19/08/2026
৪৫ দিনের টার্গেট ছিল, কিন্তু আল্লাহ ১৫ দিনেই আমার দোয়া কবুল করে নিলেন!
সেদিন রাতেও ঘুম আসছিল না। জীবনের একটা বিষয় নিয়ে অনেকদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কাউকে বলতেও ভালো লাগছিল না। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিলাম—৪৫ দিন নিয়মিত ইস্তিগফার করব এবং আল্লাহর কাছে নিজের মনের কথাটা চাইব।
প্রথম দিন থেকেই একটা নিয়ম করে নিলাম। ফজরের পর কিছুক্ষণ বসে ইস্তিগফার করতাম, তারপর বলতাম—
হে আল্লাহ, আমি জানি না আমার জন্য কোনটা ভালো। আপনি জানেন। যদি আমার এই চাওয়ার মধ্যে কল্যাণ থাকে, তাহলে সহজ করে দিন। আর যদি কল্যাণ না থাকে, তাহলে আমার মনকে আপনার সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট করে দিন।
দিন যেতে লাগল।
৫ দিন... ৭ দিন... ৯ দিন...
আমি ৪৫ দিনের হিসাব করছিলাম। কিন্তু ১৫তম দিনে এমন একটি ফোন পেলাম, যার অপেক্ষায় আমি এতদিন ছিলাম।
কিছুক্ষণ চুপ করে ফোনটা হাতে নিয়ে বসে ছিলাম। চোখ দিয়ে পানি চলে এলো।
মনে হলো, আমি তো ৪৫ দিনের জন্য আমল শুরু করেছিলাম, অথচ আল্লাহ ১৫ দিনেই আমার জন্য দরজা খুলে দিলেন।
সেদিন একটা জিনিস বুঝেছিলাম
আল্লাহর কাছে দোয়া করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না। আর দোয়া কবুলের জন্য নিজের বানানো কোনো সংখ্যা বা সময়সীমাকেও শর্ত বানানো উচিত নয়। ৪৫ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই আমার চাওয়া পূরণ হয়েছিল—কিন্তু আসল শিক্ষা ছিল অন্য জায়গায়।
আমি বুঝলাম, আমল কোনো চুক্তি নয় যে এতদিন পড়লে এতদিনের মধ্যে ফল পেতেই হবে। আমল হলো আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার একটি মাধ্যম।
তাই আপনি কোনো দোয়া নিয়ে অপেক্ষায় থাকলে হতাশ হবেন না। ইস্তিগফার করুন, নামাজ পড়ুন, দোয়া করুন এবং ফলাফলের ব্যাপারটা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিন।
হয়তো আপনার দোয়ার উত্তর আসতে সময় লাগবে। আবার হয়তো আপনি ভাবার চেয়েও আগে আল্লাহ কোনো দরজা খুলে দেবেন।
কারণ আমরা শুধু চাইতে জানি, কিন্তু আল্লাহ জানেন—কখন, কীভাবে এবং কোনটা আমাদের জন্য সবচেয়ে ভালো।
আল্লাহ আমাদের নেক দোয়াগুলো কবুল করুন এবং তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর সন্তুষ্ট থাকার তাওফিক দিন। আমিন। #বিরুভাই1992