Let's Know

Let's Know News and Infotainment

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিপুল বিজয়ের পর ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৫তম মন্ত্রিসভার প্রধানমন্ত্রী হিসে...
03/09/2026

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিপুল বিজয়ের পর ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৫তম মন্ত্রিসভার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। দীর্ঘ নির্বাসন ও আইনি লড়াই শেষে তাঁর এই ক্ষমতায় আরোহন দেশের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। তবে ক্ষমতায় আসার পরও তাঁর রাজনৈতিক সমীকরণ ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিশিষ্ট কবি, চিন্তক ও কলামিস্ট ফরহাদ মজহারের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে। ছবিতে উল্লেখিত তাঁর বক্তব্য: "আজকে আমি তারেকের জন্য খুবই চিন্তিত। তাঁর কোনো ক্ষমতা নেই। তাঁকে বসিয়ে রাখা হয়েছে।" প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের এই নতুন প্রেক্ষাপটে ফরহাদ মজহারের এই উক্তির অন্তর্নিহিত গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা বনাম কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ
তারেক রহমান বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং সরকার প্রধান হলেও ফরহাদ মজহারের এই "চিন্তা" বা "উদ্বেগ" ক্ষমতার গভীর কাঠামোগত সংকটকে নির্দেশ করে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াগুলোর কারণে সরকারের প্রধান নির্বাহী হিসেবে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এখনো নানা দৃশ্যমান বা অদৃশ্য বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ফরহাদ মজহার সম্ভবত সেই প্রশাসনিক স্থবিরতা এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতার দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

২. "তাঁকে বসিয়ে রাখা হয়েছে"—এর নেপথ্য অর্থ

প্রধানমন্ত্রী পদে থাকা সত্ত্বেও এই উক্তিটির রাজনৈতিক অর্থ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে:

• ভূ-রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপ: ক্ষমতার শীর্ষে এলেও বাংলাদেশ যে গভীর অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তাতে নীতিনির্ধারণী অনেক সিদ্ধান্ত নিতে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পক্ষের সাথে আপস বা সমঝোতা করতে হয়। [5]
• সংস্কারের ধীরগতি: গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের যে আমূল সংস্কারের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকারের অধীনে তা হয়তো ফরহাদ মজহারের মতো মুক্ত চিন্তকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীকে চারপাশে থাকা বিভিন্ন কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহল এক প্রকার নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে "সীমাবদ্ধ" বা "বসিয়ে" রেখেছে—এমন আশঙ্কাও এখানে প্রকাশ পেয়ে থাকতে পারে।

৩. তারেক রহমানের বর্তমান নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তারেক রহমান ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের মতো বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা বলে আসছেন। ফরহাদ মজহারের এই বক্তব্যটি মূলত একজন শুভাকাঙ্ক্ষী বা কড়া সমালোচকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এক ধরনের সতর্কবার্তা। এটি মনে করিয়ে দেয় যে, কেবল প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসাই চূড়ান্ত ক্ষমতা নয়; রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার গভীরে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিবাদী বা আমলাতান্ত্রিক জট উপড়ে ফেলে সত্যিকারের জনবান্ধব ও স্বাধীন ক্ষমতার চর্চা নিশ্চিত করাই এখন তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

ফরহাদ মজহারের এই মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থার একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ। এটি প্রকাশ করে যে, দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে আসীন হওয়ার পরও কীভাবে রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সমীকরণগুলো একজন নেতাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলতে পারে। এই সীমাবদ্ধতা ও "বসিয়ে রাখা"র জাল ছিন্ন করে তারেক রহমান কীভাবে তাঁর পূর্ণ রাজনৈতিক রূপরেখা বাস্তবায়ন করবেন, তার ওপরই নির্ভর করছে বর্তমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলা।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা কৃতী সন্তানদের মূল্যায়নে রাষ্ট্রীয় চরম বৈষম্যের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে জোরা...
03/09/2026

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা কৃতী সন্তানদের মূল্যায়নে রাষ্ট্রীয় চরম বৈষম্যের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে জোরালো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রখ্যাত নেতা ও সংসদ সদস্য ড. শফিকুর রহমান মাসুদ।

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের শতাধিক দেশকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের হাফেজদের গৌরবময় অর্জনের পর তাঁদের প্রতি রাষ্ট্রীয় উদাসীনতা এবং এর বিপরীতে ক্রিকেটারদের বিপুল পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তাঁর দেওয়া এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ঝড় তুলেছে।

"ক্রিকেটে ভালো করলে গাড়ি-বাড়ি, হাফেজদের কী দেওয়া হলো?"

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ড. শফিকুর রহমান মাসুদ দেশের ক্রীড়া ক্ষেত্র ও ধর্মীয় মেধার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন:
"ক্রিকেটে ভালো করলে গাড়ি-বাড়ি, ১৩৩ দেশকে পেছনে ফেলে কোরআন তেলোয়াতে ফার্স্ট হওয়াদের কী দেওয়া হলো?"
তাঁর এই প্রশ্নটি মূলত দেশের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষের মনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং রাষ্ট্রের মেধা মূল্যায়নের বৈষম্যমূলক মানসিকতার এক বাস্তব চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নে আকাশ-পাতাল তফাত

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় (যেমন দুবাই, কুয়েত বা সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত বিশ্বমঞ্চে) বাংলাদেশের খুদে হাফেজরা প্রায়ই প্রথম বা শীর্ষ স্থান অধিকার করে আসছে। ১৩৩ বা তারও বেশি দেশের বিশ্বসেরা প্রতিযোগীদের হারিয়ে লাল-সবুজের পতাকাকে তারা বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই বিশ্বজয়ী হাফেজরা যখন বিমানবন্দরে পা রাখেন, তখন তাঁদের স্বাগত জানাতে কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি বা ক্রীড়া মন্ত্রীর মতো বড় কোনো আয়োজন থাকে না। তাঁরা নীরবেই দেশে ফেরেন এবং কোনো রকম বড় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বা আর্থিক অনুদান ছাড়াই মাদ্রাসার চার দেওয়ালে হারিয়ে যান।
এর বিপরীতে, ক্রিকেট বা অন্য কোনো খেলায় জাতীয় দল সামান্য ভালো পারফর্ম করলেই সরকারের পক্ষ থেকে কোটি কোটি টাকার নগদ অর্থ, ফ্ল্যাট বা প্লট উপহার দেওয়ার হিড়িক পড়ে যায়। জামায়াত নেতার মতে, মেধার মূল্যায়নে এই ধরনের আকাশ-পাতাল পার্থক্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

ড. মাসুদের বক্তব্যের মূল দাবি ও তাৎপর্য:

• মেধার সম-মূল্যায়ন: খেলাধুলার পাশাপাশি যারা দ্বীনি শিক্ষা ও মেধা দিয়ে বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করছে, তাঁদেরও সমান মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় ধরনের পুরস্কার দেওয়া উচিত।
• সাংস্কৃতিক দৈন্যতার অবসান: শুধু একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রকে অতি-পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে অন্য ক্ষেত্রকে অবহেলা করা একটি স্বাধীন দেশের সাংস্কৃতিক ও নৈতিক দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ।
• ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা: বিশ্বজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে গাড়ি, বাড়ি বা বড় অঙ্কের বৃত্তি দিলে দেশের লাখ লাখ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আরও বেশি উৎসাহিত হবে, যা দেশে একটি সুনাগরিক ও নৈতিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।

সংসদে ড. শফিকুর রহমান মাসুদের এই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর কেবল জামায়াতের বক্তব্য নয়, এটি দেশের সর্বস্তরের তাওহীদি জনতার প্রাণের দাবি। একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রে মেধার মূল্যায়ন হওয়া উচিত কাজের গুরুত্ব এবং অর্জনের বিশালতার ওপর ভিত্তি করে, কোনো সস্তা জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে নয়। বিশ্বজয়ী হাফেজদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ সম্মাননা ও উপযুক্ত জীবনযাত্রার সুবিধা দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত দুই দশকে অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী চরিত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সাম্প্রতিক...
03/09/2026

বাংলাদেশের রাজনীতিতে গত দুই দশকে অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী চরিত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দল পরিচালনা এবং ব্যক্তিগত সাধারণ জীবনযাপনের স্টাইল রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই বিষয়ে টেলিভিশন টকশো এবং গণমাধ্যমে নিজের চমৎকার মূল্যায়ন তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শাহেদ আলম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তাঁর একটি পর্যবেক্ষণ দেশীয় রাজনীতিতে নেতাদের মানসিক পরিবর্তনের এক নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

"আমরা দুজনেই একই আল্লাহর সৃষ্টি"

দীর্ঘ প্রবাস জীবন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারেক রহমানের মাঝে যে এক ধরনের বিনয় ও মাটির কাছাকাছি থাকার মানসিকতা তৈরি হয়েছে, তা তুলে ধরে সাংবাদিক শাহেদ আলম বলেন:
"তারেক রহমান ড্রাইভারের পাশের সিটে বসেন, তিনি মনে করেন তিনি ও তার ড্রাইভার একই আল্লাহর সৃষ্টি। এই যে বোধ, এটাও কিন্তু একটা মানসিক পরিবর্তন।"

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে উচ্চপর্যায়ের ভিআইপি বা রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা গাড়ির পেছনের সিটে আয়েশ করে বসেন, যা একটি সামন্ততান্ত্রিক বা ক্ষমতা জাহির করার মানসিকতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু তারেক রহমানের সামনের সিটে বসার এই সাধারণ অভ্যাসটি তাঁর অহংকারহীনতা এবং সাধারণ মানুষের সমান স্তরে নিজেকে দেখার এক মানসিক রূপান্তরকে নির্দেশ করে।

ক্ষমতার বলয় ভেঙে সাধারণের কাতারে

শাহেদ আলমের এই পর্যবেক্ষণটি মূলত তারেক রহমানের সামগ্রিক "পলিটিক্যাল রিব্র্যান্ডিং" বা রাজনৈতিক ভাবমূর্তি পরিবর্তনের একটি অংশ। ওয়ান-ইলেভেনের পটভূমি এবং দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে গিয়ে তারেক রহমান রাজনীতি ও জীবনকে ভিন্নভাবে উপলব্ধি করতে শুরু করেছেন।
• সামাজিক সমতা: নিজের গাড়িচালক বা সাধারণ কর্মীদের সাথে দূরত্ব বজায় না রেখে তাঁদের সমান ভাবার এই মানসিকতা তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মাঝে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
• ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান: বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে চলে আসা 'ভিআইপি কালচার' বা বিশেষ সুবিধা নেওয়ার যে সংস্কৃতি রয়েছে, তারেক রহমানের এই আচরণ তার বিরুদ্ধে এক নীরব বার্তা।

রাজনীতিতে এর গভীর প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো নেতার এই ধরনের ব্যক্তিগত পরিবর্তন শুধু তাঁর নিজের ইমেজের জন্যই ইতিবাচক নয়, বরং তা দলের নেতা-কর্মীদের মনস্তত্ত্বেও বড় প্রভাব ফেলে। তারেক রহমান যখন একজন গাড়িচালককে নিজের মতোই আল্লাহর সমান সৃষ্টি হিসেবে বিবেচনা করেন, তখন তা দলের অন্যান্য প্রভাবশালী নেতাদেরও অহংকার ভুলে সাধারণ মানুষের সাথে মিশে যাওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। বিএনপির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শনে এই "মানসিক পরিবর্তন" এক বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাংবাদিক শাহেদ আলমের এই সংক্ষিপ্ত পর্যবেক্ষণটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, প্রকৃত নেতৃত্ব কেবল ক্ষমতার দাপট বা ভাষণের চাতুর্যে প্রকাশ পায় না; তা প্রকাশ পায় মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং অন্তরের বিনয়ে। তারেক রহমানের এই যাপনশৈলী যদি বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে তা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এক দারুণ ইতিবাচক দিক হবে।


সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা দিলেও, দেশের সাধ...
03/09/2026

সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা দিলেও, দেশের সাধারণ জনগণের মনে জন্ম নিয়েছে এক বড় ধরনের অর্থনৈতিক আশঙ্কা। এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও সিনিয়র আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া তাঁর একটি বক্তব্য দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি ও সাধারণ নাগরিকদের অধিকারের ক্ষেত্রে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


"১৮ কোটি মানুষকে চুষবেন"

নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪০ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সিনিয়র আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকী তাঁর বক্তব্যে বলেন:
"১০০-১৪০ ভাগ বেতন বাড়িয়ে ১৮ লক্ষ মানুষকে সুবিধা দিচ্ছেন। এজন্য তো ১৮ কোটি মানুষকে চুষবেন।"

তাঁর এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু ঝাঁঝালো মন্তব্যটি দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সাধারণ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নিত্যদিনের জীবন সংগ্রামের এক নগ্ন প্রতিফলন।

বৈষম্য বনাম অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা

অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, আবু হেনা রাজ্জাকীর এই আশঙ্কার পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে সরকারের বার্ষিক অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় ১,০৫,৫৮০ কোটি টাকা। এই বিশাল অঙ্কের অভ্যন্তরীণ ব্যয় মেটানোর জন্য সরকারকে মূলত জনগণের ট্যাক্স বা রাজস্বের ওপরই নির্ভর করতে হবে।


দেশের একটি বিশাল অংশ যখন ক্রমাগত উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে জীবনযাত্রার মান বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন মাত্র ১৮ লক্ষ সরকারি চাকরিজীবীর বেতন দ্বিগুণ বা তার চেয়ে বেশি করাকে অনেকেই ভালো চোখে দেখছেন না। এই সিদ্ধান্ত দেশের দুই শ্রেণীর কর্মজীবী মানুষের মধ্যে বৈষম্যের দেয়াল আরও প্রকট করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সাধারণ মানুষের ওপর যে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে:

• ট্যাক্স ও ভ্যাটের চাপ বৃদ্ধি: অতিরিক্ত ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি খরচের জোগান দিতে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর নতুন করে কর, ভ্যাট বা শুল্কের বোঝা চাপানো হতে পারে।

• বাজারের মূল্যস্ফীতি: সরকারি কর্মকর্তাদের এককালীন মোটা অঙ্কের বেতন বৃদ্ধির ফলে বাজারে প্রচুর অর্থের জোগান বাড়বে। এর ফলে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বা দ্রব্যমূল্য আরও বাড়তে পারে, যার সরাসরি খেসারত দিতে হবে সাধারণ ১৮ কোটি মানুষকে।

• দুর্নীতির ধারা অপরিবর্তিত থাকা: অনেক নাগরিক মনে করেন, কেবল বেতন বাড়িয়ে দিলেই প্রশাসনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ঘুষ-দুর্নীতি কমে যাবে না। ফলে সাধারণ মানুষ টাকা দিয়েও আগের মতোই সরকারি সেবা পেতে ভোগান্তির শিকার হবে, অন্যদিকে করের বোঝাও বইবে।

সিনিয়র আইনজীবী আবু হেনা রাজ্জাকীর এই কঠোর বক্তব্য মূলত একটি কল্যাণকামী রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও সমতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। একটি দেশের নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তের সুবিধা যদি মাত্র ১ শতাংশ মানুষের ভাগ্য বদলায় এবং এর বোঝা যদি বাকি ৯৯ শতাংশ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ওপর বর্তায়, তবে তা টেকসই অর্থনীতির লক্ষণ নয়। সরকারের উচিত পে-স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি সাধারণ ১৮ কোটি মানুষের করের বোঝা লাঘব এবং বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট উদ্যোক্তা মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদাত বার্ষ...
03/09/2026

ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬: দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট উদ্যোক্তা মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-এর সভাপতি ও বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতা আবু সালেহ আকন। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি মীর কাসেম আলীর গণমাধ্যম-বান্ধব নীতি এবং বিগত সরকারের আমলে গণমাধ্যমের ওপর নেমে আসা সংকটের চিত্র তুলে ধরেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি সংবেদনশীলতা

সাংবাদিক আবু সালেহ আকন তাঁর পোস্টে অতীত কর্মজীবনের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, একবার 'নয়া দিগন্ত' পত্রিকার সাংবাদিক ও কর্মচারীদের বেতন পেতে মাত্র দুদিন দেরি হয়েছিল। বিষয়টি জানার সাথে সাথেই দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান মীর কাসেম আলী অ্যাকাউন্টস চিফকে ডেকে কৈফিয়ত তলব করেন এবং সেই দিনের মধ্যেই বেতন পরিশোধের নির্দেশ দেন। তাঁর এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের কারণে সেদিনই সব গণমাধ্যমকর্মী তাঁদের বকেয়া বেতন পেয়ে যান। কাসেম আলীর এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ কর্মীদের অধিকার রক্ষায় তাঁর আন্তরিকতারই প্রমাণ বহন করে।

গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় অবদান ও রাজনৈতিক বৈরিতা

পোস্টে উল্লেখ করা হয়, মীর কাসেম আলী দেশে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের অপরিসীম গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। এই লক্ষ্যেই তিনি একটি বিশাল মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন 'দিগন্ত মিডিয়া কর্পোরেশন'। যার অধীনে দৈনিক নয়া দিগন্ত এবং দিগন্ত টেলিভিশন পরিচালিত হতো। এর পাশাপাশি একটি ইংরেজি দৈনিক, অনলাইন পোর্টাল ও রেডিও স্টেশন চালুর উদ্যোগও নিয়েছিলেন তিনি।

আবু সালেহ আকন দাবি করেন, স্বাধীন গণমাধ্যমের এই বিকাশ ও সত্য প্রকাশের সাহসী উদ্যোগের কারণেই তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রোষানলে পড়েন মীর কাসেম আলী। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সাংবাদিক নেতা তাঁর পোস্টে এই বিচারকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও 'জালেম সরকারের অবিচার' হিসেবে অভিহিত করেছেন। একই সাথে মীর কাসেম আলীর সন্তান ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানকে দীর্ঘদিন আয়নাঘরে বন্দী রেখে পুরো পরিবারকে বিপর্যস্ত করার সমালোচনাও করেন তিনি।

বর্তমান সংকট ও শূন্যতা

মীর কাসেম আলীর অনুপস্থিতিতে এবং বিগত সরকারের দমনপীড়নে দিগন্ত টেলিভিশন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দৈনিক নয়া দিগন্তের অর্থনৈতিক অবস্থা রুগ্ন হয়ে পড়ে। পোস্টে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, বর্তমানে নয়া দিগন্তের সাংবাদিক ও কর্মচারীরা মাসের পর মাস বেতন পাচ্ছেন না। অথচ আজ এমন কোনো অভিভাবক বা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব নেই, যিনি অ্যাকাউন্টস চিফকে ডেকে কৈফিয়ত চাইবেন—কেন সাংবাদিকদের বেতন আটকে আছে বা তাঁদের সংসার কীভাবে চলবে।

সবশেষে সাংবাদিক নেতা আবু সালেহ আকন মীর কাসেম আলীর ১০ম শাহাদাত বার্ষিকীতে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর 'শহীদি মর্যাদা'র জন্য দোয়া প্রার্থনা করে পোস্টটি শেষ করেন। এই পোস্টটি বর্তমান গণমাধ্যম পাড়ায় সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা এবং অতীতের গণমাধ্যম-বান্ধব মালিকানার একটি তুলনামূলক চিত্র হিসেবে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম তার ফেসবুক আইডিতে ‘স্বপ্নচারী তিন প্রজন্ম’ শিরোনামে এক...
03/09/2026

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম তার ফেসবুক আইডিতে ‘স্বপ্নচারী তিন প্রজন্ম’ শিরোনামে একটি বিশেষ পোস্ট শেয়ার করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক কর্মপরিষদ সদস্য এবং সমাজসেবক মীর কাসেম আলীর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এই পোস্টে তিনি সংগঠনের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্ন এবং লক্ষ্যের এক গভীর সংযোগ তুলে ধরেছেন।

পোস্টের সাথে তিনি মীর কাসেম আলীর একটি প্রতীকী ছবি যুক্ত করেন, যা নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

পূর্বসূরীদের দেখানো বিজয়ের স্বপ্ন

জাহিদুল ইসলাম তার পোস্টে তিন প্রজন্মের অবদানের কথা উল্লেখ করে লেখেন, তাদের পূর্বসূরীরা (মীর কাসেম আলীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ) সবসময় তাদের বিজয়ের স্বপ্ন দেখাতেন। প্রতিকূল ও কঠিন সময়েও সেই স্বপ্নের দিকে তাকিয়ে তারা কঠোর প্রহর গুনেছেন। এই বিজয়ের স্বপ্নই নেতাকর্মীদের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি ও সাহস যুগিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নবপ্রজন্মের প্রতি বার্তা ও অঙ্গীকার

সাবেক এই ছাত্রনেতা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি এক দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন:
• স্বপ্নের উত্তরাধিকার: বর্তমান প্রজন্ম হিসেবে তারা নবপ্রজন্মকে একটি পরিপূর্ণ বিজয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে যেতে চান।
• আজীবন সংগ্রাম: যতদিন শরীরে রক্তকণিকা প্রবাহমান থাকবে, ততোদিন সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে স্বপ্নের পথে হেঁটে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
• ভবিষ্যতের বিজয়: তিনি আশা প্রকাশ করেন, তাদের দেখানো স্বপ্নের হাত ধরে হয়তো কোনো এক নতুন প্রজন্ম সত্যিকারের বিজয়ের স্বাদ মানবতাকে উপহার দেবে।

‘হয় বিজয়, নতুবা শাহাদাত’

পোস্টে তিনি সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি ও আদর্শিক লক্ষ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, রাহবারদের (নেতৃবৃন্দের) দেখানো স্বপ্ন তাদের কখনও ক্লান্ত হতে দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেবে না। নেতাকর্মীদের সামনে স্পষ্ট দুটি লক্ষ্য রয়েছে—হয় বিজয়, নতুবা শাহাদাত। জাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তাদের মূল গন্তব্য এই পার্থিব পৃথিবী নয়, বরং এক জান্নাতী সোনার তোরণের দিকে।

মীর কাসেম আলীর অবদান স্মরণ

পোস্টের শেষ অংশে তিনি মীর কাসেম আলীকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, “শহীদ মীর কাসেম আলী (রহ.) ছিলেন আমাদের স্বপ্নের বীজ বপনের অন্যতম রাহবার।” সবশেষে তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন মীর কাসেম আলীর সাথে জান্নাতে মিলিত হওয়ার তাওফিক দান করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাহিদুল ইসলামের এই ফেসবুক পোস্টটি কেবল মীর কাসেম আলীর সাধারণ কোনো স্মৃতিচারণ নয়। এটি মূলত ছাত্রশিবির ও ইসলামী আন্দোলনের তরুণ কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া একটি সুদূরপ্রসারী বার্তা। এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়েছেন যে, দীর্ঘ এক দশক পরেও মীর কাসেম আলীর আদর্শ ও বিজয়ের স্বপ্ন নতুন প্রজন্মের মাঝে একইভাবে বহমান রয়েছে।

জামায়াতে যোগ দেয়ায় কি বিচারপতি শাহিদুর রহমানের অপরাধ?=========অনেক গণমাধ্যমে গত দুই দিন থেকে সাবেক এক বিচারপতিকে নিয়ে আল...
03/09/2026

জামায়াতে যোগ দেয়ায় কি বিচারপতি শাহিদুর রহমানের অপরাধ?
=========

অনেক গণমাধ্যমে গত দুই দিন থেকে সাবেক এক বিচারপতিকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। গণমাধ্যমগুলোর রিপোর্টে বলা হচ্ছে- ঘুষ গ্রহণের সন্দেহে ২০০৪ সালে অপসারিত হাইকোর্টের সাবেক অতিরিক্ত বিচারক সৈয়দ শাহিদুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন।

এখন গণমাধ্যমে যেসব তথ্য দিয়ে খবরটিকে যেভাবে রাঙায়িত করা হচ্ছে, তাতে অবাক হচ্ছেন বাংলাদেশের বহুল পরিচিত অনুসন্ধানী সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান।


প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে এই প্রথীতযশা ও আলোচিত সাংবাদিক বলেন- “একটি রাজনৈতিক দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে এমন প্রচারণা দেখে হাসি পাচ্ছে। তার ঘটনাটি আমার চাইতে কেউ হয়তো বেশি জানার কথা নয়। ঘটনার শুরুতে ছিলাম ইনকিলাবে। শেষে ছিলাম আমার দেশ-এ। দুই পত্রিকায় অসংখ্য রিপোর্ট লিখেছি।

তিনি বলেন- “এটা ছিল তখন আওয়ামী ক‍্যাডার রোকন উদ্দিন মাহমুদের ষড়যন্ত্র। বর্তমান আইনমন্ত্রীও ছিলেন এটার পার্ট। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের রিপোর্টে স্পষ্ট করেই উল্লেখ করা হয়েছিল অভিযোগের সত‍্যতা প্রমাণিত হয়নি।

তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে লিখেছেন- তারপরও আওয়ামীদের ভয়ে তাকে অপসারণ করা হয়।

এই সাংবাদিক জানান, তিনি (বিচারপতি) হাইকোর্টে মামলা করেন। মামলার সময় হাইকোর্ট তার কাছে জানতে চায় এই রিপোর্ট তিনি কোথায় পেয়েছেন। তখন শাহেদুর রহমান এফিডেভিট করে আমার নাম বলেছিলেন। কোর্ট ডাকলে আমাকে গিয়ে সত‍্যতা প্রমাণ করতে হতো। হাইকোর্ট তার পক্ষে রায় দেয়। তারপরও তাকে বিচারকের আসন দেওয়া হয়নি।

অলিউল্লাহ নোমান তার স্ট্যাটাসে হাইকোর্টের রায় পর্যন্ত ঘটনার বিবরণ দিলেও, দেশের নেটিজেন এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এই স্ট্যাটাসের নিচে ভিন্ন তথ্য ও আইনি যুক্তি তুলে ধরছেন। নেটিজেনদের মন্তব্য অনুযায়ী, হাইকোর্ট শাহিদুর রহমানের পক্ষে রায় দিলেও পরবর্তী সময়ে আইনজীবী ইদ্রিসুর রহমানের আপিলের প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়টি বাতিল করে দেয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপতির অপসারণের সিদ্ধান্তকেই বহাল রেখেছিল, যার ফলে শাহিদুর রহমানের বিচারক পদে ফেরার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাবেক বিচারপতি শাহিদুর রহমান মূলত দলটির আদর্শ এবং সততায় মুগ্ধ হয়ে এবং গবেষণা করার পর একজন সহযোগী সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার পুরনো অপসারণের বিষয়টিকে সামনে এনে জামায়াতের নৈতিকতার মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এই রেষারেষির মাঝে সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমানের এই স্ট্যাটাসটি প্রমাণ করে যে, দুই দশক পুরনো একটি বিচারবিভাগীয় অপসারণের ঘটনা আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে কতটা সংবেদনশীল এবং তীব্র বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

স্কাইপ কেলেঙ্কারি ও দেশত্যাগ

২০১২ সালের শেষদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন প্রধান বিচারপতির সাথে একজন আইন বিশেষজ্ঞের স্কাইপ কথোপকথন ফাঁস হয়। অলিউল্লাহ নোমান এই ‘স্কাইপ কেলেঙ্কারি’র তথ্য ও বিবরণ ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি প্রকাশের পর সরকারি কোপানল ও আইনি নিপীড়নের ভয়ে ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে যুক্তরাজ্যে (ব্রিটেন) রাজনৈতিক আশ্রয় নেন এবং দীর্ঘ সময় নির্বাসিত জীবন কাটান।

দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবশেষে সুস্থ হয়ে জাতীয় সংসদে ফিরে এলেন। সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েই মানুষ...
03/09/2026

দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অবশেষে সুস্থ হয়ে জাতীয় সংসদে ফিরে এলেন। সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়েই মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দেশ ও জাতির জন্য কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস।

তিনি বলেছেন, ‘আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করার জন্য।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘সংসদের আমার সকল দীর্ঘদিনের রাজনীতি সহকর্মী ভাইদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনারা হয়তো জানেন, আমি প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস চিকিৎসাধীন আছি। আমার নির্বাচনের পর পর কোনো এক মিটিংয়ে আমার গুরুত্বর স্ট্রোক আক্রান্ত হই। তারপর থেকে আমি বিদেশে চিকিৎসাধীন ছিলাম। ছিলাম বললে, ভুল হবে; এখনো আছি।’

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে এসব কথা বলেন মির্জা আব্বাস। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে সংসদের কার্যক্রমে নিয়মিত অংশ নিতে না পারার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অসুস্থতার সময় তার খোঁজখবর নেওয়া এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সহকর্মী সংসদ সদস্য ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

‘নেহায়েতেই আবেগ-ভালোবাসা’ থেকে ফিরেছেন জানিয়ে ঢাকা-৮ আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, ‘আমার চিকিৎসা এখনো শেষ হয় নাই। আজকের দিনটি আমার রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন এবং স্মরণীয় একটি দিন। ২০০৬ সালের পর আজ জাতীয় সংসদের এই পবিত্র কক্ষে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এর চেয়ে আনন্দের গর্বের মুহূর্ত আর কি হতে পারে!’

‘এই কঠিন সময় যারা আমাকে আমার জন্য দোয়া করেছেন, খোঁজখবর নিয়েছেন, পাশে থেকেছেন—তাদের প্রত্যেকের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের এই ভালোবাসা ও আন্তরিক কথা আমি কোনদিন ভুলবো না’- উল্লেখ করেন মির্জা আব্বাস।

তিনি আরো বলেন- ‘আজ মহান সংসদে ফিরে এসে আমার মনে হচ্ছে রাজনীতি শুধু মতপার্থক্যের মধ্যে নয়, রাজনীতি মানুষের জন্য; সংসদ বিতর্কের জন্য নয়। এটি মানুষের আশাঙ্কার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।’

নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষ এবং দেশের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করি। তিনি যেন আমাকে সুস্থতা ও শক্তি দেন; যাতে আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য, বাংলাদেশের মানুষের জন্য অবশিষ্ট সময় বাকি আর সময়টুকু আরও নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারি।

২০০৬ সালের পর আবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাওয়াকে নিজের রাজনৈতিক জীবনের অত্যন্ত আবেগঘন ও স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ‘আজ এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমি শুধু এই কথা বলতে চাই, আমি ফিরে এসেছি মানুষের কাছে, মানুষের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য কাজ করার জন্য।’

বক্তব্যের শেষে দেশবাসীর কাছে নিজের সুস্থতার জন্য দোয়া চান মির্জা আব্বাস। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বেঁচে থাকা সময়টুকুতে যেন দেশ ও জাতির জন্য কিছু করতে পারেন, সে জন্য সবার দোয়া কামনা করছেন।
উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় প্রায় পাঁচ মাস চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান তিনি।

উল্টোপথে বেপরোয়া মন্ত্রীর গাড়ি, ট্রাফিক পুলিশের সাহসী পদক্ষেপ এবং আইনের শাসন৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে রাজধানীর বুকে এক...
03/09/2026

উল্টোপথে বেপরোয়া মন্ত্রীর গাড়ি, ট্রাফিক পুলিশের সাহসী পদক্ষেপ এবং আইনের শাসন

৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে রাজধানীর বুকে এক নজিরবিহীন ও প্রশংসনীয় ঘটনার সাক্ষী হলো দেশবাসী। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে উল্টোপথে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোয় খোদ একজন শীর্ষ প্রভাবশালী মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির ট্রাফিক পুলিশের এই সাহসী ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়ে লিখেছেন, “এই ধরনের সাহস দেখানোর জন্য এই পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা দরকার।” তার এই স্ট্যাটাসটি সচেতন নাগরিকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং আইনের চোখে সবাই যে সমান, সেই প্রত্যাশাকে আরও দৃঢ় করেছে।

ঘটনার বিবরণ

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৮ মিনিটে রাজধানীর সার্কিট হাউজ রোডে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ব্যবহৃত সরকারি 'রেঞ্জ রোভার' (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৮-২১২৫) গাড়িটি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করে ভুল লেনে বা উল্টোপথে সচিবালয়ের দিকে যাচ্ছিল। সে সময় মন্ত্রী নিজেই গাড়িটির ভেতরে অবস্থান করছিলেন।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, মন্ত্রীর গাড়িটি যখন আইন অমান্য করে উল্টোপথে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই পাশের সড়ক দিয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব গাড়িবহর সচিবালয়ের অভিমুখে যাচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা কোনো দ্বিধা না করে মন্ত্রীর পতাকাবাহী বিলাসবহুল গাড়িটি থামিয়ে দেন।

মামলা ও জরিমানা

গাড়িটি থামানোর পর কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা চালককে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এভাবে উল্টোপথে এবং বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো ডিএমপি ট্রাফিক আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। পরবর্তীতে সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী মন্ত্রীর গাড়ির চালক আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক ধারায় মামলা করা হয়।

• মামলার সংখ্যা: ২টি (একটি উল্টোপথে গাড়ি চালানো এবং অন্যটি বেপরোয়া গতির জন্য)।
• মোট জরিমানা: প্রতি মামলায় ৩,০০০ টাকা করে সর্বমোট ৬,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

কেন এই ঘটনাটি নজিরবিহীন?

বাংলাদেশের ইতিহাসে অতীতেও বিভিন্ন সময় মন্ত্রী বা ভিআইপিদের গাড়ি যানজট এড়াতে কিংবা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে উল্টোপথে যাওয়ার খবর গণমাধ্যমে এসেছে। তবে ক্ষমতাসীন কোনো মন্ত্রীর গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক পুলিশের এভাবে সরাসরি অনস্পট মামলা দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম। ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত নজিরবিহীন এবং ঐতিহাসিক।

জনমনে প্রতিক্রিয়া এবং আইনজীবীর আহ্বান

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশকে নিয়ে ইতিবাচক চর্চা শুরু হয়েছে। অ্যাডভোকেট শিশির মনিরের মতো দেশের বিশিষ্ট নাগরিকরা মনে করছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে পক্ষপাতহীনভাবে এই ধরনের সাহসিকতার দৃষ্টান্ত বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। যেখানে খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী সাধারণ ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলছেন, সেখানে অন্য কোনো জনপ্রতিনিধি বা শীর্ষ কর্মকর্তার আইন ভাঙার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আইনজীবীর মন্তব্য অনুযায়ী, কর্তব্যরত সেই পুলিশ সদস্যদের যথাযথ পুরস্কার ও স্বীকৃতি দেওয়া হলে তা সাধারণ ট্রাফিক পুলিশদের মনোবল বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতে ভিআইপি সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে সড়কে সমতা আনতে বড় ভূমিকা পালন করবে।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ICT) অন্যতম প্রসিকিউটর এবং সুপ্রিম কোর্টের  আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলা...
03/09/2026

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (ICT) অন্যতম প্রসিকিউটর এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন- বিচারপতি নির্দোষ। তাকে দলে নিয়ে জামাতে ইসলামী এবং আমিরে জামাত কোন ভুল করেননি।

তিনি বলেন- এই বিচারকের জামাতে যোগদান নিয়ে সংবাদ যেভাবে উপস্থাপন বা প্রকাশ করা হচ্ছে তা মূলত তার চরিত্র হনন করার জন্য এবং জামায়াতে ইসলামীঅকে অবমূল্যায়ন করার জন্য করা হচ্ছে। এই ভদ্রলোক যখন অতিরিক্ত বিচারপতি হিসাবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নিযুক্তি লাভ করেন তখন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনয়ন করেন আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রোকন উদ্দিন সাহেব। তিনি অভিযোগ করেন নিযুক্ত বিচারক মহোদয় আইনজীবী থাকাকালে কোন একজন ব্যক্তিকে জজ সাহেবকে ঘুষ দিয়ে জামিন করিয়ে দিবেন।

অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম লিখেছেন- তার এই অভিযোগের ভিত্তিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি কেএম হাসান, বিচারপতি রুহুল আমিন এবং বিচারপতি ফজলুল করিম সাহেবকে নিয়ে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেন। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল তার রিপোর্টে জানান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্ধেহাতীতে ভাবে প্রমাণিত হয়নি। তবে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য তাকে অপসারণ করা দরকার। এই সুপারিশের ভিত্তিতে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুপারিশ এর ভিত্তিতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ওই ভদ্রলোককে বিচারক থেকে অপসারণ করেন।

তিনি আরো বলেন- বিচারক মহোদয় সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করলে হাইকোর্ট বিভাগ তার আবেদন শুনানি অন্তে তার অপসারণ আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী জনাব ইদ্রিস সাহেব আপিল বিভাগে আপিল দায়ের করেন। প্রথমে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে আওয়ামী সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৪ সদস্যের একটি বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশ বাতিল করে তার অপসারণ আদেশ বহাল রাখেন। তিনি জামাতে যোগদান করার কারণে জামাত এবং তার ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করার জন্য অধিকাংশ পত্র পত্রিকা এবং জামাত বিরোধী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে এই যোগদান কে ব্যঙ্গ করে প্রতিবেদন বা মন্তব্য প্রকাশ করা হচ্ছে।

অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম আরো বলেন- জামাত বা বিচারক সাহেবের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন প্রতিবাদ এসেছে কিনা তা আমার জানা নেই। অন্তত তামার চোখে পড়েনি। তবে আমি পত্রপত্রিকা, মহামান্য হাইকোর্টের রায়, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এর সুপারিশ সহ প্রতিবেদন এবং তৎকালীন মিডিয়া এবং এ বিষয়ে প্রকাশিত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে নিশ্চিত হয়েছি যে তিনি নির্দোষ। শুধুমাত্র তাকে এবং জামাতকে বিতর্কিত এবং হেয় করার জন্যই একশ্রেণীর ব্যক্তি এবং সংবাদ মাধ্যম ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ না দিয়ে শুধুমাত্র ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত এবং অপসারিত বিচারকের জামাতে যোগদান এর খবর সহ নানা ব্যাঙ্গাত্মক সংবাদ প্রকাশ করছে। ট্রল করছে। কটূ মন্তব্য করছে। কুমন্তব্য করছে। যার কোন বাস্তবতা একেবারেই ছিল না এবং নেই।

তিনি আরো বলেন- তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারী রোকনুদ্দিন মাহমুদ কোন দল করতেন। আপিল বিভাগের রায়দানকারী সুরেন্দ্র কণা সিনহা সাহেব আমাদের সকলেরই পরিচিত। তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমাদের সম্মুখ ধারণা আছে। তাই বলছি আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। বিচলিত হবেন না। আমি আমার আপনাদের বিবেচনার জন্য তুলে ধরলাম। সিদ্ধান্ত আপনাদের।

Address

Dhaka

Telephone

+8801713730113

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Let's Know posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Let's Know:

Shortcuts

Share