08/06/2026
মেয়েটার নাম (সাদিয়া) আসল নাম (হালিমা )ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে থাকে। বাবা-মা, বড় ভাই-বোন-কারও সাথেই তার সম্পর্ক নেই, কেউ তাকে নিজের পরিচয়ও দেয় না। সে একটি পার্লারে কাজ করে এবং ডিভোর্সি। তার দুইটা সন্তান আছে! একজন ক্লাস টু-তে পড়ে, আরেকজন ক্লাস ফোরে।
আমার হাসব্যান্ড (রাকিব) এর আগেও এই মেয়েটিকে নিয়ে কক্সবাজার গিয়েছিল, সিলেটও গিয়েছিল। কিন্তু শেষবার যখন সে কক্সবাজার যায়, তখন আমাকে সব জায়গা থেকে ব্লক করে দেয়। হঠাৎ করেই আমার সাথে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।
তারপর আমি ওর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করি। ওদের কাছ থেকেই জানতে পারি যে সে গ্রামে নেই। তখন আমার সন্দেহ আরও গভীর হয়। আমি টেকনিক্যালি ওই মেয়েটার নাম্বার বের করি। আমার মনে হচ্ছিল তারা একসাথেই আছে। তাই দুজনের নাম্বার দিয়েই লোকেশন ট্রেস করাই। এক্স্যাক্ট লোকেশন না এলেও দুজনের নাম্বারেই একই জায়গা দেখাচ্ছিল—কক্সবাজারের কলাতলী।
সেই মুহূর্তে আর নিজেকে থামাতে পারিনি। ওই রাতেই আমি আমার এক বান্ধবীকে নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দিই।
কক্সবাজার পৌঁছানোর পর আমি একটা রেস্টুরেন্টে যাই—সেই একই রেস্টুরেন্ট, যেখানে সে একসময় আমার সাথে ঘুরতে এসে বসে খেয়েছিল। আমি শুধু স্বাভাবিকভাবেই সেখানে খেতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ভাগ্যের কী অদ্ভুত পরিহাস—সেখানেই দূর থেকে তাদের দুজনকে একসাথে দেখতে পাই।
তারপর তাদের অনুসরণ করে আমি হোটেল কল্লোলের কাসুন্দি রেস্টুরেন্টে যাই, যেখানে লাইভ মিউজিক হয়। সেখানে গিয়ে দেখি তারা দুজন ম্যাসাজ নিচ্ছে। সেই মুহূর্তে আমি তাদের হাতে-নাতে ধরে ফেলি।
আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের দৃশ্যগুলোর একটা ছিল সেটা। কারণ শুধু আমার হাসব্যান্ডের পরকীয়া নয়, তার চেয়েও বেশি আমাকে ভেঙে দিয়েছিল মানুষের আচরণ।
হোটেল কল্লোলের ম্যানেজমেন্ট শুরু থেকেই চাইছিল না কোনো সিনক্রিয়েট হোক। তারা আমাকে বাধা দিচ্ছিল। তাদের কথাগুলো আমার হৃদয়ে আরও আঘাত করছিল। তারা আমাকে বোঝাতে শুরু করে—“আপনি আপনার হাসব্যান্ডের গায়ে হাত তুলতে পারেন না। সে পরকীয়া করতেই পারে।” এমনকি একজন বলেছিল, “আমারও ওয়াইফ আছে, ওয়াইফ থাকার পরও গার্লফ্রেন্ড আছে। আমি দুজনকেই সমানভাবে ট্রিট করি। আগে দেখেন আপনার হাসব্যান্ড আপনাকে দেখভাল করছে কিনা। যদি আপনাকে দেখভাল করে, পাশাপাশি অন্য মেয়েকেও ভালোবেসে ফেলে, সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।”
আমি সেই কথাগুলোর সাথে একমত না। কারণ আমার কাছে পরকীয়া কোনো ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নাম না—এটা বিশ্বাস ভাঙার নাম, দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার নাম, একজন স্ত্রীর সম্মান আর অনুভূতিকে অস্বীকার করার নাম।
আমি তো একজন স্ত্রী হিসেবে তার কাছ থেকে ন্যূনতম দায়িত্বও পাইনি। সে আমার কোনো খোঁজখবর নেয়নি, আমার ভরণপোষণের টাকা-পয়সা দেয়নি, আমার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিল। অথচ সেই মানুষটাই অন্য মেয়েকে নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে, ফুর্তি করেছে।
হোটেল ম্যানেজমেন্ট আমাকে সমর্থন না করে উল্টো আমার হাসব্যান্ড আর ওই মেয়েটিকেই সমর্থন করছিল। শেষ পর্যন্ত নিজেদের রেপুটেশন খারাপ হবে ভেবে তারা আমাদের বাইরে বের করে দেয়।
বাইরে আসার পর আমার হাসব্যান্ড পালানোর চেষ্টা করে। তখন হাতাহাতি শুরু হয়। সে আমার গায়ে হাত তোলে। আমার চশমা ভেঙ্গে ফেলে যাতে।সেই দৃশ্য দেখে আশেপাশের মানুষও তাকে মারধর করে। ৯৯৯- এও কল করা হয়।
সেদিন আমি শুধু একজন হাসবেন্ড পরকীয়া দেখিনি। আমি দেখেছি কীভাবে একজন স্ত্রীকে চুপ করিয়ে দিতে মানুষ কত সহজে ভুলকে স্বাভাবিক বলে প্রমাণ করতে চায়। কিন্তু আমার কষ্ট, আমার প্রশ্ন, আমার অপমান—এসব কি সত্যিই এতটাই মূল্যহীন ছিল? ছবি ও ভিডিও: সংগৃহীত