06/09/2026
TV news
৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ঢাকা
ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো স্মরণকালের অন্যতম বৃহত্তম পীর মাশায়েখ সম্মেলন।
এতে পাকিস্তান, ভারত, ইরানসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন প্রসিদ্ধ দরবার ও খানকা শরীফের প্রায় ৩ হাজার পীর মাশায়েখ ও প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শনিবার ঢাকা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত হয় পীর-মাশায়েখদের এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। এর আয়োজক ছিলেন দেওয়ানবাগ শরীফের পরিচালক ও সমন্বয়ক ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হুজুর।
অনুষ্ঠান থেকে সুফি তরিকার অনুসারীদের মধ্যে ঐক্য জোরদার, হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা ও ভালোবাসা সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সুফিবাদ ও ঈদে মিলাদুন্নবী নিয়ে বিদ্বেষ ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সুফিপন্থীদের সংহতির ওপর জোর দিয়ে ইমাম কুদরত এ খোদা হুজুর বলেন, একটি দরবার কোনো সমস্যায় পড়লে অন্য দরবারের অনুসারীদেরও তাদের পাশে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, “পীর-মাশায়েখরা আছেন বলেই আজও বাংলার জমিনে রাসুল (সা.)-এর মহব্বত জাগ্রত আছে।”
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) নিয়ে একশ্রেণির মানুষের বিরোধিতা ও অপপ্রচারের সমালোচনা করে কুদরত এ খোদা বলেন, হযরত মোহাম্মদ (সা.)-কে ভালোবাসার জন্য আশেকে রাসুলদের কোনো দলিলের প্রয়োজন নেই। তিনি দেওয়ানবাগ শরীফ নিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন অভিযোগেরও জবাব দেন এবং সরাসরি এসে এই দরবারের কার্যক্রম দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "দেওয়ানবাগ শরীফে শরিয়তের বাইরে কোন কার্যক্রম চলে না।"
ইমাম কুদরত এ খোদা বলেন, পীর-মাশায়েখ ও তরিকাপন্থীদের এই সম্মেলনের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। “তরিকাপন্থীরা একত্রিত হয়েছে হযরত মোহাম্মদ (সা.)-কে ভালোবেসে।"
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ইমাম কুদরত এ খোদা হুজুর উপমহাদেশের সুফিদের মধ্যে ঐক্যের ক্ষেত্র তৈরি করছেন।
ইরানের আল-মুস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম শাহাবুদ্দিন মাশায়েখী ইরানের সুফিদের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
ভারত থেকে আজমীর শরীফের সৈয়দ সালাউদ্দিন চিশতি, হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়া দরগাহের সৈয়দ আনিস নিজামী ও সৈয়দ ফাইজ নিজামী এবং পাকিস্তান থেকে দরগাহে হযরত বাবা গানসকল মাসুদের দিওয়ান আহমেদ মাসুদ, দরগাহে হযরত শাহ জাফর আলির পীর সৈয়দ আমীর হোসেনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া বাংলাদেশের মাইজভান্ডার, সুরেশ্বর, শেরে বাংলা, সাইফিয়া, মোহাম্মদীয়া, হাক্কানি, চিশতিয়া পাক পাঞ্জাতন, পরদেশি, সুফি আস্তানা, দয়াময়, নুরে মদীনা, চিশতিয়া নিজামিয়া, করন নগর, মাওলা ভরসা, ছতুরা, ভুলুয়া হায়দারি, কুতুবদিয়া পাক দরবার শরীফ সহ বিভিন্ন প্রসিদ্ধ দরবারের পীর-মাশায়েখগণ বক্তব্য রাখেন।