LGBTQ Film BD

Directions Contact the business

LGBTQ Film BD Every person has right to love freely. So, our journey with the right to love of same-sex people.

গল্পঃ বিভীষিকা । পর্বঃ ০১লেখকঃ আজমীন ফারাবী নদীর তপ্ত বালু আর রোদে পোড়া তামাটে চামড়ার গন্ধে মিশে থাকা বাশার হোসেনের জীবন...
30/03/2026

গল্পঃ বিভীষিকা । পর্বঃ ০১
লেখকঃ আজমীন ফারাবী

নদীর তপ্ত বালু আর রোদে পোড়া তামাটে চামড়ার গন্ধে মিশে থাকা বাশার হোসেনের জীবনটা যেন এক আদিম মহাকাব্য, যার প্রতিটি পরিচ্ছেদ লেখা হয়েছে হাড়ভাঙা খাটুনি আর অপমানের নীল কালিতে। ৩৩ বছরের এই জোয়ান মরদের শরীরটা দেখলে মনে হয়, বিধাতা বুঝি কোনো পাথরের পাহাড় কেটে তাকে গড়েছেন। কামসূত্র গ্রন্থে বর্ণিত 'বৃষ' বা শ্রেষ্ঠ বলশালী পুরুষের যে লক্ষণের কথা বলা হয়েছে, বাশার যেন তারই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তার চওড়া ছাতিটা যেন এক বিশাল বর্ম, আর দুই হাতের কবজিগুলো ইস্পাতের শিকলের মতো মজবুত। ঘাটে যখন সে একাই দুই মণের বস্তা পিঠে তুলে নেয়, তখন তার মেরুদণ্ডের পেশিগুলো সাপের মতো খেলে ওঠে। সূর্যের তেজে তার শরীরের চামড়া পুড়ে যে তামাটে বরণ ধারণ করেছে, তার ওপর দিয়ে যখন ঘাম চুইয়ে পড়ে, তখন মনে হয় তপ্ত লোহার ওপর দিয়ে কেউ বুঝি তরল হীরা ঢেলে দিয়েছে।

কিন্তু এই পাহাড়ের মতো শক্ত শরীরের ভেতরে বাস করে এক অতি সাধারণ, কাদা মাটির মতো নরম মন। বাশার বেশি কথা বোঝে না, প্যাঁচগোছ চেনে না; সে শুধু বোঝে হুকুম তামিল করা আর দিনশেষে কয়েকটা টাকার বিনিময়ে নিজের আর বুড়ি মায়ের পেট চালানো। গ্রামের প্রভাবশালী মহাজন আজমত আলীর গদিতে বাশার কাজ করে। মহাজন মানুষটা যেমন ধুরন্ধর, তেমনি নিষ্ঠুর। সেদিন ঘাটে মালের হিসাব মেলাতে গিয়ে সামান্য দেরি হওয়ায় মহাজন খেপে গিয়ে বাশারের পিঠে সপাৎ করে চাবুক চালিয়ে দিল। বাশারের পাহাড়সম শক্ত শরীর সেই আঘাতে একটুও টলল না, কিন্তু অপমানে তার দুচোখ ফেটে জল এল। সে চাইলে এক থাবায় মহাজনের মাথা গুঁড়িয়ে দিতে পারত, কিন্তু তার সহজ-সরল মন তাকে শিখিয়েছে অন্নের সংস্থান যে করে, সে হলো অন্নদাতা। তাই সে মাথা নিচু করে সব সহ্য করল। মহাজনের চাবুকের দাগ তার তামাটে পিঠের ওপর লাল হয়ে ফুটে উঠল, যেন কোনো উর্বর জমিতে নিষ্ঠুর লাঙল চালানো হয়েছে।

ঠিক সেই সময় মহাজনের ছোট ছেলে শাহরিয়ার, যে শহর থেকে পড়াশোনা শেষ করে গ্রামে ফিরেছে, সে দৃশ্যটি দেখে স্তব্ধ হয়ে গেল। শাহরিয়ারের গড়ন বাশারের ঠিক উল্টো—কোমল, সুশ্রী আর মায়াবী। সে বাবার এই নিষ্ঠুরতা সইতে পারল না। রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, শাহরিয়ার চুপিচুপি বাশারের কুঁড়েঘরে এসে হাজির হলো। কুপি জ্বালিয়ে বাশার তখন উপুড় হয়ে শুয়ে নিজের তপ্ত পিঠের যন্ত্রণা সইছিল। শাহরিয়ার হাতে শীতল মলম নিয়ে বাশারের পাশে বসল। বাশার চমকে উঠে বসতে চাইলে শাহরিয়ার আলতো করে তার কাঁধে হাত রাখল। সেই কোমল করপল্লবের স্পর্শে বাশারের বিশাল শরীরটা একবার শিউরে উঠল—ঠিক যেমন শান্ত দীঘিতে পাথর ছুড়লে ঢেউ খেলে যায়।

কামসূত্রে যেমন বিপরীত স্বভাবের মানুষের মিলনে এক মহাজাগতিক আকর্ষণের কথা বলা হয়েছে, বাশারের এই আদিম রুক্ষ শরীর আর শাহরিয়ারের সেই স্নিগ্ধ সেবা যেন এক অলৌকিক মিলন ঘটাল। শাহরিয়ারের আঙুলগুলো যখন বাশারের শক্ত পেশির ওপর দিয়ে পিচ্ছিল মলম লেপে দিচ্ছিল, তখন বাশারের বন্ধ নিশ্বাসের শব্দ কুঁড়েঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে দিচ্ছিল। বাশার অবাক হয়ে ভাবছিল, যে হাত দিয়ে কলম ধরে লিখতে হয়, সেই হাত আজ তার মতো এক অধম মজুরের সেবা করছে! শাহরিয়ারের যতুনের ছোঁয়ায় বাশারের মনে এক অদ্ভুত ভালোলাগা জন্ম নিল, যা সে আগে কখনো অনুভব করেনি। তার এই বিপুল পৌরুষদীপ্ত দেহটি যেন সেই মুহূর্তে এক ছোট্ট শিশুর মতো শাহরিয়ারের মমতার কাছে আত্মসমর্পণ করল।

বাশারের পেশিগুলো শিথিল হয়ে এল, আর শাহরিয়ারের মনে হলো সে কোনো সাধারণ মানুষের নয়, বরং এক আদিম দেবতার সেবা করছে যার শক্তিতে এই পৃথিবী টিকে আছে। বাশারের ঘাম, মাটি আর তামাটে চামড়ার এক তীব্র পুরুষালি ঘ্রাণ শাহরিয়ারের নাকে লাগছিল, যা তাকে এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে নিয়ে গেল। গ্রামের এই সামর্থ্যবান পুরুষটি যখন সামান্য আদরে চোখের কোণ দিয়ে জল ফেলল, তখন শাহরিয়ার বুঝতে পারল—পাহাড় যত শক্তই হোক না কেন, ঝরনা তার বুক চিরে ঠিকই বেরিয়ে আসে। গভীর রাতে নদীর কলতানি আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকের মধ্যে বাশারের কুঁড়েঘরে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম হলো, যেখানে শক্তি আর কোমলতা একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠল।

পরের দিন রাত। আকাশে মেঘের ঘনঘটা, নদীর পাড়জুড়ে ঝিঁঝিঁ পোকার বিরামহীন ডাক আর্দ্র বাতাসকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। বাশারের মা আজ বাড়িতে নেই, এক আত্মীয়র বাড়ি গিয়েছেন। কুঁড়েঘরের টিমটিমে কুপির আলোয় বাশার একা বসে ছিল, তার বিশাল তামাটে শরীরটা ক্লান্তিতে ভেঙে আসছিল। ঠিক তখনই দরজায় মৃদু করাঘাত। দরজা খুলতেই বাশার দেখল শাহরিয়ারকে। পরনে হালকা রঙের পরিপাটি পোশাক, হাতে হিসাবের একটি মোটা খাতা।

শাহরিয়ার ঘরে ঢুকে ধীরপায়ে তক্তপোশের ওপর বসল। বাশার কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার মতো নগণ্য এক মজুরের ঘরে মহাজনের শিক্ষিত ছেলে এভাবে বারবার আসবে, এটা সে কল্পনাও করতে পারেনি। শাহরিয়ারের চোখে আজ এক অদ্ভুত স্থিরতা, যেন এক গূঢ় পরিকল্পনা তার মনে দানা বাঁধছে। বংশগতভাবে মহাজনের রক্ত তার ধমনীতেও বইছে, তাই মানুষকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়, সেই কৌশল তার অজানা নয়। তবে বাবার মতো সে নিষ্ঠুর নয়, বরং তার পদ্ধতি অনেক বেশি ধীর আর মনস্তাত্ত্বিক।

শাহরিয়ার খাতাটা খুলে বাশারকে শান্ত হতে বলল। তার কণ্ঠস্বর ছিল রেশমের মতো মসৃণ। সে জানাল, মালের হিসাবে একটা বড় গরমিল ধরা পড়েছে। যদি এই হিসাব মহাজনের কানে যায়, তবে বাশারের খাটুনির অর্ধেক টাকাই জরিমানায় কাটা যাবে। বাশারের বুকটা ধক করে উঠল। দিন আনি দিন খাই জীবনে সামান্য কয়েকটা টাকা মার যাওয়া মানে বুড়ি মায়ের মুখে অন্ন তুলে দিতে না পারা। ভয়ে আর দুশ্চিন্তায় বাশার ঘামতে শুরু করল। তার সেই আদিম, পেশিবহুল শরীরটা যেন মুহূর্তেই কুঁকড়ে গেল।

নিরুপায় হয়ে বাশার শাহরিয়ারের পা জড়িয়ে ধরল। "ভাইজান, আমারে বাঁচান! এই কয়টা টাকা না পাইলে আমাগো না খাইয়া মরা লাগবো।" বাশারের এই অসহায় আত্মসমর্পণই যেন শাহরিয়ার মনে মনে চাচ্ছিল। সে বাশারের কাঁধে হাত রেখে বলল, "হিসাব তো আমি ঠিক করে দিতে পারি বাশার, কিন্তু তার বদলে আমি কী পাব?"

বাশার ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। তার দেওয়ার মতো কী আছে? জমি নেই, টাকা নেই, সম্পদ নেই। সে মিনমিন করে বলল, "আমার তো ভাইজান কিছুই নাই।" শাহরিয়ার তখন এক রহস্যময় হাসি দিয়ে তাকে উঠে দাঁড়াতে বলল। বাশার ভয়ার্ত চোখে মন্ত্রমুগ্ধের মতো উঠে দাঁড়াল। শাহরিয়ারের দৃষ্টি তখন বাশারের সেই দীর্ঘদেহী, বলিষ্ঠ অবয়বের ওপর স্থির।

শাহরিয়ার কোনো কথা না বলে হঠাৎই বাশারের সামনে এগিয়ে এল। তার সেই ফর্সা, কোমল হাত দিয়ে সে বাশারের পরিধানের কাপড়ের ওপর দিয়ে তাকে স্পর্শ করল। বাশার অপমানে না কি বিস্ময়ে স্থির হয়ে গেল, তা সে নিজেও বুঝতে পারল না। ভয়ে এবং এমন অপ্রস্তুত পরিস্থিতিতে বাশারের শরীর যেন অসাড় হয়ে এল। শাহরিয়ারের স্পর্শে তার সেই শক্তিশালী গ্রামীণ দেহটি এক আদিম জড়তায় থমকে দাঁড়াল। শাহরিয়ার অনুভব করল, এমনকি এই ভয়ার্ত আর নিস্তেজ অবস্থাতেও বাশারের শারীরিক গড়নটি এক অদম্য সামর্থ্যের সাক্ষ্য দিচ্ছে, যা তার ৩ ইঞ্চির সেই অবয়বে স্পষ্ট ধরা দিচ্ছিল। কুঁড়েঘরের ভেতরে তখন ঘাম, ভয় আর এক অব্যক্ত বাসনার গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।

কুঁড়েঘরের সেই গুমোট অন্ধকারে কুপির আলোটা যেন বাশারের মনের ভয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কাঁপছিল। শাহরিয়ারের সেই ধীরস্থির চাউনি আর সুপরিকল্পিত স্পর্শ বাশারকে এক অজানা ঘোরের মধ্যে ফেলে দিল। বাশার যেন নড়াচড়া করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। তার মনে হচ্ছিল, এই মায়াবী যুবকের আঙুলের ডগায় কোনো জাদুমন্ত্র আছে, যা তার পাথর-খোদাই করা শক্ত শরীরটাকে মোমের মতো গলিয়ে দিচ্ছে। শাহরিয়ার যখন বাশারের কোমর জড়িয়ে ধরে তাকে একদম কাছে টেনে নিল, তখন বাশারের নাকে এল শহর থেকে আসা এক দামী সুগন্ধি, যা এই খড় আর মাটির ঘরে একদমই বেমানান।

হঠাৎ করেই শাহরিয়ারের হাত বাশারের লুঙ্গির গিঁট আলগা করে দিল। বাশার মুহূর্তের জন্য আঁতকে উঠল, কিন্তু শাহরিয়ারের শান্ত ও স্থির দৃষ্টি তাকে বাধা দিতে দিল না। খোলা বাতাসের স্পর্শে বাশারের তামাটে উরু দুটোর পেশিগুলো একবার শিউরে উঠল। শাহরিয়ার যখন নিচু হয়ে বাশারের সেই রুক্ষ আর আদিম পৌরুষের সামনে হাঁটু গেড়ে বসল, তখন বাশারের মনে হলো সে স্বপ্ন দেখছে। যে অঙ্গটি তার কাছে কেবল প্রকৃতির কাজ সারার মাধ্যম ছিল, আজ তা এক অভিজাত শিক্ষিত যুবকের পরম আশ্রয়ে বন্দি হতে চলেছে।

শাহরিয়ার যখন বাশারের সেই ঘাম আর প্রস্রাবের গন্ধে মিশ্রিত পুরুষাঙ্গটি নিজের মুখের ভেতরে নিল, তখন বাশারের পুরো শরীরে এক তীব্র বিদ্যুৎ তরঙ্গ খেলে গেল। সে অবাক হয়ে ভাবল, একটু আগেই তো সে নদীর ঘাটে কাজ সেরে প্রস্রাব করেছে, পানি নেওয়ার সময়টুকুও পায়নি; অথচ সেই তীব্র গন্ধ আর লোনা স্বাদের ভেতরেই শাহরিয়ার যেন এক দুর্লভ তৃপ্তি খুঁজে পাচ্ছে। শাহরিয়ারের মুখের ভেতরের লালার উষ্ণতা আর জিভের খেল বাশারের পেশিবহুল শরীরে এক নতুন উত্তাপের জন্ম দিল। বাশারের তামাটে লিঙ্গটি, যা এতক্ষণ ভয়ের চোটে কুঁকড়ে ছিল, তা শাহরিয়ারের সোহাগে ধীরে ধীরে জেগে উঠতে শুরু করল।

আস্তে আস্তে বাশারের সেই 'মেশিনগান' সদৃশ বলিষ্ঠ অঙ্গটি শাহরিয়ারের ছোট মুখের ভেতরে আর ধরছিল না। বাশারের দীর্ঘদেহটি তখন তালের ডগার মতো দুলছে। সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। তার ভেতরে এক আদিম পশুর মতো বাসনা জেগে উঠল। শাহরিয়ারের মাথার চুলে আঙুল ডুবিয়ে দিয়ে বাশার নিজের অজান্তেই তার কোমর দোলাতে শুরু করল। নদীর ঢেউ যেমন পাড়ে আছড়ে পড়ে, বাশারের কোমরও তেমনি শাহরিয়ারের মুখের ভেতরে এক ছান্দিক গতিতে আসা-যাওয়া করতে লাগল। শাহরিয়ারের চোখে তখন এক অদ্ভুত বিজয়ের হাসি, সে জানত—এই বিশাল দেহের অধিকারী মানুষটিকে বশ করার চাবিকাঠি এখন তারই হাতে।

বাশার শাহরিয়ারকে সজোরে টেনে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিল। শাহরিয়ার শহরে অনেক সুশ্রী আর মার্জিত পুরুষের সংস্পর্শে এসেছে, অনেকের শরীরের নিচে নিজেকে সঁপে দিয়ে চপল আনন্দ খুঁজেছে। কিন্তু বাশারের এই বুনো গন্ধ, তার শরীরের ঘাম আর তামাটে চামড়ার যে তীব্রতা—তা শাহরিয়ারের অভিজ্ঞতায় ছিল না। বাশার যখন শাহরিয়ারের ওপর পাহাড়ের মতো চেপে বসল, তখন শাহরিয়ারের মনে হলো সে কোনো মানুষের নিচে নয়, বরং এক জীবন্ত দেবতার পৌরুষের নিচে পিষ্ট হতে চলেছে।

মিলনের প্রতিটি মুহূর্তে বাশার যেন তার জীবনের সমস্ত লাঞ্ছনার শোধ নিচ্ছিল। মহাজনের সেই চাবুকের দাগ, ঘাটের সেই অপমান আর সমাজের তুচ্ছতাচ্ছিল্য—সবকিছুই এক একটি ধাক্কায় রূপান্তরিত হয়ে শাহরিয়ারের শরীরের গভীরে আছড়ে পড়তে লাগল। বাশারের পেশিবহুল উরু আর চওড়া ছাতির চাপে শাহরিয়ারের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। শাহরিয়ার অনুভব করল, এই বুনো ধাক্কাগুলো কেবল তার শরীরের উপরিভাগে নয়, বরং তার পেটের একদম গভীরতম প্রদেশ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। সে যন্ত্রণায় আর সুখে কুঁকড়ে যাচ্ছিল, কিন্তু বাশারের সেই আদিম গতি থামার কোনো লক্ষণ ছিল না।

বাশার তখন আর সেই নিরীহ মজুর নেই, সে এখন এই তক্তপোশের একচ্ছত্র মহাজন। তার তামাটে পিঠের পেশিগুলো সাপের মতো খেলে যাচ্ছিল, আর কপাল থেকে ঘাম চুইয়ে শাহরিয়ারের ফর্সা বুকের ওপর পড়ছিল। শাহরিয়ারের সুশ্রী দেহটি বাশারের এই বন্য শক্তির কাছে খড়কুটোর মতো ভেসে যাচ্ছিল। বাশারের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল প্রতিশোধের মতো তীব্র, অথচ তাতে মিশে ছিল এক দুর্নিবার তৃষ্ণা।

এক সময় বাশারের ভেতরের সেই কামনার আগ্নেয়গিরি ফেটে পড়ল। তার শরীরের সমস্ত শক্তি যেন এক সাদা তপ্ত স্রোত হয়ে শাহরিয়ারের ভেতর আছড়ে পড়ল। বাশারের সারা শরীর কাঁপছিল, তার কণ্ঠ থেকে এক আদিম গর্জন বেরিয়ে এল যা কুঁড়েঘরের দেওয়াল ভেদ করে রাতের নিস্তব্ধতায় মিশে গেল। মিলনের সেই চরম মুহূর্তে বাশারের মনে হলো, সে যেন আজ তার হারানো সম্মান আর অধিকার ফিরে পেয়েছে। শাহরিয়ার নিস্তেজ হয়ে পড়ে রইল, তার চোখে তখন এক অদ্ভুত ঘোর আর বিস্ময়—সে বুঝতে পারল, সত্যিকারের সামর্থ্য আর বুনো আদিমতার স্বাদ আসলে কেমন হয়।
ঘরের কোণে কুপির আলোটা নিভে এল, আর নদীর দিক থেকে আসা শীতল বাতাস সাক্ষী হয়ে রইল এক অসম আর বুনো ইতিহাসের, যেখানে শক্তি আর কোমলতা একাকার হয়ে গিয়েছিল।

সেই রাতের নিস্তব্ধতা যেন এক আদিম অরণ্যের অতল গহ্বরে রূপ নিল। কুপির আলোটা নিভে যাওয়ার পর ঘুটঘুটে অন্ধকারে কেবল দুই জোড়া উত্তপ্ত নিশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বাশারের তামাটে শরীরে এতকাল যে আগ্নেয়গিরি সুপ্ত ছিল, আজ শাহরিয়ারের স্পর্শে তার মুখ খুলে গেছে। একবারের তৃপ্তিতে সেই কয়েক বছরের জমানো ক্ষুধা মেটার নয়। বাশারের পেশিবহুল বাহু দুটো অন্ধকারে শাহরিয়ারের সুকোমল দেহটাকে আবার খুঁজে নিল।

শাহরিয়ার তখন শ্রান্ত, তার শহরুরে নমনীয় শরীরটা বাশারের বুনো ধাক্কায় কিছুটা অবশ হয়ে এসেছিল। কিন্তু বাশারের সেই খসখসে হাতের স্পর্শ যখন আবার তার ঘাড়ের ওপর পড়ল, শাহরিয়ার বুঝতে পারল—এই গ্রামীণ দানবটি আজ থামার জন্য জাগেনি। বাশার তাকে সজোরে নিজের বুকের ওপর টেনে নিল। বাশারের চওড়া ছাতির হাড়গুলো শাহরিয়ারের পাঁজরে বিঁধছিল, কিন্তু সেই যন্ত্রণার ভেতরেও এক অদ্ভুত বুনো মাদকতা ছিল।

বাশারের শরীরের সেই তপ্ত ঘাম আর নদীর তীরের মাটির কড়া গন্ধ শাহরিয়ারের নাসারন্ধ্রে আবার নেশা ধরিয়ে দিল। বাশার কোনো ভূমিকা ছাড়াই আবার তার সেই শক্তিশালী উরু দিয়ে শাহরিয়ারকে বন্দি করে ফেলল। বাশারের মনে হচ্ছিল, সে আজ এই বিছানায় মহাজন আজমত আলীর সমস্ত দম্ভ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিটি চুমু আর প্রতিটি কামড় ছিল যেন এক একটি হিসাব চুকানোর মতো। বাশারের সেই রুক্ষ ঠোঁট যখন শাহরিয়ারের গলায় আর কাঁধে বসল, তখন শাহরিয়ারের মনে হলো তার শরীরে আগুনের ছোঁয়া লাগছে।

কামসূত্রে বর্ণিত সেই বুনো রিরংসা বাশারের প্রতিটি পেশিতে তখন খেলা করছে। সে আবার শাহরিয়ারের গভীরে প্রবেশ করার জন্য উন্মুখ হয়ে উঠল। শাহরিয়ারের সুশ্রী দেহটি বাশারের এই বিশালত্বের নিচে খড়কুটোর মতো কাঁপছিল। বাশার যখন আবার তার সেই আদিম গতির তান্ডব শুরু করল, তখন শাহরিয়ারের কণ্ঠ থেকে এক অস্ফুট আর্তনাদ বেরিয়ে এল। এই ধাক্কাগুলো আগের চেয়েও তীব্র, যেন কোনো প্রমত্তা নদী তার পাড় ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে।

বাশারের সেই তামাটে কোমরের দুলুনি আর শাহরিয়ারের পেটের ভেতরে সেই বন্য অনুভূতি একাকার হয়ে গেল। বাশার বুঝতে পারল, সে আজ কেবল শাহরিয়ারের শরীর ভোগ করছে না, বরং এই সমাজের ওপর তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে। শাহরিয়ারের শহরের অভিজ্ঞতায় এমন কোনো পুরুষ ছিল না, যে তাকে এভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারে। শাহরিয়ারের পিঠ যখন তক্তপোশের কাঠের ওপর ঘষা খাচ্ছিল, তখন সে বুঝতে পারল—এই আদিম শক্তির কাছে তার সমস্ত শিক্ষা আর আভিজাত্য আজ অর্থহীন।

রাতের শেষ প্রহরে বাশারের ভেতরের সেই কামনার আগুন যখন আবার চরম শিখরে পৌঁছাল, তখন কুঁড়েঘরের বাঁশের খুঁটিগুলো যেন সেই কম্পনে থরথর করে কাঁপছিল। বাশারের সেই বিশাল দেহটি থেকে আবার এক আদিম সাদা স্রোত শাহরিয়ারের সত্ত্বাকে প্লাবিত করে দিল। বাশার নিস্তেজ হয়ে শাহরিয়ারের বুকের ওপর পড়ে রইল, তার ভারে শাহরিয়ারের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। কিন্তু শাহরিয়ার সরাল না; সে বুঝতে পারল, এই বুনো আর শক্তিশালী পুরুষটির আশ্রয়ে থাকাই এখন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।

নদীর ওপার থেকে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করল, কিন্তু বাশারের সেই কুঁড়েঘরে রয়ে গেল এক অদ্ভুত প্রশান্তি আর ঘামের লোনা গন্ধ। বাশার হোসেন আজ আর কেবল দিনমজুর নয়, সে এক মায়ার রাজ্যের অধিপতি।

ভোরের প্রথম আলো যখন বাঁশের বেড়ার ফাঁক দিয়ে বাশারের কুঁড়েঘরে প্রবেশ করল, তখন ঘরের স্তব্ধতা এক অন্যরকম গাম্ভীর্য ধারণ করেছে। রাতের সেই আদিম উন্মাদনা আর ঘামসিক্ত নিশ্বাসের রেশ তখনও বাতাসে ভাসছে। শাহরিয়ার যখন ধীরে ধীরে চোখ মেলল, তখন তার সারা শরীর এক অদ্ভুত জড়তায় অবশ হয়ে আছে। বাশারের সেই বিশাল তামাটে বাহু তখনও তার বুকের ওপর এক দুর্ভেদ্য পাহাড়ের মতো চেপে আছে।

বিছানার জীর্ণ চাদরটির দিকে তাকাতেই শাহরিয়ারের বুকটা এক মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠল। সেখানে শুকিয়ে যাওয়া কালচে লাল রক্তের দাগগুলো এক বিচিত্র আলপনার মতো ফুটে আছে। কামসূত্রে যেমন বর্ণনা করা হয়েছে—বিপরীত স্বভাবের মানুষের মিলনে যখন বুনো শক্তি আর কোমলতা একে অপরের মুখোমুখি হয়, তখন সেই সংঘর্ষে শরীর কেবল আনন্দ পায় না, বরং বিসর্জনের চিহ্নও রেখে যায়। বাশারের মতো 'বৃষ' বা অতি-পুরুষালি দেহের অধিকারীর সেই অদম্য বন্যতা যখন শাহরিয়ারের মতো সুকোমল 'মৃগ' দেহকে অধিকার করেছে, তখন সেই মিলন কেবল রতিসুখ থাকেনি, তা হয়ে উঠেছিল এক যুদ্ধক্ষেত্র।

রক্তের সেই দাগগুলো সাক্ষ্য দিচ্ছিল রাতের সেই 'নখক্ষত' আর 'দশনচ্ছেদ'-এর তীব্রতার। কামসূত্রের প্রাচীন শ্লোক অনুযায়ী, গভীর অনুরাগের মুহূর্তে যখন আলিঙ্গন সীমানা ছাড়িয়ে যায়, তখন শরীরের ওপর পড়া দাঁত আর নখের আঘাতগুলোই হয়ে ওঠে প্রেমের পরম অলঙ্কার। বাশারের সেই রুক্ষ আঙুলের চাপে শাহরিয়ারের উরুর সন্ধিস্থলে আর পিঠে যে নীলচে ছোপ পড়েছে, আর চাদরে লেপ্টে থাকা সেই রক্তবিন্দু—সবই যেন এক আদিম বলিদানের চিহ্ন।

বাশার তখন অঘোরে ঘুমাচ্ছে। তার সেই প্রশস্ত ছাতিটা তালের ডগার মতো নিয়মিত ওঠানামা করছে। শাহরিয়ার অবাক হয়ে সেই রক্তের দিকে তাকিয়ে ভাবল—শহরের মাজাঘষা বিছানায় সে অনেকবার নিজেকে সঁপে দিয়েছে, কিন্তু এমন রুধিরসিক্ত পূর্ণতা সে আগে কখনও পায়নি। এই রক্ত যেন বাশারের সেই কয়েক বছরের জমানো অপমান আর অবদমিত কামনার এক চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। বাশারের সেই বুনো ‘মেশিনগান’ সদৃশ অঙ্গটি যখন শাহরিয়ারের ভেতরকার প্রতিটি দেওয়াল ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছিল, তখনই এই রক্ত চুইয়ে পড়েছিল সেই জীর্ণ তক্তপোশে।

শুকিয়ে যাওয়া সেই রক্তের ঘ্রাণ আর বাশারের শরীরের লোনা ঘাম মিলেমিশে কুঁড়েঘরের ভেতর এক বন্য মাদকতা তৈরি করেছে। শাহরিয়ার বুঝল, এই দাগগুলো ধুয়ে ফেলা সহজ, কিন্তু তার মনের গহীনে বাশার যে তামাটে আঁচড় কেটে দিয়েছে, তা কোনোদিন মোছার নয়। কামসূত্রের ভাষায় এটিই হলো 'প্রগাঢ় রত', যেখানে শরীর ক্ষতবিক্ষত হলেও মন এক অপার্থিব শান্তিতে ভরে ওঠে।

নদীর ঘাটে তখন মাঝিদের হাঁকডাক শোনা যাচ্ছে। বাশার হঠাৎ নড়েচড়ে উঠল। তার তামাটে চোখের পাতায় সকালের আলো পড়তেই সে আড়মোড়া ভাঙল। বিছানার সেই রক্তের দাগ দেখে বাশারের চোখে কোনো অনুশোচনা ছিল না, বরং ছিল এক আদিম শিকারির গর্ব। সে শাহরিয়ারের দিকে তাকিয়ে এক রহস্যময় হাসি দিল, যা বুঝিয়ে দিল—এই বিছানায় আজ থেকে আর কোনো মালিক-শ্রমিক বিভেদ নেই, আছে কেবল দুই আদিম প্রাণের সমর্পণ।

২য় পর্ব আসিতেছে আরো ভয়ংকর হয়ে, সাথে থাকুন।
#সমকামীসাহিত্য #গেগল্প #বাংলারসমকামী #বাংলাসাহিত্য #প্রেম #ঘৃণা #ভয় #ফিল্মlgbtq #সমকামীলাভ #মিলনেররাত

গল্পঃ অস্তাচল । পর্বঃ ০১লেখকঃ কবীর সিদ্দীকী আকাশের পটে তখন রঙের খেলা। সূর্যদেব বিদায়বেলায় তার শেষ রক্তিম আভাটুকু ঢেলে দি...
30/03/2026

গল্পঃ অস্তাচল । পর্বঃ ০১
লেখকঃ কবীর সিদ্দীকী

আকাশের পটে তখন রঙের খেলা। সূর্যদেব বিদায়বেলায় তার শেষ রক্তিম আভাটুকু ঢেলে দিয়েছেন বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশিতে। সেই আলোকছটায় বালুকাবেলায় আছড়ে পড়া প্রতিটি ঢেউ যেন রূপালি চাদর হয়ে ফিরছে। নির্জন সৈকতের এক প্রান্তে ঝাউবনের ছায়ায় ঝোলানো এক বিশাল দোলনা। সেখানে বসে আছে রাজ আর আয়ুষ।

রাজ যখন আয়ুষের কাঁধে তার চওড়া, পেশিবহুল হাতটি রাখল, আয়ুষের মনে হলো পৃথিবীর সমস্ত অস্থিরতা নিমেষেই শান্ত হয়ে গেল। রাজের শরীরের তপ্ত নিশ্বাস আয়ুষের ঘাড়ের ওপর পড়ছে। রাজের সুঠাম দেহটি যেন এক দুর্ভেদ্য দুর্গ, যেখানে আয়ুষ চিরকাল নিরাপদ।

আয়ুষ রাজের বুকের কাছে সরে এল। সুতি শার্টের তলা দিয়ে রাজের হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানি স্পষ্ট টের পাওয়া যাচ্ছে। সে ভাবছিল, মানুষের শরীর কেন এত মায়াবী হয়? কেন এই হাড়-মাংসের কাঠামোর ভেতরেই লুকিয়ে থাকে অসীম ভালোবাসার সমুদ্র?

রাজ তার গম্ভীর অথচ কোমল স্বরে বলে উঠল, "জানো আয়ুষ, এই সমুদ্রের গভীরতা মাপা যায়, কিন্তু তোমাকে আগলে রাখার তৃষ্ণাটা বোধহয় মাপা যাবে না।"

আয়ুষ রাজের চোখের দিকে তাকাল। সেই চোখে কামনার চেয়েও বেশি ছিল গভীর মমতা। সে মৃদু হেসে উত্তর দিল, "এই দোলনাটা কি আমাদের ছোট একটা পৃথিবী নয়? এখানে না আছে সমাজ, না আছে কোনো বাধ্যবাধকতা। শুধু আছে নোনা বাতাসের গন্ধ আর তোমার বাহুবন্ধন।"

বাতাসের তেজ বাড়তে শুরু করেছে। রাজের আঙুলগুলো আয়ুষের চুলের ভাঁজে বিলি কাটতে কাটতে তার গালের রেখা বেয়ে নেমে এল। এক অদ্ভুত শিহরণ আয়ুষের মেরুদণ্ড বেয়ে নেমে গেল। রাজের স্পর্শে সবসময়ই এক আদিম পুরুষালি গন্ধ থাকে, যা আয়ুষকে নেশার মতো আচ্ছন্ন করে।

রাজ আয়ুষের মুখটা আলতো করে উঁচিয়ে ধরল। অন্ধকারে রাজের পেশিবহুল শরীরের ভাঁজগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সে আয়ুষের কপালে একটা দীর্ঘ চুম্বন এঁকে দিল। সেই চুম্বনে কোনো তাড়াহুড়ো ছিল না, ছিল আজন্মের অধিকার।

"আয়ুষ..." রাজের কণ্ঠস্বর এবার আরও নিচু, আরও ভারি।
"বলো?" আয়ুষের চোখের পাতায় তখন হাজারো স্বপ্নের আনাগোনা।
"আমার ভয় হয়। এই সমাজ হয়তো আমাদের এই নগ্ন সত্যটাকে কোনোদিন স্বীকার করবে না। কিন্তু আমার এই বাহুগুলো, আমার এই শরীরের রক্ত—সবই তো তোমার নামেই স্পন্দিত হয়।"

আয়ুষ রাজের হাতটা টেনে নিয়ে নিজের বুকের ওপর রাখল। "শরীর তো শুধু মাধ্যম রাজ, আসল যোগ তো আত্মায়। কিন্তু আমি মিথ্যে বলব না, তোমার এই উষ্ণতা, তোমার এই পেশিবহুল শরীরের বেষ্টনী আমাকে যে চরম সুখ দেয়, তা কোনো স্বর্গের চেয়ে কম নয়।"

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে সমুদ্র আরও উত্তাল হয়ে উঠল। দোলনাটা দুলে দুলে তাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসছে। রাজের হাতের চাপ বাড়তে থাকল আয়ুষের কোমরে। দুজনের শরীরের দূরত্ব মুছে গিয়ে তখন একাকার। আয়ুষ অনুভব করছিল রাজের বলিষ্ঠ বুকের ঘর্ষণ, যা তার ভেতরে এক অবদমিত কামনার আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছিল।

এটা শুধু সমলিঙ্গের প্রেম নয়, এটা ছিল দুটি প্রাণের পূর্ণতার দিকে যাত্রা। তাদের যৌনতা কোনো পঙ্কিলতা নয়, বরং এক পবিত্র সমর্পণ। রাজের ঠোঁট যখন আয়ুষের গলার কাছে নেমে এল, আয়ুষ চোখ বুজে সেই অমোঘ আবেশ গ্রহণ করল। নোনা বাতাস আর ঘামের এক অদ্ভুত মিশ্র ঘ্রাণ চারপাশকে আরও মাদকতাপূর্ণ করে তুলল।

সূর্য ডুবে গেছে অনেকক্ষণ। এখন শুধু চাঁদের ক্ষীণ আলো খেলা করছে ঢেউয়ের মাথায়। রাজ আর আয়ুষ সেই দোলনায় বসে যেন মহাকালের এক সাক্ষী হয়ে রইল। কিন্তু এই শান্ত মুহূর্তটি কি ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা?

রাজ আয়ুষের কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, "রাত বাড়ছে আয়ুষ। আমাদের রুমে ফিরতে হবে। কিন্তু মনে রেখো, আজকের এই রাতটা কেবল আমাদের আজকের মিলনের শুরু। এখনো অনেক পথ চলা বাকি, অনেক ঝড় সামলানো বাকি।"

আয়ুষ আরো কিছুক্ষন সেখানে থাকার বায়না করলো। আর সে এও জানে, সামনে অনেক বাধা। কিন্তু যতক্ষণ রাজের এই চওড়া বাহু তাকে আগলে আছে, ততক্ষণ পৃথিবীর কোনো শক্তিই তাদের এই ব্যক্তিগত স্বর্গ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।

সমুদ্রের গর্জন তখন আরও গম্ভীর হয়ে উঠেছে। দোলনার ওপর রাজ আর আয়ুষের শরীর একে অপরের ওপর ছায়ার মতো মিশে ছিল। রাজের পেশিবহুল চওড়া বুক থেকে যে উষ্ণতা বেরোচ্ছিল, তা আয়ুষের চেতনার সমস্ত আগল ভেঙে দিচ্ছিল। আয়ুষ অনুভব করছিল, এই মানুষটির শক্তি আর পুরুষালি দাপট তাকে বারবার এক অদ্ভুত নেশার দিকে ঠেলে দেয়।

আয়ুষের মনের ভেতর তখন এক দুরন্ত অভিলাষ। সে ধীরে ধীরে তার হাতটি রাজের হাফপ্যান্টের কাপড়ের নিচে ঢুকিয়ে দিল। রাজের শরীরের তপ্ত ছোঁয়া লাগতেই আয়ুষের আঙুলগুলো থমকে গেল না, বরং আরও গভীরে এক নিষিদ্ধ অথচ কাঙ্ক্ষিত সত্যের সন্ধান করতে লাগল।

যখন আয়ুষের হাতের মুঠোয় রাজের সেই জাগ্রত পৌরুষ ধরা পড়ল, তখন এক মুহূর্তের জন্য যেন সময় থমকে দাঁড়াল। আয়ুষ ভাবছিল, এই সেই দণ্ড, যার কাছে সে বারবার হার মানে। যার নিচে সে নিজেকে পিষে ফেলতে চায়, যার প্রচণ্ড চাপে তার শরীরের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে এক নীল যন্ত্রণার সুখ ছড়িয়ে পড়ে। রাজের সেই শক্তপোক্ত শরীর আর তার এই অদম্য শক্তির উৎস যেন আয়ুষের সমস্ত সত্তাকে গ্রাস করে নিতে চাইছে।

আয়ুষের মনে হলো, এই মুহূর্তটাই পরম সত্য। রাজের এই শরীরের প্রতিটি ভাঁজ, তার পেশির টানটান উত্তেজনা—সবই যেন আয়ুষের জন্য সাজানো এক রণক্ষেত্র। সেখানে সে কোনো যোদ্ধা নয়, বরং এক পরম অনুগত সত্তা। রাজের শরীরের এই তীব্র উত্তাপ যখন আয়ুষের পেটে বা তার শরীরের গভীরে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আয়ুষ নিজেকে কোনো সাধারণ সঙ্গী মনে করে না। তার অবচেতন মনে তখন রাজের "স্ত্রী" হওয়ার এক অলিখিত আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে।

সে চায় রাজের সেই সমস্ত জীবনশক্তি, সেই সবটুকু ঔরস নিজের ভেতরে সযত্নে আগলে রাখতে। যেন ওই এক বিন্দুর মধ্যেই লুকিয়ে আছে তাদের গোটা পৃথিবীর সার্থকতা।

রাজ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আয়ুষের হাতের দুষ্টুমি তাকে যেন আরও উম্মাদ করে তুলছিল। সে আয়ুষের ঘাড়ের কাছে মুখ নামিয়ে ফিসফিস করে বলল, "আয়ুষ, তুমি জানো না তুমি কিসের সাথে খেলছো। এই আগুন একবার জ্বলে উঠলে কিন্তু নেভানো কঠিন।"

আয়ুষ মৃদু হাসল। রাজের চোখের দিকে তাকিয়ে সে উত্তর দিল, "আমি তো পুড়তেই চাই রাজ। তোমার এই আগুনের নিচে নিজেকে বিলীন করে দিতে আমার একটুও ভয় নেই। বরং তোমার এই শক্তির কাছে বারবার নত হওয়াতেই আমার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি।"

রাজ এবার আরও শক্ত করে আয়ুষকে নিজের দিকে টেনে নিল। দোলনাটা উত্তালভাবে দুলছে, ঠিক যেমন তাদের ভেতরের রক্তে তখন কামনার তুফান বইছে। রাজের শরীরের নোনা গন্ধ আর আয়ুষের শরীরের সুবাস মিলেমিশে একাকার। আয়ুষ অনুভব করছিল রাজের সেই কঠিন যন্ত্রের স্পন্দন, যা তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছিল—তাদের এই প্রেম শুধু কথার নয়, এ এক আদিম এবং শাশ্বত শারীরিক বন্ধনের নাম।

রাজ আর আয়ুষের এই তিন বছরের পথচলা যেন এক উত্তাল সমুদ্রের গল্প, যেখানে ঢেউয়ের আছড়ে পড়া যেমন অবধারিত, তেমনি তাদের শরীরের এই মিলনও এক অমোঘ নিয়তি। সেই নির্জন সৈকতের দোলনা থেকে উঠে তারা যখন তাদের নিভৃত ডেরায় পৌঁছাল, ঘরের ভেতরের বাতাসও যেন তাদের কামনার উত্তাপে ভারী হয়ে উঠেছিল।

সন্ধ্যার নীল আলোয় রাজের পেশিবহুল শরীরের ভাঁজগুলো যখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল, আয়ুষ মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইল তার আরাধ্য পুরুষের দিকে। রাজের চওড়া কাঁধ, সুঠাম বুক আর তার সেই পৌরুষের দর্প—সবই যেন আয়ুষের জন্য এক বিশাল আশ্রয়। তিন বছর আগে যেদিন তারা প্রথম একে অপরের শরীরে মিশে গিয়েছিল, সেদিন থেকেই এক অলিখিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তাদের রক্তে।

রাজ কোনোদিন কোনো কৃত্রিমতার আশ্রয় নেয়নি। কোনো প্রাচীর বা কনডম ছাড়াই সে আয়ুষের অন্দরমহলে প্রবেশ করেছে বারবার। আয়ুষের শরীরের সেই আদ্র আর পিচ্ছিল অলিগলি রাজের কাছে অত্যন্ত চেনা এক রণাঙ্গন। রাজের সেই জ্বলন্ত দণ্ড যখন আয়ুষের শরীরের সীমানা ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করল, তখন দুজনের কণ্ঠ চিরে এক স্বর্গীয় আর্তনাদ বেরিয়ে এল।

আজকের মিলনটা যেন অন্য সব দিনের চেয়ে আলাদা। রাজের সেই 'রাজদণ্ড' যেন আজ আরও বেশি উত্তপ্ত, আরও বেশি সংহারী। আয়ুষ অভ্যস্ত, সে জানে এই অতিকায় দণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি কীভাবে তার ভেতরের দেয়ালে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে এক তীব্র যন্ত্রণাময় সুখের জন্ম দেয়। কিন্তু আজ রাজের একটা প্রচণ্ড ধাক্কায় আয়ুষের সংবিৎ ফিরে এল।

তিন বছর ধরে এই শরীরকে ধারণ করার পরেও আয়ুষ আজ কেঁপে উঠল। রাজের সেই অঙ্গটি আজ যেন আরও স্থূল, আরও দৃঢ়। আয়ুষের মনে হলো, তার শরীরের প্রতিটি তন্তু যেন রাজের এই বিশালত্বের কাছে আত্মসমর্পণ করছে। সে যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু সেই যন্ত্রণার ভেতরেই লুকিয়ে ছিল এক পরম তৃপ্তি।

রাজ যখন প্রবল বিক্রমে আয়ুষের গভীরে নিজেকে সঁপে দিচ্ছিল, আয়ুষ তখন দুই হাতে দোলনার রাশি খামচে ধরেছিল। রাজের শরীরের প্রতিটি ঘাম, তার গলার পেশির টানটান উত্তেজনা আয়ুষকে এক অদ্ভুত ঘোরে আচ্ছন্ন করে রাখল।

রাজের কোনোদিন কোনো কনডম ব্যবহার না করার অর্থ আয়ুষের কাছে খুব পরিষ্কার। রাজের শরীরের প্রতিটি ফোঁটা তপ্ত রস, তার সমস্ত ঔরস যখন আয়ুষের পেটের গভীরে নিগড়ে পড়ে, তখন আয়ুষ নিজেকে এক সার্থক 'স্ত্রী' হিসেবে অনুভব করে। সেই তপ্ত ধারার স্পর্শে আয়ুষের মনে হয়, রাজের বংশের, রাজের সত্তার সমস্ত নির্যাস সে নিজের ভেতরে সযত্নে ধারণ করে আছে। এটা যেন কেবল এক শারীরিক মিলন নয়, বরং রাজের আধিপত্যের এক অমোঘ সিলমোহর, যা আয়ুষের শরীরে আজীবন অঙ্কিত থাকবে।

মিলনের সেই চরম মুহূর্তে রাজ যখন আয়ুষের ওপর সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ল, তখন সাগর পাড়জুড়ে শুধু দুজনের ভারী নিশ্বাসের শব্দ। আয়ুষ অনুভব করল তার পেটের ভেতরে রাজের সেই শ্রেষ্ঠ উপহারের উষ্ণতা। রাজের পেশিবহুল বাহু তাকে জড়িয়ে ধরল এক গভীর মমতায়।

আয়ুষ রাজের ঘর্মাক্ত কপালে হাত রেখে ভাবল, এই তো জীবন। রাজের এই দানবীয় দাপট আর তার এই শান্ত সমর্পণ—এই দুয়ে মিলেই তাদের পৃথিবী। রাজের দেওয়া সেই ব্যথাই আজ তার কাছে সবচেয়ে প্রিয় অলঙ্কার।

সকালটা এল শান্ত পায়ে, ঝাউবনের ফাঁক দিয়ে আসা সোনালি আলোর রেখা যখন রাজ আর আয়ুষের বিছানায় এসে পড়ল। রাতের সেই প্রলয়ঙ্করী যুদ্ধের অবশিষ্টাংশ তখনো সাগর পাড়জুড়ে ছড়ানো। এই কামার্ত বাতাস, রাজের শরীরের ঘাম আর আয়ুষের শরীরের নোনা ঘ্রাণ মিলেমিশে এক অদ্ভুত মাদকতা তৈরি করেছে।

রাজ তখনো গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তার পেশিবহুল চওড়া বুকটা নিয়মিত তালে ওঠানামা করছে। আয়ুষ রাজের বুকের ওপর মাথা রেখে আধোঘুমে ছিল। হঠাৎ গত রাতের সেই মুহূর্তগুলো তার চোখের সামনে ভেসে উঠল। রাজের সেই প্রচণ্ড ধাক্কা, সেই অতিকায় দণ্ডের দাপট আর তার গভীরে রাজের সমস্ত সত্তা নিগড়ে দেওয়ার সেই চরম মুহূর্ত—ভেবেই আয়ুষের শরীরে আবার এক শিহরণ বয়ে গেল।

সে আলতো করে রাজের বুকের লোমশ জমিনে আঙুল বোলাতে লাগল। আয়ুষ অনুভব করছিল, তার শরীরের নিচের অংশে এখনো একটা হালকা টনটনে ব্যথা রয়ে গেছে। কিন্তু এই ব্যথাটাই তো তার কাছে রাজের দেওয়া শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। রাজ তিন বছর ধরে কোনো কনডম ছাড়া তার ভেতরে নিজেকে সঁপে দিচ্ছে, এর চেয়ে বড় বিশ্বাস আর কী হতে পারে? আয়ুষ নিজেকে মনে মনে রাজের ‘ঘরনি’ বলেই ভাবে। রাজের সেই তপ্ত উপহারগুলো নিজের গভীরে ধারণ করে সে যেন এক পূর্ণতা পায়।

আয়ুষের আঙুলের ছোঁয়ায় রাজের ঘুম ভাঙল। সে চোখ না খুলেই আয়ুষকে আরও শক্ত করে নিজের দিকে টেনে নিল। রাজের সেই বলিষ্ঠ বাহুবন্ধনে আয়ুষ প্রায় পিষে যাচ্ছিল, কিন্তু এই পেষণেই তো তার আনন্দ।

রাজ তার ভরাট গলায় ফিসফিস করে বলল, "ব্যথা করছে খুব? রাতে বোধহয় একটু বেশিই জোরে করে ফেলেছি।"

আয়ুষ লাজুক হাসল। রাজের চিবুকে নিজের নাক ঘষে উত্তর দিল, "তোমার এই আদরই তো আমার অলঙ্কার রাজ। তুমি যখন আমার ভেতর তোমার সবটুকু উজাড় করে দাও, তখন আমার মনে হয় আমি পৃথিবীর সবচেয়ে ভাগ্যবান। তোমার ওই প্রচণ্ডতা আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে আমি শুধুই তোমার।"

রাজ আয়ুষের কপালে একটা দীর্ঘ চুমু খেল। তার চোখে তখন কামনার চেয়েও বেশি ছিল এক গভীর কৃতজ্ঞতা। "তিনটে বছর কেটে গেল আয়ুষ, কিন্তু আজও তোমাকে যখন আমার এই রাজদণ্ডের নিচে পাই, মনে হয় যেন প্রথম দিন। তোমার এই আদ্রতা, এই পিচ্ছিল আশ্রয় আমাকে বারবার পাগল করে দেয়।"
রাজের ওই বলিষ্ঠ শরীর আর আয়ুষের এই নমনীয় সমর্পণ—এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই তৈরি হয়েছে তাদের নিজস্ব এক স্বর্গ।

রাজ উঠে বসে আয়ুষের হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় নিল। "চলো, সমুদ্রের পাড়ে একটু হেঁটে আসি। রোদের তেজ বাড়ার আগেই।"

আয়ুষ রাজের সুঠাম পিঠের দিকে তাকিয়ে রইল। সে জানে, আজ রাতেও হয়তো রাজ আবার একইভাবে তাকে আদর করবে, আবার তার গভীরে সেই তপ্ত স্রোত বইয়ে দেবে। আর আয়ুষও প্রস্তুত থাকবে এক বাধ্য সঙ্গিনীর মতো রাজের সমস্ত দাপট নিজের ভেতরে শুষে নিতে।

২য় পর্ব আসতেছে.....................
#গে #সমকামীলাভ #সমপ্রেম #মিলনেররাত #ফিল্মlgbtq

গল্পঃ ছায়ার অন্তরালে। পর্বঃ ০২(মুরাদ আহমেদের আত্মকথন)আমার ডায়েরির পাতায় আজ যে শব্দগুলো আমি লিখছি, তা কোনো সাধারণ দিনলি...
29/03/2026

গল্পঃ ছায়ার অন্তরালে। পর্বঃ ০২
(মুরাদ আহমেদের আত্মকথন)

আমার ডায়েরির পাতায় আজ যে শব্দগুলো আমি লিখছি, তা কোনো সাধারণ দিনলিপি নয়; এটি আমার দীর্ঘদিনের অবদমিত সত্তার এক নিষিদ্ধ ও পবিত্র বিস্ফোরণ। আমি মুরাদ আহমেদ, পঁয়ত্রিশোর্ধ্ব এক সফল পুরুষ, যার কাঁধে সমাজের প্রত্যাশা আর পরিবারের ভার। কিন্তু সিলেটের সেই রাতে, সেই সেগুনবাগিচার আভিজাত্য আর অফিসের গাম্ভীর্য ছাপিয়ে আমি খুঁজে পেলাম আমার আসল অস্তিত্বকে—শাকিলের তপ্ত নিশ্বাসে।

সেই রাতে আমরা একবার নয়, তিনবার একাত্ম হয়েছিলাম। আমার ৮৫ কেজি ওজনের সুগঠিত, লোমশ আর রুক্ষ শরীরটা যখন শাকিলের ৬৮ কেজির সেই দুধে-আলতা কোমল শরীরে আছড়ে পড়ছিল, তখন মনে হচ্ছিল আমি কোনো আদিম যুদ্ধের নেশায় মত্ত। শাকিলের অনভিজ্ঞতা আর আমার দীর্ঘদিনের যৌন অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে সেই বিছানায় রচিত হয়েছিল এক নিষিদ্ধ উপাখ্যান। আমার শক্তিশালী হাতের মুঠোয় যখন ওর ফর্সা কোমরের নরম মাংসপেশিগুলো পিষে যাচ্ছিল, তখন ওর মুখ থেকে বেরিয়ে আসা প্রতিটি গোঙানি আমার পুরুষালি অহংকারকে আরও চাড়িয়ে দিচ্ছিল।

ওর সেই কোমল শরীরটা জিম না করলেও প্রাকৃতিকভাবেই এতটাই সেক্সি যে, প্রতিবার ওকে পাওয়ার পর আমার মনে হচ্ছিল তৃষ্ণা মেটার বদলে আরও বাড়ছে। এই বিশাল দেহের আমি যখন আমার নরম এই স্নিগ্ধ শিকারকে নিজের বাহুবন্দি করি, তখন পৃথিবীর সব নিয়ম তুচ্ছ মনে হয়।

আশ্চর্যের বিষয় হলো এই সমাজ! যে সমাজ একজন শারীরিক বা মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ মানুষকেও করুণার চোখে দেখে, আদরে কাছে টেনে নেয়, সেই সমাজই আমাদের মতো সমকামী বা বাইসেক্সুয়াল মানুষদের দেখলে ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেয়। অথচ পরিসংখ্যান বলে, এই ঢাকা শহরের অলিতে-গলিতে, করপোরেট অফিসের কাঁচের দেয়ালের ওপারে আমাদের মতো হাজারো মুরাদ আর শাকিল বিচরণ করছে। ধর্ম আর সংস্কারের দোহাই দিয়ে আমাদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হয় ঠিকই, কিন্তু অন্ধকারের এই তপ্ত আলিঙ্গনগুলোই আমাদের বেঁচে থাকার রসদ জোগায়। আমরা এই নিষিদ্ধ নগরীর ধ্রুবতারা, যারা লোকচক্ষুর অন্তরালে নিজেদের ভালোবাসার আলোয় পুড়ছি।

সঙ্গম পর্ব শেষে যখন ক্লান্তিতে আমরা একে অপরের গায়ের ঘাম আর পুরুষালি গন্ধে ডুবে ছিলাম, তখন আমি শাকিলের সেই লজ্জা মাখা মুখটা নিজের চিবুক দিয়ে উঁচিয়ে ধরলাম। আমার গাম্ভীর্যের যে দেয়াল আমি অফিসের করিডোরে ধরে রাখি, তা সেই রাতে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। ওর কপালে আমার ঠোঁট ছুঁইয়ে আমি ফিসফিস করে বললাম, "শাকিল, আমি তোমাকে সত্যিই অনেক ভালোবাসি।"

শাকিল আমার সেই বিশাল, পেশিবহুল পিঠটা নিজের ফর্সা হাত দুটো দিয়ে শক্ত করে জাপটে ধরল। ওর মুখটা আমার কানের কাছে নিয়ে কাঁপাকাঁপা গলায় বলল, "আমিও আপনাকে অনেক ভালোবাসি, স্যার।"

ওর এই 'আপনি' সম্বোধনটা আমাকে মনে করিয়ে দিল আমাদের বয়সের এগারো বছরের ব্যবধান আর অফিসের সেই বস-এমপ্লয়ি সম্পর্কের কথা। কিন্তু এই 'আপনি'র আড়ালেই যেন মিশে ছিল এক গভীর শ্রদ্ধা আর অকৃত্রিম সমর্পণ। ও আমাকে 'তুমি' বলার সাহস পায়নি ঠিকই, কিন্তু ওর প্রতিটি স্পর্শে যে অধিকার ছিল, তা কোনো সম্বোধনের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

সেই রাতে সিলেটের হোটেল রুমের এসি-র ঠান্ডা বাতাসও আমাদের শরীরের আগুনের কাছে হার মেনেছিল। আমি জানতাম, সকালে ঘুম ভাঙলে আমাকে আবার সেই মুরাদ আহমেদ হয়ে ফিরতে হবে—যার স্ত্রী আছে, সন্তান আছে। কিন্তু আমার আত্মার যে অংশটা শাকিলের ওই নরম শরীরের ভাঁজে আটকা পড়ে রইল, তা কোনোদিন আর স্বাভাবিক হবে না। আমাদের এই প্রেম হয়তো সমাজের চোখে কলঙ্ক, কিন্তু এই অন্ধকার ঘরে, ওর নিশ্বাসের শব্দে আমি যে পবিত্রতা খুঁজে পেয়েছি, তা কোনো মন্দির বা মসজিদের চেয়ে কম নয়।

আমি মুরাদ আহমেদ, আজ স্বীকার করছি—আমি আমার এই জুনিয়র অফিসার শাকিলের প্রেমে আষ্টেপৃষ্ঠে বন্দি। আর এই বন্দিত্বই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ স্বাধীনতা।

সিলেট থেকে ফেরার পথে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে যখন আমার শক্ত হাত দুটো ছিল, তখন আড়চোখে দেখছিলাম পাশে বসে থাকা শাকিলকে। ওর সেই ফর্সা কোমল মুখটায় গতরাতের ক্লান্তির চেয়েও বেশি ছিল এক ধরণের অপার্থিব উজ্জ্বলতা। আমরা শপিং মলে ঢুকলাম। মিতার জন্য একটা নীল শাড়ি কিনলাম—যেটা শাকিলেরও প্রিয় রঙ। অদ্ভুত এক বৈপরীত্য! আমার জীবনের দুই প্রান্তের দুই প্রিয় মানুষের পছন্দ আজ এক বিন্দুতে মিলেছে। নিজের জন্য যখন সাদা রঙের পাঞ্জাবি কিনলাম, শাকিলও ঠিক একই রকম একটা বেছে নিল। আমাদের এই ম্যাচিং করা পাঞ্জাবি কেনাটা হয়তো খুব সাধারণ, কিন্তু একজন বাই-সেক্সুয়াল পুরুষের কাছে এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই হচ্ছে বেঁচে থাকার অক্সিজেন। একদিকে পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা, অন্যদিকে নিজের ভেতরের সেই আদিম সত্তার প্রতি বিশ্বস্ততা—এই দুইয়ের মাঝে যে ভারসাম্য, তা পৃথিবীর খুব কম পুরুষই অনুধাবন করতে পারে।

মুবিন আর মুকিতের জন্য খেলনা আর কাপড় কেনার সময় আমার ভেতরটা হু হু করে উঠছিল। ওরা আমার রক্ত, আমার অস্তিত্বের অংশ। কিন্তু শাকিলকে যখন পাঠাও-এ তুলে দিচ্ছিলাম, ওর সেই জলভরা চোখ দুটো আমার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ধরল। এই ইট-পাথরের শহরে আমাদের প্রেম তো কেবল অন্ধকার ঘরের চার দেয়ালে বন্দী। দিনের আলোয় আমরা একে অপরের কেউ নই।

বাসায় ঢোকা মাত্রই পাঁচ বছরের জমজ দুই দেবদূত—মুবিন আর মুকিত দৌড়ে এসে আমার পা জড়িয়ে ধরল। ওদের চঞ্চলতা, ওদের গায়ের সেই শিশুদের মতো মিষ্টি গন্ধ মুহূর্তেই আমাকে একজন দায়িত্বশীল পিতায় রূপান্তরিত করল। ওরা ঠিক আমার মতোই জেদী আর মিতার মতো সুন্দর হয়েছে। ওদের কপালে চুমু খেতে খেতে আমার মনে হলো, একজন পুরুষ হিসেবে এর চেয়ে বড় সার্থকতা আর কী হতে পারে?

গত পাঁচ বছর আমি মিতা ছাড়া আর কারো শরীর স্পর্শ করিনি। আমি জানতাম আমি বাই-সেক্সুয়াল, কিন্তু নিজের ওপর আমার নিয়ন্ত্রণ ছিল পাহাড়ের মতো অটল। কিন্তু শাকিল... ওই ছেলেটা যেন আমার তপোবন জ্বালিয়ে দেওয়া এক অগ্নিকুণ্ড। ৫ বছর পর আজ যখন ওর সেই নরম, ফর্সা শরীরের সাথে আমার ৮৫ কেজির পেশিবহুল দেহের মিলন হলো, তখন মনে হলো আমি হারিনি, বরং আমি নিজেকে খুঁজে পেয়েছি। একজন বাই-সেক্সুয়াল পুরুষ হিসেবে আমি আজ পূর্ণ। আমার ঘরে মিতার মতো অপার্থিব সুন্দরী আর প্রেমময় স্ত্রী আছে, আবার হৃদয়ের গোপন কুঠুরিতে শাকিলের মতো এক তেজি তরুণের নিবিড় ভালোবাসা আছে। এই যে দুই ধরণের ভালোবাসার সংমিশ্রণ, এটাই তো জীবনের পরম পাওয়া।

মিতা হাসিমুখে ঘর থেকে বেরিয়ে এল। ওর পরনে সাধারণ একটা সুতি শাড়ি, কপালে ছোট একটা টিপ। মিতার সেই স্নিগ্ধ চাহনি দেখলে যে কেউ ওর প্রেমে পড়তে বাধ্য। ও যখন ব্যাগগুলো আমার হাত থেকে নিয়ে মিষ্টি করে হাসল, তখন আমার মনে হলো আমি সত্যিই ভাগ্যবান। মিতা আমার হাত ধরে আলতো করে টেনে নিয়ে সোফায় বসাল। দুই ছেলে তখনো আমার কাঁধে ঝুলছে।

মিতা ওর মায়াবী স্বরে জিজ্ঞেস করল, "ট্রিপ কেমন হলো? খুব ক্লান্ত নাকি?"

আমি মিতার হাতের ওপর আমার রুক্ষ হাতটা রাখলাম। যে হাতে কয়েক ঘণ্টা আগে শাকিলের শরীরের ঘাম আর উষ্ণতা মেখে ছিল, সেই হাত দিয়েই এখন আমি মিতার স্নিগ্ধতা অনুভব করছি। আমি মৃদু হেসে বললাম, "ট্রিপ ভালো হয়েছে মিতা। কাজও হয়েছে, আবার একটু ঘোরাঘুরিও হলো। এই দেখো তোমার জন্য নীল শাড়ি এনেছি।"

মিতা নীল শাড়িটা দেখে ওর চোখ দুটো খুশিতে চকচক করে উঠল। ও জানত না এই নীল রঙটা শাকিলও পছন্দ করেছে। এই যে গোপন একটা সুতো দিয়ে আমি আমার জীবনের দুই মেরুকে বেঁধে রেখেছি, এটাই আমার সার্থকতা। মিতা যখন শাড়িটা বুকে জড়িয়ে ধরল, তখন ওর চেহারায় যে তৃপ্তি দেখলাম, তা দেখে আমার মনে হলো—একজন বাই-সেক্সুয়াল পুরুষ হিসেবে আমি যদি সমাজকে ভয় পেয়ে শাকিলকে ফিরিয়ে দিতাম, তবে আমি আমার নিজের সাথেই অন্যায় করতাম।

আমি মিতার কোমর জড়িয়ে ধরলাম। একপাশে আমার সন্তানেরা খেলছে, অন্যপাশে আমার স্ত্রী আমার বাহুবন্দী। আর আমার ফোনে তখন শাকিলের একটা মেসেজ ঝিলিক দিয়ে উঠল—"আমি পৌঁছেছি স্যার। আপনি পৌঁছেছেন? আপনার গায়ের গন্ধটা এখনো নাকে লেগে আছে।😍🥰 "

আমি মনে মনে হাসলাম। এটাই তো জীবন। যেখানে একদিকে আছে পবিত্র দাম্পত্যের শীতল ছায়া, আর অন্যদিকে আছে নিষিদ্ধ প্রেমের উত্তপ্ত আগুন। আমি এই দুই আগুনেই পুড়তে চাই। প্রতিটি বাই-সেক্সুয়াল পুরুষ হয়তো এভাবেই স্বপ্ন দেখে—যেখানে সে একই সাথে একজন আদর্শ স্বামী, একজন স্নেহময় পিতা এবং একজন তৃষ্ণার্ত প্রেমিক হয়ে বেঁচে থাকবে। সমাজ আমাদের বিকলাঙ্গ ভাবতে পারে, কিন্তু আমরা জানি—আমরা এই পৃথিবীর সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় অনুভূতির অধিকারী।

মিতা আমার কাঁধে মাথা রাখল। আমি চোখ বুজে ভাবলাম, কাল সকালে আবার অফিসে যাব। আবার সেই গম্ভীর বস হবো। কিন্তু শাকিলের সাথে যখন চোখের পলক পড়বে, তখন কেবল আমরাই জানবো আমাদের সেই গোপন জান্নাতের খবর। আমার স্ত্রীও থাকবে, আমার ভালোবাসার মানুষও থাকবে—এই ভারসাম্যই আমার জীবনের ধ্রুবতারা।

3rd part is comming soon.................

#বাইসেক্সুয়াল্প্রেম #বাইসেক্সুয়াললাভ #প্রেমেরগল্প #পাঠকপ্রিয়

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when LGBTQ Film BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to LGBTQ Film BD:

Shortcuts

Share