13/07/2026
⚠️ সত্য প্রকাশ ও বিভ্রান্তি নিরসনকল্পে একটি বিবৃতি: হলের প্রকৃত ঘটনা ও আমাদের অবস্থান
সম্প্রতি একটি ফেসবুক পেইজ থেকে আমাদের হল এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জড়িয়ে কিছু সম্পূর্ণ অসত্য, অতিরঞ্জিত এবং কুরুচিপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। হলের সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে সত্যকে আড়াল হতে না দেওয়া এবং প্রকৃত বাস্তবতাকে সবার সামনে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব। নিচে ঘটনার আসল সত্যটি বিস্তারিতভাবে পেশ করা হলো:
সেদিনের আসল ঘটনা ও প্রশাসনিক আদেশের সত্যতা:
উক্ত দিনটিতে খেলার সময় দায়িত্বরত গার্ড (নিরাপত্তাকর্মী) কিছু সময়ের জন্য খেলা বন্ধ রাখতে বলেছিলেন, এটি সত্য। তবে তিনি সম্ভবত 'চীফ প্ল্যানিং' অফিস থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনার আলোকে এই অনুরোধ করেছিলেন।
উল্লেখিত পেইজের পোস্টে যেভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হয়েছে যে—হল প্রভোস্ট অফিস কিংবা মাননীয় উপাচার্য (ভিসি) মহোদয়ের কার্যালয় থেকে খেলাধুলার ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ এসেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। প্রশাসন থেকে এমন কোনো আদেশ সেদিন আসেনি।
এখন আসল কথায় আসেন,
প্রকৃত বিষয় হলো, বিইউপি আবাসিক এলাকা ঘিরে বর্তমানে বিশাল উন্নয়ন ও নির্মাণযজ্ঞ চলছে। এখানে একেকটি সুনির্দিষ্ট কাজের জন্য আলাদা আলাদা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (Contractor) নিয়োজিত রয়েছে। যেমন আবাসিক এলাকার সৌন্দর্য বর্ধন এবং বাগান (গার্ডেনিং) তৈরির জন্য একটি পৃথক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তারা জমি প্রস্তুত করেছে, ঘাস লাগিয়েছে এবং চারপাশের বিভিন্ন গাছ রোপণ করে সেগুলোর যত্ন নিচ্ছে।
যেহেতু এই সৌন্দর্য বর্ধন প্রজেক্টের কাজ এখনো চলমান এবং বিইউপি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে 'হ্যান্ড ওভার' (হস্তান্তর) করা হয়নি, তাই চুক্তি অনুযায়ী কাজ পুরোপুরি ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন করলেই কেবল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি তাদের বিল পাবে। সাধারণত বিইউপির ক্যাম্পাসে সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিজস্ব মালি বা গার্ডেনাররা কাজ করলেও, এই প্রজেক্টটি এখনো বুঝিয়ে না দেওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনো মালি সেখানে এখনো নিয়োজিত করা হয়নি।
এখন পয়েন্টে আসেন,
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আপত্তি ও বর্তমান মাঠের পরিস্থিতি:
ঘটনার দিন যখন শিক্ষার্থীরা ওই জায়গায় খেলছিল, তখন নতুন রোপণ করা ঘাস ও বাগানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি স্বাভাবিক নিয়মেই 'চীফ প্ল্যানিং' এর কাছে আপত্তি জানায়। এটিই তো স্বাভাবিক, কারণ প্রজেক্টটি সঠিকভাবে বুঝিয়ে দিতে না পারলে তারা তো বিল পাবে না। এই আপত্তির প্রেক্ষিতেই মূলত গার্ড সাময়িকভাবে খেলা বন্ধ করার অনুরোধ করেছিলেন।
তাছাড়া, হলের দক্ষিণ পাশের এই নির্দিষ্ট জায়গাটি মূলত কোনো খেলার মাঠ নয়, এটি একটি খোলা জায়গা যা স্থায়ীভাবে সৌন্দর্যবর্ধন ও বাগান হিসেবেই গড়ে তোলা হবে। যেহেতু ছেলেদের হলের মূল খেলার মাঠটি এখনো প্রস্তুত নয়, তাই সাময়িকভাবে শিক্ষার্থীরা এই খোলা জায়গায় খেলছিলো।
হলের ঠিক সামনের অংশটিতে একটি সুবিশাল ও মনোরম খেলার মাঠ তৈরি করা হবে। এতদিন সেখানে নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছিল এবং শ্রমিকরা ঘর বানিয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছিল। বর্তমানে যেহেতু কনস্ট্রাকশনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, তাই অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন খেলার মাঠ তৈরির কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
আমাদের মূল পয়েন্ট ও চূড়ান্ত অবস্থান:
আমরা হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হয়েছি যে, হলের কোনো শিক্ষার্থী উক্ত পেইজে উল্লেখিত কুরুচিপূর্ণ বা ভিত্তিহীন বক্তব্য প্রদান করেনি। উক্ত পেইজটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বার্থে বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি সাধারণ বিষয়কে অতিরঞ্জিত করে এবং মিথ্যা যুক্ত করে প্রকাশ করেছে। আমরা এটাও নিশ্চিত হয়েছি যে উক্ত পেজটির সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ হলের স্টুডেন্ট নয়। অর্থাৎ সত্য না জেনে বাহির থেকে হলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। একইসাথে হলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার অনুরোধ রইলো।
আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট, শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের অধিকার রয়েছে যেকোনো যৌক্তিক প্রয়োজনে আওয়াজ তোলার এবং গঠনমূলক সমালোচনা করার। আমরা অবশ্যই আমাদের অধিকারের পক্ষে কথা বলব। কিন্তু কোনো অসত্য, অতিরঞ্জিত এবং কুরুচিপূর্ণ মিথ্যাচারকে আমরা কখনোই সমর্থন করতে পারি না।
"আমরা তো আমাদের শত্রুর সাথেও ইনসাফ চাই।" কোনো ব্যক্তি বা প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার এই নোংরা মানসিকতাকে আমরা তীব্রভাবে ধিক্কার জানাই।
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারার ৪২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
"তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-বুঝে সত্য গোপন করো না।" [সূরা আল-বাকারাহ: ৪২]