24/09/2026
অসাধারন
দূরত্বের ডাকনাম 👉 পর্ব - ০১
কিছু মানুষ পাশাপাশি হেঁটেও আলোকবর্ষ দূরে থেকে যায়। আবার কিছু মানুষ থাকে, যাদের সাথে কোনোদিন হয়তো একটা কথাও হয়নি, ছুঁয়ে দেখাও হয়নি অথচ এক পলকের দেখায় মনে হয়, ওর বুকের নিভৃত ঘরটাতেই আমার শত জনমের বসবাস।
'"দূরত্বের ডাকনাম'" হয়তো এমনই হয়। যেখানে কোনো শব্দ থাকে না, শুধু একটা বোবা শূন্যতা দুজন অচেনা মানুষকে একটা অদ্ভুত মায়ায় বেঁধে ফেলে। ঠিক যেন এক অদ্ভুত অসুখ, যার কোনো নাম নেই, কেবল একটা মিষ্টি বিষণ্ণতা এসে শিরায় শিরায় মিশে যায়। এক অচেনা স্পন্দন জানান দিয়ে যায় এই তো, এতকাল তোমাকেই তো খুঁজছিলাম।
পর্ব শুরু -
সব বিকেল তো কেবল দিন ফুরানোর গল্প বলে না, কিছু বিকেল নিঃশব্দে নতুন জীবনের প্রথম পাতাটা লিখে দিয়ে যায়। সেদিনের সেই শান্ত বিকেলটাও ঠিক তেমনই এক অদ্ভুত ঘোর নিয়ে এসেছিল। আর সেই ঘোরলাগা মুহূর্তেই, অজস্র মানুষের ভিড়ে হঠাৎ এক আনমনা চোখের দিকে দৃষ্টি আটকে গেল। চোখের পলকেই চারপাশের সমস্ত ব্যস্ততা যেন বরফের মতো জমে গেল। প্রথম দেখাতেই মনে হলো, চেনা শহরের এই রুক্ষ বিকেলে হঠাৎ এক পশলা স্নিগ্ধ বৃষ্টি এসে ভিজিয়ে দিয়ে গেল মনখারাপের দেয়াল।
ওর চোখেমুখে কোনো বাড়তি প্রলেপ ছিল না, কেবল ভোরের শিশিরের মতো একবুক শান্ত স্নিগ্ধতা লেপ্টে ছিল। হালকা রঙের সুতির শাড়িতে ওকে দেখে মনে হচ্ছিল, আনমনে হেঁটে যাওয়া কোনো এক দমকা হাওয়ায় উড়ে আসা খুব চেনা বুনো ফুলের সুবাস।
ওর হাসিতে এমন এক অদ্ভুত মায়া ছিল, ঠিক যেন টানা অবিরাম বৃষ্টির পর মেঘ ফুঁড়ে উঁকি দেওয়া প্রথম রোদ। হঠাৎ একবার চোখে চোখ পড়তেই ও যখন আনমনে একটু হাসল, বুকের ভেতরের সেই জমিয়ে রাখা শূন্যতাটুকু যেন নিমিষেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে উঠল।
মানুষ এতটা স্নিগ্ধ হয় কী করে!!!
আমি শুধু পলকহীন তাকিয়ে ছিলাম, আর নিজের অজান্তেই নিজের ভেতর তলিয়ে যাচ্ছিলাম।
আমাদের কোনো কথা হয়নি, কোনো আলাপও হয়নি। অথচ ওর না বলা নীরবতায় কেমন একটা নিজস্ব সুর বেজে উঠছিল।
ও যখন আনমনা হয়ে দূরের দিকে তাকাচ্ছিল, আমি থমকে ছিলাম ওর চোখের পল্লবে। সেখানে বিশাল কোনো সমুদ্রের গভীরতা ছিল না ঠিকই, তবে ডুব দেওয়ার মতো একটা শান্ত নিভৃত দিঘির মায়া ছিল।
খুব নীরবে, কোনো আয়োজন ছাড়াই আমার আর ওর ভেতর একটা অদৃশ্য সুতোর টান তৈরি হয়ে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, এই না বলা মুহূর্তটা যদি পৃথিবীর সব ঘড়ির কাঁটা থামিয়ে দিয়ে চিরকালের জন্য আটকে রাখা যেত।
সেদিন ফেরার পথে রাস্তার ধারের নিভু নিভু নিয়ন আলোগুলোকেও কোনো এক অচেনা উৎসবের মতো উজ্জ্বল মনে হচ্ছিল।
তখনও জানতাম না, কথা না বলা একটা বিকেল আর একটা মানুষের নীরবতা আমার পুরো পৃথিবীটাকে এভাবে আগাগোড়া বদলে দেবে।
সেদিন আমাদের কোনো পরিচয় হয়নি ঠিকই, কিন্তু ওর ওই এক চিলতে হাসিটাই আমাকে একটা দীর্ঘ অপেক্ষার রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দিয়ে গেল।
চলবে...
— ভেতর ঘরের শব্দ
ভেতর ঘরের শব্দ মানে এক নিখুঁত অনুভবের কাব্য।
#ভেতর_ঘরের_শব্দ #দূরত্বের_ডাকনাম #পর্ব_০১ #প্রথম_দেখা