Kitab ghor

Kitab ghor We are here to deliver you the books with cheapest price ensuring the best quality. Guaranteed faster delivery.

08/03/2025

আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পিতা আব্দুল্লাহ একদিন মক্কার বাজারে গিয়েছিলেন কিছু কেনাকাটা করার জন্য। এক জায়গায় তিনি দেখলেন একজন লোক কিছু দাসদাসী নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে বিক্রি করছে। আব্দুল্লাহ দেখলেন সেখানে দাঁড়িয়ে আছে একটা ছোট নয় বছরের কালো আফ্রিকান আবিসিনিয়ার মেয়ে। মেয়েটাকে দেখে আব্দুল্লাহর অনেক মায়া হলো, একটু রুগ্ন হালকা-পাতলা কিন্তু কেমন মায়াবী ও অসহায় দৃষ্টি দিয়ে তাঁকিয়ে আছে। তিনি ভাবলেন ঘরে আমেনা একা থাকেন, মেয়েটা পাশে থাকলে তার একজন সঙ্গী হবে, এই ভেবে তিনি মেয়েটাকে কিনে নিলেন।

মেয়েটিকে আব্দুল্লাহ ও আমেনা অনেক ভালোবাসতেন, স্নেহ করতেন এবং তাঁরা লক্ষ্য করলেন যে, তাঁদের সংসারে আগের চেয়েও বেশি রহমত ও বরকত চলে এসেছে। এই কারণে আব্দুল্লাহ ও আমেনা মেয়েটিকে আদর করে নাম দিলেন 'বারাকাহ'।

এই গল্প বারাকার গল্প।
একদিন আব্দুল্লাহ ব্যবসার কারণে সিরিয়া রওয়ানা দিলেন। আমেনার সাথে সেটাই ছিল উনার শেষ বিদায়।
উনার যাত্রার দু'এক দিন পর আমেনা একরাতে স্বপ্নে দেখলেন আকাশের একটা তারা যেন খুব আলো করে তাঁর কোলে এসে পড়লো। পরদিন ভোরে তিনি বারাকাকে এই স্বপ্নের কথা বললেন। উত্তরে বারাকা মৃদু হেসে বললেন, "আমার মন বলছে আপনার একটা সুন্দর সন্তানের জন্ম হবে"।

আমেনা তখনও জানতেন না তিনি গর্ভধারণ করেছেন কিন্তু কিছুদিন পর তিনি বুঝতে পারলেন বারাকার ধারণাই সত্য।

আব্দুল্লাহ আর ফিরে আসেননি, সিরিয়ার পথেই মৃত্যুবরণ করেছেন! আমেনার সেই বিরহ ও কষ্টের সময়ে বারাকা ছিলেন একমাত্র সবচেয়ে কাছের সঙ্গী।
একসময় আমেনার অপেক্ষার শেষ হয় এবং তিনি জন্ম দিলেন আমাদের প্রিয় নবীকে।

শেখ ওমর সুলাইমানের বর্ণনা অনুযায়ী, সর্বপ্রথম আমাদের নবীকে দেখার ও স্পর্শ করার সৌভাগ্য হয়েছিল যে মানুষটির সে হলো এই আফ্রিকান ক্রিতদাসী ছোট কালো মেয়েটি। আমাদের নবীকে নিজ হাতে আমেনার কোলে তুলে দিয়েছিলেন, আনন্দে ও খুশিতে বলেছিলেন, "আমি কল্পনায় ভেবেছিলাম সে হবে চাঁদের মত কিন্তু এখন দেখছি, সে যে চাঁদের চেয়েও সুন্দর"।

এই সেই বারাকা। নবীজির জন্মের সময় উনার বয়স ছিল তেরো বছর। ছোটবেলায় শিশু নবীকে আমেনার সাথে যত্ন নিয়েছেন, গোসল দিয়েছেন, খাওয়াতে সাহায্য করেছেন এবং আদর করে ঘুম পাড়িয়েছেন। মৃত্যুর সময় আমেনা বারাকার হাত ধরে অনুরোধ করেছিলেন তিনি যেন তাঁর সন্তানকে দেখে শুনে রাখেন। বারাকা তাই করেছিলেন। বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে ইয়াতিম নবী চলে আসলেন দাদা আবদুল মোত্তালিবের ঘরে। উত্তরাধিকার সূত্রে নবী হলেন বারাকার নতুন মনিব। কিন্তু তিনি একদিন বারাকাকে মুক্ত করে দিলেন, বললেন, "আপনি যেখানে ইচ্ছে চলে যেতে পারেন, আপনি স্বাধীন ও মুক্ত।" সেই শিশুকাল থেকেই নবী এই ক্রীতদাস প্রথাকে দূর করতে চেয়েছিলেন। বারাকা নবীকে ছেড়ে যেতে রাজি হলেন না, রয়ে গেলেন। মায়ের ছায়া হয়ে পাশে থেকে গেলেন। এমনকি নবীজির দাদা উনাকে বিয়ে দেয়ার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তিনি কিছুতেই রাজি হলেন না। উনার একই কথা, "আমি আমেনাকে কথা দিয়েছি, আমি কোথাও যাবো না।"

তারপর একদিন খাদিজা (রাঃ) এর সাথে নবীজির বিয়ে হলো। বিয়ের দিন রাসূল (সাঃ) খাদিজা (রাঃ) এর সাথে বারাকাকে পরিচয় করিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, "উনি হলেন আমার মায়ের পর আরেক মা।" বিয়ের পর রাসূল (সাঃ) একদিন বারাকাকে ডেকে বললেন, "উম্মি, আমাকে দেখাশোনা করার জন্য এখন খাদিজা আছেন, আপনাকে এখন বিয়ে করতেই হবে" (নবীজি উনাকে উম্মি ডাকতেন, নাম ধরে ডাকতেন না)। তারপর রাসূল (সাঃ) ও খাদিজা মিলে উনাকে উবাইদ ইবনে জায়েদের সাথে বিয়ে দিয়ে দিলেন। কিছুদিন পর বারাকার নিজের একটা ছেলে হলো, নাম আইমান। এরপর থেকে বারাকার নতুন নাম হয়ে গেলো "উম্মে আইমান" একদিন বারাকার স্বামী উবাইদ মৃত্যু বরণ করেন, নবীজি গিয়ে আইমান ও বারাকাকে সাথে করে নিজের বাড়ি নিয়ে আসেন এবং সেখানেই থাকতে দিলেন।

কিছুদিন যাওয়ার পর নবীজি একদিন বেশ কয়েকজন সাহাবীকে ডেকে বললেন, "আমি একজন নারীকে জানি, যার কোন সম্পদ নেই, বয়স্ক এবং সাথে একটা ইয়াতিম সন্তান আছে কিন্তু তিনি জান্নাতি, তোমাদের মধ্যে কেউ কি একজন জান্নাতি নারীকে বিয়ে করতে চাও?" এইকথা শোনে জায়েদ ইবনে হারিসা (রাঃ) নবীজির কাছে এসে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। নবীজি উম্মে আইমানের সাথে কথা বলে বিয়ের আয়োজন করলেন।
বিয়ের দিন রাসূল (সাঃ) জায়েদকে বুকে জড়িয়ে আনন্দে ও ভালোবাসায়, ভেজা চোখে, কান্না জড়িত কণ্ঠে বললেন, "তুমি কাকে বিয়ে করেছো, জানো জায়েদ?"

-হ্যাঁ, উম্মে আইমানকে, জায়েদের উত্তর। নবীজি বললেন, "না, তুমি বিয়ে করেছো, আমার মা কে"।
সাহাবীরা বলতেন, রাসূল (সাঃ) কে খাওয়া নিয়ে কখনো জোর করা যেত না। উনি সেটা পছন্দ করতেন না। কিন্তু উম্মে আইমান একমাত্র নারী, যিনি রাসূল (সাঃ) কে খাবার দিয়ে "খাও".." খাও".. বলে তাড়া দিতেন, আর খাওয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাশে বসে থাকতেন। নবীজি মৃদু হেসে, চুপ চাপ খেয়ে নিতেন।
রাসূল (সাঃ) উনার দুধ মাতা হালিমাকে দেখলে যেমন করে নিজের গায়ের চাদর খুলে বিছিয়ে তার উপর হালিমাকে বসতে দিতেন ঠিক তেমনি মদিনায় হিজরতের পর দীর্ঘ যাত্রা শেষে উম্মে আইমান যখন ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন নবীজি উনার গায়ের চাদরের একটা অংশ পানিতে ভিজিয়ে, উম্মে আইমানের মুখের ঘাম ও ধুলোবালি নিজ হাতে মুছে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, "উম্মি, জান্নাতে আপনার এইরকম কোন কষ্ট হবে না"।

নবীজি মৃত্যুর আগে সাহাবীদের অনেক কিছুই বলে গিয়েছিলেন। সেইসব কথার মধ্যে একটা ছিল, উম্মে আইমানের কথা। বলেছেন, "তোমরা উম্মে আইমানের যত্ন নিবে, তিনি আমার মায়ের মতো। তিনিই একমাত্র নারী, যিনি আমাকে জন্ম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখেছেন, আমার পরিবারের একমাত্র সদস্য, যিনি সারাজীবন আমার পাশে ছিলেন।"

সাহাবীরা সেই কথা রেখেছিলেন। গায়ের রং নয়, একসময়ের কোন ক্রিতদাসী নয়, তাঁর পরিচয় তিনি নবীর আরেক মা। মায়ের মতোই তাঁরা এই বৃদ্ধা নারীকে ভালোবেসে আগলে রেখেছিলেন।

সূত্র: ইবনে হিশাম ও শেখ ওমর সুলাইমান। "Woman who cared forever."
&সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া, আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া।

02/03/2025

অনেকেই এক ফোটা পানি গিলে ফেলাকে খুব ভয় পায়,
রোজা নষ্ট হয়ে যাবে বলে।
অথচ অন্যের হক গিলে ফেলায় তাদের কোনো ভয় নেই!

30/11/2024

যে মানুষটা আসেপাশের সবার কথা চিন্তা করে, দিন শেষে সেই মানুষটাই তাদের অনেক কথা/অপমান হজম করে হাসি মুখে।

24/11/2024

কে লিখেছেন জানিনা, কিন্তু #অসাধারণ👌

১. মা ৯ মাস বহন করেন, বাবা ২৫ বছর ধরে বহন করেন,
উভয়ই সমান, তবুও কেন #বাবা পিছিয়ে আছেন তা জানেন
না।
২। মা বিনা বেতনে সংসার চালায়, বাবা তার সমস্ত বেতন
সংসারের জন্য ব্যয় করেন, উভয়ের প্রচেষ্টাই সমান, তবুও
কেন বাবা পিছিয়ে আছেন তা জানেন না।

৩. মা আপনার যা ইচ্ছা তাই রান্না করেন, বাবা আপনি যা চান
তা কিনে দেন, তাদের উভয়ের ভালবাসা সমান, তবে মায়ের
ভালবাসা উচ্চতর হিসাবে দেখানো হয়েছে। জানিনা কেন
বাবা পিছিয়ে।
৪. ফোনে কথা বললে প্রথমে মায়ের সাথে কথা বলতে চান,
কষ্ট পেলে ‘মা’ বলে কাঁদেন। আপনার প্রয়োজন হলেই
আপনি বাবাকে মনে রাখবেন, কিন্তু বাবার কি কখনও
খারাপ লাগেনি যে আপনি তাকে অন্য সময় মনে করেন না?
ছেলেমেয়েদের কাছ থেকে ভালবাসা পাওয়ার ক্ষেত্রে,
প্রজন্মের জন্য, বাবা কেন পিছিয়ে আছে জানি না।

৫. আলমারি ভরে যাবে রঙিন শাড়ি আর বাচ্চাদের অনেক
জামা-কাপড় দিয়ে কিন্তু বাবার জামা খুব কম, নিজের
প্রয়োজনের তোয়াক্কা করেন না, তারপরও জানেন না কেন
বাবা পিছিয়ে আছেন।
৬. মায়ের অনেক সোনার অলঙ্কার আছে, কিন্তু বাবার একটাই
আংটি আছে যেটা তার বিয়ের সময় দেওয়া হয়েছিল।
তবুও মা কম গহনা নিয়ে অভিযোগ করতে পারেন আর
বাবা করেন না। তারপরও জানি না কেন বাবা পিছিয়ে।

৭. বাবা সারাজীবন কঠোর পরিশ্রম করেন পরিবারের যত্ন
নেওয়ার জন্য, কিন্তু যখন স্বীকৃতি পাওয়ার কথা আসে,
কেন বাবা পিছিয়ে থাকেন।

৮. মা বলে, আমাদের এই মাসে কলেজের টিউশন দিতে হবে,
দয়া করে আমার জন্য উৎসবের জন্য একটি শাড়ি কিনবে
অথচ বাবা নতুন জামাকাপড়ের কথাও ভাবেননি। দুজনেরই
ভালোবাসা সমান, তবুও কেন বাবা পিছিয়ে।
৯. বাবা-মা যখন বুড়ো হয়ে যায়, তখন বাচ্চারা বলে, মা ঘরের
কাজ দেখাশোনা করার জন্য অন্তত উপকারী, কিন্তু তারা
বলে, বাবা অকেজো।

বাবা পিছনে কারণ তিনি পরিবারের মেরুদণ্ড। আর আমাদের
মেরুদণ্ড তো আমাদের শরীরের পিছনে। অথচ তার কারণেই
আমরা নিজেদের মতো করে দাঁড়াতে পারছি। সম্ভবত, এই
কারণেই তিনি পিছিয়ে আছেন...!!!!

*জানিনা কে লিখেছে, কুড়িয়ে পাওয়া। সমস্ত বাবাদের-কে উৎসর্গ করছি * স্যালুট জানাই পৃথিবীর সকল বাবাকে।

সংগ্রহিত।

27/10/2024

Car accident near airport

27/10/2024

আমিও এভাবে বলতাম।জানতামই না এটা শিরক! জানার আছে এখনো কত বাকি!

| প্রশ্নঃ বাকিটা আল্লাহর হাতে বলা যাবে কি? আমাদের মধ্যে অনেকেই কোনো একটা বিষয়ে অনিশ্চিত হলে, আমরা বলে থাকি বাকিটা আল্লাহর হাতে। এখন এই কথার মধ্যে কি শিরক মিশ্রিত আছে?

উত্তরঃজ্বি, এ কথাটি বলা যাবে না। বাকিটা আল্লাহর হাতে না, সবটাই আল্লাহর হাতে। আপনার হাতে কোনো কিছুই নাই। অনেক সময় মানুষ বলে বাকিটা আল্লাহর হাতে। এটা জায়েজ নেই।
এটা শিরক মিশ্রিত কথা। কোনোটাই আপনার হাতে নেই। অনেকে এভাবে বলে থাকে যে, আমি এটা করলাম বাকিটা আল্লাহ করবেন। বাকিটা নয়, আপনি যেটা করেছেন এটাও আল্লাহর রহমতে করেছেন।
বলতে হবে সবসময় আমি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করেছি, তাওয়াক্কুলতু আলাল্লাহ্। যতটুকু আল্লাহ তৌফিক দিয়েছেন ততটুকু করেছি বাকিটুকুর জন্য আল্লাহর উপর নির্ভর করছি।
সুতরাং বাকিটা আল্লাহর হাতে এটা বলা যাবে না। এটা শিরক মিশ্রিত কথা।

(copy)

✅শাইখ ডক্টর আবু বকর মুহাম্মদ জাকারিয়া হাফিযাহুল্লাহ

16/10/2024

#তাহাজ্জুদ
তাহাজ্জুদের সময়ে করা দোয়া এমন একটি তীরের মতন যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় না
আলহামদুলিল্লাহ

02/10/2024

পূজার জন্য বৃষ্টি হচ্ছে বা হবে এই মন্তব্য করা শির্ক.

30/09/2024

আপনার দোয়া কবুল হচ্ছে না ??
বেশি বেশি ইস্তেগফার করুন
অনেকের দোয়া কবুল হয়েছে
আলহামদুলিল্লাহ.

29/09/2024

কোন সূরা নাযিলের সময় শয়তান কেঁদে
ছিলো? উত্তর জানান কমেন্ট এ।

29/09/2024

এরই নাম কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন (লোকমান আ. এর গল্প)

কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন, হৃদয় গলে সিরিজের শিক্ষণীয় গল্প। গল্পটি হযরত লোকমান আ. এর জীবনের ছোট্ট একটি ঘটনা থেকে নেওয়া যাতে আছে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের দারুন এক উপদেশ বানী।

হযরত লোকমান (আঃ) এর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের গল্প!
পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে হযরত লোকমান (আঃ)-এর আলোচনা এসেছে। তিনি ছিলেন মহাজ্ঞানী ও পন্ডিত ব্যক্তি। কেউ কেউ তাঁকে নবীও বলেছেন। নিম্নে তারই জীবন থেকে নেওয়া ছোট্ট একটি শিক্ষণীয় ঘটনা মুসলিম ভাই-বোনদের উপহার দিচ্ছি।

একটি ফলের বাগান। অনেক বড়। কয়েক একর জমিন নিয়ে এর বিস্তৃতি। বাগানের মালিক বেশ পয়সাওয়ালা। বাগানে আসার তেমন একটা সুযোগ হয় না তাঁর। মালিকের কিছু কর্মচারী আছে, মালী আছে। তারাই বাগান দেখাশুনা করে। পানি দেয়। পরিচর্যা করে। আগাছা কেটে পরিস্কার রাখে। ফল গাছের ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে হরেক রকমের শাক সবজি।

বাগানের মালীদের মধ্যে হযরত লোকমান (আঃ) ছিলেন অন্যতম। অন্যান্য মালীরা তাঁকে মানত, শ্রদ্ধা করত। প্রয়োজনে পরামর্শ নিত। বাগানের ক্ষতি হয় এ ধরণের কাজ থেকে সবাই বিরত থাকত।

বহুদিন যাবত মালিক বাগানে আসেন না। আসার প্রয়োজনও বোধ করেন না। কারণ মালীদের উপর তাঁর প্রচন্ড আস্থা ছিল। ছিল অগাধ বিশ্বাস। তিনি মনে করতেন, কখনো তারা বাগানের অনিষ্ট সাধন করবে না। উপরন্তু আমাকে ঠকানোর মতো জঘন্য মনোবৃত্তিও তাদের নেই। তারা সর্বান্তকরণে আমার ও বাগানের কল্যাণই কামনা করে।

একদিন হঠাৎ মালিকের মনে চাইল বাগানটি ঘুরে দেখার। তিনি বাগানে আসলেন। দেখলেন, মালিদের সর্দার লোকমান (আ.) বাগানেই আছেন। ফলের ভারে গাছের শাখাগুল নুয়ে আছে। বাগানের সর্বত্র পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। কোথাও কোন ময়লা আবর্জনা নেই। মালীদের নিপুণ হস্তের ছোঁয়ায় গোটা বাগান একটি দর্শনীয় বস্তুতে পরিণত হয়েছে। এ অভাবনীয় চমৎকার দৃশ্য মালিককে খুবই মুগ্ধ করে।

কিছুক্ষণ বাগানে হাঁটা হাঁটির পর মালিক একখানা গাছের ছায়ায় বসে পড়লেন। তাঁর মাথার উপর তখন তাজা ফল ঝুলছে। আর খানিক দূরে রয়েছে কাকড়ী নামক মজাদার সবজি। বড়ই অপরূপ সে দৃশ্য!

মালিক কতক্ষণ বিশ্রাম নিলেন। তারপর হযরত লোকমান (আ.) কে ডেকে বললেন, হাঁটতে হাঁটতে বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, আমাকে একটি কাকড়ি খাওয়াও। (কাকড়ি হল এক প্রকার সুস্বাদু সবজি যা দেখতে অনেকটা শসার মতোই তবে একটু চিকন ও বেশ লম্বা) হযরত লোকমান (আ.) দ্রুত নির্দেশ পালন করলেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে একখানা কাকড়ি এনে মালিকের হাতে দিলেন।

আজ মালিকের মনে নিজের বাগানের কাকড়ি নিজেই কেটে খাওয়ার সাধ জাগল। তাই মালীদের কাউকে তা কাটতে দিলেন না। নিজেই কেটে টুকরো টুকরো করে সর্বপ্রথম এক টুকরো কাকড়ি লোকমান (আ.) কে খেতে দিলেন।

হযরত লোকমান (আ.) কাকড়ির টুকরোটি সানন্দে গ্রহণ করলেন এবং মুখে দিয়ে সশব্দে মজা করে খেতে লাগলেন। মালিক তাঁর খাওয়া দেখে ভাবলেন, হয়তো এ কাকড়িটি বেশ মিষ্টি ও মজাদার হবে। তাই তিনিও দেরি না করে এক টুকরো মুখে দিলেন।

কাকড়ির টুকরো মুখে দেওয়ার সাথে সাথে মালিকের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। তাঁর সুন্দর দীপ্ত মুখমন্ডল ছেয়ে গেল কালো অন্ধকারে। কারণ এ কাকড়িটি ছিল বড়ই তিক্ত ও স্বাদহীন।

মালিক অবাক হলেন। অস্ফুট স্বরে বললেন, লোকমানের খাওয়া দেখে বুঝা গেল, কাকড়িটি বেশ মজাদার হবে। কিন্তু আমার নিকট তো খুবই তিক্ত লাগল।

লোকমান (আ.) মালিকের মনোভাব বুঝতে পারলেন। বললেন, হুজুর! কি হয়েছে? কোন অসুবিধা হচ্ছে না তো?

: অসুবিধা হচ্ছে না মানে? আমার তো পেটের নাড়ি ভুঁড়ি বের হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

: কেন? কি হয়েছে আপনার?

: লোকমান! জীবনে আমি অনেক সবজি খেয়েছি। কিন্তু এমন তিক্ত ও বিস্বাদ সবজি কখনোই বোধ হয় খাই নি। অথচ তোমাকে দেখেছি, সেই সবজিরই এক অংশ বেশ মজা করে খেয়েছ। ঘটনা কি বুঝলাম না। তবে কি একই জিনিসে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ! নাহ! তাও তো হতে পারে না। আসল ব্যাপারটা খুলে বল তো।

: হুজুর! ব্যাপার মূলতঃ কিছুই নয়। একই সবজিতে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদ কেন আসবে? আসলে আপনার টুকরোটি যেমন তিক্ত ছিল আমার টুকরোটি তাই ছিল।

: তবে কেন তুমি বললে না যে, এটা ভীষণ তেতো।

: জনাব! আমি বলতাম। বলার জন্য তৈরিও হয়েছিলাম। কিন্তু পরক্ষণেই ভাবলাম, যে খোদার পক্ষ থেকে জীবনে হাজারো মিষ্টি ও সুস্বাদু জিনিস লাভ করেছি, সেই খোদার পক্ষ থেকে যদি গোটা জীবনে দু’একবার তিক্ত বস্তু পাই তবে সে ব্যাপারে অভিযোগ করা কি শোভনীয় হবে?

সম্মানিত পাঠক-পাঠিকা! হযরত লোকমান (আ.) এর এই জ্ঞানগর্ভ জবাবে আমাদের জন্য বিরাট শিক্ষা রয়েছে। শুধু এই একটি কথার উপর যদি মানুষ আমল করতে পারত, তবে গোটা দুনিয়ার অশান্তির তীব্রতা অনেকটাই কমে যেত। পরিবার, দেশ তথা সমগ্র বিশ্ব জুড়ে প্রবাহিত হত শান্তির ফল্পুধারা।

যেমন, দাম্পত্য জীবনে স্ত্রী যদি মনে করে যে আমার ভরণ পোষণের জন্য স্বামী কত কষ্ট স্বীকার করেন, আমার কত মান অভিমান সহ্য করেন তিনি। সুতরাং মাঝে মধ্যে একটু আধটু কঠোর ব্যবহার করলে তেমন কি আসে যায়? তেমনি যদি স্বামীও ভাবে যে, স্ত্রী আমার কত সেবা করে, আমার জন্য রান্না করে, আমার কাপড় চোপড় ধুয়ে দেয়, বিপদে আপদে সান্ত্বনা প্রদান করেন করে, সুতরাং দু’একবার যদি সে আমার মন বিরোধী কোন কথা বলেও ফেলে, তাতে এমন কি আসে যায়?

অনুরূপভাবে কোন প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা যদি মালিকের পক্ষ থেকে দুচারটি শক্ত কথার সম্মুখীন হয়, আর তারা মনে করে যে, মালিক তো সব সময় আমাদের আদর করেন, খোঁজ খবর নেন, বিপদে-মুসিবতে সাহায্য সহযোগিতা করেন, তবেই তো মালিকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে না। এমনিভাবে মালিকও যদি মনে করে যে, এসব কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই তো আমি আজ বড়লোক, আমার আজ গাড়ি-বাড়ি হয়েছে, জায়গা জমিন হয়েছে। সুতরাং মাঝে মধ্যে দু একজন কর্মচারী যদি একটু উল্টাপাল্টা করে ফেলে কিংবা কোন জিনিস অসতর্কতার দরুন নষ্ট করে ফেলে তবে এমন কি আসে যায়? তারা আমার বড় মুহসেন-বড় উপকারী। সুতরাং তাদের সামান্য অসদাচরণ যদি বরদাশ করতে না পারি, তবে আমি কিসের কৃতজ্ঞ হলাম!

মুহতারাম পাঠক! আসুন, হযরত লোকমান (আ.) এর এ ছোট্ট মূল্যবান কথাটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি এবং তা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করি। হে আল্লাহ! তুমি তাওফীক দাও। আমীন। গল্পের সূত্র : পছন্দীদাহ ওয়াকিয়াত।

লেখক : মাওলানা মুহাম্মদ মুফীজুল ইসলাম। হৃদয়স্পর্শী শিক্ষণীয় কাহিনী (হৃদয় গলে সিরিজ ১২) বই থেকে।

Address

Road 19, Nikunjo 2
Dhaka
1229

Telephone

+8801558985234

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Kitab ghor posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share