18/09/2026
ইন্টারভিউয়ার আসলে কলম নিয়ে কিছুই জানতে চান না।
তিনি দেখতে চান, আপনি কথা বলা শুরু করেন নাকি প্রশ্ন করা শুরু করেন।
পুরো পরীক্ষাটা ওই এক জায়গায়।
ইন্টারভিউয়ে "এই কলমটা আমাকে বিক্রি করেন" শুনলে বেশিরভাগ মানুষ যা করে, সেটা দিয়েই শুরু করি।
তারা বলে, এটা খুব ভালো কলম। স্মুথ লেখে। টেকসই। দাম অনুযায়ী দারুণ।
সব কথাই সত্যি। তবুও উত্তরটা ভুল।
কারণ কলমের বর্ণনা যে কেউ দিতে পারে। ওইটা সেলস না, ওইটা মুখস্থ বলা।
ইন্টারভিউয়ার কলম সম্পর্কে আপনার জ্ঞান মাপছেন না। তিনি দেখছেন, আপনি মানুষটাকে বোঝার চেষ্টা করেন নাকি সরাসরি বিক্রির চেষ্টা করেন।
এই পার্থক্যটাই দুর্বল আর ভালো সেলসম্যানের মধ্যে পার্থক্য।
এখন দেখি কীভাবে উত্তর দিবেন।
ধাপ ১। বিক্রি শুরু করার আগে প্রশ্ন করেন
"বিক্রি করার আগে একটা প্রশ্ন করি, আপনি সাধারণত কলম কোন কাজে ব্যবহার করেন?"
এই এক লাইনেই পুরো ঘরের বাতাস বদলে যায়। আপনি বিক্রেতা থেকে পরামর্শদাতা হয়ে গেলেন।
আর গুরুত্বপূর্ণ কথা, প্রশ্নটা করার পর চুপ থাকেন। উত্তর দিতে দেন।
ধাপ ২। তার আসল চাহিদাটা বের করেন
"কলমে আপনার কাছে কোনটা বেশি জরুরি - লেখার আরাম, ভরসা করার মতো হওয়া, নাকি দেখতে সুন্দর হওয়া?"
দুইটা প্রশ্নেই আপনি জেনে গেলেন কী বেচতে হবে। এখন আর অনুমান করতে হচ্ছে না।
ধাপ ৩। কলমটাকে তার উত্তরের সাথে জুড়ে দেন
ধরেন তিনি বললেন, প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টে সই করতে হয়।
তাহলে বলবেন, "প্রতিদিন যদি ইম্পর্ট্যান্ট ডকুমেন্টে সই করতে হয়, তাহলে আপনার এমন একটা কলম দরকার যেটা কখনো মাঝপথে থেমে যাবে না। এই কলমটা প্রতিবার একই রকম সই দেয়, হাতে ধরতেও আরাম লাগে।"
খেয়াল করেন, কলমের ফিচার এখানেও আছে। কিন্তু সেগুলো এখন তার সমস্যার উত্তর হয়ে এসেছে, বিজ্ঞাপন হয়ে আসেনি।
ধাপ ৪। সরাসরি চেয়ে নেন
"একবার হাতে নিয়ে লিখে দেখবেন?"
এই ধাপটাই সবচেয়ে বেশি বাদ পড়ে। মানুষ সুন্দর করে সব বুঝিয়ে তারপর চুপ করে যায়। বিক্রেতার কাজ শেষ হয় চাওয়ার মাধ্যমে, বোঝানোর মাধ্যমে না।
পুরো ফর্মুলাটা চার শব্দে। বোঝা, প্রয়োজন খোঁজা, জোড়া লাগানো, চেয়ে নেওয়া।
আর যদি ইন্টারভিউয়ার প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি না হন?
এটা কিন্তু হয়। অনেকে ইচ্ছে করেই বলেন, "আমি কিছু বলবো না, আপনি বিক্রি করেন।"
তখন ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ধরে নেওয়ার কথাটা মুখে বলে ফেলেন।
"ঠিক আছে, তাহলে আমি ধরে নিচ্ছি আপনি একজন ম্যানেজার যিনি দিনে অন্তত দশটা কাগজে সই করেন। যদি তাই হয়, তাহলে..."
এতে আপনি প্রমাণ করলেন যে আপনি অনুমানকেও কাঠামোর ভেতরে রাখতে জানেন। ইন্টারভিউয়ার ওইটাই দেখতে চাইছিলেন।
এখানে একটা কথা বলে রাখি
এই পদ্ধতি মুখস্থ করে গেলে কাজ হবে না।
কারণ মুখস্থ উত্তর ধরা পড়ে যায়। আপনি যদি প্রশ্নটা করেন কিন্তু উত্তরটা আসলে না শোনেন, ইন্টারভিউয়ার সেটা বুঝে ফেলবেন। তখন উল্টো খারাপ লাগবে।
তাই ফর্মুলাটা মুখস্থ করবেন না, ধারণাটা বুঝেন। ধারণাটা হলো, মানুষ পণ্য কেনে না, নিজের সমস্যার সমাধান কেনে।
আর এই জিনিসটা শুধু ইন্টারভিউয়ের জন্য না
আপনি ফ্রিল্যান্সার হলে ক্লায়েন্টকে প্রথম মেসেজে নিজের স্কিলের লিস্ট পাঠাচ্ছেন। কাজ হচ্ছে না।
একই ভুল। প্রথমে জিজ্ঞেস করেন তার সমস্যাটা কী, তারপর নিজের স্কিলটাকে ওই সমস্যার উত্তর হিসেবে সাজান।
সিভি পাঠানোর সময়ও একই কথা। আপনি কী কী পারেন সেই লিস্ট না, তারা কোন সমস্যায় আছেন সেটার সমাধান লিখেন।
একটা কথা মাথায় রাখেন, মানুষ কলম কেনে না, সই করার নিশ্চয়তা কেনে।
পোস্টটা সেভ করে রাখেন, সামনে ইন্টারভিউ থাকলে কাজে লাগবে। সেইভ + শেয়ার 🙂