29/09/2026
আদানি-আইপিপির কাছে জিম্মি দেশের বিদ্যুৎ খাত
ভারতীয় আদানি ও আওয়ামী লীগের প্রভাবাধীন বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দেশের বিদ্যুৎ খাতকে এক ধরনের জিম্মি করে রেখেছে। অসম চুক্তি, ক্যাপাসিটি চার্জের বাধ্যবাধকতা এবং একতরফা শর্তের কারণে এ অপরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশের মোট বিদ্যুতের সিংহভাগ ওই উৎস থেকে আসার কারণে এসব কেন্দ্রের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলেই জাতীয় গ্রিডে বড় চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে। আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য, প্রতিবেশী দেশের ইন্ধন ও হাসিনার দেশবিরোধী চুক্তির সুযোগে দেশের বিদ্যুৎ বিভাগকে তারা অসহায় বানিয়ে রেখেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, দেশের গ্রিডভিত্তিক মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৪৩-৪৫ শতাংশ আসে বেসরকারি আইপিপিগুলো (ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার) থেকে। সামিট পাওয়ার, ইউনাইটেড পাওয়ার, ওরিয়ন গ্রুপ, কনফিডেন্স পাওয়ার ও ডরিন পাওয়ারের মতো বড় বড় স্থানীয় ও যৌথ মালিকানার আইপিপি কোম্পানিগুলো এখন দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে।
এসব কেন্দ্র থেকে সরকার বিদ্যুৎ গ্রহণ করুক বা না করুক প্রতি মাসেই গুনতে হচ্ছে নির্দিষ্ট ভাড়া বা ক্যাপাসিটি চার্জ। গত দেড় দশকে বিদ্যুৎ খাতে এ অলস আইপিপি ও রেন্টাল কেন্দ্রগুলোকে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ হিসেবেই দিতে হয়েছে দুই লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। বিদ্যুৎ না নিলেও শুধু আদানির ঝাড়খণ্ড প্ল্যান্টকেই বছরে ৫,৮০০ কোটি টাকা এবং ২৫ বছরের চুক্তির মেয়াদে ১৪-১৫ লাখ কোটি টাকা পরিশোধের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দেশীয় বিদ্যুৎ সস্তা হলেও আদানির কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে অগ্রাধিকার দিতে হয়, অন্যথায় গুনতে হয় জরিমানা।