Allah Please Help The Muslim-Ummah

Allah  Please  Help  The  Muslim-Ummah "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ"

তুমি দেরিতে সফল হলেও ভয় পেও নাতাকদীর তাড়াহুড়ো করে নাসবকিছু নির্ধারিত সময়ে পূর্ণ হয়আল্লাহ বলেননিশ্চয়ই আমি সবকিছু সৃ...
10/03/2026

তুমি দেরিতে সফল হলেও ভয় পেও না
তাকদীর তাড়াহুড়ো করে না
সবকিছু নির্ধারিত সময়ে পূর্ণ হয়

আল্লাহ বলেন
নিশ্চয়ই আমি সবকিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে

সূরা আল-কামার ৪৯
আর প্রতিটি বিষয়ের জন্য রয়েছে নিৰ্দিষ্ট সময়

সূরা আর-রাদ ৩৮
রবের ফয়সালায় বিলম্ব আছে
অন্যায় নেই

24/02/2026

উহুদ যুদ্ধে যখন মুসলিম বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিল এবং কাফেররা রাসূলুল্লাহ সা.-এর খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল, তখন যে কয়জন সাহাবি নিজের জীবন বাজি রেখে রাসূলুল্লাহ সা.-কে ঘিরে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এক নারী—উম্মে আম্মারা নুসাইবা বিনতে কাব আনসারিয়া রা.। তিনি হাতে তলোয়ার এবং ঢাল নিয়ে কাফেরদের মোকাবিলা করছিলেন।

কুখ্যাত কাফের ইবনে কামিয়া রাসূলুল্লাহ সা.-কে হত্যা করার জন্য তেড়ে এল। উম্মে আম্মারা রা. একাই তার সামনে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন। তিনি তাকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করলেন, কিন্তু ইবনে কামিয়া দুই স্তরের বর্ম পরে থাকায় সে বেঁচে গেল। পাল্টা আঘাতে সে উম্মে আম্মারা রা. কে জখম করল। সেদিন তার শরীরে ১২টি গভীর ক্ষত হয়েছিল, যার একটি ছিল ঘাড়ে, যা শুকাতে এক বছর লেগেছিল।

যুদ্ধ শেষে রাসূলুল্লাহ সা. তার ক্ষতবিক্ষত অবস্থা দেখে বললেন,
"আল্লাহ তোমাদের পরিবারকে বরকত দিন। আজ নুসাইবার ( উম্মে আম্মারা রা.) মাকাম (মর্যাদা) অমুক অমুক পুরুষের চেয়েও অনেক উঁচুতে।"

উম্মে আম্মারা রা. তখন রাসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে একটি আবদার করলেন:
"ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন জান্নাতেও আমরা আপনার সঙ্গী হতে পারি।"

রাসূলুল্লাহ সা. সাথে সাথে দোয়া করলেন:
"হে আল্লাহ! আপনি জান্নাতে তাদেরকে আমার সাথী বানিয়ে দিন।"

এ কথা শুনে উম্মে আম্মারা রা. খুশিতে আত্মহারা হয়ে বললেন:
"দুনিয়াতে আমার ওপর দিয়ে যত ঝড় বা বিপদই যাক না কেন, এই দোয়ার পর আমি আর কোনো কিছুর পরোয়া করি না।"

(সূত্র: আত-তাবাকাতুল কুবরা (ইবনে সাদ) খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ৪১২-৪১৫),সিয়ারু আলামিন নুবালা খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৭৮)

সূরা আরাফে একটা ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্ট পেলাম।ছোট বেলা থেকে শুনে এসেছি যে আখিরাতের পরিণাম হলো বাইনারি! হয় জান্নাত নয় জাহান্...
23/02/2026

সূরা আরাফে একটা ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্ট পেলাম।
ছোট বেলা থেকে শুনে এসেছি যে আখিরাতের পরিণাম হলো বাইনারি! হয় জান্নাত নয় জাহান্নাম।
অথচ এই সুরার মাধ্যমে আমাদের জানানো হলো যে না! জান্নাত আর জাহান্নামের মাঝামাঝিও আরেকটা লোকেশন আছে। লোকেশনটার নাম আরাফ! এই জায়গার নাম অনুসারেই এই সূরার নাম করন।
"আরাফ" হবে তাদের জন্য যারা এতো টাও ভালো কাজ করেনি যে জান্নাতের টিকেট পেয়ে যাবে, আবার এতোটাও খারাপ কাজ করেনি যে জাহান্নামে যেতে হবে। এ যেন মিডেল ক্লাসদের চরণ ভূমি!
এই আরাফবাসি সবসময়ই আশায় থাকবে যে তাদেরকে যেন কোনো না কোন সময় জান্নাতে আপগ্রেড করা হয়। এই আরাফ ছাড়াও হাশর আরেকটা ইম্পর্টেন্ট ফ্যাক্ট আমাদের অনেকেরই অজানা। আর সেটা হলো কান্তারা!
আমরা মনে করি, "কোনো রকমে পুলসিরাত পার হইতে পারলেই বাঁচি!" ভুল! পুলসিরাত পার হতে পারলেই জান্নাত নয়। পার হতে পারলে অপেক্ষা করবে মুমিনদের জন্য ফাইনাল পরীক্ষা।
হাশরের দিনে বিশাসীদের বিচার হবে দু বার। এক বার হবে সিরাত পার হওয়ার পূর্বে, আরেক বার হবে সিরাত পার হওয়ার পরে। জি ঠিকই শুনেছেন। পূর্বের বিচার হবে "স্রষ্টার হক নষ্ট করার বিচার" আর পরের বিচার হবে "বান্দার হক নষ্ট করার বিচার"। আর যে জায়গাটায় বিচারটি হবে, সেই জায়গাটির নামই হলো "কান্তারা"।
আল-কান্তারাহ হলো সিরাতের পর আরেকটি ছোট সিরাত। বিশ্বাসীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা এই কান্তারার উপর দিয়েই প্রবেশ করবে এবং স্রষ্টা এই কান্তারার উপরেই মুমিনদের মধ্যকার আন সেটেলড ইস্যুস গুলো রিসোলভ করবেন।
কল্পনা করুন, একজন ব্যক্তি আল-কান্তারাহ-তে জান্নাতের দরজার অলমোস্ট দ্বারপ্রান্তে, অথচ সে সেথায় ঢুকতে পারছে না। কারণ তার সব সৎকর্মগুলো যা নিয়ে নিয়ে সে বড়াই করতো সব শেষ। উলটো তাকে জাহান্নামে টেনে নিয়ে হচ্ছে।
সেই হতোভাগাকে আপনি তখন কী বলবেন?
আমার রাসুল স: অবশ্য সেই হতভাগা কে ডিফাইন করেছেন "মুফলিস" হিসেবে। "মুফলিস" অর্থ হলো দেউলিয়া বা ব্যাংকরপ্টড।
রাসূল স: বলেছেন— “তোমরা কি জানো, কে আসল দেউলিয়া?”
সাহাবারা উত্তর দেন- “যার কাছে অর্থ বা সম্পদ কিছুই নেই সে ইয়া রাসূলুল্লাহ?”
রাসূল স: বললেন— “না! আমার উম্মতের মধ্যে প্রকৃত দেউলিয়া হচ্ছে সেই ব্যক্তি যেই ব্যক্তি কিয়ামতের দিনে অনেক নামাজ, অনেক রোজা ও অনেক সদকা নিয়ে উপস্থিত হবে। অথচ সে দেখতে পাবে যে সে ঐ দিনে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে কারণ জীবদ্দশায় সে অন্যদের গালি দিয়ে বেড়াতো, অন্যদের অপবাদ দিয়ে বেড়াতো, অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে বেড়াতো, অন্যের রক্তপাত ঘটিয়ে বেড়াতো এবং অন্যকে প্রহার করে বেড়াতো। আজ তার সব সৎকর্মগুলো ভুক্তভোগীদেরকে ট্র্যান্সফার করে দিতে হচ্ছে।
শুধু তাই না, যদি তার ভালো কাজগুলো ক্ষতিপূরণ গুলোকে কভার করতে না পারে তাহলে তাদের পাপ গুলোও তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।”
তাই বলছি, আপনার যারা নামাজ রোজা সাদাকার পাশাপাশি আপনার মুখের স্পিচ দিয়ে অন্যদের কষ্ট দিয়ে বেড়াচ্ছেন কিংবা আমল দিয়ে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে বেড়াচ্ছেন, তাদের জন্য একটাই কথা—
দেখা হবে বন্ধু, দেখা হবে কান্তারায়!

আরবি-ফারসি বাদ দিলে বাংলা ভাষা হয়ে যাবে শ্রীহীন সন্ধেবেলা আরামকেদারায় বসে খবরের কাগজে নজর বোলাচ্ছিলাম। এমন সময় সদর দর...
22/02/2026

আরবি-ফারসি বাদ দিলে বাংলা ভাষা হয়ে যাবে শ্রীহীন
সন্ধেবেলা আরামকেদারায় বসে খবরের কাগজে নজর বোলাচ্ছিলাম। এমন সময় সদর দরজা থেকে জোরালো আওয়াজ এলো, "কলমচি বাবু, বাড়ি আছো নাকি ?"
জবাবে বললাম, "হ্যাঁ, মামা, আসুন।"
অন্দরমহল থেকে চা-নাশতা এলো। আয়েশ করে চা-নাশতা খেতে খেতে জমে উঠল দু'জনের আসর। কথায় কথায় বললাম, আচ্ছা, মামা, আপনি যে ওকালতি পেশার সঙ্গে যুক্ত, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক আরবি-ফারসি শব্দ। জানেন তো ?
- তাই নাকি ! যেমন ?
- আদালত দিয়ে শুরু করি ?
- মানে ?
- মানে 'আদালত' আরবি। 'শুরু'ও আরবি।
- আদালত আরবি, জানতাম। কিন্তু, শুরুটাও আরবি ?
- আজ্ঞে হ্যাঁ। তারপর ধরুন, আপনি উকিল। ওকালতি আপনার পেশা। এখানে 'উকিল', 'ওকালতি' আরবি। আর 'পেশা'টা ফারসি।
- জানতাম না তো !
- তারপর দেখুন, 'মামলা', 'মোকদ্দমা' দুটোই আরবি। এতে যারা আপনাদের সাহায্য নেয়, তাদের আপনারা বলেন মক্কেল। এই 'মক্কেল'ও আরবি। 'হাকিম', 'হুকুম', 'এজাহার', 'বয়ান', 'ফরমান', 'ফয়সালা' এমনকি বিচারপতির 'রায়' পর্যন্ত আরবি। আচ্ছা, আসামি শব্দটা কোন্ ভাষা থেকে এসেছে বলুন তো ?
- আসাম থেকে ?
- নাহ্। 'আসামি' আরবি। এই আসামি বা সাক্ষীদের আপনারা তো জেরা বা সওয়াল করেন, 'জেরা' আর 'সওয়াল'ও আরবি।
- আজব ব্যাপার তো !
- 'আজব'টাও আরবি। আপনি যে ভিতরে আসার আগে সদর দরজায় দাঁড়িয়ে, 'কলমচি বাবু, বাড়ি আছো নাকি' বলে আওয়াজ দিয়েছিলেন। এখানে 'আওয়াজ' ফারসি। 'সদর' আরবি। 'দরজা' ফারসি। কলমচির 'কলম' আরবি, 'চি' তুর্কি। আর 'বাবু' হলো ফারসি।
- বেশ আজব ব্যাপার তো !
- এই 'বেশ'টা ফারসি। 'আজিব' আরবি। আর আমি জবাব দিয়েছিলাম, হ্যাঁ মামা, আসুন। এখানে 'জবাব' আরবি, 'মামা' ফারসি। তারপর, আপনি এসে দেখলেন যে, আমি আরামকেদারায় বসে খবরকাগজে নজর বোলাচ্ছিলাম। এখানে 'আরাম' ও 'কেদারা' ফারসি এবং 'খবর', 'কাগজ' ও 'নজর' আরবি।
- তার মানে, আমরা রোজকার জীবনে যেসব কথা বলি, তার বেশিরভাগই আরবি, ফারসি ?
- আলবত। এই 'আলবত'টাও আরবি। এক্ষুনি আপনি যে বললেন, রোজকার জীবনে... বেশিরভাগই... এখানে 'রোজকার' ফারসি, বেশিভাগের 'বেশি'টা ফারসি।
- কী মুশকিল ! এতদিন জানতাম না তো !
- 'মুশকিল' আরবি হলেও শুধু শুধু মুশকিল হবে কেন ! একটু অভিধান ঘাঁটলেই মুশকিল আসান হয়ে যাবে। তখন জানতে পারবেন 'আসান'ও আরবি। আচ্ছা, মনে করে দেখুন তো, আপনি আসার পর অন্দরমহল থেকে চা-নাশতা পাঠানো হলো। এখানে 'অন্দর' ফারসি, 'মহল' আরবি। আর নাশতাটা ?
- নিশ্চয়ই ফারসি।
- বিলকুল ঠিকই বলেছেন। 'নাশতা' ফারসি। দেখুন এই 'বিলকুল' হলো আরবি। আচ্ছা, এরপর আমরা আয়েশ করে নাশতা খেতে খেতে আসর জমিয়ে দিলাম। তাই না ?
- তাই তো, এর মধ্যেও আরবি-ফারসি আছে নাকি ?
- অবশ্যই আছে। আরবি-ফারসি বাদ দিলে বাংলা ভাষা সাবলীল গতিতে চলতেই পারবে না যে ! দেখুন আরাম শব্দটা ফারসি, আগেই আমরা জেনেছি। এর জুড়ি যে 'আয়েশ', এটা আরবি। আসর জমানোর মধ্যে 'আসর' ও 'জমা' দুটোই আরবি। আরবিতে 'আশর' মানে দশ। দশজন মিলে যে মজলিস হয়, সেটাই হয়েছে আসর। এক্ষুনি যে 'মজলিস' বললাম, এটাও আরবি। 'জলসা', 'মহফিল' এগুলোও আরবি। অবশ্য কলকাতার বাবুরা মহফিলকে 'মাইফেল' (গানবাজনার আসর) বানিয়ে নিয়েছে !
- তার মানে, আরবি-ফারসি বাদ দিলে বাংলা অচল !
- তা আর বলতে ! এই যে আপনি বললেন, মানে, এই 'মানে' শব্দটাও আরবি। বাদ দিলে বললেন তো ! 'বাদ'ও আরবি। বাদ না বলে 'বাতিল' বললে সেটাও আরবি। 'রদ' করলেও আরবি। আচ্ছা মামা, আমরা ফের আদালতের রাস্তায় ফিরে যাই চলুন। আসামিকে মাঝে মাঝে তো পুলিশের হেফাজতে রাখতে হয়। তারপর জামিন, খালাস ইত্যাদি থাকে। এখানে 'হেফাজত', 'জামিন', 'খালাস'— তিনটিই আরবি। আর হ্যাঁ, 'ফের' ও 'ফেরা' আরবি এবং 'রাস্তা' ফারসি।
'রাস্তা'য় 'ফির'তে গেলেও আরবি-ফারসি !
- এখন তো দেখছি, আরবি-ফারসি ছাড়া কদম ফেলাই যাবে না !
- কী করে যাবে ! 'কদম' শব্দটাও তো আরবি। আরেকটা চমকপ্রদ তথ্য শুনুন, আমরা এই যে কথায় কথায় বাঙালি, বাংলা ইত্যাদি বলছি, এর 'বাংলা' শব্দটাই তো ফারসি !
- সে কী ! জানতাম না তো ! বাংলা শব্দটাও ফারসি। কী আশ্চর্য !
- আচ্ছা, বাংলা ভাষায় এত বেশি এবং এমন সব অপরিহার্য আরবি-ফারসি শব্দের স্বচ্ছন্দ ব্যবহার থেকে কী বোঝা যায় ? এটাই বোঝা যায় যে, বাংলা ভাষার পুষ্টিসাধন ও সৌন্দর্যায়নে বিদেশি ভাষার অনেক বেশি অবদান আছে।
- অনেক কিছু জানলাম, বাবা !
- 'বাবা' তুর্কি। 'কাকা' ফারসি। তাই তো বলছি: আমরা, মানে বাঙালিরা জাতি-ধর্ম-সাক্ষর-নিরক্ষর নির্বিশেষে, হাজার হাজার আরবি-ফারসি শব্দ অহরহ ব্যবহার করছি ('হাজার' ফারসি) । এগুলো আমাদের মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ ও পুষ্ট করার পাশাপাশি মোলায়েমও করেছে ('মোলায়েম' ফারসি)। এসব শব্দকে আমরা বাংলা করেই নিয়েছি। আরবি-ফারসি বাদ দিলে বাংলা ভাষা হয়ে যাবে শ্রীহীন!
লিখেছেন : অনল পাল

হযরত ইউনুস (আ.) যখন তাঁর জাতির ঈমান আনার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেলেন, তখন তিনি আল্লাহর কাছে দুআ করলেন— "হে রব! আমার জাতি কু...
22/02/2026

হযরত ইউনুস (আ.) যখন তাঁর জাতির ঈমান আনার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেলেন, তখন তিনি আল্লাহর কাছে দুআ করলেন— "হে রব! আমার জাতি কুফরি ছাড়া আর কিছুই গ্রহণ করছে না। আপনি তাদের ওপর আপনার শাস্তি অবতীর্ণ করুন।" আল্লাহ তাআলা তাঁর দুআ কবুল করলেন এবং ওহী পাঠালেন যে, শীঘ্রই তাদের ওপর আযাব আসবে।

ইউনুস (আ.) তাঁর জাতিকে তিন দিন পর আযাব আসার কথা জানিয়ে দিলেন এবং তিনি নিজে তাঁর ছোট দুই সন্তান ও পরিবার নিয়ে শহর ছেড়ে এক পাহাড়ে আশ্রয় নিলেন। তিনি সেখান থেকে অপেক্ষা করছিলেন কখন নিনেভা শহরের ওপর আযাব নেমে আসে।

আল্লাহর নির্দেশে হযরত জিবরাঈল (আ.) জাহান্নামের আগুন থেকে একটি বার্লি (যব) দানার সমপরিমাণ উত্তাপ নিয়ে এলেন এবং তা নিনেভা শহরের ওপর ছড়িয়ে দিলেন। হঠাৎ আকাশ নিকষ কালো অন্ধকারের মতো হয়ে গেল এবং আযাব মেঘের মতো তাদের মাথার ওপর ঘুরপাক খেতে লাগল। প্রচণ্ড তাপদাহে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ল।

নিনেভাবাসী যখন বুঝতে পারল যে ইউনুস (আ.) সত্য বলেছেন এবং আযাব চলে এসেছে, তখন তারা তাঁকে খুঁজতে শুরু করল। কিন্তু ইউনুস (আ.)-কে কোথাও পাওয়া গেল না। তখন তারা সিদ্ধান্ত নিল যে, তারা সবাই মিলে আল্লাহর কাছে তওবা করবে। তারা শহরের বাইরে ‘তালআল-রামাদ’ (ছাইয়ের পাহাড়) নামক একটি স্থানে সমবেত হলো।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, তাদের তওবা ছিল অত্যন্ত মর্মস্পর্শী। তারা পুরুষ, নারী, শিশু এমনকি তাদের পশুপাখিগুলোকেও সাথে নিয়ে এল।

তারা দুগ্ধপোষ্য শিশুদের মায়েদের থেকে আলাদা করে দিল এবং পশুদের বাছুরগুলোকেও তাদের মায়েদের থেকে আলাদা করে দিল। এতে চারদিকে শিশু ও পশুদের কান্নার এক হৃদয়বিদারক রোল পড়ে গেল।

তারা সবাই নিজেদের মাথায় ছাই মেখে নিল, পায়ের নিচে কাঁটা বিছিয়ে দিল এবং খসখসে পশমের পোশাক পরে কান্নায় ভেঙে পড়ল।

মানুষ ও প্রাণীদের এই করুণ আর্তনাদ দেখে ফেরেশতারাও আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেন— "হে রব! আপনার রহমত তো সবকিছুর ঊর্ধ্বে। এই অবুঝ শিশু আর পশুদের ওপর দয়া করুন।" আল্লাহ তাআলা তাদের তওবা কবুল করলেন এবং জিবরাঈল (আ.)-কে নির্দেশ দিলেন আযাব তুলে নিতে।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন:

"ইউনুসের জাতি ছাড়া এমন কোনো জনপদ নেই যারা আযাব দেখার পর ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমান তাদের উপকারে এসেছে। তারা যখন ঈমান আনল, আমি তাদের ওপর থেকে দুনিয়ার লাঞ্ছনাদায়ক আযাব তুলে নিলাম।" (সূরা ইউনুস: ৯৮)

হযরত ইউনুস (আ.)-এর জাতির তওবা ছিল ইতিহাসের এক অনন্য উদাহরণ। তারা আযাব আসার শেষ মুহূর্তে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে এমনভাবে কাকুতি-মিনতি করেছিল যে, আল্লাহ তাঁর কঠিন আযাবও ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। এটি আমাদের শেখায় , তওবা যদি একনিষ্ঠ হয়, তবে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়ার কিছু নেই।

সূত্র: আত তাউওয়াবীন (ইবনে কুদামা আল-মাকদিসী রহ.)

একদা হযরত ঈসা (আঃ) একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আল্লাহর হুকুমে কবরের এক মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করলেন। লোকটি কবর...
20/02/2026

একদা হযরত ঈসা (আঃ) একটি কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি আল্লাহর হুকুমে কবরের এক মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করলেন। লোকটি কবরের মাটি ঝেড়ে উঠে দাঁড়াল। (উল্লেখ্য, হযরত ঈসা (আঃ)-এর অন্যতম প্রধান মুজেযা (অলৌকিক ক্ষমতা) ছিল, তিনি মহান আল্লাহর হুকুমে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতে পারতেন। )

হযরত ঈসা (আঃ) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "দুনিয়াতে তোমার কাজ কী ছিল?"

লোকটি উত্তর দিল, "হে আল্লাহর নবী! আমি একজন কুলি ছিলাম। মানুষের বোঝা মাথায় বহন করতাম এবং তা দিয়েই জীবিকা নির্বাহ করতাম। আমার জীবনটি খুব সাধারণ ছিল।"

হযরত ঈসা (আ.) জিজ্ঞেস করলেন, "তবে তোমার কবরের অবস্থা কী? তোমার হিসাব-নিকাশ কেমন চলছে?"

লোকটি কাঁদতে কাঁদতে বলল,

"একবার আমি এক ব্যক্তির এক বোঝা লাকড়ি (জ্বালানি কাঠ) মাথায় করে তার বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছিলাম। পথিমধ্যে আমার দাঁতের ফাঁকে কিছু একটা আটকে গিয়েছিল। আমি মালিকের অজান্তেই সেই লাকড়ির বোঝা থেকে একটি ছোট্ট কাঠি (খিলাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য) ভেঙে নিলাম এবং তা দিয়ে দাঁত খিলাল করলাম।

এরপর যখন আমার মৃত্যু হলো, আল্লাহ তা’আলা আমাকে বললেন, 'হে আমার বান্দা! তুমি কি জানতে না যে আমি তোমাকে আজ এই হিসাবের কাঠগড়ায় দাঁড় করাব? অমুক ব্যক্তি তার টাকা দিয়ে কাঠ কিনেছিল এবং তোমাকে মজুরি দিয়েছিল তা বয়ে নেওয়ার জন্য। তুমি সেই মালিকের অনুমতি ছাড়া কেন একটি কাঠি ভেঙে নিলে?'

হে আল্লাহর নবী! আল্লাহর কসম, আমি আজ ৪০ বছর ধরে এই একটিমাত্র খড়কুটোর হিসাব দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু আজও মুক্তি পাইনি! দয়া করে আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করুন।"

আমরা অনেক সময় অন্যের অতি ক্ষুদ্র জিনিস অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করি। আমরা একে খুব তুচ্ছ মনে করি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, আল্লাহর কাছে ‘আমানত’ অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। অন্যের হক যদি একটি খড়কুটোর সমপরিমাণও হয়, তবুও পরকালে তার কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব দিতে হবে।

(সূত্র: আয যাহরুল ফাইহ (ইমাম ইবনুল জাওযি রহ.)

আল্লাহ সবাইকে মাফ করুক আমিন

❌হারাম সহবাস : লজ্জা নয় জানা জরুরী!❌যেসব অবস্থায় নিজের স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হারাম।আমরা জানি, নিজ স্ত্রী ও অধিনস্ত দাসি...
05/02/2026

❌হারাম সহবাস : লজ্জা নয় জানা জরুরী!❌
যেসব অবস্থায় নিজের স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হারাম।

আমরা জানি, নিজ স্ত্রী ও অধিনস্ত দাসি ব্যতিত অন্যকারো সাথে সহবাসে লিপ্ত হওয়া হারাম। কিন্ত বর্তমান সময় দাসীর প্রচলন নেই; অতএব এটা বর্তমানে গ্রহণযোগ্য নয়। অথচ আমরা অনেকেই জানিনা যে, এমন কিছু সময় ও পন্থা রয়েছে, যে সময় ও পন্থায় নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হওয়াও হারাম।

❑ ইসলামে যে সময় ও পন্থায় নিজ স্ত্রীর সাথেও সহবাস করা হারাম, তা নিম্নে প্রদত্ত হলো—

১. হায়েজ ও নেফাস অবস্থায়:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
অনেক দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তিরা স্ত্রীর হায়েজ অবস্থাতেও সহবাসে লিপ্ত হয়। অথচ হায়েজ অবস্থায় সহবাসে লিপ্ত হওয়া সম্পুর্ণরুপে হারাম, হারাম, হারাম।

আল্লাহ তা’আলা বলেছেন—
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ ۖ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ [٢:٢٢٢]

অর্থাৎ, আর তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে। বলে দিন, এটা অশুচি(কষ্ট)। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রী-গমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না, যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে, তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। [সূরা বাকারা, আয়াত: ২২২]

❑ এমনিভাবে কোন মহিলার সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর যে কয়েকদিন ব্লাড( রক্ত) আসে এই দিনগুলোকে নেফাস বলে, এর সর্বোচ্চ মেয়াদ চল্লিশ দিন। কমের কোন নির্ধারিত মেয়াদ নেই। এই নেফাস চলাকালীন সময়গুলোতেও স্ত্রী সহবাস করা হারাম। অথচ অনেকেই না জানার কারণে এই সময়ে সহবাসে লিপ্ত হয়, যা হারাম।

❑ অবশ্য, হায়েয ও নেফাস অবস্থায় সহবাসে লিপ্ত না হয়ে স্ত্রীর নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত অংশ বাদ দিয়ে বাকী অঙ্গ দিয়ে উপভোগ করা জায়েয আছে। কিন্তু নাভী থেকে হাটু পর্যন্ত অংশে উপভোগ গ্রহণ করা সম্পূর্ণ হারাম।

২. রোযা অবস্থায়:
▬▬▬▬▬▬▬▬☞
রমাযানের রোযা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস হারাম। কেননা রোযা হচ্ছে, “আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে ফজর হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার ও যৌনসঙ্গম হতে বিরত থাকার নাম। কেউ যদি রোযা অবস্থায় সহবাস করে, তাহলে সে অনেক বড় পাপে লিপ্ত হবে, তার রোযা ভেঙ্গে যাবে এবং তাকে অনেক বড় কাফফারা দিতে হবে।”[ফাতহুল বারী, ৪/১৩২]

তবে, রমযানে রাতের বেলা অর্থাৎ- ইফতার থেকে নিয়ে সাহরি পর্যন্ত সহবাস করা সম্পুর্ণরুপে জায়েজ।

আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, اُحِلَّ لَکُمۡ لَیۡلَۃَ الصِّیَامِ الرَّفَثُ اِلٰی نِسَآئِکُمۡ ؕ“আর সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের নিকট গমন হালাল করা হয়েছে।”[সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৭]

আর নফল রোযা অবস্থায় সহবাস করে ফেললে কোন কাফফারা নেই। তবে রোযা ভেঙ্গে যাবে। কাজেই, স্বামীর উচিত, ধৈর্যধারণ করা, রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করা।

৩. স্ত্রীর পিছনের রাস্তায়(মলদ্বারে) সহবাস:
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
অনেক বিকৃত মানসিকতার মানুষ হালাল প্রন্থা ছেড়ে স্ত্রীর মলদ্বারে সহবাসে লিপ্ত হয়। ইদানিং পশ্চিমা ইতরশ্রেণির মানুষদের কালচার মুসলিম সমাজেও ছয়লাভ হচ্ছে। অথচ এটি একটি অতিব নোংরা, নিকৃষ্ট কাজ। এই কাজটি তো হারামই, এমনকি কাজটি নবীজির ভাষায় ‘কুফুরীর নামান্তর’।

রাসূল (ﷺ) বলেছেন,
مَنْ أَتَى حَائِضًا، أَوِ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا، أَوْ كَاهِنًا، فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ.
“যে ব্যক্তি কোন ঋতুবতীর সাথে মিলিত হয় কিংবা কোন মহিলার পায়ুপথে সঙ্গম করে অথবা কোন গণকের নিকটে যায়, নিশ্চয়ই সে মুহাম্মাদের উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করে’।”[তিরমিযী, হাদীস নং-১৩৫, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৬৩৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৯২৯০]

অপর হাদিসে রাসূল (ﷺ) বলেছেন,
لَا يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَى رَجُلٍ أَتَى امْرَأَةً فِي الدُّبُرِ
“যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর পায়ুপথে সহবাস করে আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।”[তিরমিযি, হাদিস নং-১১৬৫]

আরেক হাদিসে রাসূল (ﷺ) বলেছেন,
مَلْعُونٌ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ فِي دُبُرِهَ
“যে ব্যক্তি স্ত্রীর সাথে নিতম্বে সহবাস করে সে লা’নত প্রাপ্ত।”[আবু দাউদ, হাদিস-২১৬২]

আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে পবিত্র তথা হালাল প্রন্থা অবলম্বন করার তাওফ্বীক দান করুন, দ্বীন ইসলাম বুঝে-শুনে সেই অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন।

— মু. আব্দুল মালেক (হাফি.)

Allah Please Help The Muslim-Ummah

29/01/2026

"তাহাজ্জুদ নামাজের শক্তি"

তাহাজ্জুদ নামাজ ইসলামের একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল ইবাদত, যা রাতে ঘুম থেকে উঠে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আদায় করা হয়। এর শাব্দিক অর্থ "ঘুম ত্যাগ করা" বা "রাত জাগা"। এই নামাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সাথে একান্ত সম্পর্ক গড়ে তোলে, দোয়া কবুল হয় এবং গুনাহ মাফ হয়। কুরআন ও হাদিসে এর অসংখ্য ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। নবীজি (সা.) নিয়মিত এই নামাজ আদায় করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামও এটি অনুসরণ করতেন। নীচে ধাপে ধাপে কীভাবে পড়তে হয় এবং এর ফজিলত কুরআন ও হাদিসের আলোকে সাজিয়ে বর্ণনা করা হলো।

✅ তাহাজ্জুদ নামাজ কীভাবে পড়তে হয়

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার জন্য প্রথমে রাতে ঘুমিয়ে তারপর উঠতে হয়, অন্যথায় এটি কিয়ামুল লাইল হিসেবে গণ্য হবে। এটি ফরজ নয়, নফল, কিন্তু ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ।

১। সময়: ইশা'র নামাজের পর থেকে সুবহে সাদিক (ফজরের সময় শুরু হওয়ার আগে) পর্যন্ত। সর্বোত্তম সময় রাতের শেষ তৃতীয়াংশ (মধ্যরাত থেকে ফজরের আগে)। যদি ঘুম না ভাঙে, তাহলে ইশা'র পর বিতরের আগে পড়া যায়, তবে ঘুম থেকে উঠে পড়লে ফজিলত বেশি।

২। নিয়ত: নিয়ত হৃদয়ে করাই যথেষ্ট, মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক নয়। তবে চাইলে আরবিতে বলা যায়:
"নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা'আলা রাক'আতাইন সালাতিত তাহাজ্জুদি সুন্নাতু রাসূলিল্লাহি তা'আলা মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা'বাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।"
(অর্থ: আমি দুই রাকাত তাহাজ্জুদের নফল নামাজের নিয়ত করলাম আল্লাহর জন্য, কিবলামুখী হয়ে, আল্লাহু আকবার।)
রাকাত সংখ্যা অনুসারে নিয়ত পরিবর্তন করা যায়।

৩। রাকাত সংখ্যা: নির্দিষ্ট নেই, তবে ২ থেকে ১২ রাকাত পর্যন্ত। দুই দুই রাকাত করে পড়া উত্তম। নবীজি (সা.) ৪, ৮, ১১ বা ১৩ রাকাত আদায় করতেন। শেষে বিতর নামাজ পড়া যায়। ন্যূনতম ২ রাকাতও যথেষ্ট।

৪। পড়ার ধাপ:

➡️ অজু করে পবিত্র অবস্থায় কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ান।

➡️ তাকবীরে তাহরিমা বলুন: "আল্লাহু আকবার"।

➡️ প্রথম রাকাত: সানা পড়ুন ("সুবহানাকা আল্লাহুম্মা..."), তারপর সুরা ফাতিহা, তারপর কুরআনের অন্য সুরা (লম্বা সুরা উত্তম, যেমন সুরা বাকারা, আলে ইমরান, নিসা; অথবা সুরা ইখলাস ১-১২ বার, আয়াতুল কুরসি, সুরা মুজ্জাম্মিল ইত্যাদি)।

➡️ রুকু: "সুবহানা রাব্বিয়াল আজিম" (৩ বার)।

➡️ সিজদা: "সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা" (৩ বার)।

➡️ দ্বিতীয় রাকাত: একইভাবে সুরা ফাতিহা + সুরা। তারপর তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরান।

➡️ প্রতি দুই রাকাত পর সালাম ফিরিয়ে নতুন করে শুরু করুন।

➡️ নামাজের পর দোয়া করুন, বিশেষ করে নিজের ভাষায়। নারীরা ঘরে একাকী পড়তে পারেন।

✅ তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত (কুরআনের আলোকে)

কুরআন মজিদে তাহাজ্জুদের ফজিলত অসংখ্য আয়াতে বর্ণিত। এটি আল্লাহর প্রিয় হওয়ার মাধ্যম, গুনাহ মাফের উপায় এবং জান্নাতের মর্যাদা লাভের সিঁড়ি।

➡️ সুরা আল-ইসরা (বনী ইসরাইল), আয়াত ৭৯: "وَمِنَ ٱلَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِۦ نَافِلَةًۭ لَّكَ عَسَىٰٓ أَن يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًۭا مَّحْمُودًۭا"
(অর্থ: "রাত্রির একাংশে তাহাজ্জুদের জন্য উঠো; এটা তোমার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত। সম্ভবত তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে প্রতিষ্ঠিত করবেন।")

ফজিলত: এটি নবীজি (সা.)-এর জন্য অতিরিক্ত ইবাদত হিসেবে নির্দেশিত, যা মর্যাদা বৃদ্ধি করে।

➡️ সুরা আয-যারিয়াত, আয়াত ১৭-১৮: "كَانُوا۟ قَلِيلًۭا مِّنَ ٱلَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ وَبِٱلْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ"
(অর্থ: "তারা রাত্রির সামান্য অংশই ঘুমাত। এবং শেষ রাতে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতো।")

ফজিলত: মুমিনদের বৈশিষ্ট্য হিসেবে রাত জাগা এবং ক্ষমা চাওয়া উল্লেখ, যা আল্লাহর রহমত আকর্ষণ করে।

➡️ সুরা আস-সাজদাহ, আয়াত ১৬: "تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ ٱلْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًۭا وَطَمَعًۭا وَمِمَّا رَزَقْنَـٰهُمْ يُنفِقُونَ"
(অর্থ: "তাদের পার্শ্ব বিছানা থেকে দূরে সরিয়ে রাখে, তারা তাদের প্রতিপালককে ডাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যা দিয়েছি তা থেকে তারা ব্যয় করে।")

ফজিলত: ঘুম ত্যাগ করে দোয়া করা মুমিনদের গুণ, যা জান্নাতের পুরস্কার নিয়ে আসে।

➡️ সুরা আল-মুজ্জাম্মিল, আয়াত ১-৪ ও ২০: "يَـٰٓأَيُّهَا ٱلْمُزَّمِّلُ قُمِ ٱلَّيْلَ إِلَّا قَلِيلًۭا نِّصْفَهُۥٓ أَوِ ٱنقُصْ مِنْهُ قَلِيلًۭا أَوْ زِدْ عَلَيْهِ وَرَتِّلِ ٱلْقُرْءَانَ تَرْتِيلًۭا"
(অর্থ: "হে বস্ত্রাবৃত! রাতে দাঁড়াও, অল্প অংশ বাদ দিয়ে... কুরআন ধীরে ধীরে পড়ো।") এবং আয়াত ২০: রাতের অংশ জেগে কুরআন পড়া।

ফজিলত: নবীজি (সা.)-এর জন্য রাত জাগা ও কুরআন তিলাওয়াতের নির্দেশ, যা সকল মুসলিমের জন্য অনুসরণীয়।

✅ তাহাজ্জুদ নামাজের ফজিলত (হাদিসের আলোকে)

হাদিসে তাহাজ্জুদকে ফরজের পর সর্বোত্তম নামাজ বলা হয়েছে। এটি দোয়া কবুল, গুনাহ মাফ, শয়তান থেকে রক্ষা এবং আল্লাহর প্রিয় হওয়ার মাধ্যম।

➡️ হাদিস: "أفضل الصلاة بعد الفريضة صلاة الليل"
(অর্থ: "ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হচ্ছে রাতের নামাজ।")
(সহীহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৩)

ফজিলত: এটি সকল নফল নামাজের চেয়ে উত্তম।

➡️ হাদিস: "ينزل ربُّنا تبارك وتعالى كلَّ ليلةٍ إلى السَّماءِ الدُّنيا حينَ يبقى ثلثُ اللَّيلِ الآخرُ فيقولُ: مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ؟ مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ؟ مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ؟"
(অর্থ: "প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ পৃথিবীর নিকটবর্তী আকাশে নেমে আসেন এবং বলেন: কে আমাকে ডাকবে, আমি সাড়া দেব? কে চাইবে, আমি দেব? কে ক্ষমা চাইবে, আমি ক্ষমা করব?")
(সহীহ বুখারী, হাদিস: ১১৪৫; সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৭৫৮)

ফজিলত: এ সময় দোয়া কবুল হয়, ক্ষমা মেলে।

➡️ হাদিস: "কানَ রাসূলুল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামা ইউসাল্লি মিনাল লাইলি সালাসা আশরাতা রাক'আতান"
(অর্থ: "রাসূলুল্লাহ (সা.) রাতে ১৩ রাকাত নামাজ আদায় করতেন।")
(সহীহ বুখারী, হাদিস: ১১৪৭)

ফজিলত: নবীজি (সা.)-এর অনুসরণ করে পড়লে অশেষ সওয়াব।

➡️ হাদিস: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে: "আল্লাহ ওই ব্যক্তির ওপর রহমত নাজিল করেন, যিনি রাতে নিদ্রা থেকে জেগে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন এবং তার স্ত্রীকে জাগিয়ে দেন..."
(আবু দাউদ, হাদিস: ১৩০৮)

ফজিলত: পরিবারসহ পড়লে রহমত বর্ষিত হয়, শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মুক্তি।

✅ অন্যান্য ফজিলত: গুনাহ মাফ, জান্নাতের উচ্চ মর্যাদা, কিয়ামতের দিন আলো, শত্রুর ক্ষতি থেকে রক্ষা, আত্মার উন্নয়ন। যারা ১০ আয়াত তিলাওয়াত করেন, তাদের জন্য বিশেষ পুরস্কার।
তাহাজ্জুদ নামাজ নিয়মিত আদায় করলে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়া যায়। এটি না পড়লে গুনাহ হয় না, কিন্তু সুযোগ থাকলে অবশ্যই পড়া উচিত।

28/01/2026

“শয়তান মানুষের সামনে ভালোর মোড়কে নিরানব্বইটা দরজা খুলে দিতে পারে, যার মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য থাকে কেবল একটা মন্দের দরজায় মানুষকে ঢুকিয়ে দেওয়া।”

— আল-হাসান ইবনে সালিহ (রহ.)
[হিলয়াতুল আউলিয়া: ৭/৩৩১]

26/01/2026

শয়তান ৩ দরজা দিয়ে আক্রমণ করে:

১. প্রয়োজনের বেশি :
মানুষ যখন প্রয়োজনের চেয়ে বেশির পিছু ছুটে, তখন শয়তান এটাকে ব্যক্তির অন্তরে ঢোকার দরজা হিসেবে গ্রহণ করে। এটা থেকে বাঁচার উপায় হলো, “মন যা যায়– যেমন: খাওয়া দাওয়া, ঘুম, ভোগ-বিলাস আর আরাম-আয়েশ জাতীয় এসব কিছু পূরণ করা যাবে না। যখন আপনি এই দরজা বন্ধ করে দিবেন, তখন শত্রুর আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকবেন।

২। গাফলতি :
যে আল্লাহকে স্মরণ করে, সে একটি মজবুত দুর্গের ভিতর চলে যায়। কিন্তু এরপর সে যদি গাফেল হয়ে পড়ে, দুর্গের দরজা খুলে যায় এবং শত্রুরা ঢুকে পড়ে; তখন ব্যক্তিকে বাঁচানো কঠিন।

৩। অহেতুক বিষয় :
যে জিনিসের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই কিংবা যে বিষয়ে তার মাথা ঘামানোর প্রয়োজন নেই— এমন অহেতুক বিষয়ে যে নিজেকে জড়ায়, শয়তান তাকে পেয়ে বসে।

- ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)
[আল-ফাওয়ায়িদ, ১/২৭৭]

আঙ্গুলের ছাপে লুকানো মহাবিশ্ব এবং ডিজিটাল পরিচয়ের ঐশ্বরিক অলৌকিকতা: ১৬ বিলিয়ন আঙুলের ছাপের অনন্যতা এবং "আল-মুসাওয়ির" ...
22/01/2026

আঙ্গুলের ছাপে লুকানো মহাবিশ্ব এবং ডিজিটাল পরিচয়ের ঐশ্বরিক অলৌকিকতা: ১৬ বিলিয়ন আঙুলের ছাপের অনন্যতা এবং "আল-মুসাওয়ির" বৈজ্ঞানিক চ্যালেঞ্জ! -

এক মুহূর্তের জন্য থামুন, আপনার ডান হাত তুলুন এবং আপনার বুড়ো আঙুলের (থাম্ব) ছাপটি ভালো করে দেখুন।

দেখতে তো এটা মাংস এবং চামড়ার একটা সাধারণ, ছোট্ট টুকরো মনে হয়, যার উপর কিছু রেখা, কিছু বৃত্ত এবং কিছু ঘূর্ণি আঁকা।

আপনি প্রতিদিন এই বুড়ো আঙুল দিয়ে মোবাইল আনলক করেন, কাগজে সই করেন এবং জিনিসপত্র ধরেন।

কিন্তু আপনি কি জানেন যে, আপনি এখন আপনার চোখের সামনে মহাবিশ্বের সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে জটিল এবং সবচেয়ে অবিশ্বাস্য "গাণিতিক ও জৈবিক অলৌকিকতা" দেখছেন?

আজকের বিশ্বে ৮২০ কোটি (৮.২ বিলিয়ন) মানুষ শ্বাস নিচ্ছে। প্রত্যেক মানুষের দুটি বুড়ো আঙুল আছে। অর্থাৎ এখন পৃথিবীতে ১৬৪০ কোটি বুড়ো আঙুল রয়েছে। আর যদি আমরা মানব ইতিহাসের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত জন্ম নেওয়া এবং মারা যাওয়া মানুষের অনুমান করি (যা গবেষকদের মতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন), তাহলে এই সংখ্যা ট্রিলিয়নে পৌঁছে যায়।

কিন্তু এখানে এসে মানুষের বুদ্ধি, সবচেয়ে আধুনিক সুপার কম্পিউটার এবং ডারউইনের তত্ত্ব সবাই সিজদায় লুটিয়ে পড়ে। এটা এমন একটা সত্য যা জীববিজ্ঞান এবং গণিতের নিয়মগুলোকে হিলিয়ে দিয়েছে:

"আজ পর্যন্ত জন্ম নেওয়া ট্রিলিয়ন মানুষের মধ্যে কোনো দুজনের, এমনকি অভিন্ন যমজ ভাইদের (Identical Twins)ও, আঙুলের ছাপ একে অপরের সাথে মিলে না।"

প্রত্যেক আঙুলের ছাপ, প্রত্যেক আঙুলের প্যাটার্ন, একটা "অনন্য ডিজাইন" (Unique Design) যা মহাবিশ্বের পুরো ইতিহাসে কখনো আগে তৈরি হয়নি, এবং কিয়ামত পর্যন্ত আবার তৈরি হবে না।

প্রশ্ন হলো, মাত্র দুই থেকে তিন বর্গ সেন্টিমিটারের ছোট্ট জায়গায়, চামড়ার এই সূক্ষ্ম রেখাগুলোতে এত "অসীম বৈচিত্র্য" (Infinite Variety) কীভাবে ধরে রাখতে পারে?

এটা কি অন্ধ বিবর্তন?
এটা কি পদার্থের দুর্ঘটনাজনিত খেলা?
নাকি এটা সেই "আল-মুসাওয়ির" (আকৃতি দানকারী) এর স্বাক্ষর, যিনি প্রত্যেক মানুষকে তার নিজস্ব আলাদা ও অনন্য পরিচয় দিয়ে সৃষ্টি করেছেন?

আজ আমি আপনাদের ডার্মাটোগ্লিফিক্স (Dermatoglyphics) এর ল্যাবরেটরি এবং কুরআনের হিকমতের মিলনস্থলে নিয়ে যাব, যেখানে আমরা দেখব যে আপনার আঙুলের ছাপ শুধু বায়োমেট্রিক আইডি নয়, বরং আল্লাহর অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

গল্পের শুরু মায়ের গর্ভের সেই অন্ধকার কক্ষ থেকে, যেখানে জীবন গঠিত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটা বুঝেছিলেন যে আঙুলের ছাপ শুধু "জিন" (Genes) এর খেলা। কিন্তু তারপর এক অদ্ভুত রহস্য সামনে এল।

অভিন্ন যমজ বাচ্চারা (Identical Twins), যাদের ডিএনএ ১০০% একই, তাদের চেহারা মিলে যায়, কণ্ঠস্বর মিলে যায়, কিন্তু তাদের আঙুলের ছাপ ভিন্ন কেন?

এখানে এসে বিজ্ঞানকে স্বীকার করতে হয়েছে যে আঙুলের ছাপ তৈরি হওয়া শুধু জেনেটিক কোডিং নয়, বরং এটা "কেয়াস থিয়োরি" (Chaos Theory) বা প্রকাশের তত্ত্বের একটা শ্রেষ্ঠকর্ম।

যখন বাচ্চা মায়ের গর্ভে ১০ সপ্তাহের হয়, তখন তার আঙুলে "ভোলার প্যাডস" (Volar Pads) উঠতে শুরু করে। কিন্তু এই রেখাগুলোর চূড়ান্ত ডিজাইন ১৭তম সপ্তাহ পর্যন্ত সম্পূর্ণ হয়।

এই সময়ে কী হয়?

মায়ের গর্ভে অ্যামনিয়োটিক ফ্লুইড (Amniotic Fluid) এর চাপ, বাচ্চার অবস্থান, বাচ্চার গর্ভের দেয়াল স্পর্শ করা, নাভির কর্ড (Umbilical Cord) এর দৈর্ঘ্য, মায়ের রক্তচাপ, এবং এমনকি আঙুলের নড়াচড়ার গতি—এই লক্ষ লক্ষ "পরিবর্তনশীল" (Variables) মিলে এই ডিজাইন গঠন করে।

এটা ঠিক যেমন কোনো চিত্রকর বাতাসে ব্রাশ ঘুরিয়ে দেন এবং প্রতিবার ক্যানভাসে একটা নতুন ও অনন্য শিল্পকর্ম তৈরি হয়ে যায়।

বিজ্ঞানীরা বলেন, এই সব উপাদানের ঠিক একই ক্রমে, একই তীব্রতায় আবার ঘটা গাণিতিকভাবে "অসম্ভব" (Impossible)।

অর্থাৎ আল্লাহ প্রত্যেক মানুষের সৃষ্টির জন্য একটা "অনন্য পরিবেশ" সাজিয়েছেন যা আর কখনো পুনরাবৃত্তি করা যাবে না।

এটা প্রমাণ করে যে প্রত্যেক মানুষ আল্লাহর কাছে "বিশেষ" (Special)। তিনি "মাস প্রোডাকশন" (Mass Production) করেন না, তিনি প্রত্যেকটাকে "কাস্টম মেড" (Custom Made) বানান।

এবার গণিতের ময়দানে আসুন। স্যার ফ্রান্সিস গালটন (Sir Francis Galton), যিনি আঙুলের ছাপ বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন, তিনি একটা সহজ গাণিতিক হিসাব করেছিলেন।

তিনি বলেছিলেন যে, যদি আমরা আঙুলের ছাপের শুধু কয়েকটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য (রিজ, লুপ, হুয়ার্ল) নিই, তাহলে দুজন মানুষের আঙুলের ছাপ মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা ৬৪ বিলিয়নের মধ্যে একটি (১ in ৬৪ বিলিয়ন)।

এটা ছিল উনিশ শতকের হিসাব। আজকের আধুনিক প্রযুক্তির মতে এই সম্ভাবনা ট্রিলিয়ন এর মধ্যে একটি।

এই "স্পেস" (জায়গা) এর কল্পনা করুন!

আপনার কাছে মাত্র ২ সেন্টিমিটার জায়গা আছে। আপনাকে এর মধ্যে রেখা আঁকতে হবে।

আপনি কতগুলো ডিজাইন বানাতে পারেন?

১০টা?
১০০টা?
হাজারটা?
লক্ষটা?

কিন্তু এখানে ১০০ বিলিয়নের বেশি ডিজাইন তৈরি হয়ে গেছে এবং "স্টক" এখনো শেষ হয়নি।

এটা "সীমিতের মধ্যে অসীম" (Infinity within the Finite) এর সেই ধারণা যা মানুষের বুদ্ধিকে স্তব্ধ করে দেয়।

এই ডিজাইনগুলো কে বানিয়েছে?

যদি এগুলো "ন্যাচারাল সিলেকশন" (বিবর্তন) এর ফল হতো, তাহলে বিবর্তন সবসময় "সবচেয়ে ভালো" টাকে বেছে নিত।

যেমন গাড়ির টায়ারের একটা ডিজাইন যা রাস্তায় সবচেয়ে ভালো গ্রিপ দেয়, সব টায়ার কোম্পানি সেই একই ডিজাইন বানায়।

যদি আঙুলের ছাপের উদ্দেশ্য শুধু "জিনিস ধরা" (গ্রিপ) হতো, তাহলে সব মানুষের হাতে "একই সেরা ডিজাইন" থাকা উচিত ছিল (যেমন সোজা রেখা)।

কিন্তু তা নেই।

প্রত্যেক আঙুলের ডিজাইন আলাদা।

কেন?

কারণ এখানে উদ্দেশ্য শুধু "গ্রিপ" নয়, এখানে উদ্দেশ্য "পরিচয়" (Identity)।

এখানে উদ্দেশ্য এটা বলা যে "আমি সেই, যে আর কেউ নয়।" এই অনন্যতা (Individuality) অন্ধ পদার্থ থেকে উৎপন্ন হতে পারে না।

পদার্থ অন্ধ, সে প্যাটার্ন পুনরাবৃত্তি করতে পারে, কিন্তু সে খর্ব বার "অনন্যতা" (Uniqueness) তৈরি করতে পারে না।

এই কাজ শুধু একজন "আলীম ও খবীর" সত্তাই করতে পারেন যাঁর কাছে ডিজাইনের অফুরন্ত ভাণ্ডার আছে।

এবার ইতিহাসের পাতা উল্টান এবং কুরআন মজীদের সেই অলৌকিকতার দৃশ্য দেখুন যা ১৪০০ বছর আগে আরবের মরুভূমিতে নাযিল হয়েছিল।

যখন মক্কার কাফিররা নবী করীম (সা.) এর মজা উড়াত এবং পচা হাড় হাতে নিয়ে বলত:

"হে মুহাম্মদ (সা.)! তোমার রব কি এই পচা হাড়গুলোকে আবার জীবিত করবেন? এটা কীভাবে সম্ভব?"

তখন আল্লাহ তাদের জবাবে মুখ, চোখ বা হৃদয়ের উল্লেখ করেননি, বরং এমন একটা জিনিসের উল্লেখ করেছেন যা সেই সময় কারো কল্পনাতেও ছিল না যে তার কোনো গুরুত্ব থাকতে পারে।

সূরা কিয়ামাহ, আয়াত ৩ ও ৪-এ আল্লাহ বলেন:

أَيَحْسَبُ الْإِنسَانُ أَلَّن نَّجْمَعَ عِظَامَهُ بَلَىٰ قَادِرِينَ عَلَىٰ أَن نُّسَوِّيَ بَنَانَهُ“

(মানুষ কি মনে করে যে আমরা তার হাড়গুলো জড়ো করতে পারব না? কেন পারব না! বরং আমরা তো তার " আঙুলের ছাপকেও ঠিক করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখি।

"بنانہ" (তার আঙুলের ডগা) শব্দটির উপর চিন্তা করুন!

আল্লাহ কেন এটা বলেননি যে আমরা তার মুখ বানিয়ে দেব?
বা তার নাক বানিয়ে দেব?

কারণ আল্লাহ জানতেন যে মুখ মিলে যেতে পারে (খুব কম হলেও), ডিএনএ মিলে যেতে পারে (যমজ বাচ্চাদের), কিন্তু "পুর" (আঙুলের ডগা) সেই একমাত্র জিনিস যা কখনো মিলবে না।

কিয়ামতের দিন মানুষের "পরিচয়" তার আঙুলের ছাপ দিয়ে হবে।

আজ ১৪ শতাব্দী পর, যখন আমরা এয়ারপোর্টে যাই, ইমিগ্রেশন অফিসার মুখ দেখে সন্তুষ্ট হন না, তিনি বলেন "আপনার আঙুল মেশিনে রাখুন।" যখন আমরা ফোন আনলক করি, পাসওয়ার্ডের বদলে আঙুল দিই।

আজকের প্রযুক্তি প্রমাণ করেছে যে মানুষের "চূড়ান্ত পরিচয়" (Ultimate ID) তার আঙুল। আর কুরআন ১৪০০ বছর আগে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল যে

"আমরা তোমাদের আঙুলের রেখাগুলোকেও আবার বানাতে সক্ষম।"

এই আয়াত প্রমাণ করে যে কুরআনের রচয়িতা সেই একই সত্তা যিনি আঙুলের ডিজাইন বানিয়েছেন। এই দুটি বই (কুরআন ও বিশ্বজগৎ) একই লেখকের লেখা।

এখানে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় "ফরেনসিক সায়েন্স" (Forensic Science) এর।

উনিশ শতকের আগে পৃথিবীর কোনো অপরাধী জানত না যে সে তার পেছনে কী রেখে যাচ্ছে। চোর চুরি করত, খুনি খুন করত এবং তার হাতের চিহ্ন সর্বত্র রেখে যেত। তার মনে হতো সে কোনো প্রমাণ রাখেনি।

কিন্তু আল্লাহর ব্যবস্থা দেখুন!

আল্লাহ প্রত্যেক মানুষের হাতে একটা "প্রাকৃতিক সিল" (Natural Stamp) লাগিয়ে দিয়েছেন। আপনি যা কিছু স্পর্শ করেন, সেখানে আপনি আপনার "স্বাক্ষর" রেখে যান।

এটা আল্লাহর "ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা"।

দুনিয়ায় হয়তো আপনি বেঁচে যান, কিন্তু আপনার হাত সাক্ষ্য দিচ্ছে। কুরআন বলে:

" الیوم نختم علی افواھھم و تکلمنا ایدھم
(আজ আমরা তাদের মুখে সিল মেরে দেব এবং তাদের হাত আমাদের সাথে কথা বলবে) [ইয়াসীন: ৬৫]।

আগে লোকেরা ভাবত হাত কীভাবে কথা বলবে?
আজ বিজ্ঞান বলছে হাতের চিহ্ন (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) কথা বলে। এগুলো বলে যে

"এই ব্যক্তি এখানে ছিল, সে এই বন্দুক ধরেছিল, সে এই চুরি করেছিল।"

এই আঙুল আপনার বিরুদ্ধে আল্লাহর সাক্ষী।

আজকের যুগে যখন আমরা "ইনক্লুশন" এবং "আইডেন্টিটি" নিয়ে কথা বলি, তখন আঙুলের ছাপ আমাদের একটা খুব সুন্দর সামাজিক শিক্ষাও দেয়।

পৃথিবীতে কোনো মানুষ "অপ্রয়োজনীয়" (Redundant) নয়। আফ্রিকার জঙ্গলে বাসকারী হাবশী হোক বা নিউইয়র্কের পেন্টহাউসে বাসকারী বিলিয়নিয়ার, মজদুর হোক বা বাদশাহ—প্রকৃতির দৃষ্টিতে সবার পরিচয় "অনন্য"।

আল্লাহ কারো "কার্বন কপি" বানাননি। প্রত্যেক আঙুল একটা আলাদা গল্প, একটা আলাদা কোড এবং একটা আলাদা শিল্পকর্ম। এটা প্রমাণ করে যে আল্লাহর ভাণ্ডারে ডিজাইনের কোনো অভাব নেই। তিনি প্রথমবার সৃষ্টিকার যিনি প্রতিবার নতুন কিছু সৃষ্টি করেন।

নাস্তিকরা বলে বিশ্বজগতে "শৃঙ্খলা" (Order) নেই। তারা বলে সবকিছু র‍্যান্ডম। আমি তাদের জিজ্ঞাসা করি:

"১৬ বিলিয়ন আঙুলের মধ্যে একটাও অন্যটার সাথে না মেলা কি 'র‍্যান্ডমনেস' না 'অত্যন্ত সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ'?"

যদি এটা র‍্যান্ডম হতো, তাহলে কোথাও না কোথাও, কখনো না কখনো দুটো ডিজাইন মিলে যেত। ১০০ বিলিয়ন মানুষের মধ্যে একবার তো "ভাগ্য" লাগত।

কিন্তু লাগেনি!

এটা "জিরো এরর" (Zero Error)। এটা প্রমাণ করে যে এই পুরো যন্ত্রপাতি চালানোর পেছনে একটা "সুপার ইন্টেলিজেন্ট মাইন্ড" আছে যিনি প্রত্যেক শুক্রাণুর বিভাজন, প্রত্যেক কোষের নড়াচড়া এবং প্রত্যেক রেখার কোণ নিয়ন্ত্রণ করছেন।

হে মানুষ!

তুমি নিজেকে তুচ্ছ মনে করো?
তুমি মনে করো তুমি মাটির ঢেলা আর মরে শেষ হয়ে যাবে?

তোমার আঙুলের দিকে তাকাও!

এই তোমার আঙুল তোমার রবের পক্ষ থেকে তোমার জন্য লেখা একটা "লাভ লেটার" (Love Letter)। এটা তোমাকে বলছে যে তোমার রব তোমাকে বিলিয়ন মানুষের ভিড়ের মধ্যেও "একা" চিনতে পারেন। তিনি তোমাকে ভুলে যাননি। যে রব তোমার আঙুলের ডগায় এত পরিশ্রম করেছেন যে সেই রকম রেখা বিশ্বজগতে আর কাউকে দেননি, তিনি কি তোমাকে এমনি অর্থহীন ও বেকার ছেড়ে দেবেন?

প্রতিবার যখন তুমি তোমার আঙুল দেখবে, তাকে শুধু মাংসের টুকরো মনে করো না, তাকে "আল্লাহর স্বাক্ষর" মনে করো।

এটা সেই শিল্পীর স্বাক্ষর যিনি তার ছবি (তুমি) এর উপর সই করে গর্ব করেন যে

فتبارک الله احسن الخالقین
বরকত ময় সত্তা আল্লাহ যিনি উত্তম সৃষ্টিকারী

এই পরিচয়ের হেফাজত করো। তোমার হাতগুলোকে জুলুম ও গুনাহ দিয়ে নোংরা করো না, কারণ এই হাত, এই রেখা আর এই আঙুল একদিন সেই আদালতে হাজির হবে যেখানে কোনো মিথ্যা চলে না, শুধু "বায়োমেট্রিক সাক্ষ্য" চলে।

اردو تحریر سر بلال شوکت ازاد
مترجم رکؤل شیخ

Address

Dhaka
1229

Telephone

+8801799665982

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Allah Please Help The Muslim-Ummah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category