21/05/2025
“আমি শুধু মেয়ে বলে...”
মা বলেছিল, “তুই আসবি আমার আলো হয়ে”,
তবু চারপাশ ফিসফিস করেছিল—“আহা, আরেকটা মেয়ে তো হয়েছে!”
ছোট্ট আমি হাঁটতাম বাবার আঙুল ধরে,
আর রাস্তায় লোকেরা বলত—“মেয়ে তো, সাবধানে রাখবেন ওরে।”
খেলনা পছন্দ হতো গাড়ি, বই, রঙের ঝিলিক,
তবু হাতে ধরিয়ে দিত চুল বাঁধার লালচে ক্লিপ।
স্কুলে যখন বলতাম—আমি ডাক্তার হব,
হাসি পেত কারও কারও—“মেয়ে হয়ে এত বড় স্বপ্ন কেন ভাবিস তব?”
ক্লাসের সেরা হয়েও শুনতাম, “ভালো জামাই জুটবে”,
যেন স্বপ্ন মানেই সংসারের চৌকাঠে থেমে যাবে!
তরুণী হতেই আমার শরীর হলো বিচারসভা,
চোখের চাহনিতে হয়ে গেলাম অপরাধী, বিনা দোষে দোষী পাথর-ছোড়া সভা।
রাস্তা, বাস, বাজার—সবখানে আতঙ্কের ছায়া,
আমি খালি ভয় পাই না, আমি প্রতিদিন মরতে মরতে বাঁচা মেয়ে—ছায়া।
বিয়েতে বলেছিলাম—আমি একটু গড়তে চাই নিজেকে,
জবাব এলো—“স্বামীর পেছনে থাকাই মেয়ের বড় কাজ, জানিস না বোকা মেয়ে কি রে?”
ঘুম ভাঙে সন্তানের কান্নায়, ঘুম আসে না ক্লান্তিতে,
তবু বলে—“তুই তো সারাদিন ঘরেই থাকিস, কষ্টটা কোথায় তোর জীবনে?”
জীবনের প্রতিটা ধাপে আমাকে প্রমাণ করতে হয়—
আমি ভালো, আমি নির্দোষ, আমি ‘যোগ্য’—এই পবিত্র যুদ্ধে ক্ষয়ে যাই ক্ষয়।
আমি শুধু মেয়ে বলেই, আমার ইচ্ছে দোষ, আমার নীরবতা দোষ, আমার সাহস পাপ,
তবু আমি প্রতিদিন দাঁড়াই, গর্জে উঠি—আবার ভোর হয়, আবার জীবন খাপ।
কবিতা 02