28/10/2025
"একজন গোলাম মোস্তফা"
গোলাম মুস্তাফা "জন্ম ২ মার্চ ১৯৩৪ সালে। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান ২০ ফেব্রুয়ারি ২০০৩ সালে"। ছিলেন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় অভিনেতা ও বিশিষ্ট আবৃত্তিকার। ১৯৬০ সালে ‘রাজধানীর বুকে’ ছবিতে জমিদারের ভূমিকায় প্রথম অভিনয় করেন। মূলত প্রথম ছবি থেকেই তিনি খলনায়ক চরিত্রের একক ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এছাড়া তিনি অনেক ছবিতে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন। গোলাম মুস্তাফা প্রায় তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
গোলাম মুস্তাফা ২ মার্চ ১৯৩৪ সালে বরিশালের দপদপিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ছিলেন সাব-রেজিস্ট্রার। স্কুলজীবন শুরু হয় পিরোজপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। ম্যাট্রিক পাস করেন খুলনা জিলা স্কুল থেকে। স্কুল-কলেজ জীবনে নাটকে অভিনয় করা তার শখ ছিল। ঢাকায় আসেন পঞ্চাশের দশকের মধ্য সময়ে। সেই থেকে তিনি ঢাকায় স্থায়ী হয়ে গেলেন।
গোলাম মুস্তাফা বাংলা ও উর্দু মিলে প্রায় তিনশত চলচ্চিত্রে নায়ক, পার্শ্ব-নায়ক, খলনায়কসহ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় 'আলিবাবার চল্লিশ চোর', 'রাজধানীর বুকে', 'নিজেকে হারায়ে খুজি', ‘চান্দা’ 'রক্তাক্ত বাংলা', 'রূপালী সৈকতে', 'সীমানা পেরিয়ে', 'তিতাস একটি নদীর নাম', 'সূর্যসংগ্রাম', 'পদ্মা নদীর মাঝি', 'এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী', 'শুভদা', 'শ্রাবণ মেঘের দিন', 'ধীরে বহে মেঘনা', 'চন্দ্রনাথ', 'দেবদাস' ইত্যাদি।
গোলাম মুস্তাফা অনেক বিজ্ঞাপনচিত্রেও অভিনয় করেন। তার অভিনয় জীবনে খলনায়ক হিসেবেই বেশি সফল হয়েছিলেন। ১৯৬১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘হারানো দিন’ ছবিতে মদ্যপ জমিদারের ভূমিকায় তার অভিনয় সে সময় জনপ্রিয়তা লাভ করে। ১৯৪৫ সালে বরিশাল অশ্বিনী কুমার টাউন হল মঞ্চে বি.ডি হাবিবুল্লাহ রচিত পল্লীমঙ্গল নাটকে তিনি প্রথম অভিনয় করেন। এটাই তার অভিনীত প্রথম মঞ্চ নাটক। পরিণত বয়েসে ষাটের দশকের শুরুতে গোলাম মুস্তাফা নাট্যাভিনয় শুরু করেন। সিনেমা ও নাটক উভয় ক্ষেত্রেই তিনি পারদর্শিতা প্রদর্শন করেন। গোলাম মুস্তাফা ঢাকা টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকে নাটকে অভিনয় শুরু করেন। প্রথমদিকে ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি নাটকে নায়ক চরিত্রে ছিলেন। তিনি তার সহ কর্মী বেতারের অভিনেত্রী হোসনে আরার প্রেমে পড়ে যান।১৯৫৮ সালে হোসনে আরার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার বড় মেয়ে ক্যামেলিয়া মুস্তাফা একজন আবৃত্তিশিল্পী এবং তার ছোট মেয়ে সুবর্ণা মুস্তাফা বাংলাদেশের একজন অভিনেত্রী। প্রাক্তন জামাই হুমায়ুন ফরীদিও ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা। আমি এই কিংবদন্তী অভিনেতাকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।