10/12/2025
অসুস্থতা থেকে মুক্তির দোয়ালিস্টঃ
এই দু’আলিস্টে যে দু’আর ভাষা আমি ব্যবহার করবো, তা নিজের জন্য এবং অন্যের জন্য প্রযোজ্য। নিজের জন্য দু’আ করার সময় ‘আমাকে’ ও অন্যের জন্য দু’আ করার সময় ‘তাকে’ বলে দু’আ করবেন।
লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ্!
❑ ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম,ইয়া আশ-শাফিই, আমাকে পরিপূর্ণ সুস্থতা দাও।
❑ আমাকে দীর্ঘ নেক হায়াত দাও। আমার তাকদিরে খারাপ কিছু থাকলে তা আফিয়াতের সাথে মুছে দাও।
❑ আমাকে আফিয়াতের সাথে বৃদ্ধ বয়স অবধি উপনীত করো। আমার যদি হায়াত কম ও থাকে, তবে তুমি তোমার নিজ কুদরতে বাড়িয়ে দাও আফিয়াতের সাথে।
❑ আমাকে শারীরিক ও মানসিক সম্পূর্ণ সুস্থতা দাও। প্রতিটা অঙ্গের পরিপূর্ণতা দাও। নিরাপত্তা দাও।
❑ হে আমার আল্লাহ! তুমি তো সেই রব্ব, যে আইয়ুব নবীকে দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি দিয়েছিলে। তুমি তো আমার সেই রব্ব, যে মূসা নবীর জন্য সাগরের মাঝে রাস্তা বানিয়ে দিয়েছিলে। তোমার কাছে তো কোনো কিছুই অসম্ভব না রব্ব। দয়া করে আমাকে সুস্থ করে দাও।
❑ তোমার পবিত্র নামের উসিলায় আমার শরীরের প্রতিটা কোষকে আফিয়াতের সাথে রোগমুক্ত করো।
❑ তোমার ইজ্জতের কসম! তুমি আমার এমন রব্ব, যে ‘হও’ বললে হয়ে যায়। আমাকে আর সবরের পরীক্ষা নিও না আল্লাহ। সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতার জীবন দাও। আমার দুঃখগুলো দূর করে দাও।
❑ আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি তোমার মর্যাদার ও ক্ষমতার, আমাকে তুমি রক্ষা করো সকল শয়তান থেকে, সকল ক্ষতিকারক পোকামাকড় ও প্রাণী থেকে। এবং তোমার সৃষ্টির সকল অনিষ্ট থেকে।
❑ আল্লাহ গো! তুমিই তো শিফা দাও। তোমার শিফা ছাড়া আর কোনো শিফা নেই। তুমি ছাড়া আর কোনো ডাক্তার/কবিরাজ কিছুই করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, একমাত্র তোমার হাতেই সকল ক্ষমতা। আমাকে রহম করো। আমাকে এমনভাবে শিফা দাও,যার পরে আর কোনো অসুস্থতা-রোগ অবশিষ্ট থাকবে না। কে আছে তুমি ছাড়া, যে আমাকে সুস্থতার স্বাদ আস্বাদন করাবে!
❑ আমার প্রতিটা কোষ, শিরা-উপশিরায় তুমি সুস্থতা দাও।
❑ আমাকে এমন কষ্ট দিও না রব্ব, যা আমার ইমানকে সংকটে ফেলবে৷ আমার অন্তর বিধ্বস্ত করে দিবে, আমার শরীর ভাঙিয়ে দিবে, আমার আমলে ঘাটতি আনবে। অসহায় অসুস্থতা থেকে পানাহ চাই মাবুদ!
❑ শারীরিক অসুস্থতার দরুন আমি তোমার ইবাদতে মনোনিবেশ করতে পারছি না। আমাকে তোমার ইবাদত সুন্দরমতো করার তওফিক দাও।
❑ শহিদী মর্যাদাপ্রাপ্ত সাহাবিদের মতো শারীরিক ও মানসিক শক্তি দাও।
❑ আমি তোমার আশ্রয় নিচ্ছি কষ্টদায়ক বিপদ, গভীর দুর্ভাগ্য, খারাপ তাকদির হতে।
❑ আমাকে কেবলমাত্র তোমারই মুখাপেক্ষীই রেখো। এমন কোনো রোগ-বালাই বা হালত দিও না, যাতে আমাকে সৃষ্টির মুখাপেক্ষী হতে হবে। তুমিই আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাও।
❑ আমার কোনো ভুল/পাপের কারণে আমাকে শাস্তি দিও না। আমাকে ক্ষমা করো। রহম করো৷ পবিত্র রিজিক দান করো৷ আমাকে প্রতিটা সেকেন্ড উত্তম হালতে রাখো৷
❑ রব্বে করিম! আকুতিভরে তোমার কাছে চাইতে পারিনি। তোমার খেয়ে-পরে অন্যের গোলামী করেছি, করছি। কিন্তু রব্ব, তুমি তো আমার রব্ব। আমি নিজেকে যতটা না ভালো বুঝি, তুমি আমার চেয়ে বহুগুণ বেশি বুঝো৷ তুমি তো বোবার ভাষাও বুঝতে পারো। তুমি আমার এমন রব্ব, যার ক্রোধের চেয়ে দয়া বড়। তুমি শয়তানের দুআও ফেরাও নি। সেখানে আমি গোলামের দুআ কি কখনোই ফেরাবা? আমি জানি, তুমি আমার দুআ কবুল করবেই। তুমি আমাকে আফিয়াতের সাথে পরিপূর্ণতা সুস্থতা দিবেই। কারণ তুমি আমাকে আমার চেয়ে বেশি ভালোবাসো। তুমি আমাকে কষ্ট দিতে চাও না।
মালিক আমার! যদি আমার রিজিক ফুরিয়ে যায়, তবে আফিয়াতের সাথে আমার রিজিকে অঢেল বারাকাহ্ দাও। আমাকে দীর্ঘ নেক হায়াত দাও। তোমাকে আরো ক'টা বছর,বৃদ্ধ বয়স অবধি সিজদাহ্ দেওয়ার তওফিক দাও। তোমার দ্বীনের খেদমত করার তওফিক দাও। তুমি আমাকে ফেরার সুযোগ দাও একটাবার। সুস্থতা দাও। আমি আজীবন তোমারই গোলামী করে যাবো। তুমিই তো বলেছো, তুমি তোমার বান্দার ডাকে সাড়া দাও। তুমিই বলেছো, তুমি দু’আ দিয়ে তাকদিরকে পরিবর্তন করো। আমি অধমের দু’আগুলোও আফিয়াতের সাথে কবুল করে নাও।
☞ এছাড়া অসুস্থতা থেকে মুক্তি পেতে—
❑ আইয়ুব নবীর দু’আটা বেশি বেশি পড়বেন। দু’আ কবুলের সময়, সিজদাহ্তে পড়বেন।
❑ বেশি বেশি গোপন সদকাহ্ করবেন৷ রোগী নিজে সদকাহ্ করবেন বা ওনার পক্ষ থেকে যে-কেউ সদকাহ্ করতে পারবেন।
❑ সূরা ফাতিহা পড়ে বারবার নিজেকে ফুঁক দিবেন। রোগী যদি নিজে পড়তে না পারেন, অন্য কেউ পড়ে ফুঁক দিবেন। পানিতে ফুঁক দিয়েও খাওয়াবেন।
❑ রুকইয়াহ রিলেটেড সমস্যা থাকলে রাক্বির শরণাপন্ন হওয়া উচিত৷ কারণ কিছু কিছু অসুস্থতা জ্বিন-জাদুর সমস্যা থেকে আসে। সকালে সাতটা আজওয়া খেজুর খেলে সারাদিন কোনো বিষ/জাদু ক্ষতি করতে পারে না৷
❑ রোগীকে বেশি বেশি কুরআন তিলওয়াত শুনতে দিবেন। কারণ, কুরআন পুরোটাই শেফা।
❑ মধু, অলিভ অয়েল, কালোজিরা এসবে যদি রোগীর কোনো সমস্যা না থাকে, ডাক্তার যদি অনুমোদন দেন, তবে সুস্থতার জন্য এসব খাবার খেলে উপকার মিলবে ইংশাআল্লাহ্।
❑ যমযমের পানি যে নিয়্যাতে খাওয়া হয়, তা-ই আল্লাহ পূরণ করেন। অসুস্থতা থেকে মুক্তির জন্য প্রতিদিন অল্প হলেও যমযমের পানি খেলে ভালো হবে ইংশাআল্লাহ্।
❑ ইস্তেগফারে সুস্থতা আসে। সুস্থতা এক ধরনের রিজিক। সহীহ্ হাদিসে (হাকিম,১/৬৭০) এসেছে, গুনাহ করার ফলে মানুষ রিযক থেকে বঞ্চিত হয়৷ তাই অসুস্থতা থেকে বাঁচতে এবং রিজিকে বারাকাহ্ পেতে বেশি বেশি ইস্তেগফার করতে হবে। রোগী ইস্তেগফার করতে না পারলে অন্য যে-কেউ রোগীর জন্য ইস্তেগফার করতে পারবে। যেমন- “আল্লাহ! আমার অমুক বোনকে ক্ষমা করো। তার গোপন, প্রকাশ্য, জানা-অজানা, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় করা সকল পাপ তুমি মুছে দাও। তাকে পরিপূর্ণ সুস্থতা দাও।”
❑ কেউ যদি চায় যে তার হায়াতে, রিজিকে বারাকাহ্ আসবে, তবে তার উচিত আত্মীয়তার সম্পর্কের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া এবং বেশি বেশি দুরুদ পাঠ করা।
❑ হাদিসে কিছু দু’আ বর্ণিত আছে, যে দু’আগুলোর মাধ্যমে সকল খারাপ কিছু থেকে পানাহ চাওয়া হয়েছে।
❑ দু’আ কবুলের সময়গুলোতে, বিশেষ করে শেষ রাতের সিজদাহ্তে, আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়, ফরজ নামাজের পর, ইসমে আজম পাঠ করে, জুমআর দিন আসর থেকে মাগরিবের সময়, আল্লাহকে কেঁদে কেঁদে ডাকতে হবে। আল্লাহর কাছে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে চাইলে, আল্লাহ তাঁর বান্দাকে কখনোই খালি হাতে ফেরান না৷
জানি না কতটুকু গুছিয়ে লিখতে পেরেছি। যা কিছু উত্তম, তা কেবলমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে। যা কিছু মন্দ, তা আমারই নিজের ত্রুটি, গাফিলতি। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন। দুনিয়া ও আখিরাতে আফিয়াহ্ দিন, আমিন🤲