19/09/2026
যুবদল নেতা মুছার বাসভবনে স্মার্ট গ্রুপে চাকরির নামে যুবক জিম্মি, উদ্ধার পুলিশ
৮-১০ জন অস্ত্রধারীর ভয়, আতঙ্কে ভুক্তভোগী; মুখ খুলছে না পুলিশও
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় স্মার্ট গ্রুপে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মো. মহসিন নামের এক যুবককে একটি বাসভবনে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান তিনি। খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে নগরের ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডের কালামিয়া বাজারসংলগ্ন এপিক টাওয়ারের অষ্টম তলায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ওয়াসিম নামের এক ব্যক্তি স্মার্ট গ্রুপে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মহসিনকে এপিক টাওয়ারে নিয়ে যান। সেখানে স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যানের বড় ভাই মুজিবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। তবে অষ্টম তলায় নেওয়ার পর তাকে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে মহসিনকে ৮ থেকে ১০ জন অস্ত্রধারী ভয় দেখান এবং মারধরের হুমকি দেন বলে পুলিশকে জানান তিনি। পরে জীবন বাঁচাতে বারান্দায় গিয়ে চিৎকার করেন মহসিন। তাঁর চিৎকারে নিচে লোকজন জড়ো হলে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান।
খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি টহল দল এপিক টাওয়ারে যায়। পরে মহসিনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারের পর থেকে তিনি আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি এখনো মুখ খুলতে চাইছেন না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি বাকলিয়া থানা যুবদলের সদস্যসচিব মোহাম্মদ মুছার বাসভবনে ঘটেছে। ভবনের স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মুল কাহিনি ছিল সেখানে এক আওয়ামী লীগ- চেয়ারম্যানকে আটকে রেখে তাঁর পরিবারের কাছে অর্থ চাওয়ার ঘটনা। পরে ওই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা সেখানে গেলে বিষয়টি নিয়ে হট্টগোল হয় এবং অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটিকে চাকরির নামে যুবককে আটকে রাখার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করলে বিস্তারিত পাওয়া যাবে আরও।
তারা আরও জানান, ওই সময় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের বিষয়টি আশপাশের অনেকেই জানতে পারলেও আতঙ্কে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস করছেন না। ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে থানায় যোগাযোগের পর স্থানীয়দের সঙ্গে কথা না বলতেও বলা হয়েছে। বড় বড় নেতারা পুলিশকে ফোন করেছেন এবং কাউকে কোনো কিছু না বলার জন্য বলা হয়েছে বলেও জানান তারা।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে মুছার বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মী বা পুলিশকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি একপর্যায়ে থানায় ভুক্তভোগীকে নিয়ে গেলেও কোন প্রকার কথা বলতে দেয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাকলিয়া থানা যুবদলের সদস্যসচিব মোহাম্মদ মুছার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি ব্যস্ত পাওয়া যায়। পরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন,'৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে মূল ঘটনা ও বিস্তারিত খতিয়ে দেখা হবে। মহসিনকে সেখানে কেন নেওয়া হয়েছিল এবং তাকে আটকে রাখার ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।