LOVER BOY

LOVER BOY Dhaka

16/12/2021

প্রশ্ন: মাস্ক পরিধান করে নামাজের বিধান সম্পর্কে অনেকে প্রশ্ন করেছেন। আগে কখনও এমন পরিস্থিতি না হলেও বর্তমানে সরকারিভাবে মাস্ক পরে নামাজ আদায়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় মুখে মাস্ক পরে নামাজ পড়লে তা কি আদায় হবে?

উত্তর: শরিয়তের বিধান হলো নামাজ পড়ার সময় নাকেমুখে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা মাকরুহ।

কেননা হাদিস শরিফে এসেছে— আবু হুরাইরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কোনো ব্যক্তিকে নামাজরত অবস্থায় তার মুখমণ্ডল ঢাকতে নিষেধ করেছেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ-১০১৯)

অপর হাদিসে এসেছে— হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাদাপানির মাঝে সিজদা করলেন। এমনকি আমি তার কপালে ও নাকে কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং-২০৩৬)

উল্লিখিত হাদিসগুলোতে নাক, মুখ ঢেকে নামাজ পড়তে নিষেধ করা হলেও অসুস্থতা ও অপারগতার বিষয়টি ভিন্ন। যেহেতু বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য মানুষকে বাধ্য হয়ে মুখে মাস্ক পরে নামাজ আদায় করতে হচ্ছে।

কারণ ইসলাম কখনই মানুষের ওপর তার সাধ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দেয় না।

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে— ‘আল্লাহ কারও ওপর সামর্থ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপিয়ে দেন না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৮৬)।

তাই এই বিপদের মুহূর্তে (রোগাক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকায়) মুখে মাস্ক পরে নামাজ আদায় করাতে শরিয়া পরিপন্থী হবে না।

প্রয়োজনে মুখমণ্ডল ও সিজদার স্থানে কাপড় রেখে নামাজ পড়ার বিষয়টি হাদিসে বর্ণিত আছে— আনাস ইবনু মালিক (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে আমরা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে নামাজ আদায় করতাম। আমাদের কেউ মাটিতে তার চেহারা (কপাল) স্থির রাখতে সক্ষম না হলে সে তার কাপড় বিছিয়ে তার ওপর সেজদা করত। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং-১২০৮)

ওলামায়েকিরাম তিন সময়ে নামাজে মুখমণ্ডল ঢেকে রাখাকে বৈধ মনে করেছেন

এক. হাসি বা হাই আসার সময়

দুই. কারও মুখে যদি এ রকম দুর্গন্ধ থাকে, যা মুসল্লিদের কষ্ট দেয় অথবা কারও মুখে যদি কোনো রোগ থাকে।

তিন. কোনো মহিলা যখন গাইরে মাহরাম পুরুষদের সামনে নামাজ পড়বে।

মাস্ক পরিধান করে নামাজ আদায়ের সময় নাক ও কপাল জমিনে ঠেকাতে হবে। যদি মাস্কের কারণে নাক ও কপাল জমিনে না ঠেকে, তা হলে নামাজ হবে না।

যেহেতু করোনাভাইরাস খালি চোখে দেখা যায় না। আমরা জানি না যে, আমরা নিজেরা আদৌ এই ভাইরাস থেকে মুক্ত আছি কিনা? কিংবা যে মানুষটির সংস্রবে আমি যাচ্ছি তিনি এই মরণঘাতী ভাইরাস থেকে মুক্ত কিনা?

তাই আমাদের উচিত সর্বদা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা। এবং এটিই ইসলামের শিক্ষা। তাই আমরা জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রেও অবশ্যই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করব।

মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে এই মরণব্যাধি থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

05/12/2021

যাবতীয় অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামা-ই ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।

অর্থ : আল্লাহ তাআলার নামে, যাঁর নামের বরকতে আকাশ ও মাটির কোনো কিছুই কোনো অনিষ্ট করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।
উপকার : ওসমান বিন আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার এই দোয়া পড়বে, আল্লাহ তাআলা তাকে সব ধরনের বিপদাপদ থেকে রক্ষা করবেন।

অন্য বর্ণনায় আছে, আল্লাহ তাআলা তাকে সব ধরনের রোগব্যাধি থেকে হেফাজত করবেন। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৩৮৮)

01/12/2021

- অজুর পর যে ব্যক্তি আকাশের দিকে তাকিয়ে কালিমা শাহাদাৎ পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে যাবে! 🌸

- সহীহ মুসলিম,৪৪১🖤

29/11/2021

আজান ও কোরআন নিয়ে বিস্ময়কর তথ্য

যুগে যুগে বিখ্যাত মনীষীগণ ইসলামের খেদমত করতে গিয়ে পবিত্র কোরআন অধ্যয়ন ও গবেষণা করে নতুন নতুন তথ্য উদ্ঘাটন করে মানুষের নিকট পৌঁছে দিয়ে ইসলামের মাহাত্ম্য ও সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন। এমনকি অমুসলিম বিজ্ঞানীরাও আজ এমন অনেক তথ্য আমাদের কাছে প্রকাশ করছেন, যা কোরআনকেন্দ্রিক গবেষণা। বিভিন্ন সোর্স থেকে নেওয়া কোরআন ও আজানের বিস্ময়কর তথ্য নিম্নে আলোচিত হলো—

আজানের অজানা পাঁচটি তথ্য: ১. আজানের ১ম শব্দ হলো ‘আল্লাহ’ এবং শেষ শব্দও হলো ‘আল্লাহ’। এর মানে আল্লাহই শুরু এবং আল্লাহই শেষ। ২. আজান শব্দটি পবিত্র কোরআনে সর্বমোট রয়েছে পাঁচ বার। আর আমারা প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি। ৩. আজানের মধ্যে সর্বমোট শব্দ হলো ৫০টি। আর আল্লাহ মিরাজের সময় হজরত মুহাম্মদ (স.)-কে সর্বপ্রথম ৫০ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ দিয়েছিলেন। পরে তা কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত করা হয়। আর সহিহ হাদিসে এসেছে একজন ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে আল্লাহ তাকে ৫০ ওয়াক্তের সাওয়াব দেবেন।

৪. আজানের মধ্যে সর্বমোট ১৭টি ভিন্ন অক্ষর রয়েছে। আর আমাদের প্রতিদিন ফরজ নামাজ হলো ১৭ রাকাত। (ফজর ২ + জোহর ৪ + আসর ৪ + মাগরিব ৩ + এশা ৪) মোট = ১৭ রাকাত। ৫. আজানের মধ্যে সবচেয়ে ব্যবহৃত শব্দ হলো ‘আল্লাহ’। আল্লাহ শব্দের ‘আলিফ’ অক্ষরটি সম্পূর্ণ আজানে আছে মোট ৪৭ বার, ‘লাম’ অক্ষরটি ৪৫ বার এবং ‘হা’ অক্ষরটি ২০ বার। সুতরাং, (৪৭ + ৪৫ + ২০) মোট = ১১২। আর পবিত্র কুরআনের ১১২ নম্বর সুরা হলো সুরা ইখলাস। যে সুরায় আল্লাহ নিজের পরিচয় দিয়েছেন।

মহাগ্রন্থ আল-কোরআনের অজানা কিছু তথ্য: শাস্তি শব্দটি আছে মোট ১১৭ বার। ক্ষমা শব্দটি আছে মোট ২৩৪ বার। (১১৭ – ২) = ২৩৪ বার। ব্যাখ্যা: এটার দ্বারা বোঝা যাচ্ছে যে, আল্লাহ শাস্তির চেয়ে দ্বিগুণ ক্ষমা করে থাকেন ইত্যাদি। আল্লাহ বললেন/তিনি বললেন শব্দটি আছে—৩৩২ বার। তারা বলল শব্দটি আছে—৩৩২ বার। (৩৩২ = ৩৩২) বার। ব্যাখ্যা: আল্লাহ যতবার বলেছেন ততবার তার উত্তর এসেছে। এদিকে নারী বা মহিলা শব্দটি আছে ২৩ বার। পুরুষ শব্দটিও আছে ২৩ (নারী = পুরুষ)। ব্যাখ্যা: এটা দ্বারা বোঝা যায় আল্লাহ তা’য়ালার নিকট নারী-পুরুষ সমান। এছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো উভয়ের যোগফল (২৩ + ২৩ = ৪৬) হয় ৪৬। আমরা জানি, একটি শিশু জন্মগ্রহণ করেন ৪৬টি ক্রোমোজোম নিয়ে, যার ২৩টি আসে পিতা থেকে আর ২৩টি আসে মাতা থেকে। কোরআন শরিফে স্থল শব্দটি এসেছে ১৩ বার। সাগর শব্দটি ৩২ বার।

27/11/2021

নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নবীজির (সা.) কর্মসূচি

২৫ নভেম্বর ছিল আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। নারীদের প্রতি নির্যাতন কখনই সুস্থ মস্তিষ্কের কাজ হতে পারে না।

ইসলাম নারীকে দিয়েছে যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান। নারীদের প্রতি উত্তম আচরণের ব্যাপারে মহানবী (সা) বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখতেন। তিনিই (সা.) পৃথিবীতে সর্বপ্রথম নারীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ইসলাম যেভাবে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন ইসলামের পূর্বে পৃথিবীর বুকে আর কোন ধর্মই এভাবে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেনি।

আর হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, হজরত হাকিম ইবনে মুয়াবিয়া (রা.) তার পিতা মুয়াবিয়া (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, হে আল্লাহর রাসুল! স্বামীর ওপর স্ত্রীর কি কি অধিকার রয়েছে?

তিনি (সা.) বললেন, তার অধিকার হল যখন তুমি খাবে তখন তাকেও খাওয়াবে, তুমি যেমানের কাপড় পরবে তাকেও সে মানের কাপড় পরাবে। তার মুখে আঘাত করবে না। অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করবে না’ (আবু দাউদ)। এই হল ইসলাম ও রাসুল করিম (সা.)-এর আদর্শ।

বর্তমানে আমরা মুসলমান এবং শ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত হওয়ার দাবি করছি ঠিকই তবে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা এবং শ্রেষ্ঠ নবীর আদর্শ আমাদের মাঝে দেখা যায় না।

ইসলাম ও বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিশ্বব্যাপী নারী সমাজের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক জীবন্ত আদর্শ স্থাপন করেছেন। মানব মন ও মানব সমাজে নারী প্রগতির গোড়াপত্তন করে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন। ইসলামে নারীর স্বাধীন মত প্রকাশের মৌলিক বাক-স্বাধীনতা আছে। নর-নারী উভয়ে আশরাফুল মাখলুকাত হিসাবে স্বীকৃত এবং কর্মফল অনুযায়ী স্বর্গ লাভের সম অধিকার প্রাপ্য।
যেভাবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ঘোষণা করছেন, ‘তিনি তোমাদের একই সত্তা হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তার জীবনসঙ্গিণীকে একই উপাদান হতে সৃষ্টি করেছেন’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১)।

অপর এক স্থানে আল্লাহতায়ালা বলছেন, ‘যে ব্যক্তি মোমেন অবস্থায় সৎকর্ম করবে সে পুরুষ হোক বা নারী সে জান্নাতে প্রবেশ করবে’ (সুরা মোমেন, আয়াত: ৪০)

ইসলামের কষ্টিপাথরে নারী পুরুষের মর্যাদা ও অধিকার তুলনামূলক বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইসলাম নারীকে শুধু পুরুষের সম-অধিকার নয় বরং কোন কোন ক্ষেত্রে পুরুষ থেকে নারীকে অধিক মর্যাদা দিয়েছে।

মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত ঘোষণা করে ইসলাম নারী জাতিকে সর্বোত্তম মর্যাদায় ভূষিত করেছে। যে মর্যাদা পুরুষকে দেয়া হয় নি। ইসলামে একজন নারী একজন পুরুষের চেয়ে তিনগুণ বেশি শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি ও মর্যাদার অধিকারী।

পারিবারিক জীবনে সংসার পরিচালনার ক্ষেত্রে নারীর ওপর পুরুষের প্রাধান্য থাকলেও সার্বিক মূল্যায়নে ইসলাম নারী জাতিকে পুরুষের অধিক মান-মর্যাদার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছেন, যা অন্য কোন ধর্ম বা জাতিতে করেনি।

আমাদের কতই না সৌভাগ্য, মহান আল্লাহপাক আমাদেরকে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি আখ্যায়ীত করেছেন, শ্রেষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও আমার দ্বারা কিভাবে অন্যায় কাজ সংঘটিত হতে পারে?

তাই আসুন না, সকল প্রকার অন্যায় থেকে নিজেকে মুক্ত রাখি। আল্লাহতায়ালা আমাদের সকলকে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষায় জীবন পরিচালনার তৌফিক দান করুন, আমিন!

27/11/2021

ভূমিকম্প থেকে বাঁচার আমল

আল্লাহতায়ালা তার বান্দাদের পরীক্ষা করার জন্য মাঝে মধ্যে তাদের বিভিন্ন বিপদ-আপদ কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখীন করেন।

এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপদ-আপদ পৃথিবীতে আল্লাহতায়ালার কুদরতের নিদর্শন। ভূমিকম্প তার এ নিদর্শনসমূহের অন্যতম।

মানুষ যখন আল্লাহপ্রদত্ত এসব শাস্তির সম্মুখীন হয়, তখন আল্লাহর কুদরতের সামনে তার অসহায়ত্ব স্মরণ করে ও মেনে নিয়ে তার কাছে বিনয়াবনত চিত্তে এসব দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার দোয়া করতে হয়।

ফুকাহায়ে কেরাম ভূমিকম্পের সময় বেশি বেশি নফল সালাত আদায় করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও আশ্রয় চাইতে বলেছেন।

রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এ দোয়া তিনবার পড়বে সে ভূমি ও আকাশের দুর্যোগ থেকে হেফাজতে থাকবে। এছাড়া যে কোনো দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেতে পড়তে পারেন-

লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জোয়ালিমিন।

অর্থ: তুমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, তুমি পবিত্র সুমহান। আমি নিশ্চয়ই জালিমদের দলভুক্ত।

এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে একবার আয়াতুল কুরসি পড়ে নিতে পারেন। এ আয়াতের ফজিলত আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। যে এ আয়াত পড়ে ঘুমাতে যায়, ঘুমন্ত অবস্থায় আল্লাহ তাকে, তার পরিবার ও প্রতিবেশীকে সব ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করেন।

25/11/2021

ইসলামে কুসংস্কারের কুফল

মানুষের তৈরি যুক্তিহীন কিছু ভ্রান্ত বিশ্বাস, কথা, কাজ ও প্রথাকে সহজ বাংলায় কুসংস্কার বলা হয়। কুসংস্কারের কারণে বেশির ভাগ মানুষের জীবন হুমকির সম্মুখীন হয়। সমাজ বা মহল্লাভিত্তিক তো কোথাও কুসংস্কারের কবলে জীবনহানির ঘটনাও ঘটে যায়। কুসংস্কার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে একপর্যায়ে শিরকের পর্যায় চলে যায়। আবার এমন কিছু বিষয়, যা সাধারণ বিবেকবিরোধী এবং রীতিমতো হাস্যকর।

আইয়ামে জাহেলিয়াত বা অজ্ঞতা, বর্বরতা ও কুসংস্কারাচ্ছন্নর যুগে সবার মধ্যে উদ্ভট কিছু ধারণার জন্ম নিয়েছিল। যেমন—সেই যুগের মানুষেরা আকাশের দিকে পাখি উড়িয়ে দিত। পাখিটি যদি ডান দিকে যেত, তাহলে তারা ভাবত, সামনে ভালো কিছু অপেক্ষা করছে আর যদি বাম দিকে উড়ে যেত, তাহলে কুলক্ষণ বলে ধারণা করত। আবার কখনো তির ছুড়ে দিত, তিরের দূরত্ব দেখে তারা ভালো-মন্দ নির্ণয় করত। যদি কখনো আকাশ মেঘে কালো হয়ে যেত তারা মনে করত তাদের সামনে দুর্ভোগ দেখা দেবে। লোক সকলের মাঝে সবচেয়ে ভ্রান্ত ধারণা ছিল সফর (আরবি মাস) মাস তাদের জন্য নিকৃষ্ট ও ভয়ংকর মাস। এ মাসে তারা বিবাহ থেকে দূরে থাকত আবার এ মাসে সন্তান জন্ম নিলে সেই সন্তানকে অমঙ্গল বলে ধারণা করতেন।

যখন রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমন হলো তখন তিনি এসব ভ্রান্ত ধারণা দেখে বললেন, ‘অশুভ বা কুলক্ষণ বলতে কিছু নেই, বরং তা শুভ বলে মনে করা ভালো। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রসুল! শুভ লক্ষণ কী? তিনি বললেন, এরূপ অর্থবোধক কথা, যা তোমাদের কেউ শুনতে পায়।’ (বুখারি শরিফ)

আমাদের সমাজে এখনো অনেক ব্যক্তি আছেন যারা কুসংস্কারে বিশ্বাসী। শহরাঞ্চলে কম দেখা দিলেও গ্রামাঞ্চলে এর মাত্রা অতিক্রম করে গিয়েছে। যেমন—বিড়াল মারলে আড়াই কেজি লবণ ‘সদকা’ করতে হয়, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় পেছন দিকে ফিরে তাকানো নিষেধ, তাতে যাত্রা ভঙ্গ হয় বা যাত্রা অশুভ হয়, শকুন ডাকলে বা প্যাঁচার ডাককেও বিপদের কারণ মনে করা ইত্যাদি।
আল্লাহ তায়ালা ইসলাম প্রচারের জন্য যুগে যুগে পয়গম্বরদের দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা একবার একসঙ্গে তিন জন পয়গম্বরকে দুনিয়ায় প্রেরণ করলেন। তারা জনসাধারণের মধ্যে দাওয়াত প্রচার শুরু করার পর মাত্র এক জনকে ইসলাম গ্রহণ করাতে পারলেন। সেই সাহাবিকে নিয়ে যখন দাওয়াত দেওয়া শুরু করলেন তখন সবাই তাদের অচেনা, ভণ্ড, কবিরাজ বলে সবার মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করলেন। একসময় যখন সেই এলাকায় এক মহামারি দেখা দিল, দায়ী হিসেবে সবার মুখে ঐ তিন জন পয়গম্বরের নাম। তারা প্রচার করতে লাগলেন অচেনা তিন জন ব্যক্তিই মহামারি নিয়ে এসেছেন। অতঃপর তাদের শারীরিক নির্যাতন এবং মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এলাকা হতে বের করে দিলেন। পয়গম্বররা আল্লাহর বাণী শোনালেও তারা বুঝে উঠতে পারেনি। তবে পয়গম্বররা একটি কথাই বারবার বলেছেন, ‘মহামারি বা আজাব কোনো ব্যক্তি বহন করে নিয়ে আসতে পারে না, স্বয়ং আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত হয়।’ আল্লাহ সুবহানাল্লাহ ওয়া তায়ালা পবিত্র কোরআনুল কারিমে বলেন, আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। সুরা: বাকারা ১৫৫

কুসংস্কার মূলত অজ্ঞতা ও অশিক্ষা থেকে সৃষ্টি হয়। যার ফলে সমাজে নানা রকম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তাই অজানাকে জানতে হবে, অচেনাকে চিনতে হবে। প্রত্যেকের উচিত প্রতিটি বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান ও পরিষ্কার ধারণা রাখা। এজন্য চাই সঠিকভাবে জ্ঞান অন্বেষণ ও বিদ্যার্জন। ইসলামে জ্ঞান অর্জনকে অত্যাবশ্যক করা হয়েছে। জ্ঞানবিজ্ঞানের দ্বার বিকশিত হলেই সমাজ থেকে কুসংস্কার দূরীভূত হবে। কোরআনে কারিমে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি জ্ঞান রাখে আর যে জ্ঞান রাখে না, তারা উভয় কি সমান হতে পারে?’ —সুরা আল যুমার ৯

24/11/2021

প্রশ্ন: পর্দার জন্য মুখ ঢাকা কী জরুরি?

উত্তর: পর্দার জন্য মুখ ঢাকা কী জরুরি বা নারীদের চেহারা সতরের অন্তর্ভুক্ত কি না এ বিষয়ে ফকিহগণের মধ্যে মতভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।

কুরআনুল কারিমে বলা হয়েছে-‘তারা যেন তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে তবে যা সাধারণত প্রকাশ হয়।’ (সূরা-২৪ নূর, আয়াত : ৩১)।

অর্থাৎ শরীরের যে অঙ্গ আপনা-আপনি প্রকাশ হয়ে পড়ে বা স্বাভাবিক কাজকর্ম ও চলাফেরা করার সময় শরীরের যে যে অঙ্গ স্বভাবত খুলেই যায় (তা সতরের অন্তর্ভুক্ত নয়), এগুলো ব্যতিক্রমের অন্তর্ভুক্ত। এগুলো প্রকাশ করায় কোনো গুনাহ নেই। (তাফসিরে ইবনে কাসির)।

এ বিষয়ে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.) বলেন : এতে বুঝানো হয়েছে শরীরের ওপরের কাপড়, যেমন : বোরকা ও লম্বা বড় ওড়নি বা চাদর ইত্যাদি।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন : এতে বুঝানো হয়েছে মুখমণ্ডল এবং হাতের পাতা ও পায়ের পাতা। কেননা নারীর প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে কিংবা চলাফেরা বা লেনদেন করতে হলে মুখমণ্ডল ও হাতের তালু আবৃত রাখা খুবই দুরূহ।

এ তাফসির মতে মুখমণ্ডল ও হাতের পাতা বেগানা পুরুষের সামনে প্রয়োজনে প্রকাশ করা জায়েজ। উপরোক্ত বিষয়ে ফিকাহবিদদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। কিন্তু এ প্রশ্নে সবাই একমত যে, মুখমণ্ডল ও হাতের পাতার প্রতি দৃষ্টিপাত করার কারণে যদি ফিতনা বা অনর্থ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে তবে এগুলো দেখাও জায়েজ নয় এবং নারীর জন্য এগুলো প্রকাশ করাও জায়েজ নয়। এ হুকুম কাম ভাব নিয়ে দেখার বিষয়ে। (তাফসিরে ইবনে কাসির)।

এমনিভাবে এ ব্যাপারে সবাই একমত যে, সতর আবৃত করা যা সর্বসম্মতভাবে নামাজে ও নামাজের বাইরে ফরজ, তা থেকে মুখমণ্ডল ও হাতের পাতা ব্যতিক্রমভুক্ত। এগুলো খোলা অবস্থায় নামাজ পড়লে নামাজ শুদ্ধ হবে। (তাফসিরে মাআরিফুল কুরআন)।

মহিলাদের চেহারা সতরের অন্তর্ভুক্ত না হলেও হিজাবের অন্তর্ভুক্ত। আল্লামা শামী (রহ.) নামাজের শর্তাবলি অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন ‘যুবতী নারীদের পুরুষের সামনে মুখমণ্ডল খোলা থেকে বিরত রাখতে হবে। এ নির্দেশ এ জন্য নয় যে, তাদের মুখমণ্ডল সতরের অন্তর্ভুক্ত। বরং ফেতনায় জড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। (শামী ২/৯৭)।

মুফতি তাকি ওসমানী হাদিস ও ফকিহগণের দীর্ঘ মতামত পর্যালোচনা করে বলেন ‘চার মাজহাবের অভিমতগুলোর ওপর দৃষ্টিপাত করলে এ কথা স্পষ্ট হয়ে যায় যে সব কয়টি মাজহাবই এ বিষয়ে একমত যে, কামবাসনা পূরণার্থে কিংবা ফেতনায় জড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কাযুক্ত অবস্থায় নারীদের মুখমণ্ডলের ওপর দৃষ্টিপাত করা হারাম।

বিশেষত বর্তমান এ চারিত্রিক অধঃপতনের যুগে এখন সর্বত্র ফেতনা ফাসাদের ছড়াছড়ি। এ জন্য হানাফি মাজহাবের মুতাআখখিরিন ওলামায়ে কেরাম সাধারণভাবে প্রয়োজন ছাড়া কোনো নারীর মুখমণ্ডলের ওপর দৃষ্টিপাত নিষিদ্ধ করেছেন। (তাকমিলায়ে ফাতহুল মূলহীম খণ্ড- ৪/ পৃষ্ঠা ২৬১)।

24/11/2021

যে দোয়ায় দিনরাত সব সময় সওয়াব মিলে

আল্লাহতায়ালার ৯৯টি গুণবাচক নামের একটি হলো– الغفار তথা অতিক্ষমাশীল; যিনি বান্দার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিতে ভালোবাসেন। আল্লাহতায়ালার কাছে ক্ষমা চাওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে কুরআনে কারিমে বহু আয়াত পাওয়া যায়।

আল্লাহতায়ালা বলেন, (হে নবী! আপনি) আমার বান্দাদের বলে দিন– নিশ্চয়ই আমি অতিক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। (সুরা হিজর: ৪৯)

অন্যত্র আল্লাহ বলেন, যারা অজ্ঞাতবশত পাপাচার করে, অতঃপর তওবা করে ও সৎকর্ম করে, তাদের প্রতি আপনার প্রভু অতিক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। (সুরা নাহল: ১১৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বহু হাদিসে ইস্তিগফারের গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যদি কেউ বেশি বেশি কাছে ক্ষমা চায়, আল্লাহতায়ালা তাকে সব প্রকার দুর্দশা থেকে মুক্তি দান করেন, হতাশা ও দুশ্চিন্তা থেকে পরিত্রাণ দান করেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। (আবু দাউদ)

অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দৈনন্দিন ২৫-২৬ বার সব মুসলিম নর-নারীর জন্য ইস্তিগফার পাঠ করবে, আল্লাহতায়ালা তাকে মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ (যার সব দোয়া কবুল হয়) বানিয়ে দেবেন।

মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ হলো এমন ব্যক্তি যিনি দোয়া করা মাত্রই আল্লাহতায়ালা তার দোয়া কবুল করে নেন।

শাদ্দাদ বিন আওস (রা.) নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার (শ্রেষ্ঠ ইস্তিগফার) হলো-

عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنوبَ إِلاَّ أَنْتَ

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আনতা রাব্বি লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খলাক্বতানি ওয়া আনা ‘আব্দুকা, ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাস্তাত্বা‘তু। আ‘উযু বিকা মিন শাররি মা সানা‘তু, আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়্যা, ওয়া আবূউ বিযাম্বী। ফাগফির লি, ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমার রব্ব, আপনি ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। আপনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আমি আপনার বান্দা। আমি আমার সাধ্য মতো আপনার (তাওহীদের) অঙ্গীকার ও (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতির ওপর রয়েছি। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আপনি আমাকে যে নেয়ামত দিয়েছেন আমি তা স্বীকার করছি এবং আমার অপরাধও স্বীকার করছি। অতএব, আপনি আমাকে মাফ করে দিন। নিশ্চয় আপনি ছাড়া পাপরাশি ক্ষমা করার কেউ নেই।

শাদ্দাদ বিন আওস (রা.) আরও বলেন, যে ব্যক্তি দিনের বেলায় বিশ্বাসের সঙ্গে এ বাক্যগুলো বলবে এবং সেদিন সন্ধ্যার আগে যদি সে মারা যায়— তাহলে সে ব্যক্তি জান্নাতের অধিবাসী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতের বেলায় এ বাক্যগুলো বলবে এবং সকাল হওয়ার আগে মারা যাবে— সে ব্যক্তি জান্নাতের অধিবাসী হবে। (বুখারি, হাদিস : ৬৩০৬)

23/11/2021

এক লোক আগুনের শিখার মধ্যে থেকে একটি সাপকে পুড়তে দেখে সেটিকে আগুন থেকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি সাপটিকে ধরতে না ধরতেই সাপটি তাকে কামড়ায় ৷

এবং এটি লোকটির যন্ত্রণাদায়ক ব্যথার কারণ হয়। লোকটি তৎক্ষণাৎ সাপটিকে ফেলে দেয় এবং সাপটি আবার জ্বলন্ত শিখায় পড়ে যায়।

এই মুহুর্তে লোকটি চারদিকে তাকাতে গিয়ে একটি ধাতব লাঠি খুঁজে পায় ৷ আগুনের শিখা থেকে সাপটিকে বাঁচাতে তিনি লাঠিটি ব্যবহার করেন ৷

আরেকজন ব্যক্তি, যিনি ঘটনাটি দেখছিলেন তিনি লোকটির কাছে এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: "এই সাপটি আপনাকে কামড়ালো! আপনি কেন তার জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন?"

লোকটি জবাব দেয়: "সাপের স্বভাব কামড়ানো, তবে এটি আমার স্বভাব পরিবর্তন করবে না, আর আমার স্বভাব হচ্ছে সাহায্য করা৷"

কারো আঘাতের কারণে আপনার স্বভাবের পরিবর্তন করবেন না। আপনার মনের পবিত্রতাকে হারাবেন না।সাবধানতার সাথে কাজ করতে শিখুন.!'❤️

এটাই আমার নবীজি (সাঃ)এর সুন্নাত ।

22/11/2021

মনের সব ইচ্ছে পূরণ হয় যে আমলে

আল্লাহতায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে অস্থির করে। যখন তাকে বিপদ স্পর্শ করে, তখন সে হয়ে পড়ে অতিমাত্রায় উৎকন্ঠিত। -(সুরা মাআরিজ আয়াত : ১৯-২০)।

তাই আল্লাহ রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতে হবে। আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের চাদর সব সময় আমাদের আবৃত করে রাখেন।

আল্লাহতায়ালা বলেন, যদি তোমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ও তার দয়া না থাকত, (তা হলে তোমরা ধ্বংস হয়ে যেতে) আর নিশ্চয়ই আল্লাহ অধিক তাওবা গ্রহণকারী, প্রজ্ঞাময়। (সুরা নুর আয়াত : ১০)

অভাব থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহতায়ালার কাছে চাইতে হবে। আর আল্লাহতায়ালা বান্দার প্রার্থনা ফিরিয়ে দেন না।

আল্লাহ বলেন, আর তোমাদের রব বলেছেন— ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব। নিশ্চয়ই যারা অহঙ্কার বশত আমার ইবাদত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে। -(সুরা গাফির আয়াত: ৬০)।

জীবনে ইচ্ছা পূরণের অনেক উপায় খুঁজে বেড়িয়েছেন। মনের আশা পূরণ করতে অনেকের কাছে গিয়েছেন।

গলায় তাবিজ ঝুলিয়েছেন। পীরের পা ধোয়া পানি খেয়েছেন। অনেক কষ্টে অনেক সাধন করেছেন। সব কিছু থেকে বিফল হয়ে নিরাশ হয়ে পড়েছেন। অথচ এটা ভাবেননি যে, মহান আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.) এ ব্যাপারে কী বলেছেন?

হাদিসে রয়েছে- একবার হজরত আনাস (রা.) রাসূল (সা.)-এর সঙ্গে বসা ছিলেন। এমন সময় এক ব্যক্তি এসে নামাজ আদায় করল এবং নিচের এ দোয়াটি পাঠ করল-

‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্না লাকাল হামদু, লা-ইলাহা ইল্লা আংতাল মান্নান, বাদিউস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্, ইয়া জালজালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া হাইয়ু ইয়া ক্বাইয়্যুম।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি। তুমিই তো সব প্রশংসার মালিক, তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তুমি দয়াশীল। তুমিই আকাশসমূহ ও পৃথিবীর একমাত্র সৃষ্টিকর্তা! হে মহান সম্রাট ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী, হে চিরঞ্জীব, হে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।’

তখন নবীজি (সা.) বললেন, এ ব্যক্তি ‘ইসমে আজম’ পড়ে দোয়া করেছে, (‘ইসমে আজম’ মহান আল্লাহর এমন নাম) যে নামে ডাকলে মহান আল্লাহ সাড়া দেন এবং যে নামে তার কাছে চাওয়া হলে তিনি সব চাওয়া পূরণ করেন। (আবু দাউদ) অর্থাৎ এই দোয়াটি হল ‘ইসমে আজম’।

দোয়াটি পাঠ করলে মহান আল্লাহ মুমিন বান্দার মনের সব ইচ্ছা পূরণ করবেন। আল্লাহতায়ালা আমাদের মনের সব ভালো ইচ্ছা পূরণ করুন। আমিন!

22/11/2021

ইসলামের দৃষ্টিতে পতাকার মর্যাদা ও ব্যবহার!!

পতাকা মানে একখণ্ড বস্ত্রবিশেষ, যা কোনো গোষ্ঠী, দল, জাতি, দেশ বা সংগঠনের, এমনকি বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রতীক তথা পরিচায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত গোষ্ঠী, দল, জাতি, দেশ বা সংগঠনের মর্যাদা ও গৌরবের প্রতীক। ইসলামের ইতিহাসেও পতাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নজির রয়েছে। পতাকার সম্মানকে সমুন্নত রাখতে ও নিজেদের গৌরবের প্রতীক পতাকাকে ভূলুণ্ঠিত হওয়া থেকে রক্ষা করতে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন সাহাবায়ে কেরামের মতো শ্রেষ্ঠ মানুষরা। আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) খুতবা দিতে গিয়ে বলেন, জায়েদ পতাকা ধারণ করেছেন এবং শাহাদাত লাভ করেছেন, অতঃপর জাফর (রা.) পতাকা ধারণ করেছেন এবং শাহাদাতবরণ করেছেন। অতঃপর আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) পতাকা ধারণ করেছেন এবং শাহাদাত লাভ করেছেন। অতঃপর খালিদ ইবনে অলিদ (রা.) মনোনয়ন ব্যতীতই পতাকা ধারণ করেছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে বিজয় দান করেছেন আর বলেন, এ আমার কাছে পছন্দনীয় নয় অথবা বর্ণনাকারী বলেন, তাদের পছন্দনীয় নয় যে তারা দুনিয়ায় আমার কাছে অবস্থান করত। বর্ণনাকারী বলেন, আর তাঁর (এ কথা বলার সময় নবীজির) চক্ষুদ্বয় থেকে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল।’ (বুখারি, হাদিস : ৩০৬৩)

পতাকার সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে সাহাবায়ে কেরামের সেদিনের আত্মত্যাগ কেমন ছিল, তা ইতিহাসের গ্রন্থগুলোতে বিস্তারিত আকারে পাওয়া যায়। মুতার প্রান্তরে মুসলিম বাহিনী পৌঁছার পর হজরত জায়েদ ইবনে হারেসা পতাকা হাতে যুদ্ধ শুরু করেন। তিনি শহীদ হলে পতাকা গ্রহণ করেন হজরত জাফর ইবনে আবু তালেব। যুদ্ধের তীব্রতা ও শত্রুর আক্রমণে তিনি এক হাত হারিয়ে ফেললে অপর হাতে পতাকা ধরে রাখেন। পরে যখন তাঁর দ্বিতীয় হাত দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তখন তিনি দুই পা দিয়ে পতাকা উঁচু করে রাখেন। শত্রুরা তাঁর পা কেটে ফেললে তিনি মুখ দিয়ে কামড় দিয়ে পতাকা সমুন্নত রাখেন। তাঁর চার হাত-পা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, তিনি নিজে মাটিতে পড়ে গেছেন; কিন্তু পতাকা মাটিতে পড়তে দেননি। শত্রুর সর্বশেষ আঘাত যখন তাঁর দেহকে দ্বিখণ্ডিত করে ফেলে তখন পরবর্তী কমান্ডার আব্দুল্লাহ পতাকা গ্রহণ করেন। একপর্যায়ে তৃতীয় কমান্ডার আব্দুল্লাহ শহীদ হয়ে যান। তখন আরেক সাহাবি হজরত সাবেত ইবনে আরকাম নিজে উদ্যোগী হয়ে পতাকা রক্ষায় এগিয়ে আসেন এবং রাসুলের পতাকা উঁচু করে রাখেন। তিনি মুসলিম বাহিনীর উদ্দেশে বলতে থাকেন, তোমরা তাড়াতাড়ি চতুর্থ কমান্ডার মনোনীত করো। উপস্থিত সাহাবিদের পরামর্শে হজরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) সেনাধ্যক্ষের দায়িত্বভার গ্রহণ করে বিরল সৌভাগ্য অর্জন করেন। আল্লাহ তাআলার রহমতে খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)-এর হাতে মুতা প্রান্তরে মুসলমানদের অবিস্মরণীয় বিজয় অর্জিত হয়। (ইবনে হিশাম : ২/৩৮০, আর-রাউযুল উনুফ : ৪/১২৬, আল-বিদায়াহ : ৪/২৪৫, আর-রাহীক্ব, তালিক্ব : ১৬৮)

পতাকার গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো অভিযানে যাওয়ার সময় সাহাবায়ে কেরাম আকাঙ্ক্ষা করতেন যে ইসলামের পতাকা ধারণের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হোক। কেননা পতাকা ধারণের জন্য আল্লাহ ও রাসুল (সা.)-এর বিশ্বস্ত ব্যক্তিদেরই নির্বাচন করা হতো। সাহাল ইবনে সাআদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি খায়বারের যুদ্ধের সময় মহানবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, আমি এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা দেব, যার হাতে বিজয় অর্জিত হবে। এরপর কাকে পতাকা দেওয়া হবে, সে জন্য সবাই আশা করতে লাগলেন। পরদিন সকালে প্রত্যেকেই এ আশায় অপেক্ষা করতে লাগলেন যে হয়তো তাকে পতাকা দেওয়া হবে। কিন্তু নবী (সা.) বলেন, আলী কোথায়? তাঁকে জানানো হলো যে তিনি চক্ষুরোগে আক্রান্ত। তখন তিনি আলীকে ডেকে আনতে বলেন। তাকে ডেকে আনা হলো। রাসুল (সা.) তাঁর মুখের লালা তাঁর উভয় চোখে লাগিয়ে দিলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি এমনভাবে সুস্থ হয়ে গেলেন যে তাঁর কোনো অসুখই ছিল না। তখন আলী (রা.) বলেন, আমি তাদের বিরুদ্ধে ততক্ষণ লড়াই চালিয়ে যাব, যতক্ষণ না তারা আমাদের মতো হয়ে যায়। নবী (সা.) বলেন, তুমি সোজা এগিয়ে যাও। তুমি তাদের প্রান্তরে উপস্থিত হলে প্রথমে তাদের ইসলামের দিকে আহবান করো এবং তাদের করণীয় সম্বন্ধে তাদের অবহিত করো। আল্লাহর কসম, যদি একটি লোকও তোমার দ্বারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়, তবে তা তোমার জন্য লাল রঙের উটের চেয়েও শ্রেয়।’ (বুখারি, হাদিস : ১৮৪৩)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, সালামা ইবনে আকওয়া (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধে আলী (রা.) আল্লাহর রাসুল (সা.) থেকে পেছনে থেকে যান, (কারণ) তাঁর চোখে অসুখ হয়েছিল। তখন তিনি বলেন, আমি কি আল্লাহর রাসুল (সা.) থেকে পিছিয়ে থাকব? অতঃপর আলী (রা.) বেরিয়ে পড়লেন এবং নবী (সা.)-এর সঙ্গে এসে মিলিত হলেন। যখন সে রাত এলো, যে রাত শেষে সকালে আলী (রা.) খায়বার জয় করেছিলেন, তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) বললেন, আগামীকাল আমি এমন এক ব্যক্তিকে পতাকা দেব কিংবা (বলেন) আগামীকাল এমন এক ব্যক্তি পতাকা গ্রহণ করবে, যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.) ভালোবাসেন। অথবা তিনি বলেছিলেন, যে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুল (সা.)-কে ভালোবাসে। আল্লাহ তাআলা তারই হাতে খায়বার বিজয় দান করবেন। হঠাৎ আমরা দেখতে পেলাম যে আলী (রা.) এসে হাজির, অথচ আমরা তাঁর আগমন আশা করিনি। তারা বলেন, এই যে আলী (রা.) চলে এসেছেন। তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) তাঁকে পতাকা প্রদান করলেন। আর আল্লাহ তাআলা তাঁরই হাতে বিজয় দিলেন। (বুখারি, হাদিস : ২৯৭৫)

AYAT - Islamic Media




ইসলামিক পোষ্ট, ইসলামিক জীবন, ঈমান, আমল, আখলাক

21/11/2021

পরীক্ষায় নকল করা কিংবা জাল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি নেওয়া মিথ্যা, খেয়ানত, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা এবং যোগ্য ব্যক্তিদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার মতো গুনাহ।
তাই পরীক্ষায় নকল করা শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে জায়েজ নয়। যারা এসব কর্মে লিপ্ত হয়, তাদের জন্য তওবা, ইশতিগফার করা আবশ্যক।

পরীক্ষায় নকল করা মারাত্মক গুনাহের কাজ৷ এটি ধোঁকাবাজি ও প্রতারণার শামিল। হাদিসে এসেছে—
আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়; আর যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেবে সেও আমাদের দলভুক্ত নয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৯৪)
ইবনে মাসউদের (রা.) হাদিসটি যা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেয়, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং ষড়যন্ত্রকারী ও প্রতারক জাহান্নামে যাবে না। এবং আবু বকর সিদ্দিক রা. থেকে বর্ণিত ‘অভিশপ্ত সে যে কোনো মুসলমানের ক্ষতি করে বা তার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে।’ তিরমিজি বর্ণনা করেছেন। (জামিউল উলুম ওয়াল হিকামি: ৯/৩৫)
এখন প্রশ্ন হচ্ছে— যদি কোনো ব্যক্তি চাকরি পাওয়ার জন্য পরীক্ষা দেয়, কিন্তু পরীক্ষায় সে কিছু জালিয়াতি করে, যেমন প্রশ্ন ফাঁস বা নকল করে, তা হলে সেই চাকরির বেতন কি হালাল হবে ?
প্রশ্নে উল্লিখিত অবস্থায় কোনো ব্যক্তি যদি প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি পেয়ে যায়, তা হলে সে গুনাহগার হবে। ফলে তার জন্য আন্তরিকভাবে তওবা করা আবশ্যক হবে। তবে ওই ব্যক্তি যদি সেই চাকরির জন্য যোগ্য হন এবং তিনি তার দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করতে পারেন, তা হলে সেই অবস্থায় বেতন গ্রহণ করা হালাল হবে। কারণ বেতন বা মজুরি কর্মের বিনিময়ে হচ্ছে।
আর যদি চাকরি না পাওয়া যায়, তবে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং দ্বীনদারির সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব আদায় করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রতারণা করে চাকরি পাওয়া জায়েজ হবে না।

দ্বিতীয় আরেকটি প্রশ্ন হচ্ছে— পরীক্ষায় নকল করে প্রাপ্ত সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে চাকরির বেতনের বিধান কি?

পরীক্ষায় নকল করা কিংবা জাল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি নেওয়া খেয়ানত, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা ও গুনাহের কাজ। যারা এসব কর্মে লিপ্ত হয়, তাদের জন্য অতিসত্বর তওবা, ইশতিগফার করা আবশ্যক।
তবে নকল করে প্রাপ্ত ডিগ্রির ভিত্তিতে চাকরি করে যে বেতন গ্রহণ করা হয় তা হালাল না হারাম হবে, সে বিষয়ে মূলনীতি হচ্ছে যে, যদি সেই ব্যক্তি তার সেই চাকরি ব্যাপারে যোগ্যতা রাখে এবং তিনি তার সব দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করতে পারে, তা হলে সেই অবস্থায় বেতন গ্রহণ করা হালাল হবে।
কেননা বেতন হালাল হওয়ার সম্পর্ক হলো দায়দায়িত্ব সঠিকভাবে আদায় করার সঙ্গে।
আর যদি এমন হয় যে সেই ব্যক্তি ওই দায়িত্ব ও চাকরির যোগ্য না হয় অথবা চাকরির যোগ্য কিন্তু সঠিকভাবে দ্বীনদারির সাথে কাজ করে না, তাহলে তার বেতন গ্রহণ করা হালাল হবে না।(অর্থাৎ যে পরিমাণ খিয়ানত হবে সে পরিমাণ বেতন হালাল হবে না।)




Ayat Islamic Media

20/11/2021

যে ব্যক্তি সদা সত্য কথা বলে, ওয়াদা পূর্ণ করে, আমানত ঠিকমতো পৌঁছে দেয়, লজ্জাস্থানের হেফাজত করে, দৃষ্টি অবনত রাখে এবং হাতকে অন্যায় থেকে বিরত রাখে তার জন্য রয়েছে জান্নাতের গ্যারান্টি।
হজরত উবাদা বিন সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমাকে ছয়টি বিষয়ের জামানত (নিশ্চয়তা) দাও; আমি তোমাদের জন্য জান্নাতের জামিন হচ্ছি (নিশ্চয়তা দিচ্ছি)।

১) যখন কথা বলবে, সত্য বলবে।
(২) কখনও ওয়াদা করলে তা পূরণ করবে।
(৩) কখনও তোমাদের কাছে আমানত রাখা হলে, তা (প্রাপকের কাছে ঠিকমতো) পৌঁছে দেবে।
(৪) লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে।
(৫) দৃষ্টি অবনত রাখবে।
(৬) হাতকে অন্যায় থেকে বিরত রাখবে।

(সূত্র: মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং-২২৭৫৭)

20/11/2021

দাম্পত্যজীবন আল্লাহর অশেষ নিয়ামত
দাম্পত্যজীবন স্বামী-স্ত্রীর জন্য আল্লাহর নিয়ামত। স্বামী ও স্ত্রী একে অন্যের সহায়ক ও পরিপূরক। আদিতে আল্লাহ তাআলা বাবা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করলেন। তাঁর একাকিত্ব দূর করার জন্য সৃজন করলেন মা হাওয়া (আ.)-কে। কোরআন করিমের বর্ণনা—‘হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা থেকে। এবং তা থেকে তার সঙ্গী সৃষ্টি করলেন। অতঃপর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারীর বিস্তার ঘটান।’ (সুরা-৪ নিসা, আয়াত: ১)

দাম্পত্য সম্পর্ক আল্লাহর সেরা দান ও তাঁর কুদরতের প্রকাশ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তিনিই মানুষ সৃষ্টি করেছেন পানি থেকে; অতঃপর তিনি তার বংশগত সম্পর্ক ও বৈবাহিক আত্মীয় সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। আপনার প্রতিপালক সর্বশক্তিমান।’ (সুরা: ২৫ ফুরকান, আয়াত: ৫৪)। ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে অন্যতম হলো, তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্য সঙ্গী জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করো এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। এতে অবশ্যই বহু নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য।’ (সুরা: ৩০ রুম, আয়াত: ২১)

স্বামী-স্ত্রী দাম্পত্যজীবনে একে অন্যের পরিপূরক এবং সুরক্ষাবেষ্টনী। আল্লাহ তাআলা কোরআন কারিমে বলেন, ‘তারা তোমাদের আবরণ এবং তোমরা তাদের আবরণ।’ (সুরা: ২ বাকারা, আয়াত: ১৮৭)। পরিবারের প্রধান ও মূল দায়িত্ব স্বামীর। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পুরুষেরা নারীদের প্রতি দায়িত্বশীল, যেহেতু আল্লাহ একের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং তারা তাদের সম্পদ হতে ব্যয়ও করে।’ (সুরা: ৪ নিসা, আয়াত: ৩৪)

20/11/2021

কারো হৃদয় ভাঙ্গার আগে শিউর হও , তোমার সাথে এমন কিছু ঘটলে তুমি নিতে পারবা কিনা । ভালবাসার ব্যাপারে শিউর না হয়ে তার সাথে দির্ঘ সময় জড়িয়ো না । যখন বুঝতে পারবে তোমার মুগ্ধতা তাকে নিয়ে কিন্তু তাকে ভালবাসো না , তখনই তার থেকে সরে আসো ।
যখন সময় গড়িয়ে যায় অনুভূতি গুলো গভীর হতে থাকে । তখন তাকে যদি ছাড়তেই হয় তবে বলব এটা অমানবিকতা ছাড়া আর কিছুই নেই। কারো তীব্র অনুভূতির সাথে খেলা করার কোন অধিকার তোমার নাই ।ভালবাসলে তার জন্য তৈরী থাকো , ভালবাসলে তার জন্য অপেক্ষা শিখো , ভালবাসলে তার দায়িত্ব নিতে শিখো , ভালবাসলে তার দুঃখ গুলোকে ভালবাসো ।

আমরা মানুষরা একদিনের জন্য ভালবাসি বলতে পারি , আসলেই একদিনে কিংবা এক মাসের অথবা দুমাসের সম্পর্ক গুলো কখনও ভালবাসা নয় এটাকে তুমি তীব্র মুগ্ধতা নাম দিতে পারো । যখন নিজের কাছে শিউর হতে না পারবে তার কাছে সরি বলা শিখো । কারন কারো ফিলিংন্স নিয়ে খেলার কোন অধিকার তোমার নেই ।একজন মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষকে ভেঙ্গে ফেলার কোন অধিকার সৃষ্টি কর্তা তোমাকে দেয়নি।~~~~~~!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

☘️☘️☘️

11/11/2021

যখন আপনি ঘুমাতে যান তখন কি প্রশান্ত মন নিয়ে ঘুমাতে যান?
জানেন তো প্রতি রাতে আপনার আত্মা আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করে? এটা হয়তো ফেরত নাও আসতে পারে। সারা দুনিয়াতে কত মানুষ ঘুমের মাঝে মৃত্যু বরণ করে। প্রতিটি রাত এক একটি ছোট মৃত্যু। এটা আসলেই এক ধরণের মৃত্যু।
আজ রাতে আপনি মারা যাবেন, আমি মারা যাবো। আমরা কি সকালে জেগে উঠবো? আল্লাহ ভালো জানেন। আজ রাতে নীরবে-নিভৃতে কিছুটা সময় আত্মসমালোচনা করুন দেখবেন আপনি সঠিক পথ খুঁজে পাবেন। আত্মসমালোচনা অর্থ আত্মবিচার। অর্থাৎ, আপনি নিজেই নিজের পর্যালোচনা করুন। জীবনের ফেলে আসা দিনগুলোতে,
• আল্লাহর কতগুলো হুকুম অমান্য করেছেন?

• আল্লাহর ফরজ ও ওয়াজিবগুলো কতটা পালন করেছেন এবং তা কতটা নিষ্ঠার সাথে করেছেন?

• ইচ্ছা ও অনিচ্ছায় কী কী বড় গুনাহ আপনি করে ফেলেছেন?

আল্লাহর গোলাম হিসেবে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় আপনি কতটুকু ভূমিকা রেখেছেন? — এগুলো ভাবুন..

• যা কিছু ভালো করেছেন তার জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করুন।
• আর যা হয়নি তার জন্য আল্লাহর ভয় মনে পয়দা করুন।
• সত্যিকার তওবা করুন। সত্যিকার তাওবা।
আত্মসমালোচনা আমাদের বিবেককে জাগিয়ে তুলবে।
আত্মসমালোচনা আত্মশুদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
মহান আল্লাহ্ তায়ালা বলেন,
"হে ঈমানদার লোকেরা, আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো এবং প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত আগামী কালের জন্য (পরকাল) সে কী প্রেরণ করেছে, তা চিন্তা করা।"
(সূরাহ হাশর, আয়াত: ১৮)

Address

Power House Road
Dhaka
3430

Telephone

+8801979186463

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when LOVER BOY posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to LOVER BOY:

Share