09/11/2024
🔴 শয়তানের মানুষকে ধীরে ধীরে শেষ করে তার কয়েকটি প্রধান পদ্ধতি হলঃ
১! নিজেকে যথেষ্ট ভালো মানুষ বলে বিশ্বাস করানো এবং নিজের অন্যায় কাজগুলো নিজেই যুক্তি দিয়ে ন্যায় কাজ বলে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া। যেমন – আপনি ঘুষ দিয়ে ভাবছেন সেটা কোনো দোষের কিছু না, কারণ আপনি নিজে তো ঘুষ খাচ্ছেন না। আর ঘুষ না দিলে তো আপনি কাজটা অন্য কোনো ভাবে করাতে পারতেন না। তাই এই ঘুষ দেওয়াটা নিশ্চয়ই হালাল।
এভাবে আপনি ‘হালাল ঘুষ’ এর প্রচলন শুরু করেন। একইভাবে ধীরে ধীরে হালাল সুদ, হালাল লোণ, হালাল ইনস্যুরেন্স, হালাল লটারি – এরকম অনেক কিছুই হালাল হয়ে যাওয়া শুরু হয় আপনার কাছে। শয়তান যেভাবে আদমের (আঃ) সামনে নত না হওয়ার জন্য যুক্তিতর্ক দিয়ে আল্লাহকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে, সে যা করেছে সেটাই ঠিক, সেরকম আপনি যুক্তি দিয়ে আল্লাহকে বোঝানোর চেষ্টা করেন কোন হারামটা আসলে হারাম না। এভাবে আপনি শয়তানের দলের একজন হয়ে যান।
২! আরেকটি পদ্ধতি হল – ধর্মে কোন বাধ্যবাধকতা নেই – এটা বিশ্বাস করানো। আল্লাহর উপর বিশ্বাস থাকলেই হল। ধর্মীয় রীতিনীতি গুলো আসলে কিছু আনুষ্ঠানিকতা। সবার জন্য নামায, রোযা করা লাগে না। হজ্জ করতে গেলে যদি দেশে দুর্যোগ হয়, তখন পরিবারকে বাঁচাবে কে? মানুষকে যাকাত দিয়ে কি হবে? তারা তো আর যাকাত পেয়ে সচ্ছল হয়ে যাচ্ছে না। শয়তান নিজে যেমন ঠিকই আল্লাহকে বিশ্বাস করে, কিন্তু নামায, রোযা, যাকাত ইত্যাদি ধর্মীয় রীতিনীতি গুলো কিছুই মানে না, ঠিক সেভাবে সে আপনাকেও মানুষরূপী শয়তান বানিয়ে ফেলে।
৩!চাকরি, ব্যবসা, পড়ালেখা ইত্যাদি দৈনন্দিন কাজগুলোকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্বাস করানো এবং মনে করা যে – আল্লাহর সাথে আমার চুক্তি আছে, আল্লাহ আমাকে মাফ করে দিবে। যেমন – আমি একজন ডাক্তার! আমি মানুষের জীবন বাঁচাই! আমার নিশ্চয়ই পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ার দরকার নেই? আমি তো সেই সময়ে কয়েকজন রুগীর জীবন বাঁচাতে পারি। কোনটা বেশি জরুরি? নামায পড়া না মানুষের জীবন বাঁচানো? আল্লাহ নিশ্চয়ই আমাকে মাফ করে দিবে।
৪! সবসময় টাকা পয়সা, সম্পত্তি, সুখ হারানোর ভয়ের মধ্যে রাখা। যেমন, আপনার এক গরিব আত্মীয় চিকিৎসার জন্য আপনার কাছে টাকা চাইতে আসলো, কিন্তু আপনি ভাবা শুরু করলেন – এই লোকটাকে কয়েক হাজার টাকা দিলে তো আমার বাড়ি কেনার জন্য জমানো সত্তুর লাখ টাকা কমে যাবে, আমার বাড়ি কেনা পিছিয়ে যাবে! কালকে যদি আমার চাকরি চলে যায়, তাহলে তো আর আমার বাড়ি কেনা হবে না? যদি এক মাস পরে বাড়ির দাম হঠাৎ করে বেড়ে যায়?
৫! নিজেকে দিয়ে অন্যায় করাতে না পারলে, কাছের মানুষদেরকে দিয়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে অন্যায় করানো। যেমন, আপনি বহুদিন চেষ্টার পর আজকে শেষ পর্যন্ত কু’রআন নিয়ে বসেছেন পড়ার জন্য, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার স্বামী বা স্ত্রী এসে আপনাকে টিভিতে একটা অনুষ্ঠান দেখার জন্য তাগাদা দেওয়া শুরু করলো। অথবা আপনি অনেক আয়োজন করে বসেছেন একটা ইসলামিক আর্টিকেল পড়বেন, কিন্তু পড়া শুরু করতে না করতেই বন্ধুর ফোন – দোস্ত, চল্ কালকে ‘ইয়ে’ করতে যাই। শুরু হল আধা ঘণ্টা ফোনে কথা, তারপর রাতের খাওয়া, টিভি এবং ঘুম। আপনার আর সেদিন আর্টিকেল পড়া হল না। তার পর কয়েক সপ্তাহ পার হয়ে গেল, আপনি ভুলে গেলেন সেই আর্টিকেলের কথা।
৬! উপরের প্রত্যেকটা পদ্ধতি পড়ার সময় আপনার আশেপাশের কারও না কারও কথা মনে হচ্ছিল এবং আপনি মনে মনে ভাবছিলেন – তাইতো! এগুলো সবই দেখি ওর সাথে মিলে যায়! আপনার ভেতরে এই যে চিন্তাটা হচ্ছে, যেখানে আপনি মনে করছেন আপনার এই সমস্যাগুলোর কোনোটাই নেই, এগুলো সবই হচ্ছে আপনার আশেপাশের মানুষদের সমস্যা – এটা শয়তান আপনার ভেতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। সে সবদিক থেকে চেষ্টা করবে যেন আপনি কখনও মনে না করেন এই আর্টিকেলে যতগুলো সমস্যা আপনি শিখবেন, তার কোনটা আপনার ভেতরেও আছে।
শয়তানের মানুষকে বোকা বানানোর এই পদ্ধতিগুলো শয়তান হাজার হাজার বছর ধরে সফলভাবে ব্যবহার করে আসছে।
পৃথিবীতে বিলিয়ন মানুষকে সে প্রতিনিয়ত বোকা বানিয়ে যাচ্ছে। আপনি যদি তার সহযোগী হয়ে তার মহাপরিকল্পনা সফল করতে বিনা পারিশ্রমিকে তার হয়ে কাজ করতে না চান, তাহলে আসুন আমরা ভালো করে বোঝার চেষ্টা করি কিভাবে শয়তান কাজ করে।
[সংগৃহীত]