কাঁটাতার

কাঁটাতার সীমান্ত ও পার্টিশন অধ্যয়ন এবং সীমান্তে হত্যা প্রতিরোধ আন্দোলনের মুখপত্র

ফেলানি হত্যার এক দশক পুর্ণ হলো আজ। কাঁটাতারের সীমান্তে ঝুলে থাকা ফেলানির লাশের সাথে গত এক দশকে আরো যুক্ত হয়েছে তিন'শয়ের ...
07/01/2021

ফেলানি হত্যার এক দশক পুর্ণ হলো আজ। কাঁটাতারের সীমান্তে ঝুলে থাকা ফেলানির লাশের সাথে গত এক দশকে আরো যুক্ত হয়েছে তিন'শয়ের অধিক ফেলানি। ফেলানির লাশ নিছক সীমান্ত হত্যা কিম্বা কাঁটাতারে ঝুলে থাকা চিহ্ন সর্বস্ব মরা লাশ নয় যা দেখে আমাদের মানবিক বিবেক কেবল কাতর হয়ে পড়ে বরং ইতিহাসের এই ঘটনা আমাদেরকে সম্পর্ক বন্ধুত্ব ও রাজনীতির কিছু গুরুত্বপুর্ন সবক দিয়ে গেছে।

_________________________ ___________________________

ফেলানি বাংলাদেশের জনগণের আবেগ, নিজেদের সম্পর্কে স্বাতন্ত্র বোধ এবং আগ্রাসী দিল্লীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ভিত্তি হয়ে উঠেছে। এই ধরণের ঘটনা যখন রাজনীতির মৌলিক উপাদানে রূপান্তরিত হয় তখন তা আর স্রেফ একটি ঘটনা থাকে না। ফেলানি তাই দিল্লীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দীর্ঘাস্থায়ী ও সুদূর প্রসারী লড়াইয়ের বীজ হিশাবে অংকুরিত হয়েছে।

ফেলানি কাঁটাতারে ঝুলেই থাকবে, তাকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ নামিয়ে না আনলে সে স্মৃতি ও রাজনীতির মধ্যে কাঁটা হয়ে হাজির থাকবে। ইতিহাস বড়ই বিচিত্র ব্যাপার!

মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর হিশাব অনুযায়ী দুই হাজার সাল থেকে আজ অবধি ১২৩৬ জন বাংলাদেশী নাগরিকদের খুনি ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটী ফোর্স হত্যা করেছে।

ফেলানি হত্যা কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির অর্থ একাট্টা ভারত বিরোধিতা নয়, কোন প্রকার সাম্প্রদায়িক উস্কানির ফাঁদে পা দেওয়া নয়। বরং সুনির্দিষ্ট ভাবে দিল্লী এবং হিন্দুত্ববাদের বিরোধিতা। উপমহাদেশের বিশৃংখলা এবং অশান্তির গোড়া এখানে।

দ্বিতীয়ত ভারতেও গরিব, সর্বহারা ফেলানিরা আছে, তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। সর্বহারার কোন দেশ নাই। এখন দেশ বা রাষ্ট্রের নামে যেভাবে সীমান্ত এবং কাঁটাতারের বেড়া বসানো হয়েছে তা অনিবার্য ভাবেই ভাঙা হবে। ইতিহাসের অভিমুখ আমরা চাই বা না চাই, ঐদিকেই। পণ্য ও পুঁজির অবাধ চলাচল চলবে সেখানে কোন কাঁটাতার নাই,কিন্তু মানুষের বেলায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে – সেটা আর বেশীদিন চলবে না।

কাঁটাতারের বেড়া ও বর্ডার সে কারণ একালে তথাকথিত ফাঁপা বেলুনের মতো আকাশে উড়িয়ে রাখা রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব প্রদর্শনীর অধিক কোন মর্ম ধারণ করে না। অবাধ বাণিজ্য, নানা ভূয়া ও মিথ্যা যুক্তিতে যুদ্ধ বিগ্রহ, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাষ্ট্রকে মাটিতে গুঁড়িয়ে দিয়ে স্রেফ ভূখণ্ডে পরিণত করা এবং সেখানে তেল, দাহ্য পদার্থ এবং খনিজ সম্পদ লুটের মচ্ছব -- এইসব আমরা দেখেছি।

তাই একালে দেয়াল কিম্বা কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে বেশ কিছু জিজ্ঞাসা রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে আগামিতে যে রাজনীতির উত্থান ঘটতে যাচ্ছে তাকে নতুন জিজ্ঞাসার মীমাংসা করে আসতে হবে।

১. একালে রাষ্ট্র ও রাজনীতি বিচারের প্রধান ক্ষেত্র হচ্ছে উন্মূল, উদবাস্তু মানুষের দেশান্তরী হওয়া। ‘রাষ্ট্রহীন’ হওয়া, সেটা রোহঙ্গাদের মতো গণহত্যার ফল হিশাবে হোক, কিম্বা হোক ফেলানিদের মতো জীবিকার তাগিদে বর্ডার অতিক্রম করা। নীট ফল হচ্ছে রাষ্ট্রের আইনী সুরক্ষার বাইরে স্রেফ মানুষের জীবে পর্যপসিত হবার প্রক্রিয়া। যাদের রাষ্ট্র যেমন নাই, তেমনি কোন নাগরিক অধিকারও নাই।

২. এরই আরেক রূপ আমরা দেখি হিন্দুত্ববাদী ভারতে আইন করে নাগরিকদের ‘রাষ্ট্রহীন’ করা– এটা নতুন বাস্তবতা, রাষ্ট্র ও রাজনীতির পর্যালোচনার নতুন ক্ষেত্র। অতএব অভিবাসন, রাষ্ট্রহীনতা এবং মানুষকে সকল প্রকার আইনী সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত করার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াই একালের প্রধান রাজনীতি। এ লড়াই আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক এবং অনিবার্য ভাবেই বর্ডার ছাপিয়ে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে এবং পড়ছে।

৩. এই নতুন রাজনৈতিক ক্ষেত্রের বাইরে অন্য সকল প্রাচীন ‘সার্বভৌমত্ব’ কেন্দ্রিক রাজনীতি বা রাজনৈতিক চিন্তার কোন ভবিষ্যৎ নাই। অতএব নতুন রাজনৈতিক পরিসর এবং আমাদের কর্তব্য নিয়ে নতুন ভাবে ভাবতে না শিখলে আমরা চিন্তা চেতনার দিক থেকে এক বিন্দু এক সুতাও এগিয়ে যেতে পারব না। গর্তে পড়ে থাকব।

৪. ফেলানি অতএব আগামি ইতিহাসের অভিমুখ নির্ণয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিশা। সস্তা আবেগ ও হাহুতাশ বাদ দিতে শিখুন।, বরং রাষ্ট্র, রাজনীতি এবং গণক্ষমতা নিয়ে ভাবতে শিখুন এবং নিজেদের কর্তব্য নির্ধারণ করুন।। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা অর্জনের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে না পারলে বাংলাদেশের রাজপথে যতোই আমরা দাপুটে ভাব দেখাই না কেন, তার কোন ফল পাওয়া যাবে না।

৫. আন্তর্জাতিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে উঠবার গোড়ায় খ্রিস্টিয় পাশ্চাত্যে তথাকথিত Westphilian Sovereignty-র সূত্রে রাষ্ট্রীয় ‘সার্বভৌমত্ব’ নামক যে ধারণার উদয়, আধিপত্য এবং চর্চা জারি রয়েছে পুঁজিতান্ত্রিক গোলকায়ন সেই সার্বভৌমত্বের প্রায় সবই হরণ করেছে। এই হরণ পর্ব শুরু হয়েছে নিউ লিবারেল বা কাছাখোলা বাজার ব্যবস্থার কালপর্ব শুরুর পর থেকে। অর্থাৎ রাষ্ট্র – বিশেষ ভাবে বাংলাদেশের মতো দুর্বল রাষ্ট্র -- কাঠামোগত সংস্কার এবং তার ধারাবাহিকতায় কাছা খোলা অবাধ বাজার ব্যবস্থা কায়েমের মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব হারিয়েছে অনেক আগেই। তা আর ফিরে পাবার সম্ভাবনা নাই। এখন দুর্নীতি, ডাকাতি ও লুটপাট নিয়ে কপাল না চাপড়িয়ে ডাকাত কিভাবে সিঁদ কাটল সেটা বোঝার চেষ্টা করুন। কারণ সিঁদ কাটা ঘরে আপনি এখনও বাস করেন।

৬. রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব নামক ধারণার বুকে শেষ পেরেকটা গাঁথা হয়েছে হিউমেনিটারিয়া ইন্টারভেনশানের নামে , শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো যে কোন মূহূর্তে যে কোন অজুহাতে যে কোন দুর্বল দেশের ‘রেজিম চেইঞ্জ’ করতে সক্ষম। অর্থাৎ কোন সরকারই আসলে নিরাপদ নয়। বর্তমান ফ্যাসিস্ট ক্ষমতাসীন শক্তি ক্ষমতায় থাকতে পারছে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তিকে বুঝিয়ে যে একমাত্র তারাই বাংলাদেশে ইসলামপন্থিদের শক্তি বৃদ্ধি বা ক্ষমতায় আসা রুখে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরাশক্তির জন্যর ইসলাম প্রধানও ভীতিকর সম্ভাবনা।

৭. সীমান্তে আগে পাহারা দিত বিডিআর। কিন্তু এখন বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি) সেই দায়িত্ব পালন করে। ঐতিহ্যগতভাবে ২০১০ সাল পর্যন্ত এই বাহিনীর নাম ছিল বাংলাদেশ রাইফেলস্ যা বিডিআর নামেই অধিক পরিচিত ছিল। বিডিআর ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে গৌরবজ্জ্বল ভূমিকা রাখে, এই নামের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বতন্ত্র ও সার্বভৌম জনগোষ্ঠি হিশাবে আমাদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা করবার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত হোত। সীমান্ত ‘রক্ষা’ করার ব্যাপার নয়, নিছকই ‘পাহারা’ দেবার ব্যাপার, সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে আমাদের চিন্তার এই রূপান্তর সাম্প্রতিক ঘটনা। সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড এটাই প্রমাণ করে যে আমরা অরক্ষিত এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবার অঙ্গীকার ও হিম্মত উভয়ই হারিয়েছি। আগামি দিনের রাজনীতির প্রধান বিষয় অতএব ‘গণপ্রতিরক্ষা’। অর্থাৎ জনগণ কিভাবে তাদের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে এই প্রশ্নের মীমাংসা ছাড়া কোন ইতিবাচক রাজনীতি গড়ে তুলবার সম্ভাবনা নাই।

৮. ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতায় থাকতে পারছে নিজেদের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনন্ত যুদ্ধের সেনাপতি প্রমাণ করে।এই প্রমাণ নানান ভাবে তাদের বারবারই দেওয়ার দরকার পড়ে। তাই জো বাইডেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচিত হবার পর বাংলাদেশে ইসলামি শক্তি ও দল সমূহের ওপর ক্ষমতাসীনদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সেটা রিহার্সাল করে নতুন ভাবে দেখাতে ও বোঝাতে হয়েছে। তথাকত্থিত মূর্তি বা ভাস্কর্য নিয়ে বিবাদ এই আলোকে বূঝতে হবে। বাংলাদেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রধান প্রধান ধারা মূলত ক্ষমতাসীনদের ক্রীড়নকের ভূমিকা পালন করে নিজেদের নিজেরা নির্মূল করবে কিনা সেটা তাদের ভেবে দেখতে হবে।

৯. যেখানে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব তার রাজনৈতিক মর্ম হারিয়েছে সেই ক্ষেত্রে নতুন করে বর্ডার বানানো, দেয়াল তোলা এবং কাঁটাতারের বেড়া বসানো খুবই ইন্টারেস্টিং একটা বিষয়। তাই কাঁটাতারের বেড়াকে পুঁজিতান্ত্রিক গোলকায়নের প্রক্রিয়ার ভেতর থেকে বিচার করতে হবে। যেমন, পুঁজিতান্ত্রিক গোলকায়ন ও রেজিম চেইঞ্জের অনিবার্য ফল হিশাবে রাষ্ট্র সার্বভৌম ক্ষমতা হারাবার পর নিজের বৈধতা বা ন্যায্যতা নতুন করে প্রমানের জন্যই কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছে।

রাষ্ট্র ভেতর থেকে ফাঁপা কিন্তু তাকে প্রদর্শন করতে হচ্ছে যে আধুনিক রাষ্ট্র এখনও নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে।না পারে না। এই নগ্ন সত্যটা বোঝার ওপর আগামির রাজনীতি নির্ভর করবে। সব কিছুই নতুন ভাবে ভাবতে শিখতে হবে।

ফরহাদ মজহার

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা ‘বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স' আদতে একটি খুনী বাহিনী ~" বি এস এফ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৫ সালের পহেলা ...
07/01/2021

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা ‘বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স' আদতে একটি খুনী বাহিনী ~

" বি এস এফ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৫ সালের পহেলা ডিসেম্বরে। এই বাহিনী রাজ্য সরকারের অধীনে নয়, এর দায়িত্ব আছে দিল্লীর কেন্দ্রীয় সরকার। প্রায় দুই লক্ষ বিশ হাজার লোকবল নিয়ে এই বাহিনী গঠিত। বর্ডার রক্ষী হিশাবে এই প্রতিষ্ঠানটি দুনিয়ার সবচেয়ে সবচেয়ে বড় সামরিক প্রতিষ্ঠান। এর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

কাগজে কলমে বি এস এফের দায়িত্ব শান্তির সময় অপরাধ দমন হলেও জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণকে দমন নিপীড়নের জন্য শুরু থেকেই কাউন্টার ইনসারজেন্সি বাহিনী হিশাবে বাহিনীটি ব্যাপক কুখ্যাতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে যারা পাহারা দিতে আসে তাদের অধিকাংশেরই হাত জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণের রক্তে রঞ্জিত। এই সত্য বাংলাদেশের জনগণকে মনে রাখতে হবে।

উল্লেখ করা দরকার পশ্চিম বাংলায় এই বাহিনীর কোন কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি ভূমিকা নাই। কিন্তু পশ্চিম বাংলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ হচ্ছে এই বাহিনী তাদের সঙ্গেও খুবই অভদ্র ও কুৎসিত আচরণ করে।

নতুন শতাব্দী শুরু হবার দশ বছরের মধ্যে ভারত কমপক্ষে এক হাজার মানুষ সীমান্তে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তখন থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ‘কিলিং ফিল্ড’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ জানিয়েও কোন কাজ হয় নি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো মানবতা ও আইনের শাসনের কেচ্ছা গেয়েছে বিস্তর। লাভের লাভ এতোটুকুই যে ভারত নিজেকে গণতান্ত্রিক দেশ বলে আন্তর্জাতিক মহলে যে দাবি করত সেই ‘মহান ভারত’ আর মহান হবার ভান করতে পারছে না।

উস্কানি ছাড়া মানুষ মারা এবং লোকজন ধরে নিয়ে গিয়ে অকথ্যভাবে পেটানো এবং অনেক ক্ষেত্রে পিটিয়ে মেরে ফেলা কোন সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশের কাজ হতে পারে না। "সীমান্তে মানুষের উপর অত্যধিক বল ব্যবহার ও নির্বিচারে প্রহার অসমর্থনীয়। এইসব নির্যাতনের ঘটনা ভারতের আইনের শাসনের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। (HRW, 2011)।

ব্যাড এডামস, হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচের এশিয়া বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, সীমান্তে হত্যা প্রসঙ্গে বলেন, “নিয়ম করে গরিব ও নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করে হত্যা করা দুনিয়ার বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আচরণ হতে পারেনা”। "Routinely shooting poor, unarmed villagers is not how the world's largest democracy should behave." (Adams, 2011)।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ ভারত সীমান্তে ‘দেখা-মাত্র-গুলি’ করার নীতি অনুসরণ করে। ভারতের এই নীতি পরিবর্তনের জন্য আবেদন নিবেদনের পরও আজ অবধি কোন কাজ হয় নি। সাময়িক মুখ বাঁচাতে ভারতীয় কর্মকর্তারা বিএসএফ-এর আচরণের পরিবর্তন এবং ‘শুট-অন সাইট’ নীতি বাতিল করে নতুন আদেশ পাঠাতে অঙ্গীকার করতে বাধ্য হয়েছে বটে কিন্তু আদতে তা কখনই বাস্তবায়িত হয় নি।

আন্তর্জাতিক আইনে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের অধিকার ভারতের রয়েছে, কিন্তু দেখা মাত্রই গুলি করা কিম্বা কোন প্রাণঘাতী অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অধিকার ভারতের নাই। প্রতিবাদের মুখে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারকারী বা পাচারকারীদের প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ভারত আগে অহিংস উপায় ব্যবহার করবার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি তারা কখনই রাখে নি। নিয়মিতই সীমান্তে মানুষ নিধন চলছে।

এই প্রসঙ্গে বিএসএফ-এর প্রাক্তন প্রধান রমণ শ্রীবাস্তবের যুক্তিও আন্তর্জাতিক মহলে মানবাধিকার কর্মীদের প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাঁর দাবি ছিল, কোনও মানুষের উচিত নয় সীমান্তে গুলিতে মারা যাওয়া মানুষগুলোর জন্য দুঃখ বোধ করা। কারণ, তার অভিযোগ, এরা প্রায়ই রাতে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল, তাই তারা মোটেই "নির্দোষ" ছিল না এবং এ কারণেই তারা বন্দুকের বৈধ লক্ষ্য (Adams, 2011)। "

কাঁটাতারের আলাপ।। শুক্রবার।। ২ অক্টোবর, ২০২০। ‘’ কাটাতারঃ এ সময়ের সক্রিয় চিন্তা, সংগ্রাম ও রাজনীতির পর্যালোচনা ’’ করোনা ...
03/10/2020

কাঁটাতারের আলাপ।। শুক্রবার।। ২ অক্টোবর, ২০২০।

‘’ কাটাতারঃ এ সময়ের সক্রিয় চিন্তা, সংগ্রাম ও রাজনীতির পর্যালোচনা ’’

করোনা পরিস্থিতির কারনে সৃষ্ট স্বাভাবিক জীবনযাত্রার অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি ও সাধারন মানুষের উদ্বেগ উৎকন্ঠা এখনো কাটেনি। দেশের সরকারি বেসরকারি অফিস আদালত ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো বন্ধ রয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কবে নাগাদ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে তা এখনো পরিষ্কার নয়।

চারদিকের ঠিক এমন অনিশ্চয়তার পরিবেশ ও নানান সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও কাঁটাতারের নিয়মিত আড্ডা আমরা আবার শুরু করেছি। এই মূহুর্তে বিদ্যমান সমাজে সক্রিয় নানান চিন্তার সাথে পরিচয়ের পাশাপাশি পর্যালোচনা হাজির রাখা এবং আগামী দিনের রাজনীতির কর্তব্য নির্ধারণের তাগাদা থেকেই এই আড্ডার আয়োজন। চিন্তা ও রাজনীতি আলাদা আলাদা বর্গ হিসেবে হাজির হলেও চিন্তা ও রাজনীতির মধ্যকার সম্পর্ক অচ্ছেদ্য। দর্শন বলি কিম্বা চিন্তা তা শুধু ল্যাপ্টা মেরে বসে বসে চর্চার বিষয় নয়। বরং একইসাথে রাজনীতিতে সদা সক্রিয় থাকবার বিষয়ও বটে।

পাশাপাশি মতাদর্শ ও চিন্তার মধ্যে দাগ টানাটা জরুরী। মতাদর্শের জন্মও কিন্তু চিন্তা থেকে তবে কোনো চিন্তা মতাদর্শে পরিণত হওয়ার পর তার মধ্যে সজীব সক্রিয় চিন্তার নিজস্ব যে বৈশিষ্ট্য তা গরহাজির থাকে। ফলে এই সময়ের যেকোনো মতাদর্শিক কাঁটাতারকে অতিক্রম করতে হলে স্বাধীন ও সজীব চিন্তা চর্চার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

‘’ কাঁটাতারঃ এ সময়ের সক্রিয় চিন্তা, সংগ্রাম ও রাজনীতির পর্যালোচনা ’’ আড্ডায় মূলত আমরা কাঁটাতারের প্রথম পাঁচ সংখ্যার পুনর্পাঠ ও পর্যালোচনা করেছি। সংক্ষিপ্ত পরিসরে পর্যালোচনা করেন মামুন আব্দুল্লাহিল।

কাঁটাতার পত্রিকার লেখাজোখায় সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব, দিল্লীতে সংঘটিত গনহত্যা, গোলকায়িত বিশ্বে পুঁজির বিস্তার, আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের সংকট সর্বোপরি সেকুলার কিম্বা ধর্মীয় জাতিবাদী ফ্যাসিস্টদের মোকাবেলার রাজনীতি নিয়ে মতামত ও কর্তব্য নির্ধারণ কেন্দ্রিক আলাপ উঠে আসে।

গোলকায়িত বিশ্বে পুঁজির বিচরণ কোনো অসুবিধা না থাকলেও মেক্সিকো আমেরিকা থেকে শুরু করে ভারত বাংলাদেশের সীমান্তে ঠিকই মানুষের বিচরণ ঠেকাতে কাঁটাতারের দেয়াল গড়ে তোলা হচ্ছে। খোদার দুনিয়ায় খোদার জমিনে মানুষের প্রতি একি নির্মম প্রহসন।

এদিকে বাংলাদেশের সাথে ভারত রাষ্ট্রের প্রভুসুলভ আচরন, আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীন বিষয়ে মোড়লগিরি ফলানো এবং সীমান্তে নির্বিচারে মানুষ হত্যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

পাশাপাশি সেকুলার-লিবারেল বয়ানে দিল্লির মুসলিম নিধন ও গনহত্যাকে দাংগা বলে হাজির করা নিছক কথার কথা নয় বরং সেকুলার লিবারেল জুব্বা পরে হিন্দুত্ববাদী বয়ানকেই হাজির করার নিরন্তর প্রচেষ্টা। এরই প্রতিক্রিয়ায় আমরা দেখছি জাতিবাদী ইসলামের উত্থান লক্ষণীয়ভাবে হাজির হচ্ছে।

কাঁটাতারে এই আলাপগুলো হাজির হয়েছে একধরনের নোক্তা আকারে। অর্থাৎ এই বিষয়গুলোকে দার্শনিক ও রাজনৈতিক বাচবিছারে পরখ করে দেখার প্রস্তাবনা দিয়েই ক্ষ্যামা দেয়া হয়েছিল।

এখন যে অবস্থায় আমরা পৌছিয়েছি, সেখানে বিদ্যমান ফ্যাসিবাদী সরকারের সমালোচনাই কেবল আমাদের রাজনীতি হবেনা, বরং সরকারকে নিয়ন্ত্রণকারী পুঁজি, আমলাতন্ত্র, মিলিটারি কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে ফ্যাসিবাদের কালচারাল ইন্ডাস্ট্রিতক সবকিছু আমাদের বয়ানে-রাজনীতিতে হাজির করতে হবে।

তো, কাঁটাতার নিছক বুদ্ধিজীবিতার প্লাটফর্ম না, বরং মানুষের সম্ভাবনা ও বিকাশের কোন পর্যায়ে ঠিক আমরা এক কাতারে দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদের বিরূদ্ধে লড়তে পারি, নিয়ম করে তার হদিস রাখাটাই আমাদের কাজ। এজন্য এটা কেবল বুদ্ধি খরচের পাটাতন না বরং জনগণের বুদ্ধি জমা ও মজুদ করার পাটাতন ও বটে।

আমরা আমাদের সামনের আড্ডা ও লেখাজোখায় এই প্রস্তাবিত নোক্তাগুলো ধরে বিশদ ও বিস্তারিতভাবে আলাপ তোলার চেষ্টা করবো। যারা আমাদের উদ্যোগে আগ্রহ রাখেন তাঁদেরকে সামনের আলাপ-আড্ডা ও চিন্তার তৎপরতায় সাথে পাবো বলে উম্মিদ রাখছি।

#কাঁটাতার
রাজনীতি ও দর্শন বিচারের পত্রিকা।

30/06/2020

সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা অব্যাহত রেখেছে বিএসএফ। রাজু ভাস্কর্যে দীর্ঘ দুমাস অবস্থান কর্মসূচী চালিয়েও কোনো প্রতিকার মিলেনি। এ বছরে একুশে ফেব্রুয়ারি রাজু ভাস্কর্যে প্রতিবাদরত অবস্থায় অামরা ভাষা শহীদদের পাশপাশি সীমান্তে শহীদ হওয়া সকল বাংলাদেশী নাগরিকদের স্মরণে প্রতিবাদী শোকমিছিল করেছিলাম। কারণ অামাদের কাছে ভাষা, সীমান্ত, স্বাধীনতা, স্বার্বভৌমত্ব ও নাগরিকের মর্যাদা রক্ষার করার লড়াইটা কোনো বিচ্ছিন্ন সংগ্রাম না।

একদিকে রাষ্ট্র সীমান্তে আমাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে নাগরিকদের আইনবহির্ভূত ভাবে হত্যা, গুম,খুন, নির্যাতন, গ্রেফতার চালিয়ে যাচ্ছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সভাসমিতি করবার অধিকার সংকুচিত করা হয়েছে অনেক অাগেই। এখন ডিজিটাল সিকিউরিটি অাইনের মত গনবিরোধী অাইন নাগরিকের মত প্রকাশের বিরুদ্ধে ফাসিস্ট রাষ্ট্রের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

স্বাধীন মত প্রকাশ ও নিজ ধর্মীয় চেতনা ধারণ করার জন্য শহীদ হতে হয়েছে অাবরারের মত মেধাবী শিক্ষার্থীকে। ভারতীয় অাগ্রাসন ও রাষ্ট্রের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে অাবরারের মত তরুণরা অামাদের প্রেরণা যোগায়।

সীমান্তে লাশের বোঝা বাড়ছে। রাষ্ট্রকে অবশ্যই কাঠগোড়ায় দাঁড়া করাতে হবে এই হিসাব চুকানোর জন্য। কাঁটাতারে লাশ ঝুলে, অার রাষ্ট্র কি করে!!

ছাত্র-জনতাকে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে
মাটি, মানুষ, ভাষা, ও সীমান্ত রক্ষার দাবিতে দ্রুত গণপ্রতিরোধ তৈরি করতে হবে।

দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা!!

ভিডিওঃ সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে শোকমিছিল, ২১/০২/২০২০, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা।

28/06/2020

কাঁটাতার।। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের হত্যাযজ্ঞ থামাও ~

আমরা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ করছি। একদিকে এই প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃত মানবাধিকার লংঘনের প্রতিবাদ। যে কোন সুস্থ মস্তিষ্কের লোককেই আইন বহির্ভূত হত্যার (Extra judicial Killing) বিরোধিতা করতে হবে। কারন তা অমানবিক। কিন্তু মানবিক বোধ ছাড়াও আন্তর্জাতিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে স্বীকৃতি না দেবার আরও বড় কারণ রয়েছে। কারণ রাষ্ট্র নিজেই যদি ‘আইন’ না মানে তাহলে তো রাষ্ট্র ধারণাই টেঁকে না। রাষ্ট্রের আইনী ভিত্তিটাই নড়বড়ে হয়ে যায়।

তৃতীয়ত বিরতিহীন হত্যাযজ্ঞ উপমহাদেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার পরিণতি ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে।
এই বছর ২০২০ শুধু গত জানুয়ারি মাসেই ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা করেছে কমপক্ষে ১৫ জন । এটা আলজাজিরারা হিশাব (Smith, 2020)।

বাংলাদেশের একটি মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর হিশাব মোতাবেক ২০১৯ সালে বিএসএফ বাংলাদেশের ৪১জন নাগরিককে হত্যা করেছে, জখম করেছে ৪০ জন এবং অপহরণ করেছে ৩৪ জন। প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউমেন রাইটস ওয়াচ’-এর হিশাব মতে গত দুই দশকে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী এক হাজারেরও বেশী বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা করেছে।

একজন নেপালিকে হত্যা করার জন্য ভারতকে নেপালের কাছে দুঃখ প্রকাশ করতে হয়েছিল। ভারত কাপুরুষদের দেশ। পাকিস্তানের সীমান্তে গুলি করে ভারত মানুষ হত্যা করবার চিন্তাও করে না। কারণ ভারত জানে পাকিস্তান তার পালটা জবাব দেবে, একটি লাশের বিপরীতে ভারতীয় সেনাদের দশটি লাশ ফেলে দেবে। উপমাহাদেশে আরেকটি যুদ্ধের দামামা বেজে উঠবে। কিন্তু এই কাপুরুষ রাষ্ট্রটি সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা করে চলেছে।

বাংলাদেশ তথাকথিত ‘বন্ধু’রাষ্ট্র হবার পরেও কাপুরুষ ভারত গুলি করে সীমান্তে বাংলাদেশীদের মারছে। এই খুন বরদাশত করা যায় না। এর কঠোর প্রতিবাদ হওয়া উচিত। আমরা তরুণ এবং ছাত্র। এই গুরুতর বিষয়ে তরুণদের সচেতন করবার জন্যই আমরা ‘সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচী’র সাথে সংহতি জানিয়েছি।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত দুনিয়ার যে কোন বর্ডারের চেয়ে সবচেয়ে বেশী রক্তাক্ত ও লাশের সীমান্ত হিশাবে পরিচিত। আমাদের প্রতিবাদ নিছকই বাংলাদেশের জনগণের কিম্বা বাংলাদেশের তরুণদের প্রতিবাদ নয়, একই সঙ্গে ভারতের এবং সারা বিশ্বের তরুণ এবং মানবাধিকারের বিশ্বাসী ব্যক্তিদেরও প্রতিবাদ। ভারতের যেসব তরুণ দেশকে ভালবাসে তাদের উচিত অবিলম্বে এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করার দাবি তোলা।

ভারত বাংলাদেশের সীমান্তে আট ফুট উঁচা কাঁটাতারের বেড়া তৈরি করেছে। ভারত যখন আড়াইহাজার মাইল কাঁটাতারের বেড়া দিচ্ছিল, গার্ডিয়ান পত্রিকা লিখেছে, “আটফুট উঁচা কাঁটাতারের বেড়া সীমান্তের গ্রামগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছে, কৃষিজমি ও গ্রামের হাটবাজারও দুই ভাগ হয়ে গিয়েছে, আগামি বছর যখন এই বেড়া দেওয়া শেষ হবে, ভারতীয় ইঞ্জিনীয়ারিং-এর জন্য সেটা হবে বিশাল কের্দানি প্রদর্শন: মার্কিন-যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোর মাঝখানের বেড়া।

ইজরায়েল-ফিলিস্তিনের দেয়াল এবং পুরা বার্লিন দেওয়াল একত্র করলেও ভারতের কাঁটাতারের বেড়া দৈর্ঘ্যে ছাড়িয়ে যাবে” (Hussain, 2009)। কাঁটাতারের বেড়া তোলার পেছনে ভারতের অভিসন্ধি শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মহল সন্দেহের চোখে দেখেছে।

সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া এবং বিএসএফের হত্যাযজ্ঞ আন্তর্জাতিক বিশ্বে ভারতের ভাবমূর্তির চরম মন্দ উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ভারত এবং মিয়ানমার বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাষ্ট্র। ভারতের সঙ্গেই আমাদের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। যার দৈর্ঘ ৫১৩৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে স্থল সীমান্ত ৪,১৫৬ কিমি (২,৫৮২ মেইল), আর ৭১১ কিমি জল-সীমান্ত।

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিশাবে স্বীকৃত। সীমান্ত নিয়ে ভারতের সঙ্গে এখন আর কোন অস্পষ্টতা নাই। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ৭ মে ভারত ভূমি পরিসীমা চুক্তি করে বাংলাদেশ ও ভারত মিলেই সীমানার সরলীকরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ সীমান্ত হত্যা কোন সীমানা নিয়ে জটিলতার ব্যাপার নয়।

বাংলাদেশের আটটি বিভাগকে সীমান্ত বাংলাদেশ সংলগ্ন ভারতের রাজ্যগুলোকে পৃথক করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩২টি জেলা। আন্তর্জাতিক এই সীমান্ত ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় এবং পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের সংলগ্ন: যথাক্রমে রয়েছে অসম ২৬২ কিমি (১৬৩ মেইল), ত্রিপুরা ৮৫৬ কিমি (২৭৫ মাইল), মিজোরাম ১৮০ কিমি (১১০ মেইল) মেঘালয়া ৪৪৩ কিমি (২৭৫ মেইল) এবং পশ্চিমবঙ্গ ২,২১৭ কিমি (১,৩৭৮ মেইল)।

ভারত সংলগ্ন বাংলাদেশের বিভাগগুলোর মধ্যে আছে মৈমনসিংহ, খুলনা, রাজশাহি, রংপুর, সিলেট এবং চট্টগ্রাম। মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তের দৈর্ঘ ২৭১ কিলোমিটার। স্থলসীমান্তের দৈর্ঘ ২০৮ কিলোমিটার। অবশিষ্ট ৬৪ কিলোমিটার সীমান্ত নাফ নদী বরাবর দুই দেশকে পৃথক করেছে।

সীমান্তে আগে পাহারা দিত বিডিআর। কিন্তু এখন বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ (বিজিবি) সেই দায়িত্ব পালন করে। ঐতিহ্যগতভাবে ২০১০ সাল পর্যন্ত এই বাহিনীর নাম ছিল বাংলাদেশ রাইফেলস্ যা বিডিআর নামেই অধিক পরিচিত ছিল। বিডিআর ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে গৌরবজ্জ্বল ভূমিকা রাখে, এই নামের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বতন্ত্র ও সার্বভৌম জনগোষ্ঠি হিশাবে আমাদের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা করবার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত হোত।

সীমান্ত ‘রক্ষা’ করার ব্যাপার নয়, নিছকই ‘পাহারা’ দেবার ব্যাপার, সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে আমাদের চিন্তার এই রূপান্তর সাম্প্রতিক ঘটনা। সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড এটাই প্রমাণ করে যে আমরা অরক্ষিত এবং নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবার অঙ্গীকার ও হিম্মত উভয়ই হারিয়েছি।

বলাবাহুল্য, আমাদের প্রতিরক্ষার দিক থেকে এটা খুবই বিপজ্জনক পরিস্থিতি। বাংলাদেশে আমাদের মত তরুণদের তা প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। একদিকে রাষ্ট্র সীমান্তে আমাদের রক্ষা করতে ব্যর্থ অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরে রাষ্ট্র নাগরিকদের আইনবহির্ভূত ভাবে হত্যা, গুম, গুমখুন, নির্যাতন, গ্রেফতার চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ মত প্রকাশ এবং সভাসমিতি করবার অধিকার হরণ করা হয়েছে অনেক আগেই। রাষ্ট্রের কাছে প্রতিবাদ জানানো ও বিক্ষোভের অধিকার অস্বীকৃত। বাংলাদেশে পরিস্থিতি অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই ছাত্র-জনতাকে স্রেফ নিজেদের স্বার্থেই বুঝতে হবে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সীমান্ত হত্য সম্পর্কে তাদের দ্রুত হুঁশিয়ার হয়ে উঠতে হবে।

( আমাদের কথা~
রাজু ভাস্কর্যে ‘সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচী’ কেন্দ্র করে আমরা যেসব তরুণ একত্রিত হয়েছি, এই অনিয়মিত লেখালিখি তাদের পক্ষ থেকেই প্রকাশিত। আমরা এখানে এবং আগামিতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বা দেয়াল কেন্দ্র করে রাষ্ট্র, সার্বভৌমত্ব, পুঁজি, গোলকায়ন, জীবিকা, ধর্ম ও সংস্কৃতি এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে নানান দিক থেকে আলোচনা চালিয়ে যাব। দুনিয়ার এক ভাগ দখলদার ভোগী, লোভী ও যুদ্ধবাজদের বিরুদ্ধে নিরানব্বই ভাগ জনগণ কিভাবে তাদের জীবন, জীবিকা, প্রকৃতি, পরিবেশ, মর্যাদা ও ইনসাফ নিশ্চিত করতে পারে তার সম্ভাব্য দিশা ও উপায় নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাবার জন্যই এই উদ্যোগ। )

#কাঁটাতার
৩য় সংখ্যা।। সোমবার। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০।
রাজু ভাস্কর্যে ‘সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচী’তে সংহতি জানিয়ে প্রকাশিত।

28/06/2020

কাঁটাতার।। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা ‘বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স' আদতে একটি খুনী বাহিনী ~

" বি এস এফ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৫ সালের পহেলা ডিসেম্বরে। এই বাহিনী রাজ্য সরকারের অধীনে নয়, এর দায়িত্ব আছে দিল্লীর কেন্দ্রীয় সরকার। প্রায় দুই লক্ষ বিশ হাজার লোকবল নিয়ে এই বাহিনী গঠিত। বর্ডার রক্ষী হিশাবে এই প্রতিষ্ঠানটি দুনিয়ার সবচেয়ে সবচেয়ে বড় সামরিক প্রতিষ্ঠান। এর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

কাগজে কলমে বি এস এফের দায়িত্ব শান্তির সময় অপরাধ দমন হলেও জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণকে দমন নিপীড়নের জন্য শুরু থেকেই কাউন্টার ইনসারজেন্সি বাহিনী হিশাবে বাহিনীটি ব্যাপক কুখ্যাতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে যারা পাহারা দিতে আসে তাদের অধিকাংশেরই হাত জম্মু ও কাশ্মিরের জনগণের রক্তে রঞ্জিত। এই সত্য বাংলাদেশের জনগণকে মনে রাখতে হবে।

উল্লেখ করা দরকার পশ্চিম বাংলায় এই বাহিনীর কোন কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি ভূমিকা নাই। কিন্তু পশ্চিম বাংলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ হচ্ছে এই বাহিনী তাদের সঙ্গেও খুবই অভদ্র ও কুৎসিত আচরণ করে।

নতুন শতাব্দী শুরু হবার দশ বছরের মধ্যে ভারত কমপক্ষে এক হাজার মানুষ সীমান্তে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তখন থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ‘কিলিং ফিল্ড’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ জানিয়েও কোন কাজ হয় নি। মানবাধিকার সংস্থাগুলো মানবতা ও আইনের শাসনের কেচ্ছা গেয়েছে বিস্তর। লাভের লাভ এতোটুকুই যে ভারত নিজেকে গণতান্ত্রিক দেশ বলে আন্তর্জাতিক মহলে যে দাবি করত সেই ‘মহান ভারত’ আর মহান হবার ভান করতে পারছে না।

উস্কানি ছাড়া মানুষ মারা এবং লোকজন ধরে নিয়ে গিয়ে অকথ্যভাবে পেটানো এবং অনেক ক্ষেত্রে পিটিয়ে মেরে ফেলা কোন সভ্য ও গণতান্ত্রিক দেশের কাজ হতে পারে না। "সীমান্তে মানুষের উপর অত্যধিক বল ব্যবহার ও নির্বিচারে প্রহার অসমর্থনীয়। এইসব নির্যাতনের ঘটনা ভারতের আইনের শাসনের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে। (HRW, 2011)।

ব্যাড এডামস, হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচের এশিয়া বিভাগের নির্বাহী পরিচালক, সীমান্তে হত্যা প্রসঙ্গে বলেন, “নিয়ম করে গরিব ও নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করে হত্যা করা দুনিয়ার বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আচরণ হতে পারেনা”। "Routinely shooting poor, unarmed villagers is not how the world's largest democracy should behave." (Adams, 2011)।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ ভারত সীমান্তে ‘দেখা-মাত্র-গুলি’ করার নীতি অনুসরণ করে। ভারতের এই নীতি পরিবর্তনের জন্য আবেদন নিবেদনের পরও আজ অবধি কোন কাজ হয় নি। সাময়িক মুখ বাঁচাতে ভারতীয় কর্মকর্তারা বিএসএফ-এর আচরণের পরিবর্তন এবং ‘শুট-অন সাইট’ নীতি বাতিল করে নতুন আদেশ পাঠাতে অঙ্গীকার করতে বাধ্য হয়েছে বটে কিন্তু আদতে তা কখনই বাস্তবায়িত হয় নি।

আন্তর্জাতিক আইনে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের অধিকার ভারতের রয়েছে, কিন্তু দেখা মাত্রই গুলি করা কিম্বা কোন প্রাণঘাতী অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অধিকার ভারতের নাই। প্রতিবাদের মুখে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারকারী বা পাচারকারীদের প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ভারত আগে অহিংস উপায় ব্যবহার করবার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি তারা কখনই রাখে নি। নিয়মিতই সীমান্তে মানুষ নিধন চলছে।

এই প্রসঙ্গে বিএসএফ-এর প্রাক্তন প্রধান রমণ শ্রীবাস্তবের যুক্তিও আন্তর্জাতিক মহলে মানবাধিকার কর্মীদের প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাঁর দাবি ছিল, কোনও মানুষের উচিত নয় সীমান্তে গুলিতে মারা যাওয়া মানুষগুলোর জন্য দুঃখ বোধ করা। কারণ, তার অভিযোগ, এরা প্রায়ই রাতে অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিল, তাই তারা মোটেই "নির্দোষ" ছিল না এবং এ কারণেই তারা বন্দুকের বৈধ লক্ষ্য (Adams, 2011)। "

( আমাদের কথা~
রাজু ভাস্কর্যে ‘সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচী’ কেন্দ্র করে আমরা যেসব তরুণ একত্রিত হয়েছি, এই অনিয়মিত লেখালিখি তাদের পক্ষ থেকেই প্রকাশিত। আমরা এখানে এবং আগামিতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বা দেয়াল কেন্দ্র করে রাষ্ট্র, সার্বভৌমত্ব, পুঁজি, গোলকায়ন, জীবিকা, ধর্ম ও সংস্কৃতি এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে নানান দিক থেকে আলোচনা চালিয়ে যাব। দুনিয়ার এক ভাগ দখলদার ভোগী, লোভী ও যুদ্ধবাজদের বিরুদ্ধে নিরানব্বই ভাগ জনগণ কিভাবে তাদের জীবন, জীবিকা, প্রকৃতি, পরিবেশ, মর্যাদা ও ইনসাফ নিশ্চিত করতে পারে তার সম্ভাব্য দিশা ও উপায় নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাবার জন্যই এই উদ্যোগ। )

#কাঁটাতার
৪র্থ সংখ্যা।। রবিবার। ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০।
রাজু ভাস্কর্যে ‘সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচী’তে সংহতি জানিয়ে প্রকাশিত।

15/03/2020

" এটা পরিষ্কার উপমহাদেশে মার্কিন নীতির একটা পরিবর্তন সূচিত হচ্ছে। এই চুক্তিকে ( তালেবান শান্তি চুক্তি) বিচ্ছিন্ন ভাবে বোঝা যাবে না। ট্রাম্পের ভারত সফরের পর যে ইন্দো-মার্কিন নীতি উপমহাদেশে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে তার আলোকেও সম্ভাব্য আগামিকে বুঝতে হবে। নতুন নীতির শুরুতেই ভারতে দৃশ্যমান মুসলিম নিধন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়ার অন টেরর’ নীতির বাইরে নয়। এই অনুমান ভুল হবে না যদি বলা হয় দিল্লির গণহত্যা মোদী-অমিত শাহের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীরব সমর্থন। "

— তালেবানদের সঙ্গে শান্তিচুক্তি

#কাঁটাতার
৫ম সংখ্যা।। ৫।। মঙ্গলবার। ৩ মার্চ, ২০২০।
রাজু ভাস্কর্যে ‘সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচী’তে সংহতি জানিয়ে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ নাসীর অাবদুল্লাহ, রাজু ভাস্কর্য।

15/03/2020

" আমরা দিল্লীর গণহত্যাকে কাঁটাতারের বেড়া থেকে বিচ্ছিন্ন কোন ব্যাপার বলে মনে করি না। এই হত্যার পিপাসা কাঁটাতারের বেড়া ডিঙ্গিয়ে বাংলাদেশেও বিস্তৃত হতে পারে। ভারতের বহু শহরে ‘মুসলমান’ বস্তি (ghetto) করে থাকে, বিশেষত গরীব, শ্রমজীবী জনগণ। দিল্লীতে যে এলাকায় সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড ঘটল সেটা মুসলমান বস্তি। বাংলাদেশও দিল্লীর চোখে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা মুসলমান বস্তির অধিক কিছু নয়। "

— কাঁটাতারের বেড়া ও হিন্দুত্ববাদী গণহত্যা

#কাঁটাতার
৫ম সংখ্যা।। ৫।। মঙ্গলবার। ৩ মার্চ, ২০২০।
রাজু ভাস্কর্যে ‘সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচী’তে সংহতি জানিয়ে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ নাসীর অাবদুল্লাহ, রাজু ভাস্কর্য।

15/03/2020

" হিন্দুত্ববাদের সঙ্গে সনাতন হিন্দু ধর্মের কোন সম্পর্ক নাই। ইসলাম এবং বিশেষ ভাবে ভারতীয় মুসলমানের বিপরীতেই সে নিজেকে ‘হিন্দু’ ভাবে। সৌদী আরব, মধ্য প্রাচ্যের রাজতন্ত্র হিন্দু ভারতের মিত্র। এমনকি আর্য ইরানের সঙ্গেও হিন্দুত্ববাদের বিশেষ কোন বিরোধ নাই। পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী পাকিস্তান তার রাষ্ট্রীয় দুষমন। কিন্তু তার গণহত্যার প্রধান টার্গেট ভারতের গরিব মুসলমান এবং দুর্বল, সুরক্ষা বঞ্চিত, পরাধীন বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ। এরাই হিন্দুত্ববাদী গণহত্যার প্রধান টার্গেট। "

— কাঁটাতারের বেড়া ও হিন্দুত্ববাদী গণহত্যা

#কাঁটাতার
৫ম সংখ্যা।। ৫।। মঙ্গলবার। ৩ মার্চ, ২০২০।
রাজু ভাস্কর্যে ‘সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচী’তে সংহতি জানিয়ে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ নাসীর অাবদুল্লাহ, রাজু ভাস্কর্য।

14/03/2020

" সাম্প্রদায়িকতা ও দাঙ্গার সঙ্গে গণহত্যার প্রধান পার্থক্য মাত্রার নয়। এই ফারাক গুণগত। সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্পদায়ের আত্মপরিচয় এবং জাতিবাদী পরিগঠনের মধ্যে ভিন্ন জাতি বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক আচরণ থাকতেই পারে। সেটা দাঙ্গার রূপও নিতে পারে। কিন্তু যখন নিজেদের তৈরি কাল্পনিক ‘অপর’ বা দূষমন নির্মূল করার মধ্যেই আত্মপরিচয় সার্থক ও সত্য বলে গণ্য করা হয় তখন সেটা সাম্প্রদায়িকতা বা দাঙ্গায় নয়, অনিবার্য ভাবেই পরিকল্পিত গণহত্যার রূপ নেয়। "

— কাঁটাতারের বেড়া ও হিন্দুত্ববাদী গণহত্যা

#কাঁটাতার
৫ম সংখ্যা।। ৫।। মঙ্গলবার। ৩ মার্চ, ২০২০।
রাজু ভাস্কর্যে ‘সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচী’তে সংহতি জানিয়ে প্রকাশিত।
যোগাযোগঃ নাসীর অাবদুল্লাহ, রাজু ভাস্কর্য।

Address

Dhaka
1000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when কাঁটাতার posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category