16/09/2026
সম্মান এমন কোনো জিনিস নয়, যা বললেই পাওয়া যায়—
“আমাকে একটু সম্মান করবেন প্লিজ?”
সম্মান কোনো ভিক্ষার থালা নয়।
সম্মান হলো এমন একটা উপস্থিতি, যেখানে তোমাকে দেখে মানুষ নিজে থেকেই নিজের ব্যবহার ঠিক করে নেয়।
আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী জানো?
আমরা নিজেকে এত explain করি, এত justify করি, এত prove করতে যাই—
মনে হয় জীবনটা বুঝি court case, আর আমরা সারাক্ষণ নিজেদের উকিল!
“আমি আসলে ওটা বলতে চাইনি…”
“আমাকে ভুল বুঝো না…”
“আমি সত্যিই তোমার ভালো চাই…”
আরে বাবা, যে তোমাকে বুঝতেই চায় না, তাকে dissertation লিখে দিলেও সে বুঝবে না।
আর অতিরিক্ত যত্ন?
সেটা তো আরও সাংঘাতিক।
দিনরাত available,
সব সমস্যায় হাজির,
সব কান্নায় tissue paper,
সব বিপদে ambulance,
সব অনুষ্ঠানে event manager—
তারপর একদিন দেখবে, তোমাকে আর মানুষ মনে করছে না।
মনে করছে তুমি একটা service centre।
কারণ তুমি নিজেই লিখে দিয়েছ—
Open 24×7. No holiday. No self-respect required.
তারপর বসে কাঁদছ—
“আমার ভালোবাসার দাম কেউ দিল না…”
কেন দেবে?
যে জিনিস তুমি নিজেই বিনামূল্যে বিলিয়ে দিয়েছ, তার আবার বাজারদর থাকবে কী করে?
সবচেয়ে বড় ভুল হলো অন্যের জন্য বাঁচতে বাঁচতে নিজের জীবনটাকে মেরে ফেলা।
তারপর অভিযোগ—
“কেউ আমাকে বুঝল না।”
কিন্তু প্রশ্ন হলো—
তুমি নিজে নিজেকে কতটা বুঝেছ?
নিজের ক্লান্তি শুনেছ?
নিজের অপমান টের পেয়েছ?
নিজের ইচ্ছেগুলোকে জায়গা দিয়েছ?
না কি সবাইকে খুশি করতে করতে নিজেকেই জীবনের waiting room-এ বসিয়ে রেখেছ?
সিংহ যখন জঙ্গলে গর্জন করে, তখন সে কারও permission নেয় না।
সে বলে না—
“Excuse me, আমি একটু roar করব, সবাই comfortable তো?”
সে গর্জায়, কারণ সেটাই তার স্বভাব।
নিজের জীবন বাঁচতেও সেই সাহসটা দরকার।
সবাই তোমাকে পছন্দ করবে না।
সবাই তোমাকে বুঝবেও না।
কেউ কেউ তোমার ভালোবাসা নেবে, কিন্তু তোমাকে নেবে না।
কেউ তোমার উপস্থিতির সুবিধা নেবে, কিন্তু তোমার অনুপস্থিতি নিয়ে ভাববেও না।
তাই চারদিকে বন্ধু খুঁজে খুঁজে হাঁপিয়ে ওঠার আগে—
নিজে নিজের বন্ধু হও।
নিজের সঙ্গে বসো।
নিজের কথা শোনো।
নিজের কষ্টে পাশে দাঁড়াও।
নিজের সাফল্যে নিজে হাততালি দাও।
কারণ একটা সময়ের পর বুঝবে—
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মানুষটা সেই, যে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
আর যেদিন নিজের দাম নিজে বুঝে যাবে,
সেদিন কে তোমাকে কতটা গুরুত্ব দিল, কে ফোন করল না, কে ফিরেও তাকাল না—এসব খুব ছোট হয়ে যাবে।
কারণ তখন তুমি আর সম্মান চাইবে না।
তোমার উপস্থিতিই বলে দেবে—
কে “আমার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করবে, সেটা আমি ঠিক করি।”