04/07/2025
যারা পেমেন্ট গেটওয়ে PayPal না থাকার কারণে আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করতে সমস্যায় পড়ছেন।
এখানে পোস্টটির একটি বিশ্লেষণ এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হলো:
Why we don't get PayPal account....?
সমস্যা: বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা (যারা ফাইভার, আপওয়ার্ক বা লোকাল মার্কেটে কাজ করেন) আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে পেমেন্ট নিতে সমস্যার সম্মুখীন হন, কারণ বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে PayPal নেই। এর ফলে তারা ক্লায়েন্ট এবং বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছেন।
সমাধানের প্রতিশ্রুতি: পোস্টদাতা দাবি করছেন যে তিনি একটি সহজ পদ্ধতির মাধ্যমে দেখাবেন কীভাবে বাংলাদেশ থেকে একটি PayPal অ্যাকাউন্ট খোলা, ভেরিফাই করা এবং নিরাপদে ব্যবহার করা যায়।
কল টু অ্যাকশন (Call to Action): আগ্রহী ব্যক্তিদের কমেন্টে ‘PayPal খুলতে চাই’ লিখতে বলা হয়েছে, যাতে ইনবক্সে বিস্তারিত তথ্য পাঠানো যায়। এটি সাধারণত কোনো কোর্স, পেইড সার্ভিস বা টিউটোরিয়াল বিক্রির একটি সাধারণ মার্কেটিং কৌশল।
সতর্কতা এবং বাস্তবতা:
পোস্টটিতে যে সমাধানের কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং PayPal-এর নীতির পরিপন্থী।
১. বাংলাদেশে PayPal নেই: বাংলাদেশ ব্যাংক বা সরকারিভাবে PayPal এখনও বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করেনি। তাই সরাসরি বাংলাদেশি তথ্য (NID, ঠিকানা, ফোন নম্বর) দিয়ে বৈধভাবে PayPal অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব নয়।
২. অবৈধ পদ্ধতি: যারা বাংলাদেশ থেকে PayPal অ্যাকাউন্ট খোলার কথা বলেন, তারা সাধারণত নিম্নলিখিত অবৈধ পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করেন:
* ভুয়া তথ্য ব্যবহার: অন্য কোনো দেশের (যেমন: USA, UK) ভুয়া ঠিকানা, ফোন নম্বর ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়।
* VPN ব্যবহার: দেশের অবস্থান গোপন করার জন্য VPN ব্যবহার করা হয়।
* অন্যের সাহায্য নেওয়া: বিদেশে থাকা কোনো বন্ধু বা আত্মীয়ের তথ্য ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়।
৩. ঝুঁকিগুলো কী কী?
* অ্যাকাউন্ট লিমিট বা লক: PayPal-এর সিকিউরিটি সিস্টেম খুবই শক্তিশালী। আইপি ঠিকানা (IP Address), লগইন লোকেশন বা লেনদেনে অসামঞ্জস্য দেখলে তারা যেকোনো সময় অ্যাকাউন্ট লিমিট করে দিতে পারে। তখন আপনাকে সেই দেশের আইডি কার্ড, ঠিকানা প্রমাণ (utility bill) বা অন্যান্য ডকুমেন্ট জমা দিতে বলা হবে, যা আপনার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।
* টাকা আটকে যাওয়া: অ্যাকাউন্ট লিমিট বা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে আপনার অ্যাকাউন্টে থাকা সমস্ত ডলার/টাকা আটকে যাবে। এই টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।
* স্ক্যামের শিকার হওয়া: যিনি আপনাকে এই সার্ভিস দেবেন, তিনি আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারেন অথবা সার্ভিস দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে প্রতারণা করতে পারেন।
নিরাপদ বিকল্প কী?
বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের জন্য আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গ্রহণের অনেকগুলো বৈধ এবং নিরাপদ মাধ্যম রয়েছে:
Payoneer (পেওনিয়ার): এটি বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। ফাইভার, আপওয়ার্কসহ প্রায় সব বড় মার্কেটপ্লেস Payoneer সাপোর্ট করে। আপনি সহজেই Payoneer থেকে আপনার স্থানীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা তুলতে পারবেন।
Wise (ওয়াইজ): এটিও একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সাশ্রয়ী মাধ্যম। এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন দেশের ভার্চুয়াল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পেতে পারেন এবং কম খরচে টাকা দেশে আনতে পারেন।
ব্যাংক ট্রান্সফার (Wire Transfer): বড় অঙ্কের পেমেন্টের জন্য সরাসরি ক্লায়েন্টের কাছ থেকে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ওয়্যার ট্রান্সফার নিতে পারেন। যদিও এর খরচ কিছুটা বেশি।
মার্কেটপ্লেসের নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম: Upwork, Fiverr-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর নিজস্ব পেমেন্ট উইথড্রয়াল সিস্টেম আছে, যা ব্যবহার করে সরাসরি ব্যাংকে টাকা আনা যায়।
শেষ কথা:
ওই পোস্টে দেখানো লোভনীয় প্রস্তাবটি একটি শর্টকাট, কিন্তু এটি আপনার কষ্টার্জিত আয়কে巨大 ঝুঁকির মুখে ফেলবে। স্বল্পমেয়াদী সুবিধার জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। এর চেয়ে Payoneer বা Wise-এর মতো বৈধ মাধ্যম ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য।
How to get it easily you know that...?
if your need PayPal account just comment us