30/05/2026
ইন্না-লিল্লাহি......!!
বাকরুদ্ধ 😭
শোক প্রকাশ করার ভাষা নেই 🙏
"ঈদের দিন সন্ধ্যায় চুলায় রান্না হচ্ছিল গরুর মাংস। ক্ষুধার্ত ১৫ বছরের ছেলেটি বারবার মাকে বলছিল, ‘তাড়াতাড়ি রুটি দাও, মাংস দাও।’ কিন্তু মায়ের হাতের সেই রান্না আর মুখে তোলা হলো না কিশোর মো. ইব্রাহিমের। বাড়ির পাশে দুই পক্ষের সংঘর্ষের শব্দ শুনে বের হতেই শেষ হয়ে গেল তার জীবন, আর সেই সাথে নিভে গেল ঈদের সব আনন্দ।
হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালী এলাকায়। নিহত ইব্রাহিম স্থানীয় বাসিন্দা শামশুল আলমের ছেলে। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর সে মায়ের সাথেই থাকত।
স্বজনরা জানান, ঈদের দিন দুপুরে অন্যের বাড়িতে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের কাজে গিয়েছিলেন মা ও ছেলে। কাজ শেষে তারা তিন কেজি গরুর মাংস পান। সন্ধ্যায় সেই মাংস নিয়ে বাড়ি ফিরে দ্রুত রান্না শেষ করার জন্য মাকে তাগাদা দিচ্ছিল ইব্রাহিম। কিন্তু মাংস পুরো সেদ্ধ হওয়ার আগেই বাইরে ঝগড়ার শব্দ শুনে সে ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন বিকেলে হারিয়াখালী সড়কের ৩ নম্বর ব্রিজ এলাকায় কয়েকজন তরুণের কথা-কাটাকাটি হয়, যা রাতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা দেখতে গিয়ে মারধরের শিকার হয় ইব্রাহিম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ছেলের শেষ মুহূর্তের স্মৃতি বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা নুর নাহার বেগম। তিনি অভিযোগ করেন, স্থানীয় কয়েকজন যুবক তার ছেলেকে বেধড়ক মারধর করে হত্যা করেছে। তিনি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন।
টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ জানায়, পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে রবিউল আলম (২৪) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নিহত কিশোরের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
"
"
"
#শোক #হতভাগা #হত্যা