13/03/2026
সম্মানিত শিক্ষক সমাজ মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে ঘিরে অনেক আশাবাদী ছিলেন। নতুন নেতৃত্বে শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষক সমাজের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোর সমাধান হবে—এমনটাই ছিল সবার প্রত্যাশা।
কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা শিক্ষক সমাজকে ভাবিয়ে তুলছে—
১️⃣ প্রথম দিনেই আলোচনার টেবিলে শিক্ষকদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ উঠেছে, যা শিক্ষক সমাজকে হতাশ করেছে।
২️⃣ ইএফটি (EFT) পদ্ধতিতে বেতন ১–২ তারিখে দেওয়ার কথা থাকলেও এখনও ৮ তারিখের পর বেতন প্রদান করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যারও কোনো কার্যকর সমাধান দেখা যাচ্ছে না।
৩️⃣ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে সভাপতির শিক্ষা-যোগ্যতা শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অযোগ্য সভাপতির সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।
৪️⃣ শতভাগ উৎসব ভাতার আশা দেখানো হলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০% বৃদ্ধির কথা বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে সেই সিদ্ধান্তও কার্যকর হয়নি।
৫️⃣ প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগে তরুণ, মেধাবী ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ শিক্ষকদের সুযোগ না দিয়ে প্রায় ১৮ বছর আগের কমিটির মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে হঠাৎ করে নিয়ম পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে। অনেক প্রার্থী আবেদন ফি দিয়েছেন, বই কিনেছেন—সবকিছু এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
৬️⃣ একের পর এক নতুন নিয়ম শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বেতন, ভাতা ও সুযোগ–সুবিধা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
শিক্ষক সমাজ অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে ছিল নতুন নেতৃত্বের দিকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই আশার সঙ্গে পুরোপুরি মিল খুঁজে পাচ্ছে না।
তবুও আমরা আশাবাদী—
শিক্ষক সমাজের ন্যায্য দাবি, মর্যাদা ও অধিকার অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
কারণ মনে রাখতে হবে—
শিক্ষককে সম্মান না দিলে শিক্ষা ব্যবস্থা কখনোই শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়াতে পারে না।