Emon Food Center

Emon Food Center food
(1)

19/09/2026

আপনার সন্তান কোথাও কারোর কাছেই নিরাপদ নয়। সুতরাং সন্তানকে চোখে চোখে রাখুন...💔🥺

খুব সম্ভবত আপুকে বিয়ের আসর থেকে পালাতে সাহায্য করায় আপুর হবু বরের সাথে বাবা আমাকে বিয়ে দিতে চাচ্ছেন। এরই মধ্যে বাবা মা দ...
18/09/2026

খুব সম্ভবত আপুকে বিয়ের আসর থেকে পালাতে সাহায্য করায় আপুর হবু বরের সাথে বাবা আমাকে বিয়ে দিতে চাচ্ছেন। এরই মধ্যে বাবা মা দুজন মিলে কোনো প্রকার কনের সাজ ছাড়াই আমাকে বিয়ের আসনে বসিয়ে দিয়েছে। এখন এই বিয়েটা আমাকেই করতে হবে, সেটাও আমার অন্যায়ের ফলস্বরূপ। আমার বাবা এই যাত্রায় কোনোভাবেই এতলোকের সামনে নিজের সম্মানহানি করবেনা, যেখানে কিনা অপশন হিসেবে আরেকটা উপযুক্ত মেয়ে তার ঘরে আছে। পাত্রও বেশ যথাযথ বটে। অন্য ব্যপার হলো ইতোমধ্যে প্রমাণিত আমি আপুকে পালাতে সবরকমভাবে সাহায্য করেছি, সবকিছু জেনেও আমার পরিবারের কাউকে কিছু জানাইনি। এটা নিঃসন্দেহে পারিবারিক সম্মানহানি, যার সাথে কিনা আমি ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বাবা সব শুনে আমার কোনো রকম আকুতিমিনতি শুনেনি, এমনকি পাত্রপক্ষ আমাকে একদম দেখেনি। তাদেরকে বিষয়টা খোলাসা করে জানায়নি পর্যন্ত।
সেসবদিকে বাবা কোনো প্রকার ভ্রুক্ষেপ না করে আমার সামনে গলা খাঁকরে বললেন, 'তিথিয়া তোমাকে আমি ভীষণ ভালোবাসতাম, অন্তত এইটুকু বিশ্বাস ছিলো রিখিয়া আমাকে না বুঝলেও আজীবন তুমি বাবার ভালো মন্দ বুঝবে, কিন্তু এখন যখন বুঝোই নি,তাহলে আমার ধারণা কখনোই বুঝবেনা, বড় মেয়ের মতো তুমিও আমার মুখে চুনকালি মাখাতে দুবার ভাব্বেনা। কিন্তু শুনে নাও এই যাত্রায় আমিও আমার সম্মান ডোবাবো না, একসাথে আমার দুই দায়িত্ব ঘুচাবো, যেখানে সাপও মরবে লাঠিও ভাঙবেনা। বড় মেয়ে নিজের রাস্তা মেপে নিয়েছে এখন তোমাকেই এই বিয়ে করতে হবে, যেভাবে আছো সেভাবেই গিয়ে বসো, কাজী চলে আসবে।

আমি বাবার কথা শুনে মিনিটখানেক দম আঁটকে স্তব্ধ হয়ে ছিলাম,পা গুলো থরথর করে কাঁপছিলো। ঢেড় বুঝতে পারছিলাম আমি আমার বোনের জন্য কতো ভয়াবহ প্রায়শ্চিত্ত করতে যাচ্ছি! আর আমি এও জানি আমার বাবা খুব একরোখা এবং প্রচন্ড রাগী মানুষ। একবার ক্ষেপে গেছেন মানে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল।

আপুর চেয়ে আমি হাতে গোনা চার বছর ৩ মাস বারো দিনের ছোট। সামনে অক্টোবর মাসে আমার আঠারো বছর হবে। আর আপুর বয়স একুশ বছরের কিছু বেশি। সবার ভাষ্যমতে আমি পড়ালেখায় যথেষ্ট ভালো, আপুকে বেশিদূর পড়ালেখা না করালেও বাবার ইচ্ছে ছিলো আমাকে অনেক পড়াবে। তাহলে এই বাবা এখন কেন এমন করতে যাচ্ছে? আমি কি আপুকে এভাবে পালাতে সাহায্য করে খুব বড় অন্যায় করে ফেলেছি? নিশ্চয়ই বাবা ভীষণ কষ্ট পেয়েছে। যার জন্য কিনা আঠারো হওয়ার আগেই বাবা কোনো রকম সুস্থ চিন্তা ভাবনা ছাড়াই আমাকে বিয়ে পরবর্তী সংসারের বিশাল দায়িত্ব কাঁধে তুলে দিচ্ছে,তাও আমার মানসিক প্রস্তুতি ব্যতিত।

বুঝতে পারছিলাম আমার কিছু করার নেই, আর না আছে পালানোর সুযোগ। সত্যি আপুর মতো আমারও পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে, বহুদূর হারিয়ে যাওয়ার তীব্র টান অনূভব করছি।
চোখ বেয়ে জল গড়াচ্ছে, তবুও ভালোবাসার কাছে একটা মানুষকে পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে কোনো অন্যায় খুঁজে পাচ্ছিনা। হয়তো বিয়ের দিন আপুর এটা করা খারাপ হয়েছে, কিন্তু আমারই বা কি করার ছিলো? আপুই তো শেষদিকে এসে বললো এই বিয়ে করা তার পক্ষে সম্ভব নয়৷

আমি আর ভাবার সুযোগ পাইনি। রাগী বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে থেকেই আমাকে কবুল বলতে হয়েছে। ততক্ষণে বিষয়টা জানাজানি হয়ে গেছে যে পাত্রী বদল হয়ে গেছে।
সবাই খুব ক্ষিপ্ততার সাথে বদলানো পাত্রী দেখতে আসলেও এসে চুপ করে গেছে। বড় মেয়ের চেয়ে ছোট মেয়ে কোনো অংশে কম না।
আমিও কেন জানি বিষয়টাকে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছি। যা হবার তো হয়েই গেছে, আমারও যেহেতু এখনো প্রেম করা হয়ে উঠেনি তাহলে বরকেই মেনে নেবো। আর এই বয়সের মেয়েরা দিব্যি সংসার করতে পারে।

কিন্তু বিপত্তি ঘটলো অন্য জায়গায়। বর আমাকে দেখেনি, বিয়ের পরে কাছাকাছি এনে আমাদের যত রীতি পালন হয়েছে, কোনোবারই আমাকে দেখেনি। এখন গাড়ীতে বসেও দূরে দূরে অবস্থান করছে।

অবশেষে রাতে,
সবাই যখন উনাকে রুমের মধ্যে জোর করে প্রবেশ করিয়ে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দিলো তখনও অবাকই হয়েছিলাম। ওরা বাইরে থেকে দরজা কেন বন্ধ করলো? উনি কি এখানে আসতে চাননি?
আর আপু তার প্রেমিকের সাথে পালিয়ে গেছে এতে উনার বিরহ যন্ত্রণা অনূভব হওয়ার কি আছে?তাদের মধ্যে তো কোনো সম্পর্ক ছিলোনা।
কিন্তু পরক্ষণেই আমার ভুল ভেঙে দিয়ে উনি রাগী হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে বলতে লাগলেন,
' এইই তোমাদের মেয়েদের সমস্যা কি বলো? তোমরা কি করে পারো ছেলেদের আবেগ নিয়ে খেলতে? কতো সুন্দর করে আমাকে স্বপ্ন দেখালো, কতো লজ্জা, কতো হাসি, কতো গল্প, কতো আবেগ, কতো অনূভুতি। এরপর কি পারলো, হ্যাঁ! কি করে পারলো ওই মেয়ে পালিয়ে যেতে? একটাবার বলার দরকার ছিলোনা যে তার অন্য কাউকে ভালো লাগে? কেন শেষ সময় এসে আমাকে এভাবে ঠকাতে পারলো! আমি তোমাদের কাউকে ক্ষমা করবোনা, রিখিয়াকে তো একেবারেই না।

আমি উনার রুক্ষমূর্তি অবস্থাকে ভীষণ ভয়ে পেলাম। আমার এখন মনে হচ্ছে আসলেই আপু এটা কেন করলো? আমার জানামতে আপুর আপাতত কোনো প্রেম ছিলোনা। তাহলে আমাকে যে বললো কে আপুর জন্য অপেক্ষা করছে, আপুকে না পেলে বাঁচবেনা। আর আপুও তাকে ছাড়া থাকতে পারবেনা, তখন আমি তো জিজ্ঞাসাও করিনি। এখন আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে!

আমি খুব ভয়ের সাথে বললাম,
' আমাকে আপনার ফোনটা একটু দিবেন? আমি আমার আইডিটা একটু চেক করতে চাই।

লোকটা কি ভেবে যেন ফোনটা ঢিল মেরে দিয়ে এক কর্ণারে গিয়ে চুপ করে বসে রইলো।

আমি আমার আইডিটা ওপেন করতেই দেখি আপু আমাকে অনেকগুলো ম্যসেজ দিয়ে রাখছে, প্রায় ৩০+ ম্যসেজ। সাথে অনেকগুলো ভয়েস।

আমি উপরে গিয়ে একটা ভয়েস ওপেন করতেই শুনলাম আপু ভয়ার্ত গলায় বলছে,
' তিথিয়া বাড়ির কি অবস্থা? আমি খুব বিপদে পড়ে গেছি, তোকে ফোনে পাচ্ছিনা। আমি জানিনা আমি কি করবো! আমি যার আশায় এসেছিলাম, সে আমার প্রাক্তন, তোর মনে আছে ইমরানের কথা? দুই বছর আগে না আমাদের বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো। কিন্তু কাল রাতে আমার বিয়ের সংবাদ শুনে সে খুব কান্না করছিলো,ক্ষমা চাচ্ছিলো, আরেকটা সুযোগ চাচ্ছিলো। আমি ওকে আবার বিশ্বাস করে বেড়িয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু ও আমাকে ঠকিয়েছে, আমার উপর প্রতিশোধ নিতে আমাকে বিয়ের আসর থেকে বের করেছে,ও কি বলছে জানস?

এইটুকু শুনতেই একটানে মোবাইলের মালিক মোবাইলটা আমার থেকে কেড়ে নিয়ে বললো,
' অনেক হয়েছে। এমন মানুষদের এটাই প্রাপ্য! বুঝুক সে..

আমি ভয়ে ভয়ে উনার দিকে লক্ষ্য করে দেখি উনার ঠোঁটে কেমন যেন একটা উল্লাস ফুটে ওঠছে!

চলবে...

দিগন্ত_ছুঁয়ে [০১]

লেখাঃ তাজরীন_খন্দকার

স্বামীর সাথে অভিমান করে বাচ্চা নিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসার এক মাস পর থেকেই আমার মা যেন আমার শ্বাশুড়ি হয়ে উঠলেন। একটু কিছু হ...
18/09/2026

স্বামীর সাথে অভিমান করে বাচ্চা নিয়ে বাপের বাড়ি চলে আসার এক মাস পর থেকেই আমার মা যেন আমার শ্বাশুড়ি হয়ে উঠলেন। একটু কিছু হলেই আমাকে কথা শুনাচ্ছে। আমার ছোট ছেলেটাকে ভাত দিয়েছিলাম। অর্ধেক ভাত খেয়ে বাকি অর্ধেক ভাত প্লেটে রেখে দিয়েছিলো। মা হঠাৎ সেই প্লেটের অর্ধেক এটো করা ভাত দেখে চিৎকার করে বললো... এতো গুলা ভাত নষ্ট করলো। আর এই বাড়িতে এসে ভাত তো নষ্ট করবোই। ওর বাপের টা হলে নষ্ট করতো না যেমন বাপ তেমন ছেলে।

​আমি মাকে বললাম... সামান্য কয়টা ভাতের জন্য এমন করতাছো কেন ওর সাথে? ও ছোট মানুষ শাফিন যদি বুঝতো তাহলে তো আর ভাত নষ্ট করতো না।

​মা আমার দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে চলে গেল।

আমার শ্বাশুড়িও কোনো দিন আমার ছেলেকে এমন ভাতের জন্য খোটা দেন নাই।
অথচ আমার স্বামীর সাথে কিছু হলেই আমার মা ফোন করে শুধু বলতেন গোলামের বাড়ি থেকে চলে আয়।

​আমার স্বামীর নাম শাহেদ। আমাদের বিয়ে হয়েছিল ৯ বছর আগে। আমাদের ছেলের বয়স ৭ বছর। আমার স্বামী শাহেদ লোক হিসেবে খারাপ না। শুধু রা*গ টা একটু বেশি। আমার স্বামী একটা কোম্পানিতে চাকরি করে। তার মন ভালো থাকলে আমাকে বলতো চাকরি টা ছেড়ে দিবো আরেকটা চাকরি পেয়ে এখানে প্রচুর প্যারা দেয় ম্যানেজারে।

​তবে আমি চাচ্ছিলাম আমি আর আমার স্বামী ছেলে নিয়ে আলাদা খাবো আর শ্বশুর শ্বাশুড়ি আলাদা খাবে।
এটা আমার স্বামীকে বলতেই আমাদের মাঝে ঝগ*ড়া লেগে যায়। তারপর মা আমাকে চলে আসতে বলে।
আমি বাপের বাড়ি যাওয়ার আগে শাহেদ কে বলে গেলাম তুমি যদি সংসার আলাদা না করো তাহলে আমি আর আসবো না।
এই বলে বাপের বাড়ি চলে আসলাম। আজকে প্রায় ১ মাস। শাহেদ অবশ্য কয়েক বার আমাকে ফোন করে ছিলো আমাকে চলে আসতে বলছিলো।

​কিন্তু এখানে আসার কয়েকদিন পর যে আমার জন্মদাত্রী মা এভাবে পাল্টে যাবে এটা ভাবতে পারি নি। তার উপর আবার আমার ভাইয়ের স্ত্রী তো আছেই সারাক্ষণ আমাকে খোচা মে*রে কথা বলার জন্য।

​রান্নাঘরের সামনে দাঁড়িয়ে মায়ের ওই রা*গী চোখের চাহনি আর গজগজানি দেখতে দেখতে বুকটা এক বিষণ্ণ হাহাকারে ভরে উঠল। যেই গর্ভধারিণী মা একদিন পর পর ফোন করে চোখের জল ফেলে বলতেন— "তোর ওই রাক্ষ*সের সংসারে এক মুহূর্তও থাকার দরকার নেই, তুই বাচ্চা নিয়ে চলে আয়, বাপের বাড়িতে তো আর ভাতের অভাব পড়েনি," সেই মা আজ সামান্য এক মুঠো এঁটো ভাতের জন্য সাত বছরের নিষ্পাপ বাচ্চাটাকে এভাবে অপ*মান করলেন! নিজের কানে না শুনলে কোনোদিন বিশ্বাস করতাম না যে র**ক্তের বাঁধনও সময়ের সাথে আর পরিস্থিতির চাপে এতটা ফিকে হয়ে যেতে পারে।

​শাফিন মায়ের চিল্লাচিলিতে ভ*য় পেয়ে হাত গুটিয়ে আমার পেছনে এসে লুকিয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট্ট হাত দুটো দিয়ে আমার শাড়ির আঁচল চেপে ধরে। শাফিনের ওর দাদীর কাছে যে ভালোবাসা আর আস্কারা ও পেত। কিন্তু নিজের নানীর কাছে এসে সামান্য ভাত ফেলার জন্য সেই জায়গায় ওকে কেন এত বিশ্রী খোটা শুনতে হচ্ছে।

শাফিনের বাবার কথা যতই মনে পড়ে, ততই বুকের ভেতরটা মুচড়ে ওঠে। শাহেদ লোক হিসেবে হয়তো একঘেয়ে, একটুতেই ও রে*গে আ*গুন হয়ে যায়, হুটহাট চেঁচামেচি করে বসে— কিন্তু ছেলের বিষয়ে ও কোনোদিন বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেনি। দিনশেষে অফিস থেকে ফেরার সময় শাফিনের জন্য আমার জন্যও প্রিয় খাবারটা আনতে শাহেদ কোনোদিন ভুলত না।

শ্বশুর-শ্বাশুড়িও শাফিনকে চোখের মণি করে রাখতেন।
​আর আমার এই নিজের বাপের বাড়ি? এক মাস আগে যখন শাহেদের সাথে ঝগ*ড়া করে শাফিনের হাত ধরে ব্যাগে জামাকাপড় গুছিয়ে বেরিয়ে আসি, তখন ভেবেছিলাম নিজের জন্মদাত্রী মা অন্তত আমাকে আর আমার ছেলেকে আগলে রাখবেন। কিন্তু এক মাস যেতে না যেতেই তারা যেন সম্পূর্ণ বদলে গেছে। কিছুদিন যেতেই বুঝতে পারলাম, আপন মানুষও পর হয়, কিন্তু কখনো কখনো নিজের মানুষগুলো পরের চেয়েও বেশি বিষা*ক্ত হয়ে ওঠে।

​ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে তখন মিটমিট করে হাসছিল আমার ভাবী— ভাইয়ের স্ত্রী রিভা। ভাবীর সেই কুটিল হাসিটা যেন ছু*ড়ির মতো আমার বুকে এসে বিঁধ*ল। দুপুরবেলা খাবার খেতে বসার আগেই সে তরকারির বাটি সরাতে সরাতে মায়ের উদ্দেশ্যে বেশ জোর গলাতেই বলেছিল, "আজকাল বাজারে যে অগ্নিমূল্য, চালের কেজি আশি টাকা! নিজেদের সংসার চালানোই দায়, তার ওপর প্রতিদিন বাড়তি লোকের অপচয় সহ্য করা সত্যিই কঠিন। যার সংসার, সে সেখানে সে করবে, তা না করে বাপের বাড়ি এসে ভরপোশ তোলা সহজ, কিন্তু মান-সম্মান রাখা কঠিন।"

​কথাগুলো সরাসরি আমাকেই উদ্দেশ্য করে বলা। ভাবী যখন কথাগুলো বলছিল, মা কিন্তু তখন এতটুকু প্রতিবাদ করেননি। উল্টো তরকারির বাটিটা আমার দিকে এগিয়ে না দিয়ে সরিয়ে রেখেছিলেন। মায়ের এই নীরব সমর্থনই ভাবীকে আরও দ্বিগুণ সাহস জুগিয়েছে। নিজের র**ক্তের ভাইটাও এখন কেমন যেন বদলে গেছে। আগে যে ভাই আমার সামান্য অসুখ-বিসুখেও আকুল হয়ে উঠত, সে এখন সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আমার আর শাফিনের দিকে স্বাভাবিক নজরেও তাকায় না। ভাবীর কথায় মাথা নেড়ে সায় দেয়, আর খামোখা শাফিন একটু শব্দ করে খেললে ঘর থেকে কড়া গলায় ধমক দেয়।

​শাহেদের কথা ভীষণ মনে পড়ছে আজ। শাহেদ একটা কোম্পানিতে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটে। প্রতিদিন সকালে বের হয়ে ফেরে রাত আট টা নয়টায়। অফিসে ম্যানেজারের অমানুষিক চাপ, কাজের চাপ সহ্য করে ঘরে ফিরে যখন একটু শান্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চাইত, তখন আমি তার ওপর সংসারের ঝগ*ড়া-ঝাটি আর শ্বশুর-শ্বাশুড়ির থেকে আলাদা হওয়ার জন্য চাপ দিতাম। শাহেদ রে*গে গিয়ে হয়তো কড়া কথা বলত, কিন্তু পরক্ষণেই নিজের ভুল বুঝতে পেরে শান্ত হওয়ার চেষ্টা করত। শেষ যে দিনটা আমি চলে আসি, সেদিনও ও শাফিনকে কোলে নিয়ে আমাকে বুঝিয়েছিল— "আলাদা সংসার করার মতো সামর্থ্য আমার এখন নেই, আমাকে একটু সময় দাও।" কিন্তু আমি মায়ের প্ররোচনায় পড়ে আর নিজের জিদের বশে এক কাপড়ে ঘর ছেড়ে বের হয়ে আসি। বের হওয়ার সময় শাহেদ হাত ধরে বলেছিল, "রা*গ করো না, ঘরে ফিরে এসো।"

​বিগত এক মাসে শাহেদ অনেক বার ফোন করেছে। প্রতিদিন রাতে(Fb পেইজ The Story Haven) শাফিনের সাথে কথা বলতে চেয়েছে।
আমাকে বার বার বলেছে, "যেভাবে আছ চলে এসো, আমি তোমাকে আর ছেলেকে ছাড়া থাকতে পারছি না।" কিন্তু আমার ভেতরে যে অভিমান আর বাপের বাড়ির তথাকথিত আশ্রয়ের অন্ধ অহংকার ছিল, তার জন্য আমি প্রতিবারই শাহেদকে ফিরিয়ে দিয়েছি। সাফ জানিয়ে দিয়েছি— আলাদা সংসার না করলে আমি কোনোদিন ওই ভিটেতে পা রাখব না।

​কিন্তু আজ যখন নিজের মা-ই আমার বাচ্চার মুখের অন্ন নিয়ে খোটা দিলেন। মেয়েদের নিজের বাড়ি বলতে সত্যি কিছু হয় না। বিয়ের পর বাপের বাড়িটা কেবল অতিথি হওয়ার জায়গা থাকে, অধিকার নিয়ে থাকার মেয়াদী আশ্রয় থাকে না। নিজের মা-ও তখন ছেলের আর বউয়ের সংসারের কথা ভেবে পর বানিয়ে দেয়। সামান্য এক মুঠো ভাত নষ্ট হওয়ায় মা যেভাবে শাফিনকে তার বাবার নামে খোটা দিলেন, তা আমার মাতৃসত্তাকে এক লহমায় চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিল।

​শাফিনকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আমি ঘরে নিয়ে এলাম। ওর চোখের পানি মুছে দিয়ে আস্তে করে বললাম, "বাবা, তুই কাঁদিস না। মা তোকে আর এখানে থাকতে দেবে না।"

নিজেকে ভীষণ অপ*রাধী মনে হচ্ছে শাহেদের কাছে। যে মানুষটা আমাকে আর আমার ছেলেকে আগলে রাখতে চেয়েছিল, যার রাগের আড়ালেও একবুক ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ লুকিয়ে ছিল, তাকে আমি বুঝতে পারিনি। পর ভেবে যাকে ছেড়ে এসেছিলাম, সে-ই ছিল আমার একমাত্র আপনজন। আর যাকে পরম আশ্রয় ভেবে ছুটে এসেছিলাম, সেই মা-ই আজ শ্বাশুড়ির চেয়েও পর হয়ে গেলেন।
​আলমারি থেকে আমার পুরনো ব্যাগটা টেনে বের করলাম। জামাকাপড়গুলো একে একে গুছিয়ে নিতে লাগলাম। শাফিন অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "মা, আমরা কোথায় যাচ্ছি?"

যেখানে তোকে কেউ ভাতের খোটা দেবে না, যেখানে তোকে অপ*মান সহ্য করতে হবে না।"
আমি আর কোনো কথা বললাম না। মনে কষ্ট নিয়ে শুধু কাপড় গুছিয়ে যাচ্ছি।

চলবে...?

আপনজন
পর্ব ০১
লেখক The Story Haven (শাহেদ খান)

কেমন লাগলো প্রথম পর্ব? আজকেই দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট করা হবে।

“আজ রাতে আমার বস বাসায় ডিনার করতে আসছেন। টেবিলটা সাজিয়ে তারপর তুমি শোবার ঘরে চলে যাবে। আমি চাই না তিনি তোমাকে এভাবে দেখু...
17/09/2026

“আজ রাতে আমার বস বাসায় ডিনার করতে আসছেন।
টেবিলটা সাজিয়ে তারপর তুমি শোবার ঘরে চলে যাবে। আমি চাই না তিনি তোমাকে এভাবে দেখুন।”

কথাটা শুনে রান্নাঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেলাম আমি।

আমার হাতে তখনও কাঠের চামচ।

রাশেদ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শার্টের কলার ঠিক করছিল। আমার দিকে একবারও তাকাল না।

আমি ধীরে জিজ্ঞেস করলাম,

“আমি শোবার ঘরে গিয়ে থাকব?”

রাশেদ বিরক্ত গলায় বলল,

“এত নাটক করার কী আছে? আমি জেনারেল ম্যানেজার হওয়ার একদম কাছাকাছি। সামির স্যার আজ প্রথমবার আমাদের বাসায় আসছেন। সবকিছু একদম ঠিকঠাক হওয়া দরকার।”

আমি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললাম,

“এই বাসাটা আমারও।”

রাশেদ এবার আমার দিকে তাকাল।

“সেই কারণেই তো তোমার কাছে একটা সাহায্য চাইছি।

ডিনারটা পরিবেশন করবে, তারপর কিছু সময়ের জন্য ঘরে থাকবে।”

কথাটা শুনে গলার ভেতর একটা পরিচিত কষ্ট জমে গেল।

এই বাসাটা আসলে আমারই কেনা।

রাশেদের সঙ্গে আমার বিয়ের পাঁচ বছর আগেই আমি এই ফ্ল্যাটটি কিনেছিলাম।

আর একসময় শুধু এই বাসা নয়, নিজের একটা পরিচয়ও ছিল আমার।

আমি ছিলাম একজন ট্রমা সার্জন।

হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেছি। মানুষের জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে একেকটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

কিন্তু সাত বছর আগে আমার জীবনটা এক মুহূর্তে থেমে যায়।

আমাদের বারো বছরের মেয়ে লাবিবা এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়।

তারপর আমি হাসপাতাল ছেড়ে দিই।

প্রথমে ঘুম হারিয়ে ফেলেছিলাম।

তারপর ফোন ধরা বন্ধ করে দিলাম।

ধীরে ধীরে এমন একটা সময় এল, যখন আয়নায় নিজের মুখটাও চিনতে পারতাম না।

সেই সময়টায় রাশেদ আমার পাশে ছিল।

আমি যখন বিছানা থেকে উঠতে পারতাম না, সে রান্না করে খাইয়েছে।

আমাকে থেরাপির কাছে নিয়ে গেছে।

বন্ধুদের দাওয়াত ফিরিয়ে দিয়েছে, শুধু আমার সঙ্গে থাকার জন্য।

আমি তার সেই সময়ের কথা কোনোদিন ভুলিনি।

হয়তো এ কারণেই পরে তার আচরণ বদলে গেলেও আমি চুপ করে ছিলাম।

সে প্রায়ই বলত,

“তোমাকে সামলাতে গিয়ে আমাকে কত কিছু করতে হয়েছে।”

কখনো বলত,

“তুমি আর সেই মানুষটা নেই, যাকে আমি বিয়ে করেছিলাম।”
আবার কখনো বলত,

“আগে আয়নায় নিজের চেহারাটা দেখো, তারপর আমাকে নিয়ে কথা বলবে।”

এসব শুনেও আমি নিজেকে বোঝাতাম—

হয়তো রাশেদ আমার জন্য এত কিছু করেছে বলেই তার এসব কথা সহ্য করা আমার দায়িত্ব।

সন্ধ্যা সাতটার দিকে দরজার ঘণ্টা বেজে উঠল।

সামির স্যার এসে গেছেন।

দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে রাশেদের আচরণ যেন পুরো বদলে গেল।

কিছুক্ষণ আগেও যে মানুষটা আমাকে অপমান করছিল,

এখন সেই মানুষটাই হাসিমুখে বসকে স্বাগত জানাচ্ছে।

দামি একটা ওয়াইনের বোতল খুলল।

আত্মবিশ্বাসী গলায় গল্প করতে লাগল।

আর আমি চুপচাপ শোবার ঘরে গিয়ে বসে রইলাম।

কিছুক্ষণ পর সামির স্যারের কণ্ঠ শুনলাম।

“তোমার স্ত্রীর রান্না তো দারুণ! তাকে আমাদের সঙ্গে বসতে বলো।”

কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।

তারপর রাশেদ খুব নিচু, দুঃখী একটা গলায় বলল,
“ও পারবে না।”

সামির স্যার অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,

“কেন?”

রাশেদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

“লাবিবার মৃত্যুর পর থেকে ও খুব ভেঙে পড়েছে। অপরিচিত মানুষের সামনে থাকতে পারে না।”

আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।

সে আরও বলল,

“ওকে ছেড়ে তো আর চলে যাওয়া যায় না। ওর জন্য আমাকে কত ব্যবসায়িক সফর বাতিল করতে হয়েছে, কত
গুরুত্বপূর্ণ মিটিং মিস করেছি। এমনকি ক্যারিয়ারের অনেক

সুযোগও ছেড়ে দিতে হয়েছে।”

আমি দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে নিঃশব্দে শুনছিলাম।

রাশেদ থামল না।

“কখনো হঠাৎ ফোন করে বলে প্যানিক অ্যাটাক হচ্ছে। তখন আমাকে সব ফেলে বাসায় ছুটে আসতে হয়। অনেক সপ্তাহ তো ও বাসা থেকেই বের হয় না।”

আমার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল।

কারণ কথাগুলোর একটাও সত্যি নয়।

গত দুই বছরে আমি একবারও তাকে কোনো ব্যবসায়িক সফর বাতিল করতে বলিনি।

আমি নিজের প্রয়োজনীয় সব কাজ নিজেই করি।
বাজারে যাই।

বোনের বাসায় যাই।

এমনকি আবার মেডিকেল জার্নাল পড়াও শুরু করেছি।

আমি ধীরে ধীরে নিজের জীবনটাকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম।

আর রাশেদ বাইরে সবার কাছে এমন একটা গল্প বানিয়ে রেখেছিল, যেখানে আমি একজন অসহায়, মানসিকভাবে ভেঙে পড়া নারী—যে তাকে ছাড়া এক মুহূর্তও চলতে পারে
না।

রাত নয়টার দিকে সামির স্যার বিদায় নিলেন।

আমি দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ শোনার পর শোবার ঘর থেকে বের হলাম।

ডাইনিং টেবিল পরিষ্কার করতে যাচ্ছি, এমন সময় দরজার

দিক থেকে আবার কণ্ঠ ভেসে এল—

“আরে! আমি ফোনটা টেবিলের ওপর রেখে গিয়েছিলাম!”

সামির স্যার ফিরে এসেছেন।

আমি টেবিলের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

তিনি আমাকে দেখেই থেমে গেলেন।

কয়েক সেকেন্ড আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

তারপর হঠাৎ তার মুখের রং বদলে গেল।

“ডাক্তার মেহরিন?”

আমি অবাক হয়ে তাকালাম।

পেছন থেকে রাশেদও এগিয়ে এল।

তার মুখে মুহূর্তেই আতঙ্ক ফুটে উঠল।

রাশেদ কাঁপা গলায় বলল,

“আপনারা... একে অপরকে চেনেন?”

সামির স্যার রাশেদের দিকে তাকালেনও না।

তার চোখ তখনও আমার দিকে।

“আপনি আমার ছেলের অপারেশন করেছিলেন।”

আমার হাত থেকে প্লেটটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল।

আমি ধীরে জিজ্ঞেস করলাম,

“আপনার ছেলের নাম কী?”

সামির স্যারের গলা কেঁপে উঠল।

“আরিয়ান।”

নামটা শুনতেই তেরো বছর আগের একটা রাত আমার

চোখের সামনে ভেসে উঠল।

একটা ছোট্ট ছেলে।

ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর রাত দুইটার সময় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।

তার বাবা বাইরে দাঁড়িয়ে কাঁপছিলেন।

ডাক্তাররা বলেছিলেন, রাতটা পার করা কঠিন।

আমি চার ঘণ্টা অপারেশন থিয়েটারে ছিলাম।

“আরিয়ান...” আমি খুব আস্তে বললাম।

সামির স্যারের চোখে পানি চলে এল।

“ও বেঁচে আছে, ডাক্তার।”

আমি যেন নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেলাম।

“সত্যি?”

তিনি মৃদু হেসে বললেন,

“ওর বয়স এখন তেইশ। মেডিকেল কলেজে শেষ বর্ষে পড়ছে।”

তারপর আরও একটা কথা বললেন, যেটা শুনে আমার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।

“ও নিজেও ট্রমা সার্জন হতে চায়। আপনার মতো।”

সামির স্যার পকেট থেকে একটা ভিজিটিং কার্ড বের করে টেবিলের ওপর রাখলেন।

“তেরো বছর ধরে আপনাকে খুঁজেছি। শুধু একবার ধন্যবাদ বলার জন্য।”

আমি কিছু বলতে পারছিলাম না।

সামির স্যার চলে যাওয়ার পর রাশেদ দরজা বন্ধ করেই আমার দিকে ঘুরে দাঁড়াল।

“তোমাকে কি ঠিক তখনই বাইরে আসতে হলো?”

আমি হতভম্ব হয়ে তাকালাম।

“তোমার চিন্তা এটা?”

রাশেদ রেগে বলল,

“গত ছয় মাস ধরে আমি ওই মানুষের সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরি করছি!”

আমি বললাম,

“আর সেই সম্পর্ক তৈরি করতে গিয়ে তুমি তাকে বলেছ আমি একজন অসুস্থ মানুষ, যে কারও সঙ্গে থাকতে পারে না!”

“বাড়িয়ে বলো না!”

“আমি সব শুনেছি, রাশেদ!"

সে এবার আরও রেগে গেল।

“তাহলে তুমি আমাদের কথাও লুকিয়ে শুনছিলে?”

“তুমি বলেছ আমার জন্য ব্যবসায়িক সফর বাতিল করেছ।

প্যানিক অ্যাটাকের কারণে তোমাকে বাসায় ছুটে আসতে হয়েছে। এসব কখন ঘটেছে?”

রাশেদ ঠান্ডা, তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল।

“তেরো বছর পর একজন মানুষ তোমাকে চিনেছে বলেই তুমি আবার নিজেকে সেই মহান ডাক্তার মেহরিন ভাবতে শুরু
করেছ?”

কথাটা আমার বুকের ভেতর গিয়ে বিঁধল।

ঠিক তখনই কাউন্টারের ওপর রাখা রাশেদের ফোনটা কেঁপে উঠল।

স্ক্রিনে একটা মেসেজ ভেসে উঠল।

প্রেরকের নাম—

তানিয়া।
আমি পুরো মেসেজটা পড়ার আগেই রাশেদ ফোনটা তুলে নিল।

তবু কয়েকটা শব্দ আমার চোখে পড়ে গিয়েছিল—

“আজ রাতে প্রমোশনটা নিশ্চিত হচ্ছে তো? প্রমোশন

পাওয়ার পর তুমি অবশেষে ওকে সত্যিটা বলবে তো?”

রাশেদ দ্রুত ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে ফেলল।

আমি ধীরে ধীরে তার চোখের দিকে তাকালাম।
“কোন সত্যিটা আমাকে বলতে হবে, রাশেদ?”

সে কোনো উত্তর দিল না।

আর সেই মুহূর্তে সাত বছর পর প্রথমবার আমার মনে হলো—

লাবিবার মৃত্যুই হয়তো আমার জীবনের একমাত্র ট্র্যাজেডি ছিল না।

আমার নিজের ঘরের ভেতরেও হয়তো এমন কিছু ঘটছে, যার কিছুই আমি জানি না।

চলবে.....
#স্বামীর_লুকানো_সত্য

মা এটা আপনারও বাবার বাড়ি না যে আপনি আমাকে সবসময় বাড়ি নিয়ে খোটা দিবেন। আপনি এই বাড়িতে একসময় বউ ছিলেন এখন আমিও এই বাড়ির বউ...
16/09/2026

মা এটা আপনারও বাবার বাড়ি না যে আপনি আমাকে সবসময় বাড়ি নিয়ে খোটা দিবেন। আপনি এই বাড়িতে একসময় বউ ছিলেন এখন আমিও এই বাড়ির বউ। আপনার আর আমার অধিকার এই বাড়িতে সমান। তাই কথা একটু বুঝে শুনে বলবেন।
আমার স্ত্রীর এমন কথা শুনে আমার মা যেন চমকে উঠলেন। রুপিতা যে এমন কথা বলতে পারে তা আমার মা জীবনেও কল্পনা করেননি। রুপিতার মতো এতো চুপচাপ একটা মেয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে এমন কথা বললো এটা আমারো বিশ্বাস হচ্ছিলো না।

আমার নাম শাহেদ খান। সবাই শাহেদ নামেই চিনে।আমার আর রুপিতার বিয়ে হয়েছে ৮ মাস। এই আট মাসের মধ্যে রুপিতা কখনো মায়ের মুখের উপর কথা বলেনি।
​মা রে*গে বললো... কি বললে তুমি? আমার সাথে তোমার তুলনা দিলে? তুমি জানো এই সংসারের জন্য আমি কি করেছি? আজকে বলো তোমার আর আমার অধিকার সমান।

​রুপিতা বললো... আমি তো ভুল কিছু বলিনি মা। আপনিই শুধু শুধু আমারে বলেন আমার বাড়িতে থেকে এসব চলবে না। ওটা চলবে না।

​মা আমাকে ডাক দিয়ে বললো... শাহেদ শাহেদ কই তুই? রুম থেকে বের হ। দেখে যা তোর স্ত্রীর ব্যবহার।
​আমি আরো রুমে ভালোভাবে ঢুকে বসে রইলাম। মা যেমন তার সাথে তেমনটাই হওয়া উচিত।
​মায়ের ডাকে আমি বের না হলেও বাবা ঠিকই বের হয়ে বললো... কি হয়েছে এমন চিৎকার করছো কেন?

মা বললো... তোমার ছেলের বউয়ের কথা শুনছো? সে আমাকে বলে আমার আর তার অধিকার নাকি সমান।
​বাবা বললো... হ্যা সমানি তো। তুমিও একসময় এই বাড়ির বউ ছিলে।

​মা আরো রেগে গেলেন। রুপিতা পরিস্থিতি বেগতি দেখে তারাতাড়ি আমাদের রুমে চলে আসলো।
​রুপিতা আমার সামনে এসে আচল দিয়ে মুখের ঘাম মুছে বললো... আল্লাহ বাচাইছে আমারে। তোমার কথা শুইনা হুদাই এগুলো বলতে গেলাম। তোমার মা যে জিনিস। বাংলা চলচিত্রের রিনা খানও তার থেকে কম।

​আমি রুপিতার এই অবস্থা দেখে হেসে বললাম... এইটুকুতেই এমন? তাহলে বাকি দিন কিভাবে টিকবে মায়ের সাথে।

​রুপিতা আমার দিকে চোখ বড় বড় করে তাকাল। বিছানার একপাশে ধপাস করে বসে পড়ে শাড়ির আঁচল দিয়ে বাতাস করতে করতে বলল, "তোমার তো হাসি আসবেই! ভেতরে যে আমার হার্টঅ্যা*টাক হওয়ার জোগাড় হয়েছিল, তা কি তুমি বুঝতে পারছ? তোমার কথার ওপর ভরসা করে অত বড় ডায়লগটা ঝেড়ে তো দিলাম, কিন্তু শাশুড়ি মায়ের চ্যাঙ্গালা রূপ দেখে আমার আ**ত্মা খাঁচাছাড়া হয়ে গিয়েছিল। উনি যেভাবে আমার দিকে চোখ পাকিয়ে তাকিয়েছিলেন, মনে হচ্ছিল এক্ষুনি কাঁচা গিলে খাবেন।"

​আমি হাসি চেপে রুপিতার পাশে গিয়ে বসলাম। ওর হাতে হাত রেখে বললাম, "আরে পাগ*লী, মা তো এতদিন ভেবেছিল তুমি একটা অবলা নারী, তোমাকে যা খুশি বলা যায়। তাই সবসময় 'আমার বাড়ি', 'আমার বাড়ি' বলে তোমায় শাসাতেন। আজকে যখন তোমার মুখে এমন কথা শুনলেন আর বাবাও তোমার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, তখন ওনার অহং*কারে বড় ধাক্কা লেগেছে। বাংলা সিনেমার রিনা খানও হুট করে এমন ধাক্কা খেলে সামলাতে পারতেন না।"

​রুপিতা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, "কিন্তু তোমার বাবা যে এভাবে হুট করে আমার হয়ে কথা বলবেন, তা তো ভাবতেই পারিনি। শাশুড়ি মা এখন মনে হয় আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে যাবেন। এরপর থেকে আমার ওপর কত যে ঝড় যাবে, আল্লাহই জানেন!"

​আমি হালকা হেসে বললাম, "বাবার কথা শুনে নিশ্চয়ই তোমার সাহস একটু হলেও বেড়েছে? মা এতদিন ধরে এই সংসারে একচ্ছত্র রাজত্ব চালিয়ে এসেছেন। বাবা এতদিন ঝামেলা এড়াতে চুপ থাকতেন, কিন্তু ওনার ভেতরেও ক্ষো*ভ ছিল। মা সবসময় ভাবতেন উনি যা বলবেন সেটাই এই সংসারে শেষ কথা। বিশেষ করে আমাদের বিয়ের পর থেকে যেভাবে তোমাকে তিলকে তাল বানিয়ে কথা শোনাতেন, সেটা বাবাও পছন্দ করতেন না। তাই আজ সুযোগ পেয়ে কথাটা সোজাসুজি জানিয়ে দিলেন।"

​ড্রয়িংরুম থেকে মায়ের চিৎকার শুনতে পাচ্ছিলাম মা বাবাকে বলতাছে... যে মেয়ে আজ আট মাস হলো এই বাড়িতে এসেছে, তার আর আমার অধিকার নাকি সমান? আমি এই সংসারের জন্য সারাটা জীবন র**ক্ত পানি করলাম, আর সে আজ আমাকে এসে জ্ঞান দিয়ে গেল? তোমার লজ্জা করে না ছেলের বউয়ের সামনে আমাকে খাটো করতে?"

​বাবা খুব শান্ত কণ্ঠে বললেন, "পারুল, তুমি ভুল বুঝছ। কেউ তোমাকে খাটো করেনি। তুমি যেমন এই বাড়ির বধূ হয়ে এসে সংসারটাকে গড়ে তুলেছ, রুপিতাও তো এই বাড়ির বধূ হয়েই এসেছে। সে তো কোনো অন্যায় কথা বলেনি। তুমি কথায় কথায় তাকে বাড়ি খোটা দেও 'আমার বাড়িতে এসব চলবে না' বলো কেন? এটা তো শাহেদেরও বাড়ি, রুপিতারও বাড়ি। তুমি অনবরত ওকে পর করে রাখলে ও আপন হবে কী করে?"

​মায়ের গলার আওয়াজ আরও চড়ে গেল, "ওহ! এখন দেখছি বাবা-ছেলে মিলে ষ*ড়যন্ত্র শুরু করেছ! তা তো করবেই, নতুন বউ এসেছে না? পুরনো চাল নাকি ভাতে বাড়ে, কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে পুরনোদের বিদায় করার আয়োজন চলে! ঠিক আছে, আমিও দেখে নেব এই সংসারে কার কত বড় অধিকার হয়েছে!"

​ড্রয়িংরুমে মায়ের গলার দাপটে যেন ঘরের দেয়ালগুলো কেঁপে উঠল। কিছু একটার আছাড় খাওয়ার শব্দ পাওয়া গেল। সম্ভবত মা ডাইনিং টেবিলের ওপর রাখা পানির জগটা মেঝেতে আ*ছাড় মে*রে ভে*ঙে ফেলেছেন।

রুপিতার গায়ের রং এমনিতেই অনেক ফর্সা, ভ*য়ে আর উত্তেজনায় লাল হয়ে উঠেছে।
(লেখকের Fb পেইজ The Story Haven)
​আমি রুপিতার দিকে পানি এগিয়ে দিয়ে বললাম, "নাও, আগে পানিটা খেয়ে নাও। রিনা খানের সাথে যু**দ্ধ করে আসছো, শরীরে তো একটু এনার্জি দরকার, তাই না?"
​রুপিতা পানিটা এক নিঃশ্বাসে গিলে ফেলে গ্লাসটা টেবিলের ওপর রাখল। তারপর ডাগর ডাগর চোখে আমার দিকে তাকিয়ে অভিমানের সুরে বলল...

আমার খুব ভ*য় করছে। চলো, আমি মায়ের কাছে গিয়ে মাফ চেয়ে আসি। আমি এভাবে বলতে চাইনি। উনি যেভাবে রে*গে যাচ্ছেন, এতে সংসারে বড় ধরনের একটা ঝড় নেমে আসবে। তোমার বাবার ওপরও উনি ক্ষো*ভ ঝাড়বেন।"

​আমি রুপিতার হাতটা আরও শক্ত করে ধরে বললাম, "একদম যাবে না রুপিতা। তুমি আজ কোনো অন্যায় করোনি। এতদিন তুমি চুপ থেকেছ বলেই মা ভেবেছিলেন তুমি অন্যায় সহ্য করে নেবে। আজ তুমি তোমার আ*ত্মসম্মানের জন্য কথা বলেছ। তুমি যদি এখন গিয়ে ক্ষমা চাও, তবে মা ধরে নেবেন তুমি ভুল করেছিলে। এতে ওনার অন্যায় আরও দশগুণ বেড়ে যাবে। আমাদের সমাজ বা পরিবারে শাশুড়ি মানেই যে অন্যায়ভাবে পুত্রবধূকে হেয় করবেন, এই প্রথা বন্ধ হওয়া দরকার।"

​রুপিতা বিষণ্ণ চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল। ঘরের বাইরেও তখন অদ্ভুত এক নীরবতা নেমে এসেছে।

ঠিক তখন বাইরে থেকে মায়ের গলা শুনতে পেলাম।
"শাহেদ, তুই একবার আমার ঘরে আয়। তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে।"

রুপিতা আমার দিকে তাকিয়ে আস্তে করে বললো, "যাও। এবার তোমার বিচার শুরু হবে।"

আমি দরজার দিকে তাকিয়ে বললাম, "বিচার না, মনে হয় আজ আমাকে আ*সামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।"

রুপিতা হেসে বললো, "যাও আ*সামি সাহেব। তবে একটা কথা মনে রাখবা, আমি কিন্তু তোমার জামিনের ব্যবস্থা করমু না।"

চলবে...?

শেষ বাকের ঘর
পর্ব ০১
লেখক The Story Haven (শাহেদ খান)

প্রথম পর্ব কেমন লাগলো? আজকেই দ্বিতীয় পর্ব পোস্ট করা হবে

বিশেষ মূহুর্তে আমার স্বামী আমার মাঝে অন্য কাউকে খুঁজছে বুঝতে পেরে থমকে যাই আমি। সে যখন বিশেষ মূহুর্তে আমাকে বলে,“তোমার ঠ...
16/09/2026

বিশেষ মূহুর্তে আমার স্বামী আমার মাঝে অন্য কাউকে খুঁজছে বুঝতে পেরে থমকে যাই আমি। সে যখন বিশেষ মূহুর্তে আমাকে বলে,“তোমার ঠোঁটটা এমন নয়। তোমার চোখটা এমন নয়।”
তখনই বুঝতে পারি সে আমার মাঝে অন্য কাউকে খুঁজছে। তার জীবনে বিশেষ কেউ ছিলো। যাকে সে আমার মাঝে খুঁজে বেড়াচ্ছে।

বিয়ের তিন মাস হলো। আমাদের পরিচয় পাঁচ মাসের। পারিবারিকভাবে আমাদের বিয়েটা হয়। স্বামী হিসাবে সে তার দায়িত্ব কর্তৃব্য সবই পালণ করে। তবে বিশেষ সময়ে তার চোখে অন্য কাউকে দেখে আমি মানতে পারি না। এই দুনিয়ায় কেউ কারো মতো হতে পারে না। সেখানে দাঁড়িয়ে সে আমার মাঝে অন্য কাউকে খুঁজলে কখনোই তাকে পাবে না। অথচ সে বারবার তাকেই খুঁজছে। এই বিষয়টাই আমি মেনে নিতে পারছি না। আমার বুকের ভেতর অদ্ভুত এক যন্ত্রণার জন্ম হয়। তাই তো অজান্তে চোখের পানি চলে আসে। আমার চোখের পানি দেখে যখন সে জিজ্ঞেস করে,“তুমি আমার সঙ্গে খুশি নও?” তখন আমি জবাব দিতে পারি না। অনেক কথা বলতে গিয়েও থেমে যাই। এভাবেই তিন মাস কেটে গেল। অতঃপর আর সহ্য করতে না পেরে আজ যখন সে জিজ্ঞেস করে,“তুমি আমার সঙ্গে খুশি নও?” তখন আমিও বলে উঠলাম,“আমি না। বরং তুমি আমার সঙ্গে খুশি নও।”

এটা শুনে চয়ন একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তার এই দীর্ঘশ্বাস আমার হৃদয়ের গভীরে প্রচন্ড রকম আঘাত করে। অতঃপর চয়ন বলে,“তুমি আমার স্ত্রী। আমি তোমার সঙ্গে খুশি। একটু বেশিই খুশি।”

“যদি খুশি হও তবে আমার মাঝে অন্য কাউকে কেন খুঁজছো? তাকে না পেয়ে কেনই বা হতাশ হচ্ছো?”
আমার এই প্রশ্ন শুনে চয়ন চুপ করে যায়। সে আমার পাশে শুয়ে পড়ে। আমি তাকে আবারও একই কথা বলতে চয়ন বলে,“আমি তোমার সঙ্গে সত্যি খুব খুশি। হয়তো অবচেতন মনে ভুলবাল দুটো শব্দ বলে ফেলি। তবে তার মানে এটা নয় যে আমি অখুশি।”

“সে কে?”
আমার এই প্রশ্নটি চয়ন আশা করেনি। সে থমকে যায়। একদম নির্বাক হয়ে শুয়ে থাকে। আমি আবার জিজ্ঞেস করি। এভাবে তিনবার জিজ্ঞেস করার পরও তার কোন জবাব পেলাম না। এবার রেগে গিয়ে বললাম,“আমাকে ছেড়ে দাও।”

“তোমার আমার সঙ্গে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে বুঝি? আমাকে ছাড়তে চাও? আচ্ছা ছেড়ে দাও।”
চয়নের মুখে এই কথা শুনে আমি আরও রেগে গেলাম। রাগ এবং কান্নামিশ্রিত গলায় বললাম,“আমি নয় বরং তোমার কষ্ট হয়। খুব কষ্ট হয়। তুমি একজনকে খুব ভালোবেসেছো। তাকে পাওনি, তাই তার স্থানে আমাকে মানতে পারছো না। মেয়েটা তোমাকে হয়তো কষ্ট দিয়ে চলে গিয়েছে। আর সেটাই তুমি মানতে পারছো না। তাই তো তুমি আমার মাঝে তার বৈশিষ্ট্যগুলো খুঁজে বেড়াচ্ছো।”

এটা বলে আমি কান্নায় ভেঙে পড়লাম। আমার স্বামী, যাকে আমি আমার থেকে বেশি ভালোবাসি। সেই মানুষটি আমাকে ভালোবাসে না। অন্য কাউকে চায়। এটা আমার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আমি কষ্টে দুঃখে বললাম,“আমি তার মতো হয়তো সুন্দরী নই। আমি হতেও চাই না। যে রূপ এক বিবাহিত পুরুষের মাথায় গেঁথে থেকে তার স্ত্রীর সৌন্দর্য দেখতে দেয় না সেই রূপ আমার চাই না। আর না সেই স্বামী।তুমি যদি তাকে ছাড়া এতটাই অসহায়, আমাকে আমার মতো মেনে নিতে যদি এতই কষ্ট হচ্ছে তবে তার কাছেই ফিরে যাও।”
একটু থেমে আবার বললাম,“আমি জানি না তুমি কেন তাকে বিয়ে করতো পারোনি। কেনই বা আমার জীবনটা তোমার সঙ্গে জড়িয়ে নষ্ট করেছো। তবে আমি এটা আর মেনে নিতে পারবো না। আমার স্বামী আমাকে ভালোবাসে না। সে অন্য কাউকে ভালোবাসে। এতটাই গভীর ভালোবাসে বা গভীরভাবে তাকে চিনে যে সে আমার সঙ্গে বিশেষ সময় কাটানোর মূহুর্তে তাকে খুঁজছে৷ তার চোখ, নাক, মুখ খুঁজছে। হয়তো সেটার সঙ্গে আরও বিশেষ কিছু খুঁজছে। যেটা সে তার কাছে পেয়েছিলো কিন্তু আমার কাছে পায়নি।”

“তুমি ভুল ভাবছো প্রীতি।
আমি তোমায় ভালোবাসি না এমন নয়। তোমার সঙ্গে বিয়ের পর থেকেই আমার এক অদ্ভুত মায়ার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।”

“তার মানে আমি মিথ্যা বলছি এটা বলতে চাইছো?”
আমি চয়নের দিকে তাকিয়ে এই কথাটি বলতে চয়ন বলে,“না। তুমি মিথ্যা বলছো না। সবার জীবনেই কম বেশি অতীত থাকে। আমারও আছে। আমি হয়তো আমার সেই অতীত থেকে বের হতে পারেনি। তবে এখানে তার কোন দোষ নেই। দোষটা আমার। সবাই অতীত ভুলে যেতে পারলেও আমি পারছি না। কারণ আমার অতীতে যে মস্তবড় এক ভুল রয়েছে। আমি চাইলেও সেই ভুলটা কখনো শুধরাতে পারবো না। সেই ভুল শোধরাতে না পারার আফসোস আমার চোখের পাতায় শুধু তার মুখটা তুলে ধরছে। তাই হয়তো তোমার চোখের জায়গায় তার চোখটা না দেখতে পেয়ে একটু কষ্ট পাই। তার মানে এটা নয় আমি তোমাকে ভালোবাসি না। বাসি ভালো।”

“সে এখন কোথায়?”
আমার এই প্রশ্নটি হয়তো চয়নের ভালো লাগলো না। সে চুপ করে যায়। আমি আবার বলি,“সে তোমাকে ছেড়েছে নাকি তুমি ছেড়েছো?”

“দুটোই।
আমি আমার স্বার্থে তাকে ছেড়েছি আর সে নিয়তির কাছে হেরে গিয়ে আমাকে ছেড়েছে।”

“মানে?”
চয়নের এমন হেয়ালি করে বলা কথাটি আমি বুঝতে পারলাম না। চয়ন সেটা বুঝে মলিন গলায় বলে,“সে নেই। তাকে নিয়ে হিংসা করো না প্রীতি। সে তোমার জায়গায় কখনো আসবে না। তার প্রতি মনে রাগ, হিংসার জন্ম দিও না। সে কখনোই তোমার জগতে আসবে না। কারণ তার জগতে চয়ন খুব খারাপ মানুষ। তাই ভয় নেই।”
একটু থেমে চয়ন আবার বলে,“হ্যাঁ হয়তো আমার আচরণ তোমায় কষ্ট দেয়। তার জন্য আমি দুঃখিত। আমি সত্যি বলছি মনের অজান্তেই তার মুখটা তোমার উপর বসিয়ে ফেলি। কল্পনা করে ফেলি। আমার মনের এই ভাবনায় আমার নিয়ন্ত্রণ নেই প্রীতি। আমি চেয়েও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।”
এটা বলে চয়ন একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তার স্মৃতিতে অতীতের কিছু দৃশ্য ভেসে উঠে। সেগুলো ভাবতে তার শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায়। গায়ে কাটা দিয়ে উঠে। চয়নের এই পরিবর্তন দেখে আমি হতবাক হয়ে। খুব শান্ত গলায় বলি,“কী হয়েছিলো?”

“অনেককিছু।”
এটা বলে চয়ন আমাকে জড়িয়ে ধরে। খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চোখের পানি ছেড়ে দেয়। পুরুষ মানুষ সহজে কাঁদে না। যখন কান্না করে তখন তার যন্ত্রণা খুব গভীর হয়। আমি বুঝতে পারি চয়নের অতীতে থাকা সেই নারীর সঙ্গে তার মারাত্নক কষ্টের একটি গল্প রয়েছে। আমি নিজেকে সামলে বলি,“আমাকে তোমার অতীতের গল্পটা বলবে চয়ন? কী হয়েছে? কেনই বা তুমি তাকে ভুলতে পারছো না? আমাকে যদি ভালো বাসো তাহলে কেন তার কথা এত ভাবছো?”

“আমি না মস্তবড় ভুল করে ফেলেছি প্রীতি। অনেক বড় ভুল। যে ভুলের ক্ষমা হয় না। সেই ভুল করেছি।”
এটা বলে চয়ন আমাকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। বেশ কিছুক্ষণ পর চয়ন নিজেকে সামলে নেয়। সে শান্ত হয়ে যায়। আমি চয়নের মাথায় হাত রাখতে চয়ন শান্ত গলায় বলে,“এই দুনিয়ায় সবসময় খারাপ মানুষেরাই ভালো থাকে প্রীতি৷ আর ভালো মানুষেরা সবসময় দুঃখ নিয়ে বাঁচে। অতঃপর দুঃখ নিয়ে চলে যায়।”
এটা বলে চয়ন আমার চোখে চোখ রাখে। অতঃপর বলে,“আমার ভালোবাসার গল্প শোনার ধৈর্য তোমার হবে? যতই হোক তুমি আমার স্ত্রী। এটা সহ্য করা কোন মেয়ের পক্ষেই সম্ভব নয়। তবে আমি বলতে চাই। বুকের ভেতর অনেকদিন ধরে কথাগুলো জমিয়ে রেখেছি। কাউকে বললে হয়তো বুকের পাথরটা নেমে যাবে। তার স্মৃতিও হারিয়ে যাবে।”
কোন স্ত্রী হয়তো স্বামীর ভালোবাসার গল্প শুনতে চাইবে না। তবে আমি চাচ্ছি। আমারও জানতে হবে কেন আমার স্বামী আমাকে পেয়েও তাকে খুঁজছে। আমার ভালোবাসায় কোথায় ভুল রয়েছে যে সে আমার ভালোবাসার কাছে হার মানতে পারছে না। তাই আমি বললাম,“তুমি বলো চয়ন। আমি শুনতে চাই। আশা করি এই গল্পটা স্বামীর চোখে নিজের মাঝে কাউকে না পাওয়ার হতাশার চেয়ে বেশি কষ্টকর হবে না।”
আমার এই কথায় চয়ন মাথানত করে ফেলে। সে নিজের ভুল বুঝতে পারে। কিন্তু মনকে নিয়ন্ত্রণ যে করতে পারে না।

_____
অতীত,
’
’
’
চলবে,

মিথ্যে_নয় (১)
নুসরাত_জাহান_মিষ্টি

(কাল্পনিক গল্পে বাস্তবতা খুঁইজেন না প্লীজ। সবাই পড়ুন ভালো লাগা হিসাবে। কিছু শিখতে নয় দয়া করে।)

জগত সংসারপর্ব ০৩লেখক The Story Haven (শাহেদ খান)​নিজের ঘরের দরজাটা সজোরে বন্ধ করে দিয়ে আমি বিছানায় বসে রইলাম। বুকের ভেতর...
16/09/2026

জগত সংসার
পর্ব ০৩
লেখক The Story Haven (শাহেদ খান)

​নিজের ঘরের দরজাটা সজোরে বন্ধ করে দিয়ে আমি বিছানায় বসে রইলাম। বুকের ভেতরের কষ্টটা যেন দ্বিগুণ হয়ে চেপে বসল। আমি কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না—রুহির মতো মেয়ে, এত শিক্ষিত একটা মেয়ে, এই ধরনের নিচ আর অকৃতজ্ঞের মতো কথা কীভাবে মুখে আনতে পারলো? যে রুহিকে আমি আটটা বছর ধরে চোখের মণি করে আগলে রাখলাম, নিজের সব স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে যাকে বিসিএস ক্যাডার বানালাম, সেই মেয়ে আজ ক্ষমতার আর স্ট্যাটাসের গরমে অন্ধ হয়ে আমার বৃদ্ধ বাবা-মাকে বোঝা ভাবছে!

​বিছানায় বসে যখন ভাবনার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছি, তখন কিছুক্ষণ পর রুহি রুমে এসে আমার সামনে দাঁড়িয়ে একটু বিরক্তির সুরে বলল, "তুমি মায়ের সামনে ওভাবে এমন ব্যবহার করলে কেন? আমি এত কষ্ট করে দিন-রাত এক করে পড়ালেখা করে বিসিএস ক্যাডার হলাম, অথচ আমার এই ক্যারিয়ারের কোনো গুরুত্বই নাই তোমাদের কাছে! আমি ভেবেছিলাম বিসিএস-এর রেজাল্টটা হওয়ার পর অন্তত কয়েকটা দিন একটু মানসিক শান্তিতে ভালো কাটাব, তা-ও তোমার জন্য পারলাম না।"

​আমি চুপচাপ বসে রুহির মুখের দিকে তাকালাম। আজ আমার চোখের সামনে যে রুহি দাঁড়িয়ে আছে, তার সাথে গত আট বছর ধরে আমি যে রুহিকে চিনি, তার আকাশ-পাতাল পার্থক্য! এ যেন অন্য এক অচেনা, হৃদয়হীন নারী।

​আমি রুহির চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে শান্ত কণ্ঠে বললাম, "তোমার ক্যারিয়ার গুরুত্বপূর্ণ হলে আমার বাবা-মায়ের জীবন কি গুরুত্বপূর্ণ না, রুহি?"
​রুহি আমার এই হুট করে ছুড়ে দেওয়া প্রশ্নের কোনো উত্তর দিল না। একটু থমকে গিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।

​আমি রুহির দিকে তাকিয়ে আবার বলতে লাগলাম, "তুমি যখন বিসিএস-এর জন্য কঠিন পড়াশোনা করতে, তখনকার কথা কি তোমার মনে আছে? তোমার সেই পরীক্ষার দিনগুলোর কথা কি তুমি ভুলে গেছ?"
​রুহি কোনো কথা না বলে অপরা*ধীর মতো আমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল।

​আমি বুকের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘশ্বাসটা চেপে রেখে বলতে লাগলাম, "তুমি যখন রাত জেগে মনোযোগ দিয়ে পড়তে, তখন আমার দুটি অবুঝ বাচ্চা যেন তোমাকে একটুও বিরক্ত না করে, সেজন্য আমি নিজে ওদের সামলে অন্য ঘরে গিয়ে ঘুমিয়েছি। তুমি যখন পরীক্ষার হলে পরীক্ষা দিতে যেতে, আমি অফিসে যাওয়ার আগে নিজের কাজ ফেলে রেখে তোমাকে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছি। তুমি যখন ক্লান্ত হয়ে হতাশায় পড়তে, আমি তোমার হাত দুটো ধরে বলেছি—সংসারের কোনো চিন্তা তোমার করার দরকার নেই, তুমি শুধু পড়াশোনা করো। তখন আমি নিজে হাতে রান্না করে, বাচ্চাদের খাইয়ে তারপর অফিসে গিয়েছি। ক্যারিয়ার তো আমারও ছিল রুহি! আমি তো কোনো এনজিও ব্যাংকের মামুলি কর্মী হওয়ার কথা ছিলো না, আমারও স্বপ্ন ছিল আরও ওপরে ওঠার। কিন্তু তোমায় আর আমাদের সংসারটাকে ভালো রাখতে গিয়ে দিন-রাত পরিশ্রম করেছি।"

​রুহি এবার আর আমার দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারল না। মাথাটা নিচু করে নিচের দিকে তাকিয়ে রইল।

​আমি আবার বললাম, "আজ তুমি সফল হয়েছ। তুমি বিসিএস ক্যাডার হয়েছ, এতে আমি ভীষণ গর্বিত। কিন্তু তোমার এই সাফল্যের অজুহাতে যদি আমার জন্মদাতা বাবা-মায়ের প্রতি তোমার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়, তবে সেই সাফল্য আর এই বিসিএস ক্যাডার পরিচয় আমি কোনোদিন মেনে নিতে পারব না।"

​রুহি এবার একটু আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিচু গলায় বলল, "তুমি সবসময় সবকিছুকে এভাবে দায়িত্বের আর ত্যাগের হিসাব দিয়ে দেখছ কেন? আমি কি তোমার বাবা-মাকে ভালোবাসি না?"

​আমি একটা তিক্ত হাসির ছোঁয়া ঠোঁটে এনে বললাম, "ভালোবাসা শুধু মুখের ফাঁকা কথায় বোঝা যায় না রুহি, মানুষের বাস্তব আচরণে বোঝা যায়।"
​রুহি আমার কথার আর কোনো জবাব দিতে পারল না। মুখটা থমথমে করে নিঃশব্দে রুম থেকে বের হয়ে চলে গেল।

​আমি আর এক মুহূর্তও দেরি করলাম না। পকেট থেকে ফোনটা বের করে সোজা মায়ের নম্বরে ডায়াল করলাম।
ফোন ধরতেই আমি বললাম, "কেমন আছো মা?"
​ওপাশ থেকে মা একটা দুর্বল আর চিন্তিত গলায় বললেন, "আমি তো ভালোই আছি রে বাবা। তবে তুই কবে আসবি বল তো? তোর বাবার শরীরটা আবার একদম ভালো না। আজ দুপুর থেকে বুকটায় আবার তীব্র ব্যথা উঠেছে, সারাদিন বিছানায় নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছে।"

​মায়ের কথাটা শোনামাত্রই আমার বুকটা ভীষণভাবে কেঁপে উঠল। মাথার ভেতরটা কেমন ফাঁকা হয়ে গেল।
​আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, "আম্মা, তুমি একদম চিন্তা করো না। আমি কাল সকালেই গ্রামে আসছি। তোমায় আর আব্বাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসব। শহরে ভালো ডাক্তার দেখাব।"

​সেদিন রাতে রুহি আমার পাশে এসে শুলেও আমরা দুজন দুজনের দিকে পিছন ফিরে রইলাম। সারারাত ও আর একটা শব্দও আমার সাথে বলল না। এক দমচাপা নীরবতায় রাতটা কেটে গেল।

​পরদিন সকালে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম। ফ্রেশ হয়ে গ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে দরজা খুলতে যাব, ঠিক তখনই রুহি পেছন থেকে এসে বলল, "এত সকালে কই যাও?"

​আমি পেছনে তাকিয়ে বললাম, "বাবার বুকের ব্যথা আবার বেড়েছে। তাই আব্বা-আম্মাকে আনতে গ্রামে যাচ্ছি। শহরে এনে কোনো বড় ডাক্তারকে দেখাতে হবে।"
​রুহি মুখখানা ভার করে দাঁড়িয়ে রইল, আর কোনো কথা বলল না। আমি আর দেরি না করে সোজা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে গেলাম।

​কয়েক ঘণ্টার জার্নি শেষে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেই আব্বা আর আম্মাকে বললাম, "তোমরা আর দেরি করো না, জামাকাপড় গুছিয়ে নাও। শহরের বাসায় যাব।"
​আব্বা-আম্মা যখন জামাকাপড় রেডি করছিলেন, তখন আমি স্মৃতিঘেরা পুরোনো টিনের বাড়িটা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম। আব্বা-আম্মাকে আনন্দের সাথে বললাম, "জান আম্মা, রুহি কিন্তু বিসিএস ক্যাডার হয়েছে! অনেক বড় চাকরি পেয়েছে ও।"

​আমার কথা শুনে বৃদ্ধ আব্বা-আম্মার চোখ দুটো আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ছেলে আর বউমার উন্নতিতে তারা গ্রামের মানুষদের ডেকে যেন বলতে চাইলেন। তাদের সেই সরল হাসিমুখ দেখে আমার বুকের ভেতর কষ্টটা আরও দ্বিগুণ হয়ে গেল।

​বিকেলের বাসে চেপে আব্বা-আম্মাকে সাথে নিয়ে যখন আমাদের শহরের ভাড়া বাসায় পৌঁছালাম, তখন প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে।
​কলিংবেলের শব্দ পেয়ে রুহি এসে দরজা খুলে দিল। আব্বা-আম্মাকে দরজায় দেখেই ও মাথার শাড়ির আঁচলটা টেনে একটু মাথায় কাপড় দিয়ে নিচু হয়ে সালাম দিল।
​আম্মা পরম মমতায় বললেন, "কেমন আছো বউমা?"
​রুহি ভেতরে ঢোকার রাস্তা ছেড়ে দিয়ে কৃত্রিম একটা হাসি মুখে এনে বলল, "আমি ভালো আছি আম্মা। আপনারা কেমন আছেন? আসতে কোনো কষ্ট হয়নি তো?"

​আব্বা একটু কাশতে কাশতে বললেন, "আমরা ভালো আছি মা। তোমার নাকি অনেক বড় সরকারি চাকরি হয়েছে? শাহেদ বলছিল। শুনে আমাদের যে কী আনন্দ হয়েছে, তা বলে বোঝাতে পারব না। অনেক বড় হও মা।"

​রুহি বিনয়ের ভান করে বলল, "জি বাবা, দোয়া করবেন। তা আপনার নাকি অসুস্থতা আবার বেড়েছে?"

​আব্বা একটু ধীর গলায় বললেন, "হ্যাঁ মা, একটু বেড়েছে। বুকের ভেতরটা মাঝে মাঝেই বড্ড চাপ দিয়ে ব্যথা করে। বয়স তো কম হলো না, শরীরের কলকব্জা ঢিলে হয়ে গেছে।"

​আব্বা কথাটি শেষ করার আগেই পাশের রুম থেকে আমার শাশুড়ি বেশ আড়ম্বর করে হেলেদুলে বের হয়ে এলেন। তিনি আব্বার কথার ওপর ফোঁড়ন কেটে খোঁচা দিয়ে বলে উঠলেন, "হ্যাঁ, একদম ঠিকই বলেছেন বেয়াই সাহেব! বয়স হলে তো শরীরে এমন একটু-আধটু ব্যথা-বেদনা হতেই পারে। এটা তো স্বাভাবিক বিষয়, কিন্তু এখনকার ছেলেরা তো আর এসব বোঝে না! কথায় কথায় হুটহাট ডাক্তার আর হাসপাতালের দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেয়।"

​কথাটি সরাসরি আমার দিকে তাকিয়ে বেশ তাচ্ছিল্যের সাথে বললেন রুহির মা।

​আব্বা শাশুড়ির কথার পেছনের বিষাক্ত ইঙ্গিত বুঝতে না পেরে অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে বললেন, "তা ঠিকই বলেছেন বিয়ানী। তা আপনি কেমন আছেন?"

​রুহির মা কপালে একটা বিরক্তির ভাঁজ ফেলে, অবহেলার সুর এনে বললেন, "ভালোই আছি, আর ভালো না থেকে উপায় কী বলুন? আমার মেয়েটা এতদিন র**ক্ত পানি করে এত কষ্ট করে পড়াশোনা করে বিসিএস ক্যাডার হলো শুধুই আমার দোয়ায়! আমার মোনাজাতে তো সবসময় রুহির নামটাই সবার আগে থাকত। আমার তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে আমি তো এই রুহিটাকেই সবথেকে বেশি ভালোবাসি।"

​শাশুড়ির মুখের এই চরম মিথ্যা আর ঢং দেখে আমি হাঁ করে রুহির দিকে তাকালাম। আমার দৃষ্টি টের পেয়ে রুহি নিজের মুখটা নিচু করে মেঝের দিকে তাকিয়ে রইল।

​আমার মনের ভেতর তখন ক্ষো*ভ আর ঘৃ*ণার ঝড় বইছে। আমি মনে মনে ভাবতে লাগলাম—এই মহিলা এত বড় বহুরূপী আর পল্টিবাজ কীভাবে হতে পারে! যে মহিলা বিগত আটটা বছরের মধ্যে ফোন করে রুহির পড়াশোনা বা সংসারের খোঁজ নেয়নি! আমার দুটো সন্তান হওয়ার সময় যখন রুহি যন্ত্র*ণায় ছটফট করত, তখন এই শাশুড়ি একদিনের জন্যও এসে মেয়ের পাশে দাঁড়াননি বা বাচ্চাদের একটু কোলে নেননি।

​অথচ আমার এই বৃদ্ধা মা—রুহির সন্তান হওয়ার পর থেকে টানা ছয়টা মাস নিজের শারীরিক অসুস্থতা ভুলে আমাদের বাসায় পড়ে থেকেছেন। বাচ্চার কাঁথা-কাপড় ধোয়া, তেল মালিশ করা থেকে শুরু করে রুহির পথ্য রান্না—সব আমার মা নিজের হাতে পরিষ্কার আর তৈরি করেছেন। আর আজ রুহি বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পর এই মহিলার যেন দরদ উথলে পড়ছে! সাফল্যের ভাগের সিংহভাগ এখন ওনার মোনাজাতের ফসল!

​ঠিক তখনই ড্রয়িংরুমে আমার ছেলে মেয়েরা দৌড়ে বের হয়ে এসে তাদের দাদা দাদিকে জড়িয়ে ধরল। আব্বা বুক ভরা তৃপ্তি নিয়ে দুই নাতি-নাতনিকে জড়িয়ে ধরে কপালে চুমু খেলেন।
​কিন্তু আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম, এই আনন্দের মুহূর্তটির মধ্যেও ড্রয়িংরুমের এক অদৃশ্য বি*ষাক্ত হিং*সা আর অশান্তির বা*রুদ জমা হচ্ছে। রুহির মায়ের এমন শীতল দৃষ্টিভঙ্গি জানান দিচ্ছিল, আমার জন্মদাতা বাবা-মায়ের এই বাসায় আগমনকে তারা কিছুতেই সহজভাবে মেনে নেয়নি

​(চলবে...)

কেমন লাগলো এই পর্ব?

Address

Dhaka
1236

Telephone

+8801641574622

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Emon Food Center posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Emon Food Center:

Shortcuts

Share