26/09/2026
তখনও রাতের আঁধার শেষে আলো ফোটেনি, ফজরের নামাজ পড়ে একটু পায়চারি করার জন্য বের হলাম রাস্তায়। কিছুটা পথ এগিয়েই জানলাম বাজারে চোর ধরা পড়েছে। বরাবরের মতোই এড়িয়ে গেলাম, এসব ব্যাপারে একটুও আগ্রহ খুঁজে পাইনা কেন যেন কখনোই।
একটু সামনে এগোতেই হঠাৎ কানে ভেসে আসলো এলোপাথাড়ি চিৎকার, পেছন ফিরে দেখলাম একদল আমজনতা সুঠাম দেহের এক ব্যক্তিকে উত্তম মাধ্যম দিতেছে। যেহেতু চুরি কেস তাই খুব স্বাভাবিক যে এমন কিছু হবে। কিন্ত চিৎকারের আওয়াজের মধ্যে একটা বাচ্চার কণ্ঠ পেয়েই মূলত ফিরে তাকানো!
ভিড় ঠেলে কোনো রকম একদম কাছাকাছি গিয়ে যে দৃশ্য দেখলাম, সেটা মনে হয় না দেখাই ভালো ছিল! যাকে উত্তম মাধ্যম দেওয়া হচ্ছে তার ৮/৯ বছরের একটা মেয়ে নিজের বাবাকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষদের থামানোর চেষ্টা করলাম, বুঝিয়ে বললাম ছোট্ট মেয়েটার কি মানসিক অস্বস্তি আসতে পারে ভবিষ্যতে এই ঘটনা কেন্দ্র করে।
অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে জানতে পারি, এই লোক এর আগেও একাধিকবার এরকম (চুরি) অপরাধ করেছে, স্থানীয় লোকজন বিচার সালিশ না করেই একাধিকবার ক্ষমা করেছেন, তাই এবার চাচ্ছে একটু শক্ত সিদ্ধান্ত নিবেন গ্রামবাসী।
এরপরেই ঘটে গেলো এক আকস্মিক দৃশ্য! যে দৃশ্য উপস্থিত সবাইকে মানবিকতা, স্নেহ আর মমতার এক দারুণ বার্তা দিলো! যে দৃশ্য মনে করিয়ে দেয় “পৃথিবীতে অসংখ্য খারাপ পুরুষ আছে কিন্তু একজনও খারাপ বাবা নেই” কথাটি।
চোখের কোণে দু-ফোঁটা জলের উপস্থিতি ঘটালো ছোট্ট মেয়েটি যখন তার অপরাধী বাবাকে ভরা বাজারে খাম্বার সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় চা আর রুটি খাইয়ে দিলো। চায়ের কাপে রুটি ভিজিয়ে যখন তার বাবার মুখে তুলে দিচ্ছে আর বলছে দেইখো বাবা তোমার কিচ্ছু হইবে না! ব্যথা জায়গায় হাত বুলিয়ে দেয় আর বলছে, তুমি বেশি ব্যথা পাইছো বাবা!
ছোট্ট শিশুটির বাবা হয়তো অপরাধী! কিন্তু তার কাছে তার বাবার পরিচয় কেবলই বাবা। ছোট্ট এই বাচ্চাটার জীবনে কঠিন একটা দাগ লেগে গেলো, যে দাগ কোনো ডিটারজেন্ট পাউডারে উঠবে না। ছোট্ট এই শিশুটির এমন এক ক্ষত বয়ে বেড়াতে হবে যে ক্ষত কোনো ঔষধে কোনোদিন সারবেনা।