30/03/2026
গল্পঃ বিভীষিকা । পর্বঃ ০১
লেখকঃ আজমীন ফারাবী
নদীর তপ্ত বালু আর রোদে পোড়া তামাটে চামড়ার গন্ধে মিশে থাকা বাশার হোসেনের জীবনটা যেন এক আদিম মহাকাব্য, যার প্রতিটি পরিচ্ছেদ লেখা হয়েছে হাড়ভাঙা খাটুনি আর অপমানের নীল কালিতে। ৩৩ বছরের এই জোয়ান মরদের শরীরটা দেখলে মনে হয়, বিধাতা বুঝি কোনো পাথরের পাহাড় কেটে তাকে গড়েছেন। কামসূত্র গ্রন্থে বর্ণিত 'বৃষ' বা শ্রেষ্ঠ বলশালী পুরুষের যে লক্ষণের কথা বলা হয়েছে, বাশার যেন তারই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তার চওড়া ছাতিটা যেন এক বিশাল বর্ম, আর দুই হাতের কবজিগুলো ইস্পাতের শিকলের মতো মজবুত। ঘাটে যখন সে একাই দুই মণের বস্তা পিঠে তুলে নেয়, তখন তার মেরুদণ্ডের পেশিগুলো সাপের মতো খেলে ওঠে। সূর্যের তেজে তার শরীরের চামড়া পুড়ে যে তামাটে বরণ ধারণ করেছে, তার ওপর দিয়ে যখন ঘাম চুইয়ে পড়ে, তখন মনে হয় তপ্ত লোহার ওপর দিয়ে কেউ বুঝি তরল হীরা ঢেলে দিয়েছে।
কিন্তু এই পাহাড়ের মতো শক্ত শরীরের ভেতরে বাস করে এক অতি সাধারণ, কাদা মাটির মতো নরম মন। বাশার বেশি কথা বোঝে না, প্যাঁচগোছ চেনে না; সে শুধু বোঝে হুকুম তামিল করা আর দিনশেষে কয়েকটা টাকার বিনিময়ে নিজের আর বুড়ি মায়ের পেট চালানো। গ্রামের প্রভাবশালী মহাজন আজমত আলীর গদিতে বাশার কাজ করে। মহাজন মানুষটা যেমন ধুরন্ধর, তেমনি নিষ্ঠুর। সেদিন ঘাটে মালের হিসাব মেলাতে গিয়ে সামান্য দেরি হওয়ায় মহাজন খেপে গিয়ে বাশারের পিঠে সপাৎ করে চাবুক চালিয়ে দিল। বাশারের পাহাড়সম শক্ত শরীর সেই আঘাতে একটুও টলল না, কিন্তু অপমানে তার দুচোখ ফেটে জল এল। সে চাইলে এক থাবায় মহাজনের মাথা গুঁড়িয়ে দিতে পারত, কিন্তু তার সহজ-সরল মন তাকে শিখিয়েছে অন্নের সংস্থান যে করে, সে হলো অন্নদাতা। তাই সে মাথা নিচু করে সব সহ্য করল। মহাজনের চাবুকের দাগ তার তামাটে পিঠের ওপর লাল হয়ে ফুটে উঠল, যেন কোনো উর্বর জমিতে নিষ্ঠুর লাঙল চালানো হয়েছে।
ঠিক সেই সময় মহাজনের ছোট ছেলে শাহরিয়ার, যে শহর থেকে পড়াশোনা শেষ করে গ্রামে ফিরেছে, সে দৃশ্যটি দেখে স্তব্ধ হয়ে গেল। শাহরিয়ারের গড়ন বাশারের ঠিক উল্টো—কোমল, সুশ্রী আর মায়াবী। সে বাবার এই নিষ্ঠুরতা সইতে পারল না। রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে, শাহরিয়ার চুপিচুপি বাশারের কুঁড়েঘরে এসে হাজির হলো। কুপি জ্বালিয়ে বাশার তখন উপুড় হয়ে শুয়ে নিজের তপ্ত পিঠের যন্ত্রণা সইছিল। শাহরিয়ার হাতে শীতল মলম নিয়ে বাশারের পাশে বসল। বাশার চমকে উঠে বসতে চাইলে শাহরিয়ার আলতো করে তার কাঁধে হাত রাখল। সেই কোমল করপল্লবের স্পর্শে বাশারের বিশাল শরীরটা একবার শিউরে উঠল—ঠিক যেমন শান্ত দীঘিতে পাথর ছুড়লে ঢেউ খেলে যায়।
কামসূত্রে যেমন বিপরীত স্বভাবের মানুষের মিলনে এক মহাজাগতিক আকর্ষণের কথা বলা হয়েছে, বাশারের এই আদিম রুক্ষ শরীর আর শাহরিয়ারের সেই স্নিগ্ধ সেবা যেন এক অলৌকিক মিলন ঘটাল। শাহরিয়ারের আঙুলগুলো যখন বাশারের শক্ত পেশির ওপর দিয়ে পিচ্ছিল মলম লেপে দিচ্ছিল, তখন বাশারের বন্ধ নিশ্বাসের শব্দ কুঁড়েঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে দিচ্ছিল। বাশার অবাক হয়ে ভাবছিল, যে হাত দিয়ে কলম ধরে লিখতে হয়, সেই হাত আজ তার মতো এক অধম মজুরের সেবা করছে! শাহরিয়ারের যতুনের ছোঁয়ায় বাশারের মনে এক অদ্ভুত ভালোলাগা জন্ম নিল, যা সে আগে কখনো অনুভব করেনি। তার এই বিপুল পৌরুষদীপ্ত দেহটি যেন সেই মুহূর্তে এক ছোট্ট শিশুর মতো শাহরিয়ারের মমতার কাছে আত্মসমর্পণ করল।
বাশারের পেশিগুলো শিথিল হয়ে এল, আর শাহরিয়ারের মনে হলো সে কোনো সাধারণ মানুষের নয়, বরং এক আদিম দেবতার সেবা করছে যার শক্তিতে এই পৃথিবী টিকে আছে। বাশারের ঘাম, মাটি আর তামাটে চামড়ার এক তীব্র পুরুষালি ঘ্রাণ শাহরিয়ারের নাকে লাগছিল, যা তাকে এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে নিয়ে গেল। গ্রামের এই সামর্থ্যবান পুরুষটি যখন সামান্য আদরে চোখের কোণ দিয়ে জল ফেলল, তখন শাহরিয়ার বুঝতে পারল—পাহাড় যত শক্তই হোক না কেন, ঝরনা তার বুক চিরে ঠিকই বেরিয়ে আসে। গভীর রাতে নদীর কলতানি আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকের মধ্যে বাশারের কুঁড়েঘরে এক নতুন ইতিহাসের জন্ম হলো, যেখানে শক্তি আর কোমলতা একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠল।
পরের দিন রাত। আকাশে মেঘের ঘনঘটা, নদীর পাড়জুড়ে ঝিঁঝিঁ পোকার বিরামহীন ডাক আর্দ্র বাতাসকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। বাশারের মা আজ বাড়িতে নেই, এক আত্মীয়র বাড়ি গিয়েছেন। কুঁড়েঘরের টিমটিমে কুপির আলোয় বাশার একা বসে ছিল, তার বিশাল তামাটে শরীরটা ক্লান্তিতে ভেঙে আসছিল। ঠিক তখনই দরজায় মৃদু করাঘাত। দরজা খুলতেই বাশার দেখল শাহরিয়ারকে। পরনে হালকা রঙের পরিপাটি পোশাক, হাতে হিসাবের একটি মোটা খাতা।
শাহরিয়ার ঘরে ঢুকে ধীরপায়ে তক্তপোশের ওপর বসল। বাশার কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার মতো নগণ্য এক মজুরের ঘরে মহাজনের শিক্ষিত ছেলে এভাবে বারবার আসবে, এটা সে কল্পনাও করতে পারেনি। শাহরিয়ারের চোখে আজ এক অদ্ভুত স্থিরতা, যেন এক গূঢ় পরিকল্পনা তার মনে দানা বাঁধছে। বংশগতভাবে মহাজনের রক্ত তার ধমনীতেও বইছে, তাই মানুষকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়, সেই কৌশল তার অজানা নয়। তবে বাবার মতো সে নিষ্ঠুর নয়, বরং তার পদ্ধতি অনেক বেশি ধীর আর মনস্তাত্ত্বিক।
শাহরিয়ার খাতাটা খুলে বাশারকে শান্ত হতে বলল। তার কণ্ঠস্বর ছিল রেশমের মতো মসৃণ। সে জানাল, মালের হিসাবে একটা বড় গরমিল ধরা পড়েছে। যদি এই হিসাব মহাজনের কানে যায়, তবে বাশারের খাটুনির অর্ধেক টাকাই জরিমানায় কাটা যাবে। বাশারের বুকটা ধক করে উঠল। দিন আনি দিন খাই জীবনে সামান্য কয়েকটা টাকা মার যাওয়া মানে বুড়ি মায়ের মুখে অন্ন তুলে দিতে না পারা। ভয়ে আর দুশ্চিন্তায় বাশার ঘামতে শুরু করল। তার সেই আদিম, পেশিবহুল শরীরটা যেন মুহূর্তেই কুঁকড়ে গেল।
নিরুপায় হয়ে বাশার শাহরিয়ারের পা জড়িয়ে ধরল। "ভাইজান, আমারে বাঁচান! এই কয়টা টাকা না পাইলে আমাগো না খাইয়া মরা লাগবো।" বাশারের এই অসহায় আত্মসমর্পণই যেন শাহরিয়ার মনে মনে চাচ্ছিল। সে বাশারের কাঁধে হাত রেখে বলল, "হিসাব তো আমি ঠিক করে দিতে পারি বাশার, কিন্তু তার বদলে আমি কী পাব?"
বাশার ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল। তার দেওয়ার মতো কী আছে? জমি নেই, টাকা নেই, সম্পদ নেই। সে মিনমিন করে বলল, "আমার তো ভাইজান কিছুই নাই।" শাহরিয়ার তখন এক রহস্যময় হাসি দিয়ে তাকে উঠে দাঁড়াতে বলল। বাশার ভয়ার্ত চোখে মন্ত্রমুগ্ধের মতো উঠে দাঁড়াল। শাহরিয়ারের দৃষ্টি তখন বাশারের সেই দীর্ঘদেহী, বলিষ্ঠ অবয়বের ওপর স্থির।
শাহরিয়ার কোনো কথা না বলে হঠাৎই বাশারের সামনে এগিয়ে এল। তার সেই ফর্সা, কোমল হাত দিয়ে সে বাশারের পরিধানের কাপড়ের ওপর দিয়ে তাকে স্পর্শ করল। বাশার অপমানে না কি বিস্ময়ে স্থির হয়ে গেল, তা সে নিজেও বুঝতে পারল না। ভয়ে এবং এমন অপ্রস্তুত পরিস্থিতিতে বাশারের শরীর যেন অসাড় হয়ে এল। শাহরিয়ারের স্পর্শে তার সেই শক্তিশালী গ্রামীণ দেহটি এক আদিম জড়তায় থমকে দাঁড়াল। শাহরিয়ার অনুভব করল, এমনকি এই ভয়ার্ত আর নিস্তেজ অবস্থাতেও বাশারের শারীরিক গড়নটি এক অদম্য সামর্থ্যের সাক্ষ্য দিচ্ছে, যা তার ৩ ইঞ্চির সেই অবয়বে স্পষ্ট ধরা দিচ্ছিল। কুঁড়েঘরের ভেতরে তখন ঘাম, ভয় আর এক অব্যক্ত বাসনার গন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
কুঁড়েঘরের সেই গুমোট অন্ধকারে কুপির আলোটা যেন বাশারের মনের ভয়ের সাথে পাল্লা দিয়ে কাঁপছিল। শাহরিয়ারের সেই ধীরস্থির চাউনি আর সুপরিকল্পিত স্পর্শ বাশারকে এক অজানা ঘোরের মধ্যে ফেলে দিল। বাশার যেন নড়াচড়া করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছে। তার মনে হচ্ছিল, এই মায়াবী যুবকের আঙুলের ডগায় কোনো জাদুমন্ত্র আছে, যা তার পাথর-খোদাই করা শক্ত শরীরটাকে মোমের মতো গলিয়ে দিচ্ছে। শাহরিয়ার যখন বাশারের কোমর জড়িয়ে ধরে তাকে একদম কাছে টেনে নিল, তখন বাশারের নাকে এল শহর থেকে আসা এক দামী সুগন্ধি, যা এই খড় আর মাটির ঘরে একদমই বেমানান।
হঠাৎ করেই শাহরিয়ারের হাত বাশারের লুঙ্গির গিঁট আলগা করে দিল। বাশার মুহূর্তের জন্য আঁতকে উঠল, কিন্তু শাহরিয়ারের শান্ত ও স্থির দৃষ্টি তাকে বাধা দিতে দিল না। খোলা বাতাসের স্পর্শে বাশারের তামাটে উরু দুটোর পেশিগুলো একবার শিউরে উঠল। শাহরিয়ার যখন নিচু হয়ে বাশারের সেই রুক্ষ আর আদিম পৌরুষের সামনে হাঁটু গেড়ে বসল, তখন বাশারের মনে হলো সে স্বপ্ন দেখছে। যে অঙ্গটি তার কাছে কেবল প্রকৃতির কাজ সারার মাধ্যম ছিল, আজ তা এক অভিজাত শিক্ষিত যুবকের পরম আশ্রয়ে বন্দি হতে চলেছে।
শাহরিয়ার যখন বাশারের সেই ঘাম আর প্রস্রাবের গন্ধে মিশ্রিত পুরুষাঙ্গটি নিজের মুখের ভেতরে নিল, তখন বাশারের পুরো শরীরে এক তীব্র বিদ্যুৎ তরঙ্গ খেলে গেল। সে অবাক হয়ে ভাবল, একটু আগেই তো সে নদীর ঘাটে কাজ সেরে প্রস্রাব করেছে, পানি নেওয়ার সময়টুকুও পায়নি; অথচ সেই তীব্র গন্ধ আর লোনা স্বাদের ভেতরেই শাহরিয়ার যেন এক দুর্লভ তৃপ্তি খুঁজে পাচ্ছে। শাহরিয়ারের মুখের ভেতরের লালার উষ্ণতা আর জিভের খেল বাশারের পেশিবহুল শরীরে এক নতুন উত্তাপের জন্ম দিল। বাশারের তামাটে লিঙ্গটি, যা এতক্ষণ ভয়ের চোটে কুঁকড়ে ছিল, তা শাহরিয়ারের সোহাগে ধীরে ধীরে জেগে উঠতে শুরু করল।
আস্তে আস্তে বাশারের সেই 'মেশিনগান' সদৃশ বলিষ্ঠ অঙ্গটি শাহরিয়ারের ছোট মুখের ভেতরে আর ধরছিল না। বাশারের দীর্ঘদেহটি তখন তালের ডগার মতো দুলছে। সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। তার ভেতরে এক আদিম পশুর মতো বাসনা জেগে উঠল। শাহরিয়ারের মাথার চুলে আঙুল ডুবিয়ে দিয়ে বাশার নিজের অজান্তেই তার কোমর দোলাতে শুরু করল। নদীর ঢেউ যেমন পাড়ে আছড়ে পড়ে, বাশারের কোমরও তেমনি শাহরিয়ারের মুখের ভেতরে এক ছান্দিক গতিতে আসা-যাওয়া করতে লাগল। শাহরিয়ারের চোখে তখন এক অদ্ভুত বিজয়ের হাসি, সে জানত—এই বিশাল দেহের অধিকারী মানুষটিকে বশ করার চাবিকাঠি এখন তারই হাতে।
বাশার শাহরিয়ারকে সজোরে টেনে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিল। শাহরিয়ার শহরে অনেক সুশ্রী আর মার্জিত পুরুষের সংস্পর্শে এসেছে, অনেকের শরীরের নিচে নিজেকে সঁপে দিয়ে চপল আনন্দ খুঁজেছে। কিন্তু বাশারের এই বুনো গন্ধ, তার শরীরের ঘাম আর তামাটে চামড়ার যে তীব্রতা—তা শাহরিয়ারের অভিজ্ঞতায় ছিল না। বাশার যখন শাহরিয়ারের ওপর পাহাড়ের মতো চেপে বসল, তখন শাহরিয়ারের মনে হলো সে কোনো মানুষের নিচে নয়, বরং এক জীবন্ত দেবতার পৌরুষের নিচে পিষ্ট হতে চলেছে।
মিলনের প্রতিটি মুহূর্তে বাশার যেন তার জীবনের সমস্ত লাঞ্ছনার শোধ নিচ্ছিল। মহাজনের সেই চাবুকের দাগ, ঘাটের সেই অপমান আর সমাজের তুচ্ছতাচ্ছিল্য—সবকিছুই এক একটি ধাক্কায় রূপান্তরিত হয়ে শাহরিয়ারের শরীরের গভীরে আছড়ে পড়তে লাগল। বাশারের পেশিবহুল উরু আর চওড়া ছাতির চাপে শাহরিয়ারের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। শাহরিয়ার অনুভব করল, এই বুনো ধাক্কাগুলো কেবল তার শরীরের উপরিভাগে নয়, বরং তার পেটের একদম গভীরতম প্রদেশ পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। সে যন্ত্রণায় আর সুখে কুঁকড়ে যাচ্ছিল, কিন্তু বাশারের সেই আদিম গতি থামার কোনো লক্ষণ ছিল না।
বাশার তখন আর সেই নিরীহ মজুর নেই, সে এখন এই তক্তপোশের একচ্ছত্র মহাজন। তার তামাটে পিঠের পেশিগুলো সাপের মতো খেলে যাচ্ছিল, আর কপাল থেকে ঘাম চুইয়ে শাহরিয়ারের ফর্সা বুকের ওপর পড়ছিল। শাহরিয়ারের সুশ্রী দেহটি বাশারের এই বন্য শক্তির কাছে খড়কুটোর মতো ভেসে যাচ্ছিল। বাশারের প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল প্রতিশোধের মতো তীব্র, অথচ তাতে মিশে ছিল এক দুর্নিবার তৃষ্ণা।
এক সময় বাশারের ভেতরের সেই কামনার আগ্নেয়গিরি ফেটে পড়ল। তার শরীরের সমস্ত শক্তি যেন এক সাদা তপ্ত স্রোত হয়ে শাহরিয়ারের ভেতর আছড়ে পড়ল। বাশারের সারা শরীর কাঁপছিল, তার কণ্ঠ থেকে এক আদিম গর্জন বেরিয়ে এল যা কুঁড়েঘরের দেওয়াল ভেদ করে রাতের নিস্তব্ধতায় মিশে গেল। মিলনের সেই চরম মুহূর্তে বাশারের মনে হলো, সে যেন আজ তার হারানো সম্মান আর অধিকার ফিরে পেয়েছে। শাহরিয়ার নিস্তেজ হয়ে পড়ে রইল, তার চোখে তখন এক অদ্ভুত ঘোর আর বিস্ময়—সে বুঝতে পারল, সত্যিকারের সামর্থ্য আর বুনো আদিমতার স্বাদ আসলে কেমন হয়।
ঘরের কোণে কুপির আলোটা নিভে এল, আর নদীর দিক থেকে আসা শীতল বাতাস সাক্ষী হয়ে রইল এক অসম আর বুনো ইতিহাসের, যেখানে শক্তি আর কোমলতা একাকার হয়ে গিয়েছিল।
সেই রাতের নিস্তব্ধতা যেন এক আদিম অরণ্যের অতল গহ্বরে রূপ নিল। কুপির আলোটা নিভে যাওয়ার পর ঘুটঘুটে অন্ধকারে কেবল দুই জোড়া উত্তপ্ত নিশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বাশারের তামাটে শরীরে এতকাল যে আগ্নেয়গিরি সুপ্ত ছিল, আজ শাহরিয়ারের স্পর্শে তার মুখ খুলে গেছে। একবারের তৃপ্তিতে সেই কয়েক বছরের জমানো ক্ষুধা মেটার নয়। বাশারের পেশিবহুল বাহু দুটো অন্ধকারে শাহরিয়ারের সুকোমল দেহটাকে আবার খুঁজে নিল।
শাহরিয়ার তখন শ্রান্ত, তার শহরুরে নমনীয় শরীরটা বাশারের বুনো ধাক্কায় কিছুটা অবশ হয়ে এসেছিল। কিন্তু বাশারের সেই খসখসে হাতের স্পর্শ যখন আবার তার ঘাড়ের ওপর পড়ল, শাহরিয়ার বুঝতে পারল—এই গ্রামীণ দানবটি আজ থামার জন্য জাগেনি। বাশার তাকে সজোরে নিজের বুকের ওপর টেনে নিল। বাশারের চওড়া ছাতির হাড়গুলো শাহরিয়ারের পাঁজরে বিঁধছিল, কিন্তু সেই যন্ত্রণার ভেতরেও এক অদ্ভুত বুনো মাদকতা ছিল।
বাশারের শরীরের সেই তপ্ত ঘাম আর নদীর তীরের মাটির কড়া গন্ধ শাহরিয়ারের নাসারন্ধ্রে আবার নেশা ধরিয়ে দিল। বাশার কোনো ভূমিকা ছাড়াই আবার তার সেই শক্তিশালী উরু দিয়ে শাহরিয়ারকে বন্দি করে ফেলল। বাশারের মনে হচ্ছিল, সে আজ এই বিছানায় মহাজন আজমত আলীর সমস্ত দম্ভ গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিটি চুমু আর প্রতিটি কামড় ছিল যেন এক একটি হিসাব চুকানোর মতো। বাশারের সেই রুক্ষ ঠোঁট যখন শাহরিয়ারের গলায় আর কাঁধে বসল, তখন শাহরিয়ারের মনে হলো তার শরীরে আগুনের ছোঁয়া লাগছে।
কামসূত্রে বর্ণিত সেই বুনো রিরংসা বাশারের প্রতিটি পেশিতে তখন খেলা করছে। সে আবার শাহরিয়ারের গভীরে প্রবেশ করার জন্য উন্মুখ হয়ে উঠল। শাহরিয়ারের সুশ্রী দেহটি বাশারের এই বিশালত্বের নিচে খড়কুটোর মতো কাঁপছিল। বাশার যখন আবার তার সেই আদিম গতির তান্ডব শুরু করল, তখন শাহরিয়ারের কণ্ঠ থেকে এক অস্ফুট আর্তনাদ বেরিয়ে এল। এই ধাক্কাগুলো আগের চেয়েও তীব্র, যেন কোনো প্রমত্তা নদী তার পাড় ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে।
বাশারের সেই তামাটে কোমরের দুলুনি আর শাহরিয়ারের পেটের ভেতরে সেই বন্য অনুভূতি একাকার হয়ে গেল। বাশার বুঝতে পারল, সে আজ কেবল শাহরিয়ারের শরীর ভোগ করছে না, বরং এই সমাজের ওপর তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করছে। শাহরিয়ারের শহরের অভিজ্ঞতায় এমন কোনো পুরুষ ছিল না, যে তাকে এভাবে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারে। শাহরিয়ারের পিঠ যখন তক্তপোশের কাঠের ওপর ঘষা খাচ্ছিল, তখন সে বুঝতে পারল—এই আদিম শক্তির কাছে তার সমস্ত শিক্ষা আর আভিজাত্য আজ অর্থহীন।
রাতের শেষ প্রহরে বাশারের ভেতরের সেই কামনার আগুন যখন আবার চরম শিখরে পৌঁছাল, তখন কুঁড়েঘরের বাঁশের খুঁটিগুলো যেন সেই কম্পনে থরথর করে কাঁপছিল। বাশারের সেই বিশাল দেহটি থেকে আবার এক আদিম সাদা স্রোত শাহরিয়ারের সত্ত্বাকে প্লাবিত করে দিল। বাশার নিস্তেজ হয়ে শাহরিয়ারের বুকের ওপর পড়ে রইল, তার ভারে শাহরিয়ারের নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। কিন্তু শাহরিয়ার সরাল না; সে বুঝতে পারল, এই বুনো আর শক্তিশালী পুরুষটির আশ্রয়ে থাকাই এখন তার জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।
নদীর ওপার থেকে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করল, কিন্তু বাশারের সেই কুঁড়েঘরে রয়ে গেল এক অদ্ভুত প্রশান্তি আর ঘামের লোনা গন্ধ। বাশার হোসেন আজ আর কেবল দিনমজুর নয়, সে এক মায়ার রাজ্যের অধিপতি।
ভোরের প্রথম আলো যখন বাঁশের বেড়ার ফাঁক দিয়ে বাশারের কুঁড়েঘরে প্রবেশ করল, তখন ঘরের স্তব্ধতা এক অন্যরকম গাম্ভীর্য ধারণ করেছে। রাতের সেই আদিম উন্মাদনা আর ঘামসিক্ত নিশ্বাসের রেশ তখনও বাতাসে ভাসছে। শাহরিয়ার যখন ধীরে ধীরে চোখ মেলল, তখন তার সারা শরীর এক অদ্ভুত জড়তায় অবশ হয়ে আছে। বাশারের সেই বিশাল তামাটে বাহু তখনও তার বুকের ওপর এক দুর্ভেদ্য পাহাড়ের মতো চেপে আছে।
বিছানার জীর্ণ চাদরটির দিকে তাকাতেই শাহরিয়ারের বুকটা এক মুহূর্তের জন্য কেঁপে উঠল। সেখানে শুকিয়ে যাওয়া কালচে লাল রক্তের দাগগুলো এক বিচিত্র আলপনার মতো ফুটে আছে। কামসূত্রে যেমন বর্ণনা করা হয়েছে—বিপরীত স্বভাবের মানুষের মিলনে যখন বুনো শক্তি আর কোমলতা একে অপরের মুখোমুখি হয়, তখন সেই সংঘর্ষে শরীর কেবল আনন্দ পায় না, বরং বিসর্জনের চিহ্নও রেখে যায়। বাশারের মতো 'বৃষ' বা অতি-পুরুষালি দেহের অধিকারীর সেই অদম্য বন্যতা যখন শাহরিয়ারের মতো সুকোমল 'মৃগ' দেহকে অধিকার করেছে, তখন সেই মিলন কেবল রতিসুখ থাকেনি, তা হয়ে উঠেছিল এক যুদ্ধক্ষেত্র।
রক্তের সেই দাগগুলো সাক্ষ্য দিচ্ছিল রাতের সেই 'নখক্ষত' আর 'দশনচ্ছেদ'-এর তীব্রতার। কামসূত্রের প্রাচীন শ্লোক অনুযায়ী, গভীর অনুরাগের মুহূর্তে যখন আলিঙ্গন সীমানা ছাড়িয়ে যায়, তখন শরীরের ওপর পড়া দাঁত আর নখের আঘাতগুলোই হয়ে ওঠে প্রেমের পরম অলঙ্কার। বাশারের সেই রুক্ষ আঙুলের চাপে শাহরিয়ারের উরুর সন্ধিস্থলে আর পিঠে যে নীলচে ছোপ পড়েছে, আর চাদরে লেপ্টে থাকা সেই রক্তবিন্দু—সবই যেন এক আদিম বলিদানের চিহ্ন।
বাশার তখন অঘোরে ঘুমাচ্ছে। তার সেই প্রশস্ত ছাতিটা তালের ডগার মতো নিয়মিত ওঠানামা করছে। শাহরিয়ার অবাক হয়ে সেই রক্তের দিকে তাকিয়ে ভাবল—শহরের মাজাঘষা বিছানায় সে অনেকবার নিজেকে সঁপে দিয়েছে, কিন্তু এমন রুধিরসিক্ত পূর্ণতা সে আগে কখনও পায়নি। এই রক্ত যেন বাশারের সেই কয়েক বছরের জমানো অপমান আর অবদমিত কামনার এক চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। বাশারের সেই বুনো ‘মেশিনগান’ সদৃশ অঙ্গটি যখন শাহরিয়ারের ভেতরকার প্রতিটি দেওয়াল ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছিল, তখনই এই রক্ত চুইয়ে পড়েছিল সেই জীর্ণ তক্তপোশে।
শুকিয়ে যাওয়া সেই রক্তের ঘ্রাণ আর বাশারের শরীরের লোনা ঘাম মিলেমিশে কুঁড়েঘরের ভেতর এক বন্য মাদকতা তৈরি করেছে। শাহরিয়ার বুঝল, এই দাগগুলো ধুয়ে ফেলা সহজ, কিন্তু তার মনের গহীনে বাশার যে তামাটে আঁচড় কেটে দিয়েছে, তা কোনোদিন মোছার নয়। কামসূত্রের ভাষায় এটিই হলো 'প্রগাঢ় রত', যেখানে শরীর ক্ষতবিক্ষত হলেও মন এক অপার্থিব শান্তিতে ভরে ওঠে।
নদীর ঘাটে তখন মাঝিদের হাঁকডাক শোনা যাচ্ছে। বাশার হঠাৎ নড়েচড়ে উঠল। তার তামাটে চোখের পাতায় সকালের আলো পড়তেই সে আড়মোড়া ভাঙল। বিছানার সেই রক্তের দাগ দেখে বাশারের চোখে কোনো অনুশোচনা ছিল না, বরং ছিল এক আদিম শিকারির গর্ব। সে শাহরিয়ারের দিকে তাকিয়ে এক রহস্যময় হাসি দিল, যা বুঝিয়ে দিল—এই বিছানায় আজ থেকে আর কোনো মালিক-শ্রমিক বিভেদ নেই, আছে কেবল দুই আদিম প্রাণের সমর্পণ।
২য় পর্ব আসিতেছে আরো ভয়ংকর হয়ে, সাথে থাকুন।
#সমকামীসাহিত্য #গেগল্প #বাংলারসমকামী #বাংলাসাহিত্য #প্রেম #ঘৃণা #ভয় #ফিল্মlgbtq #সমকামীলাভ #মিলনেররাত