18/06/2026
*শিরোনাম: ভিনদেশি আলোয় বেড়ে ওঠা ফুলটির প্রতি*
জাইমা রাহমান।
একটি নাম, যা ইংল্যান্ডের কুয়াশাচ্ছন্ন রাজপথে হাঁটতে শিখেছে, টেমসের জলে প্রতিবিম্ব দেখে বড় হয়েছে। তার উচ্চারণে হয়তো রয়ে গেছে ওক গাছের ছায়া, তার চলনে হয়তো লেগে আছে লন্ডনের ব্যস্ততার ছন্দ। এদেশের মাটির গন্ধ, গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ, কিংবা শিউলি ফোঁটা ভোরের শিশির— এসব তার শৈশবের সাথী হয়নি। ভিন্ন আকাশের নিচে বেড়ে ওঠা কি তার অপরাধ?
অথচ এই ভিন্নতাই যেন কাল হলো তার। সোশ্যাল মিডিয়ার অন্ধগলিতে একদল মানুষ হাতে তুলে নিলো শব্দের চাবুক। রিয়েল আইডির মুখোশ পরে কেউ, বট আইডির কুয়াশায় লুকিয়ে কেউ— সবাই মিলে ঝাঁপিয়ে পড়লো একটি মেয়ের উপর। যে নোংরামি, যে কদর্যতা, যে ভাষার বিষ উগরে দেওয়া হলো তার প্রতি, তা বর্ণনার অতীত। সভ্যতার আলো কি তবে ফেসবুকের নীল দেয়ালে এসে নিভে যায়?
একটি মেয়ে, যে হয়তো বাংলাটা ঠিক আমাদের মতো করে বলতে পারে না, যে হয়তো শাড়ির আঁচল সামলাতে গিয়ে হোঁচট খায়, যে হয়তো ইলিশের কাঁটা বেছে খেতে জানে না— তাকে নিয়ে এত ঘৃণা কেন? সংস্কৃতি কি কোনো লোহার বেড়ি, যা পরতে না পারলেই মানুষ অচ্ছুৎ হয়ে যায়? নাকি সংস্কৃতি এক বহতা নদী, যা ভিন্ন ভিন্ন ধারাকে বুকে টেনে নিয়েই সাগরের দিকে এগোয়?
আমরা ভুলে যাই, পরিচয়ের চেয়ে বড় হলো মনুষ্যত্ব। ভূগোলের চেয়ে গভীর হলো হৃদয়ের মানচিত্র। জাইমা রাহমান হয়তো আমাদের প্রচলিত ছাঁচে মেলে না, কিন্তু তারও তো একটি হৃদয় আছে— যা অপমানে রক্তাক্ত হয়, যা অবিচারে নীরবে কাঁদে।
একবার আয়নার সামনে দাঁড়াই। যে আঙুল তুলছি, সে আঙুল কি নির্মল? যে মুখে বিষ ঢালছি, সে মুখে কি কখনো ভালোবাসার কথা আসে না? ভিনদেশে বেড়ে ওঠা একটি প্রাণকে আপন করে নিতে না পারি, অন্তত আঘাত না করি। কারণ দিনশেষে আমরা সবাই মানুষ— রক্তমাংসের, অনুভূতির, সম্মানের কাঙাল।
কাদা ছোড়া সহজ, কিন্তু কাদা মুছে দেওয়াটাই মনুষ্যত্ব। আজ জাইমার দিকে ছোড়া প্রতিটি কটু কথা আমাদের সম্মিলিত বিবেকের গায়েই লাগছে। সময় এসেছে থামার। সময় এসেছে মানুষ হবার।