21/09/2026
আজকের বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এক চরম অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। চারদিকে তাকালে শুধু অভাব, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশচুম্বী দাম আর ভবিষ্যৎ নিয়ে এক গভীর অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না। বাজারের এই আগুন পরিস্থিতি দেখে অনেকেই আজ অতীতের বড় কোনো দুর্ভিক্ষ বা চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দুঃস্বপ্ন দেখছেন, কারণ সাধারণ মানুষের আয় আর ব্যয়ের হিসাব মেলাবার কোনো উপায় নেই। এই সংকটের পেছনে যে দীর্ঘদিনের একটি গভীর ক্ষত রয়েছে, তা দেশের সচেতন নাগরিক মাত্রই জানেন। বিগত দিনে আওয়ামী লীগের সেই একতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার করাল গ্রাস দেশের প্রতিটি মানুষকে তিলে তিলে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। তাদের সেই সময়ের কর্মকাণ্ড আজ সবার জানা; যেখানে গণতন্ত্রের নাম নিশানা ছিল না, মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে পুরো দেশকে একদলীয় স্বৈরাচারের খাঁচায় বন্দি করা হয়েছিল। ভিন্নমত প্রকাশ করলেই নেমে আসতো নির্মম দমন-পীড়ন, আর এই জবাবদিহিতাহীন ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে মেগা প্রজেক্টের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট, ব্যাংক খাতের নজিরবিহীন ধস এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করা হয়েছে। বিগত সরকারের সেই সর্বগ্রাসী লুটপাট আর ভুল নীতির কারণেই আজকের এই ভঙ্গুর অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের তীব্র ভোগান্তি। যদিও এখন দেশে নতুন সরকার এসেছে, কিন্তু দীর্ঘ দেড় দশকের সেই ধ্বংসস্তূপ রাতারাতি পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে না, যার খেসারত দিতে হচ্ছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষকে। এমতাবস্থায় দেশের সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে এটাই বলার যে, দেশের আসল মালিক আমরাই, তাই অতীতের সেই একনায়কতন্ত্রের অন্ধকার থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের আরও সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নিজেদের অধিকার আদায়ে এবং বাজার সিন্ডিকেটসহ যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার পাশাপাশি এই ভঙ্গুর দেশটাকে আবার দাঁড় করানোর জন্য আমাদের ধৈর্য ও সাহসের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে, যাতে আর কোনোদিন কোনো স্বৈরাচারী শক্তি সাধারণ মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সাহস না পায় Chief Advisers Office, Bangladesh.