Oni Ac

Oni   Ac শিবা শিবা 8,2,8
520 808 741
আউডি-- https://www.facebook.com/popyacharjeepa
(2)

22/08/2026

এরা কি খায় 🙄🙄

21/08/2026

Wow 😱😱😱

21/08/2026

আমি নিজেরও এত যন্ত নিই না 😒😔

20/08/2026

বান্ধবী বেশি খেয়ে ফেলছে Oni Ac

 #মূল্য |০৮| #সাদিয়া_সুলতানা_মনি—"তার মানে তুমি তোমার ব্যবসা ছাড়বে না?"নীলা তৎক্ষনাৎ তার কথার উত্তর দেয় না, বরং একটু সময়...
19/08/2026

#মূল্য |০৮|
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি

—"তার মানে তুমি তোমার ব্যবসা ছাড়বে না?"

নীলা তৎক্ষনাৎ তার কথার উত্তর দেয় না, বরং একটু সময় নিয়ে রয়েসয়ে বলতে চায় কিছু। কিন্তু তার আগেই একটি পুরুষালি গম্ভীর গলা থেকে শোনা যায় বয়োবৃদ্ধের প্রশ্নের উত্তরটি।

—"না, নীলা ছাড়বে না তার ব্যবসা। আমি চাই আমার বউ অন্যদের মতোই স্বাধীনতা পাক।

অরিত্রের কথাটি শুনে কেবিনে উপস্থিত সকলেই তার দিকে ফিরে তাকায়। সকলেই যতটা না অবাক হয়েছে, তার চেয়েও বহুগুণ বিস্মিত হয়েছে নীলা। কারণ অরিত্রই তো তাকে কাজটা ছাড়ার জন্য কত কিছু বলেছিল। এমনকি টাকার খোঁটাও শুনেছিল। সেই লোক আজ তার পক্ষ নিয়ে কথা বলছে, তাহলে তো অবাক হওয়ারই কথা।

ছেলের কথা শুনে অরিত্রের মা থমথমে মুখে বলেন–

—আমরা কি ওকে স্বাধীনতা দিচ্ছি না?

—যদি ওকে ওর শখটা পূরণ করতে না দেওয়া হয়, তাহলে তো আপাত দৃষ্টিতে তো তাই লাগবে মা। দেখো, আমাদের প্রত্যেকেরই কিছু শখ, একান্ত চাহিদা থাকে। সেগুলো সঠিক সময়ে পূরণ না করতে পারলে একসময় গিয়ে দীর্ঘশ্বাস আর আফসোস করা ছাড়া কিছুই করতে পারব না।

আমি চাই না আমার স্ত্রী সেই আফসোসটুকু করুক। এমনিতেই আমি তাকে আফসোস করার কম কারণ দেই নি, ভবিষ্যতে তার আমাকে বিয়ে করার আফসোসটাও দিতে চাচ্ছি না। তাই আমি চাই, নীলা সংসারের পাশাপাশি ওর বিজনেসটাও চালিয়ে যাক।

শেষোক্ত কথাটি অরিত্র নীলার অশ্রুসিক্ত চোখে চোখ রেখে বলে। নীলা অরিত্রের এই সাপোর্টটা পেয়ে অর্ধেক দুনিয়া হাসিল করার মতো সুখ অনুভব করতে থাকে। পার্টনারের এই সাপোর্টটুকুই তো মেয়েদের বড় প্রাপ্তি। তাই নয় কি?

যেখানে নীলার স্বামীই তাকে অনুমতি দিচ্ছে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার, সেখানে বাকি আর কি-ই বা বলবে। অরিত্রের এহেন সাপোর্ট অরিত্রের মা নিজের অপমান হিসেবে ধরে দেন। চিরাচরিত শ্বাশুড়ি মায়ের মন সেই একটা কথাই বলে ওঠে–

—আমার ছেলেকে নিজের আঁচলে বেঁধে নিয়েছে এই মেয়ে। তাবিজ-কবচ করে নিজের ভেড়া বানিয়ে নিয়েছে নীলা অরিত্রকে।

এসব ভেবেই সে আরো ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে নীলার উপর। সে গটগট করে কেবিন থেকে বেরিয়ে চলে যান। তার পেছন পেছন অরিত্রের খালামনি, ঈশিতা, তার বোনও চলে যায়। কেবিনে রয়ে যায় শুধু নীলা, অরিত্র, তার বাবা, তার ছোট ভাই ও ভাইয়ের বউ।

অরিত্রের বাবা নিতান্তই সাধাসিধা ও বুঝদার লোক। সে আবেগের সাথে নিজের বিবেকও খাটিয়ে চলেন। তার কোন আপত্তি নেই পুত্রবধূদের কাজ করা নিয়ে। তার দুই মেয়ে যদি শ্বশুর বাড়ি যেয়ে বাহিরে চাকরি করার স্বাধীনতা পেতে পারে, তাহলে তারা কেন অন্যদের মেয়েদের বেলায় অবিচার করবেন?

অরিত্রের বাবা নীলার মাথায় হাত রেখে দোয়া করে বলেন–

—সফল হয়ে আমাদের মুখ উজ্জ্বল করো মা।

—আমার জন্য দোয়া করবেন বাবা। মা'কেও বলবেন করতে।

—বাবা-মায়েরা সবসময় সন্তানদের জন্য দোয়া করে মা। তোমার শ্বাশুড়ি ছেলের অসুস্থতা দেখে আজ রেগে আছেন হয়ত। কিন্তু আমি তাকে বুঝাবো। তুমি মন খারাপ করে রেখো না তার কথায়।

নীলা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দেয়। অরিত্রের ছোট ভাইও বাবার পেছন পেছন চলে আসে। কাকলী চলে যাওয়ার আগে নীলাকে বেস্ট অফ লাক বলে যায়। তারা সবাই চলে যেতেই কেবিনটা কিছুক্ষণ নিস্তব্ধতায় ছেয়ে থাকে।

নীলা সেই আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে নিজেকে ধাতস্থ হতে সময় দেয়। তারপর রয়েসয়ে বলে–

—তুমি শুয়ে রেস্ট করো অরিত্র। আমি একটু চোখমুখে পানি দিয়ে আসি।

কথাটা বলে নীলা কেবিনে লাগোয়া ওয়াশরুমে ঢুকে পড়ে ফ্রেশ হতে। অরিত্র সেদিকে কিছুসময় তাকিয়ে থাকে। নীলার সাথে তার আরো কথা বলার ছিল, তার থেকে মাফ চাওয়ার ছিল, কিন্তু হলো না। নীলা যে তার প্রতি কতটা অসন্তুষ্ট, কতটা হতাশ তার কিছুটা ধারণা আজ পেয়ে গিয়েছে। সে ভাবে, পরে একসময় চেয়ে নিবে মাফ।

অরিত্রকে তিনদিন হসপিটালে থাকতে হয়। তারপর তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হওয়ায় তাঁকে হসপিটাল থেকে রিলিজ করে দেওয়া হয়। এই তিনদিন বহু মানুষ অরিত্রকে হসপিটালে দেখতে আসে। তার অফিসের কলিগরাও এসেছিল তাঁকে দেখতে, তখন অনেকেই নীলার প্রশংসা করেছে। মেয়েটা সংসার সামলে আবার বিজনেসও দাড় করাচ্ছে। বিষয়টা কি কম কথা নাকি?

অরিত্রের অনেক কলিগের স্ত্রী নীলার থেকে ড্রেস অর্ডার দিয়েছে। তারাই নীলার কাজের প্রশংসা করেছে নিজেদের স্বামীর কাছে। আর তারা সেই কথাগুলো অরিত্রকে বলে।

কলিগদের কাছে স্ত্রীর প্রশংসা শুনে অরিত্র গর্ববোধ করতে থাকে নীলাকে। অন্যদিকে নীলার শ্বাশুড়ি শুধু লুচির মতো ফুলেছে। সেদিনের পর থেকে সে নীলার সাথে ভালোভাবে দু'টো কথা বলেন না। সবসময় খোঁচা দিয়ে বা আঘাত দিয়ে কথা বলে সে নীলার সাথে।

অরিত্রকে বাসায় নিয়ে আসা হলে নীলার শ্বশুর-শ্বাশুড়িও ছোট ছেলের বাসা থেকে চলে এসে বড় ছেলের বাসায় উঠেন। দুই ছেলের বাসাতেই তারা কম-বেশি সময় কাটান।

বাসায় এসেও নীলা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে না। কাজের লোক ঘর মুছে দিয়ে গেলে, নীলার শ্বাশুড়ি তার কাজের ভুল ধরে নীলাকে দিয়ে আবারও ঘর মোছান। কাপড় ধুয়ে দিয়ে গেলে, সেখানেও একই কাজ করে। নীলা কিছু বললেই কান্না-কাটি, অশান্তি শুরু করে দেন। এক কথায়, নীলার শ্বাশুড়ি চাইছেন যেকোন পন্থায় নীলাকে তার বিজনেস থেকে সরিয়ে দিতে। আর তাকে এমনটা করতে উস্কানি দিচ্ছে তার বোন ও বোনের মেয়ে।

রাত আটটায় অরিত্র অফিস থেকে আসতেই নিত্যদিনের মতোই নীলা কিচেন থেকে ছুটে এসে দরজা খুলে দেয়। ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে অরিত্রের মা টিভি দেখছেন, সে চাইলেই দরজা খোলার কাজটা করতে পারত। কিন্তু করলেন না। নীলাকে রান্নাঘর থেকে কাজ ফেলে এসে দরজা খুলতে হলো।

অরিত্র বাসায় প্রবেশ করে মাকে টিভি দেখতে দেখে ভ্র কুঁচকে নেয়। সে দেখেছে, নীলা তার জন্য দরজা খুলে দিয়েই আবারও ছুটেছে কিচেনে। নিশ্চয়ই সে ব্যস্ত ভীষণ। তাহলে তার মা তার জন্য দরজা খুলে দিতেই পারত। কিন্তু কেন দিলো না সেটা অরিত্রের বোধগম্য হলো না।

রাতে খাবার খাওয়া শেষে অরিত্রের বাবা-মা গিয়ে ড্রয়িংরুমে বসেন। আর অরিত্র নীলার হাতে হাতে এঁটো থালাবাসন কিচেনে রেখে এসে ডাইনিং টেবিল পরিষ্কার করে দেয়। এতে করে নীলার একটা কাজ হলেও আগায়। আর স্ত্রীর প্রতি একটা সুপ্ত ভালোবাসাও প্রদর্শন করা হয়। নীলা যদিও অরিত্রকে মানা করে বলেছিল, কাজটা সে একাই করে নিবে। কারণ তার শ্বাশুড়ি পছন্দ করেন না তার ছেলেরা বউয়ের কাজে সাহায্য করুক। কিন্তু অরিত্র তাও জোর করেই কাজটা করে। এতে করে নীলার মনে অরিত্রের জন্য তৈরি হওয়া নেগেটিভি একটু একটু করে কমতে থাকে।

কিন্তু তাদের এই সুন্দর বিষয়টা স্বভাবসুলভ পছন্দ হয় না অরিত্রের মায়ের। সে বসে থেকেই গলা উঁচিয়ে বলে ওঠে–

—হ্যাঁ গো বড় বউমা, ছেলেটা সারাদিন অফিস করে আসল মাত্র। ওকে দিয়ে এসব কাজ না করালে কি হচ্ছিল না তোমার?

নীলার মন ও মেজাজ উভয়ই খারাপ হয়ে যায় শ্বাশুড়ি মায়ের কথা শুনে। সে শান্ত গলায় বলে–

—মা, আমি তো আপনার ছেলেকে বলিনি আমার কাজে হাত দিতে। আমায় ধমকিয়ে সরিয়ে দিয়ে সে কাজটা করল। সাহায্য না করতে দিলে স্বামী ধমকায়, আবার সাহায্য করতে দিলে আপনি কথা শোনাচ্ছেন। আমি করবো টা কি একটু বলতে পারেন?

নীলার কথা শুনে অরিত্রে মা চোখ কপালে তুলে নেন। এই মেয়ে আগে শত কথায় রা করত না, আজ সে জবাব দিচ্ছে মুখের উপর। তিনি মনে মনে ভাবেন, তার বোনই ঠিক বলেছেন। নীলা বিজনেস শুরু করেছে দেখে সাপের পাঁচ দেখে ফেলেছে। কিছুদিন পর অরিত্র ও তাদের উপর নীলা ছুড়ি ঘুরাবে।

নীলার কথা শুনে অরিত্রের মা মুখ বাঁকিয়ে বললেন–

—বাহ বউমা, মুখে মুখে তর্কও করছো আজকাল।

—সত্য কথা বলাটাও বুঝি তর্কের অন্তর্গত, মা?

শ্বাশুড়ি-বউয়ের এমন নীরব তর্ক-বিতর্ক বড় আকার ধারণ করতেই তাদের স্বামীরা নিজেদের স্ত্রীদের সরিয়ে নেন সেখান থেকে। অরিত্রের বাবা তার স্ত্রীর কথার মাঝে হাত ঢুকিয়ে বলে–

—আহ হা অরুর মা, কি শুরু করলে রাত-বিরেতে। চলো ঘরে চলো, আমার ঔষধ গুলো গুছিয়ে দিবে। চলোওও...

ভদ্রলোক হাত ধরে টেনে নিয়ে যান স্ত্রীকে। নীলার কাজও ততক্ষণে শেষ হয়ে আসায় সেও গটগট করে নিজের রুমে চলে যায়। অরিত্র একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ঘরে চলে আসে।

নীলা রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে আবারও রুম থেকে বের হতে নিলে, অরিত্র জিজ্ঞেস করে–

—কোথায় যাচ্ছো এত রাতে আবার? ঘুমাবে না?

—পরে ঘুমাব। হাতে কয়েকটা কাজ আছে, সেগুলো শেষ করে নেই আগে।

—সেসব তো কাল করলেও চলবে। এখন আর কাজ করা লাগবে না, আসো ঘুমাতে আসো। এমন করলে তো তোমার শরীর খারাপ করবে।

—কাল কখন করবো? সকাল উঠার পর থেকে দুপুর তিনটা অব্দি আপনার মা আমাকে দুই মিনিট স্বস্তি পেতে দেয় না। তুমিই বলো, এতক্ষণ দৌড়াদৌড়ির পর শরীরে এনার্জি থাকে?

তারপরও বিজনেসের ছুতো দিয়ে সংসার লাটে তুলছি–কথাটা শুনতে শুনতে কানটা পচে যাচ্ছে। বিজনেস যেহেতু আমার, আমাকেই সাফার করতে দিন।

সবারই ধৈর্যের একটা সীমা থাকে। সেই সীমা অতিক্রম করলে মানুষ আর মিষ্টি ভাষায় আসে না। নীলার ক্ষেত্রেও তাই। সবকিছু করেও শুনতে হচ্ছে সংসার লাটে তুলছে সে। নীলা নিজের মতো ক্ষোভ ঝেড়ে চলে যায় অরিত্রের স্টাডি রুমে।

[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন। ]

#চলবে?

[গল্পটার আর দু'টো পর্ব রয়েছে সম্ভবত। তাই ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ রইল।

ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স। ]

19/08/2026

আমিও চাই এরকম কো,মা,য় যেতে 😪😪

 #শেষ_পাতায়_সূচনা [৬২.২] #সাদিয়া_সুলতানা_মনিদুরুদুরু বুকে পূর্ণতা ডাক্তার সিদ্দিকার কেবিনে নক করে। তার অন্য হাতে রয়েছে হ...
18/08/2026

#শেষ_পাতায়_সূচনা [৬২.২]
#সাদিয়া_সুলতানা_মনি

দুরুদুরু বুকে পূর্ণতা ডাক্তার সিদ্দিকার কেবিনে নক করে। তার অন্য হাতে রয়েছে হেল্থ টেস্টের রিপোর্ট গুলো। রিপোর্ট গুলো পাওয়ার পরও সে সেগুলো খুলে একবারের জন্যও দেখেনি। চায়নি পাঁচ বছর আগের মতো সুসংবাদ ও দুঃসংবাদ একসাথে পেতে। সেবার কানাডা যাওয়ার কিছুদিন পরেই পূর্ণতার শরীর একটু বেশিই খারাপ করতে শুরু করে। সে ভেবেছে তার ডিপ্রেশনের কারণে হয়ত তার এই অসুস্থতা, এটা ভাবার পেছনেও কারণ রয়েছে।

ডাক্তার তাঁকে কড়া ভাবে নিষেধ করে দিয়েছিল কোন প্রকার মানসিক চাপ, বা দুঃখের কথা মনে না করতে। কিন্তু দুঃখ যার চিরসঙ্গী সে কি পারে দুঃখকে ভুলে থাকতে। বাবাকে হারিয়ে, ভালোবাসার মানুষের থেকে বিতাড়িত হয়ে সে তো তখন দুঃখের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। প্রচন্ড ডিপ্রেশনে পড়ে ভুগত সে তখন।

তাই তার যখন ঘনঘন বমি ও মাথা ঘুরে উঠতে থাকল, তখনই সে ডাক্তারের কাছে ছুট লাগায়। ডাক্তার তাঁকে ব্রেনের টেস্ট দেওয়ার পাশাপাশি কি মনে করে প্রেগ্ন্যাসির টেস্টও দিয়েছিল। টেস্টের রিপোর্ট দেওয়ার পর যা জানার কথা ছিল তাই হলো।

পূর্ণতা জানতে পারল, উপরওয়ালা তার থেকে শুধু নেয়নি, তাকে অকল্পনীয় কিছু দানও করেছে। যেটা পাওয়ার জন্য একসময় সে উপরওয়ালার পর জাওয়াদের কাছে আকুতি ভরে চেয়েছিল। কিন্তু তার নিষ্ঠুর প্রিয়তম তাঁকে সেটা দেয়নি।

তার প্রিয়তম না দিতে চাইলে কি হবে, যার হাতে সকল ক্ষমতা সে তো পূর্ণতার আকুতি ফিরিয়ে দিতে পারেন নি। তাই তো অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে হলেও পূর্ণতার আবদার পূর্ণ করেছেন।

নিজের মাঝে নতুন অস্তিত্বের কথা জানার পর পূর্ণতা বিস্ময়ে কথা বলতেই ভুলে গিয়েছিল। কিন্তু তার বিস্ময়ের চেয়েও দুঃখ বেশি পেয়েছিল তখন, যখন কিনা জানতে পারে নতুন প্রাণটির বেঁচে থাকা অনিশ্চিত। পাগলের মতো সে ডাক্তারের হাতে পায়ে ধরতে থাকল, তাকে যেন ভালো কোন ঔষধ দিয়ে সুস্থ করে তুলে। সেই সাথে নিশ্চিত হয় নতুন প্রাণটির অস্তিত্বও।

ডাক্তার পূর্ণতাকে ৫০-৫০ চান্স বলে দিলেন। পূর্ণতা রিস্ক নিয়ে প্রেগ্ন্যাসি কন্টিটিউ করলে তার বাঁচার সম্ভাবনা ৫০%। পূর্ণতা দৃঢ় চিত্তে নিজের জীবনের সবচাইতে সুন্দর সিদ্ধান্তটি নিলো।

মা হওয়া চারটি খানি কথা না সেটা সকল নারীই জানে, বুঝে। কিন্তু পূর্ণতার ক্ষেত্রে কষ্টটা ছিল রুহ ছিঁড়ে ফেলার মতো। ভীনদেশের মাটিতে সম্পূর্ণ একাকী, মানসিক সমস্যা ও অসুস্থতার সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা মেয়েটি প্রায় হাল ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে চাইত তার মা-বাবা কোলে।

কিন্তু পরক্ষণেই ভাবত, না এত তাড়াতাড়ি আমি হাল ছেড়ে দিবো না। আমি অনেক দিন বাঁচতে চাই। নিজের সন্তানকে দু'হাতে নিয়ে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে মাতৃত্বের সুখ অনুভব করতে চাই। মা ডাক শুনতে চাই। এই ভাবনাগুলোই তাঁকে শক্তি জুগিয়েছিল হাল না ছেড়ে দেওয়ার।

সত্যি বলতে তার প্রথম প্রেগ্ন্যাসির কষ্টটা তার মাঝে একটা ট্রমা হয়ে রয়ে গিয়েছে এখনও। হ্যাঁ, সে দ্বিতীয় বার মা হতে মানসিক ও শারীরিক উভয়ভাবেই প্রস্তুত। কিন্তু সেই কষ্ট আর সন্তানের জীবনের অনিশ্চয়তা ভয়টা এখনও তার বুকের এককোণে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছে।

সেই ভয় থেকেই সে রিপোর্ট কালেক্ট করে সে সরাসরি চলো এসেছে তার ডাক্তারের কাছে। উপরওয়ালার কাছে বারংবার প্রার্থনা করছে, প্রথমবারের মতো সুখবরের সাথে অনিশ্চিয়তার সংবাদও যেন না শুনতে হয়।

ডাক্তারের কেবিনে ঢুকে অনুমতি পাওয়া মাত্রই সে চেয়ারে বসে রিপোর্ট গুলো এগিয়ে দেয় ডাক্তারের দিকে। ডা. সিদ্দিকা চিকন ফ্রেমের চশমার নিচে থাকা ছোট ছোট আঁখিদ্বয় দিয়ে মনোযোগ সহকারে ফাইলটির একেকটি পাতা উল্টাতে থাকে। সবগুলো পাতা পর্যবেক্ষণ শেষে ঠোঁটের কোণে চওড়া হাসি ফুটিয়ে তুলে ভদ্রমহিলা সুসংবাদ দিয়েই দেন–

—অভিনন্দন মিসেস শেখ। আপনি দ্বিতীয়বারের মতো না হতে চলেছেন।

পূর্ণতা পুরো নারী অস্তিত্ব যেন খবরটি শোনা মাত্রই কেঁপে ওঠে থরথরিয়ে। এমনটা তার তাজওয়াদের সময়টাতেও হয়েছিল। চোখের কোণে জমা হয় আনন্দ অশ্রু। আনমনেই তার ডান হাতটি চলে যায় ক্ষীণ মেদপূর্ণ উদরে। তার আশঙ্কা ভুল ছিল না তাহলে। সত্যিই সে আবারও সন্তান ধারণের অপার্থিব সুখ ভোগ করতে চলেছে।

কিন্তু পরক্ষণেই তার সুখের রাজ্যে হানা দেয় দুঃখময় সংশয়। যে আসছে সে ঠিক আছে তো? তার বড় ভাইয়ের মতোই অনিশ্চয়তা নিয়ে আসেনি তো মায়ের উদরে?

নিজের সকল সংশয়, ভয় পূর্ণতা উজার করে জানায় ডাক্তারের কাছে। ডাক্তার মনোযোগ দিয়ে তার কথাগুলো শোনেন। এরপর আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে মৃদু হাসেন।

—আপনি আপাতত এতটা দুশ্চিন্তা করবেন না। আপনার গর্ভাবস্থা এখন প্রায় আট সপ্তাহের। একটা আল্ট্রাসাউন্ড করে দেখি, তারপর আপনাকে সবটা পরিষ্কারভাবে বলতে পারব।

কিছুক্ষণ পর আল্ট্রাসাউন্ডের জন্য প্রস্তুত করা হয় পূর্ণতাকে। উৎকণ্ঠায় তার আঙুলগুলো পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। বুকের ভেতরটায় কেমন অস্থিরতা। মনের গহিনে শুধু একটাই প্রার্থনা—তার সন্তান যেন ভালো থাকে।

আল্ট্রাসাউন্ড শুরু হতেই ডাক্তার নিবিড় দৃষ্টিতে মনিটরের দিকে তাকান। কয়েক মুহূর্ত পর স্ক্রিনে ফুটে ওঠে ক্ষুদ্র এক প্রাণের অস্তিত্ব।

পূর্ণতার দৃষ্টি আটকে যায় সেখানেই। এতটুকু একটা প্রাণ। অথচ তার অস্তিত্বজুড়ে যেন পূর্ণতার সমগ্র পৃথিবী।

ডাক্তার কিছুক্ষণ স্ক্রিন পর্যবেক্ষণ করে বলেন,

—এই যে দেখুন। আপনার সন্তান এখানে আছে।

পূর্ণতার বুকটা ধক করে ওঠে।

—বাবু ঠিক আছে তো, ডাক্তার?

—জি। আপাতত সবকিছু বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিকই আছে। আর...

ডাক্তার হঠাৎ স্ক্রিনের অন্য একটি অংশে দৃষ্টি স্থির করেন।পূর্ণতার বুকের ভেতরটা আবারও কেঁপে ওঠে।

—আর কী?

ডাক্তার এবার মৃদু হেসে বলেন,

—আপনাকে বোধহয় আরেকবার অভিনন্দন জানাতে হবে, মিসেস শেখ।

পূর্ণতা বিস্মিত চোখে তাকায়।

—কেন?

ডাক্তার স্ক্রিনের দিকে ইশারা করেন।

—এখানে শুধু একজন নেই। নিজের সহোদরকে সাথে করে নিয়ে এসেছে যে আসতে চলেছে।

পূর্ণতা কয়েক মুহূর্ত নির্বাক হয়ে থাকে। ডাক্তার আবারও বলেন,

—আপনি যমজ সন্তানের মা হতে চলেছেন।

কথাটা শুনে পূর্ণতার চোখ দুটো বিস্ময়ে বড় হয়ে যায়।

— যমজ...?

—জি। দুটো ভ্রূণই দেখা যাচ্ছে। দুটিরই হৃদস্পন্দন আছে এবং এই মুহূর্তে দুটোকেই বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক মনে হচ্ছে।

পূর্ণতা আর কোনো কথা বলতে পারে না। কিছুক্ষণ আগেও যে হৃদয়টা ভয় আর আশঙ্কায় কাঁপছিল, সেই হৃদয়েই যেন একসঙ্গে দুটো ছোট্ট হৃদস্পন্দনের শব্দ এসে আঘাত করে।

তার ডান হাতটি ধীরে ধীরে গিয়ে থামে ক্ষীণ মেদপূর্ণ উদরের ওপর। চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে উষ্ণ অশ্রু। তার ভয় সত্যি হয়নি। বরং তার প্রার্থনার চেয়েও বেশি কিছু পেয়েছে সে।

একটি নয়...তার গর্ভে বেড়ে উঠছে দুটি ছোট্ট প্রাণ। এত সুখ পূর্ণতার ঝুলিয়ে এসেছে দেখে পূর্ণতা বিস্ময়ে কথা বলতেই ভুলে যায়।

প্রয়োজনীয় ঔষধ ও পরামর্শ নিয়ে পূর্ণতা হসপিটাল থেকে চলে যায় অফিসে। তার বুকের ভেতরটা তখন সুখের জোয়ারে ভাসছে। জাওয়াদকে ফোন দিয়ে জানানো ইচ্ছে করছে খুশির সংবাদ খানা, কিন্তু পরক্ষণেই সে তার মনোভাব বদলে ফেলে। আর দশদিন পর তাদের ষষ্ঠ বিবাহবার্ষিকী। সেদিন জানাবে সে জাওয়াদকে সংবাদটা। লোকটা তার কাছে না থাকুক, সে ফোনের মাধ্যমেই দেখবে এই খবরটি শোনার পর তার প্রিয় পুরুষটির অশ্রু ছলছল চোখজোড়া। তাতেই সে নিজের প্রাপ্তি খুঁজে নিবে।

পূর্ণতা প্ল্যান করে, আজ ডিনারে আহমেদ বাড়ির সকলকে দাওয়াত দিবে। আর রাতেই সকলকে খবরটি জানাবে। এমনিতেও বহুদিন হলো তাঁদের সকলের সাথে দেখা সাক্ষাৎ নেই। বিজনেসের চাপ, সংসার-সন্তান সামলে তার যাওয়া হয়ে ওঠে না ঐ বাড়ি। তাই এই খুশির সংবাদ জানানোর উছিলায় তাদের সকলের একটা ছোটখাটো গেট টু গেদারও হয়ে যাবে।

যেই ভাবা সেই কাজ। তাজওয়াদের আজ স্কুল ছিল না বলে তাঁকে বারোটার সময় স্কুল থেকে আনার কাজটাও নেই। তাই পূর্ণতা দুপুর দুইটার দিকে অফিস থেকে চলে আসে বাসায়। আরওয়া আর চাকরি করবে না বলে, সপ্তাহ খানেক আগেই পূর্ণতা তার আরেকজন পি.এ. নিয়োগ দিয়েছে। সে ম্যানেজার আর তার পি.এ.কে সব কাজ বুঝিয়ে দিয়েই বাসায় যায়।

রাস্তায় আসতে আসতে সে আরিয়ান ও তার বড় বাবাকে ফোন দিয়ে রাতে তাদের বাসায় ডিনার করার জন্য জানিয়ে দেয়। তারা খুশি মনেই সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে। টনিকেও বলে আসার জন্য। পূর্ণতা বাসায় এসে কিছুক্ষণ রেস্ট নিয়ে বিকাল থেকে টুকটুক করে রান্নাবান্না শুরু করে দেয়।

তাকে এত এলাহি ভাবে রান্নার আয়োজন করতে দেখে জিনিয়া এসে জিজ্ঞেস করে–

—ভাবী, আজ এত কিছুর রান্নার প্রিপারেশন নিচ্ছ যে? বাসায় গেস্ট আসবে নাকি? সাথে টনিকেও।

—হুম, ঐ বাড়ির সবাইকে দাওয়াত দিয়েছি।

—ওহ্হ। তা হঠাৎ? স্পেশাল কিছু আছে নাকি আজ?

—হয়ত।

রহস্যময় হাসি দিয়ে হেঁয়ালি করে কথাটি বলে পূর্ণতা।বেচারি জিনিয়া ভাবনায় পড়ে যায় ভাবীর হেঁয়ালিতে। তাও সে এত ভাবাভাবি বাদ দিয়ে পূর্ণতার হাতে হাতে কাজ এগিয়ে দিতে থাকে।

বাবা-মা না থাকুক পূর্ণতা তার বড় বাবাকেই নিজের বাবার মতো ভালোবাসে। আর আরিয়ানের সাথে তার সম্পর্ক কতটা গভীর সেটা তো আপনাদের আর বলার দরকার নেই। পূর্ণতা দাওয়াতি সকলের পছন্দের খাবার রান্না করে। মিষ্টি তিন-চার পদ অনলাইনে অর্ডার দিয়ে আনার পরও, সে নিজ হাতে সেমাই, পায়েস, আর শাহি টুকরা বানায়। এত এত ডেজার্ট আইটেম দেখে জিনিয়ার মুখে পানি চলে আসে। সে আবার ভীষণ সুইট লাভার কিনা।

মাগরিবের পরপর দিয়েই রান্না শেষ হয়ে গেলে, পূর্ণতা ও জিনিয়া চলে যায় ফ্রেশ হতে। দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা কিচেনে কাজ করে তারা দু'জনই ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে গিয়েছে। পূর্ণতা আর জিনিয়া ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে মেহমানরা সবাই চলে এসেছে।

পূর্ণতা সবাইকে ওয়েলকাম ড্রিংকস আর স্ন্যাক্স আইটেম দিয়ে স্বাগতম জানায়। সবাই হালকা নাস্তা করে খোশগল্প করতে থাকে। তাজওয়াদ বায়না ধরে টনিকে তার নতুন রোবটকার দেখাবে বলে। টনি খুশি মনে তার কথায় সম্মতি দিলে তাজওয়াদ তার হাত ধরে টেনে নিয়ে যায় নিজের রুমে।

জিনিয়াও আশেপাশে একবার নজর বুলিয়ে সুযোগ বুঝে চম্পট হয়ে যায় সেখান থেকে। হসপিটাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর টনিকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ হয়েছিল একমাসের মধ্যে একবার। তাই আজ প্রিয় পুরুষটিকে একান্তে কাছাকাছি দেখার সুযোগ পেয়ে জিনিয়ার মিস করতে চায় না। সে তাজওয়াদদের পেছন পেছন রুম অবধি যায়। তারপর তাজওয়াদকে কিছুক্ষণ সময় দেয় তার খেলনা গুলো টনিকে দেখতে দেওয়ার আর সে বাহিরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকে।

দশমিনিট পর তাজওয়াদ তার খেলনা দেখানো শেষ হয়ে গেলে সে ছুটতে ছুটতে নিচে চলে যায় মায়ের কাছে। টনিও বের হয়ে আসে তাজওয়াদের রুম থেকে তখনই জিনিয়া আড়াল থেকে বের হয়ে টনি হাত টেনে ধরে পাশের রুমে নিয়ে যায়। যেটা আদতে তারই রুম।

হুট করে টেনে নিয়ে আসায় টনি থতমত খেয়ে যায়। সে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করে–

—এমন ভাবে নিয়ে আসলে কেন? কেউ দেখে ফেললে কি ভাববে?

জিনিয়া দরজা লক করতে করতে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে–

—ভাববে আমরা প্রেম করছি।

—এমনভাবে বলছো, যেন বিষয়টা স্বাভাবিক।

—অস্বঅভাবিক ভাবছেন কেনো? আমরা এনগেজড। প্রেম করার অফিসিয়াল লাইসেন্স অনেক আগেই পেয়ে গিয়েছি। সো চিল করুন আর আমার সাথে আসুন।

—কই যাবো আবার?

টনির প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই জিনিয়া আবারও তার হাত টেনে ধরে আয়নার সামনে নিয়ে যায়। তারপর তাঁকে সামনে দাঁড় করিয়ে নিজে পেছনে গিয়ে এমনভাবে দাঁড়ায়, যাতে করে আয়নায় টনির বাম পাশের কাঁধের উপর দিয়ে জিনিয়ার চোখজোড়া শুধু দেখা যাচ্ছে।

জিনিয়া তার ফোনটা টনির হাতে দিয়ে বলে–

—ফোনটা নিচু করে পিকটা তুলুন।

—কি করছো এসব?

—জীবনে প্রথমবার ট্রেন্ড ফলো করছি। এখন চুপচাপ করবেন নাকি খবর করবো আপনার।

—দাও

টনি জিনিয়ার ফোনটা হাতে নিয়ে ব্যাক ক্যামেরা অন আয়নার দিকে তাক করে তাদের পিকটা তুলে। ছবি তোলা শেষে টনি খেয়াল করে দেখে, ভীষণ সুন্দর হয়েছে তাদের ছবিটা। সে নিজের হোয়াটসঅ্যাপেও ছবিটা পাঠিয়ে দেয় জিনিয়ার ফোন থেকে। এরপর যার ফোন তাকে ফিরিয়ে দেয়।

জিনিয়া ছবিটা একটু ক্রপ করে টনিকে ট্যাগ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেয় সুন্দর একটা ক্যাপশন দিয়ে। কাজটা শেষ করে জিনিয়া হাসি-হাসি মুখে টনির দিকে তাকালে টনি ভ্রু নাচিয়ে বলে–

—আপনার বাদরামি শেষ হয়েছে মিস লিলিপুট শেখ? আমরা নিচে যেতে পারি এবার?

জিনিয়া ঘনঘন মাথা নাড়িয়ে বলে–

—হুম চলুন আমার পারসোনাল সান্ডাপান্ডা।

এদিকে জিনিয়ার পোস্টে টনি ট্যাগ থাকায় সেটা টনির ফিডেও পোস্ট হয়। আর সেই পোস্টটা দেখে তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে টনির কাজিন রুশা। ঐ মেয়ে এখনও টনিকে পাওয়ার আশা ছাড়েনি।

তারা নিচে চলে এসে বাকিদের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দেয়। তারপর রাত নয়টার দিকে সবাই ডিনার করতে বসে একসাথে। খাবারে সকলের পছন্দের টাইম গুলো থাকায়, সবাই বেশ তৃপ্তি নিয়েই খায়।

খাওয়াদাওয়া শেষ করে সবাই আবারও এসে ড্রয়িংরুমে বসে। আরিয়ান লম্বা একটা ঢেকুর তুলে বলে–

—আজ যা খেয়েছি না, আগামী দুইদিন না খেলেও চলবে আমার। বোনু তোর হাতে জাদু আছে।

—ধন্যবাদ ভাইয়া।

পূর্ণতা তৃপ্তির হাসি দিয়ে সেখান থেকে উঠে চলে যায় কিচেনে। তার পেছন পেছন আরওয়াও যায়। কিছু সময় পর তারা দু'জন হাতে দুটো বড় ট্রেতে করে মিষ্টান্ন নিয়ে উপস্থিত হয়। সবাই এত পদের ডেজার্ট দেখে অবাক হয়ে যায়। আরিয়ান তো বলেই ফেলে–

—কি ব্যাপার বোনু, আজ এত উৎসব উৎসব ভাইব পাচ্ছি কেন সবকিছুতে? আর হঠাৎ এত ঘটা করে দাওয়াত কীসের জন্য?

—এর পেছনের একটা স্পেশাল কারণ রয়েছে?

—আর কি সেটা?

পূর্ণতা এই পর্যায়ে লজ্জা পেতে থাকে। নিজ মুখে নিজের প্রেগন্যান্সির কথা জানাতে যে কোন মেয়েই লজ্জা পাবে। সে আরওয়ার হাত টেনে ধরে উপরে নিজের রুমে যেতে যেতে বলে–

—আসছি দাঁড়াও।

সবাই বেআক্কল হয়ে যায় তার যাওয়া দেখে। সেই সাথে ভাবতে থাকে স্পেশাল কারণটা কি? একটু পরই আরওয়া হাস্যজ্জ্বোল মুখে ছুটতে ছুটতে নিচে আসে। তার হাতে একটা ফাইল। তার পেছন পেছন আস্তে ধীরে আসতে থাকে পূর্ণতা।

আরওয়া নিচে এসেই সকলের অনাকাঙ্ক্ষিত খবরটি ঘোষণা করে দেয়–

—পূর্ণতা আপু দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আর জমজ বাবু আসতে চলেছে আমাদের পরিবারে।

এত বড় একটা নিউজ শুনে সকলে প্রায় একসাথেই বলে ওঠে–

—কিহ্হ্হ্হ্হ্!!!!

____________________________

পূর্ণতার ঘুমানোর আগ মুহূর্তে জাওয়াদের ফোনে ছোট্ট করে একটা টেক্সট পাঠায়। সেখানে ভীষণ আবেগীয় কথা লিখে। লেখাগুলো কিছুটা এমন–

❝আমার বিষাদের শহরে এক টুকরো শান্তির কারণ, আমার সুন্দরতম জেদ, আমার মনের সুলতান—আপনার কাছে হয়তো আমি কখনো মুখ ফুটে বলিনি, আপনি আমার জীবনে ঠিক কতটা প্রয়োজনীয়।

আপনি পাশে থাকলে বুঝি না, আপনার উপস্থিতিটা আমার জীবনের কতটা জায়গা জুড়ে আছে। অথচ আপনি দূরে যেতেই চারপাশটা কেমন অচেনা, কেমন শূন্য মনে হচ্ছে। একই ঘর, একই বিছানা, একই রাত তবুও কোথাও যেন আপনাকে ছাড়া কিছুই পূর্ণ হচ্ছে না।

আজ ঘুমাতে যাওয়ার আগে বারবার মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে যদি আপনি পাশে থাকতেন! হয়তো কিছুই বলতাম না, তবুও আপনার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই স্বস্তির ঘুমে ঢলে পড়তাম।

সুস্থভাবে তাড়াতাড়ি ফিরে আসুন, শেখ সাহোব। আপনার জন্য অপেক্ষা করার বিষয়টা ভালোই লাগে, শুধু আপনাকে ছাড়া রাতগুলো ভীষণ একা লাগে।❞

[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন। ]

#শব্দসংখ্যা~২০০০+

Address

Dhaka
1212

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Oni Ac posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Oni Ac:

Shortcuts

Share