ্যে শুনলাম ও নাকি খুব অসুস্থ ! আমি বাসায় ফিরতে চাইলে আমার পরিবার বললো, এভাবে একটা ঝগড়ার পর একা একা ফিরলে সেটা ভালো দেখায় না। আর আমার বোনদের কথা ছিল, ওসব অসুস্থ-টসুস্থ কিছু না, সব বাহানা!

আমরা চাচ্ছিলাম ঐ পক্ষ থেকে কিছু আত্মীয়-স্বজন এসে ওর ভুল স্বীকার করে আমাকে হাতেপায়ে ধরে নিয়ে যাক। কিন্তু এবার কেউই আসলো না।

এরও কিছুদিন পর ও আমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিল। ডিভোর্স লেটার দেখে আমাদের পরিবারের সবাই খুব খেপে গেল। কতবড় সাহস, মেয়েকে এত কষ্টে রেখেছে, তার উপর ডিভোর্স লেটার পাঠায়। সবার কথায় আমার কাছেও মনে হলো, ঠিকই তো, কত বড় সাহস! আমাকে ডিভোর্স দিতে চায়? ওর সব ভুলগুলো চোখের উপর ভাসতে লাগলো।মা বাবা মনে করিয়ে দিলো, ও হলো সেই ছেলে যে কিনা আমার গায়েও হাত তুলেছে।

প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে জ্বলতে আমিও ঠিক করলাম, এবার ডিভোর্সই দেব। কে চায় এমন ফালতু লোকের সংসার করতে? কোর্টে গিয়েও ওকে হেনস্থা করার চেষ্টা করলাম। আমার মাসিক খরচ বাড়িয়ে একটা আকাশছোঁয়া অংক দাবি করলাম! আমি চাচ্ছিলাম ওর যেন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়। যেন নিজে থেকে আমার কাছে এসে আবার সংসার করতে চায়। আসলে ডিভোর্স হোক আমি কখনোই চাই নি৷ কিন্তু জিদ আমাকে খেয়ে নিচ্ছিল। আগ বাড়িয়ে ওকে ডিভোর্স তুলে নিতে বলা আমার পক্ষে অসম্ভব! ওর কাছে ছোট হওয়া আমি মানতেই পারি নি।

কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার, ও আমার আকাশছোঁয়া সমস্ত দাবি মেনে নিলো। আমাদের ছেলেকে আমি পেয়ে গেলাম। ভরণপোষণ, মাসিক খরচ, ওর সম্পত্তি সব! বিনিময়ে ও পেলো শুধু ডিভোর্স।

আমাদের ডিভোর্স হয়েছে আজ সাড়ে তিন বছর।

ও আবারও বিয়ে করেছে। সুখেই আছে বোঝা যায়। আসলে ওর মতো নির্ঝঞ্ঝাট স্বামীকে নিয়ে মেয়েরা হয়তো সুখেই থাকবে।

এখন আমার নিজের কথা ভেবে আফসোস হয়। মানুষের মুখের কথা কখনো কখনো ছুরির চেয়েও ধারালো হতে পারে। ও আমাকে একবার থাপ্পড় মেরেছিল ঠিকই, কিন্তু আমি কথার তীরে ওকে ছিন্নবিছিন্ন করে ফেলতাম। শারীরিক নির্যাতন করি নি সত্যি, কিন্তু মানসিকভাবে কষ্ট দিতাম। এসব কথা আমার মা বাবাকে কখনোই বলা হয় নি। নিজের দোষের কথা মানুষ কতটাই বা বলে!

মাঝে মাঝে ভাবি, ইশ, আমার পরিবার যদি একটু নিজে থেকে বুঝে আমাকে সংসার করার উপদেশ দিতো। যখন আমি ওর কাছে ফিরে যেতে চাইতাম, তখন ওর খারাপটা না বলে যদি একটু ভালো দিকগুলোর কথা মনে করাতো! আমি যদি নিজের জিদ নিয়ে পড়ে না থেকে, একটু ওর কাছে নত হতাম! তাহলে হয়তো আজ আমাকে এই দিন দেখা লাগতো না।

আজ আমার ভাইবোন বন্ধুবান্ধব সবার নিজেদের সংসার আছ কিন্তু ছোট্ট ভুলে সব শেষ হয়ে গেছে তাই দোয়া করি আর কারো জবনে এমন না হোক।
©কালেক্টড

21/03/2025
21/03/2025

our Jersey man Hasnat Abdullah

আম্মাকে নিয়ে আমাদের পাঁচ ভাইবোনের গোপন মিটিং চলছে। রুদ্ধদ্বার বৈঠক, দোতলায় বড় ভাইয়ার ফ্ল‍্যাটে। আম্মা এখন সবার মা...
27/07/2023

আম্মাকে নিয়ে আমাদের পাঁচ ভাইবোনের গোপন মিটিং চলছে। রুদ্ধদ্বার বৈঠক, দোতলায় বড় ভাইয়ার ফ্ল‍্যাটে। আম্মা এখন সবার মাথা-ব‍্যথার বড় কারণ। কোন ভাইবোনই এখন আর উনার দেখভালের দায়িত্বটা নিতে আগ্রহী নয়।

অনেকটা বাধ্য হয়েই তাই ভাইবোনদের এই মিটিংটা!আমাদের সবচাইতে ছোটবোন নিপা, মিটিং সফল করতে সবার সাথে যোগাযোগ করেছে। এরই ফলে সব ভাইবোনদের স্ত্রী স্বামী সহ এ মিটিংয়ে উপস্হিতি।

আমার স্ত্রী সোমা মিটিংয়ে আসার আগে পই পই করে আমাকে শিখিয়ে দিয়েছে। যে করেই হোক আমি যেন মায়ের দেখাশোনার দায়িত্বটা এভয়েড করি। আমার দুই মেয়ে দুজনেই নামী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে আছে। একজন "এ" আর একজন "ও" লেভেলে! ভালো করে এখন ওরা বাংলাই বলতে পারে না! ভীষণ গেঁয়ো আর আনস্মার্ট দাদিকে ওদের একেবারেই অপছন্দ! বন্ধুদের কাছে নাকি উনাকে নিয়ে ওদের প্রেস্টিজ থাকে না!

আর সোমার কাছে মা যেন একটা মূর্তিমান আতঙ্ক। গত মাসে আমাদের বারান্দায় আম্মার পানের পিক ফেলানোর কষ্টটা সোমা এখনোও ভুলতে পারছে না। আমিও আমার স্ত্রী সন্তানদের প্রতি অনেক কেয়ারিং। বাসায় মায়ের উপস্হিতিটাতে আমারও কেন জানি ইদানীং একটু অস্বস্তি হয়। তবে মা যদি দোতলায় ভাইয়া বা তিনতলায় ছোট বোনের বাসায় থাকে, তাতে আমার কোন আপত্তি নেই। পাঁচতলায় উঠানামার পথে, মাঝে মধ‍্যে খাবার বা শাড়ি-জামা নিয়ে মাকে দেখা করাটা আমার জন‍্য কোন ব‍্যাপারই না!

মিটিং শুরু হতেই বুঝতে পেরেছিলাম, প্রত‍্যেকের যুদ্ধংদেহী মনোভাবটা! সবাই কঠোর প্রস্ততি নিয়ে এসেছে যে-করেই হোক মায়ের দায়িত্বটা এড়িয়ে যাবে। তবে আপনারা যতটা খারাপ ভাবছেন, অতটা খারাপ আমরা কেউই না। বাসায় একসঙ্গে রাখবেন না তবে টাকা-পয়সা বা প্রয়োজনীয় জিনিস দিতে কারোরই কোনরকম আপত্তি নেই।

আমাদের মা রাহেলা খাতুন। লোকে উনাকে রত্নগর্ভা বলেন। পাঁচ ভাইবোনকে বলতে গেলে এক হাতেই মানুষ করেছেন। আমাদের বাবা শফিকুল হক ব‍্যস্ত ব‍্যাংকার ছিলেন। তার উপর নিজের ভাইবোন বা সামাজিক কাজ নিয়েই উনি আজীবন ব‍্যস্ত ছিলেন! ছেলে মেয়েদের খুব একটা সময় দিতেন না। তবে আব্বা কষ্ট করে খিলগাঁওয়ের এই পাঁচতলা বাড়িটা করে গিয়েছিলেন। আমাদের ভাইবোনদের ঢাকায় থাকার সমস্যাটা সমাধান করে গেছেন বলে আব্বার প্রতি আমরা সব ভাইবোনরাই কৃতজ্ঞ!

আম্মা অবশ‍্য ছোটবেলা থেকেই আব্বার অভাবটা বেশ ভালোভাবেই পুষিয়ে দিতেন। পাঁচ ভাইবোনের জন‍্য এমনকি উনি একদিনের জন‍্যও কখনোই কোথায় বেড়াতে যাননি! খাবার দাবারের জন‍্যও কখনো আমাদের কোন রকম কমপ্লেন করতে হয়নি। সব কিছু রেডি থাকতো! পড়াশোনার ব‍্যাপারেও মায়ের ভীষণ আগ্রহ, এক বিন্দুও ছাড় দেননি। গৃহশিক্ষক বা ব‍্যাচে পড়ার বিষয় তদারকি করতেন কঠোরভাবে।

বড় ভাইয়া যখন বুয়েটে ভর্তি হন, মা প্রথম কিছুদিন রিকশায় করে ভার্সিটিতেও উনাকে দিয়ে আসতেন। এ নিয়ে ভাইয়ার বন্ধুরা এখনো ভাইয়াকে খেপায়! আমার বড়বোন নীপা আপা আর ছোট বোন নীলাকেও রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন স্কুল কলেজে নিয়ে গিয়েছেন। নীলা আবার প্রতি শুক্রবার গানের স্কুলেও যেত, তাইতো আম্মা আব্বার সাথে কখনোই ছুটির দুপুরটাও কাটাতে পারেনি। তবে এগুলো নিয়ে আম্মার কখনোই কোন কোন আফসোস নেই, শেষ পযর্ন্ত আমরা ভালোভাবে দাঁড়াতে পেরেছি বলেই।

সবকিছুই ঠিক ছিল। গত বছর আব্বা হঠাৎ করে মারা যাওয়ার পরই বিপত্তির শুরু। আব্বার রিটায়ারমেন্টের পর আম্মার সাথেই উনার জীবন, তিনতলার ফ্ল‍্যাটটায় দুজনে বেশ ভালো সময় কাটাচ্ছিলেন।

এর মধ‍্যে বড় ভাইয়া বিয়ে করে দোতলায়, আর বড়আপা চারতলার দখল নিল। আর আমিও সোমাকে বিয়ে করে এ বাড়ির পাঁচতলায় প্রায় দেড় যুগ ধরে। সবচাইতে ছোট ভাই সোহেলও বিয়ে করে এ বাড়ি ছাড়েনি, একতলার দখল নিয়েছে। শুধু ছোট বোন নীলা বিয়ের পর রামপুরায় ওর শশুরবাড়িতে থাকত। এই নীলাও শেষ পযর্ন্ত বাবা-মার তিনতলার দখল নিল, আব্বা মারা যাওয়ার পরপরই।

আব্বা জীবিত থাকতে আমাদের ভাইবোনদের এক সাথে থাকায় কোন সমস‍্যাই হয়নি। আব্বার নেতৃত্বেই সবকিছু চলত এমনকি এক সাথে গরু কোরবানি দেওয়া। ভাইবোনরা প্রায়ই তিনতলায় বাবা মার ফ্ল‍্যাটে একসাথে মিলিত হতাম, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ছুতোয়। এরপর বটবৃক্ষ বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই পরিবারের বাঁধনটা হালকা হয়ে আসতে লাগল।

মা তখন একা হয়ে পড়লেন, বাসায় আনএটেনডেন্ট অবস্থায় একবার সেন্সলেস হয়ে যাওয়ার পর পালাক্রমে এখন ভাইবোনদের ফ্ল‍্যাটে থাকেন। তবে সত‍্যি বলতে আমরা ভাইবোনরা কেউই আম্মার সাথে থাকার এ বিষয়টি পছন্দ করছি না। তার উপর আম্মা প্রায় সারাবছরই অসুস্থ থাকেন। উনাকে নিয়ম করে ওষুধ খাওয়ানো, ডাক্তার দেখানো বা সেবা শুশ্রূষা করার মতো সময় আমাদের কারোরই নেই। প্রত‍্যেকেই এখন নিজ নিজ সংসার নিয়ে ভীষণ ব‍্যস্ত। তাইতো একপ্রকার বাধ‍্য হয়েই ভাইবোনদের মিটিং ডাকা, গ্রহণযোগ‍্য কোন সমাধান খুঁজে বের করতেই।

মিটিংটা শান্তিপূর্ণই ছিল! হঠাৎ করেই ছোটবোন নীলা বড় ভাবির কথাতে রিএক্ট করতেই পরিস্হিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল। ভাবি কিন্তু ভালো একটা প্রস্তাব দিয়েছিলেন, মাকে দেখে শুনে ভালো একটা বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো। মাথা মোটা নীলা এটা শুনেই রিএক্ট করলো, ও বলতে চাইছে মা এ বাড়িতেই থাকবে। আর মায়ের দায়িত্বটা নিতে হবে আমাদের তিন ভাইয়ের!

কথাটা শুনে বড়ভাবির পক্ষ নিয়ে ছোটভাই সোহেল নীলাকে ধমক দিতেই পরিস্হিতিটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল। আমি অবশ‍্য আগে থেকেই জানতাম নীলার উপর সোহেলের থাকা ক্ষোভটার কথা! বাবা মার তিনতলার ফ্ল‍্যাটটার দিকে সোহেলের নজর আগে থেকেই ছিল। নীলা ওর বাড়া ভাতে ছাই দিয়ে ওটার দখল নিয়ে নিয়েছিল। তাইতো সোহেল সুযোগ পেয়েই নীলাকে অপদস্থ করেছিল।

নীলা, বড় ভাবি, সোহেল আর পরবর্তীকালে আমাদের সবার চিৎকার চেঁচামেচিতে মিটিংটা আর গোপন থাকল না। মা তিনতলা থেকে নেমে দোতলায় আসলেন। সব কথাই শুনলেন আর বুঝলেন! আম্মাকে শুধু দেখেছিলাম কাঁদতে কাঁদতে তিনতলায় গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিতে। এরপর কোন রকম সমাধান ছাড়াই মিটিং শেষ করে যে যার ফ্ল‍্যাটে চলে গেলাম। আম্মার নাকি কান্নাটায় সোমা কেনো, আমি নিজেও খুব বিরক্ত হয়েছিলাম। উনার জন‍্যই এখন ভাইবোনদের মধ‍্যে এসব অহেতুক মনোমালিন‍্য আর ঝগড়া!

পরদিন সকালে সোমা জানাল আম্মাকে নাকি এ বাসায় আর পাওয়া যাচ্ছে না। কাউকে কিছু না বলেই ভোরে এ বাসা ছেড়ে চলে গেছেন! ভাইয়াকে ফোন করতেই দেখলাম, আম্মার এভাবে চলে যাওয়ায় উনি আমার মতই বিরক্ত, সোহেলও। আম্মার বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে আমরা যে যার মতো অফিসে চলে গেলাম।

লাঞ্চ আওয়ারে সোমা ফোন করে জানাল উকিল আংকেল নাকি বিকেলে আমাদের ভাইবোনদের সাথে কথা বলতে চান। উকিল আংকেল বাবার দূরসম্পর্কের কাজিন, আমাদের পারিবারিক আইনি বিষয় আজীবন উনিই দেখে গেছেন। আর আংকেলই সোমাকে জানিয়েছেন যে, মা এখন জয়পাড়ায় মামাদের বাড়িতে! কথাটা শুনে গুরুত্ব দিলাম না, সারাজীবন মামার বাড়িতেই থাকুকনা আমাদেরকে না জ্বালিয়ে। সোমাও আমার বলা কথাটায় সায় দিয়ে ফোনটা রেখে দিল।

সন্ধ্যায় উকিল আংকেলের কথা শুনে আমাদের সব ভাইবোনদের আক্কেল গুড়ুম। আব্বা মৃত্যুর আগে পুরো বাড়িটা নাকি আম্মাকে লিখে দিয়ে গেছেন। আইনত এই বাড়ির পুরো মালিকানা নাকি এখন একমাত্র আম্মারই! আর সবচাইতে ভয়াবহ সংবাদ, মা নাকি এখন বাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উকিল আংকেল এসেছেন আমাদেরকে মায়ের সিদ্ধান্তটা ফর্মালি জানাতে। কথাটা বিশ্বাসযোগ‍্য করতে বাড়ির নতুন দলিলটাও দেখালেন, রাহেলা খাতুনের নামে।

কথাটা শুনেই আমাদের সব ভাইবোনের মাতৃভক্তি চরমে উঠে গেল! একই সাথে সবাই মাকে ফোন দিতেই, মায়ের ফোন বন্ধ পেলাম। সবাই দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লাম, এমনকি বড় ভাবিটা কাঁদতেও শুরু করে দিলেন। অবাক হলাম আমার স্ত্রী সোমা সবার সামনে ঘোষণা দিল, আম্মা এখন আমাদের সাথেই থাকবে। কিন্তু সোমার প্রস্তাবটা ধোপে টিকল না। বড় ভাবি, সোহেল আর নীলার মধ‍্যে কথা কাটাকাটি চলছিল, প্রত‍্যেকেই এখন মাকে নিজের সাথে রাখতে চায়।

আমি তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নিলাম, এখনই জয়পাড়ায় গিয়ে মাকে নিয়ে আসব। সোমাকে চোখ-টিপ দিয়ে পাঁচতলায় নিয়ে আসলে, সেও গোঁ ধরল এই সন্ধ্যায় আমার সাথে জয়পাড়ায় যাবে। আম্মার পানের পিক ফেলানোর কষ্টটা এখন ওর হৃদয় থেকে কর্পূরের মতো উড়ে গেছে। আশ্চর্য হলাম শুনে, আম্মার সাথে বেয়াদবি করলে ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া দুটো কন‍্যাকে নাকি এখন থেকে থাপ্পর দেবে বৌ!

তড়িঘড়ি করে নিচে গ‍্যারেজে আসতে দেখি, ভাইয়া আর আপার গাড়িও রেডি! উনারাও জয়পাড়া যাচ্ছেন মাকে আনতে। আমার গাড়ি স্টার্ট দিতেই দেখি, ছোট দুই ভাইবোন সোহেল আর নীলা এক গাড়িতে, ওরাও বোধ হয় জয়পাড়াই যাচ্ছে।

আমি অবশ্য ওদেরকে কোথায় যাচ্ছে জিজ্ঞেস করে আর সময় নষ্ট করতে চাইছিলাম না। আমার আর সোমার দুজনের এখন খুব মন খারাপ। মা সেই ভোর থেকে একা আছে। ডায়বেটিস আর প্রেসারের রোগী! ওষুধটা ঠিকমতো খেয়েছে কিনা? দুপুরেই বা কি খেয়েছে? এসব ভাবতে ভাবতেই গাড়িতে একটু স্পিড দিলাম। সময় নষ্ট করা যাবে না, না আর এক মুহূর্তের জন‍্যও না!

(সমাপ্ত )

এই গল্পঃ বাস্তবতা শিখিয়েছে কিভাবে বৃদ্ধ বয়সে স্বার্থপর অকৃতজ্ঞ সন্তানদের শিক্ষা দিতে হয়। মা বাবা জানেন সন্তানেরা কেমন, তাই বুঝে শুনে ব্যবস্থা নিন। ইসলামে বৃদ্ধ মা বাবার সেবা করা যত্ন নেয়া আবশ্যকীয় দ্বায়িত্ব। অনেক ফ্যামিলিতে মা বাবার জন্য সন্তানরা জানপ্রাণ। আবার কিছু কুলাঙ্গার তো আছেই যাদের দুনিয়া ও আখিরাতের দুটোই শেষ।

ইসলামে মায়ের সম্মান যা প্রত্যেক মুসলিম এর জন্য প্রযোজ্য :

মা হজ্জ্ব :-সন্তান তার মা-বাবার দিকে যতবার অনুগ্রহের নজরে তাকায়, আল্লাহ প্রতিটি দৃষ্টির বিনিময়ে একটি করে কবুল হজ্জ্বের সাওয়াব দান করেন (বায়হাকি-মিশকাত, পৃ. ৪২১)

মা জান্নাত :-
মায়ের পায়ের তলে সন্তানের বেহেশত (আহমাদ, নাসাঈ)

মা জিহাদ :-
নামাযের পরই পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করার চেয়েও (বোখারী)

মা দোয়া কবুলের গ্যারান্টি :-
সন্তানের জন্য মাতা-পিতার দোয়া অবশ্যই কবুল হয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই (তিরমিজি)

মা আল্লাহর সন্তুষ্টি :-
আল্লাহর সন্তুষ্টি মাতা-পিতার সন্তুষ্টিতে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি মাতা-পিতার অসন্তুষ্টিতে (তিরমিজি)

মা ধ্বংস থেকে রক্ষাকবজ :-
সেই সন্তানের ধ্বংস অনির্বায, যে তার মাতা-পিতাকে অথবা দুইজনের একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেল অথচ তাদের খেদমত করে জান্নাতে যেতে পারল না (সহীহ মুসলিম)

মা জান্নাতের সুঘ্রাণ :-
৫০ হাজার বছরের দূরত্বে জান্নাতের ঘ্রাণ পাওয়া যায়। আর অবাধ্য সন্তান এ ঘ্রাণও পাবে না (তাবরানি)

মা জান্নাতের নেয়ামত :-
পিতা-মাতার অবাধ্যচারী সন্তানকে আল্লাহ কখনই জান্নাতের নেয়ামতরাজির স্বাদ নেবারও সুযোগ দেবেন না। তবে তারা তওবা করলে ভিন্ন কথা (তিরমিজি)

মা ইবাদত :-
"আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো" (সূরা বনী ইসরাঈল:২৩) {এ আয়াতে আল্লাহ পিতা-মাতার সম্মান এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহার করাকে নিজের ইবাদতের সাথে অপরিহার্য করেছেন।}

মা শুকরিয়া :-
"তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় করো এবং পিতা-মাতারও" (সূরা লোকমান : ১৪) {এ আয়াতে আল্লাহ নিজের শুকরিয়ার সাথে পিতা-মাতার শুকরিয়াকেও অপরিহার্য করেছেন।}

মা নবীজির (সা.) দীদার :-
হজরত ওয়াইস আল করনি (রা.) নবীজির কাছে এই মর্মে খবর পাঠালেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ (সা.), আপনার সঙ্গে আমার দেখা করতে মন চায়; কিন্তু আমার মা অসুস্থ। এখন আমি কী করতে পারি?’ নবীজি (সা.) উত্তর পাঠালেন, ‘আমার কাছে আসতে হবে না। আমার সাক্ষাতের চেয়ে তোমার মায়ের খেদমত করা বেশি জরুরি ও বেশি ফজিলতের কাজ।’

মা শাস্তি থেকে বাঁচায় :-
সমস্ত গুনাহ-ই এমন যে, তা থেকে আল্লাহ যাহা এবং যতটা ইচ্ছা মাফ করে দিবেন। কিন্তু পিতা-মাতার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ, দুর্ব্যবহার করা, অধিকার আদায় না করার গুনাহ তিনি মাফ করবেন না। বরং যে লোক এই গুনাহ করে তার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পূর্বেই তার শাস্তি ত্বরান্বিত করেন (মিশকাত)

Collected from Baseera Fan Group
Mir md. Faisal

11/07/2023

একজন মাহফুজ

ছবিটা দেখার পর কি ভাবছেন আপনিসেটা আমি জানি। আপনি ভাবছেন,          এরা তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় নেই। এরা যেখানে আছে, সেটা ত...
29/04/2023

ছবিটা দেখার পর কি ভাবছেন আপনি
সেটা আমি জানি।

আপনি ভাবছেন,
এরা তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় নেই। এরা
যেখানে আছে, সেটা তাদের জায়গা নয়।

মানে তারা ভুল জায়গায় আছে।
যদি পেন্সিলের সাথে শার্পনারটা থাকতো,
আর নাটের সাথে স্ক্রু'টা থাকতো তাহলে মানাতো।

যদি তেমনটা থাকতো তাহলে কি হতো?

শার্পনারটা পেন্সিলকে একটু একটু করে নিঃশেষ করে ফেলতো। আর নাট'টা স্ক্রুটাকে এমনভাবে পেঁচিয়ে রাখতো, নাট'টার জীবন ওখানেই আটকে যেতো। না পারতো সে সামনে যেতে, না পারতো সে পেছনে যেতে।

পেন্সিলের জীবনটা শেষ হয়ে যেতো,
স্ক্রু'র জীবনটাও থেমে যেতো।

আসলে মাঝে মধ্যে জীবনে চলার পথে আমরা যেটাকে নিজেদের সাথে মানাবে বা খাপখাবে বলে ভাবি বা গ্রহণ করি, সেটাই কদাচিৎ আমাদেরকে তিলে তিলে নিঃশেষ করে দেয়।

মাঝেমধ্যে মানানসই জিনিসটাই সবচাইতে বেমানান ও ক্ষতির কারণ। তাই মাঝেমধ্যে বেমানানের সাথে মানিয়ে নিয়ে চলতে শিখুন।

বাবা ছিলেন জমিদার। লন্ডন তখন পাশ করা এই ডাক্তার চাইলে ই হতে পারতেন মুকেশ আম্বানি, রতন টাটা, ইলন মাস্ক কিংবা জেফ বেজুসদের...
13/04/2023

বাবা ছিলেন জমিদার। লন্ডন তখন পাশ করা এই ডাক্তার চাইলে ই হতে পারতেন মুকেশ আম্বানি, রতন টাটা, ইলন মাস্ক কিংবা জেফ বেজুসদের মতো পৃথিবীর নাম করা শীর্ষ ধনী।

কিন্তু তিনি তা হলেন না তিনি হয়ে উঠলেন গরীবের ডাক্তার। এক শার্ট আর এক প্যান্ট পড়া গরীবের জাফর ভাই 💔

গুড বাই “দ্যা গুড ডক্টর জাফর উল্লাহ চৌধুরী”

আপনার মতো করে আর কেউ শহীদ মিনারে ছুটে যাবে না।

দাবী আদায় না হলে বজ্রকন্ঠে এখন আর কেউ বলবে না “ তোমাদের প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করে বলো আমি জাফরুল্লাহ চৌধুরী দাবী মেনে না নিলে আমি হুইল চেয়ার নিয়ে একটুও সরবো না” 💔

আল্লাহ আপনাকে জান্নাত নসীব করুন

06/04/2023

চাচা বিরাট চিন্তায় আছে 🤣🤣🤣🤣

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Fun T20 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share