Fire Angel

Fire Angel জীবনের গল্পগুলো যখন অনুভূতির ভাষায় কথা বলে...

24/07/2026

পেছন থেকে কেউ ডাকলে ভুলেও তাকাবেন না! 😱 | Bengali Horror Shorts | Fire Angel

রূপনগরের বুড়ো বটগাছগ্রামের নাম রূপনগর। সেই গ্রামের এক প্রান্তে ছিল এক বিশাল শ্মশানঘাট, আর তার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল এক প...
09/07/2026

রূপনগরের বুড়ো বটগাছ

গ্রামের নাম রূপনগর। সেই গ্রামের এক প্রান্তে ছিল এক বিশাল শ্মশানঘাট, আর তার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল এক প্রাচীন, জটাধারী বুড়ো বটগাছ। গ্রামের মানুষ দিনের বেলাতেও ওই বটগাছের নিচে দিয়ে একা যাওয়ার সাহস করত না। মুরুব্বিরা বলতেন, ওই গাছে এক জ্যান্ত শাঁখচুন্নি আর মেছো ভূতের বাস। তারা নাকি রাতের বেলা মেঠো পথ দিয়ে যাওয়া পথচারীদের ধোঁকা দেয়।

সেকালে সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটা দিনে দূরবর্তী বড় হাটে গ্রামের মানুষেরা যেত সওদা করতে। তেমনই এক হাটের দিন, গ্রামের এক সহজ-সরল তাঁতি, নাম তার মাধব। হাটে কাপড় বিক্রি করে ফিরতে ফিরতে মাধবের বেশ রাত হয়ে গেল। তবে তার মনে এক চরম আনন্দ, কারণ সে হাট থেকে বেশ সস্তা দরে এক জোড়া বড় বড় তাজা ইলিশ মাছ কিনেছে। কলার পাতায় মোড়ানো সেই মাছের সুবাস বাতাসে ছড়াচ্ছিল।

মাধব যখন রূপনগরের সেই মেঠো পথ ধরে একা একা হেঁটে আসছিল, তখন রাত প্রায় নিঝুম। আকাশে তখন এক ফালি ম্লান চাঁদ, যার আলোয় চারপাশের কুয়াশা আর ছায়াগুলোকে বড় অদ্ভুত দেখাচ্ছিল। হাতে তার একটা টিমটিমে হ্যারিকেন।

হাঁটতে হাঁটতে মাধব যখন সেই বুড়ো বটগাছের কাছাকাছি পৌঁছাল, তখন চারপাশের বাতাস হঠাৎ করেই বড্ড ভারী আর গন্ধময় হয়ে উঠল। মনে হলো বাতাসে যেন পচা পাঁক আর কাঁচা মাছের আঁশটে গন্ধ মিশে গেছে।

হঠাৎ করেই বটগাছের ওপর থেকে একটা সরু, বাঁশির মতো চেরা কণ্ঠস্বর ভেসে আসলো। সেই কণ্ঠস্বর সাধারণ মানুষের মতো নয়, একদম নাকিসুরে, যাকে গাঁয়ের ভাষায় বলে ‘নুনো সুর’:

"মাধব রে... ও মাধব... বড় সুন্দর মাছ এনেছিস রে... একটা মাছ আমায় দিয়া যা... বড্ড ক্ষুধা লেগেছে রে...!"

মাধব থমকে দাঁড়াল। ভয়ে তার গায়ের পশম খাড়া হয়ে গেল, হাতের হ্যারিকেনটা কাঁপতে লাগল। সে কাঁপা কাঁপা আলোটা ওপরের দিকে তুলতেই দেখল—বটগাছের একটা মোটা ডাল থেকে দুটো অসম্ভব লম্বা, কঙ্কালসার পা নিচের দিকে ঝুলছে! পা দুটোর নখগুলো ছেনি দিয়ে কাটার মতো ধারালো এবং কুচকুচে কালো।

মাধব এক কদম পিছিয়ে গিয়ে বলল, "কে... কে ওখানে?"

কোনো উত্তর আসলো না। শুধু ওপর থেকে একটা অশরীরী ছায়ামূর্তি তরতর করে ডাল বেয়ে নিচে নেমে আসলো। চাঁদের আলোয় মাধব দেখল—তার পরনে একটা ছেঁড়া ম্লান শাড়ি, চুলগুলো উসকোখুসকো হয়ে বাতাসে উড়ছে, আর মুখমণ্ডল বলতে কিচ্ছু নেই—শুধু দুটো জ্বলন্ত কয়লার মতো চোখ কোটরের ভেতর ধকধক করে জ্বলছে!

সেই শাঁখচুন্নিটা তার লম্বা হাত দুটো মাধবের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে আবার সেই ভয়ংকর নাকিসুরে বলে উঠল:

"মাছ দিবি না রে মাধব? তবে তোর ঘাড়ের নরম রক্ত চুষে খাব... মাছটা দিয়ে দে...!"

সেই আমলের মানুষ ভূতকে যেমন ভয় পেত, তেমনই তাদের জানা ছিল কিছু আদিম টোটকা। মাধব মনে মনে সাহস সঞ্চয় করল। সে জানত, অশরীরী আত্মারা লোহা আর খাঁটি সরিষার তেলকে চরম ভয় পায়।

মাধব আর এক সেকেন্ডও দেরি না করে তার কোমরে গোঁজা কাপড় কাটার সেই লোহার ধারালো বড় কাঁচিটা এক ঝটকায় বের করল। হ্যারিকেনের আলোয় সেই লোহার কাঁচিটা উঁচিয়ে ধরে সে চিৎকার করে বলল, "খবরদার! এক পা-ও আগে আসবি না! এই দেখ খাঁটি লোহার কাঁচি! তোকে কেটে টুকরো টুকরো করে দেব!"

লোহার নাম শুনতেই সেই মূর্তির জ্বলন্ত চোখ দুটো আতঙ্কে কুঁকড়ে গেল। সে এক বিকট, কানফাটানো চিৎকার দিল, যা শুনে মনে হলো পুরো শ্মশানঘাট কেঁপে উঠল। পরের মুহূর্তেই সেই শাঁখচুন্নিটা বাতাসে ধোঁয়ার মতো মিলিয়ে গেল, আর বটগাছের ওপর থেকে তালের সাইজের একটা বড় ডাল ভেঙে পড়ল মাটিতে।

মাধব আর এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে, মাছের পোটলা আর কাঁচিটা শক্ত করে বুকে চেপে ধরে হ্যারিকেন ফেলে অন্ধকারের মধ্যেই এক শ্বাসে দৌড়ে নিজের বাড়ির উঠোনে এসে আছাড় খেয়ে পড়ল।

পরদিন সকাল থেকে মাধবের প্রচণ্ড জ্বর উঠেছিল। তবে গ্রামের ওঝা এসে তার কপালে লোহার ছোঁয়া দিতেই সে সুস্থ হয়ে ওঠে। এরপর থেকে রূপনগর গ্রামের কোনো মানুষ হাটে গেলে আর যাই করুক না কেন, কোমরে একটা লোহার তাবিজ বা পেরেক না নিয়ে রাতে ওই মেঠো পথ দিয়ে ফেরার সাহস করত না।

রাতের তালবাগান সাদা কাপড়ের সেই আতঙ্কগ্রামের নাম ছিল ভবানীপুর। গ্রামের উত্তর সীমানা ঘেঁষে ছিল এক বিশাল বিল, আর সেই বিলের ...
08/07/2026

রাতের তালবাগান সাদা কাপড়ের সেই আতঙ্ক

গ্রামের নাম ছিল ভবানীপুর। গ্রামের উত্তর সীমানা ঘেঁষে ছিল এক বিশাল বিল, আর সেই বিলের পাড় ধরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিল শত বছরের পুরনো কিছু বিশাল তালগাছ। ভাদ্র মাসের গুমোট রাতে যখন ঝড়-বাতাস হতো, তখন সেই গাছ থেকে টুপটাপ পাকা তাল মাটিতে পড়ার শব্দ হতো—ধপাস! ধপাস!

সেই আমলে পাকা তালের অনেক কদর ছিল। গ্রামের গরিব মানুষেরা শেষ রাতে লণ্ঠন আর চটের বস্তা হাতে মেঠো পথ বেয়ে বিলের ধারে ছুটে যেত তাল কুড়াতে। কিন্তু সেই তালবাগানের সবচেয়ে বড় আর প্রাচীন গাছটার একটা ঘোরতর বদনাম ছিল। গ্রামের বুড়ো মানুষেরা হুঁকো টানতে টানতে সাবধান করে বলতেন:

"ওরে বাবা, ভাদ্রের নিশুত রাতে একা ওই বুড়ো তালগাছের নিচে যাস না। ওখানে এক অপদেবতার বাস। মাঝরাতের পর সেখানে অলৌকিক মায়া খেলা করে।"

গ্রামের লোকেদের মুখে শোনা যেত, গভীর রাতে যারা সেখানে তাল কুড়াতে গেছে, তারা দূর থেকে দেখেছে—সেই বিশাল তালগাছের গোড়ায়, ভিজে মাটির ওপর পা থেকে মাথা পর্যন্ত ধবধবে সাদা কাফনের কাপড় মুড়ি দিয়ে কে যেন সোজা হয়ে শুয়ে আছে। নিথর, নিস্পন্দ এক জ্যান্ত লাশ!

সেবারের এক অমাবস্যার রাত। আকাশে মেঘের ঘনঘটা, বাতাস যেন থমকে গেছে। গ্রামের এক প্রবীণ ও সাহসী কৃষক, নাম তার রহমত আলী। সংসারে চরম অভাব, তাই তালের পিঠা বানিয়ে হাটে বিক্রি করার আশায় সে সে রাতে কারো বারণ শুনল না। রাত যখন আনুমানিক আড়াইটা, রহমত আলী তার হাতের পুরনো পিতলের হ্যারিকেনটা জ্বালিয়ে, অন্য হাতে একটা বাঁশের লাঠি নিয়ে একাই রওনা দিল বিলের ধারের সেই তালবাগানের দিকে।

বাগানে পৌঁছাতেই চারপাশটা কেমন যেন থমথমে আর অস্বাভাবিক ঠাণ্ডা মনে হলো। বাতাসে তালপাতাগুলোর খড়খড় শব্দ হচ্ছিল, যেন কেউ ফিসফিসিয়ে কথা বলছে। রহমত আলী হ্যারিকেনের আলোটা উঁচিয়ে ধরে মাটিতে তালের খোঁজ করতে লাগল।

হঠাৎ তার চোখ গেল সেই অভিশপ্ত বুড়ো তালগাছটার গোড়ায়। হ্যারিকেনের আবছা হলদে আলোয় রহমত আলীর বুকের রক্ত হিম হয়ে গেল! সে দেখল, গাছের ঠিক গোড়ায় একটা বড় পাকা তাল পড়ে আছে, আর তার গা ঘেঁষেই শুয়ে আছে সেই জিনিসটা! ধবধবে সাদা এক টুকরো কাপড়ে ঢাকা এক দীর্ঘ অবয়ব, যেন কোনো মৃত মানুষকে কফিন থেকে বের করে এনে গাছের নিচে শুইয়ে রাখা হয়েছে।

রহমত আলী প্রথমে ভাবল তার চোখের ভুল। সে সাহস করে লণ্ঠনটা আর একটু উঁচিয়ে ধরে দুই কদম সামনে এগোল। আর ঠিক তখনই ঘটল সেই গা শিউরে ওঠা ঘটনা!

মাটিতে শুয়ে থাকা সেই সাদা কাপড় পরা অবয়বটা কোনো হাত বা পায়ের ভর ছাড়াই, কোনো কাঠের তক্তার মতো সোজা শূন্যে ভেসে খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে গেল! রহমত আলী আতঙ্কে চিৎকার দিতে চাইল, কিন্তু ভয়ের চোটে তার গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হলো না। সে দেখল, কাপড়টার দৈর্ঘ্য আস্তে আস্তে বাড়ছে। দেখতে দেখতে ওটা প্রায় ১০-১২ ফিট লম্বা হয়ে গেল এবং তার নিচের অংশটা মাটির স্পর্শ ছেড়ে শূন্যে দুলতে লাগল।

সাদা কাপড়ের ওপরের অংশটা যখন বাতাসের ঝাপটায় একটু সরল, রহমত আলী দেখল—কাপড়ের ভেতরে কোনো মানুষের মুখ নেই, চামড়া নেই, মাংস নেই! শুধু দুটো জ্বলন্ত কয়লার মতো লাল চোখ অন্ধকারের ভেতর থেকে অশুভ আলো ছড়াচ্ছে। সেই অশরীরী মূর্তিটি এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল, আর সাথে সাথে হ্যারিকেনের ভেতরের আগুনটা দপ করে নিভে গেল।

চারপাশ তখন নিচ্ছিদ্র অন্ধকার। সেই অন্ধকারের বুক চিরে এক হাড়কাঁপানো, ভাঙা ও গমগমে কণ্ঠস্বর ভেসে আসলো:

"রহমত... বড্ড লোভ তোর! আমার ঘুমের ব্যাঘাত করলি কেন? আজ তোকে এই মাটির নিচে আমার পাশেই শুইয়ে রাখব...!"

রহমত আলী আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। হাতের লণ্ঠন আর চটের বস্তা ওখানেই ফেলে সে অন্ধকারের মধ্যে "আল্লাহ গো" বলে এক চিৎকার দিয়ে গ্রামের দিকে দৌড় দিল। পেছনে তখন শোনা যাচ্ছিল সেই কাপড়ের বাতাসে ওড়ার বিকট শব্দ—খড়খড়, শোঁশোঁ। যেন সেই কাফনের কাপড়টা তাকে ধরার জন্য পেছন পেছন উড়ে আসছে!

রহমত আলী কীভাবে বাড়ি ফিরেছিল, তা সে নিজেও জানত না। পরদিন সকালে গ্রামের মানুষ তাকে তার বাড়ির উঠোনে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। তিন দিন ওঝার ঝাড়ফুঁক আর নিমপাতার সেঁক দেওয়ার পর তার জ্ঞান ফেরে।

মধ্যরাতের তালবাগান: সাদা কাপড়ের সেই মায়াবী ও ভয়ংকর ফাঁদ!আগের গল্পে কালাম তো ভয় পেয়ে বেঁচে ফিরেছিল, কিন্তু আজ যার গল্প বল...
06/07/2026

মধ্যরাতের তালবাগান: সাদা কাপড়ের সেই মায়াবী ও ভয়ংকর ফাঁদ!

আগের গল্পে কালাম তো ভয় পেয়ে বেঁচে ফিরেছিল, কিন্তু আজ যার গল্প বলব—সে ভূত-প্রেত একদমই বিশ্বাস করত না। তার নাম সুজন। শহর থেকে পড়াশোনা শেষ করে গ্রামে এসে সে সবাইকে লজিক শোনাত, "ভূত বলতে কিছু নেই, ওসব মানুষের মনের ভুল আর অন্ধকারের হ্যালুসিনেশন!"

গ্রামের মুরুব্বিরা তাকে অনেক বারণ করেছিলেন, "বাবা সুজন, শহরের পড়াশোনা শহরেই থাক। আমাদের এই গ্রামের বিলের ধারের তালবাগানটার হিসাব আলাদা। ওখানে রাতে লজিক খাটাতে যাস না।" কিন্তু সুজন কার কথা শোনে!

সেদিন ছিল ভাদ্র মাসের এক গুমোট গরমের রাত। রাত তখন প্রায় পৌনে ২টা। পুরো গ্রামে কারেন্ট নেই, গরমে ঘরে টেকা দায়। সুজন ভাবল, বিলের ধারের মেঠো পথটা থেকে একটু বাতাস খেয়ে আসা যাক। পকেটে একটা ছোট টর্চলাইট নিয়ে সে একাই বেরিয়ে পড়ল।

হাঁটতে হাঁটতে সে যখন সেই অভিশপ্ত তালগাছটার কাছাকাছি পৌঁছাল, তখন চারপাশটা যেন হুট করে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা হয়ে গেল। বাতাসে তালপাতাগুলোর খড়খড় শব্দ হচ্ছিল, যা শুনলে মনে হয় যেন অনেকগুলো কঙ্কাল একসাথে ফিসফিসিয়ে কথা বলছে।

হঠাৎ সুজনের চোখ গেল সবচেয়ে উঁচু তালগাছটার গোড়ার দিকে। জোছনার আবছা আলোয় সে দেখল—গাছের গোড়ায় ধবধবে সাদা কাপড়ে মোড়ানো একটা অবয়ব উবু হয়ে বসে আছে। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কেউ যেন সাদা চাদর মুড়ি দিয়ে কাঁদছে।

সুজন মনে মনে হাসল। ভাবল, "নিশ্চয়ই গ্রামের কোনো চোর রাতে তাল চুরি করতে এসে ধরা পড়ার ভয়ে চাদর মুড়ি দিয়ে লুকিয়ে আছে। আজ এর ভূত ছোটাবো!"

সে সাহস নিয়ে তরতর করে এগিয়ে গেল এবং একদম কাছে গিয়ে পকেট থেকে টর্চলাইটটা জ্বালিয়ে সরাসরি সেই সাদা কাপড়ের ওপর আলো ফেলল। আর আলোটা পড়া মাত্রই সুজনের পায়ের তলার মাটি যেন সরে গেল!

চাদরের নিচে কোনো মানুষ ছিল না, কোনো চোরও ছিল না। আলো পড়তেই সেই ধবধবে সাদা কাপড়টা নিজে থেকেই বাতাসে ফুঁসে উঠল! যেন কোনো অদৃশ্য শরীর সেটাকে ভেতরের দিকে টেনে ধরে আছে। সুজন কিছু বুঝে ওঠার আগেই, সেই কাপড়টা মাটি ছেড়ে তরতর করে শূন্যে ভাসতে শুরু করল।

সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, কাপড়টা যত উপরে উঠছিল, তার দৈর্ঘ্য তত বাড়ছিল! মনে হচ্ছিল ওটা কোনো সাধারণ কাপড় নয়, বরং এক অন্তহীন সাদা কাফন! কাপড়টা শূন্যে ভাসতে ভাসতে সোজা গিয়ে তালগাছের একদম মাথায়, পাতার ভেতর গিয়ে পেঁচিয়ে গেল।

ঠিক তখনই তালগাছের ওপর থেকে একটা বিকট, খিলখিল করা নারীকণ্ঠের হাসি ভেসে আসলো। সেই হাসির শব্দে যেন পুরো বিলের পানি কেঁপে উঠল! উপর থেকে একটা হাড়কাঁপানো ফিসফিসে গলায় কেউ বলে উঠল:

"শহরের ছেলে... অনেক লজিক জানিস তো? আয়, আজ তোকে তালগাছের মগডালে বসে লজিক শেখাই...!"

সুজন টর্চের আলোটা ওপরের দিকে তুলতেই দেখল—সেই সাদা কাপড়ের ভেতর থেকে দুটো অসম্ভব লম্বা, মাংসহীন কালো হাত নিচের দিকে নেমে আসছে। হাত দুটো রাবারের মতো টেনে টেনে ঠিক সুজনের গলার দিকে এগিয়ে আসছিল!

লজিক-ফিজিক্স সব ভুলে সুজন তখন জীবনের প্রথম বুঝতে পারল আসল আতঙ্ক কাকে বলে! সে টর্চলাইটটা ওখানেই ফেলে "বাঁচাও" বলে একটা চিৎকার দিল। কিন্তু অতিপ্রাকৃতিক কোনো এক শক্তিতে তার গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হলো না। সে উল্টো ঘুরে দৌড় দিতে যাবে, এমন সময় বিলের কাদা মাটিতে পা পিছলে ধপাস করে আছাড় খেয়ে অজ্ঞান হয়ে গেল।

পরদিন সকালে গ্রামের মানুষ যখন তাকে বিলের ধার থেকে উদ্ধার করে, তখন সুজনের চোখ দুটো আতঙ্কে ঠিকরে বের হচ্ছিল। গ্রামে তিন দিন কবিরাজি ঝাড়ফুঁক করার পর সুজনের জ্ঞান ফেরে। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত সুজন আর কোনোদিন রাতে তো দূরের কথা, দিনে দুপুরেও ওই তালবাগানের দিকে চোখ তুলে তাকায়নি!

— ইতি, আপনাদের SweetFireAngle।

তালগাছের নিচের সেই ‘সাদা কাপড়’: নিশুত রাতের এক অলৌকিক আতঙ্ক!গ্রামের নাম রতনপুর। বর্ষা কিংবা ভাদ্র মাসের রাতগুলোতে যখন ঝড়...
05/07/2026

তালগাছের নিচের সেই ‘সাদা কাপড়’: নিশুত রাতের এক অলৌকিক আতঙ্ক!

গ্রামের নাম রতনপুর। বর্ষা কিংবা ভাদ্র মাসের রাতগুলোতে যখন ঝড়-বৃষ্টির পর চারপাশ একদম নিঝুম হয়ে যায়, তখন গ্রামের মেঠো পথগুলো এক অদ্ভুত রহস্যে ঘেরা থাকে। আর এই রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু হলো গ্রামের উত্তর পাড়ার সেই বিশাল তালগাছের বাগানটা।

গ্রামে একটা চিরন্তন নিয়ম আছে—ঝড়ের রাতে বা শেষ রাতে যখন টুপটাপ পাকা তাল পড়ার ‘ধপাস’ শব্দ হয়, তখন গ্রামের একদল সাহসী মানুষ টর্চ আর বস্তা নিয়ে তাল কুড়াতে বের হয়। কারণ পরদিন সকালে গরম গরম তালের পিঠা আর পায়েস খাওয়ার লোভ সামলানো দায়!

কিন্তু উত্তর পাড়ার ওই তালের খাঁড়িটার একটা ভয়ংকর বদনাম ছিল। মুরুব্বিরা সবসময় সাবধান করে বলতেন:

"খবরদার! মাঝরাতের পর ওই তালবাগানের দিকে একা পা বাড়াবি না। তালের লোভের চেয়ে জানের মায়া অনেক বড়!"

কারণ যারা গভীর রাতে সেখানে তাল কুড়াতে গেছে, তারা প্রত্যেকেই এক হাড় কাঁপানো অলৌকিক দৃশ্য দেখেছে। বিশাল কোনো এক প্রাচীন তালগাছের গোড়ায়, যেখানে কুচকুচে অন্ধকার থাকার কথা, সেখানে ধবধবে সাদা কাপড় পরে লম্বা এক অবয়ব মাটিতে সোজা হয়ে শুয়ে থাকে! দূর থেকে দেখলে মনে হবে কেউ যেন কাফনের কাপড় পরে জ্যান্ত লাশ সেজে ঘুমাচ্ছে।

এক রাতের ঘটনা। আমাদের গ্রামেরই এক দুঃসাহসী ছেলে, নাম তার কালাম। তালের পিঠার প্রতি তার লোভ একটু বেশিই। সেদিন রাত প্রায় আড়াইটা, বাইরে তখন দমকা হাওয়া বইছে। হঠাৎ দূর থেকে শব্দ আসলো—ধপাস! ধপাস!

কালাম ভাবল, এই ঝড়-বাতাসে অন্য কেউ তো ঘর থেকে বের হবে না, এই সুযোগে বড় বড় পাকা তালগুলো একা একাই কুড়িয়ে আনা যাক। সে একটা বড় বস্তা আর তিন ব্যাটারির টর্চলাইটটা নিয়ে একাই রওনা দিল সেই তালবাগানের দিকে।

বাগানে ঢুকে কালাম যেই না টর্চের আলোটা ফেলল, অমনি তার পুরো শরীর হিম হয়ে গেল, হাতের টর্চটা কাঁপতে লাগল।

সবচেয়ে বড় গাছটার ঠিক গোড়ায় একটা বড় পাকা তাল পড়ে আছে, আর তার ঠিক পাশেই শুয়ে আছে সেই জিনিসটা! ফুটফাট জোছনার আলোয় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে—পা থেকে মাথা পর্যন্ত সাদা কাপড়ে ঢাকা একটা শরীর নিথর হয়ে মাটিতে পড়ে আছে।

কালাম প্রথমে ভাবল, গ্রামের কোনো পাগল হয়তো রাতে এখানে এসে ঘুমাচ্ছে। সে সাহস সঞ্চয় করে একটু জোরে ডাক দিল, "কে ভাই? এই মাঝরাতে তালগাছের নিচে শুয়ে আছেন কেন? বাড়িতে যান!"

কোনো উত্তর নেই। চারপাশের বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দটা হুট করে যেন একদম থমকে গেল। আর ঠিক তখনই ঘটল সেই শিউরে ওঠার মতো ঘটনা!

মাটিতে শুয়ে থাকা সেই সাদা কাপড় পরা অবয়বটা কোনো হাত বা পায়ের ভর ছাড়াই, একদম সোজা একটা লাঠির মতো শূন্যে ভেসে খাড়া হয়ে দাঁড়াল! কাপড়ের ওপরের অংশটা যখন একটু সরল, কালাম দেখল ভেতরের কোনো মুখ নেই, চামড়া নেই—শুধু দুটো জ্বলজ্বলে চোখের গর্ত থেকে অন্ধকার ঠিকরে বেরোচ্ছে! আর তার পা দুটো মাটির দিকে নয়, বরং উল্টো হয়ে শূন্যে ঝুলছে!

কালাম আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ায়নি। হাতের টর্চ আর তালের বস্তা ওখানেই ফেলে সে জীবনের সবচেয়ে জোরে দৌড়টা দিল। একেবারে নিজের ঘরে এসে যখন কম্বল মুড়ি দিল, তখন তার গায়ের জ্বর ১০০ ডিগ্রি পার হয়ে গেছে।

বন্ধুরা, আপনাদের নিজের গ্রামে বা নানারবাড়িতে কি এমন কোনো তালগাছ বা বাঁশঝাড়ের গল্প আছে, যেখানে রাতে যেতে সবাই ভয় পেত? আপনার জানা এমন কোনো সত্যি ঘটনা থাকলে ঝটপট কমেন্টে শেয়ার করুন! 👇

— ইতি, আপনাদের SweetFireAngle।

রোদ আর গরমের যে অবস্থা, আজকাল নাকি পেত্নিরাও মেকআপ গলে যাওয়ার ভয়ে দুপুরে বের হয় না!
04/07/2026

রোদ আর গরমের যে অবস্থা, আজকাল নাকি পেত্নিরাও মেকআপ গলে যাওয়ার ভয়ে দুপুরে বের হয় না!

নিঃঝুম গাঁয়ের এক রহস্যময়ী আত্মা ‘লিদয়া’এক নিঝুম গাঁয়ের গল্প, নাম তার রতনপুর। সেই গ্রামে বাঁশঝাড় আর কচুরিপানার পুকুর ঘেঁষ...
01/07/2026

নিঃঝুম গাঁয়ের এক রহস্যময়ী আত্মা ‘লিদয়া’

এক নিঝুম গাঁয়ের গল্প, নাম তার রতনপুর। সেই গ্রামে বাঁশঝাড় আর কচুরিপানার পুকুর ঘেঁষে যে মেঠো পথ, সেখানেই ছিল লিদয়ার বাস। দিনশেষে সন্ধ্যা নামলে, গ্রাম যখন নিঃঝুম, তখন এক অদ্ভুত শব্দ শোনা যেত সেই পথে—ঝম ঝম, ঝম ঝম। গ্রামের সবাই জানত, ওটা লিদয়ার নুপুরের আওয়াজ। কেউ কোনোদিন দেখেনি তাকে, শুধু এই শব্দ শুনেই আঁতকে উঠত।

লিদয়া কোনো ভয়ংকর ভূত ছিল না, সে ছিল এক বিষাদগ্রস্ত আত্মা। লোকমুখে শোনা যায়, সে গাঁয়েরই এক মেয়ে ছিল, যার বিয়ের রাতে এক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়। সেই থেকে সে তার অলংকার পরা পায়ে গাঁয়ের পথে ঘুরে বেড়ায়। এই ছবিটি দেখুন, এক যুবক বাঁশঝাড়ের আড়ালে লুকিয়ে অবাক চোখে দেখছে লিদয়াকে—তার পায়ের ভারি অলংকার থেকে কেমন আলো ঠিকরে বেরোচ্ছে!

একদিন এক দুঃসাহসী তরুণ, নাম তার রতন, ঠিক করল সে লিদয়ার রহস্য ভেদ করবে। এক অমাবস্যার রাতে, সে বাঁশঝাড়ের আড়ালে লুকিয়ে রইল। রাত বাড়তেই এল সেই আওয়াজ—ঝম ঝম, ঝম ঝম। রতন দেখল, এক ম্লান আলোয় ঢাকা ছায়ামূর্তি ধীর পায়ে হেঁটে যাচ্ছে। পরনে ম্লান শাড়ি, আর পায়ে ভারি ভারি নুপুর।

সে দেখল, লিদয়া ভয় দেখানোর জন্য নয়, বরং এক অজানা বেদনায় হেঁটে চলেছে। রতন তার ভয় ভুলে এক অদ্ভুত সহানুভূতি অনুভব করল। সে আর কখনো লিদয়াকে ভূত ভেবে ভয় পায় না, বরং সেই বিষাদগ্রস্ত সুরের প্রতি শ্রদ্ধা জাগে মনে। এভাবেই রতনপুরের এই কিংবদন্তি বয়ে চলে, আর সেই ছবিটি এই গল্পকে আজ জীবন্ত করে তুলেছে।

#ভুতেরগল্প

আপনারাও কি ঘর অগোছালো রাখেন? তাহলে দ্য পারফেকশনিস্ট আজই যাবে আপনার কাছে!আমরা সাধারণত গল্প-সিনেমায় কেমন ভূত দেখি? সাদা শা...
29/06/2026

আপনারাও কি ঘর অগোছালো রাখেন? তাহলে দ্য পারফেকশনিস্ট আজই যাবে আপনার কাছে!

আমরা সাধারণত গল্প-সিনেমায় কেমন ভূত দেখি? সাদা শাড়ি পরা, ভাঙা গলায় কথা বলা, রক্ত চোষা কিংবা ভয়ংকর চেহারার। কিন্তু গত পরশু রাতে আমার ঘরে যে ভূতটা এসেছিল, সে এই পুরো ভূত সমাজের নাম ডুবিয়ে দিয়ে গেছে!

আমি চিরকালই একটু অলস প্রকৃতির ব্যাচেলর মানুষ। আমার ঘরের অবস্থা কেমন থাকে, সেটা আর নতুন করে না বলি। খাটের ওপর এক সপ্তাহের জমে থাকা ময়লা কাপড়, টেবিল জুড়ে চিপসের খালি প্যাকেট, আর মেঝেতে বইখাতা এমনভাবে ছড়ানো থাকে যে মনে হয় ঘরে মাত্রই ভূমিকম্প হয়ে গেছে!

তো গত পরশু রাত ২টার দিকে হুট করে আমার ঘুম ভেঙে গেল। লোডশেডিং ছিল না, কিন্তু ঘরের কোণায় রাখা পুরনো কাঠের আলমারিটার ভেতর থেকে কেমন যেন একটা খড়খড় শব্দ আসছিল।

আমি চোখ ডলতে ডলতে উঠে বসলাম। হঠাৎ দেখলাম, আলমারির দরজাটা আলতো করে খুলে গেল আর সেখান থেকে ধোঁয়াটে একটা অবয়ব বের হয়ে আসলো। তার চুলগুলো বাতাসে উড়ছে, চোখ দুটো নীল রঙের লাইটের মতো জ্বলছে।

আমি ভয়ে বিছানার চাদরটা শক্ত করে চেপে ধরলাম। ভাবলাম— "আজকে শেষ! ফায়ার অ্যাঞ্জেলের ডানা আজ এখানেই কাটা পড়বে!"

ভূতটা দুলতে দুলতে আমার খাটের দিকে এগিয়ে আসলো। কিন্তু আমার গলার নলি মটকানোর বদলে, সে হঠাৎ থেমে গেল। তার জ্বলজ্বলে চোখ দুটো দিয়ে সে পুরো ঘরের দিকে তাকাল। মেঝেতে পড়ে থাকা আমার এক জোড়া নোংরা মোজা আর টেবিলের ওপর পিৎজার খালি বক্সের দিকে তাকিয়ে ভূতটা হঠাৎ তার কপালে হাত দিয়ে বসে পড়ল!

ভয়ানক ভুতুড়ে গলার বদলে সে অত্যন্ত বিরক্ত এবং খিটখিটে গলায় বলে উঠল:

"ছিঃ ছিঃ ছিঃ! মানুষের ঘরের এই অবস্থা? তুই কি মানুষ নাকি ডাস্টবিনের জ্যান্ত সংস্করণ? এই নোংরা ঘরের মধ্যে আমি ভয় দেখাবো কীভাবে? আমার নিজেরই তো এলার্জি উঠে যাচ্ছে!"

আমি তো ভয়ে কাঁপবো নাকি হাসবো, বুঝতেই পারছি না!

ভূতটা আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে বাতাসে ভেসে ভেসে আমার টেবিলের কাছে গেল। তারপর ফু দিয়ে সব চিপসের প্যাকেট আর পিৎজার বক্স ডাস্টবিনে ফেলে দিল। এখানেই শেষ নয়, সে আলমারি থেকে হ্যাঙ্গার বের করে মেঝেতে পড়ে থাকা আমার শার্ট-প্যান্টগুলো সুন্দর করে ভাজ করে ঝুলিয়ে রাখতে শুরু করল!

আমি হা হয়ে তাকিয়ে আছি, আর একটা আস্ত ভূত আমার ঘর গুছিয়ে দিচ্ছে! কাপড়গুলো আলমারিতে রাখার পর সে আমার বুকশেলফের বইগুলো সাইজ অনুযায়ী (বড় থেকে ছোট) এবং সাবজেক্ট অনুযায়ী একদম লাইব্রেরির মতো করে সাজিয়ে রাখল।

ঘর গোছানো শেষ করে ভূতটা আমার দিকে এক চরম অবজ্ঞার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল:

"আমি এই বাড়িতে আজ থেকে ৫০ বছর আগে মারা গিয়েছিলাম। আমি বেঁচে থাকতে ওসিডি (OCD) বা অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতার রোগী ছিলাম। ভূত হওয়ার পরও আমার এই রোগটা গেল না! শোন, কাল রাতে আমি আবার আসবো। ঘরের এই কোণায় যেন এক ফোঁটা ধুলো না দেখি, আর টেবিলের বইগুলো যেন এদিক-ওদিক না হয়। নয়তো ঘর নোংরা করার অপরাধে তোকে আমি ঝাড়ু দিয়ে পিটিয়ে পরলোকে নিয়ে যাবো!"

এই বলে ভূতটা আবার আলমারির ভেতর ঢুকে অদৃশ্য হয়ে গেল।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার ঘর পুরো ফাইভ স্টার হোটেলের মতো ঝকঝকে তকতকে চকচক করছে! এখন অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, মায়ের বকুনির ভয়ে যা করিনি, ভূতের ভয়ে এখন আমি প্রতিদিন ঘুমানোর আগে ঘর একদম পরিষ্কার করে রাখি।

তাই বলি বন্ধুরা, সব ভূত কিন্তু খারাপ হয় না। আপনার ঘর যদি অতিরিক্ত নোংরা থাকে, তবে আজ রাতেই একটা পারফেকশনিস্ট ভূত আপনার ঘরে ল্যান্ড করতে পারে! ঘর গোছানোর অলসতা থাকলে কমেন্টে জানান, ভূত ভাইয়ের সাথে কন্টাক্ট করায় দেবো! 😂

— ইতি, আপনাদের SweetFireAngle

#ভুতেরগল্প

মাঝরাতে একা রুমে ভূত দেখার চেয়েও ভয়ঙ্কর জিনিস কী জানেন?হঠাৎ আম্মুর রুমে এসে বলা— "তোর ফোনের পাসওয়ার্ডটা দে তো
29/06/2026

মাঝরাতে একা রুমে ভূত দেখার চেয়েও ভয়ঙ্কর জিনিস কী জানেন?

হঠাৎ আম্মুর রুমে এসে বলা— "তোর ফোনের পাসওয়ার্ডটা দে তো

যখন নিজের রূপ দেখে ভূত নিজেই ছিটকে গেলরাত তখন ঠিক ২:৪৫ মিনিট। বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে, আর সেই সাথে মেঘ ডাকার গুড়গুড় শব্দ।...
28/06/2026

যখন নিজের রূপ দেখে ভূত নিজেই ছিটকে গেল

রাত তখন ঠিক ২:৪৫ মিনিট। বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে, আর সেই সাথে মেঘ ডাকার গুড়গুড় শব্দ। এই রোমান্টিক আবহাওয়ায় বিছানায় কম্বল মুড়ি দিয়ে ঘুমানোর কথা থাকলেও, আমি যথারীতি ফোনের ব্রাইটনেস একদম জিরো করে ভূত-প্রেতের গল্প পড়ছিলাম।

হঠাৎ করেই ঘরের কোণায় রাখা ড্রেসিং টেবিলের বড় আয়নাটা থেকে একটা অদ্ভুত ‘খটখট’ শব্দ হলো।

আমি ফোনটা পাশে রেখে আয়নার দিকে তাকালাম। ঘরের আবছা আলোয় মনে হলো, আয়নার ভেতরের অন্ধকারটা যেন একটু বেশি ঘন হয়ে উঠছে। কৌতুহল আর হালকা ভয় নিয়ে খাট থেকে নেমে আয়নাটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।

প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল। আয়নায় আমার নিজের অবয়বটাই দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু ঠিক তখনই আমার পেছনের জানলা দিয়ে এক ঝলক তীব্র বিদ্যুৎ চমকে উঠল, আর সেই আলোয় আমি যা দেখলাম, তাতে আমার কলিজা প্রায় মুখের ভেতর চলে আসার উপক্রম!

আয়নায় আমার পেছনে কোনো প্রতিচ্ছবি নেই! সেখানে দাঁড়িয়ে আছে এক ভয়ংকর মূর্তি। লম্বা উসকোখুসকো কালো চুল দিয়ে মুখ ঢাকা, পরনে একটা জীর্ণ শাড়ি, আর তার হাত দুটো আলতো করে আমার কাঁধের ওপর রাখা! সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, আমি যখন ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকালাম, সেখানে কেউ নেই। কিন্তু আয়নায় তাকালেই দেখা যাচ্ছে সে ঠিক আমার পেছনেই দাঁড়িয়ে আছে!

আমার পুরো শরীর হিম হয়ে গেল। বুঝতে পারলাম, আজ খাঁটি এক অলৌকিক বিপদের মুখে পড়েছি।

ঠিক তখনই আয়নার ওপাশ থেকে একটা হাড় কাঁপানো বরফশীতল কণ্ঠ ভেসে আসলো:

"অনেকদিন পর একটা জ্যান্ত মানুষ পেয়েছি... আজ রাতে তোকে আমি এই আয়নার ওপারে টেনে নিয়ে যাবো! তোর আত্মা চিরকালের জন্য এই অন্ধকারে বন্দি হবে!"

আমি ভয়ে চোখ বন্ধ করে যখন শেষবারের মতো ‘আল্লাহ’ নাম জপছি, ঠিক তখনই ভূতটা হঠাৎ তার লম্বা চুলগুলো সরিয়ে আমার মুখের দিকে একটু ভালো করে তাকাল। আর তাকানো মাত্রই তার ভয়ংকর লাল চোখ দুটো আতঙ্কে চড়কগাছ হয়ে গেল!

ভূতটা দুই কদম পিছিয়ে গিয়ে নিজের বুকে হাত দিয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল:

"ওরে বাবারে! এটা কী জিনিস? তোর চোখের নিচে এত বড় বড় কালো গর্ত কেন? আর তোর চুলগুলো এভাবে পাখির বাসার মতো খাড়া হয়ে আছে কেন? তুই কি জ্যান্ত মানুষ নাকি আমার চেয়েও বড় কোনো অভিশপ্ত আত্মা?"

ভয়ের চোটে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে— আমি গত তিন দিন ধরে রাত জেগে অ্যাসাইনমেন্ট করছি আর ফেসবুক স্ক্রোল করছি, যার কারণে আমার চোখের নিচে বিশাল ডার্ক সার্কেল পড়েছে। তার ওপর ঘুমানোর আগে আম্মু জোর করে আমার মুখে একটা কালো রঙের ‘চারকোল ফেস মাস্ক’ মাখিয়ে দিয়েছিল, যা তখন শুকিয়ে পুরো খটখটে হয়ে ভূতুরে রূপ ধারণ করেছিল! আর গরমে আমার চুল খাড়া হয়ে এমনিতেই ডাইনোসর স্টাইল হয়ে ছিল।

আমি ভূতকে ভয় পাবো কী, স্বয়ং ভূত আমার ফেস মাস্ক আর ডার্ক সার্কেল দেখে আতঙ্কে কাঁপছে!

আমি সুযোগ বুঝে একটু ভয়ংকর গলায় বললাম, "কেন ভাই? পছন্দ হইলো না? আয়নার ওপারে তো একলাই থাকেন, চলেন আমিও আসি। দুইজনে মিলে এলাকা কাঁপাবো!"

আমার এই কথা শুনে ভূতটা আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না। সে বিকট একটা চিৎকার দিয়ে বলল— "না ভাই, মাফ চাই! তোর এই চেহারার পাশে থাকলে আমার নিজেরই হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে!"

এই বলেই সে আয়নার ভেতর দিয়ে এক লাফে অদৃশ্য হয়ে গেল। ঘরের তাপমাত্রা আবার স্বাভাবিক হয়ে আসলো। আর আমি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ফেস মাস্ক পরা চেহারার দিকে তাকিয়ে ভাবলাম— রূপচর্চার যে এত বড় উপকারিতা, তা আগে জানলে প্রতিদিন ডাবল করে ফেস মাস্ক মাখতাম! 😂

তাই বলি বন্ধুরা, রূপ যাই হোক না কেন, মাঝরাতে মেকআপ বা ফেস মাস্ক ছাড়া নিজের আসল রূপ ধরে রাখাই আসল বীরত্ব। ভূতও তখন রাস্তা মেপে চলতে বাধ্য হয়!

— ইতি, আপনাদের SweetFireAngle।

#ভুতেরগল্প

Address

Badda, Dhaka, Bangladesh
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Fire Angel posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share