14/02/2026
২৫ বছর বয়সে ইউপি চেয়ারম্যান থেকে জাতীয় সংসদে—আব্দুল আজিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার নতুন অধ্যায়
মাত্র ২৫ বছর বয়সে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেছিলেন বিএনপি নেতা আব্দুল আজিজ। এরপর টানা চারবার ইউপি চেয়ারম্যান, একবার উপজেলা চেয়ারম্যান এবং নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এবার জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে বিজয়মাল্য গলায় তুলেছেন তিনি। স্থানীয়দের কাছে তার এই উত্তরণ আস্থা ও জনসমর্থনের ধারাবাহিকতার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৯৮৬ সালে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আব্দুল আজিজ। প্রথমবার দায়িত্ব পাওয়ার পর টানা চার দফা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে প্রায় দুই দশক ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, জনসেবা কার্যক্রম এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা রেখে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি।
পরবর্তীতে ২০১৪ সালে বিপুল ভোটে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা আরও বিস্তৃত হয়। বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর—দুই উপজেলাতেই দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে তার প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
২০১৮ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও পদত্যাগপত্র গৃহীত না হওয়ার কারণে তার মনোনয়ন বাতিল হয়। তবে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সরে না গিয়ে তিনি পুনরায় মাঠে নামেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগ থেকেই গণসংযোগ, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে থাকেন।
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-৪ (বড়াইগ্রাম-গুরুদাসপুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি বেসরকারিভাবে ৩৫ হাজার ৬৫৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। দুই উপজেলায় মোট ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৫১ ভোট পান তিনি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল হাকিম পান ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৮৬ ভোট।
বিজয়ের পর আব্দুল আজিজ বলেন, এই বিজয় গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামের জনগণের। এটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, “এটি একটি বড় দায়িত্ব। এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ যেভাবে পাশে ছিলেন, আগামী দিনেও সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, ইনশাআল্লাহ।”
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, নানা বাধা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব থেকে জাতীয় সংসদে তার এই যাত্রা এখন স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।