08/08/2026
হাফিজ সাহেব 'র এর একজন দুর্ধর্ষ এজেন্ট। বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট পদে ভারত এমন একজন ব্যক্তিকেই চাইবে। এই ব্যক্তি ভবিষ্যতে জরুরি মুহুর্তে চুপ্পুর মত ভারতের সবকথা শুনবে এবং সামনের নির্বাচনে বিএনপিকে ক্ষমতায় যেতে সাহায্য করবে।
হাফিজ সাহেব কিভাবে ভারতের এজেন্ট?
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে যে ক্যু হয়েছিল সেটার পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন মেজর হাফিজ। আর আমরা সবাই জানি খালেদ মোশাররফ ভারতের সমর্থন নিয়ে এই ক্যু করেছিলেন। এই ক্যু ছিল আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার ক্যু।
যে ক্যু এর মাধ্যমে সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান এবং তার পরিবারকে অবরুদ্ধ করা হয় তার প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন মেজর হাফিজ সাহেব। তিনি নিজে স্বীকার করেছেন এই ক্যু এর প্রধান মানুষ তিনি ছিলেন। এই ক্যু তে রক্ষী বাহিনী থেকে সেনাবাহিনীতে আসা লোকজন বেশি অংশ নেয় এবং এদেরকে যুক্ত করেন মেজর হাফিজ।
প্রথম আলো প্রকাশিত মেজর হাফিজের একটা বই আছে " সৈনিক জীবন: গৌরবের একাত্তর রক্তাক্ত পঁচাত্তর’"। মেজর হাফিজের বই প্রকাশ করেছে প্রথম আলো। ভাবা যায়! তাহলে এই বইয়ে নিশ্চয়ই এমন কিছু কন্টেন্ট থাকবে যেটা আওয়ামী লীগের পক্ষে যায়। বিএনপির একজন মানুষকে দিয়ে যদি কিছু বিকৃত ইতিহাস লেখানো যায়, তাহলে সেটা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। বইটি ২০২০ সালে আওয়ামী লীগের সময় প্রকাশিত হয়।
এই বইয়ে তিনি বলেছেন - অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট মুজিবকে হত্যা করা হয়েছিল। যেসব সেনা অফিসার মুজিবকে উৎখাত করেছিল তাদেরকে তিনি খুনি বলেছেন।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ক্যু ব্যর্থ হলে মেজর হাফিজকে গণভবনে আটক রাখা হয়। সেখান থেকে তিনি পালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পালিয়ে যান এবং ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটা ব্যাটালিয়নে যোগ দিয়ে নিজেকে সেটার অধিনায়ক ঘোষণা করেন। তারপর সেখানকার কিছু সৈনিকদের হাত করে তাদেরকে দিয়ে দাবি তোলান - মেজর হাফিজকে এই ব্যাটালিয়নের কমান্ডার হিসেবে পোস্টিং দিতে হবে। কি আবদার! কোর্ট মার্শালে যার মৃত্যু দন্ড হওয়ার কথা সে তখন মজার দাবি তুলছে।
জেনারেল এরশাদের ক্ষমতায় আসা এবং তার রাজনৈতিক দল গঠনের সম্পূর্ণটাই হয়েছিল 'র এর সহযোগিতায়। পরবর্তীতে মেজর হাফিজ এই জাতীয় পার্টি সরকারের একজন এমপি ছিলেন।
হাফিজ সাহেব ভীষণ চতুর। কোন ধরনের কথা মানুষ পছন্দ করে সেটা তিনি খুব ভালো বোঝেন। নতুন কথা দিয়ে তিনি পূর্বের বিতর্কিত কথা খুব সহজে চাপা দিতে পারেন। বর্তমানে যেসব ভালো ভালো কথা বলছেন, সেটা শ্রেফ স্ট্যান্ডবাজি। লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা। এটা তিনি দলের নির্দেশেই করেছেন। তার বর্তমান কথা শুনে কি মনে হয়নি, যে সালাউদ্দিনের চেয়ে বেশি ক্ষমতা প্রদর্শন করছেন। কিন্তু এই ক্ষমতার উৎস কি? দল ক্ষমতা না দিলে কেউ ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে? সম্ভব না। বিএনপি জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বানানো। মির্জা ফখরুল আগে থেকেই বিতর্কিত। একারণেই মেজর হাফিজকে দিয়ে সুন্দর সুন্দর কথা বলিয়া তাকে প্রতিযোগিতার মধ্যে আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে এখন দুইজন টিকে আছেন। ফখরুল আর হাফিজ। হাফিজ সাহেব বর্তমানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। কিন্তু তাকে যদি স্থায়ী বানিয়ে দেওয়া হয় জনগণ ভালোই মনে করবে। তারা খুশি হবে এই ভেবে যে, অন্তত ফখরুলের চেয়ে অনেক ভালো। তাছাড়া জনগণ ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছে যে, ফখরুল ভারত পন্থী। তাকে প্রেসিডেন্ট বানালে বিএনপির জনপ্রিয়তা কমবে। আমেরিকার যদি হস্তক্ষেপ না করে, তবে মেজর হাফিজের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
এই তো কয়েকদিন আগে তিনি জাতীয় সংসদে বলেন-
“জুলাই সনদ নিয়ে একটা বিতর্ক করা হচ্ছে; এটার প্রয়োজন ছিল না।
তার লোক দেখানো অন্যসব কথার আড়ালে এই কথা চাপা পড়ে গেছে।
এর আগে তিনি বলেছিলেন -
"জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে যে ডিসিশন নেবে, সেটাই সবার গ্রহণ করা উচিত"
স্পিকার হওয়ার আগে (২০২৫ সালের নভেম্বর) তিনি বলেছিলেন, "আমাদের জুলাই সনদের প্রয়োজন নেই, একটি সংসদ প্রয়োজন, যারা গণতন্ত্র বাস্তবায়ন করবে।"
"উপদেষ্টাদের মতো কিছু লোকের জুলাই সনদ দরকার, জনগণের নয়।"
মেজর হাফিজ বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে, তাদের ভুলিয়ে দিতে এ অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে হ্রাস করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, ‘আজ ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনকে ঘিরে নানা ষড়যন্ত্র করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র হলে তা প্রতিহত করা হবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের স্বার্থে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বিএনপি অনেক কিছু মেনে নিয়েছে বলে জানান মেজর হাফিজ। তিনি বলেন, ‘সব দল যেসব বিষয়ে একমত হবে, তা নিয়ে সনদ হবে। আমরা ডিসেন্ট দেখতে চাই না। এখন প্রয়োজন সুষ্ঠু নির্বাচন, এবং ক্ষমতায় আসলে বিএনপি যৌক্তিক বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করবে।’
তিনি আরও বলেন, হাফিজ উদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনকে পিছিয়ে দেওয়া বা বানচালের চেষ্টা করছে। তিনি স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
২৮ আগস্ট ২০২৫ জাতীয় প্রেস ক্লাবে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের অধিকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের, অনির্বাচিত ব্যক্তিদের নয়। তিনি আরও বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদই ভবিষ্যৎ সংবিধান নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
২৮ আগস্ট ২০২৫ জাতীয় প্রেস ক্লাবে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের অধিকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের, অনির্বাচিত ব্যক্তিদের নয়। তিনি আরও বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদই ভবিষ্যৎ সংবিধান নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
O Allah, please save our Bangladesh and poor Needy people's lives and takecare of all bloody Munafek and Betrayer. Ameen!!!