Tabassum Jerin

Tabassum Jerin Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Tabassum Jerin, Digital creator, Dhaka.

02/12/2024

সিজদাহ তে মাথা রেখে
২১বার যেকোন নামাজের পর "ইয়া আরহামার রহিমীন" পড়ুন।
সকল দোয়া কবুল হবে ইনশাআল্লাহ …..

আগে তিন বার দরুদপাঠ করে নিবেন।

আপনার স্বামীর কাছে আপনি ঠিক ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকবেন যতদিন পর্যন্ত তার হ্যাঁ তে হ্যাঁ আর না তে না মিলাতে পারবেন। যখনি এ...
29/11/2024

আপনার স্বামীর কাছে আপনি ঠিক ততদিন পর্যন্ত ভালো থাকবেন যতদিন পর্যন্ত তার হ্যাঁ তে হ্যাঁ আর না তে না মিলাতে পারবেন।
যখনি একটু প্রতিবাদ করতে যাবেন দেখবেন সব ভালোবাসা জানালা দিয়ে উড়ে চলে গেছে!!

28/11/2024

বিয়ের আগে সুন্দরী মেয়েকে বউ করতে চাওয়া ছেলেটাই বিয়ের পর চায় সেই বউ ঘরের দাসী হোক!!!

Celebrating my 2nd year on Facebook. Thank you for your continuing support. I could never have made it without you. 🙏🤗🎉
28/11/2024

Celebrating my 2nd year on Facebook. Thank you for your continuing support. I could never have made it without you. 🙏🤗🎉

13/08/2024

তুমি যত ফেক হবে তোমার সার্কেল তত বড় হবে!

তুমি যত বাস্তববাদী ও সৎ হবে তোমার সার্কেল তত ছোট হবে!

ইসলাম হলো আনুগত্যের নাম আবেগের নাম নয়।
25/02/2024

ইসলাম হলো আনুগত্যের নাম আবেগের নাম নয়।

17/01/2024

একদিকে পা গরম হয়না আরেক দিকে মেজাজ ঠান্ডা হয়না!!! 😒

16/12/2023

"২০২৩"
৭১ এর ৫২ বছর
৫২ এর ৭১ বছর

যারা আপ্পির ২ ঘন্টা ভিডিও আর তার হাজবেন্ডের তিন ঘন্টা ভিডিও মোট পাঁচ ঘন্টা সময় নষ্ট করতে না চান তারা এই লেখাটা পড়তে পারে...
06/12/2023

যারা আপ্পির ২ ঘন্টা ভিডিও আর তার হাজবেন্ডের তিন ঘন্টা ভিডিও মোট পাঁচ ঘন্টা সময় নষ্ট করতে না চান তারা এই লেখাটা পড়তে পারেন।এই মহিলাকে কখনোই আমার যুইতের লাগে নাই, তার পেইজে জীবনে ফলোও দেই নাই।মানুষ তারে রোস্ট করে সেভাবেই চেনা।কিবরিয়ার শো তে তার ভিডিও এর ছোট ছোট ক্লিপ দেখছিলাম ফেসবুক জুড়ে,সেগুলা দেখেও শুধু মাথায় আসছে পেইজের প্রোমোশন 😑 তারপর আসলো তার হাজবেন্ডের শো, আর শুরু হইলো তাকে নিয়ে চারদিকে মানুষের আক্রোশ। গতকাল তার জামাই এর প্রথম এপিসোড দেখেই অনেক কিছু ক্লিয়ার হয়ে গেছে।
আমার মাথায় একটা ব্যাপার ঢুকে না,যে মানুষকে নাকি পাগলের মতো ভালোবাসতো সে মানুষকে এত হয়রানি কেমনে করলো!!
আফার কপাল ভালো দেশে পুরুষ নির্যাতন আইম নাই 😐

ফুডা আপ্পি নামে পরিচিত ফাবিহা হাসান মণিষা আপুকে নিয়ে আরজে কিবরিয়া ভাইয়ের উপস্থাপনায় একমাসের ব্যাবধানে পরপর দুইটা শো দেখলাম। প্রথম শো এর শিরোনাম ছিল "আমি কত বোকা ছিলাম"

মেয়েটার পুরো বক্তব্যের সারমর্ম ছিল সে অনেক বোকা, এবং এতটাই বোকা যে ভাজা মাছটা পর্যন্ত উল্টে খেতে জানেন না। আর তার প্রাক্তন স্বামী রুহুল আমিন এতটাই চালাক, যে তাকে শুধু ঠকায়, উচ্চকাবিন দেয় না, ২০১৩ সালে মাত্র একলাখ টাকা কাবিনে বিয়ে করে।

আর এতটাই অত্যাচারী যে তাকে প্রচুর নির্যাতন করে, যৌতুক চায়, রবীন্দ্র সরোবরে নাকি একদিন লাথি মারে, অনেক মানুষ দেখে কিন্তু কিছুই বলে না, স্বামীর যৌতুকের দাবি পূরণ করতে গিয়ে নিজের একটা কিডনি পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে চায়, পরে কি যেন ভেবে আর কিডনি বিক্রি করে না।

ডিভোর্স হয়। নতুন একটা ছেলেকে বিয়ে করে। এবং বিয়ের আগে নিজের অতীত অর্থাৎ আগের সংসারের কথা জানায়। জেনেও ছেলে রাজি হয়। এখন সেখানে সুখের সংসার করছে ইত্যাদি ইত্যাদি।

স্বীকার করতে দ্বিধা নাই যে ফুডাপ্পি ক্যামেরার সামনে অনেক ভালো পারফর্ম করেছে। এতটাই ভালো পারফর্ম যা দেখে পুরো দেশবাসী কেঁদেছে। আমি নিজেও আমার চোঁখের পানি ধরে রাখতে পারি নাই।

এখানে বলে রাখা উচিত যে, ফুডাপ্পি মণিষা সত্যি বলছে নাকি বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা গল্প বলছে সেটা যাচাই না করেই প্রচার করা হয়, এমনকি মণিষার বক্তব্য ক্রসচেকের জন্য তার প্রাক্তন স্বামীকে ফোনে যুক্ত করারও প্রয়োজন মনে করেন নাই আরজে কিবরিয়া ভাই।

নারীদের কথায় অধিকাংশ মানুষই সহজে দ্রবীভূত হয়ে যায়, এবং বিশ্বাস করে। ওদের এক ফোঁটা চোঁখের জল দেখা মাত্রই পৃথিবীর কোন মানুষেরই আর বিবেক কাজ করে না, শুধু আবেগ কাজ করে। উপস্থাপক আরজে কিবরিয়া ভাইয়ের ক্ষেত্রেও হয়তো সেটাই হয়েছে। শুধু আবেগ কাজ করছে, বিবেক কাজ করে নাই।

কিন্তু সমস্যা হল, যার নামে এত নিন্দা আর বিদ্বেষ ছড়ানো হলো তিনি অর্থাৎ ফুডাপ্পি মণিষার প্রথম স্বামী রুহুল আমিন ভাই তার নামে এই "মিথ্যাচার" মেনে নিতে পারেন না। তিনি আরজে কিবরিয়া ভাইকে ফোন করে বলেন, "ভাই, আপনার প্লাটফর্মকে ব্যাবহার করে আমার প্রাক্তন স্ত্রী মণিষা আমার নামে মিথ্যাচার করছে, যা আমার এবং আমার ৭ বছরের সন্তানের উপরে প্রভাব ফেলছে। আমি এর জবাব দিতে চাই।

ডিভোর্সের ৭ বছর হয়েছে, কিন্তু শুধুমাত্র আমার সন্তানের মঙ্গলের কথা ভেবে আমি এখন পর্যন্ত বিয়ে করিনাই। আপনার শো-এর মাধ্যমে আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যেটা আমি সহ্য করতে পারছি না। সত্যিটা তুলে ধরার জন্য আমাকে আপনার শো-তে এসে কথা বলার একটা সুযোগ দেওয়া হোক।

কিবরিয়া ভাই তাকে সুযোগ দেন ঠিকই, কিন্তু যেহেতু রুহুল আমিন নারী নন, তিনি একজন পুরুষ, তাই এবার আর কিবরিয়া ভাইয়ের আবেগ কাজ করে না, শুধু বিবেক কাজ করে। তিনি বলেন, "আপনাকে কথা বলতে দেওয়া হবে, তবে আপনি মিথ্যা বলছেন কিনা সেটা যাচাই করার জন্য আপনার প্রাক্তন স্ত্রী মণিষাও সাথে থাকবে"

কারণ এবার তো পুরুষ মানুষ, যদি মিথ্যা কথা বলে, এরা নারীদের মত "সত্যবাদী" তো আর না। রুহুল আমিন ভাই বললেন আমার তাতে কোন আপত্তি নাই।

ফুডাপ্পি মণিষা এবং রুহুল আমিন ভাই দুইজনকে যখন একই শো-তে আনা হলো তখন দেখা গেল আগের শো-তে ফুডাপ্পি মণিষা যেসব গল্প বলেছিল তার অধিকাংশই বানানো। এবং এর প্রতিটা ডকুমেন্টস রুহুল আমিন ভাই সাথে করে নিয়ে এসেছেন।

১. যৌতুক আসলে রুহুল আমিন ভাই চাননি, বরং উল্টো মণিষার পরিবারই রুহুল আমিনের কাছে যৌতুক চেয়েছে। বলেছে, মণিষাদের তিনতলা বাড়ির উপরে চতুর্থ তালাটা কমপ্লিট করে দিতে হবে রুহুল আমিনকে। রুহুল আমিনের তখন মাসিক বেতন মাত্র ২০ হাজার টাকা। তার বাবাও রিটায়ার্ড করেছেন। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার। তার বাবার শেষ সম্বল পেনশনের টাকা দিয়ে মণিষাদের তিনতলা বাড়ির চতুর্থ তলাটা কমপ্লিট করে দেওয়া হয়। রুহুল আমিনের বাবা বিজিবিতে চাকুরী করতেন। রিটায়ার্ডের পর তিনি তার শেষ সম্বলটুকু এখানে খরচ করতে রাজি ছিলেন না। রুহুল আমিন সহ সবাই মিলে বহু কষ্টে তাকে রাজি করান।

তবে শর্ত ছিল শুধুমাত্র চতুর্থ তলার ভাড়ার টাকাটা রুহুল আমিনের পরিবার ভোগ করবে। কিন্তু কাজ কমপ্লিট হয়ে যাওয়ার পর মণিষারা আর ভাড়ার টাকা দেয় না, ভাড়া তুলে তুলে নিজেরা ভোগ করে। তখন প্রস্তাব দেওয়া হয়, চতুর্থ তলাটা কমপ্লিট করতে খরচ হওয়া ১১ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে, সেটাও ওরা দেয় না। তখন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র চতুর্থ ফ্লোরটা রুহুল আমিন এবং মণিষা উভয়ের নামে যৌথভাবে দলিল করে দেওয়ার। সেই প্রস্তাবেও রাজি হয়নি মণিষার পরিবার।

অথচ মণিষারা ছিল মোটামুটি স্বচ্ছল পরিবার। মণিষার বাবা ব্যাবসায়ী, এবং ঢাকা শহরের একজন বাড়িওয়ালা। মণিষার বড় ভাই জাপানে থাকে।

২. ফুডাপ্পি মণিষা তার স্বামী রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে মিথ্যা নারী নির্যাতন এবং যৌতুকের মামলা দেয়, যার ফলে রুহুল আমিনকে জেল খাটতে হয়। অস্থায়ীভাবে জামিনে একবার বের হয়ে আসার পর, তাকে আবারও জেলে ঢুকানোর জন্য মিথ্যা নারী নির্যাতনের অভিযোগে থানায় জিডি করে ফুডাপ্পি মণিষা।

কিন্তু প্রথম শো-তে মণিষা বলেছে সে তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়নি। দিয়েছে মণিষার বাবা-মা। মামলার ব্যাপারে সে কিছুই জানত না। অথচ রুহুল আমিন যখন দ্বিতীয় শো-তে মামলা এবং জিডির সবগুলো কপি দেখায়, যেখানে প্রত্যেকটাতেই ফুডাপ্পি মণিষার সাইন আছে, তখন মণিষা এটা স্বীকার করে।

৩. ফুডাপ্পি মণিষা এবং তার ছেলেবন্ধু আকিলের গোপন চ্যাটিং একবার তার স্বামী রুহুল আমিন দেখে ফেলে। যেখানে রুহুল আমিনকে কিভাবে মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসানো হবে তার পুরো পরিকল্পনা নিয়ে মণিষা তার ছেলেবন্ধু আকিলের সাথে পরামর্শ করে। তখন রুহুল আমিন এই বিপদ থেকে বাঁচার জন্য আইনজীবির সাথে পরামর্শ করেন। ওই এলাকার কাউন্সিলরের সাথেও পরামর্শ করেন। এবং ডিভোর্সর কথা ভাবতে শুরু করেন। কারণ ডিভোর্সের পরে মিথ্যা মামলা দিলে, কিছুদিনের জন্য হাজতে আটকানো গেলেও শেষ পর্যন্ত সেটা টেকার সম্ভাবনা কম। জামিন নেওয়া সম্ভব। কিন্তু ডিভোর্সের আগে মামলা দিয়ে ফেললে, সহজে জামিন হয় না, জেল প্রায় নিশ্চিত।

যাই হোক, ডিভোর্স হয়, এবং মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলাও হয়। স্বামী রুহুল আমিন গ্রেফতার হন, এবং জেলও খাটেন, তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর জামিন হয়।
প্রয়োজন হলে স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার অধিকার ইসলাম দেয়, এবং দেশের আইনও দেয়। কিন্তু শো-তে কিবরিয়া ভাই বারবার বলতেছিল ডিভোর্স দেওয়াটা নাকি তার উচিত হয় নাই। যখন একজন স্বামী জেনে যায় যে তাকে নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা হচ্ছে, তখন বাঁচার জন্য একজন পুরুষের ডিভোর্স ছাড়া আর কী অপশন খোলা থাকে?

ডিভোর্স দিয়ে সে শুধু তাঁর স্ত্রীকে হারাইলো, কিন্তু ডিভোর্স না দিলে সে আজকে মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলায় জেলে থাকত, তখন সে বউ, বাচ্চা, বাবা, মা, ভাই, বোন, চাকরি-বাকরি সবই হারাইতো। আর যেই স্ত্রী সংসারে থেকে শ্বশুর শাশুড়ীর সাথে বেয়াদবি করছে, শুধু তাই না, গোপনে গোপনে তার ছেলেবন্ধুর সাথে পরামর্শ করছে যে স্বামীকে কিভাবে জেলের ভাত খাওয়ানো যায়, সেই স্ত্রীকে সংসারে রাখলেই বা এমন কী লাভ হত?

৪. ফুডাপ্পি মণিষা তার দ্বিতীয় স্বামীর সাথেও প্রতারণা করে। মণিষা ডিভোর্সী হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে কুমারী পরিচয় দিয়ে পুনরায় বিয়ে করে। আমার মতে এটা অত্যন্ত অনৈতিক একটা কাজ। আর বাংলাদেশের দন্ডবিধি ৪৯৪ ধারা অনুযায়ী এটা অপরাধ, যার শাস্তি ১০ বছরের জেল। তবে মণিষার দ্বিতীয় স্বামী অনেক দয়ালু মানুষ, তাই স্ত্রীর প্রতারণার ভিক্টিম হয়েও আইনের আশ্রয় নেন নাই।

রুহুল আমিন শো-তে সেই কাবিননামার কপিও দেখান। সুতরাং ফুডাপ্পির প্রথম শো-এর বক্তব্য মিথ্যা। ফুডাপ্পি বলেছিল সে নাকি তার দ্বিতীয় স্বামীকে তার সকল অতীত জানিয়েই তাকে বিয়ে করেছে।

৫. ফুডাপ্পি মণিষা প্রথম শো-তে বলেছিল যে রবীন্দ্র সরোবরে নাকি অনেক মানুষের সামনে তার স্বামী তাকে লাথি মেরেছিল। কিন্তু দ্বিতীয় শো-তে যখন কিবরিয়া ভাই দুজনকেই জিজ্ঞেস করে যে আপনাদের দু'জনের মধ্যে কখনো মারামারি বা হাতাহাতি হয়েছে কিনা, মণিষা বলেছে যে হয় নাই।

এখন কোনটা সত্যি? আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে পাবলিক প্লেসে কেউ যদি কোন মহিলাকে লাথি মারে, পাবলিক কি তাকে ছেড়ে দেবে? রুহুল আমিনের দাবি এরকম কোন ঘটনা ঘটে নাই। কেউই প্রমাণ দিতে পারে নাই। তবে ফুডাপ্পি মণিষার অভিযোগ যথেষ্ট দুর্বল।

৬. ফুডাপ্পি মণিষা প্রথমদিন বলেছিল যে তার বাবা নাকি মসজিদ কমিটির সভাপতি ছিল। কিন্তু রুহুল আমিন বলেন যে এটা সে মিথ্যা বলেছে। এবং মণিষা নিজেও দ্বিতীয় শো-তে এসে স্বীকার করে যে প্রথম শো-তে সে মিথ্যা বলেছিল। ফুডাপ্পি মণিষা এরকম আরও অসংখ্য মিথ্যা কথা তার প্রথম শো-তে বলেছিল, যেগুলো লিখতে গেলে লেখাটা অনেক বড় হয়ে যাবে।

৭. রুহুল আমিন সন্তানের কথা ভেবে এখনো বিয়ে করেননি। কিন্তু মণিষা ডিভোর্সের পর দ্বিতীয় বিয়ে করে ফেলে দ্বিতীয় স্বামীর বাচ্চাও গর্ভে ধারণ করে। এই সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে বাচ্চার কাস্টডি আদালত বাচ্চার বাবাকেই দেয়।

বাচ্চার মা কোন খরচ বহন করে না। সম্পূর্ণ ভরণপোষণের দায়িত্ব এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র বাচ্চার বাবাই বহন করে। তবুও বাচ্চার বাবা বাচ্চাকে নিয়মিত তার মায়ের সাথে দেখা করতে দেয়, কোন আপত্তি করে না।

একদিন বাচ্চা তার মায়ের সাথে দেখা করে ফিরে এসে তাঁর বাবাকে বলছে "বাবা, মায়ের বাসায় আরেকটা বাবা আছে, মা বলেছে উনিই নাকি এখন থেকে আমার বাবা। ওই বাবাটা মাকে কোলে নিয়েছে। মণিষা তার বাচ্চাকে অন্য আরেকজন মানুষকে বাবা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে, এবং এখন থেকে নিজের জন্ম দেওয়া সন্তান অন্য আরেকজনকে বাবা ডাকবে এটা রুহুল আমিন কোনভাবেই মেনে নিতে পারেন না। মণিষার আসল মতলবটা তাহলে কী সেটা নিয়ে সন্দেহও তৈরী হয়।

এরই মধ্যে একবার বাচ্চাকে অপহরণের চেষ্টাও করা হয়, পরিকল্পনা হচ্ছে ফুডাপ্পি মণিষা তার জাপানে থাকা ভাইয়ের সহায়তায় বাচ্চাকে নিয়ে জাপানে চলে যাবে। বাচ্চাকে আর কখনো ফেরত দেবে না, বাচ্চাকে তার বাবার সাথে দেখাও করতে দেবে না।

এলাকার গুন্ডাপান্ডা দিয়ে বাচ্চাকে তার দাদীর কোল থেকে কেড়ে নিয়ে অপহরণ করে জোর করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অনেক ঝামেলার পর বাচ্চাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কিন্তু প্রাক্তন স্ত্রী মণিষার এই বিশ্বাসঘাতকতা এবং অপহরণের ঘটনার পর থেকে বাচ্চার বাবা রুহুল আমিন আর মণিষাকে আগের মত বিশ্বাস করতে পারে না।

তাই মণিষাকে বলে এখন থেকে বাচ্চার সাথে দেখা করতে চাইলে আমাদের বাড়িতে এসে দেখা করতে হবে। কিন্তু কয়েকবার বাড়িতে দেখা করার পর, বাচ্চাকে আবারও বাহিরে নিয়ে যেতে চায়।

কিন্তু বাচ্চার বাবা থানায় ইনফর্ম করার শর্তে বাচ্চাকে বাহিরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়। কিন্তু ফুডাপ্পি মণিষা এই শর্ত মানতে রাজি না। এখন সে দুই বছর ধরে বাচ্চার সাথে দেখাও করে না, ফোন করেও বাচ্চার কোন খোঁজখবর নেয় না।

প্রথম শো-তে ফুডাপ্পি মণিষা বলেছিল বাচ্চাকে দেখতে দেওয়া হয় না। অথচ দ্বিতীয় শো-তে বাচ্চার সাথে মণিষা বসে গল্প করছে এরকম অনেকগুলো ছবি রুহুল আমিন সাথে করে নিয়ে এসেছেন।

পরে মণিষাও স্বীকার করে যে দেখা করতে দেওয়া হয়, কিন্তু পাহাড়া দিয়ে, যাতে আগেরবারের মত বাচ্চাকে নিয়ে পালিয়ে যেতে না পারে, বাচ্চাকে তাঁর বাবার কাছ থেকে আলাদা করতে না পারে। তাহলে প্রথমদিন মণিষা ওই মিথ্যা কথাটা কেন বলল?

এইবার দেখা যাক কার কতটা লাভ এবং কার কতটা ক্ষতি হল।

ফুডাপ্পি মণিষা এবং তার পরিবার মিলে রুহুল আমিনের বাবার পেনশনের ১১ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করল। এই এগারো লক্ষ টাকায় মণিষাদের বাড়ির চতুর্থ তলাটা ফ্রীতেই কমপ্লিট হয়ে গেল। এখন সেখান থেকে মাসে মাসে ভাড়া পাচ্ছে মণিষারা। বিনা ইনভেস্টমেন্টে বিজনেস।

মণিষা নতুন একটা স্বামী পেল, নতুন সংসার হল, বাচ্চাকাচ্চা হল। বিয়ের সময় আলোচনা সাপেক্ষে কাবিন নির্ধারিত হয়েছিল ১ লক্ষ টাকা। যেখানে ছেলের মাসিক বেতন মাত্র ২০ হাজার টাকা। যা কাবিননামা সুস্পষ্টভাবে লেখা ছিল। কিন্তু তবুও পরবর্তীতে কনেপক্ষ থেকে (মূলত মণীষার মায়ের পরামর্শে) কাবিনের নামে ৫ লক্ষ টাকা আদায়ের একটা চেষ্টা করা হয়।

স্বামীকে মিথ্যা যৌতুক এবং নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসিয়ে জেলের ভাত খাওয়ানোর যে খায়েশ ছিল সেই খায়েশও পূরণ হয় মণিষার।

আবার এইসব নিয়ে কিছুটা সত্য কিছুটা মিথ্যা মিশিয়ে গল্প বানিয়ে ক্যামেরার সামনে এসে কান্নাকাটি করে সেগুলো প্রচার করে মানুষের সহানুভূতিও আদায় করে। এগুলো বিক্রি প্রচুর ভিউজ হয়, প্রচুর ফ্যান ফলোয়ারও হয়। ফুডাপ্পির একটা খায়েশ শুধু পূরণ হয় নাই, সেটা হচ্ছে বাচ্চাটাকে কোনভাবে তার বাবার কাছে থেকে সরিয়ে একবার জাপান নিয়ে যাওয়া। যাতে বাচ্চাটাকে তাঁর বাবার কাছ থেকে চিরতরে আলাদা করে ফেলা যায়।

অন্যদিকে বাচ্চাটা আর তার বাবা রুহুল আমিনের কী কী ক্ষতি হল দেখেন। রুহুল আমিনের বাবার সারাজীবনের চাকরি করে জমানো শেষ সম্বল পেনশনের ১১ লক্ষ টাকা হারাতে হল। রুহুল আমিনের নিজেকে জেল খাটতে হল তার স্ত্রীর কারণে। ডিভোর্স হল। রুহুল আমিন তার স্ত্রীকে হারালো, তাঁর সন্তান হারালো মাকে। ৭ বছর ধরে রুহুল আমিনকে সিঙ্গেল অবস্থায় জীবনযাপন করতে হচ্ছে শুধুমাত্র তাঁর সন্তানের মঙ্গলের কথা ভেবে।

বর্ননা: খালিদ এম তন্ময়
সোর্স: আরজে কিবরিয়ার শো।

শো দেখার সময় নাই আমার।
লেখাটা পড়লাম।

শুধু একটা কথাই মাথায় রাখবেন - নারী এমনও হয়। আপনার জীবন লন্ডভন্ড করে আপনাকেই ব্লেইম দিয়ে নিজে সুখে শান্তিতে বসবাস করবে।

কেবল প্রার্থনা করবেন আপনি বা আপনার পরিবারের কেউ যেন এমন নারীর খপ্পরে না পড়ে।

23/10/2023

❤️কোথায় আজ সেই মুসলমান !

✅খলিফা ওমর রাঃ মৃত্যু দন্ডের আসামী কে ছেড়ে দিলেন জামিনদার আবু যর গিফারীর কারণে তারপর----------

"এই যুবক আমাদের পিতাকে হত্যা করেছে। আমরা এর বিচার চাই।"
দোষী যুবককে টেনে-হিঁচড়ে খলীফার দরবারে নিয়ে এসেছেন দুই ব্যক্তি। তারা তাদের পিতার হত্যার বিচার চান।
*
খলীফা হযরত উমর (রা) সেই যুবককে জিজ্ঞেস করলেন যে তার বিপক্ষে করা অভিযোগ সত্য কিনা। অভিযোগ স্বীকার করল যুবক। দোষী যুবক সেই ঘটনার বর্ণনা দিলঃ
*
"অনেক পরিশ্রমের কাজ করে আমি বিশ্রামের জন্য একটি খেজুর গাছের ছায়ায় বসলাম। ক্লান্ত শরীরে অল্প সময়েই ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার একমাত্র বাহন উটটি পাশে নেই। খুঁজতে খুঁজতে কিছু দূর গিয়ে পেলাম, তবে তা ছিল মৃত। অভিযোগকারী এই দুই ব্যক্তির বাবাকে আমার মৃত উটের পাশে পেলাম। সে আমার উটকে তার বাগানে প্রবেশের অপরাধে পাথর মেরে হত্যা করেছে। এই কারণে আমি হঠাৎ করে রাগান্বিত হয়ে পড়ি এবং তার সাথে তর্কাতর্কি করতে করতে এক পর্যায়ে মাথায় পাথর দিয়ে আঘাত করে ফেলি। ফলে সে সেইখানেই মারা যায়। যা একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটে গেছে। এর জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।"
*
বাদী’রা জানালেন- "আমরা এর মৃত্যুদণ্ড চাই।" সব শুনে হযরত উমর (রা) অপরাধী যুবককে বললেন, "উট হত্যার বদলে তুমি একটা উট দাবি করতে পারতে, কিন্তু তুমি বৃদ্ধকে হত্যা করেছ। হত্যার বদলে হত্যা। এখন তোমাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে। তোমার কোন শেষ ইচ্ছা থাকলে বলতে পারো।" নওজোয়ান বললো, "আমার কাছে কিছু ঋণ ও অন্যের রাখা কিছু আমানত আছে। আমাকে যদি কিছু দিন সময় দিতেন, আমি বাড়ি গিয়ে আমানত ও ঋণগুলি পরিশোধ করে আসতাম।"
*
খলিফা হযরত উমর (রা) বললেন, "তোমাকে এভাবে একা ছেড়ে দিতে পারি না। যদি তোমার পক্ষ থেকে কাউকে জিম্মাদার রেখে যেতে পারো তবে তোমায় সাময়িক সময়ের জন্য যেতে দিতে পারি।“ নওজোয়ান বললো, "এখানে আমার কেউ নেই যে আমার জিম্মাদার হবে।" যুবকটি তখন নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
*
এই সময় হঠাৎ মজলিসে উপস্থিত একজন সাহাবী হযরত আবু যর গিফারী (রা) দাঁড়িয়ে বললেন, "আমি হবো ঐ ব্যক্তির জামিনদার। তাকে যেতে দিন।" আবু যর গিফারীর (রা) এই উত্তরে সভায় উপস্থিত সবাই হতবাক। একে তো অপরিচিত ব্যক্তি, তার উপর হত্যার দন্ডপ্রাপ্ত আসামী! তার জামিনদার কেন হচ্ছেন আবু জর!
খলিফা বললেন, "আগামি শুক্রবার জুম্মা পর্যন্ত নওজোয়ানকে মুক্তি দেয়া হলো। জুম্মার আগে নওজোয়ান মদীনায় ফেরত না আসলে নওজোয়ানের বদলে আবু যরকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হবে।" মুক্তি পেয়ে নওজোয়ান ছুটলো মাইলের পর মাইল দূরে তার বাড়ির দিকে। আবু যর গিফারী (রা) চলে গেলেন নিজ বাড়িতে।
*
দেখতে দেখতে জুম্মাবার এসে গেল। নওজোয়ানের আসার কোনো খবর নেই। হযরত উমর (রা) রাষ্ট্রীয় পত্রবাহক পাঠিয়ে দিলেন আবু যর গিফারির (রা) কাছে। পত্রে লিখা, আজ শুক্রবার বাদ জুমা সেই যুবক যদি না আসে, আইন মোতাবেক আবু যর গিফারির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হবে। আবু যর যেন সময় মত জুম্মার প্রস্তুতি নিয়ে মসজিদে নববীতে হাজির হন। খবর শুনে সারা মদীনায় থমথমে অবস্থা। একজন নিষ্পাপ সাহাবী আবু যর গিফারী আজ বিনা দোষে মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবেন।
জুমার পর মদীনার সবাই মসজিদে নববীর সামনে হাজির। সবার চোখে পানি। কারণ দন্ডপ্রাপ্ত যুবক এখনো ফিরে আসেনি। জল্লাদ প্রস্তুত।
*
জীবনে কত জনের মৃত্যুদন্ড দিয়েছে তার হিসেব নেই। কিন্তু আজ কিছুতেই চোখের পানি আটকাতে পারছে না জল্লাদ। আবু যরের মত একজন সাহাবী সম্পূর্ণ বিনা দোষে আজ মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত হবেন, এটা মদীনার কেউ মেনে নিতে পারছেন না। এমনকি মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রদানকারী খলিফা উমর (রা) নিজেও চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। হৃদয় তাঁর ভারাক্রান্ত। তবু আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কারো পরিবর্তনের হাত নেই। আবু যর (রা) তখনও নিশ্চিন্ত মনে হাঁসি মুখে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত। জল্লাদ ধীর পায়ে আবু যর (রা) এর দিকে এগুচ্ছেন আর কাঁদছেন। আজ যেন জল্লাদের পা চলে না। পায়ে যেন কেউ পাথর বেঁধে রেখেছে।
*
এমন সময় এক সাহাবী উচ্চ স্বরে জল্লাদকে বলে উঠলেন, "হে জল্লাদ একটু থামো। মরুভুমির ধুলার ঝড় উঠিয়ে ঐ দেখ কে যেন আসছে। হতে পারে ঐটা নওজোয়ানের ঘোড়ার পদধুলি। একটু দেখে নাও।" ঘোড়াটি কাছে আসলে দেখা যায় সত্যিই এ সেই নওজোয়ান।
*
নওজোয়ান দ্রুত খলিফার সামনে এসে বললো, "আমীরুল মুমিনীন, মাফ করবেন। রাস্তায় যদি আমার ঘোড়া পায়ে ব্যথা না পেত, তবে যথা সময়েই আসতে পারতাম। বাড়িতে গিয়ে আমি একটুও দেরি করিনি। বাড়ি পৌঁছে গচ্ছিত আমানত ও ঋণ পরিশোধ করি। তারপর বাবা, মা এবং নববধুর কাছে সব খুলে বলে চিরবিদায় নিয়ে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়ে মদীনার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। এখন আমার জামিনদার ভাইকে ছেড়ে দিন আর আমাকে মৃত্যুদন্ড দিয়ে পবিত্র করুন। কেননা কেয়ামতের দিন আমি খুনি হিসেবে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে চাই না।"
*
আশেপাশের সবাই একেবারেই নীরব। চারিদিকে একদম থমথমে অবস্থা। সবাই হতবাক, কী হতে চলেছে! যুবকের পুনরায় ফিরে আসাটা অবাক করে দিলো সবাইকে।
*
খলিফা হযরত উমর (রা) যুবককে বললেন, "তুমি জানো তোমাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে, তারপরেও কেন ফিরে এলে?" উত্তরে সেই যুবক বলল- "আমি ফিরে এসেছি, কেউ যাতে বলতে না পারে, এক মুসলমানের বিপদে আরেক মুসলামান সাহায্য করতে এগিয়ে এসে নিজেই বিপদে পড়ে গেছিলো।"
*
এবার হযরত উমর (রা) হযরত আবু যর গিফারী (রা) কে জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কেন না চেনা সত্যেও এর জামিনদার হলেন?" উত্তরে হযরত আবু যর গিফারী (রা) বললেন, "পরবর্তিতে কেউ যেন বলতে না পারে, এক মুসলমান বিপদে পড়েছিলো, অথচ কেউ তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি।"
*
এমন কথা শুনে, হঠাৎ বৃদ্ধের দুই সন্তানের মাঝে একজন বলে উঠল, "হে খলীফা, আপনি তাকে মুক্ত করে দিন। আমরা তার উপর করা অভিযোগ তুলে নিলাম।"
*
হযরত উমর (রা) বললেন, “কেন তাকে ক্ষমা করে দিচ্ছ?” তাদের এক ভাই বলে উঠলো, "কেউ যেন বলতে না পারে, এক মুসলমান অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল করে নিজেই স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার পরেও অন্য মুসলমান তাকে ক্ষমা করেনি।"

[হায়াতুস সাহাবা-৮৪৪]

লেখাটা নেট থেকে সংগৃহীত

মাঝেমধ্যে নিজের NID কার্ডের ছবিটা মনযোগ দিয়ে দেখুন। রূপের অহংকার দমিয়ে রাখুন। ধন্যবাদ।
22/10/2023

মাঝেমধ্যে নিজের NID কার্ডের ছবিটা মনযোগ দিয়ে দেখুন। রূপের অহংকার দমিয়ে রাখুন।
ধন্যবাদ।

“ইকড়ি মিকড়ি চাম-চিকড়ি,চামের কাঁটা মজুমদার,ধেয়ে এল দামোদর।দামোদরের হাঁড়ি-কুঁড়ি,দাওয়ায় বসে চাল কাঁড়ি।চাল কাঁড়তে হল বেলা,ভা...
21/10/2023

“ইকড়ি মিকড়ি চাম-চিকড়ি,
চামের কাঁটা মজুমদার,
ধেয়ে এল দামোদর।
দামোদরের হাঁড়ি-কুঁড়ি,
দাওয়ায় বসে চাল কাঁড়ি।
চাল কাঁড়তে হল বেলা,
ভাত খাওগে দুপুরবেলা।
ভাতে পড়ল মাছি,
কোদাল দিয়ে চাঁছি।
কোদাল হল ভোঁতা,
খা কামারের মাথা।”

ছোটবেলায় আমরা অনেকেই এই ছড়াটি পড়েছি। কিন্তু কখনো কি ভেবেছি নান্দনিক ছন্দের এই ছড়াটির অর্থ কি? এই ছড়া কোন ইতিহাস বয়ে বেড়ায় কিনা?

এই প্রশ্ন করলে হয়তো এই উত্তরই আসবে যে শিশুদের নির্ভেজাল আনন্দের জন্য এই ছড়ার রচনা হয়েছে। কিন্তু সত্যটা বেশ করুণ। আদতে আনন্দের ছিঁটেফোঁটাও নেই এই ছড়ায়, শিশুদের জন্য তো না বটেই।

মূলত এই ছড়ায় ছড়াকার অসাধারণ দক্ষতার সাথে চিরন্তন বাংলার সাধারণ মানুষের দুঃসহ আর্থ-সামাজিক অবস্থা তুলে ধরেছেন। চলুন এবার ছড়াটির প্রতিটি শব্দ ও পংক্তি ধরে বিশ্লেষণ করে দেখি।

'ইকড়ি' অর্থ সংসার পরিপালনের জন্য সারাদিন খেটেখুটে কঠোর পরিশ্রম করা। কিন্তু তাতেও যখন সংসার চলে না, তখন প্রয়োজন হয় 'মিকড়ি', অর্থাৎ আরও কিছু অতিরিক্ত উপার্জনের চেষ্টা করা। 'চাম' অর্থ রুজি-রোজগারের এলাকা। আর 'চিকড়ি' অর্থ সেই রোজগারের এলাকায় ঘুরে ঘুরে কিছু (অর্থ বা ফসল) উপার্জন করে তা ঘরে নিয়ে আসা।

কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় এই "চামের কাঁটা মজুমদার"। 'মজুমদার' মূলত এক প্রকার রাজকর্মচারীর পদবী যার কাজ ছিল খাজনা বা রাজস্ব আদায় ও হিসেব রাখা। আর তাই অনেক সময় খাজনা আদায়ের নামে দরিদ্র খেটে খাওয়া মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে যেত বলে তাকে পথের কাঁটা বলা হয়েছে।

আর অতঃপর "ধেয়ে এল দামোদর"। এই 'দামোদর' হলো মূলত ফড়ে-পাইকারের দল, যারা সাধারণ কৃষকের উৎপাদিত ফসল অথবা কুমারের বানানো তৈজসপত্র স্বল্প দামে কিনে নিয়ে বাজারে চড়া দামে বিক্রি করতো।

কিন্তু এই দামোদর শুধু এসেই ক্ষান্ত হয় না। এখানে বলা হয়েছে "দামোদরের হাঁড়ি-কুঁড়ি"। এর অর্থ হলো, তারা যখন আসে তখন সাথে করে হাঁড়ি কুঁড়ি নিয়ে আসে। অর্থাৎ খেটে খাওয়া মানুষের উৎপাদিত সব দ্রব্য সাথে করে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে আসে।

এরপর বলা হয়েছে "দাওয়ায় বসে চাল কাঁড়ি", অর্থাৎ মজুমদার আর ফড়ে পাইকারের থেকে লুকিয়ে যেটুকু চাল বাঁচানো গিয়েছে, এবার সেটা দিয়েই ঘরের দরজায় বসে ভাত রাঁধার প্রস্তুতি শুরু।

কিন্তু "চাল কাঁড়তে হল বেলা", অর্থাৎ এতসব ঝামেলা ঝক্কি সামলাতে সামলাতে ভাত রাঁধায় দেরী হয়ে যায়। তাই "ভাত খাওগে দুপুরবেলা", অর্থাৎ প্রথম প্রহরে বা সকালে খাওয়া আর সম্ভব হয় না। একেবারে দ্বিপ্রহরে বা দুপুরে খেতে হয়।

কিন্তু খাবে কী করে! কারণ "ভাতে পড়ল মাছি"। এখানে 'মাছি' বলতে আসলে চোরকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ গরীবের যে যৎসামান্য খাদ্য, তারও শেষ রক্ষা হয় না। ছিঁচকে চোর সেটাও চুরি করে নিয়ে যায়। তাই "কোদাল দিয়ে চাঁছি"। এই 'কোদাল'ও আক্ষরিক অর্থে ব্যবহৃত হয়নি। বরং কোদাল বলতে এখানে কোতোয়াল বা পুলিশের কথা বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ পুলিশের কাছে গিয়ে চোরের ব্যাপারে নালিশ করা হয়েছে।

তবে তাতেও যে গরীব মানুষের হয়রানি কম হয়, তা কিন্তু নয়। কারণ "কোদাল হল ভোঁতা"। অর্থাৎ পুলিশ বা কোতোয়াল কোন কাজই করে না। আর তাই "খা কামারের মাথা"। অর্থাৎ এই কোদাল যে কামার বানিয়েছে, মানে পুলিশ কোতোয়াল সৃষ্টিকারী গ্রামের উচ্চপর্যায়ের লোকেরা, শেষমেশ তাদের কাছে গিয়েই এই হতদরিদ্র মানুষ গুলোর মাথা কুটে কাঁদতে হয়।

সুতরাং এক কথা বললে, এই ছড়ায় ছড়াকার গ্রাম বাংলার সেই খেটে খাওয়া মানুষের জীবনবৃত্তান্ত তুলে ধরেছেন যে কিনা কঠোর পরিশ্রম করেও জমিদার, খাজনা আদায়কারী, অসাধু ব্যবসায়ী, চোর, পুলিশ এদের উপদ্রবে নিজের পরিবারের জন্য দু' বেলার খাবারও জোটাতে পারে না।

তথ্যসূত্রঃ
১। কলিম খান ও রবি চক্রবর্তী, "বঙ্গীয় শব্দার্থকোষ", ভাষাবিন্যাস
২। ড. মোহাম্মদ আমিন, "ইকড়ি মিকড়ি : অসাধারণ অর্থপূর্ণ একটি ছড়া", ব্লগ পোস্ট

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Tabassum Jerin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share