Unknown Fact BD

Unknown Fact BD Our content is crafted to unfold these events like captivating stories, making complex details easily understandable for everyone.

Unknown Fact BD brings you documentary-style videos on real-life crime stories, notorious unsolved cases, tragic incidents, and mysterious events from Bangladesh. We dive deep into the heart of these stories, presenting them in a simple, engaging format that keeps you hooked. Join us as we explore the dark and fascinating sides of reality, revealing the untold truths behind some of the most gripping events in Bangladesh.

▶ For Business : [email protected]
▶ YouTube: https://www.youtube.com/c/UnknownFactBD
▶ TikTok: tiktok.com/

আমাদের সমাজ ও বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দেওয়া একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি আজকের এই ভিডিও। ঢাকার দক্ষিণখানে ঘটে যাওয়া একটি অন...
12/07/2026

আমাদের সমাজ ও বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দেওয়া একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি আজকের এই ভিডিও।

ঢাকার দক্ষিণখানে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও রহস্যময় ঘটনা কীভাবে উন্মোচিত হলো, তার পেছনে থাকা পারিবারিক সংকট এবং বিশ্বাসের চরম অবক্ষয়ের গল্পই তুলে ধরা হয়েছে এই প্রামাণ্য চিত্রে।

একটি সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার, সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন এবং তার আড়ালে গড়ে ওঠা এক অনৈতিক সম্পর্কের নির্মম পরিণতি আজ আমাদের সবাইকে এক বড় প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। বাহ্যিক পোশাক বা সামাজিক পদবী দেখেই কি কাউকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করা ঠিক? এই ঘটনার পেছনে থাকা আসল সত্য এবং একটি নিষ্পাপ শিশুর মানসিক বেদনার গল্প জানতে সম্পূর্ণ ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।

কমেন্টস বক্সে রইলো ভিডিওর লিংক।

২৭ জুলাই ২০১৯। কানাডার ক্যাস্টেলমোর অ্যাভিনিউতে একটি বাংলাদেশী পরিবারের দিনটি শুরু হয়েছিল অন্য সাধারণ দিনের মতোই। উচ্চাব...
21/03/2026

২৭ জুলাই ২০১৯। কানাডার ক্যাস্টেলমোর অ্যাভিনিউতে একটি বাংলাদেশী পরিবারের দিনটি শুরু হয়েছিল অন্য সাধারণ দিনের মতোই। উচ্চাবিলাসী জীবনযাত্রার খরচ জোগাতে পরিবারটির কর্মজীবী মানুষেরা প্রতিদিনের মতোই বেরিয়ে পড়েছিলেন কাজে। তবে বিকেল গড়াতেই দিনটি রূপ নয় পরিবারেরটির জীবনের অন্যতম বীভৎস একটি দিনে। সেদিন সকালেও যে মা পরম মমতায় নাস্তার টেবিল সাজিয়ে দিয়েছিলেন, যে বাবা ক্লান্ত শরীরে টেক্সীর চাবি নিয়ে বেরিয়েছিলেন কাজে- তারা কেউই জানতেন এটিই তাদের জীবনের শেষ দিন হতে চলেছে। তবে জানতো পরিবারটির একমাত্র ছেলে- মিনহাজ জামান। কেবলমাত্র ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে পরিবারের সকলকে এক নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়ে এই তরুণ ব্যস্ত ছিলেন ভিডিও গেমসে। বন্ধুদের সাথে নিজের কৃতকর্ম শেয়ার করে করেছেন সেলিব্রেশন! তবে যেভাবে শেষ হয় এই ঘটনা, তা প্রতিটি পরিবারের জন্যে একটি শিক্ষা, একটি নিকষ সত্যের উন্মোচন। চলুন শুরু করা যাক এই অন্যরকম জীবনের গল্প।

৯০ এর দশকে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার মনিরুজ্জামান ও মমতাজ জামান দম্পত্তি নিজেদের উন্নত জীবনের আশায় স্বপ্ন দেখেন বিদেশে পাড়ি জমানোর। সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটে ২০০২ সালে কানাডার ভিসা পাওয়ার মাধ্যমে। নতুন দেশ, নতুন জীবন- সব মিলিয়ে ভালোই কাটছিলো পরিবারটির। পরিবারটি দুই সন্তান, ছেলে মিনহাজ জামান ও মেয়ে মালিসা জামান। মনিরুজ্জামান নিজে পেশা হিসেবে শুরু করেন টেক্সী চালানো শুরু করলেও স্ত্রী মমতাজকে কোনো কাজ করতে দেননি। তার একমাত্র কারণ নিজের দুই সন্তানদের পরিপূর্ণ খেয়াল রাখা। যাতে পড়াশোনায় ভালো করে সন্তানেরা ভালো চাকরি পায়, বিদেশের মাটিতে তার মতো কষ্টের কাজ না করা লাগে।

মনিরুজ্জামান ও মমতাজ জামান স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি ছিলেন পরস্পরের ভালো বন্ধু, আদর্শ দম্পত্তি বলতে যা বোঝায় তারা ছিলেন তেমনটাই। ঘটনার কয়েকদিন আগে মমতাজ জামানের মা ফিরোজা বেগম বাংলাদেশ থেকে কানাডায় বেড়াতে যান মেয়ের বাসায়। এই দম্পত্তির ২৫তম বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাদের বাড়িতে আয়োজিত একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন অনেক বাংলাদেশি। মোটকথা, কানাডার বাঙালি কমিউনিটিতেও সকলেই তাদের একটি আদর্শ পরিবার হিসেবেই জানতো। এই পরিবারের দুই সন্তান মিনহাজ ও মালিসাও সকলের চোখে ভালো বাবা মায়ের ভালো সন্তান বলেই পরিচিত ছিলো।

পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারে সচ্ছলতা আনতে ২০১৯ সালের শুরুর দিকে পরিবারটির একমাত্র মেয়ে মালিসা জামান ফুড ব্যাসিক্স নামক একটি সংস্থায় চাকরিতে যোগ দেন। মালিসার ইচ্ছে ছিল পড়াশোনা শেষ করে একজন নিউরো সার্জন ডাক্তার হবার। শুধু মালিসাই নয়, মিনহাজও ছিল বাবা মায়ের অতি আদরের সন্তান। মমতাজ বেগম প্রায়ই বলতেন, তার সন্তান মিনহাজ চুপচাপ স্বভাবের একটি শান্ত ছেলে। সে পড়াশোনাটাকে সিরিয়াসলি নিচ্ছে বলেই এখনো কোনো কাজে যোগ দিচ্ছে না।

আর দশটি বাঙালি পরিবারের মতোই পরিবারটির স্বপ্ন ছিল মেয়ে মালিসা ডাক্তার হলে ছেলে মিনহাজ হবে ইঞ্জিনিয়ার। কাজেই কানাডার ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে যখন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হয় মিনহাজ, তখন বাবা মা যেন তাদের দীর্ঘ স্বপ্নের বাস্তবায়নের শুরুটা দেখতে পান। তারা এমনটাই ভাবেন যে, ঠিক যেভাবে মালিসা পরিশ্রম করে পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করছে, মিনহাজও একই রকম পরিশ্রম করছে পড়াশোনায়।

কলেজে প্রথম বর্ষে মিনহাজের ফলাফলও হয় খুব আশানুরূপ। দুটো সন্তানের এই সফলতার যাত্রা দেখে মনিরুজ্জামান ও মমতাজ জামান আনন্দে চোখের পানি মোছেন। দেশ, আপনজন ছেড়ে তাদের দীর্ঘ সংগ্রাম সফল হবার পথে। যেদিন একটি মালিসা ডাক্তার, আর মিনহাজ ইঞ্জিনিয়ার হবে সেদিন ফুরাবে তাদের এই সংগ্রাম।

কিন্তু মালিসার কলেজ জীবন ভালো চললেও মিনহাজের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ছিল মূলত এক ভয়ংকর মিথ্যা। সকলের অন্যরালে এক অন্য জীবন যাপন করতো মিনহাজ!

সত্য এই যে- মিনহাজ কোনোদিন ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে যায়ইনি! কেননা ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির ভর্তি পরীক্ষাতে অংশ নিলেও এতে পাশই করতে পারেনি মিনহাজ! কিন্তু নিজের পরিবারকে মিনহাজ জানায়, সে ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে চাঞ্চ পেয়েছে। আদতে একটি লোকাল কলেজে নামমাত্র ভর্তি হয় মিনহাজ। আর এই ভয়ঙ্কর মিথ্যের কারণ ছিল, তার ছোটবোন মালিসার সফলতা। কানাডার একাধিক নামকরা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে মালিসা। আর বোনের এই সফলতার কাছে নিজের ব্যর্থতা প্রকাশ করতে চায়নি মিনহাজ। অপরদিকে মিনহাজের পিতা মনিরুজ্জামান চেয়েছিলেন মিনহাজ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হোক। তাই সেও পরিবারের সকলকে জানায় ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে তার চাঞ্চ পাওয়ার কথা।

মিনহাজের ভাবনা ছিল, এক বছর মিথ্যে বললেও পরের বছরের ভর্তি পরীক্ষায় আবারো অংশ নিয়ে ঠিকই চাঞ্চ পাবে সে। কিন্তু সেই লোকাল কলেজে ক্লাস শুরু করার পরই মিনহাজ বুঝতে পারে, পড়াশোনায় সে মোটেই ভালো নয়। ক্লাসের প্রতিটি পরীক্ষাতেই লাগাতার ফেল করতে থাকে সে। এবং একসময় ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি প্রস্তুতির পড়াশোনাতেও আর মন বসাতে পারে না মিনহাজ! চাপা স্বভাবের মিনহাজ লোকাল সেই কলেজেও মিশতে পারতো না কারো সাথেই, তার ছিল না কোনো উল্লেখযোগ্য বন্ধু। এক সময় লাগাতার ফেইলের কারণে সেই কলেজে যাওয়াও বন্ধ করে দেয় মিনহাজ।

কিন্তু সপ্তাহে চারটি ক্লাস তো অন্তত হয় ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে। আর তাই সপ্তাহের চারদিন মিনহাজকেও বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার নাম করে বের হতে হয়। সপ্তাহে চারদিন সকাল ৮ টায় বাসা থেকে বের হয় মিনহাজ। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে বাসে উঠে কখনো শপিং মল, কখনো কমিউনিটি জিম এসব জায়গায় ৪-৫ ঘন্টা সময় কাটিয়ে দুপুর ১ টায় বাসায় ফিরে। খাবার টেবিলে বাবা মায়ের সাথে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের গল্প করে, পড়াশোনার গল্প- আদতে যা সবই বানোয়াট। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এভাবেই নিজের পরিবারকে ৩ বছর মিথ্যে বলে মিনহাজ। সময় আসে শেষ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার।

ঠিক এই সময় নিরুপায় একবার মিনহাজ সিদ্ধান্ত নেয় নিজের পরিবারকে সবকিছু জানিয়ে ক্ষমা চাওয়ার। কিন্তু তখনই মিনহাজের বোন মালিসার জীবনযাপন কিছুটা উশৃঙ্খল হতে শুরু করে। আর মনিরুজ্জামান ও মমতাজ বেগম নিজেদের সকল প্রত্যাশায় চোখ ফেরায় মিনহাজের দিকে। তারা ভাবে- মেয়ে উচ্ছনে গেলেও ছেলে তো রয়েছে তাদের স্বপ্ন পূরণ করতে। পরিবারের এই প্রত্যাশা অনুমান করেই সত্যটা বলতে পারেনা মিনহাজ। কাজেই চলতে থাকে তার মিথ্যে জীবন যাপন।

একদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম করে বাহিরে ঘুরার সময় একটি গেম্স্ ক্যাফের দিকে নজর যায় মিনহাজের। সেখানেও জীবনে প্রথম ওয়ার গেম্স্ খেলে মিনহাজ। Perfect Zero নামক মাল্টিপ্লেয়ার এই গেম্স্ হতাশাগ্রস্ত মিনহাজকে যেন নতুন জীবন দেয়। যেহুতো গেমাসটি ছিল মাল্টিপ্লেয়ার, তাই এতে অন্য প্লেয়ারদের সাথে কথা বলা যেতো। এই ব্যাপারটিই যেন বন্ধু শূন্য মিনহাজের জীবনে আশীর্বাদ কিংবা অভিশাপ হয়ে আসে। গেমসে নিজের ক্যারেক্টরকে পাওয়ারফুল করতে থাকে মিনহাজ, যা বাস্তব জীবনে করতে সে পুরোপুরি ব্যর্থ। গেমসটিতে চরম পর্যায়ে এডিক্টেড হয়ে যায় মিনহাজ। যুক্ত হয় গেমারদের সোশ্যাল মিডিয়া ডিসকোর্ড সার্ভারে। কারণ কেবলমাত্র এই সময়টাতেই নিজের সকল টেনশন ভুলে যায় সে। কলেজের টেনশন, বাবা মায়ের প্রত্যাশার চাপ- সবকিছু!

ডিসকোর্ড সার্ভারে অন্যান্য গেমারদের সাথে দীর্ঘ চ্যাটের সুযোগ পেয়ে যেন নিজেকে মেলে ধরে চাপা স্বভাবের মিনহাজ। একটি বাংলাদেশী মুসলিম পরিবারের সন্তান মিনহাজ এক সময় সরে যায় ধর্মের বিশ্বাস থেকে। নিজের প্রোফাইল বায়োতে নিজেকে এথিস্ট বা নাস্তিক বলে প্রচার করে সে। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হয়। এক সময় গ্রূপ চ্যাটে ইসলামিক নামের কোনো গেমারকে দেখলেই কুটুক্তিপূর্ণ মন্তব্য করতে থাকে মিনহাজ। এ কারণে তাকে কিছুদিনদের জন্যে ব্যানও করা হয় গ্রূপ চ্যাট থেকে। তো মিনহাজের এরকম আচরণের কারণে অন্য গেমাররা সকলে এটা মেনেই নেয় যে, সে কিছুটা উইয়ার্ড। কাজেই তার কোনো কুটুক্তি, আক্রমনাত্মক মেসেজ এলেও সেভাবে পাত্তা দেয়না কেউ! কিন্তু একদিন এমন কিছু মেসেজ পাঠায় মিনহাজ- যা চমকে দেয় সবাইকে! সেই মেসেজটি ছিলো -
"এই মাত্র আমি আমার পুরো পরিবারকে খু'ন করেছি"

২৭ জুলাই ২০১৯

এদিন মিনহাজ "পারফেক্ট ওয়ার্ল্ড জিরো" নামক সেই গ্রূপ চ্যাটে লিখে "আমি আমার মা ও নানীকে খুন করেছি। অপেক্ষা করছি আমার বোনের জন্যে, যা ৫ মিনিটের মধ্যেই ঘটবে। আর ১ ঘন্টা পর বাবা!"

অন্য গেমাররা শুরুতে এই মেসেজকে প্র্যাংক ভেবে পাত্তা দেয়না, কেননা মিনহাজ যে স্বভাবগতভাবে কিছুটা অস্বাভাবিক এটা তারা সবাই এতদিনে জেনে গেছে। কিন্তু এরপর মিনহাজ চ্যাটে একটি ছবি পাঠায় এবং লিখে "এটাই আমার মা"! সেই ছবিটি দেখে গ্রুপের অন্য গেমাররা এবার নড়েচড়ে বসে! কিছু গেমার এরই মধ্যে ছবিটিতে রিভার্স সার্চ করে সার্চ ইঞ্জিনে- বোঝার চেষ্টা করে কোনো ওয়েবসাইট থেকে ছবিটি ডাউনলোড করে তাদের ভয় দেখাচ্ছে কিনা মিনহাজ। কিন্তু না- ইন্টারনেটে এই ছবিটির অস্তিস্ব নেই ইতঃপূর্বে। অর্থাৎ- এটি বাস্তব!

একজন গেমাররা মিনহাজের অবস্থান জানতে চাইলে, মিনহাজ জবাব দেয় সে বাসাতেই রয়েছে। এসময় অনেকেই মিনহাজকে ম্যানশন করে জানতে চায়- কি হয়েছে তার? কিন্তু কিছুক্ষনের জন্যে মিনহাজকে অফলাইন দেখায়। কয়েক মিনিট পরেই অনলাইনে এসে আরেকটি ছবি পাঠায় মিনহাজ। সাথে লিখা "বোনকেও মেরে ফেললাম! এখন বাবার জন্যে অপেক্ষা করছি!"

ডিসকোর্ড সার্ভারের অন্য গেমাররা এবার ভয় পেতে শুরু করে। অনেকেই খুঁজতে থাকে- মিনহাজ কখনো কারো সাথে তার বাড়ির ঠিকানা শেয়ার করেছিল কিনা। কিন্তু না- মিনহাজকে তারা গেমসে চিনলেও বাস্তবে তাকে চিনে না কেউ। তাই এই মুহূর্তে ঠিক করা উচিত ভেবে পায়না তারা।

অন্য গেমারা মিনহাজের পাঠানো ছবিগুলো তাদের পরিচিত জনদের পাঠাতে শুরু করে, কেউ হত্যার শিকার মনুষদের চিনে কিনা এই উদ্দেশে। কিন্তু এই পুরো সময়টায় পারফেক্ট ওয়ার গেমসটি খেলতে থাকে মিনহাজ। সন্ধ্যায় গরূপে সর্বশেষ আরেকটি মেসেজ পাঠায় মিনহাজ। "আমি এই মাত্র আমার পুরো পরিবারকে শেষ করলাম!"

প্রিয় দর্শক, পুরো কথোপকোথনটিই হয় ইংরেজিতে। সকলের বোঝার সাথে এটিকে ভাবানুবাদ করে বলা হচ্ছে ভিডিওতে।

এই মেসেজের পর অনেকেই গ্রূপের বাইরে মিনহাজকে পার্সোনালি মেসেজ পাঠাতে থাকে। সেসময় মিনহাজ একজনকে রিপ্লাইতে জানায়- "হ্যা, আমি শাস্তির যোগ্য!" প্রতি উত্তরে সেই গেমার জানায়- "এটি করার আগে তুমি যদি এই ব্যাপারে কথা বলতে!" উত্তরে মিনহাজ জানায়, "এটি আমার ৩ বছরের পরিকল্পনা। আমার বাবা মাকে জানিয়েছিলাম, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েশন ২৮ জুলাই। আমার পক্ষে এটিকে আর পেছানো সম্ভব ছিলো না।"

আরো কিছু চ্যাটের এক পর্যায়ে ওই গেমার মিনহাজকে প্রশ্ন করে- "তুমি এটি গ্রূপ চাটে জানাতে গেলে কেন?"
এর উত্তরে মিনহাজ যা লিখে তা হলো-

"আমি আমার পুরো পরিবারকে হত্যা করেছি, এবং যদি বেঁচে থাকতে পারি তাহলে সম্ভবত সারা জীবন জেলে কাটাবো। আশা করি আমি তোমাদের হাসিয়েছি, আশা করি তোমরা সেই ভালো সময়গুলো মনে রাখবে। আমি তোমাদের সবাইকে মিস করব। আমার অটিজম সহ্য করার জন্য ধন্যবাদ ভাই, আমি তোমাদের মিস করব।"

এসময় ওই গেমার মিনহাজকে জিজ্ঞেস করে, "তোমার গার্লফ্রেন্ডের কি হলো?"

মিনহাজ জানায়, "তার সাথে অনেক আগেই ব্রেকআপ হয়েছে। আমি তাকে এসবের মধ্যে জড়াতে চাইনি"

ঠান্ডা মাথার খুনি মিনহাজ জানতো সে কি করছে। সে আসলে ধরা পড়তেই চেয়েছিলো। কিন্তু আর পেছনে কারণটা ছিল কি? কেন মিনহাজ নিজের পরিবারের সবাইকে শেষ করলো?

এই সবকিছুই শুরু হয়েছিল যখন পর পর দুইবার মিনহাজ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করে। কিন্তু নিজের পরিবারকে এই সত্যটি জানাতে পারেনি সে। মিথ্যে ক্লাসের নাটক করে চার বছর কাটিয়ে যখন ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফলের সময় এলো তখন নিজের পরিবারের মুখোমুখি হয়ে এই হত্যা বলার সাহস ছিল না মিনহাজের। কেননা ইতোমধ্যেই তাকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছে তার বাবা মা- তা মুহূর্তেই ধুলিস্বাৎ হয়ে যেত ওই সত্য বেরিয়ে এলে। এই অবস্থায় মিনহাজকে হয় নিজেকে মারতে হতো, নাহয় পরিবারের সকলকে।

২৭ জুলাই সেই দিনটিতে সকাল বেলাতেই মিনহাজের বাবা মনিরুজ্জামান ও বোন মালিসা বেরিয়ে পড়ে যার যার কাজে। মিনহাজ অপেক্ষা করতে থাকে বিকেলের। কারণ সে জানে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন দুপুরের পরেই ঘুমাতে যায় মিনহাজের মা ও নানী। সেদিনও একইভাবে দুপুরের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরে মিনহাজের মা ও নানী। এসময় একটি ধারালো চুরি দিয়ে প্রথমে মা এবং তারপর নানীকে হত্যা করে মিনহাজ। এরপর ছুরিটি সেখানে রেখেই নিজের ঘরে গিয়ে গেমসে মগ্ন হয় মিনহাজ। এসময় সেই গ্রুপ চ্যাটে প্রথম মেসেজটি পাঠিয়েছিল মিনহাজ। এরপর সন্ধ্যায় বোন মালিসা ফিরলে সিঁড়ির প্রবেশমুখেই একই কায়দায় তাকেও হত্যা করে মিনহাজ, এবং পরবর্তীতে বাবাকে।

পুরো পরিবারকে হত্যা করলেও মিনহাজ এতটাই কাপুরুষ ছিলো যে, নিজেকে হত্যা করতে পারেনি সে। নিজেকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে,সমাজে সম্মানিত বলে পরিচিত তার পরিবারকে বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে পুরো পরিবারকেই এক চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দেয় মিনহাজ।

পুলিশ ঠিক কার তথ্যের ভিত্তিতে এসেছিলো, এই তথ্যটি জানা যায়নি। কিন্তু অবশ্যই- মিনহাজ আটক হয়েছিল ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই।

০৭ নভেম্বর ২০২০

সেসময় বিশ্বজুড়ে করণের প্রাদুর্ভাব থাকায় অনলাইনে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয় মিনহাজ জামানের। আদালতে মিনহাজ জানায়- বাবা মায়ের অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপে সে এই কাজ করেছে। তবে প্রকৃত অর্থে মিনহাজ এমন এক কাপুরুষ যে, নিজের অপরাধ আড়াল করতে বাঁকি সবাইকে দোষারোপ করতে ছাড়েনা। জামান পরিবারের মতো একটি সুন্দর গুছানো পরিবারে হয়তো মিনহাজের মতো সন্তানের জন্ম না হলেই ভালো হতো। প্রায় কয়েক ঘন্টার এই বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুবক ২৮ বছর বয়সী মিনহাজ জামান কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় কানাডার অন্টারিওর আদালত। একইসঙ্গে আগামী ৪০ বছর তার প্যারোল মুক্তি রহিত করা হয়। অর্থাৎ কোনোভাবেই ৪০ বছরের আগে কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই মিনহাজের। এরপর থেকে কানাডার কোনো এক জেলেই রয়েছে শয়তান রুপি সন্তান - মিনহাজ জামান!

এই ঘটনা থেকে আমরা একটি গভীর নৈতিক শিক্ষা পাই, যা পিতামাতার অতিরিক্ত প্রত্যাশা এবং সন্তানের দায়িত্ববোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বকে তুলে ধরে। পিতামাতার প্রত্যাশা এবং সন্তানের স্বপ্নের মধ্যে একটি সুস্থ সমন্বয় থাকা অত্যন্ত জরুরি। পিতামাতার উচিত তাদের সন্তানদের উপর অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া এবং তাদের স্বপ্ন ও সক্ষমতাকে সম্মান করা। অন্যদিকে, সন্তানেরও উচিত পিতামাতার ভালোবাসা ও পরিশ্রমের মূল্য বোঝা এবং তাদের প্রত্যাশার প্রতি সৎ ও দায়িত্বশীল আচরণ করা।

👉 বিশ্বের আলোচিত এই ঘটনাটি নিয়ে Unknown Fact BD এর বিস্তারিত ডকুমেন্টারি এর লিংক কমেন্টসে বক্সে দেয়া হলো। এধরণের আরো অনেক ঘটনার ভিডিও পেতে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করার অনুরোধ রইলো।

২৫ অক্টোবর ১৯৯৪। আমেরিকার ইউনিয়ন সাউথ ক্যারোলিনায় হঠাৎ করে প্রচন্ড সাড়া ফেলে দেয় এক মায়ের সন্তান হারানোর বুক ফাটা কান্না...
15/03/2026

২৫ অক্টোবর ১৯৯৪। আমেরিকার ইউনিয়ন সাউথ ক্যারোলিনায় হঠাৎ করে প্রচন্ড সাড়া ফেলে দেয় এক মায়ের সন্তান হারানোর বুক ফাটা কান্না। মায়ের নাম সুজান স্মিথ। ক্যারোলিনার বাসিন্দা সুজান পুলিশকে জানায় গাড়ি করে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ এক কালোদর্শন ব্যক্তি তাকে ভয় দেখিয়ে গাড়ি থেকে বের হতে বাধ্য করে আর গাড়ির ভেতরে বসে থাকা সুজানের দুই সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

শিশু দুটির বয়স খুবই কম। মাইকেল ড্যানিয়েল স্মিথের বয়স ছিল ৩ বছর আর এ্যালেক্স টেইলার স্মিথের বয়স ছিল মাত্র ১৪ মাস। পুলিশ, সাধারণ মানুষ- সবাই নিজের মতো করে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে শুরু করে মাইকেল আর এ্যালেক্সের খোঁজ। নিষ্পাপ শিশুদের হারিয়ে যাওয়া- এটুকুই হয়তো যথেষ্ট ছিল। কিন্তু তদন্তে খুঁজে পাওয়া যায় এমন আরো কিছু যেগুলো চিন্তায় ফেলে দেয় আইন বিভাগকে।

কলম্বিয়ার ভীড়-বাট্টায় ভরা শহর থেকে বেশ খানিকটা দূরে অবস্থিত ইউনিয়ন, সাউথ ক্যারোলিনায় কখনোই খুব বেশি ঝামেলা দেখা যায়নি। এমন একটি শান্তিপূর্ণ স্থানে বাস করছিল সুজান স্মিথ আর তার পরিবার। কিন্তু এই একটি ঘটনা যেন পুরো শহরটিকেই বদলে দেয়। বাড়তে থাকে বর্ণবাদের বিবেধ।

ঠিক কী হয়েছিল সেদিন? মূল কাহিনীর দুটো বর্ণনা আছে। সুজানের ভাষ্যমতে, মোনার্ক মিল টেক্সটাইল প্ল্যান্টের কাছাকাছি যাওয়ার পরপরই সিগন্যালে আটকে যায় তার গাড়ি। জায়গাটা ছিল প্রধান সড়ক থেকে প্রায় দুই মাইল দূরে। সিগন্যালে থাকার সময় হঠাৎ করে এক কালো লোক এসে গাড়ির কাঁচ ভেঙে সুজানকে পিস্তল দেখায়। তারপর মানুষটিকে সাথে নিয়েই হাইওয়ে ফোর্টি নাইনের দিকে যায় সুজান। ১০ মিনিট পর জন ডি লং লেকের রাস্তায় এসে পড়লে সুজান নিজেকে আর সন্তানদেরকে বাঁচানোর জন্য বারবার অনুরোধ করতে থাকে। পেছনের সিটে বাচ্চারা কাঁদছিল তখন। বিরক্ত হয়েই হয়তো কালো লোকটি সুজানকে বাইরে বের করে দেয় আর বাচ্চাদেরকে নিয়ে চলে যায়।

কী করবে বুঝতে না পেরে সুজান পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে সাহায্য চায়। কিন্তু কিছুতেই কোনো লাভ হয় না। এটাই ছিল সুজানের স্বীকারোক্তি। এদিকে ঘটনাটি ঘটার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই আর সাউথ ক্যারোলিনার আইন বিভাগ শিশু দুটিকে উদ্ধারে নেমে পড়ে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় সুজানের স্বামী ডেভিড। সুজানের অবস্থা আর দুই সন্তানের নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে জানতে পেরে মুষড়ে পড়েন ডেভিড। তবে ডেভিডের চাইতেও বাজে অবস্থায় ছিল তখন সুজান। সন্তানদের হারিয়ে পাথর হয়ে পড়েছিল সে। টানা নয় দিন ধরে খোঁজাখুঁজি চলে। রাস্তা, বন, খাল- কোনোকিছুই বাদ রাখেনি সাধারণ মানুষ আর পুলিশ। তবুও এত খুঁজেও এলেক্স বা মাইকেলের কোনো হদিস মেলেনি।

শুরু থেকেই একটু একটু সন্দেহ কাজ করছিল পুলিশের সুজানের উপর। সুজানের উপর করা লাই ডিটেক্টর পরীক্ষায় আবার নিজের উপর সবার সন্দেহ টেনে আনে সুজান। সুজানের ভাষ্যমতে, তার গাড়িতে পিস্তল দেখিয়ে কালো মানুষটা যখন উঠছিল, তখন সেখানে আর কোনো গাড়ি ছিলো না। তাই এই ঘটনাটি কেউ দেখতে পায়নি। আর একইসাথে সে এটাও বলছিল যে, লাল আলো জ্বলেছিলো বলেই সে গাড়ি থামাতে বাধ্য হয়েছিল। সুজানের এই কথা শুনেই খটকা লাগে পুলিশের। কারণ রাস্তায় যদি গাড়ি না থাকে তাহলে অন্য রাস্তা বন্ধ করে সেই রাস্তা খুলে দেবে কেন কেউ? সুজানের গাড়ি যদি লাল আলো জ্বালানোর কারণে থামে তাহলে নিশ্চয়ই রাস্তার অন্য পাশে গাড়ি ছিল তখন। কিন্তু সুজানের কথামতো সেখানে এরকম কিছুই ছিলো না তখন। তবু সুজানের উপর কোনোরকম অভিযোগ আনেনি পুলিশ তখনো।

নিজেদের এই চিন্তা আর সন্দেহকে পাত্তা দেয়নি তারা। ভেবেছে কেন নিজের বাচ্চাদের সাথে এমন করবে সুজান? বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত ছিল সুজান, বন্ধুদের সাথে বেশ হাসিখুশি ছিলেন। তাই তাকে সন্দেহ করাটাও খুব অপ্রত্যাশিত ছিল। মিডিয়ার কাছে কেঁদে কেঁদে নিজের সন্তানদেরকে ভিক্ষা চায় সুজান একটা সময়। সবার সমবেদনা চলে যায় সন্তানহারা মা সুজানের প্রতি। ফলে সরাসরি কোনো অভিযোগ ছাড়াই একইসাথে কালো কোনো একজন মানুষকে খুঁজতে থাকে পুলিশ। সবখানে খোঁজা হয় সুজানের সেই গাড়িটিকে। পুলিশের বিশ্বাস ছিল, যদি সুজান তার সন্তানদেরকে লুকিয়ে রাখে তাহলে এ্যালেক্স আর মাইকেল এখনো বেঁচে আছে। সুজান জানে তারা কোথায় আছে।

ইতিমধ্যে ইউনিয়নের বাসিন্দারা বাচ্চাদের খুঁজতে পুলিশকে সাহায্য করতে শুরু করে। প্রায় হাজারখানেক পোস্টার ছাপায় তারা। বিভিন্ন স্থানে হলুদ রিবন বাঁধে। ঘোড়ায় চড়ে জঙ্গলে খুঁজে দেখে। শেষমেশ সুজানের বর্ণনার সেই স্থানের নিটক জন ডে লং লেকে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তীরের থেকে ১০০ ফুট দূর পর্যন্ত ডুবুরিরা খুঁজে ফেরে গাড়ি এবং মৃতদেহগুলোকে। এর ভেতরে এফবিআই সুজানের ঘরে তল্লাশী চালায়। কিন্তু সেখানেও কিছু খুঁজে পায়নি তারা। ঘটনার এক সপ্তাহ পর টিভির সামনে আবার এসে হাজির হয় সুজান আর ডেভিড। নিজের বাচ্চাদেরকে আবার ফেরত চায় সুজান। ঘটনা ঘটার ৮ নম্বর দিনে সুজানের কথায় আরো কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পায় পুলিশ।

প্রথমত, আগে থেকেই রাস্তার ট্রাফিকের রেড লাইট নিয়ে বেশ সন্দেহ কাজ করছিল পুলিশের সুজানের প্রতি। এবার সেটা আরো জোরদার হয় যখন তদন্ত করে জানা যায় যে, ২৫ অক্টোবর রাতে সুজান ওয়ালমার্টে যায়ইনি। এমনকি সে যে বন্ধুর বাড়িতে যাবে বলে রওনা দিয়েছিল সেই বন্ধুটিও ২৫ তারিখে বাসায় ছিল না। তাহলে কি পুলিশকে একেবারেই মিথ্যো বলেছিল সুজান? জানতে চাইলে পুলিশকে দেওয়া নিজের স্টেটমেন্ট বদলে ফেলে সুজান। নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে থাকে সে। তবে এবার কেবল পুলিশ বা এফবিআই নয়, সুজানকে সন্দেহ করতে থাকে মিডিয়াও।

একটি বিষয় নজর এড়ায়না গোয়েন্দাদের। টিভিতে বলা কথাগুলোতে সুজান মাইকেল আর এ্যালেক্সকে “আমি তোমাদের খুব ভালবাসতাম” ধরনের শব্দগুলো ব্যবহার করছিল বারবার। তখনই গোয়েন্দাদের মনে প্রশ্ন উঠে আসে কেন এভাবে অতীতের কথা বলছে? এখন কি আর তাহলে নিজের বাচ্চাদেরকে ভালোবাসে না সে? নাকি বাচ্চারা বেঁচে নেই জেনেই এমন কথা সুজান? অন্যদের মনে তখনো আশা, না! ছোট্ট শিশু দুজন হয়তো মারা যায়নি। কিন্তু সুজান কী করে এত নিশ্চিত হয়ে গেল সুজান? কীভাবে এত সহজে বলছে সে যে তার ছেলেরা আর নেই?

নিজেকে নির্দোষ বলে দাবী করে সুজান। তবে পরের বৃহস্পতিবারে প্রশ্নোত্তর পর্বের সময় একেবারে ভেঙে পড়ে সুজান। কান্নামাখা গলায় কেবল বলতে থাকে তার সন্তানেরা ভালো নেই। এরপর পুলিশকে সে নিজেই জন ডে লং লেকের পানির নিচে নিজের গাড়ি আর বাচ্চাদের খুঁজতে বলে সে। সুজানের কথামতো তীর থেকে প্রায় ১২২ ফুট দূরে পানির নিচে খুঁজে পাওয়া যায় হারানো গাড়ি। আর কেবল গাড়িই নয়, গাড়ির ভেতরে পেছনের সীটে বসে থাকা মৃত মাইকেল আর এ্যালেক্সকেও আবছাভাবে দেখা যাচ্ছিলো তখন। মৃতদেহগুলো তখনো গাড়ির ভেতরে ডুবন্ত অবস্থাতেই ছিল। জানালা বন্ধ থাকায় সেখানে পানি প্রবেশ করতে পারেনি এতদিনেও। শিশু দুটি মারা যায় অক্সিজেনের অভাবে।

পরবর্তীতে সুজানকে নিয়ে পুলিশ চার্চে আসে আর সেখানেই লিখিত একটি স্বীকারোক্তি দেয় সুজান। আর নিজের এই নতুন লেখায় সে জানায় ঘটনার দিন ২৫শে অক্টোবর সে আত্মহত্যা করার চিন্তা করছিল। একজন মা হিসেবে সুজান চায়নি যে তার মৃত্যুর পর তার সন্তানেরা একা হয়ে যাক বা খারাপ থাকুক। আর তাই নিজেকে মারার আগে সন্তানদের মেরে ফেলতে চেয়েছিলো সে। প্ল্যান সব ঠিক করাই ছিল। গাড়ি নিয়ে সোজা লেকের কাছে চলে যায় সুজান। সেখান থেকে সোজা গাড়ি নামিয়ে দেয় লেকের পানিতে। তবে তার আগে একবার ব্রেক কষে গাড়ি থামিয়ে দেয় সে। তারপর নিজে নেমে যায় গাড়ি থেকে আর বাইরে থেকে গাড়িকে আবার সামনের দিকে এগিয়ে দেয়। ঢালু স্থানে দ্রুত গাড়ি নেমে যায় পানিত অতলে। সেখানেই মৃত্যু হয় ৩ বছর বয়সী মাইকেল আর ১৪ মাস বয়সী এ্যালেক্সের। এই জবানবন্দি শোনার পর পুরো ক্যারোলিনা আর পৃথিবীর মানুষ অবাক হয়ে যায়। সেই সাথে এতদিন ধরে যারা সুজানকে সমবেদনা জানিয়েছিলো আর তার সন্তানদেরকে খুঁজতে সাহায্য করছিলো অর্থাৎ ইউনিয়নের সবাই প্রচন্ড ক্ষেপে ওঠে। সুজানের প্রতারণা ডেভিডকেও অবাক করে দেয়। একজন মা কীভাবে তার সন্তানকে খুন করতে পারে সেটা ভেবে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো পৃথিবী।

বিচার শুরু হল। সাউথ ক্যারোলিনা প্রশাসন সুজানের মৃত্যুদণ্ডের কথা বললেও ডিফেন্স থেকে বলা হয় সুজান নিজেও নিজের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত। সে মারা যেতে চায়। তাই এই অবস্থায় তাকে বাঁচিয়ে রাখলে সেটাই হবে তার জন্য আরো বেশি শাস্তি। সাউথ ক্যারোলিনার হাজার হাজার মানুষ এই সময় শিশু মাইকেল আর এ্যালেক্সের শেষকৃত্যে অংশ নেয়। যে লেকের ভেতরে তাদের জীবন সমাপ্ত হয়েছিলো সেটার পাশে খেলনা, ফুল আর অনেক ভালোবাসা নিয়ে ভীড় জমায় সবাই। ১৯৯৪ সালের ৬ নভেম্বর, রবিবার মাইকেল আর এ্যালেক্সকে কবর দেওয়া হয়। তাদের দুজনের শরীর একই স্থানে দাফন করা হয়। সুজানকে এ্যারেস্ট করার সাথে সাথে এতদিন ধরে ইউনিয়নের যে মানুষগুলো তাকে সমর্থন করে এসেছিলো তারাই রাগে ফুঁসতে থাকে আর সুজানের বিরুদ্ধে র‍্যালি করে।

একদিনের ভেতরেই সুজানের প্রতি সবার ভালোবাসা ঘৃণায় পরিণত হয়। বিশেষ করে কালো চামড়ার মানুষেরা বিনা কারণে দোষ দেওয়ার জন্য আরো বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে যায় সুজানের প্রতি। ১২ই ডিসেম্বর খুনের দায় আনা হয় সুজানের উপর।

সুজান স্মিথের বিচার শুরু হয় ১৯৯৫ সালের ১৭ই জুলাই। এই বিচার প্রক্রিয়ায় সামনে আসে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের কারণ। ফেব্রিক এন্ড ম্যানুফেকচার কোম্পানি একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো সুজান। কোম্পানির মালিকের ছেলে টম ফিন্ডলির সাথে কিছুদিন যাবত ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিলো তার। কিছুদিন হচ্ছিলো টম আর সুজানের সম্পর্কে টানাপোড়েন উঁকি মারছিল। ফলে সম্পর্কটি শেষ হয়ে যায়। তাদের সম্পর্ক শেষ করার পেছনে অন্যতম কারণ হল সুজানের সন্তান। টম ফিন্ডলি সুজানের আগের ঘরের বাচ্চাদের বাবা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাচ্ছিলো না। আর এই কারণেই নিজের সন্তানদেরকে খুন করেছিলো সুজান- এমনটা ধারণা করে প্রসিকিউটর। সন্তান না থাকলে কোনো দায়িত্ব থাকবে না। টম ফিরে আসবে। ব্যাপারটা ছিল অনেকটা এরকম।

অবশেষে ২৮শে জুলাই প্রায় আড়াই ঘন্টা আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সুজান যাবজ্জীবন কারাদন্ডে থাকবে। মৃত্যু নয়, বেঁচে থাকার শাস্তি দেওয়া হয় তাকে। নিজের সমস্ত দোষ স্বীকার করে নেয় সুজান। কিন্তু তাতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হয়নি। কলম্বিয়ার সাউথ ক্যারোলিনাতে অবস্থিত নারী সংশোধানাগার কেন্দ্রে সুজান স্মিথকে বন্দী হিসেবে রাখা হয়। বর্তমানে সেখানেই রয়েছে সুজান স্মিথ।

👉 বিশ্বের আলোচিত এই ঘটনাটি নিয়ে Unknown Fact BD এর বিস্তারিত ডকুমেন্টারি এর লিংক কমেন্টসে বক্সে দেয়া হলো। এধরণের আরো অএঙ্ক ঘটনার ভিডিও পেতে চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করার অনুরোধ রইলো।

১৯১১ সাল। ইতালির "জ্যানেটি" নামক এক কোম্পানি ঘোষণা করল তারা তাদের নতুন একটি ট্রেন লঞ্চ করতে চলেছে। যেটার প্রথম সফরে যাত্...
13/03/2026

১৯১১ সাল। ইতালির "জ্যানেটি" নামক এক কোম্পানি ঘোষণা করল তারা তাদের নতুন একটি ট্রেন লঞ্চ করতে চলেছে। যেটার প্রথম সফরে যাত্রীদের দেওয়া হবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাত্রার সুযোগ। সেকালের হিসেবে ট্রেনটির সাজ সরঞ্জাম, খাবার দাবার ছিল যথেষ্টই লোভনীয়। বেশ আকর্ষণীয় সুযোগই বলতে হয়। ফলে অনেকেই প্রথম সফরে যাওয়ার আর্জি জানালেন। শেষমেশ সফরের দিন দেখা গেল গাড়ির চালক মিলিয়ে মোট ১০৬ জন যাত্রী ট্রেনটিতে যাত্রা করছেন।

গ্রীষ্মের সকালে মোট ১০৬ জন যাত্রী নিয়ে সেই "জ্যানেট" ট্রেন তার যাত্রা শুরু করল। সব ঠিকই ছিল। ট্রেন চলছিল নিয়মমাফিক। যাত্রীরা বেজায় খুশি। সকলেই গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত চুটিয়ে উপভোগ করছেন এই ট্রেন জার্নি। এমন সময়ই ট্রেনটি এসে পৌছাল লম্বারডি পাহাড়ের কাছাকাছি। এই পাহাড়ের পেটের ভিতর দিয়ে একটি অন্ধকার টানেল। এই টানেল পার করেই ট্রেনটিকে পৌঁছতে হবে গন্তব্যে। যদিও টানেলে ঢোকার আগে সেই ট্রেনের যাত্রীরা ভাবতেও পারেনি তাদের সঙ্গে কি ঘটতে চলেছে।

১৯১১ সালের গ্রীষ্মের দুপুর। ট্রেনটি ১০৬ জন যাত্রী নিয়ে সেই টানেলে ঢোকে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে আর বেরোয় না। একদমই তাই! আর বেরোয় না! সেই যে ট্রেনটি টানেলে ঢোকে তারপর তার আর কোনো ট্রেস পাওয়া যায় না। ঠিক যেন তার সমস্ত যাত্রীকে নিয়ে একবারে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে ট্রেনটি। বহু মানুষই আগের স্টেশন থেকে ট্রেনটিকে ছাড়তে দেখেছে। কেউ কেউ আবার সেই টানেলেও ঢুকতে দেখেছে ট্রেনটাকে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে ট্রেনটাকে টানেল থেকে বেরোতে কেউ দেখেনি। কেউ না !

এরপর বিস্তর খোঁজা খুঁজি। টানেল তন্ন তন্ন করে খোঁজা হল। অত বড় ট্রেন অথচ কোথাও কোনো চিহ্ন মাত্র নেই। শেষমেশ খোঁজ মিলল ওই ট্রেনেরই দুইজন যাত্রীর। দুজনেই যেন মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। দুজনেই কোনো কথা বলতে চায় না। বহু জিজ্ঞাসাবাদের পর দুজন মুখ খুলল। এবং যে কাহিনী তারা শোনাল তা যেন গল্পের চেয়েও বিস্ময়কর।

ট্রেনটি যখন টানেলে প্রবেশ করে তখনও পর্যন্ত সব নাকি ঠিক ছিল। কিন্তু টানেলের মাঝামাঝি আসতেই একটা অদ্ভুত সাদা কুয়াশা নাকি পুরো ট্রেনটাকে ঘিরে ধরে। সেই অদ্ভুত কুয়াশায় ট্রেনের যাত্রীদের সকলেরই দমবন্ধ হয়ে আসে। সকলেই ছটফট করতে থাকে। সারা ট্রেন জুড়ে হইচই পড়ে যায়। ভয়ে, আতঙ্কে যাত্রীরা প্রাণপণ চিৎকার করতে থাকে সাহায্যের জন্য। ঠিক সেই সময়ে, একদম শেষ মুহূর্তে এই দুজন যাত্রী ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেয় বাইরে। এরপর অদ্ভুতভাবেই তাদের চোখের সামনে ট্রেনটি মিলিয়ে যায় টানেলের ভিতরকার ঘন সাদাটে কুয়াশার মধ্যে। ব্যাস তারপর তাদের আর কিছু মনে পড়ে না।

"জ্যানেটি" ট্রেনের এই আচমকা উধাও হয়ে যাওয়া সেইসময় বেশ সাড়া ফেলে দেয়। বহু নিউজ পেপারে এ নিয়ে বড় বড় আর্টিকেল ছাপা হয়। রহস্য আরও ঘনীভূত হয়ে ওঠে। যদিও বহু অনুসন্ধানের পরেও রহস্যের কিন্তু কোনো সমাধান হল না। সময় যত যায়, মানুষের স্মৃতিও ফিকে হতে থাকে। একসময় জ্যানেটি ট্রেনের কথা সকলে যখন ভুলেই গেছে তখনই আবারও একবার চর্চায় উঠে আসে সেই ট্রেন। অদ্ভুতভাবে এই বার আরও চমকপ্রদ কাহিনী নিয়ে।

সেই দিন ওই ট্রেনে যতজন যাত্রী মিসিং হয়ে গিয়েছিলেন তাদের মধ্যেই এক যাত্রীর এক রিলেটিভ কেসটা নিয়ে বিস্তর রিসার্চ করছিল। বিভিন্ন রেকর্ড ঘটতে গিয়ে ১৯২৬ সালে সে আচমকা একটা অদ্ভুত তথ্য আবিষ্কার করে। মেক্সিকোতে নাকি আচমকাই ১০৪ জন যাত্রী উপস্থিত হয়েছে যাদের দাবি তারা ইতালি থেকে ট্রেনে করে এসেছে। অদ্ভুতভাবে তারা যে ট্রেনটির বর্ণনা দেয় সেটি হুবহু মিলে যায় "জ্যানেটি" ট্রেনের সঙ্গে। কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়কর যা, তা হল এই রেকর্ডটি ১৮৪৫ সালে! আজ্ঞে হ্যাঁ ১৮৪৫। যে ট্রেন ছেড়েছেই ১৯১১ সালে, সেই ১৮৪৫ সালে যাত্রীদের নিয়ে পৌছাল কি করে?

পুরোনো সেই রেকর্ডটি ঘাটলে আরও বিস্ময়কর তথ্য সামনে উঠে আসে। ওই ১০৪ জন যাত্রীকে ওই সময় মেক্সিকোর এক সাইকিয়াট্রিক হসপিটালে রাখা হয়েছিল। সেই হাসপাতালে গিয়ে ক্রসচেক করলে দেখা যায় ঘটনাটা হুবহু সত্যিই। সেই ১০৪ জনের প্রত্যেকেই নাকি মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত ছিল। তারা কেবল দাবি করত তারা রোমে ফিরে যেতে চায়। একটা অদ্ভুত ট্রেনে করে ঘন কুয়াশাময় টানেলের ভিতর দিয়ে তারা নাকি এখানে এসে পৌঁছেছে।

এমনকি সেই হসপিটালের রেকর্ড অনুযায়ী ওই ১০৪ জনের পোশাকও ছিল সেকালের তুলনায় সম্পূর্ণ অন্যরকম। শুধু তাই নয়, তাদের মধ্যে একজন প্যাসেঞ্জারের কাছে ছিল একটা তামাকের পাত্র যার গায়ে খোদাই করে লেখা আছে ''১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ"। এই তামাকের পাত্রটি হসপিটাল অথরিটি যত্ন করে রেখেছিল এই অদ্ভুত ঘটনার স্মৃতি হিসেবে। এটি এখনও মেক্সিকোতে সংরক্ষিত আছে।

এরপর থেকেই এই অদ্ভুত ট্রেনের কাহিনী দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন জার্মান, ফ্রান্স, ইতালি বিভিন্ন সময় দাবি করতে থাকে এরকম একটি অদ্ভুত ট্রেন নাকি তাদের দেশেও দেখা গিয়েছে। কখনও সেটা ১৯৫৫ সাল তো কখনও আবার ১৯৭১! এমনকি এও শোনা যায় যে ১৯৯১ সালে পোলটাভায় এক প্যারানরমাল রিসার্চার এই ট্রেনটির সামনে ঝাঁপ দিয়ে চিরতরে নিখোঁজ হয়ে যান।

ঠিক কি হয়েছিল ১৯১১ সালের সেই দুপুরে? কিভাবে ট্রেনটি হাওয়ায় মিলিয়ে গিয়েছিল টানেলের মধ্যে দিয়ে? কিভাবেই বা সেটা পৌছাল প্রায় সত্তর বছর আগের মেক্সিকোয়? এ সকল প্রশ্নের উত্তরই ধোঁয়াশাময়। অনেকেরই ধারণা ট্রেনটি কোনোভাবে টাইম ট্রাভেল করে অতীতে চলে গিয়েছিল আবার অনেকের মতে ট্রেনটি হয়তো ছিল কোনো গোপন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার অংশ। কেউ কেউ মনে করেন এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কোনো এক্সট্রাটেরিস্টিয়াল লিংক। এলিয়েন ইন্টারাপশন।

যদিও এ সকলই থিওরি। আসলে যে কি ঘটেছিল তা কেউ জানে না। আসলে আমাদের মহাবিশ্বে এমন অনেক ঘটনাই ঘটে যার কারণ জানা হয়তো সম্ভবও নয়! এটাও হয়তো সেরকমই কোনো ঘটনা। তবুও এই আশ্চর্য রহস্যময় ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যার শেষ নেই। অনেকের মতে আবার ঘটনাটি নিছকই একটি জনপ্রিয় আরবান লেজেন্ড ছাড়া কিছুই নয়।

তবে ধরে নিই যদি ঘটনাটি সত্যি তাহলে সেদিন ঠিক কি ঘটে থাকতে পারে ট্রেনটির সঙ্গে? এই ব্যাপারে পাঠকদের কি মতামত। জানার অপেক্ষায় রইলাম।

পুনশ্চ, যেকোনো 'আরবান লেজেন্ডই' মূলত মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া মিথ বা কাহিনি বিশেষ। এই নিয়ে এত ভাবিত হওয়ার কিছুই নেই। এটিকে নিছক উপভোগ্য কাহিনি হিসেবে পড়লে সেটাই বরং যথাযোগ্য হবে।

👉 জ্যানেটি ট্রেন নিয়ে নির্মিত Unknown Fact BD এর বিস্তারিত ডকুমেন্টারি এর লিংক কমেন্টসে বক্সে দেয়া হলো।

১৯৮৪ সালের ৩১ মে। আনুমানিক ভোর ৪টা। তখন পবিত্র রমজান মাস। রাঙামাটির বরকল উপজেলার ভূষণছড়া গ্রামের সাধারণ মানুষ সেহরি খেয়ে...
12/03/2026

১৯৮৪ সালের ৩১ মে। আনুমানিক ভোর ৪টা। তখন পবিত্র রমজান মাস। রাঙামাটির বরকল উপজেলার ভূষণছড়া গ্রামের সাধারণ মানুষ সেহরি খেয়ে ঘুমাতে যাচ্ছিলেন বা কেউ কেউ তখনো জেগে ছিলেন। চারদিকে নিস্তব্ধতা, পাহাড়ি গ্রামের স্বাভাবিক শান্ত পরিবেশ। কিন্তু গ্রামের মানুষ তখনও বুঝতে পারেননি—কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের ওপর নেমে আসবে এক ভয়াবহ হ*ত্যায*জ্ঞ।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) এবং তাদের সশস্ত্র শাখা শান্তিবাহিনীর প্রায় ১২৫–১৫০ জন সশস্ত্র সদস্য ভূষণছড়া গ্রামে আক্রমণ চালায়। আগ্নেয়াস্ত্র, বেয়নেট ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা নিরস্ত্র বাঙালি বসতিগুলোর ওপর হামলা শুরু করে। ঘুমন্ত মানুষদের ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অনেকেই ঘুমের মধ্যেই আগুনে পুড়ে মা*রা যান। মুহূর্তের মধ্যে জ্বলতে শুরু করে পুরো জনপদ; প্রায় তিন শতাধিক ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

ভোর ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ চার শতাধিক মানুষ নিহ*ত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়। সেই হ*ত্যায*জ্ঞে কাউকেই রেহাই দেওয়া হয়নি। শিশু, কিশোরী ও তরুণীদের ওপর নেমে আসে ভয়াবহ নির্যাতন; অনেককে হ*ত্যা করা হয় নির্মমভাবে। পুরুষদের গুলি করে বা বেয়নেট দিয়ে আঘাত করে হ*ত্যা করা হয়। বহু মানুষ আহত হন এবং অসংখ্য পরিবার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।

এই আক্রমণটি দুই ধাপে সংঘটিত হয়েছিল বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। প্রথমে ভোররাতে হামলা চালিয়ে হামলাকারীরা সরে যায়। পরে যখন জঙ্গলে পালিয়ে থাকা মানুষজন ভেবে নেয় যে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে এবং তারা আবার ঘরে ফিরতে শুরু করে, তখন আবারও দ্বিতীয় দফা আক্রমণ চালানো হয়। এতে হতাহতের সংখ্যা আরও বেড়ে যায় এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

এই ঘটনার ফলে ভূষণছড়ার বড় একটি জনপদ কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। প্রায় ১৬০০ পরিবারের ওই এলাকায় তিন শতাধিক পরিবার সরাসরি আক্রান্ত হয় এবং শতাধিক পরিবার সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। প্রাণে বাঁচতে অনেক পরিবার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

ভূষণছড়া ছিল রাঙামাটির বরকল উপজেলার একটি দুর্গম এলাকা, যা জেলা শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সে সময় সেখানে সড়ক যোগাযোগ ছিল না; পুরো এলাকা নদীপথনির্ভর ছিল। ১৯৭০–এর দশকের শেষদিকে সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভূমিহীন ও দরিদ্র মানুষকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সরকারি খাস জমিতে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়। এই পুনর্বাসন নীতিকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি রাজনীতিতে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেই বিরোধের প্রেক্ষাপটেই ভূষণছড়ায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

এত বড় একটি হ*ত্যাকা*ণ্ড ঘটলেও সে সময় ঘটনাটি জাতীয় পর্যায়ে তেমনভাবে আলোচিত হয়নি বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। এই ঘটনার কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত বা বিচার আজও হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে মামলা করার চেষ্টা করা হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে তারা অভিযোগ করে। পরবর্তীতে কিছু ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তেমন সহায়তা পাননি বলে বিভিন্ন সাক্ষ্যে উঠে এসেছে।

ভূষণছড়া গণহত্যা আজও পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে একটি বিতর্কিত ও বেদনাদায়ক অধ্যায়। পাহাড়ের রাজনৈতিক সংঘাত, জাতিগত উত্তেজনা এবং দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের মধ্যে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—এ কথাই বারবার উঠে আসে ইতিহাসের এই অধ্যায়ে।

আজ বহু বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ভোরের স্মৃতি এখনও অনেক মানুষের কাছে অম্লান। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য অতীতের ঘটনাগুলোকে স্মরণ করা, সত্য উদঘাটন করা এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে সামনে আনা—এগুলোই ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অনেক গবেষক ও পর্যবেক্ষক।

👉 ভূষণছড়া গণহ*ত্যার এর কিছু ছবি ও এটি নিয়ে নির্মিত Unknown Fact BD এর বিস্তারিত ডকুমেন্টারি এর লিংক কমেন্টসে বক্সে দেয়া হলো।

আপনি কি কখনো ভেবেছেন— লোভের জন্য একজন মানুষ কি পুরো একটি পরিবারকে পৃথিবী থেকে মুছে দিতে পারে? এমনকি এমনভাবে, যাতে খুনি হ...
11/03/2026

আপনি কি কখনো ভেবেছেন— লোভের জন্য একজন মানুষ কি পুরো একটি পরিবারকে পৃথিবী থেকে মুছে দিতে পারে? এমনকি এমনভাবে, যাতে খুনি হয়ে যায় নির্দোষ, আর প্রকৃত ভিকটিমরাই হয়ে ওঠে দোষী! কিন্তু সত্য কতদিন লুকিয়ে থাকে? একদিন না একদিন তো সেটি ভেসে ওঠেই… ঠিক যেমন ভেসে উঠেছিল ধুপাজুড়ি বিলের পানির নিচে লুকিয়ে রাখা ছয়টি ড্রামভর্তি লা*শ।

ঘটনাটি প্রায় চার দশক আগের। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার নিদারাবাদ গ্রাম। গ্রামের প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে ধুপাজুড়ি বিল—যেখানে নৌকাই ছিল গ্রামবাসীর একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম। প্রতিদিনের মতোই একদিন স্কুল শেষে নৌকায় বাড়ি ফিরছিলেন গ্রামের শিক্ষক আবুল মোবারক। হঠাৎ তিনি লক্ষ্য করলেন বিলের পানিতে ভাসছে তেলের মতো কিছু আর চারদিকে ছড়িয়ে আছে অদ্ভুত দুর্গন্ধ। কৌতূহলবশত মাঝিকে তিনি নৌকা ঘুরিয়ে কাছাকাছি নিতে বললেন। ঠিক তখনই নৌকার নিচে কোনো ভারী কিছুর সঙ্গে ধাক্কা লাগল।

সন্দেহ হওয়ায় মাঝিকে বৈঠা দিয়ে আঘাত করতে বললেন তিনি। কিছুক্ষণের মধ্যেই পানির নিচ থেকে ভেসে উঠল একটি বড় লোহার ড্রাম। মুখ শক্ত করে বন্ধ, আর চারপাশে অসহ্য দুর্গন্ধ। খবর দেওয়া হলো স্থানীয় লোকজনকে। ড্রামটি তীরে তোলা হলো। আর সেটি খোলার পর যে দৃশ্য দেখা গেল—সেটা দেখে সবাই স্তব্ধ হয়ে গেল। ড্রামের ভেতরে ছিল পচে যাওয়া তিনটি ম*রদে*হ।

এরপর শুরু হলো খোঁজ। কিছুক্ষণ পর একই বিল থেকে পাওয়া গেল আরেকটি ড্রাম। সেই ড্রামেও ছিল টুকরো টুকরো করে রাখা আরও তিনটি লা*শ। মোট ছয়টি ম*রদে*হ। কিন্তু কারা এরা? কীভাবে এল এই ড্রামগুলো বিলে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় দুবছর আগে।

১৯৮৭ সালে নিদারাবাদ গ্রামের দরিদ্র সনাতন ধর্মাবলম্বী শশাঙ্ক দেবনাথ হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যান। তিনি কোথায় গেলেন, কেউ জানে না। পরিবারও জানে না। দুই বছর পরে, ১৯৮৯ সালে, এক রাতের মধ্যে উধাও হয়ে গেল তার পুরো পরিবার—স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান। গ্রামের মানুষ ধরে নিল, শশাঙ্ক আগেই ভারতে চলে গেছে, পরে পরিবারকেও নিয়ে গেছে। বিষয়টি ধীরে ধীরে ভুলেও গেল সবাই।

কিন্তু তখনই শুরু হলো আরেক নাটক। গ্রামের কিছু মানুষ দাবি করতে লাগল—শশাঙ্ক নাকি তাদের কাছে জমি বিক্রি করে গেছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল পাশের গ্রামের কসাই তাজুল ইসলাম। সে বলতে লাগল, জমির মালিকানা এখন তারই। গ্রামবাসীরাও উল্টো শশাঙ্ককে গালাগালি করতে শুরু করল—ভাবল, জমি বিক্রি করে পালিয়ে গেছে।

কিন্তু ধুপাজুড়ি বিল থেকে যখন ছয়টি লাশ উদ্ধার হলো, তখন বদলে গেল পুরো গল্প।

সনাক্ত করা হলো—এই লা*শগুলো শশাঙ্ক দেবনাথের স্ত্রী বিরজাবালা এবং তার পাঁচ সন্তানের। শশাঙ্কের এক মেয়ে সুনীতিবালা সেদিন বেঁচে গিয়েছিল কারণ সে শ্বশুরবাড়িতে ছিল। আর শশাঙ্ক নিজে? তার লা*শ আর কখনোই পাওয়া যায়নি। হয়তো সেই বিস্তীর্ণ বিলে মাছেদের খাদ্য হয়ে গিয়েছিল সে।

এই হ*ত্যাকা*ণ্ডে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। তদন্তে উঠে আসে ভয়ংকর সত্য—শশাঙ্কের সামান্য জমির লোভেই এই পুরো হ*ত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা করেছিল কসাই তাজুল ইসলাম।

১৯৮৯ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাতে তাজুলের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি দল শশাঙ্কের বাড়িতে হামলা চালায়। জানালার রড ভেঙে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শশাঙ্কের স্ত্রী ও সন্তানদের। এরপর তাদের নৌকায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ধুপাজুড়ি বিলে। সেখানেই নির্মমভাবে হ*ত্যা করে টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে চুন ঢেলে বিলের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

লাশ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাজুল পালিয়ে যায়। দেশজুড়ে তাকে খোঁজা শুরু হয়। অবশেষে ১৯৮৯ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকার কাকরাইল মসজিদের সামনে সিআইডির এক সদস্য তাকে চিনে ফেলেন—ছদ্মবেশে থাকা সেই লোকটি আর কেউ নয়, কুখ্যাত কসাই তাজুল।

১৯৯০ সালে আদালতে এই মামলার রায় হয়। ৯ জনের ফাঁ*সি এবং ২৭ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে উচ্চ আদালত তাজুল ইসলাম ও বাদশা মিয়ার ফাঁ*সি বহাল রাখেন।

১৯৯৩ সালের ১১ আগস্ট রাত ২টা ১ মিনিটে কুমিল্লা কারাগারে কার্যকর করা হয় তাদের ফাঁ*সি। মানুষের ঘৃণা এতটাই ছিল যে, ফাঁ*সির খবর ছড়িয়ে পড়তেই অনেক জায়গায় মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছিল। তাজুলের লা*শ কারাগার থেকে বের করার সময় ক্ষুব্ধ মানুষ জুতা ছুঁড়ে মেরেছিল।

আজ এত বছর পর নিদারাবাদের সেই বিল শান্ত। কিন্তু ইতিহাস ভুলে যায় না। শশাঙ্ক দেবনাথের পরিবার আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। তবুও তাদের গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—লোভ যখন মানুষকে গ্রাস করে, তখন সে মানুষ থাকে না… হয়ে ওঠে এক ভয়ংকর দানব।

👉 ঘটনাটির প্রকৃত ছবি ও এটি নিয়ে নির্মিত Unknown Fact BD এর বিস্তারিত ডকুমেন্টারি এর লিংক কমেন্টসে বক্সে দেয়া হলো।

Address

Sector 5, Uttara
Dhaka
1230

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Unknown Fact BD posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Unknown Fact BD:

Shortcuts

Share

Category