18/07/2026
আমাদের চারপাশে এমন কত মানুষ ঘুরে বেড়ায়, যারা বাইরে অসম্ভব শক্ত কিন্তু ভেতরে প্রতিনিয়ত এক একটা যুদ্ধ হেরে যায়। ডেমরা পুলিশ লাইনের তরুণ কনস্টেবল সাইদুল ইসলামও ছিলেন তেমনই একজন ‘যোদ্ধা’। স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের যন্ত্রণা সইতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া এই তরুণ মৃত্যুর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ফেসবুকে লিখে গেছেন এক নির্মম বাস্তবতার কথা।
যারা মনে কষ্ট চেপে রেখে রোজ সকালে হাসিমুখে বর্ম পরে বাইরে বের হন, সাইদুলের এই কথাগুলো যেন তাদেরই ভেতরের লুকানো হাহাকার:
"মন-হৃদয়টা আর বাজে না, পুরোপুরি শেষ, একদম নিঃশব্দ একটা কবরখানা। ভেতরে আর কোনো শব্দ নেই... তবু আমি অভিনয় করি প্রতিদিন। সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখে পানি মুছে ঠোঁটে হাসির রং লাগাই, বন্ধুদের আড্ডায় সবচেয়ে জোরে হাসি, স্ট্যাটাসে লিখি 'নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত', সবাইকে দেখাই আমি কত স্ট্রং।
কেউ বোঝে না এই স্ট্রংনেসটা আসলে একটা ইউনিফর্ম, যুদ্ধের ময়দানে পরে থাকা মিথ্যে বর্ম! বাইরে মেডেল ঝোলে, আর ভেতরে রক্ত ঝরে...। অনেক চেয়েছি শক্ত হতে, নিজেকে বুঝিয়েছি 'যা গেছে তা গেছে', নতুন করে শুরু করেছি একশো বার। কিন্তু মন তো কাগজ না যে চাইলেই নতুন পাতা পাওয়া যায়! এটা মাংসের টুকরো, যেখানে নামটা খোদাই হয়ে আছে— যতই ঘষি, দাগটা থেকে যায়।
তাই আমি আবার সকালে উঠি, আবার স্ট্রং সাজি, আবার মানুষকে দেখাই আমার কিছু হয়নি; আর রাতে আবার হেরে যাই স্মৃতির কাছে, নিজের কাছে, নিজের মিথ্যের কাছে। যদি কোনোদিন সত্যি স্ট্রং হতে পারি, সেদিন তোমাকে চিঠি লিখবো না, শুধু নিজেকে বলবো 'যুদ্ধটা শেষ পর্যন্ত জিতেছি'। কিন্তু আজ? আজও আমি হেরে যাচ্ছি, দিনশেষে তোমার স্মৃতির কাছে।"
দিনের আলোয় যিনি দেশের সুরক্ষায় ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন করতেন, রাতের অন্ধকারে নিজের সেই ‘মিথ্যে বর্ম’ খুলে আবেগের কাছে হেরে গেলেন। এই সমাজ শুধু বাইরের হাসিটাই দেখে, পেছনের ইউনিফর্ম বা মেডেলটাই গোনে; কিন্তু সেই বর্মের নিচে রোজ রাতে একটা মানুষের মন কীভাবে তিলে তিলে কবরখানা হয়ে যায়, তা কেউ দেখে না।