15/07/2026
আন্দোলনকারী নয়, নিজ দলের কর্মীকে টুটি চেপে ধরেছিলেন ছাত্রদল নেতা!।
চলমান ছাত্র আন্দোলনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও নিয়ে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে। শুরুতে ভিডিওটি দেখে সাধারণ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা বা চড়াও হওয়ার ঘটনা মনে করা হলেও, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, কোনো সাধারণ আন্দোলনকারী নয়, বরং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে নিজ দলেরই এক কর্মীর টুটি চেপে ধরেছিলেন এক প্রভাবশালী ছাত্রদল নেতা।
নেটিজেনদের তীব্র সমালোচনা ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দেওয়া এই ঘটনার বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে মারমুখী রূপ
ভিডিওটিতে দেখা যায়, আন্দোলন চলাকালীন একটি মিছিল বা জমায়েতের পেছনে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ওই ছাত্রদল নেতা হঠাৎই ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁরই এক সহকর্মীর গলা চেপে ধরেন। পাশে থাকা অন্য কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও নেতার মারমুখী আচরণ ক্যামেরাবন্দী হয়ে যায়।
* ভুল তথ্যের ছড়াছড়ি: ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর প্রথমে গুঞ্জন ওঠে যে, আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের দমাতেই হয়তো এই বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও দলের ভেতরের সূত্র নিশ্চিত করে যে, এটি সম্পূর্ণই তাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের ফল।
* নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া: ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটলেও নেটিজেনরা এই আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। অনেকেই মন্তব্য করছেন যে, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যেখানে সবাই শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে, সেখানে প্রকাশ্য দিবালোকে নিজ দলের কর্মীর ওপর এমন সহিংস আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত
> দলীয় সূত্র জানায়: "উক্ত নেতার এই অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটির নজরে এসেছে এবং ইতিমধ্যেই এর পেছনে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি রাজনৈতিক উস্কানি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ মিললে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
>
চলমান ছাত্র আন্দোলনের এই সংবেদনশীল সময়ে এমন একটি ভিডিও প্রকাশ পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। একদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রাজপথে অনড়, ঠিক তখনই বিরোধী ছাত্রসংগঠনের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মুখরোচক আলোচনার জন্ম দিচ্ছে।