18/09/2026
শামীম মোল্লা হ*ত্যা মামলা: দুই বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত, বিচারের অপেক্ষায় পরিবার
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লাকে ক্যাম্পাসে পি*টিয়ে হ*ত্যার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। পরিবার ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে।
২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শামীমকে পি*টিয়ে হ*ত্যা করা হয়। ৩৫ বছর বয়সী শামীম মোল্লা ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন।
হ*ত্যার পর ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা সুদীপ্ত শাহীন আশুলিয়া থানায় আট শিক্ষার্থী ও অজ্ঞাতপরিচয় ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
৯ অক্টোবর শামীমের বড় ভাই শাহীন আলম ঢাকার একটি আদালতে আরেকটি হ*ত্যা মামলা করেন। এতে সুদীপ্ত শাহীন, ডেপুটি রেজিস্ট্রার গাফরুল হাসান চৌধুরী ও প্রক্টর এ কে এম রাশিদুল আলমসহ ১২ জনকে আসামি করা হয়। আদালত পরে এই মামলাটি আগের মামলার সঙ্গে একীভূত করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নথি ও পুলিশ কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের করা মামলায় পিবিআই এখনো আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি। শাহীন আলমের করা মামলার নথিও এখনো পিবিআইয়ের কাছে পৌঁছায়নি।
শাহীন আলম বলেন, ‘আমি কয়েকবার আদালতে গিয়েছি। কিন্তু প্রতিবার সংশ্লিষ্ট আদালতকর্মীরা আমাকে বলেছেন, আমার করা মামলার কোনো নথি তাদের কাছে নেই। তারা আমাকে পিবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি আমাকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা মামলার নথি তারা পেয়েছেন। তবে অন্য মামলার নথি এখনো পাননি। আমার করা মামলার নথিই যদি খুঁজে না পাওয়া যায়, তাহলে ভাই হ*ত্যার ঘটনায় কীভাবে ন্যায়বিচার আশা করতে পারি?’
শাহীন অভিযোগ করেন, আসামিদের কয়েকজনের রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে পুলিশ নিষ্ক্রিয় রয়েছে।
শামীমের ৬৫ বছর বয়সী মা কোহিনুর বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে হ*ত্যার দুই বছর পার হয়ে গেছে, কিন্তু আমি এখনো ন্যায়বিচার পাইনি। আমরা কখনো শামীমকে কষ্ট দিইনি। অথচ তারা তাকে পি*টিয়ে হ*ত্যা করেছে। আমি তাদের কখনো ক্ষমা করব না। আমি আমার ছেলের হ*ত্যার বিচার চাই। যারা এর জন্য দায়ী, তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়েছে, তা দেখে যাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন বাঁচতে চাই।’
শাহীন জানান, শামীমের মৃত্যুর পর মা অস্বাভাবিকভাবে চুপচাপ হয়ে গেছেন। তিনি দিনের বেশিরভাগ সময় একা থাকেন এবং শামীমের কথা ভাবেন। ঘটনার পর থেকে তিনি প্রায় ঘুমানই না।
মামলায় ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের হোতাপাড়া থেকে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান রায়হান এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার তুরাগ থেকে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরেক আসামি আতিকুজ্জামান আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে এ তিনজন জামিনে আছেন।
অন্য পাঁচ আসামি—আহসান লাবিব, হামিদুল্লাহ সালমান, রাজন মিয়া, রাজু আহমেদ ও সোহাগ মিয়া পলাতক। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ২১ মার্চ থেকে লাবিব, সালমান, রাজন ও রাজুকে ক্যাম্পাসে দেখা গেছে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় পলাতক আসামিরা ক্যাম্পাসে অবাধে ঘোরাফেরা করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, লাবিব জাতীয় ছাত্রশক্তির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি, সালমান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল শাখা ছাত্রদলের সভাপতি এবং রাজু ও রাজন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।
আদালতের নথি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের করা হ*ত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী তারিখ ২৮ সেপ্টেম্বর।