07/05/2026
২০১৫ সালের এক অস্থির সময়ে, কিছু তরুণ গড়ে তুলেছিল একটি অনলাইন সংগঠন। তাদের লক্ষ্য ছিল একটাই—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির পক্ষে সত্য তুলে ধরা এবং ক্ষমতাসীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা।
তখন সময়টা সহজ ছিল না।
ফেসবুকে একটি পোস্ট দিলেও মামলা, রাতের অন্ধকারে তুলে নেওয়া, কিংবা পরিবারের ওপর চাপ—সবই ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। তবুও সংগঠনটির সদস্যরা ভয়কে উপেক্ষা করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।
কিন্তু ২০১৮ সালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
চারদিকে গ্রেফতার, গুম, হামলা আর নির্যাতনের খবর। সেই সময় সংগঠনের কয়েকজন নেতা হঠাৎ করেই পদত্যাগ করেন। কেউ বললেন,
— “বিএনপি আর কোনোদিন ক্ষমতায় আসবে না।”
কেউ নিজেদের নিরাপদ রাখতে সংগঠনের সাথে সব সম্পর্ক অস্বীকার করলেন।
তারপর তারা নিজেদের কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
সংগঠনটির একজন সমন্বয়ক ছিলেন খুব আলোচিত। তাকে ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটোয়া বাহিনী গ্রেফতার করে। নির্যাতনের পর তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বিদেশে গিয়ে তিনি উল্টো সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ করার হুমকি দিতে থাকেন। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময়ে দলের হাইকমান্ড নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও লিখালিখি করেন। এমনকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ব্যঙ্গ করে “পাউন্ড তারেক রহমান” বলেও সম্বোধন করতেন।
কিন্তু গল্পের আসল শক্তি ছিল অন্য জায়গায়।
যারা থেকে গিয়েছিল, তারা ছিল নীরব যোদ্ধা।
মামলা, জেল, নির্যাতন, চাকরি হারানোর ভয়—সবকিছু সহ্য করেও তারা অনলাইনে লড়াই চালিয়ে গিয়েছিল। কেউ রাত জেগে পোস্ট করেছে, কেউ গোপনে ভিডিও বানিয়েছে, কেউ আবার নিজের পরিচয় লুকিয়ে সরকারের অপকর্ম তুলে ধরেছে।
সময় বদলাতে শুরু করল।
একদিন শেখ হাসিনার পতন হলো।
দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট পাল্টে গেল।
আর তখনই ফিরে আসতে শুরু করল সেই পুরোনো লোকগুলো।
যারা একসময় বলেছিল “এই দল আর উঠতে পারবে না”, তারাই এখন নিজেদের সবচেয়ে বড় ত্যাগী কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে লাগল।
যারা ভয় পেয়ে পালিয়ে গিয়েছিল, তারাই এখন সুযোগ-সুবিধার প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে গেল।
আর যারা অন্ধকার সময়ে লড়াই করেছিল, তারা অনেকেই রয়ে গেল নীরবে, আড়ালে।
এই গল্প শুধু একটি সংগঠনের নয়।
এটি সময়ের গল্প।
কারণ দুর্দিনে যারা পাশে থাকে, তারাই প্রকৃত সহযোদ্ধা। আর সুসময় এলে ফিরে আসা মানুষের অভাব কোনোদিনই হয় না।