Saad Ismail

Saad Ismail Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Saad Ismail, Digital creator, Dhaka.

27/01/2025

প্রসঙ্গ আমীরে মুয়াবিয়া রাঃ ইতিহাসের ইতিহাস!
-আবূ মুয়াবিয়া লুৎফুর রহমান ফরায়েজী

আশারায়ে মুবাশশরা এর পর শ্রেষ্ঠ সাহাবাগণের একজন হলেন আমীরুল মু’মিনীন হযরত মুয়াবিয়া রাঃ। হযরত আলী রাঃ এবং হযরত হাসান রাঃ এর সাথে সন্ধিচুক্তির পর তার খিলাফতের জমানায় ইসলামের উন্নতি সমৃদ্ধি সবচে’ বেশি হয়েছে। সাম্রাজ্যের পর সাম্রাজ্য মুসলমানদের পদানত হয়।

হযরত উসমান রাঃ এর শাহাদতের পর থেকে নিয়ে হযরত হাসান রাঃ এর সাথে সন্ধি পর্যন্ত ইসলামের যে বিজয় যাত্রা থমকে ছিল, তা মুয়াবিয়া রাঃ এর জমানায় নব উদ্যমে আবার শুরু হয়। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে পরে ইসলামের বিজয় নিশান। তিউনিশিয়ার কায়রাওয়ান থেকে উজবেকিস্তানের বুখারা পর্যন্ত এবং ইয়ামান ও ইথিউপিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল ইসলামী হুকুমাত। হেযাজ, শাম, মিশর, ইরাক, জাযীরাতুল আরব, আরমানিয়া, পারস্য, খুরাসান এবং আমু দরিয়ার উপারের রাজ্যগুলো ছিল ইসলামী সালতানাতের অধীন। [দুয়ালুল ইসলাম, ইমাম যাহাবীকৃত, ৬০ হিজরী পরিচ্ছেদ-১/২৮]

মুয়াবিয়া রাঃ এর সময়কালে অসংখ্য জল ও স্থলভাগের বিজয় অর্জিত হয়। তার শাসনামলেই পৃথিবীর প্রান্ত পর্যন্ত ইসলামের বিজয় পতাকা উড্ডীন হয়।

মুয়াবিয়া রাঃ এর নেতৃত্বে সাহাবায়ে কেরাম রাঃ এবং তাবেয়ীগণের উত্তম আখলাক ও চরিত্র মাধুরিমা ইসলামের বিস্তৃতি এবং স্থায়িত্বের জন্য অনেক অবদান রাখে।

খিলাফতে রাশেদার জমানার পর আমীরে মুয়াবিয়া রাঃ এর শাসনামলই ছিল ইসলামের ইতিহাসের সর্বোত্তম সময়। এ সময়ই পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়ে। ‘সমস্ত দ্বীনের উপর ইসলামকে বিজয়ী করার’ কুরআনী নির্দেশের বাস্তব ফসল প্রতিফলিত হয় এ স্বর্ণালী যুগেই।

মুয়াবিয়া রাঃ এবং উমাইয়াদের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ কেন?

হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এর মৃত্যুর পর একের পর উমাইয়া বংশের শাসক আসতে থাকে। অবশেষে ১৩২ হিজরী মুতাবিক ৭৪৯ ঈসাব্দে বনু আব্বাসের আবুল আব্বাস সাফফাহ নামক একজন ব্যক্তি বনু উমাইয়ার শাসনব্যবস্থা খতম করে আব্বাসী খিলাফতের গোড়াপত্তন করেন।

একথা বলাই বাহুল্য যে, বনু আব্বাসীরা বনু উমাইয়াদের শক্তি সামর্থকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। বংশীয় গোঁড়ামী হেতু বনু আব্বাসীয়রা বনু উমাইয়াদের কঠোর বিরোধী ছিল। যেমন পরবর্তী শাসকের পূর্ববর্তী শাসকদের সাধারণতঃ বিরোধী হয়ে থাকে।
বিশেষ করে যখন আগের কোন শাসনব্যবস্থা ধ্বংস করে নতুন শাসনব্যবস্থা চালু হয়, তখন স্বাভাবিকভাবে পূর্ববর্তী শাসকের ভাল কাজগুলোকেও খারাপভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। উত্তম কাজগুলোকে মন্দ করে দেবার প্রচেষ্টা করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সকল ধরণের অভিযোগ-অপবাদ আরোপ করা হয়। সেই সাথে পূর্ববর্তী শাসকদের চরিত্র-আখলাক নিয়ে সত্যমিথ্যা সংবাদ ছড়ানো হয়। যার ফলে পূর্ববর্তী শাসকের প্রতি মানুষের মনে ঘৃণা জন্মায়। আর বর্তমান শাসকের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়। পুরো দুনিয়াব্যাপী রাজনৈতিক রাষ্ট্রগুগলোর শাসকগণ যার প্রকিষ্ঠ প্রমাণ। যা দিবালোকের ন্যায় সকলের কাছেই পরিস্কার।
নির্মম বাস্তবতা

আগের শাসকের প্রতি বর্তমান শাসকের বিরূপ ভাবাপন্ন হবার এ স্বাভাবিক ও বাস্তবতাই প্রতিফলিত হয়েছে বনু আব্বাসীয়দের শাসনামলে।

আব্বাসী খিলাফত শুরু হয়েছিল হিজরী দ্বিতীয় শতকে। আর সেই সময়কালেই সাধারণতঃ ইতিহাস সংকলন শুরু হয়েছে।
আর ইতিহাসবীদগণও উপরোক্ত মানসিকতার দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন স্বাভাবিকভাবেই। এ কারণে পূর্ববর্তীদের ইতিকথাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে, মুয়াবিয়া রাঃ এর সময়কালের উত্তম কাজগুলোও খারাপ করে দেয়া হয়। তার কীর্তিমান কর্মকাণ্ডগুলোও কলংকযুক্ত করা হয়। তার ইসলামী এবং সামাজিক পদক্ষেপগুলোকে মন্দভাবে পেশ করা হয়। তার সময়কালের শ্রেষ্ঠ ও ঐতিহাসিক কাজগুলোকে ধামাচাপা দিয়ে এর মাঝে দোষ ও দূর্বলতা খোঁজে বের করা হয়।
শুধু তাই নয়, হযরত মুয়াবিয়া রাঃ এর উত্তম ও শ্রেষ্ঠ কাজগুলোকে এমনভাবে পাল্টিয়ে দেয়া হয় যে, তার আখলাক চরিত্র সম্পর্কে জনমনে বিতৃষ্ণা সৃষ্টি হয়।

এমন সব ঘটনাবলী দিয়ে ইতিহাস ভরপুর করা হয়, যা দেখে হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রাঃ এর উপর অভিযোগের পাহাড় দাঁড় করানো যায়।

কতিপয় ইতিহাস রচয়িতা তার জমানার শাসকের সন্তুষ্টিলাভের আশায় তাদের পা চাটার পথকে বেছে নেন। শাসকের দৃষ্টিতে ভাল হয়ে পুরস্কার লাভের নিমিত্বে ইতিহাস রচনায় উপরোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করে তারা রুটি রুজির ব্যবস্থা করে নেয়।

যেহেতু আব্বাসী খিলাফতের সময়কালে সাধারণতঃ ইতিহাস রচনা শুরু হয়। আর আব্বাসী শাসকেরা ভয়ানকভাবে উমাইয়া শাসকদের বিরোধী ছিল। তাই এ সময়কার ইতিহাস রচয়িতারা শাসককে খুশি করতে হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রাঃ এর অপবাদ ও অভিযোগের রসদ সরবরাহ করে। যার দ্বারা তারা শাসকদের সন্তুষ্টি ও পুরস্কার অর্জন করে দুনিয়া কামাই করে।

এর উল্টো সত্য ইতিহাস লিখে শাসকের রোষানলে পতিত হবার মত সৎসাহস অনেকেই প্রদর্শন করতে পারেননি।

বনু আব্বাসীয়রা ক্ষমতা দখলের পর কি পরিমাণ বর্বরতা ও হিংস্রতা প্রদর্শন করেছিল। যার বিপরীতে তাদের বিরুদ্ধে কলম ধরা ও উমাইয়া শাসকদের প্রশংসনীয় কাজগুলো ইতিহাস হিসেবে উপস্থাপন করা একজন লেখকের জন্য কতটা কঠিন ছিল তা দু’ একটি ঘটনা দেখলেই আমরা আন্দাজ করতে পারবো।



وَذَكَرَ فِي تَرْجَمَةِ مُحَمَّدِ بْنِ سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ النَّوْفَلِيِّ قَالَ: كُنْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلِيٍّ أَوَّلَ مَا دخل دمشق، دخلها بالسيف، وأباح القتل فيها ثلاث ساعات، وجعل جامعها سبعين يوماً إسطبلاً لِدَوَابِّهِ وَجِمَالِهِ، ثُمَّ نَبَشَ قُبُورَ بَنِي أُمَيَّةَ فَلْمْ يَجِدْ فِي قَبْرِ مُعَاوِيَةَ إِلَّا خَيْطًا أَسْوَدَ مِثْلَ الْهَبَاءِ، وَنَبَشَ قَبْرَ عَبْدِ الْمَلِكِ بن مروان فوجد جمجمة، وكان يجد في القبر العضو بعد العضو، إلا هِشَامِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ فَإِنَّهُ وَجَدَهُ صَحِيحًا لَمْ يَبْلَ مِنْهُ غَيْرُ أَرْنَبَةِ أَنْفِهِ، فَضَرَبَهُ بِالسِّيَاطِ وَهُوَ مَيِّتٌ وَصَلَبَهُ أَيَّامًا ثُمَّ أَحْرَقَهُ ودقَّ رماده ثم ذره فِي الرِّيحِ،

ইবনে আসাকীর মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন আব্দুল্লাহ নওফিলের জীবনীগ্রন্থে লিখেছেন যে, তিনি বলেছেন ‘আব্দুল্লাহ বিন আলী (আবুল আব্বাস এর সেনাপতি) প্রথম যখন দামেস্কে প্রবেশ করেন তখন আমি তাঁর সাথে ছিলাম। তিনি তরবারী হাতে সেখানে প্রবেশ করেন এবং তিন ঘন্টার জন্যে খুন-খারাবী ও গণহত্যা বৈধ করে দেন। সেখানকার জামে’ মসজিদ ৭০ দিন যাবত তাঁর উট-ঘোড়া ও অন্যান্য চতুষ্পদ জন্তুর আস্তাবল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এরপর তিনি উমাইয়াদের কবরগুলো খনন করেন। মুয়াবিয়া রাঃ এর কবরে একটি কালো সূতা ব্যতীত কিছুই পাননি। আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের কবর খনন করা হয়। সেখানে একটি মাথার খোল পাওয়া যায়। কোন কোন কবরে এক বা একাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পাওয়া যায়। তবে হিশাম বিন আব্দুল মালিকের লাশ পাওয়া যায় সম্পূর্ণ অক্ষত। নাকের অগ্রভাগ ছাড়া তাঁর শরীরের অন্য কোন স্থানে কোন দাগ কিংবা জীর্ণতার চিহ্নও পড়েনি। সেনাপতি আব্দুল্লাহ মৃত হিশামের লাশ পেয়ে ওই মৃত লাশকে চাবুক দিয়ে পিটিয়েছে। কয়েকদিন সেটিকে শূলিতে চড়িয়ে রাখে। তারপর আগুনে পুড়িয়ে ছাইগুলো বাতাসে উড়িয়ে দেয়। [আলবিদায়া ওয়াননিহায়া-১০/৪৯, ১০/৪৫, ইফাবা-১০/৯৩]

শুধু তাই নয়, আরো কী করেছে?

قَالَ: ثُمَّ تَتَبَّعَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَلِيٍّ بَنِي أُمَيَّةَ مِنْ أَوْلَادِ الْخُلَفَاءِ وَغَيْرِهِمْ، فَقَتَلَ مِنْهُمْ فِي يَوْمٍ واحد اثنين وتسعين ألفاً عِنْدَ نَهْرٍ بِالرَّمْلَةِ، وَبَسَطَ عَلَيْهِمُ الْأَنْطَاعَ وَمَدَّ عليهم سماطاً فأكل وهم يختلجون تحته،

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আব্দুল্লাহ উমাইয়া বংশের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সন্তান-সন্ততিদের তথা পরবর্তী প্রজন্মের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। সে তাদেরকে খুঁজে খুঁজে বের করে এবং হত্যা করতে থাকে। একদিনে সে রামাল্লা নদীর তীরে তাদের ৯২ হাজার লোককে হত্যা করে। তাদের মৃত ও অর্ধমৃত দেহের উপর সে ন্যাকড়া বিছিয়ে দেয়। তার উপর পশমী দস্তরখান রেখে সে অনায়াসে খাওয়া দাওয়া করে। নীচে আহত, ক্ষত-বিক্ষত দেহগুলো কাতরাচ্ছিল, গড়াগড়ি খাচ্ছিল। [আলবিদায়া ওয়াননিহায়া-১০/৪৯, ১০/৪৫, ইফাবা-১০/৯৩]

এই ছিল বনু আব্বাসীয়দের অবস্থা। বনু উমাইয়াদের প্রতি ছিল তাদের ভয়ানক বিদ্বেষ এবং প্রতিশোধপরায়ণতা। যারাই উমাইয়াদের আত্মীয় ছিল বা তাদের পছন্দ করতো তাদের খুঁজে খুঁজে বের করে হত্যা করা হতো। শুধু হত্যা নয় চালানো হতো বর্বরতম নির্যাতনও।

এমন সময়ে কোন লেখক উমাইয়া শাসক মুয়াবিয়া রাঃ এর কীর্তিগাঁথা লিখবে, তার সাফল্য তুলে ধরে সত্য ইতিহাস উপস্থাপন করার সাহস দেখানো কি সম্ভব ছিল?

শুধু তাই নয়!



আব্বাসী খলীফা মামুনুর রশীদ বিষয়ে ইমাম যাহাবী রহঃ লিখেছেনঃ

سنة أحدى عشرة ومئتين
فيها أظهر المأمون التشيع وأمر بأن يقال خير الخلق بعد النبى صلى الله عليه وسلم على رضى الله عنه، وأمر بالنداء أن برئت الذمة ممن ذكر معاوية بخير (دول الاسلام-১/১৮৩)

২১১ হিজরীতে আব্বাসী খলীফা বাদশা মামুনুর রশীদ শিয়া হবার কথা প্রকাশ করেন। সেই সাথে সরকারীভাবে ঘোষণা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর সর্বোত্তম ব্যক্তি হলেন হযরত আলী রাঃ। এই ঘোষণাও দেন যে, যে ব্যক্তি মুয়াবিয়া রাঃ এর ব্যাপারে ভাল কথা বলবে, তার ব্যাপারে রাষ্ট্রের কোন যিম্মাদারী নেই। [দুয়ালুল ইসলাম, ইমাম যাহাবীকৃত-১/১৮৩]

শিয়াদের স্বীকৃতি

এসব ঘটনার সত্যতা প্রসিদ্ধ শিয়া ঐতিহাসিক মাসঈদী তার কিতাব ‘মুরাওয়াজুজ জাহাব’ গ্রন্থে বাদশা মামুনুর রশীদের আলোচনায় এভাবে উদ্ধৃত করেঃ

وفى سنة اثنتى عشرة ومائتين نادى منادى المأمون: برئت الذمة من أحد من الناس ذكر معاوية بخير أو قدمه على احد من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم (مروج الذهب ومعادن الجوهر-৪/৩৪)

২১২ হিজরীতে বাদশা মামুনুর রশীদ ঘোষণা করায় যে, যে ব্যক্তি মুয়াবিয়া রাঃ এর কোন ভাল বিষয় উল্লেখ করবে, বা তাকে কোন সাহাবীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিবে তার ব্যাপারে রাষ্ট্র দায়িত্বমুক্ত। অর্থাৎ তাকে রক্ষা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের নয়। [মুরাওয়াজুজ জাহাব, মাসঈদী শিয়াকৃত-৪/৩৪]

উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ ইতিহাসবীদ আল্লামা শিবলী নুমানী রহঃ তার কিতাব ‘আলইনতিক্বাদ আলা তামাদ্দুনিল ইসলামী’ এর মাঝে ইসলামী ইতিহাস সংকললের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেনঃ

ثم ان هناك امر آخر وهو ان المؤرخين بامرهم كانوا فى عصر بنى العباس
ومن المعلوم أنه لم يكن يستطيع احد ان يذكر محاسن بنى امية فى دولة العباسيين فاذا صدر من احد شيء من ذالك فلتة كان يقاسى قائلها انواعا من الهتك والايذاء وخامة العاقبة وكم لنا من امثال هذه فى اسفار التاريخ الخ (الانقاد على كتاب التمدن الاسلامى-২৪)

স্মর্তব্য যে, ইসলামী ইতিহাসের ঐতিহাসিকগণ সাধারণতঃ আব্বাসী শাসনামলের। আর এতো জানা কথাই যে, আব্বাসী আমলে বনু উমাইয়াদের ভাল বিষয়গুলে বর্ণনা করার সাহস কারো ছিল না। কেননা, বনু উমাইয়াদের ভাল কিছু যদি কারো মাধ্যমে কদাচিৎও প্রকাশ পেতো, তাহলে তাকে নানাভিদ নির্যাতনের শিকার হতে হতো। সম্মানহানী ছাড়াও নানা ধরণের শাস্তি পেতে হতো। ইতিহাসের পাতায় এর অনেক নজীর পাওয়া যায়। [আলইনতিকাদ আলা কিতাবি তামাদ্দুনিল ইসলামী, আল্লামা শিবলী নুমানীকৃত-২৪]

পরিস্কার কথা যে, সরকারীভাবে এমন প্রকাশ্য ঘোষণা এবং কঠোর হুমকির পর ঐতিহাসিকগণ যে ইতিহাস রচনা করেছেন তাতে হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রাঃ এর দোষত্রুটিই বর্ণিত হবে। তাদের কাছে মুয়াবিয়া রাঃ এর আখলাকী গুণাবলী এবং ইসলাম ও জাতীয় খিদমাতের বর্ণনা পাওয়ার আশা রাখা অরণ্যে রোদন ছাড়া আর কী’ হতে পারে?
ফলে যা হবার তা’ই হয়েছে। সুবিধাবাদী-ভীতসন্ত্রস্ত লেখকেরা কলমের খোঁচায় ধামাচাপা দিয়েছেন হযরতে মুয়াবিয়া রাঃ এর কীর্তিমান জীবন। ইতিহসের নামে অসত্য আর অপবাদের জলোচ্ছাসে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে এ মহান সাহাবীর উজ্জ্বল দ্বিগ¦জয়ী খিদমাত।

তবে, খুবই অল্প সংখ্যক ঐতিহাসিক যারা রাষ্ট্রীয় এ জুলুমের পরোয়া না করে সত্য প্রকাশ করেছেন। তাদের সংখ্যা নিতান্তই হাতে গনা কয়েকজন। তাই ইসলামী ইতিহাস পাঠকগণ এ বাস্তব অবস্থা মাথায় রেখে ইতিহাস পড়া খুবই জরুরী। নতুবা বাস্তবতা বিবর্জিত ইতিহাস নামক এক ভাগাড়েই ঘুরপাক খেতে হবে।

মোটকথা হল, উপরোক্ত কারণে ইতিহাসের পাতায় হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রাঃ এর বিষয়ে অধিক পরিমাণ অভিযোগ পাওয়া যায়। আর বিদ্বেষীরা এ বিষয়গুলোও যাচাই ছাড়াই খুব প্রচার করেছে। এসব ছড়িয়ে এ মহান সাহাবী ও ইসলামের একনিষ্ট খাদিমের চরিত্রে কালিমা লেপন করে জাতির সামনে নোংরাভাবে পেশ করেছে।

Copied

24/01/2025

৯০/১০ তত্ত্ব (the 90/10 principle):

পরিস্থিতিটি ভাবুন—
আপনি ব্রেকফাস্ট করছেন পরিবারের সাথে। দুর্ঘটনাবশতঃ, আপনার কন্যা চায়ের কাপ উল্টে ফেলে দিলো আপনার অফিসিয়াল শার্টে। চিৎকার করে উঠলেন ক্রোধে আপনি, রেগেমেগে কঠিন গলায় বকাবকি করলেন কন্যাকে ওই বোকামির জন্য। কন্যা কান্নায় ভেঙে পড়লো অশ্রুসজল।

কন্যাকে ভর্ৎসনার পর, এবার আপনি ফিরলেন স্ত্রীর দিকে এবং তাকেও দু'কথা শুনিয়ে দিলেন কঠোর ভাষায়, কাপটি টেবিলের কিনারায় রাখার কারণে। ছোটখাটো একটি তর্ক হয়ে গেলো উভয়ের মধ্যে। নাশতা না-করেই ধুপধাপ উঠে গেলেন আপনি, ঘরে গিয়ে আবার কাপড় পাল্টালেন। বেরিয়ে এসে দেখলেন, কন্যা হেঁচকি তুলে কাঁদছে আর নাশতা খাচ্ছে মায়ের বকুনির তোড়ে; তার স্কুলের সময় হয়ে গেছে। স্কুল-বাস মিস করলো সে। এদিকে স্ত্রীরও কাজে বেরুনোর সময় হয়ে এসেছে। ওদেরকে ডিঙিয়ে আপনি ছুটে বেরিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিলেন, কন্যা ছুটে এসে গাড়িতে বসলো; তাকে নিয়ে স্কুলের দিকে ছুটলেন আপনি। আপনার দেরি হয়ে যাচ্ছে, বিধায় ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি ছোটাচ্ছেন আপনি, যে-রাস্তায় আইনত ৬০-এর উপরে ওঠা নিষিদ্ধ। ১৫ মিনিট দেরিতে, ২ হাজার টাকা ট্রাফিক-ফাইন দিয়েটিয়ে, কন্যাকে নিয়ে স্কুলে পৌঁছতে পারলেন। আপনার কন্যা "গুডবাই" না-বলেই প্রাণপণে ছুটে চললো তার ক্লাসরুমের দিকে।

অফিসে পৌঁছলেন ৩০ মিনিট দেরিতে। ঢুকেই বুঝতে পারলেন, ব্রিফকেস আনেননি। সকালটা শুরু হলো ভয়ঙ্করভাবেই, এবং এভাবেই চলতে লাগলো পরবর্তী প্রতিটি মুহূর্ত, এমনকি আরও বাজেভাবেই সামনে আসতে শুরু করলো পরের ঘটনাগুলো। একসময় বাড়ি ফিরলেন; বুঝতে পারলেন কন্যা ও স্ত্রীর সাথে আপনার দূরত্ব তৈরি হয়ে গেছে উভয়দিক থেকেই। কেন? সকালে আপনার ওই প্রতিক্রিয়াশীল ব্যবহারটির কারণেই।

আজ আপনার দিনটি বাজেভাবে কাটার মূল দায়টি কার?
০১. ওই চায়ের?
০২. আপনার কন্যার?
০৩. ট্রাফিক-পুলিশটির?
০৪. আপনার?

উত্তরটি হলোঃ ০৪।

চায়ের ঘটনাটিতে নিজের উপরে আপনার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। আপনার ওই ৫ সেকেন্ডের প্রতিক্রিয়াই পরবর্তী পুরো দিনটিকে প্রসব করেছে। অথচ যা হওয়া উচিৎ ছিল বা হতে পারতোঃ

চা ছলকে পড়লো আপনার উপরে। আপনার কন্যা কাঁদো-কাঁদো অবস্থা। আপনি তাকে নম্র-স্বরে বললেন— "ইটস্‌ ওকেই ব্যাটা, পরেরবার আরেকটু সতর্ক থাকবে। থ্যাঙ্কিউ।" তারপর আপনি তোয়ালে খুঁজে নিলেন, মুছে নিলেন, ঘরে ঢুকে গেলেন দ্রুত, ব্রিফকেসটি নিলেন। বেরিয়ে এসে জানলা দিয়ে দেখে নিলেন— কন্যা ঠিকমতো স্কুল-বাসে উঠলো কিনা। কন্যা বাসের জানলা দিয়ে হাত নাড়ছে আপনার প্রতি। আপনি ও স্ত্রী হাত নেড়ে বিদায়-শুভেচ্ছা জানালেন কন্যাকে। স্ত্রীকে চুমু দিলেন; একসাথে বেরিয়ে গেলেন কাজে, স্ত্রী ও আপনি। যথারীতি ৫ মিনিট আগে অফিসে প্রবেশ করলেন, সহকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় সারলেন, আপনার বস আপনাকে আসন্ন পুরো দিনটির জন্য শুভকামনা জানালেন।

পার্থক্যটি লক্ষ্য করুন। দু'টি আলাদা দৃশ্যপট। উভয় দৃশ্যই শুরু হয়েছে একইভাবে, কিন্তু শেষ হয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। কেন? একমাত্র কারণ— আপনার প্রতিক্রিয়ার ধরন। প্রাত্যহিক জীবনের ১০% ঘটনার উপরে আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকা অসম্ভব, বাকি ৯০% ঘটনা ঘটে আপনার প্রতিক্রিয়ার ফলস্বরূপ। এটিই ৯০/১০ তত্ত্ব। দ্য নাইন্টি/টেন প্রিন্সিপল।

এই ৯০/১০ তত্ত্বকে নিজের অনুকূলে রাখার গোপন কৌশল জেনে নিনঃ

আপনি যদি কেউ নিগেটিভ কিছুর কবলে পড়ে যান, স্পঞ্জ হবেন না, কাচ হবেন। সমস্যাটিকে জলের মতো গড়িয়ে পড়ে যেতে দিন আপনার বাইরে থেকেই, কাচের মতো; স্পঞ্জের মতো শুষে নেবেন না নিজের ভিতরে। নিগেটিভ কিছুকে আপনার উপরে প্রভাব ফেলতে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। রিয়্যাক্ট করুন ব্রেইন দিয়ে, শিক্ষার বহিঃপ্রকাশ দিয়ে; কোনো উস্কানিতে খেলতে নেমে যাওয়ার মতো বাজে খেলোয়াড় আপনি নন। ইগনোর। ফলে, আপনার উপরে এর কোনোই প্রভাব থাকবে না পরবর্তী সময়ে। একটিমাত্র ভুল রিয়্যাকশানের কারণে আপনি হারিয়ে ফেলতে পারেন স্বজন, হয়ে যেতে পারেন বরখাস্ত, রয়ে যেতে পারেন বিপর্যস্ত, ইত্যাদি... ইত্যাদি।...

কেউ আপনাকে অপদস্ত করতে চাইলে, কীভাবে রিয়্যাক্ট করেন আপনি? মেজাজ হারিয়ে ফেলেন? সামনে যা-কিছু আছে, তাতে থাবড়া মারেন রেগেমেগে? গালাগালি করেন? অভিশাপ দেন? ব্লাডপ্রেশার বেড়ে যায় সাঁইসাঁই? তাদের উপর শোধ নিতে, একটা শিক্ষা দিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন? এসব করতে গিয়ে আপনার আসন্ন জীবনটি তছনছ হয়ে গেলে, কিংবা এর প্রভাবে অফিসে দশ মিনিট পরে পৌঁছলে ওদের কিছুই যায়-আসে? ময়লার গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিজের যত্নের গাড়িটি কেন নোংরা করবেন?

৯০/১০ তত্ত্বটি মাথায় রাখবেন। যা আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই, তাকে খোঁচাতে যাবেন না। এতে কাপুরুষতা নেই, বুদ্ধিবৃত্তি আছে। পাত্তা দিবেন না। হাওয়া। যাঃ, ধুর! আপনাকে যদি জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আপনার চাকরি আর নেই, নির্ঘুম রাত কাটাবেন? হতাশায় জেরবার হয়ে যাবেন? দুঃসময় আসেই সুসময় সামনে আছে বলে। খুঁজে নিতে হবে। আপনার মেধা, শ্রম, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আরেকটি কাজের খোঁজে বেরিয়ে পড়ুন। গাড়ি দেরিতে আসায়, ড্রাইভারকে বকেঝকে নিজের সময়টিকে কেন নষ্ট করে দেবেন? দেরিটায় তার নিয়ন্ত্রণ ছিল কিনা আপনি জানেন? অপেক্ষার সময়টায় কিছু পড়ুন, অন্য যাত্রীদের সাথে আলা-বিনিময় করুন। এতো ক্রোধ কেন থাকবে ব্রেইন-ওয়ালা মানুষের? বাজে রিয়্যাকশান জীবনকেই বাজে করে দেয়।

৯০/১০ প্রিন্সিপলটি জানা হয়ে গেলো আপনার। প্রয়োগ করুন এর বাস্তবতা; দেখবেন— এর ফলাফল কী সুন্দর!

Salah Uddin Ahmed Jewel
ইভানা আলাভি ফ্যানস থেকে।

17/12/2024

আল্লাহ মাফ করুন
জাভেদ চৌধুরী
গত রাতে আমার এক বন্ধু দুটি ভিডিও পাঠিয়েছে। প্রথম ভিডিওতে দেখা যায়, একজন দুর্বল, জীর্ণ দেহের বৃদ্ধ দুজন পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বারবার পুলিশের সাথে তর্ক করছেন। তার সাথে একজন মধ্যবয়সী নারী ছিলেন। সামনে পঞ্চাশ-একান্ন বছরের এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে। তিনি বারবার পুলিশকে বলছেন, কেন আপনি তাকে গ্রেপ্তার করছেন না? আপনি কেন তার জিনিসপত্র বের করছেন না?

বৃদ্ধ লোকটি পুলিশের সঙ্গে তর্ক করছেন। মহিলাটি বলছিলেন, আপনি আমাকে অর্ডার দেখান।

এএসআই তাদের আশ্বস্ত করছিলেন, আমার কাছে আদালতের আদেশ আছে। বাড়ির এই অংশে আপনি আর থাকতে পারছেন না। বুড়ো লোকটি পুলিশের কথা শুনতে প্রস্তুত ছিলেন না।

পুলিশ তাদের বোঝাচ্ছিল, ব্রিগেডিয়ার সাহেব! আপনি আমাদের অগ্রজ, আপনি সম্মানিত। আপনি আমাদের সাথে সহযোগিতা করুন। আমাদের কাছে আদেশ আছে। যেকোনো মূল্যে এটি পূরণ করতে হবে।

এই ঝগড়া বাড়তে থাকে। অবশেষে এএসআই কনস্টেবলকে বললেন, গাড়ি আনো। তাদের তিনজনকেই তুলে থানায় নিয়ে যাও।

ভিডিওটি এখানে শেষ হয়। দ্বিতীয় ভিডিওতে পঞ্চাশ-একান্ন বছরের লোকটি পুলিশকে বলছে, আপনারা কেন এদেরকে গ্রেপ্তার করছেন না?

জবাবে পুলিশ বলেন, তিনি বৃদ্ধ ও অসুস্থ। আমরা কীভাবে তাকে গ্রেপ্তার করি? আপনি আপনার জিনিসপত্র নিয়ে আসেন।

সে ব্যক্তি সিঁড়ি দিয়ে নেমে যায়।

এই বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিটি ছিলেন ব্রিগেডিয়ার ইমতিয়াজ আহমেদ ওরফে ব্রিগেডিয়ার বেল্লা। একটা সময় ছিল যখন ব্রিগেডিয়ার ইমতিয়াজ সারা দেশে বক্তব্য দিয়ে বেড়াতেন। তিনি সরকারো পরিবর্তন করতেন। যাকে খুশি তুলে নিয়ে যেতেন এবং বেইজ্জতি করতেন। তিনি কমিউনিস্ট নেতা নাজির আব্বাসিকেও নির্যাতন করে হত্যা করেছিলেন। তার শুরুটা হয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর দিয়ে। স্রষ্টা তাকে গাঢ় নীল চোখ দিয়েছিলেন। তাই সহকর্মীরা তাকে ‘বেল্লা’ এবং ‘বাগাড় বেল্লা’ বলে ডাকতেন। তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর থেকে গোয়েন্দা বিভাগে এসেছিলেন। তারপরে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ১৯৮০-এর দশকে তিনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান হন এবং নওয়াজ শরীফের সাথে জড়িয়ে পড়েন আর তখনই তাঁর নয়নমণি হয়ে ওঠেন। ১৯৮৯ সালে বেনজির ভুট্টোর সরকার ছিল। ব্রিগেডিয়ার ইমতিয়াজ সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করেন। সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনার চেষ্টা করেন এবং নওয়াজ শরীফকে প্রধানমন্ত্রী করার চেষ্টা করেন।

তিনি রাওয়ালপিন্ডিতে পিপিপির সংসদ সদস্যদের মধ্যে ভাঙন সৃষ্টির চেষ্টা শুরু করেন। মাসুদ খান তখন আইবির ডিজি। তিনি রেগে যান এবং ব্রিগেডিয়ার ইমতিয়াজ ও মেজর আমেরের পিপিপির দুই সংসদ সদস্যের অডিও-ভিডিও রেকর্ড করেন। এভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে প্রমাণ চলে আসে। তিনি সেনাপ্রধান আসলাম বেগকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আসলাম বেগ ও তৎকালীন ডিজি আইএসআই জেনারেল শামসুর রহমান কাল্লু (জেনারেল কাল্লু নামে পরিচিত) এ ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা অস্বীকার করেন। অভিযোগ এসে জেনারেল ইমতিয়াজের ঘাড়ে পড়ে। তিনি মেজর আমেরকেও জড়িয়ে ফেলেন। মেজর আমের এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত ছিলেন না। তিনি তখন ইসলামাবাদের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। কিন্তু ডিজি তাকে এ ব্যাপারটি থেকে আলাদা করে রেখেছিলেন। পুরো অপারেশনটি অতিরিক্ত ডিজি ইন্টারনাল উইং হিসেবে ব্রিগেডিয়ার ইমতিয়াজ পরিচালনা করছিলেন। এই অপারেশন ইতিহাসে ‘মিডনাইট জ্যাকাল’ নামে পরিচিতি পায়।

যাইহোক, সংক্ষেপ ঘটনা হল, জেনারেল আসলাম বেগ কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে ব্রিগেডিয়ার ইমতিয়াজ ও মেজর আমেরকে চাকরিচ্যুত করেন। নওয়াজ শরীফ পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ব্রিগেডিয়ার ইমতিয়াজকে বরখাস্ত হওয়া সত্ত্বেও পাঞ্জাবের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন। তিনি ১৯৯০ সালে নির্বাচনে জিতে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি ব্রিগেডিয়ার বেল্লাকে আইবির ডিজি হিসেবে নিয়োগ দেন। এখান থেকে ব্রিগেডিয়ার বেল্লার আরেকবার উত্থান হয়। ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত আইবির ডিজি ছিলেন। সে সময়ে আমি নতুন নতুন ইসলামাবাদে এসেছিলাম। নিজের চোখে এই মানুষটির দৌরাত্ম্য ও ঔদ্ধত্য দেখেছি। বড় বড় নামকরা মন্ত্রী তার অফিসের বাইরে বসে থাকতেন। তার টেবিলের নিচে ক্ষমতা ও শক্তির গঙ্গা প্রবাহিত হত। তিনি নিজেও এতে স্নান করতেন এবং তার বন্ধুদেরও ডুব দিতে দিতেন। ঘটনা আরো সংক্ষেপে বললে, ১৯৯৪ সালে বেনজির ভুট্টো আবার ক্ষমতায় আসেন। ব্রিগেডিয়ার আবার ফেঁসে যান। ২০০২ সালে জেনারেল মোশাররফ এনএবি (ন্যাব) গঠন করেন। ব্রিগেডিয়ার বেল্লাও এর জালে আটকা পড়েন।

সে সময় ইসলামাবাদে তার ২৪টি প্রোপার্টির সন্ধান পাওয়া যায়। জমি, গয়না, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং বেনামি সম্পত্তি ছিল এর বাইরে। এনএবি আদালতে দুর্নীতি প্রমাণ করে। তাকে ৮ বছরের জন্য কারাগারে বন্দি করা হয়। ২০০৮ সালে তিনি আদিয়ালা কারাগার থেকে মুক্তি পান। ২০১০ সালে ওজিডিসি চেয়ারম্যান আদনান খাজার সাথে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়। ততদিনে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। অবস্থাও ভালো ছিল না। তাই আদালত তাকে ছেড়ে দেয়। এর পরে তিনি বিস্মৃতির অতলে চলে যান। আমিও তাকে ভুলে গিয়েছিলাম। হঠাৎ রবিবার রাতে তার ভিডিও সামনে আসে। আমি ভাগ্যের রং বদল দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়ি।

ব্রিগেডিয়ার ইমতিয়াজের সর্বশেষ কাহিনী হল, তিনি যে সন্তানদের জন্য লুট-পাট করেছিলেন, যে সন্তানদের জন্য করাচির ‘শুদ্ধি অভিযানে’ হারাম অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন, বৃদ্ধ বয়সে তারা তার জানের শত্রুতে পরিণত হয়। বড় ছেলে গোপনে তার সব সম্পত্তি বিক্রি করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। তিনি দ্বিতীয় ছেলের সঙ্গে থাকতে বাধ্য হন। দ্বিতীয় পুত্র প্রথম পুত্রের চেয়েও নিষ্ঠুর ছিল। তার মা দ্বিতীয় পুত্রের অত্যাচার সহ্য করতে পারেননি। বেচারি মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর পর ইমতিয়াজ বেল্লা একা হয়ে পড়েন। ছেলে তাকে গৃহবন্দি করে। দেড় বছর গৃহবন্দি ছিলেন। মেয়ে জানতে পারলে বিদেশ থেকে এসে বাবাকে ভাইয়ের বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করেন।

এই বাড়িটি ইমতিয়াজ বেল্লার ছিল। কিন্তু তিনি এটি ছেলের নামে করে দিয়েছিলেন। এটি তার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। বিষয়টি আদালত ও পুলিশ পর্যন্ত গড়াল। এমনকি ছেলে বাবার বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ নিয়ে আসে। সুতরাং পুলিশ এল। ব্রিগেডিয়ার ইমতিয়াজ ও তার মেয়েকে বাড়ি খালি করার নির্দেশ দিল। ব্রিগেডিয়ার ইমতিয়াজ পুলিশের সাথে তর্ক করছিলেন তখন ছেলে সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশকে নির্দেশ দিচ্ছিল তাকে গ্রেপ্তার করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য। বাড়ির কর্মচারীরা অবাক হয়ে এই দৃশ্য দেখছিল। মেয়ে পুলিশকে আদালতের আদেশ দেখাচ্ছিল যে, আদেশ অনুযায়ী ব্রিগেডিয়ার ইমতিয়াজকে বাড়ি থেকে বের করা যায় না; কিন্তু পুলিশ এই আদেশ মানছিল না। আমি এসব দৃশ্য দেখে কান ধরে আল্লাহর কাছে মাফ চাইতে লাগলাম।

ব্রিগেডিয়ার ইমতিয়াজ তার সময়ের ফেরাউন ছিলেন। তিনি ক্ষমতায় থাকাকালে প্রতিটি ভদ্রলোককে অফিসে ডেকে অপমান করতেন। তিনি না জানি কত ঘর উজাড় করেছেন। কত মানুষের বাড়িঘর ও সম্পত্তি দখল করেছেন। তার সময়ে করাচিতে ‘অপারেশন ক্লিন-আপ’ শুরু হয়। এই অভিযানের আড়ালে অসংখ্য মানুষকে গুম ও নির্যাতন করা হয়। সেখানে ডজন ডজন নিরীহ ও নিরপরাধ মানুষ ছিল। তাদের একমাত্র অপরাধ ছিল মুহাজির হওয়া। সে সময় প্রত্যেক মুহাজিরকে আলতাফ হুসাইনের সহযোগী হিসেবে গণ্য করা হত। করাচি অপারেশনের সময় অনেক দুর্নীতি হয়েছে। ব্রিগেডিয়ার ইমতিয়াজ ও তার সহযোগীরা দুই হাতে মন ভরে লুটপাট করেছেন। কিন্তু এত মারামারির ফল কী হল? তিনি নিজে আট বছর কারাগারে পড়ে ছিলেন। তার সম্পদে সেসব সন্তান লালিত-পালিত হতে থাকে, জেল থেকে বের হওয়ার পর যারা বাবাকে আপন করে নিতে অস্বীকার করে, যারা তাকে দেড় বছর ঘরে আটকে রাখে। অবশেষে একমাত্র ছাদটিও তার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে।

যে ছেলের জন্য তিনি বৈধ ও অবৈধ উপায়ে সম্পদ সঞ্চয় করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত সে সন্তান তাকে বাড়ি থেকে বের করতে পুলিশ নিয়ে আসে। পুলিশ তার বাড়িতে দাঁড়িয়ে তার সাথে দুর্ব্যবহার করতে থাকে, যার এক ইশারায় আইজি পরিবর্তন হয়ে যেত। তাহলে এই পুরো খেলার কী লাভ? এত মারামারির ফলাফল কী? জেল, লাঞ্ছনা, অসুস্থতা আর সন্তানের হাতে অপমান। একজন জ্ঞানী খুব সুন্দর বলেছেন, ‘যা বপন করবে তাই তুলতে হবে।’ আমি একথাটাকে একটু পরিবর্তন করে বলি, আমরা যা বপন করি, তার হাজার গুণ ফসল তুলতে হয়। কারণ প্রতিটি বীজ দশটি শীষ উৎপন্ন করে এবং প্রতিটি শীষ থেকে শত শত বীজ বের হয়।

যদি আমরা একটি বীজ বপন করে এবং একটি বীজ তুলে নিই, তাহলে এটি খুব বেশি কষ্টদায়ক হয় না। কিন্তু মন্দ ও অপ্রীতিকর প্রতিটি বীজ থেকে শত শত শীষ এবং হাজার হাজার মিলিয়ন বীজ উৎপন্ন হয়। এই বীজ এবং এই শীষগুলো মানুষকে শান্তিতে মরতেও দেয় না। আমাদের সব সময় আল্লাহকে ভয় করা উচিত। সেইসাথে এই দুআ করা উচিত, হে আল্লাহ! আপনি আমাদের থেকে সবকিছু নিয়ে নিন, কিন্তু আমাদেরকে ভালো সন্তান দান করুন। কারণ এই সম্পদই শেষ পর্যন্ত মানুষের সঙ্গে থাকে। সন্তান যদি অযোগ্য ও জালেম হয়, তাহলে মানুষ প্রতিদিন মরে এবং প্রতিদিন দাফন হয়। জীবন জাহান্নামের চেয়েও খারাপ হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা ব্রিগেডিয়ারের সফর সহজ করুন। সন্তানকে পুলিশের সঙ্গে দাঁড়াতে দেখা সহজ কাজ নয়। এ দৃশ্য তখনই দেখতে হয় যখন সন্তান বাবাকে ঘর থেকে বাইরে নিক্ষেপ করার জন্য পুলিশ নিয়ে আসে। আল্লাহ সবাইকে মাফ করুন। সবাইকে তাঁর নিজ নিরাপত্তায় রাখুন।

[এক্সপ্রেস নিউজ (৯ জুলাই ২০২৪) থেকে অনুবাদ করেছেন,
ওয়ালিউল্লাহ আব্দুল জলীল]
[ মাসিক আলকাউসার || জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪৬ || ডিসেম্বর ২০২৪ ]

15/11/2024

সালমান সুহাইব রুমী রাদি. হিজরত করে মদীনায় এসে পৌঁছলেন। ইতিপূর্বে যখন উনি হিজরত করতে মনস্থির করলেন তখন মক্কাবাসী তাকে বাধা দিলো। বললো, তুমি বিদেশি লোক; এখানে এসে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছ, ধনসম্পদ উপার্জন করেছ, এগুলো নিয়ে যেতে পারবে না। তুমি এখানে এসে বিয়ে করেছো, তোমার পরিবারের লোকদেরকেও নিয়ে যেতে পারবে না। অতঃপর তিনি উনার পরিবার ছেড়ে, সম্পদ ছেড়ে, দাস-দাসী ছেড়ে, ঘরবাড়ি ছেড়ে অর্থাৎ, সবকিছু ছেড়ে একেবারে রিক্তহস্তে মদীনা এসে পৌঁছলেন। বিদেশী ভাষায় একে বলে, ‘শুধুমাত্র দাঁতের চামড়া সাথে নিয়ে।’ আসলে দাঁতের আবার চামড়া কোথায়? অর্থাৎ, কিছুই না। কারণ দাঁতের তো চামড়াই নেই। তো এরকম সবকিছু পরিত্যাগ করে শুধু দাঁতের চামড়া নিয়ে মদীনায় এসে পৌঁছুলেন। তিনি যখন মদীনায় পৌছালেন, তখন তিনি নিঃস্ব, সব হারিয়ে এসেছেন। রাসূল সা. তাকে খুব খুশি প্রকাশ করে মারহাবা জানালেন। বললেন :
رَبِحْتَ الْبَيْعَ يَا أَبَا يَحْيَى!
‘হে ইয়াহইয়ার পিতা, লাভের ব্যবসা করে এসেছ।’
উনি মদীনায় এসে যখন রাসূল সা.-এর দরবারে পৌঁছুলেন, তখন রাসূল সা. খেজুর খাচ্ছিলেন। তিনিও সে খাবারে শরিক হয়ে খেজুর খেতে লাগলেন। ওদিকে উনার এক চোখ উঠেছিল। তো ‘চোখ উঠা অবস্থায় খেজুর খাওয়া হয়তো ক্ষতিকর’ এরকম কথা প্রচলিত ছিল। তাই রাসূল সা. বললেন, তোমার চোখ উঠেছে, আর তুমি খেজুর খাচ্ছ? উনি উত্তরে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আমার অপর চোখের পক্ষে খেজুর খাচ্ছি। অর্থাৎ, রসিকতা করলেন। দেখুন, যে ব্যক্তি তার সমুদয় সম্পদ হারিয়ে এসেছে, সে এত রস কোথায় পেল যে এরপরও রসিকতা করছে! তার তো ওই দুশ্চিন্তাতেই কাঁদবার কথা যে, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কী আর খেজুর খাবো, আমার তো সবই শেষ। এখন না খাওয়ার রুচি আছে, না বসার রুচি আছে। কারণ, আমি তো সব হারিয়ে এসেছি। যেখানে তার কাঁদার কথা ছিল, সেখানে তিনি রীতিমতো রসিকতা করছেন! এত রস পেলেন কোথায় এই দুশ্চিন্তার মধ্যে? কারণ, তিনি ওই শিশুর মতো, যার মা-বাবা বড় দুশ্চিন্তার মধ্যে আছে, কিন্তু সে দিব্যি আঙুল চুষছে। তার কোনো দুশ্চিন্তাই নেই। সে আঙুল চুষা নিয়েই ব্যস্ত। কারণ, কোনো দুশ্চিন্তাই তার নয়¬-এই সম্পদ গেলেই বা কী, আর এলেই বা কী? আমার রিজিকের নিশ্চয়তা তো আগে থেকেই আছে। আল্লাহ তাআলা আসমানে রিজিক রেখেছেন। সুতরাং যে এই ধ্রুব সত্য জানে, তার সব সম্পদ চলে গেলেও সে রিজিকের বিষয়ে আর কোনো চিন্তা করবে না। সবকিছু হারালে হারিয়ে যাক তবুও সে রিজিকের বিষয়ে কোনো চিন্তাই করবে না।

উমর রাদি. যখন অন্তিম শয্যায় শায়িত, তখন এই সুহাইব রা.-কে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। অসিয়ত করে গিয়েছিলেন, সুহাইব রাদি. যেন উমর রা.-এর জানাযার নামায পড়ান। জানাযার নামায পড়ালে কি হয়? কারণ মানুষ মানসম্মানের বিষয়ে আকাঙ্ক্ষী হয়। সুহাইব রা.-এর নিকট কিছুই ছিল না; কিন্তু উমর রাদি. অসিয়ত করা যে, সুহাইব যেন আমার জানাযার নামায পড়ায়। এটা দুনিয়ার দৃষ্টিতে কোনো ছোট বিষয় নয়; বহুৎ বড় মর্যাদা, অনেক বড় সম্মান। সুতরাং ঈমানদারদের জন্য এগুলো আগে থেকেই নিশ্চিত, দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আল্লাহ তাআলা আম্বিয়া আ.-কে পাঠিয়েছেন হায়াতে তায়্যেবার ওয়াদা দিয়ে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন :
مَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَنُحْيِيَنَّهُ حَيَاةً طَيِّبَةً وَلَنَجْزِيَنَّهُمْ أَجْرَهُمْ بِأَحْسَنِ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ (سورة النحل : ৯৭)
‘যে নেক আমল করে, চাই সে পুরুষ হোক বা নারী; কিন্তু সে মুমিন ইমানওয়ানা, আল্লাহ তাআলা তার জন্য অগ্রীম হায়াতে তায়্যেবার ওয়াদা করেছেন।’
হায়াতে তায়্যেবার বড় একটি অংশ হলো দুশ্চিন্তামুক্ত মানুষ। অন্যান্য জিনিসও আছে, তবে সাথে সাথে দুশ্চিন্তামুক্ততাও আছে। কারণ, দুশ্চিন্তা এমন একটি জিনিস, যখন এটি থাকে তবে কোনো জিনিসের স্বাদ থাকে না। না নাতিকে আদর করা হয়, না খাবার উপভোগ করা হয়, না আরাম বিছানায় ঘুম থাকে- কোনো কিছুই স্বাদ থাকে না; সব নষ্ট হয়ে যায়। মনে দুশ্চিন্তা থাকাবস্থায় নাতি এসেছে, কিন্তু নাতির দিকে তাকিয়েও কোনো আনন্দ পাওয়া যাচ্ছে না। হালুয়া খেতে দিয়েছে, কিন্তু মুখে দেওয়ার পর কোনো স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না। আরামের বিছানায় ঘুমিয়েছে, কিন্তু কোনো আরাম পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, ভেতরের দুশ্চিন্তা, পেরেশানি এই সব আরামকে ছিনিয়ে নিয়েছে। শরীরের আরাম, মনের আরাম-সব ছিনিয়ে নিয়েছে।

দুনিয়ার মানুষ সবকিছু পাওয়ার পর দুশ্চিন্তার কারণে সে কোনো আনন্দ পাচ্ছে না। যদি এই দুশ্চিন্তার উৎস খোঁজ করা হয় তবে জানা যাবে যে, এই দুশ্চিন্তার বিষয়বস্তুর সাথে তার ন্যূনতম কোনো সম্পর্কই নেই। কোথায় কে মরল আর কোথায় কে বাঁচলো-এটি নিয়েই সে পেরেশান, বড় দুশ্চিন্তার মধ্যে সে ডুবে আছে। অথচ এ চিন্তা করা তার কোনো প্রয়োজন ছিল না। আল্লাহ তাআলা আম্বিয়া আ.-কে পাঠিয়েছেন যেন মানুষকে তার কাজের দিকে ডাকা হয়। তুমি তোমার করণীয় যা, সে বিষয়ে চিন্তা করা শেখো আর দুনিয়ার সব অহেতুক চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত করো। প্রত্যেক মানুষকে আল্লাহ তাআলা যতটুকু করণীয় কাজ দিয়েছেন, সে কাজগুলো বড়ই সহজ, উপস্থিত কিছু কাজ, সাধ্যাতীত কিছু নয়। যার জন্য কোনো বুদ্ধিরও প্রয়োজন হয় না, দৈহিক শ্রমেরও প্রয়োজন হয় না। আল্লাহ তাআলা যে আহকামগুলো দিয়েছেন, খুব সহজেই সেগুলো আদায় করে নিতে পারে। যদি কেউ করতে পারে তবে আল্লাহ তাআলা ওয়াদা করেছেন তাকে ভালো জীবন তথা হায়াতে তাইয়্যেবা দান করবেন। কোনো মুসিবত তাকে স্পর্শ করবে না।
Collected

07/11/2024

১৯৫৬ সালে 𝗧𝗵𝗲 𝗔𝗺𝗲𝗿𝗶𝗰𝗮𝗻 𝗦𝗲𝘅 𝗥𝗲𝘃𝗼𝗹𝘂𝘁𝗶𝗼𝗻 নামে একটি বই প্রকাশিত হয়। লেখকের নাম Pitirim A. Sorokin (পিটিরিম সরোকিন)। রাশিয়ান বংশোদ্ভূত সরোকিন ছিলেন Harvard University-র সমাজবিজ্ঞান অনুষদের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। ভদ্রলোককে সমাজবিজ্ঞানে গত শতাব্দীর অন্যতম মহারথী মনে করা হয়।

সরোকিন তার এই বইতে মার্কিন সমাজ নিয়ে বেশ কিছু পূর্বাভাস দেন। খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে ঘোষণা করেন, অ্যামেরিকার সমাজ খুব দ্রুত নৈরাজ্যের মধ্যে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। আর এর প্রধান কারণ হবে, যৌনতার ব্যাপারে মার্কিন সমাজের মূল্যবোধের পরিবর্তন। বই প্রকাশের বছরটা আবার খেয়াল করুন। ১৯৫৬। সরোকিন কথাগুলো বলেছিলেন অ্যামেরিকাতে যৌন বিপ্লব শুরু হরাব আগে। নিজের সমাজের ব্যাপারে তিনি মন্তব্য করেছিলেন,

“মার্কিন সমাজ যৌনতা নিয়ে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে... আমাদের সংস্কৃতির প্রতিটি পর্যায় যৌনতা দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে... যৌনতার ক্রমবর্ধমান জোয়ার আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলেছে, ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে আমাদের সংস্কৃতি এবং সামাজিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রকে।” [পৃষ্ঠা:১৯]

সরোকিনের বিশ্বাস ছিল, মার্কিন সমাজ এমন এক যৌন বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে, যা সমাজের মূল্যবোধের কাঠামো আমূল বদলে দেবে। এর ফলে হুমকির মুখে পড়বে পুরো সমাজের অস্তিত্ব। যৌন নৈরাজ্যের হাত ধরে আসবে সামাজিক ও রাজনৈতিক নৈরাজ্য। বাকিরা যখন স্বাধীনতা, প্রগতি আর অধিকারের বুলি আওড়াচ্ছিল, সেই সময়ে ঐতিহাসিক দূরত্বে দাঁড়িয়ে দিগন্তে গভীর বিপর্যয় দেখতে পেয়েছিলেন সরোকিন। মার্কিন জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে লিখেছিলেন,

“যৌন নৈরাজ্যের প্রতি আমাদের প্রবণতা এখনো ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরিণতি তৈরি করেনি। তবে, এক মারাত্বক রোগের প্রথম উপসর্গগুলো এরই মধ্যে দেখা দিতে শুরু করেছে।” [পৃষ্ঠা:১৩২-১৩৩]

মারাত্বক এই রোগের ফলাফল কী হতে পারে, তাও বিস্তারিত লিখেছিলেন সরোকিন। তার ধারণা ছিল, আসন্ন যৌন বিপ্লবের ফলে সমাজে চেইন রিয়্যাকশনের মতো কিছু ব্যাপার ঘটবে। প্রথমে, নারীর ক্ষমতায়নের নামে ঘর থেকে স্থায়ীভাবে বেড়িয়ে পড়বে গৃহিনীরা। তারপর তারা পরকীয়ায় জড়াবে। ধীরে ধীরে পোশাক শালীন থেকে অশালীন হতে থাকবে, ক্রমশ উন্মুক্ত হবে ঢেকে রাখা দেহগুলো।[পৃষ্ঠা:৯৫] বাড়বে বিবাহপূর্ব এবং বিবাহ-বহির্ভূত যৌনতা। পরিবার দুর্বল হবে, ডিভোর্স বাড়বে। নারী পুরুষালী হয়ে উঠবে, আর পুরুষরা মেয়েলী হতে থাকবে। ধর্মহীনতা, অশ্লীলতা, পতিতাবৃত্তি বাড়বে। যৌনতার ব্যাপারে ‘উদার’ দৃষ্টিভঙ্গির হাত ধরে আসবে যৌন বিকৃতি। প্রথম দিকে অবক্ষয়ের প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেবে অভিজাত শ্রেণি। তারপর তা ছড়িয়ে পড়বে পুরো সমাজে। একসময় এগুলো সমাজের কাছে স্বাভাবিক মনে হতে শুরু করবে। [পৃষ্ঠা:১০০-১০১]

যৌনতা যত অবাধ হবে, ততই দুর্বল হবে সামাজিক মূল্যবোধ। ভোগবাদ, লাম্পট্য, কামুকতার প্রভাবে বিয়ে আর পরিবারের মতো ব্যাপারগুলো মানুষের কাছে বোঝা মনে হবে। নৈতিকতা আর মূল্যবোধকে মনে হবে অপ্রাসঙ্গিক বা আপেক্ষিক। আক্রান্ত হবে নারীত্ব, পুরুষত্ব, পিতৃত্ব আর মাতৃত্বের সংজ্ঞাও। খেয়ালখুশি মতো এগুলো বদলাতে চাইবে মানুষ।[পৃষ্ঠা:৮৯] একই ব্যাপার ঘটবে সম্মান, মর্যাদা, ধর্ম এমনকি রাজনীতির ক্ষেত্রেও। ধর্ম যেহেতু সংযমের কথা বলে, তাই ধর্মকে আক্রমণ করা হবে। যৌন সংযমের নৈতিকতাকে দেখা হবে পশ্চাৎপদ, অবৈজ্ঞানিক, অনৈতিক, নির্বুদ্ধিতা, কিংবা জঘন্য ধ্যানধারণা হিসেবে। [পৃষ্ঠা:৪৪]

নৈতিকতা ক্রমশ যৌনতাকেন্দ্রিক হয়ে উঠবে। যৌনতা গ্রাস করে নেবে সমাজ ও জীবনের সব অক্ষকে। সমাজের মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা এবং সবশেষে প্রতিষ্ঠান, একে একে ধ্বসে পড়বে সবই। জীবনের ব্যাপারে, পৃথিবীর ব্যাপারে, মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পালটে যাবে। পালটে যাবে সমাজ, বিজ্ঞান এমনকি সৌন্দর্যের ব্যাপারে ধারণাও।[পৃষ্ঠা:১৫] মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞানের মতো শাস্ত্রগুলোকে দখল করে নেবে যৌনতাকেন্দ্রিক দর্শন। এমনকি শিশুদেরও দেওয়া হবে অবাধ যৌনতার শিক্ষা। [পৃষ্ঠা:৫৩]

এক থেকে দুই প্রজন্মের মধ্যে জন্মহার কমতে শুরু করবে। যৌন উন্মাদনায় মগ্ন মানুষ সন্তান জন্ম দেওয়া আর লালনপালনের দায়িত্ব নিতে চাইবে না। গর্ভপাত, জন্মবিরতিকরণ, যৌনরোগসহ নানা কারণে সমাজের জন্মহার কমে যাবে নাটকীয়ভাবে। ইতিহাসে অনেকবার এর দৃষ্টান্ত দেখা গেছে, এভাবেই লাম্পট্য আর বিকৃতির মাধ্যমে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে পঞ্চদশ থেকে উনবিংশ শতাব্দীর বিভিন্ন ইউরোপীয় রাজপরিবার। [পৃষ্ঠা:৭৯]

অবাধ যৌনতা নিয়ে আসবে মানসিক আর আধ্যাত্মিক রোগ। সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে নানা রকমের বাতিক, বিকার, আর মানসিক ব্যাধি। ক্রমাগত শরীরী সুখের পেছনে ছুটে চলার জীবন তৈরি করবে অস্থিরতা। একের পর এক নৈতিক স্খলন সেই অস্থিরতাকে বাড়িয়ে তুলবে। ভোগবাদে মগ্ন হয়ে ক্রমেই অবশ আর নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে মানুষ। ভোতা হয়ে আসবে অনুভূতি, ভালো-মন্দের বোধ। সমাজের ওপর চেপে বসবে স্থবিরতা আর আলস্যের চাদর। সৃজনশীলতা আর জীবনীশক্তি উবে যাবে। ক্ষয় হতে থাকবে চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা। শরীরের সুখে মত্ত মানুষ ভরণপোষণের আশা করবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে। [পৃষ্ঠা:৯৫]

অবক্ষয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবার তিন প্রজন্মের মধ্যে পতনের পর্যায়ে পৌঁছে যাবে সমাজ।

সংগৃহীত

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Saad Ismail posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share