28/08/2026
পুরুষের একাধিক বিয়ে নিয়ে বাংলাদেশে আইন কী বলে?
অনেকেই মনে করেন, একজন মুসলিম পুরুষ চাইলে আগের স্ত্রী থাকা অবস্থায় যেকোনো সময় নিজের ইচ্ছায় আরেকটি বিয়ে করতে পারেন। কিন্তু বিষয়টি এতটা সহজ নয়।
বাংলাদেশের Muslim Family Laws Ordinance, 1961-এর ধারা ৬ অনুযায়ী, কোনো পুরুষের একটি বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় আরেকটি বিয়ে করতে হলে Arbitration Council-এর পূর্ব লিখিত অনুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে।
অর্থাৎ, আগের বিয়ে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
প্রক্রিয়াটি কী?
একজন পুরুষ দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি চাইলে তাকে সংশ্লিষ্ট Chairman-এর কাছে লিখিত আবেদন করতে হয়। আবেদনে প্রস্তাবিত বিয়ের কারণ এবং বিদ্যমান স্ত্রী/স্ত্রীদের সম্মতি বা মতামতসহ নির্ধারিত তথ্য দিতে হয়।
এরপর Arbitration Council বিষয়টি বিবেচনা করে। আইনে Council-এর অনুমতি ছাড়া পরবর্তী বিয়ে করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি পরিণতির বিধান রয়েছে।
আগের স্ত্রীর সম্মতি কি বাধ্যতামূলক?
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার—আইনের ভাষায় আগের স্ত্রীর সরাসরি সম্মতিকে একমাত্র শর্ত হিসেবে বলা হয়নি। বরং Arbitration Council-এর পূর্বানুমতির বিধান রয়েছে এবং Council গঠনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্ত্রী/স্ত্রীদের প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থাও রয়েছে।
তাই “স্ত্রী রাজি না হলে কোনোভাবেই দ্বিতীয় বিয়ে করা যাবে না”—এভাবে সরলভাবে বলা আইনগতভাবে সঠিক নয়।
অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে কী হতে পারে?
Arbitration Council-এর পূর্বানুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে ওই বিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়—এমন কথা বলা ঠিক নয়। তবে স্বামীর ওপর আইনে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও অন্যান্য আইনগত দায় সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে, বিদ্যমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্পূর্ণ দেনমোহর অবিলম্বে পরিশোধযোগ্য হয়ে যেতে পারে এবং আইনে নির্ধারিত শাস্তির ব্যবস্থাও রয়েছে।
তাহলে কি পুরুষের একাধিক বিয়ে আইনত বৈধ?
মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের কাঠামোর মধ্যে একাধিক বিয়ের সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশে এটি শর্তহীন বা নিয়ন্ত্রণহীন অধিকার নয়।
আইন মূলত নিশ্চিত করতে চায় যে একজন পুরুষ আগের বিয়ে বহাল থাকা অবস্থায় নতুন বিয়ে করার আগে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অধিকার ও স্বার্থ বিবেচনায় আসে।
তাই—
“পুরুষ চাইলেই যখন খুশি দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে”—এই ধারণা সঠিক নয়।
আবার,
“বাংলাদেশে দ্বিতীয় বিয়ে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ”—এটিও সঠিক নয়।
আইনের বিষয়টি বুঝতে হলে দেখতে হবে—বিয়ে কোন ধর্মীয় আইনের অধীনে হয়েছে, আগের বিয়ে বহাল আছে কি না, Arbitration Council-এর অনুমতি নেওয়া হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনগত বিষয় কী।
একজন নারীর জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
একজন নারী যখন বিয়ে করেন, তখন তার সঙ্গে শুধু আবেগের সম্পর্ক তৈরি হয় না; তৈরি হয় ভরণপোষণ, দেনমোহর, উত্তরাধিকারসহ বিভিন্ন আইনগত অধিকার ও দায়িত্বের সম্পর্ক।
তাই স্বামী যদি গোপনে বা আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আরেকটি বিয়ে করেন, তাহলে স্ত্রী পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনজীবীর মাধ্যমে নিজের অধিকার ও প্রতিকার সম্পর্কে জানতে পারেন।
বিয়ে কোনো খেলনা নয়।
একটি বিয়ের সঙ্গে একজন মানুষের জীবন, সম্মান, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ জড়িত।
পুরুষের যেমন আইনগত অধিকার রয়েছে, তেমনি সেই অধিকারের সঙ্গে আইনগত দায়িত্বও রয়েছে।
আইন জানা মানে কাউকে বিয়ে থেকে আটকানো নয়—আইন জানা মানে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া।