10/10/2026
মা-কে সাথে রাখলে নাকি ছেলে সু*:- cide করবে!
হায় রে কপাল....! 💔
বাজান, আমাকে মাফ করে দে… আমাকে তোর সঙ্গে নিয়ে চল। আমি আর তোর বউকে কিছুই বলব না। তবুও আমাকে তোর সঙ্গে নিয়ে চল… 😭
হাত জোড় করে, কান্না করতে করতে একজন মা তার নিজের জন্ম দেওয়া সন্তানের কাছে এভাবেই একটু আশ্রয়ের জন্য ভিক্ষা চাচ্ছেন!
মুন্নি খাতুন...বয়স পঞ্চান্নর কোঠায়। স্বামী মা* গেছেন অনেক আগে। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। শেষ বয়সে, তাও আবার হৃদরোগে আক্রান্ত এই অসুস্থ মায়ের একমাত্র ভরসা ছিল তার ছেলে সাগর হোসেন।
এই সাগর হোসেন নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের একজন গ্রাম পুলিশ!
বিয়ের পর থেকে বউয়ের কথায় নাকি পারিবারিক বিরোধের অজুহাতে নিজের মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। ভরণপোষণ দেওয়া তো দূরের কথা, মায়ের মুখটাই দেখতে চায় না।
স্থানীয় মানুষজন, মেম্বার-চেয়ারম্যানরা কত বুঝাইছে, সালিস বসাইছে, কাজ হয় নাই। স্বয়ং উপজেলা চেয়ারম্যানও সাগরকে বুঝিয়ে তার মাকে সংসারে ফিরিয়ে দিতে পারেন নাই। শেষমেশ নিরুপায় হয়ে এই অসুস্থ মা ছেলের বিরুদ্ধে বিচার চাইতে সোজা দৌড়ালেন প্রশাসনের দ্বারে। ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত কমপ্লেন করলেন।
এরপর যা ঘটলো, সেটা শুনলে আপনার রক্ত গরম হয়ে যাবে! ৮ অক্টোবর ইউএনও সেলিম আহমেদ দুই পক্ষকে ডেকে শুনানিতে বসলেন।
ইউএনও সাহেব সাগরকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেন, আইনের কথা বললেন, ধর্মের কথা বললেন। কিন্তু ছেলের মন গলবে কী, সে উল্টো চরম বেয়াদবের মতো অনড় হয়ে রইলো!
সে সরাসরি ইউএনও-র মুখের ওপর বলে দিছে,
"মাকে আমার সঙ্গে রাখলে আমি সু*- cide করবো! আমি মাকে সাথে রাখতে পারব না। স্যার, আপনি বলেন মাকে মাসে কত টাকা দিতে হবে, আমি দিবো। কিন্তু মাকে আমার সংসারে নিবো না।"
ভাবেন একবার! যে মা দশ মাস দশ দিন পেটে ধরে দুনিয়ার আলো দেখালো, কত কষ্ট করে বড় করলো, আজ বউ আসার পর সেই মাকে নিজের ঘরে রাখতে গেলে ছেলের নাকি দম আটকে যায়, সু* সা*; ড করতে মন চায়! আর সে মা-কে টাকা দিয়ে বিদায় করতে চায়!
কিন্তু আসল প্রশ্ন হচ্ছে, মায়ের প্রতি ছেলের এমন ক্ষোভ কেন? মায়ের প্রতি একটুও কি মায়া নেই? নিশ্চয়ই ছেলের সংসারে এমন কিছু হয়েছে যার কারণে ছেলে আজ নিজের জন্মদাত্রী মাকে ঘরে নিতে এতটা নারাজ! একটা ছেলের মনে মায়ের প্রতি এতটা বিষ কে ঢাললো? নাকি নিজে সুখে থাকার জন্য মা-কে বোঝা মনে হচ্ছে?
অথচ ওই বৃদ্ধা মা কিন্তু ছেলের কাছে কোনো ফ্ল্যাট-বাড়ি, গাড়ি বা লাখ টাকা চান নাই। কান্নাভেজা চোখে প্রশাসনের সামনে মা শুধু একটা কথাই বলছেন,
"আমি ছেলের কাছে বাড়তি কোনো টাকা-পয়সা চাই না। নুন-পান্তা খেয়েও যদি ছেলের ঘরে শেষ জীবনটা কাটাতে পারি, ওটাই আমার শান্তি।"🥲
ইউএনও সাহেব পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, টাকা দিয়ে পার পাওয়া যাবে না। চাকরি থাক আর যাক, মা-বাবার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান আর চিকিৎসা নিশ্চিত করা সন্তানের আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা। আমাদের দেশের ২০১৩ সালের "পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন" অনুযায়ী এটা চরম অপরাধ। আইন ভাঙলে ১ লাখ টাকা জরিমানা আর ৩ মাসের জেল খাটতে হবে।
ইউএনও সাহেব আপাতত সাগরকে সিদ্ধান্ত বদলানোর জন্য কয়েক দিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন। সোজা পথে না আসলে কপালে যে বড় শনি আছে, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন।
কিন্তু আইনের মারপ্যাঁচ বাদ দেন, মায়ের মন তো! মুন্নি খাতুন এখনো বুক ভরা আশা নিয়ে পথের দিকে তাকিয়ে আছেন, হয়তো কোনো একদিন তার ওই কু* লা* ঙ্গা* র ছেলের মন গলবে, সে এসে মাথায় হাত রেখে বলবে, "মা, চলো বাড়ি যাই"।
ধিক্কার জানাই এমন কু* সন্তানকে!😤