19/11/2025
ভাল্লুক আর দুই বন্ধুর ভয়ংকর রোমাঞ্চকর গল্প।
এক ছিল দুই বন্ধু—আদিল আর রাহিম। তারা দু’জন খুব সাহসী, তবে মাঝে মাঝে দুষ্টুমিও করত। একদিন তারা ঠিক করল যে তারা গ্রামের পাশের ঘন অরণ্যে যাবে, যেখানে নাকি রাতে বড় বড় জন্তুরা ঘোরাফেরা করে।
দুপুরবেলা তারা ব্যাগে খাবার নিয়ে রওনা হলো। বনটা প্রথমে ছিল শান্ত—পাখির ডাক, গাছের পাতার শব্দ—সব মিলিয়ে খুবই সুন্দর। রাহিম বলল,
— “এই বন তো মোটেও ভয়ংকর না!”
আদিল হাসল, “রাতে বুঝবে কী ভয়ংকর!”
কিছুদূর এগোতেই হঠাৎ চারপাশে নিস্তব্ধতা। পাখিরাও যেন থেমে গেল। হালকা একটা গর্জন শোনা গেল দূর থেকে।
গররররর…!
দু’জন থমকে দাঁড়াল।
“শোন! এটা কী?” রাহিম কাঁপা গলায় বলল।
আদিল ফিসফিস করে বলল, “আমার মনে হয়… এটা… ভাল্লুক!”
হঠাৎ গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল এক বিশাল কালো ভাল্লুক! তার চোখ দুটো লাল হয়ে জ্বলছে, দাঁতগুলো ভয়ংকর। সে ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগোতে লাগল।
রাহিম ভয় পেয়ে দৌড় দিতে চাইলো, কিন্তু আদিল তাকে ধরে ফেলল।
“দৌড়ালে আমাদের শেষ! চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাক!”
ভাল্লুক ক্রমেই কাছে আসছে… তার গর্জনে পুরো অরণ্য কাঁপছে…
ঠিক তখনই আদিল তার ব্যাগ থেকে মধুর বোতল বের করে আস্তে করে সামনে ছুঁড়ে দিল। ভাল্লুক সেটার গন্ধ পেতেই থেমে গেল।
সে বোতলটা ভেঙে মধু চেটে খেতে লাগল। এই সুযোগে দু’জন নিঃশব্দে পেছন দিয়ে গাছের আড়ালে সরে গেল।
“চলো! এখন দৌড়াই!”
দু’জন প্রাণপণে দৌড়াতে লাগল—হাঁপাতে হাঁপাতে বন থেকে বেরিয়ে গ্রামে ফিরে এল।
গ্রামের লোকজন শুনে অবাক! এত কাছ থেকে ভাল্লুক দেখে সুস্থ-সাডা ফেরা—এ তো রীতিমতো অলৌকিক!
রাতে আদিল আর রাহিম বলল,
— “আজ আমরা শিখেছি—বনে গেলে সতর্ক থাকতে হয়… আর কখনোই খাবার ছাড়া যাওয়া ঠিক নয়!”
আর গভীর বনের সেই ভয়ংকর ভাল্লুক? সে আবার মধুর গন্ধের অপেক্ষায় আছে…