14/01/2026
এক জঙ্গলে একদিন গাছগুলো খুব আনন্দে ছিল। ঝড়-বৃষ্টি, রোদ—সব সহ্য করেও তারা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ একদিন মানুষ এলো কুঠার হাতে। কুঠারের ধারালো লোহা দেখে গাছগুলো ভয় পেল, কিন্তু আশ্চর্যভাবে কুঠারের হাতলটা ছিল কাঠের।
একটা বুড়ো গাছ ফিসফিস করে বলল,
“ভয় নেই, ও আমাদেরই একজন। কাঠের হাতল তো আমাদের ভাই।”
গাছেরা তাই আর প্রতিবাদ করল না। কুঠার একে একে গাছ কাটতে লাগল। প্রতিবার আঘাতে লোহা কাজ করত, কিন্তু শক্তি পেত সেই কাঠের হাতল থেকেই। কিছুক্ষণ পর জঙ্গল ফাঁকা হয়ে গেল।
শেষে শুধু সেই বুড়ো গাছটা দাঁড়িয়ে রইল। সে বুঝতে পারল—
শত্রু বাইরের লোহা নয়, শত্রু ছিল ভেতরের বিশ্বাসঘাতকতা।
সে আকাশের দিকে তাকিয়ে ধীরে বলল,
“যে নিজের কাঠ দিয়ে শত্রুকে শক্তি দেয়, তার ধ্বংস ঠেকানোর আর কেউ থাকে না।”
চাও তো আমি এটাকে আরও ছোট, শিশুতোষ, বা আরও গভীর দার্শনিক গল্প হিসেবেও লিখে দিতে পারি।
Aro ektu boro koroq
ঠিক আছে, গল্পটা একটু বড় করে দিচ্ছি—
এক ঘন সবুজ জঙ্গল ছিল নদীর ধারে। সেই জঙ্গলের গাছগুলো শুধু গাছ ছিল না—তারা ছিল একে অপরের বন্ধু, পরিবার। কেউ ছায়া দিত, কেউ ফল, কেউ কাঠ—সবাই মিলেই জঙ্গলটা ছিল জীবন্ত।
প্রতিদিন ভোরে পাখিরা গান গাইত, বাতাস পাতার ফাঁকে ফাঁকে গল্প করত। গাছেরা ভাবত, “আমরা থাকলে জঙ্গল থাকবে, জঙ্গল থাকলে জীবন থাকবে।”
একদিন দূর থেকে মানুষের পায়ের শব্দ শোনা গেল। হাতে তাদের চকচকে লোহা—কুঠার। গাছগুলো ভয় পেল। কিন্তু একটু ভালো করে তাকিয়ে তারা অবাক হলো—কুঠারের ধারালো অংশ লোহার হলেও, তার হাতলটা কাঠের।
একটা তরুণ গাছ বলল,
“ভয় পেও না। ও তো আমাদেরই একজন। কাঠ ছাড়া কুঠার চলে নাকি?”
এই বিশ্বাসেই গাছেরা চুপ করে রইল।
কুঠার চলতে শুরু করল।
প্রথম আঘাতে একটা গাছ পড়ল।
দ্বিতীয় আঘাতে আরেকটা।
লোহা আঘাত করছিল, কিন্তু শক্তি পাচ্ছিল কাঠের হাতল থেকে। প্রতিটি গাছ পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জঙ্গল নিস্তব্ধ হয়ে যাচ্ছিল। পাখিরা উড়ে গেল, বাতাস থেমে গেল, ছায়া হারিয়ে গেল।
শেষে শুধু এক বৃদ্ধ গাছ দাঁড়িয়ে রইল। সে বহু ঝড় দেখেছে, বহু বৃষ্টি সহ্য করেছে। সে বুঝে গেল সত্যটা।
সে ধীরে ধীরে বলল,
“শত্রু কখনোই শুধু বাইরে থেকে আসে না।
সবচেয়ে ভয়ংকর শত্রু সে,
যে আমাদেরই অংশ হয়ে আমাদের ধ্বংসের হাতিয়ার হয়।”
কুঠার আবার উঠল। বৃদ্ধ গাছটা পড়ার আগে আকাশের দিকে তাকিয়ে শেষ কথাটা বলে গেল—
“যে নিজের শক্তি শত্রুকে দেয়,
তার পতন অনিবার্য।”
জঙ্গল নিঃশেষ হয়ে গেল।
কিন্তু সেই গল্প রয়ে গেল—
বিশ্বাসের ভুল সিদ্ধান্ত কত বড় সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।