17/09/2026
চামড়ার রঙ নয়, যোগ্যতাই আসল: বগুড়ার সেই মেধাবী সাংবাদিক ও আমাদের সমাজ-
নিজস্ব প্রতিবেদক | হরিজন সারাক্ষণ
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে **‘রূপসী বাংলা টিভি’**র একটি ইন্টারভিউ ভিডিও বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বগুড়ার এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নেওয়া এই সাক্ষাৎকারে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণী সাংবাদিকের চমৎকার বাচনভঙ্গি এবং সাবলীল উপস্থাপনা নজর কেড়েছে সচেতন মহলের।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক বিষয় হলো, ভিডিওটির কমেন্ট সেকশনে একশ্রেণির মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য ও ‘হা হা’ রিয়েক্টের ঝড় উঠেছে। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও মানুষের বাহ্যিক রূপ ও গায়ের রঙ নিয়ে এমন উপহাস প্রমাণ করে, সমাজের একটি অংশের মানসিকতা কতটা নিচে নেমে গেছে।
পুরো ইন্টারভিউ জুড়ে ওই তরুণী সাংবাদিকের শব্দের চয়ন, স্পষ্ট উচ্চারণ এবং আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি ছিলো এককথায় অসাধারণ। কথার মধ্যে কোনো জড়তা বা আঞ্চলিকতার অহেতুক টান না রেখে যেভাবে তিনি সাবলীলভাবে কথা বলেছেন, তা যেকোনো প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের রিপোর্টারকেও হার মানাবে।
ক্যামেরা ও জনসমক্ষে ভয়হীন চিত্তে তথ্য তুলে ধরার এই মুন্সিয়ানা তো একজন দক্ষ সাংবাদিকের আসল গুণ। অথচ একটি কুচক্রী মহল তাঁর এই পেশাদারিত্ব ও মেধাকে মূল্যায়ন না করে মেতে উঠেছে গায়ের রঙ নিয়ে কটূক্তিতে।
আমাদের সমাজ আজও “ফর্সা মানেই সুন্দর” এই নোংরা ও আদিম ধারণা থেকে বের হতে পারেনি। গায়ের রঙ কালো হলে বা বাহ্যিক রূপ তথাকথিত মানদণ্ডে না মিললে তাকে কম যোগ্য মনে করার যে অন্ধত্ব, তা একধরনের মানসিক ব্যাধি। মুখ দিয়ে গঠনমূলক কথা বলতে না পেরে অন্যের চেহারা নিয়ে ট্রল করা অসুস্থ মানসিকতার লক্ষণ। যাদের নিজেদের কোনো সৃষ্টিশীলতা বা যোগ্যতা নেই, তারাই কেবল অন্যের বাহ্যিক রূপ নিয়ে হাসাহাসি করার সাহস পায়।
অবহেলিতদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা
এই তরুণী সাংবাদিক প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, মনের জোর এবং কাজের দক্ষতা থাকলে চামড়ার রঙ কস্মিনকালেও কোনো বাধা হতে পারে না। সমাজ যেখানে প্রতিনিয়ত গায়ের রঙ দিয়ে মানুষের মাপকাঠি নির্ধারণ করতে চায়, সেখানে তিনি নিজের পাহাড়সম আত্মবিশ্বাস দিয়ে সেই দেয়াল গুঁড়িয়ে দিয়েছেন।
রূপ তো চিরস্থায়ী নয়, কদিন বাদেই তা ম্লান হয়ে যায়; কিন্তু মানুষের গুণ, মেধা এবং ব্যক্তিত্বের আলো কখনো নেভে না। গায়ের রঙে কিচ্ছু আসে যায় না, আসল জোর থাকে মগজে আর যোগ্যতায়।
বগুড়ার এই অদম্য তরুণী সাংবাদিক আজ শুধু একা নন, তিনি দেশের সেই সব মানুষের প্রতিনিধি যারা গায়ের রঙের কারণে যুগে যুগে অবহেলা ও কটূক্তির শিকার হয়েছেন।
তাঁর এই সাহসী পথচলা চামড়া-বিলাসী সমাজকে এক মোক্ষম জবাব। ওই তরুণীর জন্য রইল মন থেকে অজস্র শুভকামনা। এভাবেই তিনি তাঁর ধারালো উপস্থাপনা ও মেধা দিয়ে এগিয়ে যান, আর সমাজ থেকে ঘুচিয়ে দিক রূপসর্বস্বতার গোঁড়ামি।
-
#বর্ণবাদী