18/04/2026
শওকত আলী (২৭ জানুয়ারি ১৯৩৭ - ১৬ নভেম্বর ২০২০) ছিলেন একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ, অবসর প্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, আইনজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া তিনি জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ছিলেন।
জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন:
শওকত আলী ২৭ জানুয়ারি ১৯৩৭ সালে শরীয়তপুরের নড়িয়ার লোনসিং বাহের দীঘিরপার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মুন্সী মোবারক আলী এবং মাতার নাম মালেকা বেগম।
১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রী লাভ করেন। [১] তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৮ সালে সুপ্রীমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের সদস্যপদ লাভ করেন।
কর্মজীবন:
১) সামরিক জীবন:
শওকত ২৪ জানুয়ারি ১৯৫৯ তারিখে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অর্ডন্যান্স কোরে কমিশন লাভ করে করাচির নিকটবর্তী মালির ক্যান্টনমেন্টে অর্ডন্যান্স স্কুলের প্রশিক্ষক নিযুক্ত হন।
ষাটের দশকে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বিপ্লবী পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার ২৬নং আসামী ছিলেন। এ মামলায় মালির ক্যান্টনমেন্ট থেকে ১০ জানুয়ারি ১৯৬৮ তারিখে গ্রেপ্তার হন এবং ১৯৬৮-১৯৬৯ সালে ১৩ মাস কারাগারে ছিলেন। ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে ঢাকা সেনানিবাস কারাগার থেকে মুক্তিলাভ করেন এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে ১৯৬৯ সালে তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া হয়।
তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকালে তিনি মাদারীপুর এলাকার কমান্ডার ও পরে ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে সাব-সেক্টরে কমান্ডার ও প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি মুজিবনগরস্থ সশস্ত্রবাহিনীর সদর দপ্তরের স্টাফ অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। কর্ণেল পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে অর্ডন্যান্স সার্ভিসেসের পরিচালক থাকা কালে ১৯৭৫ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যান।
২) রাজনীতি:
১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করে ১৯৭৯ সালে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নিযুক্ত হন।
তিনি ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ফরিদপুর-১৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং আওয়ামী লীগ সংসদীয় দলের হুইপ নির্বাচিত হন।
এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর তিনি ১৯৯১ সালের পঞ্চম, ১২ জুন ১৯৯৬ সালের সপ্তম, ২০০১ সালের অষ্টম, ২০০৮ সালের নবম ও ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে শরীয়তপুর-২ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
পঞ্চম জাতীয় সংসদে তিনি বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটি ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মনোনীত হন। এছাড়া ঐ সংসদে পিটিশন কমিটি, সরকারি হিসাব কমিটি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত হন।
অষ্টম জাতীয় সংসদে তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এবং বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটির সদস্য মনোনীত হন।
নবম জাতীয় সংসদে তিনি ২৫ জানুয়ারী ২০০৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মনোনীত হয়ে ২৪ জানুয়ারি ২০১৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২২ মার্চ ২০১৩ হতে ৩০ এপ্রিল ২০১৩ পর্যন্ত জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দশম জাতীয় সংসদে তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৮২ সালের মে মাস থেকে ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৬ মাস ও ২০০৩ সালে কারাবরণ করেন।
গ্রন্থ:
শওকত আলী বিভিন্ন বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
১. সত্য মামলা আগরতলা
২. কারাগারের ডায়েরী
৩. বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রাম ও আমার কিছু কথা (২০১২)
৪. গণপরিষদ থেকে নবম সংসদ (২০১৬)
৫. আর্মড কোয়েস্ট ফর ইনডিপেন্ডেন্স (ইংরেজি)
মৃত্যু:
শওকত আলী ১৬ নভেম্বর ২০২০ সালে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।
#কর্নেল_শওকত_আলী #শরীয়তপুর #রাজনীতিবীদ #বাংলাদেশ
#শরীয়তপুর_সংযোগ