Allah Please Help The Muslim-Ummah

Allah  Please  Help  The  Muslim-Ummah "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ"

02/08/2026
06/07/2026

ءমানুষ যখন গুনাহ করে, তখন আল্লাহর কোনো না কোনো নিয়ামত তার জীবন থেকে সরে যায়। আল্লাহর প্রতি অনুতপ্ত হয়ে যদি বান্দা ফিরে আসে, তাওবাহ করে তবে সেই নিয়ামত বা অনুরূপ কোনো বরকত আবার ফিরে আসে।

কিন্তু যদি সে গুনাহর উপর অটল থাকে, অনুতপ্ত না হয়, ফিরে না আসে– তাহলে সেই নেয়ামত আর ফিরে আসে না।

এভাবে একে একে গুনাহগুলো তার জীবনের নেয়ামতগুলো ছিনিয়ে নিতে থাকে। একসময় সে নিঃস্ব হয়ে পড়ে– বাহ্যিকভাবে হয়তো নয়, কিন্তু আভ্যন্তরীণভাবে।

– ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহি.)
[সূত্র : ত্বরীকুল হিজরাতাইন, পৃ. ২৭১]
©

প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনির কফিন জনসমক্ষে, বিদায় জানাল ইরান। বিদায় মুসলিম বিশ্বের একমাত্র অভিভাবক বিদায় মুসলিম জাতির ...
06/07/2026

প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনির কফিন জনসমক্ষে, বিদায় জানাল ইরান।

বিদায় মুসলিম বিশ্বের একমাত্র অভিভাবক বিদায় মুসলিম জাতির লিডার।
খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানে সৌদি ও তুরস্কের প্রতিনিধিদের সামনে তাদের করা ভুলগুলো কোরআনের ভিন্ন ভিন্ন আয়াত তিলাওয়াতের মাধ্যমে ইরান বুঝিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান,কাতার এবং ইরানকে সহায়তাকারী হুথি, হামাস ও হিজবুল্লাহকেও পৃথকভাবে সুন্দর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলের সামনে:
সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৩ তিলাওয়াত করা হয়।

"নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য দুটি দলের মুখোমুখি হওয়ার মধ্যে একটি নিদর্শন ছিল; একদল আল্লাহর পথে যুদ্ধ করছিল এবং অন্য দলটি ছিল কাফের (অবিশ্বাসী)...।" (সূরা আলে ইমরান, ৩:১৩)

ইরানের আসল বার্তা :
ইসলামের ইতিহাসে বদরের যুদ্ধ ছিল হক (সত্য) ও বাতিলের (মিথ্যা) মধ্যকার প্রথম মুখোমুখি লড়াই। সৌদি আরবকে এই আয়াত শোনানোর অর্থ হলো—ইরান নিজেকে আল্লাহর পথের দল (হক) দাবি করছে। আর সৌদি আরব যেহেতু আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের প্রতিরোধ অক্ষের সরাসরি পক্ষে দাঁড়ায়নি, তাই ইরান তাদের পরোক্ষভাবে 'বাতিল' বা 'অবিশ্বাসী' শিবিরের কাছাকাছি অবস্থানকারী হিসেবে ইঙ্গিত করে এক কূটনৈতিক খোঁচা দিয়েছে।

তুরস্কের প্রতিনিধিদলের সামনে:
সূরা আন-নিসা, আয়াত ৯৫ তিলাওয়াত করা হয়।

"ঈমানদারদের মধ্যে যারা কোনো কারণ ছাড়াই ঘরে বসে থাকে এবং যারা আল্লাহর পথে নিজেদের জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করে, তারা সমান হতে পারে না। যারা জান-মাল দিয়ে জিহাদ করে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা ঘরে বসে থাকা লোকদের চেয়ে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন...।" (সূরা আন-নিসা, ৪:৯৫)

ইরানের আসল বার্তা :
তুরস্ক ও দেশটির প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান মুখে ফিলিস্তিন বা গাজার পক্ষে অনেক বড় বড় কথা বললেও, বাস্তবে ইসরায়েল বা আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে যায়নি বা ইরানের মতো সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি। তুরস্কের প্রতিনিধিদলকে এই আয়াত শোনানোর উদ্দেশ্য ছিল প্রতীকী বার্তা দেওয়া। ইরান এর মাধ্যমে বার্তা দিয়েছে—"তোমরা কেবল মুখে বড় কথা বলে ঘরে বসে আছ, আর আমরা (ইরান, হিজবুল্লাহ, হুথি) জান-মাল দিয়ে ময়দানে লড়াই করছি। তাই আল্লাহর দরবারে আমাদের মর্যাদাই সবার উপরে।"

এছাড়াও পাকিস্তানকে কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে আমেরিকা ও ইসরায়েলের ভয়ে ভীত না হয়ে সত্যের পথে অটল থাকা এবং সঠিক পথে সমঝোতার বার্তা দেওয়া হয়েছে। কাতারকেও তাদের ভুল বুঝতে পারা এবং সঠিক সমঝোতার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের তাদের বীরত্ব,শহীদ হওয়া, দমে না যাওয়া,বিজয় এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের জন্য পুরস্কারের বিষয়ে আয়াত তিলাওয়াত করা হয়েছে।

আফগানিস্তানের জন্য ইরান সূরা আল-ফাতহ (৪৮ নম্বর সূরা)-এর ১ থেকে ৩ নম্বর আয়াতের তেলাওয়াত শোনায়।

"নিশ্চয়ই আমি আপনাকে (হে মুহাম্মদ) একটি স্পষ্ট ও পরিপূর্ণ বিজয় দান করেছি।" (সূরা আল-ফাতহ, আয়াত:১)

ইরানের আসল বার্তা :
২০ বছরের দীর্ঘ যুদ্ধের পর আমেরিকার মতো পরাশক্তিকে দেশ থেকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য করায়, আফগানিস্তানের এই সংগ্রাম ও রাজনৈতিক বিজয়কে প্রতীকী অর্থে সম্মান জানাতে এবং অভিনন্দন জানাতেই ইরান তাদের এই আয়াতটি শোনায়।

বাংলাদেশের জন্য পঠিত আয়াত (সূরা আল-বাকারা: ১৪৩):

"এবং এভাবেই আমি তোমাদের এক মধ্যপন্থী জাতি (উম্মাতান ওয়াসাতান) বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানবজাতির জন্য সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন।"

ইরানের বার্তা: বাংলাদেশ কোনো আগ্রাসী যুদ্ধ বা ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণে সরাসরি জড়ায়নি। বাংলাদেশ সবসময় ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে, আবার বৈশ্বিক শান্তি ও মধ্যপন্থাও বজায় রেখেছে। ইরান এই আয়াতের মাধ্যমে বাংলাদেশকে 'উম্মাহর এক ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানিত অংশ' হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং বাংলাদেশের শান্তিকামী পররাষ্ট্রনীতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছে।

#সংগৃহীত

🟡 𝗨𝗣𝗗𝗔𝗧𝗘 🟡 🇹🇷 খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানে তুরস্ককে, রীতিমত বোল্ড আউট করল ইরানইরানিরা কতটা জিনিয়াস দেখুন... খামেনির জানাজায় ...
05/07/2026

🟡 𝗨𝗣𝗗𝗔𝗧𝗘 🟡 🇹🇷 খামেনির জানাজা অনুষ্ঠানে তুরস্ককে, রীতিমত বোল্ড আউট করল ইরান

ইরানিরা কতটা জিনিয়াস দেখুন... খামেনির জানাজায় যেসব দেশ অংশগ্রহণ করেছে- সেসব দেশের প্রতিনিধিরা যখনই শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যাচ্ছিলো- তখন কিছু কোরআনের আয়াত চলছিল।

সব দেশের সময় একই রকম আয়াত নয়, একেক দেশের সঙ্গে একেক রকম আয়াত। আর প্রতিটা দেশের সঙ্গে যতটা সম্ভব মানানসই আয়াতই চলছিল।

এরমধ্যে যখন তুরস্কের প্রতিনিধিরা যখন শ্রদ্ধা জানাতে আসছিল তখন যে আয়াত চলছিল সেটা হলো---

"সূরা নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত"

যেখানে বলা হয়েছে--- মুমিনদের মধ্যে যারা অক্ষম নয় অথচ ঘরে বসে থাকে, আর যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে, তারা সমান নয়। যারা স্বীয় ধন-প্রাণ দ্বারা জিহাদ করে, আল্লাহ তাদেরকে যারা ঘরে বসে থাকে তাদের উপর মর্যাদা দিয়েছেন; তাদের প্রত্যেকের জন্য আল্লাহ জান্নাতের ওয়াদা করেছেন।

তুরস্ককে বলা হয়- পারমানবিক অ/স্ত্র ছাড়া মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত তুরস্ককে ঘাটাতে চায় না। কারণ তাদের সামরিক শক্তি অনেক অনেক বেশি ও শক্তিশালী।

অথচ এতো শক্তিশালী হয়ে কি করছে তুরস্ক? তারা যদি চাইত গাজায় ইসরায়েলি হা/মলা এক দিনের মধ্যে বন্ধ হয়ে যেত। কিন্তু তারা কি কিছু করেছে?

তুরস্ক যদি চাইত ইরানেও হা/মলা করার সাহস হতো না ইসরায়েল-আমেরিকার। কিন্তু তারা কি তা করেছে?

তুরস্ক চাইলে লেবানন বেঁচে যেত। কিন্তু তারা কি বাঁচিয়েছে ? কিছু শব্দ কেবল ব্যবহার করেছে।

তাহলে দেখুন- 'অক্ষম নয়, অথচ ঘরে বসে থাকে' তুরস্কের জন্য এর চেয়ে উপযুক্ত শব্দ আর কী হতে পারত?
Copied

আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের যতগুলো ভিডিও দেখেছি, তার মধ্যে এই ভিডিওটা সবচেয়ে হৃদয়গ্রাহী।এখানে উপস্থিত আছেন ব...
05/07/2026

আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের যতগুলো ভিডিও দেখেছি, তার মধ্যে এই ভিডিওটা সবচেয়ে হৃদয়গ্রাহী।

এখানে উপস্থিত আছেন বিভিন্ন সময় শহিদ হওয়া হেজবুল্লাহ নেতাদের আত্মীয়-স্বজনরা। আছেন লিজেন্ডারি হেজবুল্লাহ লিডার, ইমাদ মুগনিয়ার পরিবারের সদস্যরা। আছেন সাইয়্যেদ হাসান নাসরাল্লাহ'র পরিবারের সদস্যরা।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তারা প্রত্যেকে আক্ষরিক অর্থেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। এই কান্না তাদের প্রিয়জনের কথা স্বরণ করে তো বটেই, কিন্তু একইসাথে যে আয়াতটা এখানে তিলাওয়াত করা হয়েছে, সেটার অর্থ, এবং তিলাওয়াতের যে করুণ সুর, সেটা শুনলেই যেকোনো বিবেকবান মানুষের চোখে পানি আসার কথা।

আয়াতটা হচ্ছে সূরা আলে-ইমরানের ১৩৯-১৪০ আয়াত:

"আর তোমরা নিরাশ হয়োনা ও বিষন্ন হয়োনা, এবং যদি তোমরা বিশ্বাসী হও তাহলে তোমরাই বিজয়ী হবে। যদি তোমাদের আঘাত লেগে থাকে, অনুরূপ আঘাত তো তাদেরও লেগেছে। মানুষের মধ্যে পর্যায়ক্রমে আমরা এ দিনগুলোর আবর্তন ঘটাই, যাতে আল্লাহ মুমিনগণকে চিনতে পারেন এবং তোমাদের মধ্য থেকে কিছু সংখ্যককে শহিদরূপে গ্রহণ করতে পারেন..."

এই আয়াতটা নাজিল হয়েছিল উহুদের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। ঐ যুদ্ধে মুসলমানরা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হওয়ার পর, আত্মীয়-স্বজনদেরকে হারানোর পর, আল্লাহ সরাসরি তাদেরকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন।

কিন্তু একইসাথে এই আয়াতটা যখন হেজবুল্লাহ নেতাদের আত্মীয়দের সামনে তিলাওয়াত করা হচ্ছিল, তখন তাদের নিজেদের জন্যও এটা ছিল স্বান্ত্বনার বাণী, আশাবাদের বাণী। তারা নিজেরা আঘাত পেলেও, বিপরীতে শত্রুও যে আঘাত পেয়েছে, সেই স্বান্ত্বনার বাণী।

খামেনির এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠান শুধু একটা ফরমালিটি ছিল না, এটা ছিল একইসাথে আমাদের চোখের সামনে দিয়ে প্রবাহমান জীবন্ত ইতিহাস, একইসাথে ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক বার্তা।

কমেন্টে ভিডিওটার লিঙ্ক দিয়ে দিবো। তিলাওয়াতটা শুনে আসতে পারেন। মাঝে মাঝে কিছু কিছু ক্বারীর কিছু কিছু আয়াতের তিলাওয়াত এত ভালো লেগে যায়, বার বার শুনতে ইচ্ছা করে। এই তিলাওয়াতটা সেরকমই একটা তিলাওয়াত।
Copied

যখন হা  মা  সের প্রতিনিধিদল আলি খামেনেয়িকে সম্মান জানাতে আসলেন, তখন ক্বারী তিলাওয়াত করলেন- সুরা আহযাবের ২৩ নং আয়াত-"মুমি...
04/07/2026

যখন হা মা সের প্রতিনিধিদল আলি খামেনেয়িকে সম্মান জানাতে আসলেন, তখন ক্বারী তিলাওয়াত করলেন- সুরা আহযাবের ২৩ নং আয়াত-

"মুমিনদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা আল্লাহর কাছে করা প্রতিজ্ঞায় সত্যনিষ্ঠ। তাদের মধ্যে এমনও আছে, যে তার প্রতিজ্ঞা (মৃত্যু পর্যন্ত) পূর্ণ করেছে এবং এমনও আছে, যে (তার সুযোগের) অপেক্ষায় রয়েছে। আর তারা কোনো পরিবর্তনের দ্বারাই (তাদের প্রতিজ্ঞার শর্তে) কোনো পরিবর্তন আনেনি। "

কি দারুণভাবে হা মা সে'র কুরবানিকে স্বীকৃতি জানালো ইরান।

তুমি দেরিতে সফল হলেও ভয় পেও নাতাকদীর তাড়াহুড়ো করে নাসবকিছু নির্ধারিত সময়ে পূর্ণ হয়আল্লাহ বলেননিশ্চয়ই আমি সবকিছু সৃ...
10/03/2026

তুমি দেরিতে সফল হলেও ভয় পেও না
তাকদীর তাড়াহুড়ো করে না
সবকিছু নির্ধারিত সময়ে পূর্ণ হয়

আল্লাহ বলেন
নিশ্চয়ই আমি সবকিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে

সূরা আল-কামার ৪৯
আর প্রতিটি বিষয়ের জন্য রয়েছে নিৰ্দিষ্ট সময়

সূরা আর-রাদ ৩৮
রবের ফয়সালায় বিলম্ব আছে
অন্যায় নেই

24/02/2026

উহুদ যুদ্ধে যখন মুসলিম বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছিল এবং কাফেররা রাসূলুল্লাহ সা.-এর খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছিল, তখন যে কয়জন সাহাবি নিজের জীবন বাজি রেখে রাসূলুল্লাহ সা.-কে ঘিরে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এক নারী—উম্মে আম্মারা নুসাইবা বিনতে কাব আনসারিয়া রা.। তিনি হাতে তলোয়ার এবং ঢাল নিয়ে কাফেরদের মোকাবিলা করছিলেন।

কুখ্যাত কাফের ইবনে কামিয়া রাসূলুল্লাহ সা.-কে হত্যা করার জন্য তেড়ে এল। উম্মে আম্মারা রা. একাই তার সামনে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন। তিনি তাকে তলোয়ার দিয়ে আঘাত করলেন, কিন্তু ইবনে কামিয়া দুই স্তরের বর্ম পরে থাকায় সে বেঁচে গেল। পাল্টা আঘাতে সে উম্মে আম্মারা রা. কে জখম করল। সেদিন তার শরীরে ১২টি গভীর ক্ষত হয়েছিল, যার একটি ছিল ঘাড়ে, যা শুকাতে এক বছর লেগেছিল।

যুদ্ধ শেষে রাসূলুল্লাহ সা. তার ক্ষতবিক্ষত অবস্থা দেখে বললেন,
"আল্লাহ তোমাদের পরিবারকে বরকত দিন। আজ নুসাইবার ( উম্মে আম্মারা রা.) মাকাম (মর্যাদা) অমুক অমুক পুরুষের চেয়েও অনেক উঁচুতে।"

উম্মে আম্মারা রা. তখন রাসূলুল্লাহ সা.-এর কাছে একটি আবদার করলেন:
"ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন জান্নাতেও আমরা আপনার সঙ্গী হতে পারি।"

রাসূলুল্লাহ সা. সাথে সাথে দোয়া করলেন:
"হে আল্লাহ! আপনি জান্নাতে তাদেরকে আমার সাথী বানিয়ে দিন।"

এ কথা শুনে উম্মে আম্মারা রা. খুশিতে আত্মহারা হয়ে বললেন:
"দুনিয়াতে আমার ওপর দিয়ে যত ঝড় বা বিপদই যাক না কেন, এই দোয়ার পর আমি আর কোনো কিছুর পরোয়া করি না।"

(সূত্র: আত-তাবাকাতুল কুবরা (ইবনে সাদ) খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ৪১২-৪১৫),সিয়ারু আলামিন নুবালা খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৭৮)

সূরা আরাফে একটা ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্ট পেলাম।ছোট বেলা থেকে শুনে এসেছি যে আখিরাতের পরিণাম হলো বাইনারি! হয় জান্নাত নয় জাহান্...
23/02/2026

সূরা আরাফে একটা ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্ট পেলাম।
ছোট বেলা থেকে শুনে এসেছি যে আখিরাতের পরিণাম হলো বাইনারি! হয় জান্নাত নয় জাহান্নাম।
অথচ এই সুরার মাধ্যমে আমাদের জানানো হলো যে না! জান্নাত আর জাহান্নামের মাঝামাঝিও আরেকটা লোকেশন আছে। লোকেশনটার নাম আরাফ! এই জায়গার নাম অনুসারেই এই সূরার নাম করন।
"আরাফ" হবে তাদের জন্য যারা এতো টাও ভালো কাজ করেনি যে জান্নাতের টিকেট পেয়ে যাবে, আবার এতোটাও খারাপ কাজ করেনি যে জাহান্নামে যেতে হবে। এ যেন মিডেল ক্লাসদের চরণ ভূমি!
এই আরাফবাসি সবসময়ই আশায় থাকবে যে তাদেরকে যেন কোনো না কোন সময় জান্নাতে আপগ্রেড করা হয়। এই আরাফ ছাড়াও হাশর আরেকটা ইম্পর্টেন্ট ফ্যাক্ট আমাদের অনেকেরই অজানা। আর সেটা হলো কান্তারা!
আমরা মনে করি, "কোনো রকমে পুলসিরাত পার হইতে পারলেই বাঁচি!" ভুল! পুলসিরাত পার হতে পারলেই জান্নাত নয়। পার হতে পারলে অপেক্ষা করবে মুমিনদের জন্য ফাইনাল পরীক্ষা।
হাশরের দিনে বিশাসীদের বিচার হবে দু বার। এক বার হবে সিরাত পার হওয়ার পূর্বে, আরেক বার হবে সিরাত পার হওয়ার পরে। জি ঠিকই শুনেছেন। পূর্বের বিচার হবে "স্রষ্টার হক নষ্ট করার বিচার" আর পরের বিচার হবে "বান্দার হক নষ্ট করার বিচার"। আর যে জায়গাটায় বিচারটি হবে, সেই জায়গাটির নামই হলো "কান্তারা"।
আল-কান্তারাহ হলো সিরাতের পর আরেকটি ছোট সিরাত। বিশ্বাসীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা এই কান্তারার উপর দিয়েই প্রবেশ করবে এবং স্রষ্টা এই কান্তারার উপরেই মুমিনদের মধ্যকার আন সেটেলড ইস্যুস গুলো রিসোলভ করবেন।
কল্পনা করুন, একজন ব্যক্তি আল-কান্তারাহ-তে জান্নাতের দরজার অলমোস্ট দ্বারপ্রান্তে, অথচ সে সেথায় ঢুকতে পারছে না। কারণ তার সব সৎকর্মগুলো যা নিয়ে নিয়ে সে বড়াই করতো সব শেষ। উলটো তাকে জাহান্নামে টেনে নিয়ে হচ্ছে।
সেই হতোভাগাকে আপনি তখন কী বলবেন?
আমার রাসুল স: অবশ্য সেই হতভাগা কে ডিফাইন করেছেন "মুফলিস" হিসেবে। "মুফলিস" অর্থ হলো দেউলিয়া বা ব্যাংকরপ্টড।
রাসূল স: বলেছেন— “তোমরা কি জানো, কে আসল দেউলিয়া?”
সাহাবারা উত্তর দেন- “যার কাছে অর্থ বা সম্পদ কিছুই নেই সে ইয়া রাসূলুল্লাহ?”
রাসূল স: বললেন— “না! আমার উম্মতের মধ্যে প্রকৃত দেউলিয়া হচ্ছে সেই ব্যক্তি যেই ব্যক্তি কিয়ামতের দিনে অনেক নামাজ, অনেক রোজা ও অনেক সদকা নিয়ে উপস্থিত হবে। অথচ সে দেখতে পাবে যে সে ঐ দিনে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে কারণ জীবদ্দশায় সে অন্যদের গালি দিয়ে বেড়াতো, অন্যদের অপবাদ দিয়ে বেড়াতো, অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে বেড়াতো, অন্যের রক্তপাত ঘটিয়ে বেড়াতো এবং অন্যকে প্রহার করে বেড়াতো। আজ তার সব সৎকর্মগুলো ভুক্তভোগীদেরকে ট্র্যান্সফার করে দিতে হচ্ছে।
শুধু তাই না, যদি তার ভালো কাজগুলো ক্ষতিপূরণ গুলোকে কভার করতে না পারে তাহলে তাদের পাপ গুলোও তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।”
তাই বলছি, আপনার যারা নামাজ রোজা সাদাকার পাশাপাশি আপনার মুখের স্পিচ দিয়ে অন্যদের কষ্ট দিয়ে বেড়াচ্ছেন কিংবা আমল দিয়ে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে বেড়াচ্ছেন, তাদের জন্য একটাই কথা—
দেখা হবে বন্ধু, দেখা হবে কান্তারায়!

আরবি-ফারসি বাদ দিলে বাংলা ভাষা হয়ে যাবে শ্রীহীন সন্ধেবেলা আরামকেদারায় বসে খবরের কাগজে নজর বোলাচ্ছিলাম। এমন সময় সদর দর...
22/02/2026

আরবি-ফারসি বাদ দিলে বাংলা ভাষা হয়ে যাবে শ্রীহীন
সন্ধেবেলা আরামকেদারায় বসে খবরের কাগজে নজর বোলাচ্ছিলাম। এমন সময় সদর দরজা থেকে জোরালো আওয়াজ এলো, "কলমচি বাবু, বাড়ি আছো নাকি ?"
জবাবে বললাম, "হ্যাঁ, মামা, আসুন।"
অন্দরমহল থেকে চা-নাশতা এলো। আয়েশ করে চা-নাশতা খেতে খেতে জমে উঠল দু'জনের আসর। কথায় কথায় বললাম, আচ্ছা, মামা, আপনি যে ওকালতি পেশার সঙ্গে যুক্ত, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক আরবি-ফারসি শব্দ। জানেন তো ?
- তাই নাকি ! যেমন ?
- আদালত দিয়ে শুরু করি ?
- মানে ?
- মানে 'আদালত' আরবি। 'শুরু'ও আরবি।
- আদালত আরবি, জানতাম। কিন্তু, শুরুটাও আরবি ?
- আজ্ঞে হ্যাঁ। তারপর ধরুন, আপনি উকিল। ওকালতি আপনার পেশা। এখানে 'উকিল', 'ওকালতি' আরবি। আর 'পেশা'টা ফারসি।
- জানতাম না তো !
- তারপর দেখুন, 'মামলা', 'মোকদ্দমা' দুটোই আরবি। এতে যারা আপনাদের সাহায্য নেয়, তাদের আপনারা বলেন মক্কেল। এই 'মক্কেল'ও আরবি। 'হাকিম', 'হুকুম', 'এজাহার', 'বয়ান', 'ফরমান', 'ফয়সালা' এমনকি বিচারপতির 'রায়' পর্যন্ত আরবি। আচ্ছা, আসামি শব্দটা কোন্ ভাষা থেকে এসেছে বলুন তো ?
- আসাম থেকে ?
- নাহ্। 'আসামি' আরবি। এই আসামি বা সাক্ষীদের আপনারা তো জেরা বা সওয়াল করেন, 'জেরা' আর 'সওয়াল'ও আরবি।
- আজব ব্যাপার তো !
- 'আজব'টাও আরবি। আপনি যে ভিতরে আসার আগে সদর দরজায় দাঁড়িয়ে, 'কলমচি বাবু, বাড়ি আছো নাকি' বলে আওয়াজ দিয়েছিলেন। এখানে 'আওয়াজ' ফারসি। 'সদর' আরবি। 'দরজা' ফারসি। কলমচির 'কলম' আরবি, 'চি' তুর্কি। আর 'বাবু' হলো ফারসি।
- বেশ আজব ব্যাপার তো !
- এই 'বেশ'টা ফারসি। 'আজিব' আরবি। আর আমি জবাব দিয়েছিলাম, হ্যাঁ মামা, আসুন। এখানে 'জবাব' আরবি, 'মামা' ফারসি। তারপর, আপনি এসে দেখলেন যে, আমি আরামকেদারায় বসে খবরকাগজে নজর বোলাচ্ছিলাম। এখানে 'আরাম' ও 'কেদারা' ফারসি এবং 'খবর', 'কাগজ' ও 'নজর' আরবি।
- তার মানে, আমরা রোজকার জীবনে যেসব কথা বলি, তার বেশিরভাগই আরবি, ফারসি ?
- আলবত। এই 'আলবত'টাও আরবি। এক্ষুনি আপনি যে বললেন, রোজকার জীবনে... বেশিরভাগই... এখানে 'রোজকার' ফারসি, বেশিভাগের 'বেশি'টা ফারসি।
- কী মুশকিল ! এতদিন জানতাম না তো !
- 'মুশকিল' আরবি হলেও শুধু শুধু মুশকিল হবে কেন ! একটু অভিধান ঘাঁটলেই মুশকিল আসান হয়ে যাবে। তখন জানতে পারবেন 'আসান'ও আরবি। আচ্ছা, মনে করে দেখুন তো, আপনি আসার পর অন্দরমহল থেকে চা-নাশতা পাঠানো হলো। এখানে 'অন্দর' ফারসি, 'মহল' আরবি। আর নাশতাটা ?
- নিশ্চয়ই ফারসি।
- বিলকুল ঠিকই বলেছেন। 'নাশতা' ফারসি। দেখুন এই 'বিলকুল' হলো আরবি। আচ্ছা, এরপর আমরা আয়েশ করে নাশতা খেতে খেতে আসর জমিয়ে দিলাম। তাই না ?
- তাই তো, এর মধ্যেও আরবি-ফারসি আছে নাকি ?
- অবশ্যই আছে। আরবি-ফারসি বাদ দিলে বাংলা ভাষা সাবলীল গতিতে চলতেই পারবে না যে ! দেখুন আরাম শব্দটা ফারসি, আগেই আমরা জেনেছি। এর জুড়ি যে 'আয়েশ', এটা আরবি। আসর জমানোর মধ্যে 'আসর' ও 'জমা' দুটোই আরবি। আরবিতে 'আশর' মানে দশ। দশজন মিলে যে মজলিস হয়, সেটাই হয়েছে আসর। এক্ষুনি যে 'মজলিস' বললাম, এটাও আরবি। 'জলসা', 'মহফিল' এগুলোও আরবি। অবশ্য কলকাতার বাবুরা মহফিলকে 'মাইফেল' (গানবাজনার আসর) বানিয়ে নিয়েছে !
- তার মানে, আরবি-ফারসি বাদ দিলে বাংলা অচল !
- তা আর বলতে ! এই যে আপনি বললেন, মানে, এই 'মানে' শব্দটাও আরবি। বাদ দিলে বললেন তো ! 'বাদ'ও আরবি। বাদ না বলে 'বাতিল' বললে সেটাও আরবি। 'রদ' করলেও আরবি। আচ্ছা মামা, আমরা ফের আদালতের রাস্তায় ফিরে যাই চলুন। আসামিকে মাঝে মাঝে তো পুলিশের হেফাজতে রাখতে হয়। তারপর জামিন, খালাস ইত্যাদি থাকে। এখানে 'হেফাজত', 'জামিন', 'খালাস'— তিনটিই আরবি। আর হ্যাঁ, 'ফের' ও 'ফেরা' আরবি এবং 'রাস্তা' ফারসি।
'রাস্তা'য় 'ফির'তে গেলেও আরবি-ফারসি !
- এখন তো দেখছি, আরবি-ফারসি ছাড়া কদম ফেলাই যাবে না !
- কী করে যাবে ! 'কদম' শব্দটাও তো আরবি। আরেকটা চমকপ্রদ তথ্য শুনুন, আমরা এই যে কথায় কথায় বাঙালি, বাংলা ইত্যাদি বলছি, এর 'বাংলা' শব্দটাই তো ফারসি !
- সে কী ! জানতাম না তো ! বাংলা শব্দটাও ফারসি। কী আশ্চর্য !
- আচ্ছা, বাংলা ভাষায় এত বেশি এবং এমন সব অপরিহার্য আরবি-ফারসি শব্দের স্বচ্ছন্দ ব্যবহার থেকে কী বোঝা যায় ? এটাই বোঝা যায় যে, বাংলা ভাষার পুষ্টিসাধন ও সৌন্দর্যায়নে বিদেশি ভাষার অনেক বেশি অবদান আছে।
- অনেক কিছু জানলাম, বাবা !
- 'বাবা' তুর্কি। 'কাকা' ফারসি। তাই তো বলছি: আমরা, মানে বাঙালিরা জাতি-ধর্ম-সাক্ষর-নিরক্ষর নির্বিশেষে, হাজার হাজার আরবি-ফারসি শব্দ অহরহ ব্যবহার করছি ('হাজার' ফারসি) । এগুলো আমাদের মাতৃভাষাকে সমৃদ্ধ ও পুষ্ট করার পাশাপাশি মোলায়েমও করেছে ('মোলায়েম' ফারসি)। এসব শব্দকে আমরা বাংলা করেই নিয়েছি। আরবি-ফারসি বাদ দিলে বাংলা ভাষা হয়ে যাবে শ্রীহীন!
লিখেছেন : অনল পাল

Address

Dhaka
1229

Telephone

+8801799665982

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Allah Please Help The Muslim-Ummah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category