03/10/2026
বেনাপোল ইমিগ্রেশনে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ, এআরও মিজানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি।।
©প্রজন্ম চব্বিশ
বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট কাস্টমস ইমিগ্রেশনের স্ক্যানিং পয়েন্টে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট যাত্রীদের হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের স্ক্যানিং পয়েন্টে প্রায় দুই দিন আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ওই কর্মকর্তা দেশি-বিদেশি পাসপোর্ট যাত্রীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছেন। এ ঘটনায় কাস্টমস কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী যাত্রী।
অভিযোগকারীদের দাবি, কাস্টমস স্ক্যানারে ব্যাগেজ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরও কোনো কোনো যাত্রীর ব্যাগ টেনে ধরে পুনরায় মালামাল বের করে টেবিলে ফেলা হচ্ছে। এমনকি প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রসহ ব্যক্তিগত সামগ্রীও বের করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
এ ছাড়া স্ক্যানিংয়ের পর যাত্রীদের দীর্ঘ সময় আটকে রেখে ব্যক্তিগত ও অপ্রাসঙ্গিক বিভিন্ন প্রশ্ন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। শারীরিকভাবে অসুস্থ বা সামর্থ্যহীন যাত্রীদের ব্যাগ পুনরায় গুছিয়ে নিতে সহযোগিতা না করে নিজেরাই ব্যাগ গোছাতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন যাত্রী।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ভারত থেকে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার সময় বেনাপোল পোর্ট থানার ভবেরবেড় গ্রামের বাসিন্দা নুর ইসলামও এমন আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
নুর ইসলাম বলেন, ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কাস্টমস স্ক্যানিং পয়েন্ট পার হওয়ার সময় এআরও মিজানুর রহমান তার ব্যাগ টেনে ধরেন। পরে প্রায় এক ঘণ্টা আটকে রেখে ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার কারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নুর ইসলামের ভাষ্য, “কেন ভারতে চিকিৎসা করাতে গেলাম, দেশে কি চিকিৎসা হয় না—এ ধরনের প্রশ্ন করা হয়েছে। আমার মতো আরও অসুস্থ ও সাধারণ যাত্রীকেও একইভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।”
তার দাবি, ঘটনাটি ওই এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করলে যাচাই করা সম্ভব।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, স্ক্যানিং পয়েন্টে ওই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে সেখানে দায়িত্ব পালনকারী কয়েকজন কাস্টমস সদস্যের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ওই কর্মকর্তার আচরণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কর্মস্থলে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
এদিকে, পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও কয়েকজন যাত্রীও একই ধরনের হয়রানি ও মৌখিক লাঞ্ছনার অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে সরেজমিনে গিয়ে এআরও মিজানুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
ভুক্তভোগী পাসপোর্ট যাত্রীরা বেনাপোল আন্তর্জাতিক কাস্টমস ইমিগ্রেশনে অসুস্থ, বয়স্ক ও সাধারণ যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।