15/04/2026
এই ছবিটা ১৯৯৩ সালের সুদানের (Sudan) দুর্ভিক্ষের সময় তোলা বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও হৃদয়বিদারক ছবিগুলোর একটি। ছবিটা তুলেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ফটোসাংবাদিক কেভিন কার্টার (Kevin Carter)।
ছবিতে কী দেখা যাচ্ছে?
একটি ক্ষুধায় কাতর ছোট শিশু মাটিতে পড়ে আছে।
শিশুটার কাছেই একটি শকুন বসে আছে, যেন শিশুটি মারা গেলে খেয়ে ফেলবে—এমন ভঙ্গিতে অপেক্ষা করছে।
এই দৃশ্যটি মানুষের নিষ্ঠুর বাস্তবতা ও দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা পৃথিবীর সামনে তুলে ধরে।
ছবির আসল কাহিনি
দুর্ভিক্ষের সময় শিশুটি খাবারের খোঁজে বা ত্রাণ কেন্দ্রে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সে হাঁটতে না পেরে মাটিতে পড়ে যায়। ঠিক তখনই শকুন এসে বসে।
কেভিন কার্টার ছবিটি তোলেন এবং তারপর শকুনটিকে তাড়িয়ে দেন। তবে তিনি শিশুটিকে কোলে তুলে নিয়ে যাননি—এই বিষয়টা নিয়েই পরে বিশ্বজুড়ে অনেক বিতর্ক হয়।
এরপর কী হয়েছিল?
এই ছবিটি প্রকাশের পর সারা বিশ্বে আলোড়ন ওঠে।
১৯৯৪ সালে এই ছবির জন্য কেভিন কার্টার Pulitzer Prize (বিশ্বের বড় সাংবাদিক পুরস্কার) পান।
কিন্তু মানুষ তাকে প্রশ্ন করতে থাকে—
“ছবিটা তুলেছো, কিন্তু শিশুটাকে বাঁচালে না কেন?”
এই সমালোচনা, নিজের মানসিক চাপ, যুদ্ধ-দুর্ভিক্ষের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এবং বিষণ্ণতার কারণে কেভিন কার্টার পরে ভেঙে পড়েন।
ফটোগ্রাফারের মৃত্যু
১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই কেভিন কার্টার আত্মহত্যা করেন (কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস নিয়ে)।
তিনি মৃত্যুর আগে লিখেছিলেন যে তিনি মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছেন এবং দুর্ভিক্ষের শিশুদের দৃশ্য তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।
শিশুটি কি মারা গিয়েছিল?
অনেকে বলে শিশুটি সেদিন বেঁচে গিয়েছিল এবং ত্রাণকেন্দ্রে পৌঁছেছিল।
কিন্তু শিশুটির পরিচয় নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা যায়নি—এ নিয়ে নানা মত আছে।
এই ছবিটি মূলত পৃথিবীকে মনে করিয়ে দেয়—ক্ষুধা কত ভয়ংকর, আর মানবতা কতটা জরুরি।
পথপ্রদর্শক