03/07/2026
বাঙালি বাবা-মায়ের একটা কমন ডায়ালগ আছে—
“আমরা তোমার জন্য কত কষ্ট করেছি! এখন তোমার দায়িত্ব আমাদের কথা শুনা!”
কথাটা ভুল না।
কিন্তু ইসলামের একটা সুন্দর ভারসাম্য আছে। ইসলাম শুধু সন্তানকে দায়িত্ব দেয় না, বাবা-মাকেও দেয়।
আমরা প্রায়ই শুনি,
“মা-বাবার পায়ের নিচে জান্নাত।”
“মা-বাবার অবাধ্য হয়ো না।”
এসব একদম সত্য।
কিন্তু খুব কম মানুষই আলোচনা করেন যে, সন্তানেরও বাবা-মায়ের ওপর হক আছে।
হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমার (রা.) থেকে বর্ণিত,
“যেমন তোমার ওপর তোমার পিতার অধিকার আছে, তেমনি তোমার সন্তানেরও তোমার ওপর অধিকার আছে।”
(আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ৯৪ — সহিহ)
মানে ব্যাপারটা এমন না যে, আল্লাহ শুধু সন্তানদের উদ্দেশ্যে বললেন, “যাও, বাবা-মায়ের সব কথা শুনো।”
আর বাবা-মাকে বললেন, “তোমরা যা ইচ্ছা তাই করো।”
না। ইসলাম এত একপেশে নয়।
আপনি যদি চান আপনার সন্তান সত্যবাদী হোক, তাহলে আগে বাচ্চাকে শিখাবেন না যেন সে বলে
“বাবাকে বলো, আমি বাসায় নাই!”
আপনি যদি চান সন্তান নামাজি হোক, তাহলে সে যেন আপনাকে শুধু শুক্রবার আর ঈদের দিন জায়নামাজ খুঁজতে না দেখে।
আপনি যদি চান সে ভদ্র হোক, তাহলে বাসার কাজের মানুষ, রিকশাওয়ালা বা দোকানদারের সঙ্গে আপনার ব্যবহারও যেন ভদ্র হয়।
কারণ সন্তানদের একটা অদ্ভুত সুপারপাওয়ার আছে।
তারা আপনার উপদেশের চেয়ে আপনার অভ্যাস বেশি কপি করে।
তাদের সামনে হাজারটা লেকচার দিলে লাভ কম।
কিন্তু একটা ভালো উদাহরণ দেখালে, সেটা সারাজীবন থেকে যেতে পারে।
আমরা অনেক সময় অভিযোগ করি—
“আজকালকার ছেলেমেয়েদের কোনো আদব-কায়দা নেই!”
কিন্তু কখনো কি নিজেকে প্রশ্ন করেছি—
ওরা আদবটা কার কাছ থেকে শেখার কথা ছিল? ইউটিউব থেকে, নাকি আমাদের কাছ থেকে?
সন্তান আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে বড় আমানতগুলোর একটি। তাদের শুধু ভালো স্কুলে ভর্তি করানোই দায়িত্ব নয়।
ভালো মানুষ বানানোর চেষ্টাটাও ইবাদত।
তাই এখন মনে হয়, দোয়া শুধু এমন না—
“হে আল্লাহ, আমার সন্তানকে নেক বানিয়ে দিন।”
দোয়াটা এমনও হওয়া জরুরী যে—
“হে আল্লাহ, আগে আমাকে এমন একজন বাবা/মা বানিয়ে দিন, যাকে দেখে আমার সন্তান নেক হওয়ার অনুপ্রেরণা পায়।”
কারণ সন্তানদের মানুষ করার সবচেয়ে শক্তিশালী বইটা কোনো সিলেবাস নয়। সেটা হলো—তাদের বাবা-মায়ের জীবন।
ইসলাম একপেশে নয়
সংগৃহীত